Home মন পবনে বৃষ্টি মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৭

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৭

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৭
তাসনিয়া নুর

মাহিরের রুমে গম্ভীর হয়ে বসে আছে আবইয়াজ ও আহির । আহির ভাবছে কিছুক্ষণ আগের ঘটনা। কিছুক্ষণ আগে যখন চিত্রার সাথে দেখা হয়েছিল চিত্রা লাজুক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিল। আহির অনেকটাই অবাক হয়েছিল, মনে মনে শুধু একটা কথাই ভাসছিল এই মেয়ের ও বুঝি লজ্জা আছে। চিত্রা আহিরের কাছে যেতেই মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলল,
— আর এক মাস পর আমাদের বিয়ে হবে ভাবতেই লজ্জা লাগছে।
চিত্রার কথা শুনে আহির লাজুক হেসে চিত্রাকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে,
— হ্যাঁ জান, আমার আর সহ্য হচ্ছে না কবে যে তোকে দিয়ে আমার কাপড় ধুয়াতে পারব।
— মানে!!
__ আরে বউ হবি না? সেটার কথা বলছিলাম।

চিত্রা লজ্জা পেয়ে আবারও আহিরকে ধাক্কা মারল। চিত্রার পরপর আহির ও দিল। কিন্তু ব্যাপারটা বেশিক্ষণ স্বাভাবিক থাকল না, একপর্যায়ে দুজনের মুখয়াভবে পরিবর্তন দেখা দিল।আহির ও চিত্রা একে অপরকে জোরে জোরে ধাক্কা মারতে আরম্ভ করল। শেষে চিত্রা রেগে আহিরের চুল মুঠো করে টেনে ধরে আহির ও চিত্রার চুল টেনে ধরে। ঠিক তখনই ভেসে এসেছিল ননীর চিৎকারের স্বর ।
ভাবনা থেকে বাস্তবে ফিরতেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহির। অতঃপর আবইয়াজের দিকে দৃষ্টি তাক করে বলল,
— বলে তো দিলি একমাসের ভিতর কিছু একটা করে ফেলবি কিন্তু এখন কি করব ভেবেছিস?
আবইয়াজ ঠোঁট কামড়ে বলল,

— ভাবছি ছোটখাটো কিছু জিনিস দিয়ে আপাতত কিছু শুরু করব।
— তাহলে কি দিয়ে শুরু করবি?
— ইমম ভাবছি ছোটখাটো একটা ফোচকা স্টল দিব ।এসবে বেশ ভালো প্রফিট হয়।
আহির অবাক হয়ে বলল,
— হোয়াট?? শেষে কিনা হব ফোচকা ওয়ালা?
আবইয়াজ চোখ ছোট ছোট করে,
— এর থেকে ভালো কিছু তোর মাথায় থাকলে বল।
আহির আর কি বলবে? সে ও রাজি হয়ে গেল। আর তো কিছু করার নেই। তখন তো বড় বড় কথা বলে এসেছিল। এখন কিছু করতে না পারলে আম ও যাবে ছালা ও যাবে।
পরদিন সকালে লুকিয়ে লুকিয়ে হাইস্কুলের সামনে ফোচকা বিক্রি করতে নেমেছে আহির ও আবইয়াজ ।কিছুক্ষণ ভালোই বিক্রি হয়েছে, হঠাৎ চারটা মেয়ে এসে ওদের থেকে ফোচকা অর্ডার দিল। আহির খেয়াল করল মেয়েগুলো মুচকি মুচকি হাসছে ।আহির ভ্র কুঁচকে সেদিকে একবার তাকিয়ে আবারো নিজের কাজে মনোনিবেশ করল। হুট করে একটা মেয়ে এসে একেবারে আবইয়াজের কাছে দাঁড়াতেই আবইয়াজ এক লাফ দিয়ে পিছনে দিকে সরে বলল,

— এই মেয়ে দিন দুপুরে ছেলেদের ইজ্জতে হাত দিতে লজ্জা করে না। দূরে থাকো, তোমার থেকে বিষণ দুর্গন্ধে আসছে ।
আবইয়াজের শেষের কথা শুনে মেয়েটা রেগে বলল,
— তবে রে দেখাচ্ছি মজা।
কথাটা বলে মেয়েটা চিৎকার করতে আরম্ভ করে। এদিকে আহির ও আবইয়াজ আহাম্মক বনে গিয়েছে ইতিমধ্যে। মেয়েটা চিৎকার শুনে আশে-পাশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে আসতেই আহির আবইয়াজের কাছে এসে ঢোক গিলে বলল,
— ভাই এখন কি হবে? গনপিটোনি খেয়ে অকালে মরতে হবে নাকি? তবে কি আর আমার শেষ-মেষ বাসর করা হবে না?
— চুপ থাক আহাম্মক ।
এতো এতো মানুষকে এগিয়ে আসতে দেখে আবইয়াজ ঢোক গিলে আহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,

— এক, দুই, তিন. আহির বাঁচতে চাইলে ভাগ।
আবইয়াজ সময় ব্যয় না করে এক ছুট লাগায়। আহির প্রথমে কিছু বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে থাকে হুট করে ব্যাপারটা মাথায় ক্যাচ করতেই সে ও আবইয়াজের পিছন ছুট লাগায় । তাদের পিছন পিছন মানুষ ও দৌড়াতে থাকে।
পুলিশ স্টেশনে লকাপের ভেতর অসহায় এর মতো দাঁড়িয়ে আছে আবইয়াজ ও আহির।কিছুক্ষণ পর গম্ভীর মুখে স্টেশনে প্রবেশ করেন আনোয়ার মির্জা ও আয়ুব মির্জা। ওনাদের আসতে দেখেই জেলের ভিতর থেকে দু-হাত বের করে আহির ও আবইয়াজ চিৎকার দিয়ে অসহায় কন্ঠে ডেকে উঠে,
—- আব্বাআআআ।
আনোয়ার মির্জা বিরক্তি নিয়ে আবইয়াজ ও আহিরের দিকে তাকালেন ।শেষে পুলিশের সাথে অনেক কথা কাটাকাটি করে বুঝিয়ে আবইয়াজ ও আহিরকে নিয়ে বাসায় নিয়ে গেলেন।
গম্ভীর হয়ে আনোয়ার মির্জা বসে আছেন। হঠাৎ তিনি চাপা রেগে বললেন,

— শেষে কি না ফোচকা ওয়ালা? তা ও আবার মেয়েকে টিজ করে পুলিশ স্টেশনে পৌছে গেলে? ছি ছি ।
—- আব্বু এখানে আমাদের দোষ নেই সব দোষ ওই মেয়েটার ।
— চুপ থাকো। বেয়াদব ছেলে।
আনোয়ার মির্জা আর দেরি না করে রেগে উপরে চলে গেলেন। আনোয়ার মির্জার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আহির সংকুচিত হয়ে বলল,
— এখন কি করব?
আবইয়াজ ফোঁস করে শ্বাস ফেলে বলল,

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৬

— কি আর করব চল নতুন কিছু ভাবি। বসে থাকলে তো আর চলবে না। দেখি কি করা যায়।
আবইয়াজ ও আহির লেগে গেল নতুন কি ব্যবসা করা যায় সে ভাবনায়।
অপরদিকে মাহির সারাদিন ননীর পিছন ঘুরেছে কিন্তু মেয়েটা তাকে পাত্তা-ই দিল না। এখন নতুন ছক কষতে হবে ননীকে পটানোর। কথাটা ভেবেই মনে মনে হাসে মাহির।

মন পবনে বৃষ্টি পর্ব ৩৮