Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩
তাসনিয়া নুর

আস্তে করে দরজাটা খুলে মাথা বের করলো আহির চতুর্দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেলো ছাদের দিকে হাতে বিছানার চাদরটা । ছাদে পৌছাতেই স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেললো যাক বাবা এইবারের জন্য বেঁচে গেলো কোনো রকমে চাদরটা শুখাতে দিয়ে পিছনে ঘুরলো তার ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির বুয়া সালেহা। সালেহাকে দেখে আহিরের মনে হলো শেষবেলায় বুঝি ধরা পরে গেলো আহিরকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে একগাল হাসি দিয়ে সালেহা জিজ্ঞাসা করে

— আহির বাবা আফনে এতো সকালে ছাদে কি করেন আর ওই চাদরটা কি আফনে ধুইয়া দিসেন?
সালেহার প্রশ্নে কিছুটা বিচলিত হলো আহির কি বলবে এখন? সে তোতলিয়ে বলে উঠে
— আসলে হয়েছে কি আমি কফি খেতে গিয়ে কফির গ্লাস উল্টে সব সস বিছানায় পরে যায় তারপর সাদা চাদরতো তাই কালো হয়ে যায়।
আহিরের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝলোনা সালেহা, কিছু না বুঝতে পেরে মাথা চুল্‌কিয়ে প্রশ্ন করে উঠে
— কফির মগ থাইক্কা সস আবার কেমনে পরে?আর হেইডা আবার কালা কেম্নে হয় সস পরলে লাল হওয়েনের কথা আর আফনে কেন ধুইলেন আমারে কইতেন আমি ধুইয়া দিতাম।

— কত প্রশ্ন যে তুমি করতে পারো বুয়া এখন সাইড দাও নিচে যাবো অনেক ঘুম পেয়েছে।
কথা শেষ করে আহির দৌড়ে চলে গেলো, এইখানে আর কিছুক্ষন থাকলে এই বুয়া আবার ওর মুখ থেকে সব কিছু বের না করে ফেলে। আহিরের যাওয়ার পানে তাকিয়ে সালেহা বিড়বিড় করে বলে উঠে
– আরে আমার প্রশ্নতো শেষ হইলোনা তার আগেই চইল্লা গেলো কফিডা বানায় দিসে কেডা?? আমি তো এতক্ষণ কিসিং রুমেই আছিলাম কাউরে তো কফি বানাইতে দেখলামনা। কেইবো কিতা আমি যাই বহুৎ কাম বাকি রইয়া গেসে দেরি হইলে আবার চিল্লাইবো।
কোনো রকমে রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করলো আহির বুকটা এখনও কেমন ধুকধুক করছে একটুর জন্যে বেঁচে গেছে কিন্তু চিন্তা একটা মাথায় রয়েই গেলো আজকে রাতেও যদি এমন হয় তাহলে কি করবে?? আজকে কেউ না জানলেও কালকে যে জানবেনা কথা আছে না তার আগেই এইটার বিহিত করতে হবে। আহির কিছুক্ষণ বসে বসে নখ কাম্‌ড়াতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো কি করা যায়। কিছু সময় ব্যয় হতেই আহির বসা থেকে লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায় আর বলে উঠে

– আইডিয়া পেয়ে গেছি এইটা করলে যদি আবারো এমন হয় তাহলে কেউ কিছু জানতেই পারবেনা হি হি।
আহির খুশী মনে নিচে নাস্তা করতে চলে গেলো নিচে নেমে দেখলো চিত্রা মায়রা দাঁড়িয়ে আছে ।আহিরকে আসতে দেখে চিত্রা ওর দিকে এগিয়ে গেলো গিয়ে কানে ফিসফিস করে বলে উঠে
— আমি জানি।
জানি মানে কি জানে আহিরের বুকটা হুট করে কেমন কামড় দিয়ে উঠলো এসির নিচেও শরীর তরতর করে ঘামতে লাগলো শুষ্ক একটা ঢুক গিলে ভাবলো এই চিত্রা কিভাবে জানালো, না চিত্রার তো জানার কথা ছিলোনা এখন কি হবে ওর যে সব শেষ । ঠিক তখন মনে পড়লো গত বছরের এক কাহিনী সবাই তখন একসাথে বসে রাতে মুভি দেখছিল কথার মাঝেই আহির আবেগের বসে সবার মাঝে বায়ু ত্যাগ করে ফেলে। সেটাই যেনো তার কাল হয়ে দাঁড়ায় সবাই সে কি হাসি ঠাট্টাই না করেছিলো লজ্জায় তার অবস্থা মরিমরি হয়ে গিয়েছিলো । আর এই চিত্রাতো এইটা পোষ্ট করে দিয়েছিলো আবার সেই পোস্টে তাকে মেনসন করেছিল তার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা কত মেয়ে তাকে আনফ্রেন্ড করেছিলো কথাটা মনে পড়লেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। এখন এই মেয়ে যদি কালকে রাতে তার করা কান্ড জানে তখন না জানি কি করবে কথাটা ভাবতেই রুহটা বেরিয়ে যাচ্ছে। চিত্রা আহিরের সামনে তুরি বাজিয়ে

— তুমি আবার কই হারালে সে বাদ দাও তোমার সাথে কিছু কথা আছে।
— কি কথা??
— খাবার শেষে ছাদে যেও ওখানে বলবো।
— আবার ছাদ!!
আহিরকে ভয় পেতে দেখে মুখ কুচকায় চিত্রা ভাবে হয়তো রাতের ওই কাহিনীর জন্য ভিতুটা ভয় পাচ্ছে অথচ বেচারী জানলোই না ব্যাপার অন্য কিছু। খাওয়া শেষ করে ছাদে যায় আহির দরজার সামনে তার পা থেমে যায় কারণ আহির ভেবেছিলো শুধু চিত্রা আর ও থাকবে কিন্তু এইখানে তো পুরো গুষ্টি মেলা বসেছে সব গুল হয়ে বসে আছে । এর মাঝে আবার আবইয়াজ কে দেখা গেলো আবইয়াজকে দেখে আহিরের ভ্রু কুঁচকালো এ আবার কখন আসলো?
আহিরকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবইয়াজ বলে

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ২

-– দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি ঘোড়ার মতো ঘুমিয়ে পরলি নাকি??
আবইয়াজের প্রশ্নে বিরক্তিতে নাক ফোলায় আহির সে জানে তাকে অপমান না করলে এদের ভাত হজম হয়না হয়তোবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয় কে জানে।
— সবকটা ঘষেটি বেগমের বংশধর ।
বিড়বিড় করে কথাটা বলে ভেংচি কাটে আহির

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৪