Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ২৯

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ২৯

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ২৯
তাসনিয়া নুর

সকালের অনেকটা সময় হয়ে এসেছে, কিন্তু মির্জা বাড়ির সবাই এখনো ঘুমে বিভোর। গতকাল রাতেই বাড়ির সদস্যরা ঢাকা ব্যাক করেছে। কোম্পানির কিছু সমস্যা হওয়ার দরুন তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে তাদের। যদিও এ নিয়ে অনেক মান-অভিমান চলেছিল, কিন্তু শেষমেশ আনোয়ার মির্জা উনাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ফিরে এসেছেন। ঢাকা আসতে আসতে রাত ১টা বেজে গিয়েছিল, তাই ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে সবাই এখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
একমাত্র আহিরের চোখে ঘুম নেই। সে একমনে ভেবে যাচ্ছে, কেন চিত্রাকে নিয়ে মনের ভেতর এমন আলাদা অনুভূতি কাজ করে? এমন না যে এই ব্যাপারটা নতুন গত ২ বছর ধরেই এমন হচ্ছে। যদিও আগে সেভাবে পাত্তা দেয়নি, কিন্তু এখন ব্যাপারটা বেশ সিরিয়াস। এসব ভাবতে ভাবতে আরো বিরক্ত লাগছে তাই একটু রিফ্রেশ হওয়া প্রয়োজন। নিজের ঘুমের তো বারোটা বাজিয়েছে সাথে মাহিরকে সাথে টেনে হিছড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে। এদিকে বেচারা মাহিরের চোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু, ভালো করে চোখ খুলে তাকাতে ও পারছে না। কিছু বললেই আহিরের একই উত্তর,

— সকালের আবহাওয়া শরীরের জন্য ভালো।
নিজে সবসময় ঘুম থেকে দেরি করে উঠে আর আজকে তাকে উপদেশ দিচ্ছে, ঢং দেখলে আর বাচাঁ যায়না। আনমনে কথা গুলো ভেবে যাচ্ছে মাহির।
— আমার কিছু করতে মন চাচ্ছে।
আহিরের এমন আচানক কথায় ভড়কে উঠে মাহির । করবে মানে কি করবে? মাহির বিস্মূত হয়ে,
— করবি মানে? কি করবি?
— আমার কিছু করার ক্রেভিং হচ্ছে।
— তুই কি বেডি মানুষ? তোর কেনো ক্রেভিং হবে?
আহির কিছু না বলে আশপাশটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করল, চোখের সামনে কিছু একটা পড়তেই সেদিকে তাকিয়ে মাহিরকে উত্তর দিল,
— আজ এতো বৈষম্য করিস বলেই এই নারী সমাজে সকল পুরুষের নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে। নিজের অধিকার নিজে আদায় করতে শিখ। পুরুষদের ক্রেভিং হতে নেই কোন বইয়ে লেখা আছে।

— তোর মনে হচ্ছে না তোর একটু বেশিই ক্রেভিং হচ্ছে? গতকালের কথা মনে আছে তো?
আহির মাহিরের দিকে তাকিয়ে মনে পড়ে গতকালের কথা, গতকাল সাইবার বিয়েতে যখন কাজি বারবার বরকে কবুল বলতে বলছিল ছেলে কিছুতেই কবুল বলছিল না তার নাকি লজ্জা লাগছিল। কিন্তু এই ব্যাপারটা সহ্য হলো না আহিরের, শেষে নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে পিছন থেকে নিজের শরীরের সর্ব শক্তি দিয়ে ঠাস করে বরের মাথায় মেরে দিয়েছিল। বর সহ উপস্থিত সকলে হতভম্ব, বরপক্ষ তো বিরাট রেগে গিয়েছিল ।শেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে আবইয়াজ বলে দিয়েছে আহিরের মাথায় গন্ডগোল আছে তাই কিছু মনে না করতে । নিজের মাথায় সমস্যা আছে শুনতেই আহিরের আর সহ্য হলো না তাই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আহির আবারো বরকে এক দু ঘা লাগিয়ে দিয়েছিল । কি জানি তার কি হয়েছিল।
নিজের ভাবনা থেকে বের হয়ে আহির আবারো সামনের দিকে দৃষ্টিপাত করে । তার থেকে কিছুদূর এক চায়ের দোকান, দুজন লোক মিলে আড্ডা দিচ্ছে আর চা খাচ্ছে । দৃশ্যটা দেখতেই আহিরের মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল, যে করেই হোক নিজের মাইন্ডকে রিফ্রেশ করতেই হবে। আহির দেরি না করে দ্রুত পায়ে সামনে পা বাড়ায়। আহিরকে যেতে দেখে মাহির বিরক্ত হয়ে,

— আবার কোথায় যাচ্ছিস? আমি আর হাঁটতে পারব না, আমার শরীর দিচ্ছে না। চল ভাই বাসায় ফিরে যাই।
আহির মাহিরের একটা কথা কর্নপাত করল না সে আপন মনে সামনে যেতে লাগল। আহির গিয়ে লোকটার ঠিক পেছনে দাঁড়াল। লোকটা তখনো গভীর আবেশে চা খেতে ব্যস্ত । আহির কিছু না ভেবেই লোকটার পিঠে সজোরে এক দাবাং ধাক্কা মারল মুহূর্তের মধ্যে হাতের কাপ উল্টে সমস্ত গরম চা লোকটার গায়ের ওপর পড়ে গেল।
দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে মাহির তো পুরো হতবাক সে দৌড়ে আহিরের দিকে আসতে লাগল। লোকটা রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে পেছন ফিরে যেই না কিছু বলতে যাবে, অমনি আহির চট করে নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলল এবং দু হাত সামনে রেখে এমন ভাব করল যেনো কিছু খুঁজছে।
আহিরের এই অবস্থা দেখে লোকটার রাগ মুহূর্তেই জল হয়ে গেল। তার মনে প্রচণ্ড মায়া হলো। সে মনে মনে ভাবল, “ইশ! এত সুন্দর একটা ছেলে, অথচ চোখে দেখতে পায় না!” লোকটা আহিরকে আর কিছু না বলে বরং দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবারও নিজের জন্য এক কাপ চায়ের অর্ডার দিল।
দোকানদার দ্বিতীয় চায়ের কাপটা হাতে দিতেই আহির আবার কোথা থেকে দৌড়ে এসে পিছন থেকে লোকটার কানে ভৌ দিয়ে দিল আবার দৌড়। যার ফলে দ্বিতীয় কাপের চাটা পড়ল লোকটার গায়ে । লোকটা রেগে কিছুক্ষন অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে দিল। এদিকে দৌড়াতে দৌড়াতে অনেকটা দূরে চলে এসেছে আহির ও মাহির । মাহির হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

— এটা কি ছিল ভাই! একবার ধরা পরলে কি হতো? জ্যান্ত পুতে দিত আমাদের ।
— এত ভয় পাচ্ছি কেনো? কিছু কি হয়েছে? হয়নি তো তাইনা। আর হবে ও না আমি আছি না তোর সাথে ।
— সেটাই তো বড় ভয়।
— চুপ থাক এখন বাসায় চল ।জম্পেশ খিদে পেয়েছে। তোর জন্য সকাল সকাল মোডটাই খারাপ হয়ে গেল।
— এ্যাহ আমি কি করলাম। তুই নিজে টেনে আমাকে ঘুম থেকে তুললি আমার ঘুমের বারোটা বাজালি মাঝ রাস্তায় দৌড়ানি খাওয়ালি এখন আবার আমার দোষ দিচ্ছিস হতচ্ছাড়া পোলা ।
আহির নিচের ঠোঁট কামড়ে বলল,
— বেশি বেশি করলে তোকে এখন দুচার ঘা লাগিয়ে দিব ।
— তোর বড় ভাই হই আমি।
আহির দুহাত জোড় করে,
— ক্ষ্যামা বড় ভাই আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। আপনার মত আবুলকে আমার অপমান করা ঠিক হয়নি। এখন দয়া করে আবুল বড় ভাই কথা না বাড়িয়ে বাসায় চলেন। এই অধমের যে খিদের তাড়নায় পেট নদীর দিকে চলে যাচ্ছে মরার জন্য। একটু সহায় হন আবুল ভাই।
— আহিরের বাচ্চাআআ ।
মাহিরকে রাগীয়ে আহির দৌড় মারে তার পিছন পিছন মাহির ক্ষীপ্ত গতীতে দৌড়াতে থাকে।আজকে আহিরকে পেলেই যেনো চিবিয়ে খাবে। এদিকে আহির দৌড়াচ্ছে আর আবল-তাবল কথা বলে মাহিরকে আরো উস্কে দিচ্ছে ।

সদর দরজার চৌকাঠ পেরোতেই মাহির ও আহিরের নজরে আসে ছয়জন লোক সোফায় বসে আছে । তার মধ্যে একজন লোক যার মুখে অমায়িক হাসি , সাদা পাঞ্জাবি পড়ে একদম পরিপাটি হয়ে বসে আছে । আহির মাহির গিয়ে তাদের সামনে দাঁড়াল ।
— কি মিয়া এতো পরিপাটি হয়ে এসেছেন যে মেয়ে দেখতে এসেছেন নাকি? এমন হলে কেটে পরেন আমাদের বাড়ির মেয়েরা এতো পঁচে যায়নি যে আপনার মতো বুড়ো লোকের কাছে বিয়ে দিতে হবে।
আহিরের এমন কটূক্তি মাখানো কথায় বেশ বিব্রত বোধ করেন বসে থাকা লোকটি। তিনি গলা খাকারি দিয়ে বলতে চাইলেন,
— আসলে বাবা আমি…..
— মেয়ে দেখতে না ভোট চাইতে এসেছে।
লোকটার কথা কেড়ে নেয় আবইয়াজ । সবাই পিছন ঘুরে দেখে শার্টের হাতা ফোল্ড করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নামছে আবইয়াজ ।পরনে তার সাদা শার্ট।
— ইউ মিন ভোট ভিক্ষা চাইতে এসেছে?
আহিরের উত্তরে আরেকদফা বিব্রত বোধ করলেন লোকটি। লোকটি কোনো রকমে মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন,
— আমি এমপি পদপ্রার্থী আহসানুল হক ।বাবা অবশ্যই আমাকে ভোট দিও। তোমাদের বাবা তো আমার পরিচিত তাই তোমাদের কাছে তোমাদের অতিব মূল্যবান ভোটটা চাইতে আসলাম। আমি যদি জিতে যাই তাহলে এই এলাকার অনেক উন্নতি করব দেখে নিও।

— উন্নয়ন করতে হবে না আমাদের দশ লাখ টাকা দিন তাহলে ভেবে দেখব আপনাকে ভোটটা দেয়া যায় নাকি। আর তাছাড়া আপনারা যতই বলেন উন্নয়ন করবেন এই করবেন সেই করবেন জয়ী হবার পর আপনাদের খোঁজে ও পাওয়া যায়না। অথচ ভোটের আগে জনগনের পা চেটে খেতে ও আপনারা রাজি । তাই বলছি কিছু করতে হবে না শুধু আমাদের উন্নয়ন করলেই হবে। এখন বলেন আপনি রাজি?
আবইয়াজের এমন কাঠকাঠ উত্তরে কেসে উঠলেন আহসানুল হক। মনে মনে ভাবছেন কি এমন পাপ করেছিলেন জীবনে যে এদের মতো জাউড়া ছেলেদের পাল্লায় পরতে হলো । নিজেকে কিছুটা ধাতস্থ করে আহসানুল হক হেসে বললেন,
— তুমি ভুল বোঝছ বাবা তেমন কিছুই না সবাই তো এক হয়না তাই না।
— জ্বি আমার জানা মতে সব রাজনৈতিক ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ান গরু। এর বাহিরে কোনো জাতের হয়ে থাকলে আমার জানা নেই।
আহসানুল হকের দলের একজন লোক তার কাছে এসে চুপিচুপি বললেন,
— আর কথা বাড়ায়েন না ।যত বাড়াবেন তত নিজের অপমান তার থেকে ভালো চুপ থাকেন আর এরা যা বলে মেনে নিন।
আহসানুল হক আবইয়াজদের কথায় সম্মতি জানালেন। তার সম্মতি দেখে আবইয়াজ আহির ও মাহিরকে ইশারা করতেই পর পর একজন একজন বলে উঠে,

— জয় বাংলা জিতবে এবার নৌকা।
— ধানের শীষের সালাম নিস।
— জামাতরে ভোট দিস ।
— এনসিপিরে জিতায় দিস ।
আহসানুল হকের মাথা ঘুরে যাবার উপক্রম, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে বের হতে হবে নাহলে মরন আজকে তকদিরে লেখা আছে। ঠিক সে সময় হল রুমে উপস্থিত হোন আনোয়ার মির্জা ও আয়ুব মির্জা। এমনি ও আবইয়াজদের দিকে ভালোভাবে নজর বুলিয়ে তিনি সন্দিহান দৃষ্টিতে জিজ্ঞেস করলেন,
— কি হয়েছে এখানে?
আহসানুল হক আমতা আমতা করে বললেন,
— কোথায় কিছু হয়নি তো।
আনোয়ার মির্জা তখনও সন্দিহান চোখে তাকাচ্ছেন আহির, মাহির, আবইয়াজ ও আহসানুল হকের দিকে, তিনি নিশ্চিত ছেলেগুলো কিছু করেছে। এই বেয়াদপ ছেলেদের তার হাড়ে হাড়ে চেনা আছে। তিনি আর কিছু না বলে বসতে বসতে কথা আরম্ভ করলেন। আবইয়াজ ডাইনিং টেবিলের সামনে যেতে নিলে আহির, মাহির তাকে ধরে জিজ্ঞেস করে,

— তুই আসলেই এই লোক থেকে টাকা নিবি? এতো খারাপ দিন এসেছে তোর?
— তোকে কে বলেছে আমি টাকা নিবো? ওটা তো এমনি বলেছি একটু মাথাটা ঘুরায় দিলাম আর কি। আর যদি দেয় ও তাহলে অন্য কিছু করব।
— কি করবি?
— সেটা পরে দেখা যাবে।
কথা বলার সময় আবইয়াজের দৃষ্টি আটকায় সামনে দাঁড়িয়ে চিত্রার সাথে কথা বলতে থাকা মেহুর উপর। আবইয়াজের মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে যায়, সে মেহুর একটু কাছে গিয়ে ডাক দেয়,
— এই জঙ্গলের মুরগি শুন।
নিজের নামের এহেন সম্বোধনে মেহু তেড়ে এসে আবইয়াজের দিকে আঙুল তাক করে বলল,
— এই কি নামে ডেকেছেন আপনি আমাকে ।মুখ সামলে কথা বলবেন ।
— না বললে কি করবি?
— আপনার মুখটাই ভেঙে গুড়িয়ে দেব।
আবইয়াজ আরেকটু এগিয়ে আসে মেহুর দিকে । হালকা হেসে আওড়ালো,
— আমিতো জঙ্গলের মুরগিকে ডেকেছি তোর কেনো গায়ে লাগল?
আবইয়াজের প্রশ্নে চুপ মেরে গেল মেহু ।আসলেই তো তার গায়ে কেনো লাগল? না লোকটা যে তাকে এই নামে ডেকেছে কোনো সন্দেহ নেই এখন পল্টি নিচ্ছে ।
মেহুকে চুপ থাকতে দেখে আবইয়াজ মেহুর চুল হালকা এলোমেলো করে দিতে দিতে বলল,

— আমার বেডের উপর কিছু কাপড় আছে সেগুলো ধুয়ে দিবি আর এক কাপ কফি দিয়ে আসবি কেমন?
মেহু প্রতুত্তর করতে নিলে আবইয়াজ ঠান্ডা স্বরে হুমকি দিয়ে,
— আর একটা কথা না, নাহলে কিন্তু পিংকিস চুমু ভাইরাল ।
মেহু দাঁত পিষে চুপ মেরে গেলে। মনে মনে ভেবেই নিল এই লোককে সে দেখে নিবে।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে যে যার মতো উঠে গেল। মাহিরের ঘুমটা আজ ভালো হয়নি তাই নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায় ভালো একটা ঘুম দিতে হবে। মাহির যেই রুমে পা দিবে অমনি ননী কোথা থেকে দৌড়ে এসে,
— মাহির ভাই, কোথায় ছিলেন আপনি? সকাল থেকে খুঁজছি আপনাকে।
মাহির মুখ কুঁচকে ননীর পানে তাকায়। ভেবেছিল ওখান থেকে আসলেই এই মেয়ের হাত থেকে বাচঁতে পারবে। কাল বাড়ি আসার সময় ননীর বাবা আনোয়ার মির্জাকে বলেছিলেন ননীকে যেনো তাদের এখানে এনে একটা কলেজে ভর্তি করিয়ে দেন। আসলে ওনাদের ওখানের কলেজের মান তেমন ভালো না আর ননী পড়ালেখায় অনেক ভালো একটা মেয়ে। ভাইয়ের এমন অনুরোধে সাথে সাথে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন ফিরোজা বেগম। তাই গতকাল ননী তাদের সাথে চলে এসেছে এখন থেকে এখানেই থাকবে। মাইরা ও মেহুর কলেজে পড়বে।

— মাহির ভাই ??
ননীর ডাকে ভাবনার অতল গহ্বর থেকে বেরিয়ে এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাহির।
—- কিছু বলবে?
মাহিরের উদাসীনতায় উৎফুল্ল মুখটা কালো হয়ে যায় ননীর। কত সুন্দর সেজে গুজে এসেছিল অথচ লোকটা জিজ্ঞেস করছে কিছু বলবে।আনমনে মুখ ভেংচি কাটে ননী ।
— না কিছু না ।
মুখটাকে কালো করে যেভাবে এসেছিল ঠিক সেভাবে চলে যায় ননী । মাহির ননীর দিকে তাকিয়ে ভাবে,
— কি অধিকার নিয়ে মেয়েটা সবসময় তার উপর এমন অভিমান দেখায়?
মাহির আবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুমে ঢুকে দরজা অফ করে দিল।

—- এই চৈত্রের খরা কালকে আমাকে কেনো মেরেছিলি?
— আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই।
চিত্রার এমন ভাবলেশহীন উত্তর পছন্দ হলো না আহিরের।
— ইচ্ছে হয়েছে মানে? ইচ্ছে হলেই মেরে দিবি?
— হ্যাঁ একশতবার দিব ।
— তাহলে আমরা যখন যা ইচ্ছে হবে আমিও করে দিব।
— কি করবে তুমি?
— ওয়েট দেখাচ্ছি।
চিত্রাকে আর কিছু বলার ফুসরত না দিয়ে তার গালে হালকা কামড় বসিয়ে দিল আহির । তারপর নিজের কলার ঠিক করতে করতে উত্তর দিল,

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ২৮

— এখন থেকে তোর যা ইচ্ছে হয় কর তারপর আমার ইচ্ছে আমি পূরণ করব।
চিত্রাকে চরম বিস্মিত অবস্থায় রেখে চলে যায় আহির। চিত্রা এখনো নিজের অবস্থান বুঝতে পারছে না, এই মাত্র কি হলো সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন চুপ চাপ দাঁড়িয়ে থেকে চোখ পিটপিট করে হাঁটতে শুরু করে।
সন্ধ্যায় মির্জা বাড়ির তিনজা মিলে বিকেলের নাস্তা তৈরি করছে। আহির, মাহির, আবইয়াজ বাহিরে এখনও ঘরে ফিরেনি । চিত্রা, মেহু, ননী মিলে হলরুমে আড্ডা দিচ্ছিল । চিত্রাকে ডাকতে ডাকতে কিচেন থেকে হলরুমে আসছিলেন মুন বেগম হঠাৎ তার নজর যায় সদর দরজায়। বিস্ময়ে তার মুখ হা হয়ে আপনাআপনি বেরিয়ে আসে,
— অর্ক ।

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩০