এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২২
সুহাসিনী
প্রেমের মাথাটা কেমন ঝিমঝিম করছে।ড্রয়িংরুমে আর বসে না থেকে রুমের দিকে হাঁটা ধরলো সে। শান্ত প্রেমের অবস্থা দেখে মিটিমিটি হাসছে।প্রেম ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে আর দাঁড়ালো না।
প্রেম কি মনে করে নিজের রুমে না গিয়ে আমজাদ খানের রুমে গেলো। আমজাদ খান বিছানায় বসে বসে লেপটপে কাজ করছেন। আফরোজা বেগম রুমে নেই।হয়তো ফিরোজা বেগম এর সাথে গল্প করছেন কোথাও।
প্রেমের বাবা প্রেমকে এই সময়ে নিজের রুমে দেখে কপাল কুচকে ফেললেন।উনার কাছে প্রেমকে স্বাভাবিক লাগছে না। কেমন যেন টলমল পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,
“কি হয়েছে এভাবে জিরাফের গলার মতো নড়বড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেনো?”
প্রেম ভেঙ্গে ভেঙ্গে অস্বাভাবিক কন্ঠে বললো,
“এ..এই বুড়ো আ..আপনি কে? আমার ব..বউ কই?”
আমজাদ খান বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন,
“আমি সিন্দুকে লুকিয়ে রাখছি তোমার বউকে। নেশা করা কবে থেকে শুরু করলে বেয়াদব?”
“হো আর ইউ ম্যান? আমার বউকে আমার কাছে এক্ষুণি ফিরিয়ে দাও।নয়তো আমি কিন্তু তোমার বউকে গায়েব করে দিবো।”
“মার খেতে না চাইলে এখান থেকে যাও বলছি , আমার মাথা খারাপ করো না।”
“আমি আমার বউকে না নিয়ে যাবো না এখান থেকে।”
কাঁদো কাঁদো গলায় বলে প্রেম বাচ্চাদের মতো ফ্লোরে পা ভাঁজ করে বসে পড়লো।
প্রেমের বাবা নিজে নিজেই বললো,
“এটা আবার কোন জ্বালায় পড়লাম।ওর মতো এতো ম্যাচিউর ছেলে বাচ্চামো শুরু করেছে কেনো? আল্লাহ্ এই বেয়াদব ছেলের হাত থেকে আমাকে বাঁচান।”
প্রেমের বাবা মাথায় হাত দিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।এর মধ্যেই প্রেম ফ্লোর থেকে উঠে এক লাফে এসে ওর বাবার কোলে বসে পড়লো।প্রেমের বাবা আজহারী করে বলল,
“গেলো আমার কোমড় গেলো।কেউ এই দামড়াকে সরাও আমার উপর থেকে।এই বয়সেই আমাকে বোধহয় বিছনায় শুইয়ে দিবে এই দামড়া বেয়াদব।”
প্রেম সে দিকে পাত্তা না দিয়ে তার বাবার মুখ মণ্ডলে আলতো করে হাত দিয়ে আঙুল ঘোরাতে ঘোরাতে বললো,
“আজ কোনো কথা হবে না বউ। আজ আমি তোমার সাথে খেলবো।”
“কি খেলবি বেয়াদব ছেলে?আমি তোর বউ না।খেলবি তো কোল থেকে নেমে খেলে।”
প্রেম তার বাবার গালে ফুস করে একটা চুমু খেয়ে গলা জড়িয়ে ধরে গান ধরলো,
“একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম….”
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম….
এই নিঠুর বনে____
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম..
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম..”
আমজাদ খান কি বলবে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।তার ইচ্ছে করছে মাটি খুঁড়ে ভেতরে ঢুকে যেতে।প্রেম কিছুক্ষণ থেমে আবার বলল,
“চল বউ আমরা আজ পাশা বউ।”
আমজাদ খান আর সহ্য করতে না পেরে প্রেমকে এক ধাক্কা দিয়ে নিজের কোল থেকে বিছানার এক পাশে ফেলে রাগে বললো,
“তোর পাশা খেলা আমি তোর পাছা দিয়ে ভরে দিবো হারামির বাচ্চা। গু খেয়ে এসে আমার উপরে নির্যাতন চালাচ্ছিস। শেষে কিনা নিজের বাবাকে…. ছিঃ”
প্রেম আবার আমজাদ খানকে ধরতে যেতে যেতে বললো,
“এমন নাক চিটকাচ্ছ কেনো বউ, সত্যি বলছি কোনো গু খায়নি আমি।এবার তো আমার সাথে খেলো।”
প্রেম আমজাদ খানকে ধরার আগেই রাগে তিনি পা দিয়ে লাথি মেরে প্রেমকে বিছানা থেকে ফেলে দিলো।
ওই মুহূর্তেই শান্ত হুড়মুড় করে রুমে ঢুকলো।প্রেমকে ফ্লোরে গড়াগড়ি খেতে দেখে আর প্রেমের বাবাকে রাগে ফুঁসতে দেখে তার যা বুঝার সব বুঝে গেলো।
সে প্রেমকে ধরে তুলতে তুলতে বললো,
“তুই ভুল জায়গায় এন্ট্রি মেরেছিস ভাই।জান নিয়ে বাঁচতে চাইলে পালা।”
আমজাদ খান রাগে শান্তকে বললো,
“ও নেশা করেছে কেনো? এই অভ্যাস তো ওর আগে ছিল না।কে খাওয়াইছে ওকে এসব ?”
শান্ত আমতা আমতা করতে করতে বলল,
“আসলে মামা নতুন অতিথি আনার প্ল্যান করেছিলাম।কিন্তু বুঝতে পারিনি এই মূর্খ ভুল জায়গায় নতুন অতিথি চাইতে আসবে।আমি তো আপনার খেলার সাথী আনার ব্যবস্থাই করতে চেয়েছিলাম।”
আমজাদ খান এবার রেগে মেগে শান্তর দিকে মারতে তেড়ে গেলেন।তার আগেই শান্ত প্রেমকে টেনে নিজের সাথে নিয়ে ভোকাট্টা। যাওয়ার আগে প্রেমের বাবার রুমের দরজা বাইরে থেকে লক করতে ভুলেনি।
আমজাদ খান রুমের ভেতর থেকে রাগে চিল্লাচ্ছেন আর দরজা ধাক্কাচ্ছে।আফরোজা বেগম স্বামীর চিৎকার শুনে ছুটে এসেছেন।রুমের বাইরে প্রেমের এই নাজেহাল অবস্থা দেখে শান্তকে জিজ্ঞেস করলেন,
“কি হয়েছে প্রেমের আর ওর বাবা এমন চিল্লাচ্ছে কেন?”
“মামাকে মনে হয় ভেড়া কামড় দিয়েছিল তাই ভেড়ার মতো এখন চিল্লাচ্ছে।তুমি যাও মামা কাছে মামী,প্রেমকে নিয়ে তোমার চিন্তা করতে হবে না,আগে ওই ভেড়াকে সামলাও।”
“ছিঃ নিজের মামাকে এসব বলতে লজ্জা করে না?”
“তুমি তো জানো মামী লজ্জা নামক কিছু এই নির্লজ্জ্ব শান্তর মধ্যে নেই।এখন যাও তাড়াতাড়ি নয়তো মামা ষাঁড় হয়ে যাবে আর দরজা ভেঙে ফেলবে।”
শান্ত প্রেমকে নিয়ে প্রেমের রুমের দিকে চলে গেলো।
রাহি সব চুড়ি আর মেকআপ গুছিয়ে রেখে ওয়াশরুমে গিয়েছে।
এই সুযোগে শান্ত প্রেমকে রুমে এনে বিছানায় বসালো।রাহির একটা উড়না এনে প্রেমের মাথায় দিয়ে ঘোমটা টেনে দিলো নতুন বউ এর মতো করে।এরপর শান্তর কানে কানে বললো,
“একটু পর তোর বউ আসবে।তোর বউ আসার আগ পর্যন্ত এইভাবেই থাকবি।তোর বউ আসলে যা করার করবি তার সাথে। মনে থাকবে?”
প্রেমের দুনিয়াদারির কোনো হুশ নেই। তাই সে শান্তর কথা মতো মাথা নাড়ালো। শান্ত চলে গেলো রুমের দরজা লক করে।
কিছুক্ষণ পর রাহি বের হলো ।বুকে উড়না নেই তার। উড়না খুঁজতেই চোখ পড়লো বিছানার দিকে।রাহির চোখ কপালে উঠে গেছে।এটা সে কি দেখছে।সে তাড়াতাড়ি প্রেমের কাছ থেকে উড়না টা ছো মেরে নিয়ে নিলো।প্রেম রাহিকে দেখে বললো,
“এতক্ষণ কোথায় ছিলে বউ?তোমাকে না পেয়ে আমি এক বুড়োকে আমার ইজ্জত বিলিয়ে দিচ্ছিলাম।”
“ওই বেটা কি উল্টাপাল্টা বকবক করছেন?”
প্রেম বিছানায় উঠে দাঁড়ালো। রাহিকেও টেনে বিছানার উপর দাঁড় করালো। রাহি প্রেমকে ঢুলতে দেখে নাক মূখ কুঁচকে বললো,
“আপনি নেশা করেছেন এমপি সাহেব?”
প্রেম উত্তর না করে গেয়ে উঠলো,
“ও নেশা.. নেশা…
ও নেশা….নেশা….
নেশা নেশা লেগেছে প্রেমের নেশা
তাই প্রেম দিবে তার বউকে শসা..”
রাহি প্রেমের মুখে এই গান শুনে হতভম্ব। রাগও হচ্ছে তার, কারণ তার নেশা করা পছন্দ না। রাহি রাগে প্রেমকে ধাক্কা দিলো। ধাক্কার তোপ সামলাতে না পেরে প্রেম বিছানায় শুয়ে পড়লো।রাহি প্রেমকে নিজের শক্তি দ্বারা টেনে টেনে বিছানা থেকে তুলে দার করালো।
এটুকুতেই রাহি হাপিয়ে গেছে।রাহি প্রেমকে বললো,
“খুব ভালো করেছেন নেশা করেছেন।আমি খুবই খুশি হয়েছি আপনার প্রতি।নেশা করার পুরস্কারটা না হয় কাল সকালে দিবো আপনাকে।এখন আপনি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন।”
“কি বলছো বউ,আমি তোমার সাথে পাশা খেলবো না?”
“হ্যাঁ খেলবো না ,আমরা বাথরুমে গিয়ে পাশা খেলবো।”
“নাহ্ আমরা তো এই ফুলের বিছানায় পাশা খেলবো।”
এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২১
বলেই প্রেম রাহিকে ধরতে যায়।রাহি পিছনে সরে যায়।কিন্তু প্রেম ছেড়ে দেয়ার পাত্র না।সে রাহিকে বার বার ধরতে যাচ্ছে আর রাহি দৌড় দিচ্ছে এবং রুমে সাজিয়ে রাখা ফুলগুলো ছুঁড়ে দিচ্ছে প্রেমের দিকে। মুহূর্তেই বাগানের মতো সাজানো রুমটা ডাস্টবিন হয়ে গেলো।রাহি এবার না পেরে একধাক্কা দিয়ে প্রেমকে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দিলো।
বাইরে থেকে দরজা আটকে বললো,
“এবার মনের সুখে আপনার যাকে খুশি শশা দেন ভন্ড লোক।”
