Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬৪

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬৪
জান্নাতি আক্তার জারা

সময় টা বিকাল, ঈদের বিকাল বৃষ্টি হয়ে পুরো রাত মেঘলা কেটে ভোরের সূর্যটা খা খা উঠে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছিলো, ভোর কেটে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে পুনরায় বিকাল, আরশ কে আর বাড়ি ফিরতে দেয়নি রুপোলী বেগম, কেনো না গতকাল আরাত রা বৃষ্টিতে ভিজে শরীরে জ্বর বাঁধিয়ে ফেলছে, যদিও আরাত মিম আইরা আনাস তাকবীর ঠিক আছে, শুধু এরান মাহা বীরাত তাঁদের শরীরে হালকা জ্বর, কখনো নামছে কখনো বাড়ছে, অকারণে বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাঁধানোর জন্য বড়দের কাছে বকাও খেতে হয়েছে, তাঁদের ভিতরে পার্থ বিছানায় পড়ে আছে, ফার্স্ট টাইম বৃষ্টি বিলাস, তারউপর একটু বেশিই ভিজেছে, এতএত অসুস্থ রোগী কে দেখার জন্য ডক্টর আরশ কে বাড়ি ফিরতে দেয়নি কেউ, আরশ এ-ই বাড়ি একজন হয়ে পুরো বাড়ি নিজ হাতে হ্যান্ডেল করে, মিমের বাবার দেখাশোনা এবং বাড়ির টুকিটাকি যত্ন নেওয়া, এই সাত বছরে এই গ্রামটা আরশের নিজের হয়ে গেছে,

প্রতিদিন বাইক নিয়ে শহর থেকে গ্রামে ফেরা, বাইকের শব্দে ছোট ছোট বাচ্চারা দৌড়ে আসা, তাঁদের সঙ্গে পুরো বিকাল কাটিয়ে মিমের বাগানের যত্ন নেওয়া, তাঁর পাশাপাশি বাড়ি এবং মিমের আম্মু আব্বুর, সাত বছরে গ্রামের মানুষের মন জয় করে ফেলছে, কেউ অসুস্থ হলেও আরশ কে দেখায়, বলতে গেলে ফুলবাগানের সাইটে গাছের ছায়ায় একখান চেয়ার আর টেবিল সবসময় থাকবে, আরশ সেখানেই বসে বাচ্চাদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, আজকের বিকাল টা একটু অন্যরকম, উঠানের সাইটে একটা ফাঁকা জমিন পড়ে আছে, হয়তো জমির মালিক কয়দিন পড়ে ফসল ফেলাবে, সেই ফাঁকা জমিতে বল খেলার আয়োজন করেছে আনাস, আনাস রা বল খেলার প্ল্যান করলে আদনান তালুকদার আহাদ তালুকদার কে নিয়ে আসেন, আনাস দের সঙ্গে বল খেলবে বলে, কিছুটা ছোট বেলায় ফিরে যাবেন আজ, দুই ভাই কে খেলার জন্য জমিতে আসতে দেখে আনাস আহিন খুশি হয়ে গেলো, কেনো না আজকে প্রথমবার বাপচাচার সঙ্গে খেলার সুযোগ হয়ে উঠেছে, তাঁদের মধ্যে যোগ হয়েছে আতিফ শেখ এবং মিমের বাবা, আরশ আর অসুস্থ পার্থ, ছোট ছোট বাচ্চা রা হইহই করে দৌড়ে বেড়াচ্ছে আর খেলা করছে, মেয়েরা চেয়ার নিয়ে উঠানে বসে তাঁদের খেলা দেখছে, বাড়ির সবাই উপস্থিত থাকলেও তাঁদের মধ্যে উপস্থিত নেই শুধু তাকবীর, আদনান তালুকদার আনাস ডেকে বলল,

___” আনাস… তাকবীর কই?
আনাস চারপাশে খোঁজে তাকবীর কে না দেখে বলল,
___” নো আইডিয়া, ভাইয়া মেবি রুমে।
আদনান তালুকদার এবার ছোট ছেলেকে ডেকে বললেন,
___” আহিন তোমার ভাইয়া কে ডেকে নিয়ে আসো , বলো বাবা বল খেলতে ডাকছে।
বাবার কথায় আহিন মুখে হাসি টেনে বিরক্ত কন্ঠে বলল,
___” ভাইয়া আমাদের সঙ্গে খেলার ছেলে না।
আদনান তালুকদার ছোট ছেলের কথায় ভ্রু কুঁচকালেন,
___” তাহলে কার সাথে খেলবে?
___” কার সঙ্গে আবার, তাঁর বউয়ের সঙ্গে।
আহিনের কথায় আদনান তালুকদার কেশে আতিফ শেখের কাছে চলে গেলেন, আনাস আহিনের কাঁধে হাত রেখে চিবিয়ে চিবিয়ে ফিসফিস করলো,
___” কী সব আজেবাজে কথা বলছিস ইডিয়েট?
আহিন আনাস এর কথায় অবাক কন্ঠে বলল,

___” আমি কেনো আজেবাজে বলতে যাবো, আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে, ভিডিও দেখবে, দেখবো ভিডিও?
বলেই আহিন প্যান্টের পকেট থেকে নিজের ফোন বের করল, আনাস তাজ্জব বনে আহিন কে দেখছে, আহিন ফোনের গ্যালারি ঘেটে সেই পুরনো একটা ভিডিও আনাস এর সামনে ধরলো,
___” এই দেখো, তাকবীর ভাইয়া আর আরাত আপু গ্রামে এসে খেলছে।
আনাস একবার ফোন তো আরেকবার আহিনের মুখের দিকে তাকাচ্ছে, আহিন আনাস কে নিজের মুখের দিকে তাকাতে দেখে বলল,
___” ভিডিও দেখে বিশ্বাস হচ্ছে ?
আনাস দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
___” হারামি তুই ব্যাডমিন্টন খেলার কথা বলছিস?
ফোনে চলছে, সেই সাত বছর আগের পুরাতন এক ভিডিও, যে ভিডিওতে আরাত আর তাকবীর শীতের রাতে কুয়াশার ঘিরে অন্ধকার উঠানে লাইট জ্বালিয়ে দুজন মিলে ব্যাডমিন্টন খেলছে, ভিডিও টা মিম সাইট থেকে ক্যাপচার করে রাখছিলো, আনাস এর কথায়
আহিনের সোজাসাপটা উত্তর,

___” অফকোর্স, দেখো তাকবীর ভাইয়া কে কখনো আমাদের সঙ্গে খেলতে দেখেছো?
আনাস গম্ভীর গলায়,
___” নো।
আহিন পুনরায় প্যান্টের পকেটে ফোন ঢুকাতে ঢুকাতে বলল,
___” তাহলে আজকে আশা করছো কেনো, ভাইয়া আমাদের সঙ্গে খেলবে, ভাইয়া তো খেলবে তাঁর বউয়ের সঙ্গে।
আহিনের কথায় আনাস চোখ পাকিয়ে তাকালো আহিনের দিকে, আহিন দাঁত কেলিয়ে হেঁসে বলল,
___” আরে ভাই আমি ব্যাডমিন্টন এর কথা বলছি।
আনাস কে এখনো রাগী চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে আহিন এদিকে ওদিকে চোখ লুকালো, পাশ থেকে পার্থ আহিনের কাঁধে হাত রেখে হাসি মুখে বলল,

___” তুমি জীবনেও সোজা হবে না, না?
আহিন একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো, পার্থর মুখের দিকে চেয়ে হতাশা কন্ঠে বলল,
___” আমি স্কেল দিয়েও বাঁকা দাগ টানি, আমার জীবন সোজা হওয়া তো বিলাসিতা।
পার্থ হাসতে হাসতে বলল,
___” সোজা মানে সিরিয়াস হওয়ায় কথা বলছি।
___” হ্যাঁ হ্যাঁ এটাই।
পার্থ আহিন হাসতে হাসতে চলে গেলো, খেলা শুরু হয়ে গেলো বড়রা এক দল, আর আনাস রা আরেক দল, দুই দলে জমিয়ে খেলা চলছে, আর বাড়ির বউ-বাচ্চা উঠানে বসে সেই খেলা উপভোগ করছে, আজ যেন বয়স্ক আর জোয়ানের মধ্যে কোনো তফাৎ লাগছে না, যেন ছোট বেলায় ফিরে গেছে তাঁরা, কিছুক্ষণ পড়ে তিশা আর হানিফ কে দেখা গেলো মিমদের উঠানে দিকে আসতে, মিম দূর থেকে দেখলো দুজন গল্প করতে করতে হাসিহাসি করে আসতে,হানিফ গতরাতে এসেছে শশুর বাড়িতে,তিশা আর হানিফ আসতেই মিম কে নিজেদের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে হানিফ গলা খাঁকারি ছোট করে বলল,

___” কেমন আছো?
মিম মুখে মেকি হাসি টেনে,
___” আলহামদুলিল্লাহ ভাইয়া, আঙ্কেল আন্টি
কেমন আছে?
হানিফ একনজর মিম কে দেখে পুনরায় সবার খেলার দিকে তাকিয়ে উওর করলো,
___” তুমি যেমন তাঁদের ছোট ছেলেকে রেখেছো।
মিম হানিফের কথায় ভ্রু কুঁচকালো, বুঝতে পারলো না হানিফের কথার মানে, আনাস হানিফ কে হাতের ইশারায় তাঁদের সঙ্গে খেলার জন্য ডাকছে, হানিফ নিজেও হাতের ইশারায় আরসে বলে ইশারা দিয়ে মিমের দিকে তাকালো, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

___” আমার পরিবার তোমার থেকে এতটা এক্সপেক্ট করে নি, যতটা তুমি দিয়েছো।
মিম চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো, চোখে স্পষ্ট অস্বস্তি, কথাটা বলে হানিফ তিশা কে নিয়ে সামনে এগুলো, তিশা কে একটা চেয়ারে বসে দিয়ে হানিফ জমিতে খেলার জন্য নেমে গেলো,মিম জায়গায় কিছুক্ষণ থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকলো, হানিফ যে আরশ আর মিমের ডিভোর্সের ব্যাপারে বলল কথাটা মিম এতক্ষণে বুঝে গেছে, মুখে মলিন হাসি নিয়ে দু এক পা করে তিশার পাশে এসে দাঁড়ালো, তিশার চোখ অনুসরণ করে খেলার দিকে চোখ রেখে কন্ঠে কিছুটা উৎসাহ মিশিয়ে জানতে চাইলো,
___” কীভাবে তোদের বিয়েটা হয়েছিলো?
হটাৎ কারো কন্ঠে তিশা নিজের পাশে দাঁড়ানো মিমের দিকে তাকালো, মিমের চোখ খেলার দিকে থাকলেও চোখমুখে লেগে আছে কৌতুহল, তিশা যেন মিমের অপেক্ষা করছিলো, মিম কে একপলক দেখে পুনরায় সামনে চোখ রেখে ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলো,

___” শুনতে চাস সেই ছয় বছর আগের কাহিনী?
মিম খেলায় চোখ রেখেই স্বাভাবিক কন্ঠে বলে উঠলো, “হুম।
তিশা খানিকটা মুখে মলিন হেঁসে আনমনে বলে উঠলো,
___”আমাদের সুখের বর্ণনা দিতে পারি, কিন্তু দুঃখের বর্ণনা দেওয়া যে খুবই কঠিন, আমি দেখেছি গলায় আটকে যাওয়া সেই কথা, টলমল চোখের পানি, দমবন্ধকর নিশ্বাস, কিভাবে বর্ণনা করবো চিৎকার দিয়ে কান্না করার সেই ভয়ংকর আত্মনাত।
মিম অবাক হলো, তিশার কথায় সাত বছর আগের কাহিনী জানার ইচ্ছা টা তীব্র থেকে তীব্র হলো, মনটা ছটফট করে উঠলো কী হয়েছিলো সেদিন মিম আমেরিকায় চলে যাওয়ার পর , মিমের কৌতুহলী চোখ দেখে তিশা তাচ্ছিল্য হেঁসে বলল,

___” মানুষ প্রেমে পড়ে, আবার সেই প্রেমেই পুড়ে..
মিম তিশার কথায় ভ্রু কুঁচকালো,
___” মানে?
তিশা এদিক ওদিক তাকালো, আশেপাশে এত মানুষ দেখে তিশা মিমের হাত টেনে হাটতে হাটতে বলল,
___” চল আমার সঙ্গে।
তিশা মিমের হাত টেনে নিয়ে ফুল বাগান পেরিয়ে শিউলি ফুল গাছের নিচে বাঁশের টং এর উপর বসল মিমের সাহায্য, মিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” তুই বসবি না?
___” না এভাবেই ঠিক আছি, তুই বল তোদের বিয়ে কিভাবে হয়েছে?
তিশা খানিকটা নড়েচড়ে বসে মিমের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” তোর মনে কী আরশ ভাইয়ার জন্য এখনো কেনো ফিলিং কাজ করে, আই মিন তুই এখনো আরশ ভাইয়া কে ভালোবাসিস?
মিমের মুখভঙ্গি বদলে গেলো, কিছুটা বিরক্ত ফুটে উঠলো,

___” তুই কী এ-সব জানার জন্য আমাকে এখানে
নিয়ে আসলি?
___” জাললে ক্ষতি কী বল ?
___” আমি ভালোবাসি কি-না জেনে কী করবি, তোর দেওর তো আর আমাকে ভালোবাসেনি তাই-না।
___” তুই কিভাবে জানিস আরশ ভাইয়া তোকে ভালোবাসে না?
মিম অবাক চোখে তিশার দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে হটাৎই তাচ্ছিল্য হেঁসে উঠো মলিন মুখে বলতে লাগলো,
___” ভালোবাসা… ভেবেছিলাম ওর আমাকে আটকাতে এয়ারপোর্টে আসবে, কিন্তু ও আসোনি, সেদিন যদি আমার হাত ধরে আমাকে আঁকানোর চেষ্টা করতো,আমি মেনে নিতাম, আমি ওর সব ভুল ভুলে গিয়ে থেকে যাইতাম,আমি ওর মধ্যে আমাকে নিয়ে কেনো রকম পাগলামি দেখিনি, দেখবো কিভাবে, সে তো আমাকে আটকাতেই আসেনি, আমাকে ভালোবাসলে নিশ্চয়ই সেদিন আমাকে আটকাতো, আমাকে মিস করতো, আমাকে তো সে ভুলে গিয়েছে, দেখনা এতবছর পড়েও তাঁর সেই খামখেয়ালী বেপরোয়া অ্যাটিটিউড নিয়ে থাকে।

___” যে তোকে এক পলক দেখার জন্য ছটফট করছে তাকেই তুই মিস করা শেখাচ্ছিস, যে হাজার চেষ্টা করেও তোকে ভুলতে পারে নি তাকে অন্তত মায়া শেখাতে যায় না।
মিম তিশার কথায় তেতে উঠে বলল,
___” তিশা যা বলার সরাসরি বল, আমার ধৈর্যের বাদ ভেঙে যাচ্ছে।
___” আমারও ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে তোদের এ-সব দেখতে দেখতে, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে যে ছেলেটা,বাবা-মা,বড় ভাই এর নাম না নিয়ে শুধুমাত্র তোর নাম নেয়,তাঁকে অন্তত ভালোবাসার মানে শিকাতে যাস না, হ্যাঁ ঠিক শুনছিস শুধুমাএ তোর নাম, শুধুমাএ তোর নাম নিয়েছিলো।
মিমের চোখে পানি টলমল করছে, যেকোনো সময় গাল গড়িয়ে পরবে, কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

___” মৃত্যু…..
তিশার নিজেও সেই সাত বছর আগের বিচ্ছেদের ভয়ংকর দিন টার কথা মনে পড়তেই চোখ ভিজে উঠলো, বিচ্ছেদ কী শুধু দুজন মানুষের হয়েছিল, না হয়েছিলো এক ছন্নছাড়া পাগল এক মেয়ের, যে কি-না তাঁর অতিরিক্ত আবেগ কে ভালোবাসার নাম দিয়ে অন্যর ক্ষতি করে ভালো থাকতে চেয়েছিলো, তিশা চোখের পানি মুছে বলতে লাগলো,
___” হ্যাঁ মৃত্যু, আভিযোগ করছিস না, কেনো আরশ ভাইয়া তোকে এয়ারপোর্টে আটকাতে আসলো না, সত্যিই কী এসেছিল না, এসেছিল, তোকে আটকাতেই এসেছিল, কিন্তু মাঝরাস্তায় ভাইয়া বাইক এক্সিডেন্ট করে, তুই যখন ইমিগ্রেশন চলে গেলি, সাথে সাথে হানিফের ফোনে ফোন আসে, আমরা দ্রুত ছুটে যাই হাসপাতালে, আমরা হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আম্মু আব্বু চলে এসেছিল, সঙ্গে ছিলো রুপা তাসিন, সেদিন দেখেছিলাম তোকে ঘিরে আরশ ভাইয়ার আর্তনাদ, আরশ ভাইয়ার মুখে শুধু একটা নাম-ই ছিলো মিম, আমার হৃদয় আমার ভালোবাসা আমার মানসিক শান্তি, সব নিয়ে গেছে ও, “আমাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে আরশ ভাইয়া করুণ কন্ঠে বলেছিল,

___” আমার রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকে না, রাগের মাথায় ওকে অনেক কিছুই বলে ফেলছি,প্লিজ আমাকে একটা চান্স দিতে বলেন আপনার ফ্রেন্ড কে, দূরে যাওয়া তো কেনো সলিউশন না তাইনা, ও যাই করুক আমি মেনে নিবো প্লিজ থেকে যেতে বলেন।
আরশ ভাইয়ার পাগলামিতে ডাক্তার রা রেগে গিয়েছিলেন, ভাইয়ার ঠিকমতো ট্রিটমেন্ট করতে পারছিলেন না, ভাইয়ার এক হাত ভেঙে গিয়েছিলেন, পুরো শরীরে জায়গায় জায়গায় জখম হয়েছিলো, ক্ষত গুলো খুব গভীর ছিলো, তবুও ভাইয়ার মুখে শুধু তোর ফিরে আসার আকুতি আর তোর কাছে ছুটে যাওয়ার বাহানা করেছিলো, সবাই মিলে যোর করে আটকে রেখেছিলো সেদিন, আমি উত্তর দিতে পারিনি কী উত্তর দিবো বল, ততক্ষণে তুই বাংলাদেশের জমিন ছেড়েছিস, আমাকে চুপ থাকতে দেখে ভাইয়া বুঝতে পেয়েছিলো তুই চলে গেছিস, পুনরায় ভাইয়ার পাগলামি শুরু হয়ে যায়, ভাঙা হাতে বেড থেকে উঠতে নেয়, সাথে সাথে সবাই মিলে আরশ ভাইয়া কে আটকায়, সেদিন চিৎকার দিয়ে করুণ গলায় বলেছিল আরশ ভাইয়া,

___” ও আমাকে ফেলে চলে গেলো, আই লাভ হার, আই লাভ হার, ওকে ছাড়া বাঁচবো না আমি, জানি না আমি কী করবো, আমি কী করবো,ছেড়ে দেও আমাকে, আমাকে যেতে দেও প্লিজ ভাইয়া।
হানিফ প্রথম বার আরশের পাগলামি দেখে রেগে ধমকে উঠেছিলো,
___” আরশ…. শান্ত হ এটা হাসপাতাল, কী পাগলামি শুরু করছিস, তুই তো সবসময় মিম কে অপমান করেছিস, আজকে মিমের জন্য এত পাগলামি করছিস কেনো, এতদিন তোর ফিলিং কই ছিলো হ্যাঁ?
আরশ ভাইয়া হানিফের কথায় চিৎকার দিয়ে বলছিলো,
___” কেউ জানে না, কেউ জানে না আমি কী ফিল করেছি, ফিলিং লুকিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করেছি, কারণ নিজের ফিলিংস এর কাছে আমি হারতে চাইনি,নিজের ফিলিং লুকিয়ে রেখে আমি ওকে অনেক কষ্ট দিয়েছি , যে আমার জন্য সবকিছু ছিলো, সবকিছু, আমি তাকেই কষ্ট দিয়েছি, বলতে পারিনি আমি ওকে কতটা ভালোবাসি, আই লাভ মিম, আমি তোকে অনেক অনেক অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলছি, প্লিজ ফিরে আয় প্লিজ।

আরশ ভাইয়ার চিৎকার দিয়ে পাগলামি গুলো সহ্য করতে পারছিলো না হানিফ, তানিস ছিলো হাসপাতালে, তোর আর আরশ ভাইয়ার বিচ্ছেদের জন্য দায়ী করল তাসিন কে, এতকিছুর পিছনে তাসিন মেয়েটার হাত ছিলো, তাসিন কে সাজা দিতে হানিফ জেদ করে আমাকে বিয়ে করে, তাসিন মেয়েটার সামনে, যেনো যে ভালোবাসার জন্য এতগুলো মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করছে, সেই ভালোবাসার মানুষ টা তাঁর চোখের সামনে অন্য মেয়ে কে বিয়ে করছে, তাসিন এর জন্য এটাই ছিলো বড় শাস্তি, যা হয়তো জেলের থেকেও হাজার গুণ কষ্ট দিয়েছে, সেদিন সবার সামনে তাসিন পাগলামি করে, হটাৎ এভাবে হানিফের সঙ্গে তিশার বিয়ে টা মেনে নিতে পারে না, হানিফ দের বাড়িতে এসে চিৎকার চেচামেচি করতে থাকে,

___” নারী সব কিছু সহ্য করতে পারে কিন্তু তার শখের পুরুষের পাশে অন্য কোনো নারী কে সহ্য করতে পারে না, আমিও পারি না, এই আবেগ নিয়ে ঘুরা যে কত টা যন্ত্রণাদায়ক যে বয়ে বেড়াই সে জানে, অন্য মেয়ে কে তোমার পাশে সহ্য করতে পারি না বলেই আজকে তুমি আমাকে এত বড় শাস্তি দিচ্ছো তাই-না?
তাসিন যখন কথাগুলো বলতে বলতে হানিফের কাছে আসতে নেয়, হানিফের মা সাথে সাথে তাসিনের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের করতে করতে বলে,
___” তোমার মতো মেয়ে আমার বাড়ির বউ হওয়ায় যোগ্যতা কখনো রাখেনি, তোমাকে আগেই মেনে নিয়েছিলাম না, এখন তো আমার ঘরে লক্ষী এসেছে, তাঁর জায়গা তুমি কখনো পাবে না, ওঁদের দু’জনের থেকে দূরে থাকবে।
তাসিন হানিফের মায়ের হাত ঝাঁকটা মেয়ে পুনরায় দৌড়ে হানিফের সামনে এসে হাত ধরে বলে,

___” তুমি বলো সব মিথ্যা, এই মেয়ে, এই মেয়ে তোমার কেউ না, আমার তোমার বউ হওয়ার কথা ছিলো, আমার জায়গায় ওই মেয়ে কিভাবে এসে গেলো, আমাদের মধ্যে বাঁধা কে আমি সরিয়েছি হানিফ, এই মেয়ে হুট করে আমাদের মধ্যে কিভাবে আসতে পারে, পারে না, পারে না, কেনো আসবে সে, আমি তো তোমাকে ভালোবাসি, তাহলে কেনো আসবে ওই মেয়ে, এই মেয়ে সরো আমার হানিফের পাশে থেকে দূরে সরো।
তিশা হানিফের পাশে দাঁড়িয়ে তাসিন কে দেখছিলো, তিশার মা-বাবার সঙ্গে হানিফ যোগাযোগ করেই তিশা কে বিয়েটা করেছে, কিন্তু এখন তিশার মনে হচ্ছে বিয়ে টা না করাই ভালো ছিলো, মেয়েটা সত্যিই অনেক ভালোবাসে হানিফ কে, ভাবনার পরপর পুনরায় ভাবছে, মেয়েটা মিমের সঙ্গে যা করেছে তাঁর জন্য এতটুকু শাস্তি সে প্রাপ্ত ছিলো, তিশার সকল ভাবনার মধ্যেই হটাৎই তাসিন তিশা কে ধাক্কা দেয় আর সঙ্গে সঙ্গে হানিফ ধরে ফেলে তিশা কে, তিশার মুখশ্রীতে ভয়, হানিফ নিজের বাহুডোর থেকে দু’হাতে তিশা কে ঠিকঠাক করে দাঁড়িয়ে দিয়ে রক্ত চক্ষু নিক্ষেপ করে তাসিন এর উপর, শক্তপোক্ত হাতে তাসিনের হাত ধরে রাগী গলায় বলে,
___”তাসিন…… কেনো কিছু মিথ্যা না,তিশা আমার ওয়াইফ, ওই বাড়ির বড় বউ, নেক্সট টাইম আমার বউয়ের শরীর টার্চ করার আগে ভেবেচিন্তে করবে, নয়তো আমি ভুলে যাবো, আমি হানিফ ভদ্র ছেলে গেট লস।
তাসিন কে হাত ধরে বাড়ির বাহিরে বের করে দিলে, তাসিন পুনরায় নির্লজ্জ হয়ে দৌড়ে এসে হানিফ কে জরিয়ে ধরে বলে,

___” না না না আমি মানি না ওই মেয়ে তোমার বউ, আমি তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসি হানিফ, কেউ না জাললো তুমি তো জানো, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না, তোমার পাশে অন্য মেয়েকে আমি সহ্য করবো কিভাবে, আমি পারবো না হানিফ, আমাকে একবার ভালোবেসে বুকে টেনে নেও, বিশ্বাস করো আমি সম্পূর্ণ ভাবে ভালো হয়ে যাবো, আর শার্ট প্যান্ট পরবো না, তোমার জন্য নিজেকে পরিবর্তন করবো প্রমিস, প্লিজ একবার বলো তুমি শুধু আমাকেই ভালোবাসো, আমি তোমার জন্য সব করবো, আমাকে দূরে থেলে এত বড় শাস্তি দিও না হানিফ প্লিজ, আমি তোমার পায়ে পড়ি।

হানিফ দাঁতে দাঁত খিঁচে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে অন্য দিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আরে, তিশার আর সহ্য হলো না, এখন তাঁদের বিয়ে হয়েছে, তাঁর সামনে অন্য মনে মেয়ে তাঁর স্বামীর পা জড়িয়ে আছে, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না, তিশা হুট করেই এক কান্ড করে বসলো, টি-টেবিলের উপর জগ ভর্তি পানি দেখে, ভর্তি জগ হাতে নিয়ে সদর দরজার কাছে এসে ভরা জগের সব পানি হানিফের পা জরিয়ে বসা থাকা তাসিনের মাথার উপর ঢেলে দিলো, সবাই হতবিহ্বল হয়ে গেলো, তাসিন হানিফের পা ছেড়ে দিয়ে বসা থেকে বাড়ির বাহিরে গিয়ে দাঁড়ালো,

___” আমার হাসবেন্ডের আশেপাশে থাকার চেষ্টা করবি তো তোকে ওখানেই মেরে দিবো বুঝতে পারছিস, অনেক সহ্য করেছি আর না, বেশি বাড়াবাড়ি করলে নেক্সট টাইম না তোকে পাওয়া যাবে, না তোর লাশ পাওয়া যাবে।
কথাগুলো তাসিনের মুখের উপর বলেই দরজা লেগে দিলো, হানিফ তখনও হতভম্ব দৃষ্টিতে তিশা কে দেখছে, এই মেয়ে তো তাসিনের থেকেও গুন্ডা বেশি, তিশা পিছু ফিরে হানিফ কে হতভম্ব হয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মুখে কেবলাকান্ত হাসি টাললো, হানিফের মা খুশি হয়ে তিশা কে ধরে বাহবা দিচ্ছে, যেন তিশা কেনো কম্পিটিশনে জিতে এসেছে, তিশা শাশুড়ির মুখে প্রশংসা শুনে আড়চোখে হানিফের চুপসে যাওয়া মুখের দিকে তাকালো, বেচারা তখনও শকট হয়ে আছে, তাঁর তিনদিন পড়ে হাসপাতালে থেকে আরশ রিলিজ দেয়, আরশ মূলত সেই দিন থেকে গম্ভীর হয়ে গেছে, কথা বলে কম, দশ-বারো দিন রেস্ট নিয়ে ভার্সিটি বাড়ি এবং প্রিতিদিন গ্রামে যাতায়াত হয়ে গেলো তাঁর নেশা, প্রথম প্রথম রুপোলী বেগম আরশ কে দেখতে পারতেন না, তবুও আরশ প্রতিদিন গ্রামে যায়, যেন মিমের বাবা-মা কে দেখা তাঁর কর্তব্য, তাঁর সঙ্গে মিমের ফুল বাগান এবং বাড়ির, এভাবে কদিন যেতেই মিমের বাবা মিমের জন্য টেনশন করতে করতে অসুস্থ হয়ে যায়, আর আরশ ছেলের মতো তাঁদের পাশে দাঁড়ায়, সেদিন থেকে রুপালী বেগমের কাছে আরশ ছেলের মতো আবদার করতে পারে, আরশ কে নিজেদের এত কাছে থেকে চিনে জানে রুপালী বেগমের আফসোস লাগে তাঁর মেয়ের উপর, এভাবে চলে যাওয়ার জন্য কষ্টের পাশাপাশি অভিমানের পাল্লাটা ভারী হয়ে যায়, খুব কাছে থেকে দেখে মিমের প্রতি আরশের মনের গহীনে যত্ন করা সেই সুন্দর অনুভূতি গুলো, আরশের একটা বিশ্বাস ছিলো, সেই বিশ্বাস থেকেই হয়তো বলেছিলো,

___” যদি তুমি আমার জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকো, তুমি চাইলেও আমাকে দূর করতে পারবে না, এই দুনিয়ায় কেনো, এই দুনিয়ায় মানুষই বা কেনো, তুমি আমি কেউ বদলাতে পারবো না, আমার বিশ্বাস তুমি ফিরবে, তুমি তোমার অভিমান অভিযোগ ভুলে ফিরবে আমার কাছে, তোমাকে ফিরতেই হবে, ততদিন তোমার অপেক্ষায় থাকবো, ফিরতে তোমাকে হবেই জান।
কিন্তু মিম ফিরে নি, আরশের বিশ্বাস টা ভেঙে গিয়েছিল, মিম ফিরার বদলে ফিরে ছিলো তাঁদের পবিত্র বন্ধনের চিরকালের জন্য শেষ হওয়া নামে গুটিগুটি অক্ষরের সাইন করা সেই বিচ্ছেদের কাগজ,
মিমের চোখ থেকে অনগর পানি গড়িয়ে পরছে, মাটির উপরে বসে পড়েছে অনেক আগেই, চোখে পানি ঠোঁটে হাসি, মুখে আঁটকে আসা কথা, অবিশ্বাস্য কন্ঠে বলল,

___” আরশ আমাকে ভালোবাসে, সত্যি বলছিস তিশা, বললা?
তিশা টং থেকে নেমে মিমের সামনে বসে মিমের গালে হাত রেখে আশ্বাস দিয়ে মাথা নাড়ালো,
___” হ্যাঁ, ভালোবাসে।
মিম তিশার হাতে হাত রেখে আনন্দমাখা কন্ঠে বলল,
___” দেখ আমার দম বন্ধ হয়ে আরছে, ও আমার উপর অভিমান করেছে তাই-না, দেখ আমি ওর সব অভিমান মিটিয়ে দিবো।
তিশা হাসি মুখে বলল,

___” হুম যাহ অভিমান ভাঙতে জানলে কেনো সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে না,ঠিক করে নে সব মানঅভিমান।
মিম আর দাঁড়ালো না, বসা থেকে উঠে ফুল বাগানের ভিতর দিয়ে দৌড়াতে লাগলো, মিমের শরীরে ছিলো সাদা গ্রাউন, দুহাতে কাঁচের চুড়ি, গলা দুপাশে ঝুলানো সাদা পাতলা ওড়না, ফুল বাগানের মধ্যে দৌড়চ্ছে বিধায় সাদা পাতলা ওড়না টা নানারকম ফুল গাছের ডালপালায় ছুয়ে দিয়ে যাচ্ছে, মুখে সুখময় হাসি, মিমের দৌড়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তিশা আড়লো,
___” মানুষ সময়ের সাথে মানিয়ে নেয় ঠিকই, কিন্তু জোর পূর্বক মেনে নেওয়া যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক তোদের কাছে শিখলাম, অপেক্ষা আর অভিমান দুটোই শেষ কর এবার, দূরত্ব কে তো অনেক জিতিয়ে দিয়েছিস, এবার নাহয় ভালোবাসা কে জিতিয়ে দে।

খেলা শেষ করে একে একে সবাই জমি থেকে উঠানে উঠছিলো, পার্থ সবার সামনে থাকায় মিম কে দৌড়ে আসতে দেখে জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো, নিমেষেই ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো, পার্থ কে দাড়াতে দেখে একে একে সবাই দাড়িয়ে গেলো, মিম তাঁদের দিকেই দৌড়ে আসছে, সবাই ভ্রু কুঁচকে দেখছে, শুধু পার্থর চাহনি ভিন্ন ছিলো, সবার শরীর ঘেমে একাকার হয়ে আছে, পার্থ মিম কে নিজের দিকে আসতে দেখে মুখের হাসি আরো গারো হলো, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই হাসি টুকু গায়েব হয়ে গেলো, যখন দেখলো মিম পার্থর পাশ কাটিয়ে আরশের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো, পার্থ মলিন মুখে পিছু ফিরে তাকালো, আরশ ভ্রু কুঁচকে মিম কে দেখছে, সবার নজর তাঁদের দুজনের উপর, মিম আরশের সামনে দাঁড়িয়ে আশেপাশে তাকাচ্ছে, মুখে লেগে আছে লজ্জা, যেন কিছু বলতে নিয়েও বলতে পারছে না, হয়তো বাড়ির সবার সামনে মনের কথা গুলো বের হতে চাইছে না, মিম লাজুক মুখে এদিকওদিক তাকিয়ে হটাৎই আরশ কে বলে উঠলো,

___” আপনার কিছু লাগবে, আই মিন আপনার শরীর তো ঘেমে একাকার হয়ে আছে, চলুন আপনাকে লেবুর শরবত বানিয়ে দেই।
মিমের এরূপ কথায় শুধু আরশ না বাড়ির সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো, কেউ বুঝতে পারছে না মিম হটাৎ আরশের এত খেয়াল রাখতে শুধু করলো কবে থেকে, আরশের মুখমণ্ডল মিমের কথায় হতভম্ব থেকে গম্ভীর হয়ে উঠলো, দাঁতে দাঁত চেপে ছোট করে ” ননসেন্স। বলে বড় বড় পা ফেলে জায়গা ত্যাগ করলো, মিম যেন নিজের মতো নেই, আরশের যাওয়ার পানে সবার সামনে মুচকি হেঁসে বেহায়ার মতো তাকিয়ে আছে, যেন আরশের মুখে ননসেন্স শব্দ টাও আজ মধুময় শুনতে লাগছে, পার্থ আগেই চলে গেছে, একে একে সবাই হতভম্ব দৃষ্টিতে মিম কে দেখতে দেখতে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো, সবাই যখন বাড়ির ভিতরে চলে গেলো, মিম সেদিকে চেয়েই বাঁকা হেঁসে বিরবির করলো,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬৩

___” এত যে ওভার স্মার্ট গিরি করেন, কি ভাবছেন, আপনি যে মনে মনে মোন কলা খান, আমি কিছু জানি না মনে করছেন, ওকেকক এবার আমিও দেখবো আপনার এই অভিনয় আর কতদিন, জ্বলে পুড়ে ছারখার যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন শহরের পন্ডিত মশাই।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬৫

2 COMMENTS

Comments are closed.