Home খান সাহেব খান সাহেব পর্ব ৭৯

খান সাহেব পর্ব ৭৯

খান সাহেব পর্ব ৭৯
সুমাইয়া জাহান

খান বাড়িতে আজ আবারও উৎসবের আমেজ। খান বাড়ির রাজকন্যা আর রাজপুত্রকে নিয়ে আজ বাড়িতে ফিরেছে খান পরিবার। সুমু আর শেরাজ তাদের দু’সন্তানকে কোলে নিয়ে বাড়ির সদর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে। শেরাজ একহাতে কলিং বেল চাপল। ওমনি সাথে সাথে দরজা খুলে গেল। দরজা পুরোপুরি খুলতেই রঙিন বেলুন আর ফুলে ভরে ড্রয়িংরুম চোখে পড়ল সুমুদের। বাড়ির ভেতরে থাকা প্রতিটা সদস‍্য একসাথে বলে উঠল,
“ওয়েলকাম হোম, শেরাজ খান’স লিটল প্রিন্স অ্যান্ড প্রিন্সেস — দ্য হার্টবিটস অব খান হাউস!”

সুমুরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সবাই হাসিমুখে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। অনন‍্যা খাতুন আর আফিয়া খাতুন এগিয়ে এসে সুমুকে নিয়ে ভেতরে এলো। শেরাজ তার মেয়েকে নিয়ে ভেতরে এসে সুমুর পাশে দাঁড়াল। ছোট্ট মেয়েটা তার বাবার মতোই গম্ভীর মুখে সবাইকে দেখছে, আর ছেলেটা মায়ের মতোই মিষ্টি হাসিতে তাকিয়ে আছে। সুমু হালকা ক্লান্ত, তবু তার চোখে প্রশান্তির ছোঁয়া—মাতৃত্বের প্রথম পরিপূর্ণ অনুভব যেন তাকে আলোকিত করে তুলেছে। শেরাজের মুখে সেই চিরচেনা দৃঢ়তা, কিন্তু আজ সেখানে এক অনন্য কোমলতা। দু’হাতে মেয়েটাকে ধরে রাখার ভঙ্গিটাই বলে দিচ্ছে—এই দুই প্রাণই এখন তার রাজ্য, তার দুনিয়া।
ইনায়া আর ইশিতা এগিয়ে এসে শেরাজ আর সুমুর কোল থেকে বাচ্চাদের কোলে নিয়ে নানান রকমের কথা বলতে লাগল। অনন‍্যা খাতুন সুমুকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে দিল। সাহাবাজ সাহেব এসে শেরাজের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন,

“ভাবছিলাম, আজ বিকালেই আমার দাদুভাইদের নামকরণ করে ফেলব। তুমি কি বলো?”
“অবশ‍্যই ড‍্যাড! নাম ছাড়া দুজনকে ভাকতেও পারছিনা।”
“সেটাই! সুমু মামনি, তুমি কি বলো?”
সুমু ধীরে বলল,
“আপনারা যেটা ভালো মনে করেন, আব্বু।”
“ঠিক আছে! তাহলে বিকালেই ওদের নামকরণ করে ফেলি।”
অনন‍্যা খাতুন এসে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে বললেন,
“সে করা যাবে। আপাতত ওরা রুমে যাক। আমার দাদুভাইরা আসবে বলে, আজ ওদের রুমটা আমি আবারও ভালো করে পরিষ্কার করিয়েছি।”
“হ‍্যাঁ! এখন ওদের রুমে যাওয়া উচিত। আমিও একটু শপে যাব। ওখানে শেহেজাদ একা আছে। আমি একটু গিয়ে ঘুরে আসি।”
“যান তাহলে।”
সাহাবাজ সাহেব বেরিয়ে গেলেন। অনন‍্যা খাতুন সুমুর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“বাচ্চাদের নিয়ে রুমে যাও।”
সুমু উঠে দাঁড়াল। অনন‍্যা খাতুন ইনায়া আর ইশিতার উদ্দেশ্যে বললেন,
“বাচ্চাদের রুমে দিয়ে এসো।”
ইনায়া আর ইশিতা বাবুদের নিয়ে ওপরে চলে গেল। শেরাজ সুমুকে ধরে ওপরে নিয়ে গেল। অনন‍্যা খাতুন স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে সুমুদের জন‍্য দোয়া করল। তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আফিয়া খাতুনের সাথে কিচেনে চলে গেল।

রুমে বসে আছে সুমু। বাচ্চারা তার পাশে ঘুমিয়ে আছে। শেরাজ বসে ল‍্যাপটপে কাজ করছে। দুদিনে তার অনেক কাজ জমা হয়েছে। হঠাৎ বেলকনির কাছে কিছু পরার আওয়াজ কানে এলো তাদের। সুমু উঠতে নিলেই শেরাজ তাকে বসতে বলে নিজে উঠে বেলকনিতে গেল। কিটি বেলকনিতে আর একটা বিড়ালের সাথে মুখের কাছে মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শেরাজের ভ্রু কুঁচকে এলো। সে একটু লক্ষ্য করে দেখল, কিটির সাথে থাকা বিড়ালটা একটা মেয়ে বিড়াল। শেরাজ তড়িঘড়ি করে ফোন বের করল। সে ক‍্যামেরা অন করে ভিডিও শুরু করে বলল,
“ওরে শালা! সেই স্বাদ, তাইনা? আমার বাড়িতে থেকে আমারই রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়ে এনে ইটিশপিটিশ করা হচ্ছে?”
মেয়ে বিড়ালটা বেলকনি দিয়ে লাফিয়ে চলে গেল। কিটি এসে শেরাজের পায়ের কাছে দাঁড়াল। শেরাজ ভ্রু কুঁচকে বলল,

“তোকে আমার আগে থেকেই সন্দেহ হতো, বেটা বিড়াল। এখন আমার পায়ের কাছে কেন? এসব বলব, তোর মালকিনকে?”
কিটি শেরাজের পায়ের চারপাশে ঘুরতে লাগল। শেরাজের ভ্রু আরও কুঁচকে এলো। সে ক‍্যামেরা জুম করে বলল,
“তুই কি চাইছিস বলতো? এই তোর লজ্জা করেনা, বাড়িতে মেয়ে এনে ফষ্টিনষ্টি করিস। দাঁড়া তোর মালিককে বলছি।”
সে রুমে যাবার আগেই কিটি দৌড়ে রুমে চলে গেল। শেরাজ রুমে এসে দেখল, কিটি সুমুর কোলে উঠে বসে আছে। শেরাজ এগিয়ে এসে সুমুর চোখের সামনে ফোনটা ধরে বলল,
“তোমার নির্লজ্জ অবলা বিড়ালের বাচ্চার অবস্থা দেখো। ও বাড়িতে মেয়ে এনে এসব করছে।”
সুমু ফোনটা নিয়ে ভিডিওটা দেখে বলল,

“আর আপনিও নির্লজ্জের মতো এসব ভিডিও করেছেন?”
“আজব! তুমি আমাকে নির্লজ্জ বলছো?”
“তো আর কাকে বলব? কারো প্রাইভেট টাইমের ভিডিও আপনি কীভাবে করতে পারেন?”
“বাহ রে ভাই বাহ! মানবতা আজ কোথায়? ওরা ইন্টুপিন্টু করলে দোষ নেই, আর আমি ভিডিও করলে দোষ?”
“তা নয়ত কি? আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।”
“ঠিক আছে, স্বীকার করছি আমি একটু কৌতূহলী হয়ে পড়েছি। কিন্তু, একটু ভাবো, ওরা আমার বেলকনিতে প্রেম করছে। কিছুদিন পর তোমার এই কিটি ওই মেয়ে বিড়ালের বাচ্চার বাবা হবে। তুমি ভাবতে পারছ, সুইটহার্ট?”
সুমু হাসি ধরে রাখতে পারল না।
“কোথায় দেখেছেন, প্রেম করছে। ওরা তো কেবল মুখের কাছে মুখ নিয়েছে।”
শেরাজ চোখ বড় করে তাকিয়ে বলল,

“ওরে আমার ইনোসেন্ট বউ রে! তুমি কি জানো, এটা কী ধরনের প্রাইভেট মুহূর্ত? ওরা একে অপরকে কিস করছিল। না জানি আগে আরও কি কি করেছে।”
সুমু কিটিকে আলতো করে আদর করতে করতে বলল,
“যাই করুক না কেন, আপনার তাতে কি? আমার বাচ্চাটা বড় হয়ে গেছে। এই বয়সে এসব করবেনা, তো কবে করবে? আর তাছাড়া, কিটি এসব আপনার থেকেই শিখেছে।”
“বউ! তুমি সত্যি আমার বউ নাকি শত্রু? তুমি সবসময় এসব ক্ষেত্রে আমার দোষ দেখো কেন?”
“কারণ আপনি একটা নির্লজ্জ পুরুষ। কিটির সামনেও অনেকবার…”
থেমে গেল সুমু। শেরাজ দুষ্টু হেসে ভ্রু নাচালো। সুমু আর কোনো কথা না বলে কিটিকে আদর করতে লাগল। হঠাৎ বেডের ওপর শেরাজের ফোনটা বেজে উঠল। সুমু ফোনের দিকে তাকানোর আগেই শেরাজ ফোনটা নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছে। খান ম্যানশনের পুরো ড্রয়িংরুম এখন আলোয় ভরে গেছে। চাঁদের মতো গোল লাইট, ফুলের মালা, আর সোনালি পর্দায় সাজানো মঞ্চ। আজ শেরাজের রাজকন্যা ও রাজপুত্রের নামকরণ অনুষ্ঠান।
সুমু আজ পরেছে সাদা-মুক্তার কাজ করা অফ-হোয়াইট শাড়ি, চুলগুলো খোলা, মুখে হালকা মেকআপ। কোলে তার রাজপুত্র, পাশে দাঁড়িয়ে আছে শেরাজ—কালো পাঞ্জাবিতে, চোখে তৃপ্তির ছায়া।
আজ সবাই দুই ছোট্ট প্রাণের নাম কী রাখা হবে, সেটা শোনার অপেক্ষায় আছে। শেরাজ আর সুমু বাচ্চাদের নিয়ে নিচে নেমে এলো। ফিরোজা দৌড়ে এসে শেরাজের পাশে দাঁড়াল। শেরাজ একহাতে ফিরোজার হাত ধরল।
অনন‍্যা বেগম এগিয়ে এসে বললেন,

“চলো বেটা, নামটা ঘোষণা করো।”
শেরাজ সুমুর দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল,
“তুমি বলবে, সুইটহার্ট।”
সুমু মুচকি হেসে বলল,
“না! ওদের নাম আপনি ঘোষণা করবেন।”
শেরাজ মৃদু হেসে সুমুর দিকে তাকাল। সে চোখ নামিয়ে এনে তার রাজকন্যার কপালে চুমু খেয়ে নরম কণ্ঠে বলল,
“আমাদের প্রিন্সেসের নাম—সিমরান খান। অর্থ—যে আল্লাহকে সবসময় মনে রাখে এবং হৃদয়ে যার নামের পবিত্রতা থাকে।”
সবাই তালি দিয়ে বলে উঠল,
“মাশাআল্লাহ!”
ছোট্ট সিমরান যেন বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসল। এরপর শেরাজ সুমুর কোলে থাকা রাজপুত্রের দিকে তাকাল। তারপর নরম কণ্ঠে বলল,

“আর আমার ছোট প্রিন্সের নাম—শেরান খান। অর্থ—সাহস, বীরত্ব, আর রক্ষাকারী।”
মুহূর্তেই করতালিতে ভরে উঠল ড্রয়িংরুম। শেরাজ ধীরে ধীরে দুই সন্তানের কপালে চুমু খেয়ে বলল,
“সিমরান আমার আলো, আর শেরান আমার শক্তি।
সে সুমুর দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল,
“আর ওদের মাঝখানে তুমি আমার জান্নাত।”
সুমু আলতো হাসল। শেরাজ তাকে নিয়ে সোফায় গিয়ে বসল। অনন‍্যা খাতুন আর সাহাবাজ খান ওদের থেকে নাতি-নাতনিকে কোলে নিয়ে সোফায় বসলেন। রিয়াজ আর ছোট ফিরোজা এসে ছোট প্রাণ দুটির সাথে কথা বলতে লাগল। সুমু ঠোঁটে হাসি নিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল। পাশেই শেরাজ বসে ফোনে স্ক্রল করতে লাগল। হঠাৎ শেরাজের ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল। শেরাজ কথা বলার জন‍্য উঠে চলে গেল। সুমু ক‍ৌতুহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তার কিছু একটু ঠিক লাগল না। সে চোখ সরিয়ে সাহাবাজ খান আর অনন‍্যা খাতুনের কোলে থাকা সিমরান আর শেরানের দিকে তাকাল। মনে একটা ভয় এসে গেল। সে মনে মনে বলল,
“কিছু একটা ঠিক লাগছেনা। কেন বার বার মনে হচ্ছে, খারাপ কিছু হবে। আমার মনটা এতো অশান্ত লাগছে কেন? হে আল্লাহ! তুমি সবকিছু ঠিক রেখো। আর কোনো বিপদ যেন না হয়। সবাই যেন ভালো থাকে। আমি যেন আমার স্বামী, সন্তান আর আমার শশুরবাড়ির সবাইকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি।”

ঘড়িতে সময় রাত এগারোটা। রাহিন একা রুমে বসে, হালকা ক্লান্ত চোখে জানালার দিকে তাকিয়ে আছে। বাইরে রাস্তায় আলো-ছায়ার খেলা। সামিয়া এখনো রুমে আসেনি। রাহিন বুঝে উঠতে পারছে না, ওই মেয়েরা সারাদিন এতো কী কথা বলে।
রাহিন মাঝেমাঝে নিজের ল্যাপটপের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু মন ঠিক কাজ করছে না। সে নিজের মোবাইল হাতে নিল। ফোনটা আনলক করে সামিয়াকে টেক্সট করল,
“তোর গল্প করা কি শেষ হয়নি, সামু? রুমে কখন আসবি? আমি যদি ড্রয়িংরুমে আসি, তাহলে কিন্তু নাজমিনের সামনে দিয়ে তোকে কোলে করে রুমে নিয়ে আসব।”
টেক্সট সেন্ড করে সে বসে রইল। কিছুক্ষণ পর সামিয়া রিপ্লাই এলো,
“সমস‍্যাটা কি আপনার? ঘুমান আপনি। আমি পরে আসব।”
রাহিন টেক্সটটা পড়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলল। সে আইয়ুবের ফোনে কল দিল। একবার রিং হতেই আইয়ুব কল রিসিভ করল। সে কিছু বলার আগেই রাহিন বাজখাঁই গলায় বলল,
“শা*লা তোর বউকে রুমে যেতে বলিস না কেন? তোর বউয়ের জন‍্য আমার বউও রুমে আসছেনা।”
আইয়ুব তেজ দেখিয়ে বলল,
“শোন! সেই দশটা থেকে রুমে এসে, বউয়ের অপেক্ষায় বসে আছি। এই পযর্ন্ত পাঁচশো টেক্সট করেছি। তোর বউ তো তাও তোর টেক্সটটের রিপ্লাই করে। আমারটা তো সিন করে রেখে দেয়।”
রাহিন ভ্রু কুঁচকে বলল,

“তোর বউই তো আমার বউয়ের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে আর তুই এভাবে অভিযোগ করছিস?”
“তোর বউ আমার বউয়ের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। আমি দশটা থেকে বসে আছি, টেক্সট পাঠাচ্ছি, আর ও শুধু সিন করছে। মানে, আমার বউও তোর বউয়ের মতো রুমে আসবে না।”
“হুম, মানে আমরা দুজনেই বউদের টেকনিক্যাল সমস্যার মধ্যে আটকে আছি। এখন কি করব?”
আইয়ুব হালকা কণ্ঠে বলল,
“তুই চিন্তা করিস না, আমি একটা আইডিয়া বের করছি।”
রাহিন চোখ বড় করে বলল,
“তোর আইডিয়া আর যুদ্ধ—দুটোই তোর আউট অফ দ্যা বক্স। শোন ওসব বাদ, একটা বাজি ধরি আয়।”
“কি বাজি?”
“আমাদের মধ্যে যে প্রথম বুদ্ধি দিয়ে বউকে রুমে নিয়ে আসতে পারবে, সেই জয়ী।”
“ওকে, ডান!”
দু’জনেই কল রাখল। রাহিন একটু ভেবে সামিয়াকে টেক্সট করল,

“সামু! আমার না ভীষণ মাথা যন্ত্রণা করছে। সারাদিন অনেক কাজ করেছি তো। তুই প্লিজ এখনই রুমে আয়।”
অপরদিকে, আইয়ুব নাজমিনকে টেক্সট করে বলল,
“ব্রাউন গার্ল! আমার ভীষণ পেটে ব‍্যথা করছে। আজ সন্ধ্যায় এস.কে’দের বাড়ি থেকে অনেক বেশি খেয়ে ফেলেছি তো, তাই এখন অসম্ভব পেটে ব‍্যথা করছে। তুমি প্লিজ রুমে এসো। তোমার স্বামী মরে যাচ্ছে যন্ত্রণায়।”
সামিয়া আর নাজমিন ড্রয়িংরুমে বসে। দুজনেই একসাথে টেক্সট দেখল। সামিয়া টেক্সট পড়ে বলল,
“ওনার নাকি অনেক মাথা ব‍্যথা করছে। এবার আমার রুমে যাওয়া উচিত। তুইও রুমে চলে যা।”
নাজমিন ভ্রু কুঁচকে বলল,

“রাহিন ভাইয়ার মাথা ব‍্যথা করছে? এদিকে উনিও তো টেক্সট করে বলল, ওনার নাকি পেট ব‍্যথা করছে। বুঝলাম না! দুজনেই একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ল।”
সামিয়া একটু ভেবে হেসে বলল,
“বাহ! দারুণ তো, দুজনেই একসাথে অসুস্থ হলো। আমার তো কেমন একটা গণ্ডগোলের মনে হচ্ছে।”
“ঠিক বলেছিস। আমি শিওর দুজনে প্ল‍্যান করে এসব করছে। কোনো পেট ব‍্যথা, মাথা ব‍্যথা না। এসব করে আমাদের রুমে নেবার প্ল‍্যান।”
সামিয়া বাঁকা হেসে বলল,
“তাহলে দুজনকে একটা শিক্ষা দেই, চল।”
নাজমিন কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

খান সাহেব পর্ব ৭৮ (২)

“কীভাবে?”
“আজ আমি আর তুই একসাথে ঘুমিয়ে পড়ি চল।”
“ঠিক বলেছিস! আজ আমরা রুমে যাব না। মিথ্যা বলে আমাদের রুমে নেবার প্ল‍্যান। আজ আমরা রুমেই যাব না।”
দুজনে একসাথে হেসে উঠল। আর বসে না থেকে দুজনেই উঠে নিচের একটা রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ল।

খান সাহেব পর্ব ৭৯ (২)