Home সাঁঝের মায়া সাঁঝের মায়া পর্ব ২৬ (২)

সাঁঝের মায়া পর্ব ২৬ (২)

সাঁঝের মায়া পর্ব ২৬ (২)
দুর এ দিলশাদ্ দুআা

কাল প্রথম রমজান শুরু হচ্ছে। গতকালকেই পুরো রমজানের বাজারসদাই বাড়ির কর্তারা করে ফেলেছেন।প্রথম সেহরি তে বাড়ির সকলেই ওঠে।রিশা,রোশনি,রাফি ও ঘুমানোর আগে বারবার মা কে ফাঁকা হুমকি দিয়ে যায় সেহরি তে যেনো অবশ্যই ডাকা হয় তাদের।
তিতির ঈশানের হাতের ব্যান্ডেজ করে দিয়ে খাবারের ট্রে খানা এগিয়ে এনে বসে পাশে।ঈশান নিশ্চুপ হয়েই বসে থাকে।মুখে।কোনো রা নেই একেবারে। তিতির একপলক খাবারের দিকে আরেক পলক ঈশানের মুখের দিকে ফেলে।তারপর দৃষ্টি তাক করে ব্যান্ডেজ করা হাতখানার দিকে।সে না খায়িয়ে দিলে খাওয়ার উপায় নেই লোকটার।মনে পরে গতরাতে তাকে ঈশান খায়িয়ে দিয়েছিলো।ঈশান নরম দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে তিতিরের মুখের দিকে।তিতির কিছু একটা ভাবছে সম্ভবত। মেয়েটার মনের কথা বেশ বুঝতে পারছে ঈশান।খাবার খায়িয়ে দেবে না কি এভাবে রেখে চলে যাবে সেটা নিয়ে দোনোমনায় রয়েছে।

ঈশান কোনোরকম আগ বাড়িয়ে কথা বলে না।দেখতে চায় তিতির কি করে।তিতির সময় নেয়,দীর্ঘশ্বাস ফেলে।খাবার ট্রে টা বিছানায় রেখে গিয়ে হাত ধুয়ে আসে।প্লেটে খাবার মাখায়।বিনাবাক্যে খাবার এনে ধরে ঈশানের মুখের সামনে।ঈশান তাকালো খাবারের দিকে।চিংড়ি মাছ ভুনা দিয়ে মেখে ধরেছে তার মুখের সামনে।তিতিরের প্রিয় খাবার চিংড়ি।সেটা সে জানে।বিয়ের দিন শুনেছিলো মায়ের কাছে।অসম্ভব পছন্দ যাকে বলে ।তবে ঈশান খায়না।খেতে পারেনা আরকি।অ্যালার্জি হয়।তবে কেনো যেনো এই মূহুর্তে কোনো প্রতিবাদই করতে ইচ্ছে হলো না।আরও কঠিন কঠিন শাস্তি মাথা পেতে নিতে ইচ্ছে হচ্ছে তিতিরের থেকে।ঈশানেরকোনো প্রতিক্রিয়া না দেখে কপাল কোচকায় তিতির,গম্ভীর গলায় বলে,

___”হা করছেন না কেনো?”
___”তুই খাবিনা?”
___”আপনি আগে খেয়ে নিন।আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।”
___”খাবার দেখে দিচ্ছিস তো?”
তিতির খাবারের দিকে তাকায়।খাবারে কি সমস্যা বুঝতে পারে না।ট্রে তে তিনটে বাটি তরকারির।চিংড়ি একটাতে অন্যটাতে পাবদা মাছ বাকিটাতে ডিমভুনা।সমস্যা কোথায় এতে!তিতির মুখ বাঁকায়।গম্ভীর গলায় বলে,
___”খাবার আমি আনিনি।আপনার মা এনেছে।সুতরাং বিষ মেশাইনি।খেয়ে নিন।”
ঈশান দীর্ঘশ্বাস ফেলে।খোঁচা মেরে কথা বলাটা এই মেয়ের স্বভাব এ পরিনত হয়েছে এই কয়দিনেই।সামনেতো আরও দিন পরেই আছে।তিতির তখনো ভ্রু কুচকে নিজের হাতটা ধরে আছে ঈশানের সামনে।সেদিকে তাকিয়ে শুকনো ঢোক গিলে মুখে তুলে নেয় খাবারটা।তিতির ইচ্ছে করে দিচ্ছে কি খাবারটা!বিয়ের দিন রাতে যখন তাদের একসাথে বসে খাওয়ানো হচ্ছিলো তখন তার মা বারবার বলে দিচ্ছিলো ঈশানের পাতে কিছুতেই যেনো চিংড়ি না পরে।তিতির কি খেয়াল করেনি সেটা!তিতির সময় নিয়ে সবগুলো পদই নিয়ে খাওয়ায় ঈশানকে।ইতিমধ্যে বুক ব্যাথা শুরু হয়ে গেছে ঈশানের।গলায় ঢোক গিলতে সমস্যা হচ্ছে। কেনোমতে বললো,

___”তুই খেয়ে নে।পেট ভরে গেছে আমার।”
___”খেলেনই তো না।”
___”আমি রাতে এর থেকে বেশি কিছু খাইনা।”
তিতির কথা বাড়ায় না।ঈশান হেল্থ কনশিয়াস ভয়াবহ ভাবে।সারাদিন খায়নি বলে রাতে ভাত খাচ্ছে।না হলে এখন বোমা ফেললেও সে হয়তো বাত ছুতো না।
নিজে সরে এসে বসে বিছানার এ পাশ টায়।আড়চোখে দেখে ঈশান তাকিয়ে আছে কি না তার দিকে।নাহ নেই।ঈশানের এটো খাবার টুকুই আগে শেষ করে সে।অজান্তেই চোখে পানি আসে তার।তার বাকিখাবার টাও খেয়ে নেয় যতটুকু পারে।প্লেট গুছিয়ে নিচে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই বাধা দেয় ঈশান।উল্টো হয়েই বসে আছে।ওখান থেকে কেমন এলট কন্ঠে বলে ওঠে,

___”রেখে দে। বুয়া এসে নিয়ে যাবে।”
___”আমিই রেখে আসছি।”
তিতির দ্রুত পায়ে নিচো নেমে আসে। ঈশানের দিকে ফিরে আর তাকায় না।তাকালে হয়তো ততক্ষনে রক্তিম হয়ে যাওয়া ঈশানের মুখটা নজরে পরতো তার।ঈশানও আর বাধা দিতে পারলনা।শ্বাস আটকে আসছে।
খাবারের এটো প্লেটগুলো রান্নাঘরের সিংকে রেখে হাত ধুয়ে এসে দাড়ায় ড্রয়িংরুমে।পরিবার এর সকলে এখানে বসে আছে।ঘড়ির কাটায় রাত আট টা পেরিয়েছে সবে।বাড়ির কর্তারা কেউ ফেরেনি।নয়নও বাইরেই আছে।ছোট গিন্নি খায়িয়ে দিচ্ছেন রিশা,রোশনি আর রাফি কে।নূরি,নিশি নিজেদের প্লেটে খাবার নিয়ে সোফায় বসে মুভি দেখতে দেখতে খাচ্ছে।যদিও এ বাড়িতে সবার খাওয়াদাওয়া ডাইনিং এই হয়।তবে দু একদিন বাড়ির কর্তারা না থাকে তার ব্যাতিক্রম ঘটে আরকি।
তিতিরকে দাড়ানো দেখে কেনো জেনো সবার মুখ জুড়ে লুকানো হাসি খেলা করে গেলো।নিশি হাতের ইশারায় বসতে বললো বোনকে।তিতির বসলো বোনের পাশে।নিশি বিনাবাক্যে নিজের প্লেটের চিংড়ির পিস টা মুখে পুরে দিলো তিতিরের।একই ভঙ্গিতে নূরিও একই কাজ করলো।এ বাড়ির প্রতিটা মানুষ জানে তিতিরের কি পরিমাণ চিংড়ি মাছ পছন্দ। জ্বরের কারণে ঠিকমতো খেতে পারছে না দেখে নয়ন পাঁচ কেজি গলদা চিংড়ি এনেছে গতকাল।মুখ ভরে চিংড়ি মাছ চিবুচ্ছে তিতির।পাশ ঘুরে রাহেলা আর রিক্তাকে খুজলো।নজরে না পরতেই বোনদের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলো,

___”বড় মামনী, মেজো মামনী কোথায়।”
নিশি মুখের খাবার টুকুু গিলে আরেকটা মাছ তিতিরের মুখে দিলো।
___”দিদার আশ্রয়ে রমজান উপলক্ষে কিছু জিনিসপত্র দিতে গেছে।”
___”কখন গেলো!একটু আগেও না আমাকে খাবার দিয়ে এলো।”
___”তোকে খাবার দিয়েই গেছে।কাল যেতো।কিন্তু দিদা আজকেই বায়না করলো।”
তিতির বুঝদারের মতো মাথা ঝাকায়।টেবিল থেকে পানির গ্লাস হাতে ঢকঢক করে পানি শেষ করে।
___”দিদাও গেছে?”
মাথা নাড়ে নিশি,নূরি।ছোট গিন্নি বাচ্চাদের খাবার খায়িয়ে প্লেট টা নিয়ে সরে যেতেই দু বোন ঘেষে বসলো তিতিরের দিকে।বাঁকা হাসি দুজনেরই মুখে।নিশিই প্রথম গলা নামিয়ে প্রশ্ন করলো,

___”কাল রাতে কোথায় ছিলিস হুম?”
আচমকা এহেন প্রশ্ন চুপসে গেলো তিতিরের মুখ।তবে স্বাভাবিক রেখে বললো,
___”আর বলো না।কি বৃষ্টি নামলো দেখলে না।আমাদের গাড়িটাও গেলো খারাপ হয়ে। বাধ্য হয়ে…
তিতিরের কথাটা শেষ হয়না।তার আগেই ফোড়ন কেটে ওঠে নূরি।
___”প্রি হানিমুন টা সেরে ফেললি তাইতো।”
লজ্জায় রাঙা হয়ে গেলো তিতিরের মুখখানা।কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে মুখের সামনে মাছি তাড়ানোর মতো ভঙ্গি করলো।
___”বাজে কথা বলো না ছোটপু।তমাও তো ছিলো সাথে। “
___”কি আশ্চর্য তমা যে অন্য রুমে ছিলো আমরা তো সেটা জানিই।”
তিতির স্তব্ধ হয়।তারমানে তমার এরইমধ্যে তার দুই বোনের কানেই সবকথা দিয়ে ফেলেছে।না জানি কি পরিমাণ রঙচঙ মাখিয়ে বলেছে।নিজের প্লেট টা টেবিলে রেখে নিশি নিজের উচ্ছসিত গলায় বললো,
___”বলনা কি করলি।”
___”বলছি তো কিছু না।বৃষ্টি নেমেছিলো বিধায় স্টে করতে হলো।দূর্যোগের মধ্যে…তোমাদের খালি উল্টাপাল্টা কথা।”
নূরি বা হাতে তিতিরের মোমের মতো গালটা টিপে ধরলো।

___”তাহলে ব্লাশ করছিস কেনো হুম?বুঝিনা ভেবেছিস?”
তিতির হাত চাপা দেয় নিজের গালে।গাল দুটোও।ওই অসভ্য লোকটার কথা শুনলে একা একাই রঙ পাল্টানো শুরু করে দেয়।নিজের ওপর হতাশ সে।তার শরীর,অথচ আজকাল তারই নিয়ন্ত্রণে থাকে না।মানা যায়!ওই অসভ্য, বেইমান লোকটার জন্য কাঁপা কাপি শুরু করে।
নিশি ঘেষে বসে মৃদু ধাক্কা দেয় তিতিরের গায়ে।
___”খুব ভালোবেসেছে বল?কাল রাতে তো আমরা সবাই এই নিয়েই আলোচনা করেছি।”
তিতির আরও লজ্জা পায়।তার অনুপস্থিতিতে এভাবে এসব আলোচনা করার মানে হয়।
___”বলছিস না কেনো?”
তিতিরের মুখ কেনো যেনো আচমকা মলিন হয়।লজ্জা মিলিয়ে যায়।রিশা, রোশনি,রাফি টিভি দেখছে অতি মনোযোগ এর সহিত।সেদিকে দৃষ্টি তাক করে রাখে।

___”তোমার ভাই আমাকে ভালোবাসে এ কথা কিভানে মনে হয় তোমাদের?”
নিশি,নূরি দুজনেই থমকায়।তিতির বোনেদের দিকে এবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়, বলে ওঠে,
___”ভালোবাসা এতো সহজে ভোলা যায়না আপু।একজনের নামে কবুল পড়লেই কি আগের অতীত ভোলা যায়।তোমার ভাইও পারেনি।পারবে না সম্ভবত। “
নিশি,নূরির দুজনেরই মুখখানাই কালো হয়ে যায়।নিশি ভাড়ি গলায় বলে ওঠে,
___”ভাই আবার তোকে ওই মেয়েটা সম্পর্কে কিছু বলেছে?”
তিতির মলিন হাসে।
___”তোমার ভাই অভিনয়ে একশ তে একশ।সে এসব বলবে কেনো!রুষাই বলেছে।তোমার ভাইয়ের উডবি সে।”
দু বোনের মাথাতেই বজ্রপাত হয়।আতকে ওঠে।

___”রুষার সাথে তোর কথা হয়েছে?”
মাথা ঝকায় তিতির।ধীর গলায় বলে,
___”হয়েছে।ইভেন তোমার ভাই কিন্তু তার প্রেমিকা কে আমাদের বিয়ের কথা জানায়নি।”
নূরি ততক্ষণে উত্তজনায় নিজের বাকিখাবারে হাত ধুয়ে ঘুরে বসেছে তিতিরের দিকে।নিশি মুখ মলিন করে ধ্যান ধরে বসা।
___”আর কি বলেছে ওই মেয়ে তোকে।খুলে বলতো।”
তিতির হালকা শ্বাস নিয়ে খুলে বলে সবটা।মুখ কঠিন হয় নিশি,নূরি দুজনেরই।
___”ব্লক করে দিসনি কেনো।”
তিতির হাসে নূরির কথায়।বাঁকা গলায় বলে,
___”কে আমি ওনার ওপর অধিকার খাটানোর।আমি ব্লক করবো কেনো!”
নিশি ধমকে ওঠে এবার।,
___ওর বউ গাধা।কে মানে!কারোর যদি অধিকার থাকে ভাইয়ের ওপর সেটা তোর।”
তিতির হেলান দেয় সোফায়।বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করে,

___”আমি জোর করে কিছু নিতে পারিনা বড়পু।এর জন্য তোমরাই দায়ি।গোটা একটা জীবনে তোমরা আমাকে না চাইতেও যত ভালোবাসা দিয়েছো আমার কখনো মনেই হয়নি ভালোবাসা চেয়ে নেওয়ার জিনিস।এটাও আমার কখনো কম পরবে আর আমাকে এটাও চাইতে হবে,ভাগাভাগি করতে হবে।”
চোখ ছলছল করে ওঠে নিশি,নূরির।সত্যিই তাই।তিতিরকে তারা কোনো কিছুর অভাব রাখেনি।সোনায় মোড়ানো ভালোবাসা দিয়ো আগলে রেখেছে।এই পরিবার এর সবার চোখের মণি মেয়েটা।সে অবশ্য এসব ডিজার্ভ ও করে।লক্ষী একটা মেয়ে।অথচ আজ দেখো ভাগ্যের পরিহাসে নিজের স্বামীর ভালোবাসা পাওয়া নিয়ে দ্বিধায় পরে আছে।
তার নিজেরাও বুঝতে পারছে না ভাইয়ের মতিগতি।কারণ বিয়ের আগে স্পষ্ট জানতো রুষা নামের মেয়েটির চ্যাপ্টার ক্লোজ।নিয়াজ নিশিকে বারবার বলেছিলো রুষার সাথে কোনো ধরনের এমন সেমন সম্পর্ক ছিলো না ঈশানের।ছোঁয়া ছুয়ির হিসেব তো বহু পরে।রুষা হাত ধুয়ে পরে থাকতো।জানাজানি ও রুষাই করতো। অথচ সেসব কিচ্ছু ছিলো না।বন্ধুত্বের সম্মানে ঈশান বিয়ে করতে রাজি হয় রুষাকে।পরে রুষাই না করে বিয়েতে।ঈশানের অবশ্য এতে কিছু যায় আসতো না।তারপর সময় পেরিয়েছে,পরিবার এর চাপে হোক আর যে কারনেই বিয়েটা হয়েছে।তবে নিজের ভাইকে খুব ভালো করে চেনে নিশি।জেদের হদিস জানে সে।শুধুমাত্র পরিবার এর চাপে রাজি হওয়ার ছেলে তার ভাই নয়।তিতির এর প্রতি কিছু একটা টান না থাকলে জীবনেও রাজি হতো না সে।তিতিরকে আলতো হাতে জড়িয়ে নেয় নিশি।নূরিও হাত রাখে অন্য হাতে।নিশি তিতিরের কপালের ছোটছোট চুলগুলো সুন্দর মতো কানে গুজে দিতে দিতে বলে,

___”তবুও।ভাই বলে না,আমার কেনো যেনো মনে হচ্ছে বিষয়টা অন্য তিতির।তুই ভাইয়ের স্ত্রী।তুই ছেড়ে দিবি কেনো তোর অধিকার।একটা মেয়ের জন্য বিয়ে মানে যে কি!গোটা সমাজ আজ বাদে কাল জানবে ঈশান আরশাদ দেওয়ান এর বউ তুই।যদি সংসার টা না টেকাস দুনিয়া আঙুলও তোর দিকেই তুলবে।”
তিতির আচমকা থামিয়ে দেয় নিশিকে।
___”তোমার ভাইয়ের সাথে আমার সে ধরনের সম্পর্ক নেই বড়পু।আর পাঁচটা স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক আমাদের মধ্যে হয়নি।আর হবেও না।”
নিশি থমকায়।ইতস্তত করে খানিকটা।সামনে আরকিছু বলা উচিত কিনা বুঝতে পারে না।তবে মন স্থির করে বলেই ফেলে,
___”কেনো হবেনা?বেধে ফেল তুই ভাইকে।যেভাবে সম্ভব। বুঝতে পারছিস আমি কি বোঝাতে চাইছি।পরপুরুষ না ভাই তোর,স্বামী। সুতরাং একবার বাঁধলে ভাই কোত্থাও যেতে পারবে না।”
তাচ্ছিল্যর হাসি হাসে তিতির।
___”শরীর পেলেই পুরুষ আটকায়?তোমার ভাইকে আটকাতে যেখানে ভালোবাসা নেই সেখানে আমার সতিত্ত্ব দান করে দেবো?”
ব্যাস্ত হয়ে দুদিকে মাথা নাড়ো নিশি।নূরি হঠাৎ বলে ওঠে,

___”সেটা কখন বললো বড়পু।তবে অসম্ভব নয় এটাও তিতির।অন্য পুরুষের হিসেব বাদ।তোর স্বামী কে আটকাতে যা করতে হয় করবি।ছলনা করতে হলে তাও করবি।”
___”পাগল হয়েছো?জোর করে শরীর পেলাম,নিজেকে বিলিয়ে দিলাম।মন?মনের হিসেব মিলবে কি করে?”
___”বাচ্চা নিয়ে ফেল।”
নূরির কথায় থমকায় তিতির।বুকের বা পাশে চিনচিন করে ওঠে।মুখটা লজ্জায় ভরে যায়।
___”কি যা তা বলছো তুমি।এখানে বাচ্চা আসে কোত্থেকে।”
___”ওভাবেই আসে।বাচ্চা নিয়ে ফেললে ভাই কোথ্থাও যাবেনা।ভাইকে চিনি আমি।আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভাই ওই রুষাকে ভালোবাসে না।এসবের কথা তোকে বলছি তোর মনের শান্তির জন্য। বুঝলি।বাচ্চা ছাড়াও আমার বড়ভাইয়া তোকে ছাড়বে না মিলিয়ে নিস।আর বাচ্চা হলে…”
___”ছোট আপু প্লিজ।এসব কথা খাপছাড়া লাগছে।সম্ভব নয় সেসব।তাছাড়া আমি নিজেই চাইনা তোমার ভাইকে আটকাতে।”
দুজনেই অবাক হয়।মাথা উচোয়।

___”কেনো চাসনা… মাথা ঠিক আছে তোর তিতির?তোর চোখেমুখে স্পষ্ট লেখা আমার ভাইকে ভালোবাসিস তুই।”
তিতির শব্দ করে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।
___”ভালোবাসা!!উমমম কি জানি।বাসি কিনা।তবে চাইনা সে পুরুষকে,চাইনা সে পুরুষের সন্তান আমার গর্ভে যে পুরুষ অন্য নারীকে ছুঁয়ে এসেছে।নিজের প্রথম স্পর্শ পরনারীরকে করে এসেছে। সে পুরুষকে আমি আটকাবো কেনো! আমার আত্মসম্মান নেই?আছে…ওই বাচ্চাটাকে এই নরকে এনে আমার সাথে ওকেও এই নরকের বাসিন্দা করার মানেই হয়না।যেখানে এসে দেখবে ওকে আনা হয়েছে ওর বাপের সাথে ছলনা করে। যে কি না তার মাকে নয় অন্য এক মহিলাতে আসক্ত… কি লাভ! সে বাচ্চার মুখ দেখে তোমাদের ভাই সংসারে রাজি হলে!আমি তো গোটা জীবনেও সে সংসারে মন বসাতে পারবো না।যতবার আমার বাচ্চাটার দিকে তাকাবো ততবার মনে হবে ওকে আমি আমার দাবার গুটি হিসেবে দুনিয়াতে এনেছি।আমার আর ওর বাপের ভালোবাসার প্রতিক নয় ও,শরীরের খুদা মেটানোর প্রতিক।”
টপটপ করে পানি পরতে থাকে তিতিরের চোখ দিয়ে।নূরি ব্যাস্ত হয়ে মুছে দেয় বোনের চোখের পানি।

___”বার্বি ট্রাস মি আমি এসব ভেবে বলিনি কথাটা।একদম বলিনি।আমাদের বিশ্বাস ভাই তোকেই চায়,ভালোবাসে।না টের পেলেও বাসে।রুষা কে নয়।সেই চিন্তা থেকে…
___”আমাক আর কিছু বোঝানোর দরকার নেই। আমি ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেবো সবটা।খোদা যেদিকে নিয়ে যাবেন আমাকে আমি যাবো।গন্তব্যের শেষে আমার আশ্রয় তোমার ভাই হলে তাও মেনে নেবো,সে না হলে তাও মেনে নেবো।আমার নিজ ইচ্ছা নেই আর।”
নিশি চুমু খায় বোনের কপালে।কি ম্যাচয়ুর লাগছে আজকে তাদের বার্বিটাকে।তবে বাচ্চা বাচ্চা অভিমান ঠিক রয়ে গেছে মনের ভিতরে।সে স্পষ্ট জানে তার ভাই ভালোবাসে তাদের বার্বিকে।আজ না বাসলেও কাল বাসবেই।নিয়াজ তাকে বলেছে সবটা।রুষার ব্ল্যাকমেইল বিষয়টা কি তারা এখনো সেটা জানেনা।কি এমন ঘটনা থাকতে পারে যার কারণে সয়ং ঈশান আরশাদ দেওয়ান ভয় পাচ্ছে।এটাও সম্ভব!
নিশি সেসব কাউকে বলেনি।নিয়াজের নিষেধ আছে।নূরিকেও বলেনি।আপাতত বলবেও না।ভাইটা তার যা করছে তার পিছনে অবশ্যই বড়সড় কারণ আছে।ততদিন এই বাচ্চা মেয়েটাকেও সামলে রাখা তাদের দায়িত্ব। আবেগের বশে রাগে দুঃখে ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে নেয়।নিতে দেওয়া যাবেনা,একদম যাবেনা।মাথা তোলে বোনের।নরম গলায় বলে,

___”ভাগ্য কে বিশ্বাস যখন করিস।তাহলে বললো খোদার মর্জিতে ভরসা রাখ।যা হবে ভালোর জন্যই হবে।প্রমান ছাড়া ভুল বোঝা কিন্তু বোকামি।”
___”আবার তোমার ভাইয়ের কথা তুলছো তো?সে নিজ মুখে আমাকে বলেছে রুষা…
বলতে গিয়ে নিজেই থামে তিতির।।আবার সেই দ্বিধা মাথায় এসে হানা দিলো।ঈশানের কোনকথা বিশ্বাস করবে সে।
___”যা ওপরে যা।ঘুমিয়ে পর।মাথা যন্ত্রণা তো কমেনি নিশ্চয়। এরকম ব্যাথা নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে কি করে যে সহ্য করিস তুই খোদা জানে।কাল ভাইকে বলবো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে।এখন এত ভাবতে হবে না।আর একই কথা আবার বলছি তিতির।সময় দে একটু।আগেই সিদ্ধান্ত নিবি না বললাম।সবসময় যেটা দেখা যায় সেটা কিন্তু সত্যি হয়না।মানুষও কিন্তু সবসময় সত্যিটা বলতে পারে না।হাত-পা বাধা থাকে অনেকসময়।কে বলতে পারে তার ভালোর জন্যই হয়তো তাকে কষ্ট দিতে হচ্ছে! সুতরাং সিদ্ধান্ত শুরুতে নয় শেষে নিতে হয়।ঠিক আছে?”

তিতির মাথা ঝাকায়।কথাগুলো সেকি ভাবে নি?ভেবেছে।ভেবেছে বলেই ঈশানের কাছে গেলো,তার প্রতি যেটুকু প্রকাশ করা যা করলো। মনের মধ্যে কোথাও একটা বিশ্বাস আছে বলেই হয়তো।
তিতির দেরি করে না আর নিচে। ঘুম দরকার।সেহরিতে উঠতে পারবে না তাছাড়া।যদিও তার পিরিয়ড ঠিক হয়নি।প্রথম রোজা রাখতে পারবে না।তবুও সেহরিতে সবাই ওঠে এবাড়িতে।তিতির বোনে দের রেখে ধীরেসুস্থে আসলো ঈশানের রুমের সামনে।সবে পোনে নয়টা বাজে।ঈশান নিশ্চয় এখন ঘুমাবে না।কিন্তু তার ঘুম দরকার ভীষন দরকার।কেমন একটা ইতস্তত হচ্ছে।ঈশানের সাথে কাটানো দুটো রাতই মোটেই স্বাভাবিক ছিলো না।অস্বস্তিকর মূহুর্ত দুদিনই।তবুও কাঁপা কাঁপা পায়ে ঘরে ঢুকতেই হতভম্ব হয়ে গেলো সে।বিছানার মধ্যে বাঁকা হয়ে শোয়া ঈশান।মুখখানা অস্বাভাবিক লাল লাগছে।কেমন শ্বাস নিতে পারছে না।এমন করছে কেনো মানুষ টা।তিতির ছুটে গেলো সেদিকে।হুমড়ি খেয়ে পরলো প্রায় ঈশানের ওপর।ঈশানের চোখজোড়া নিভু নিভু।হাতে ইশারা করছে কিছু একটা।তবে দূর্বল হাডজোড়া তুলতে পারছে না।তিতির ব্যাস্ত হলো।কাঁদো কাঁদো গলায় সুধালো,

___”কি হলো আপনার হু?বলবেন তো।এমন করছেন কেনো?”
ঈশান কথা বলতে পারছে না।কোনোমতে হাতের আঙুলের ইশারা করলো বুকের বা পাশটা।দম বন্ধ লাগছে,বুকে চাপ লাগছে।
তিতির কি বুঝলো কে জানে।দু হাতে অনবরত উন্মুক্ত বুকে মালিশ করতে লাগলো হাতের সাহায্যে।
___”এখানে কষ্ট হচ্ছে? এখানে?”
হালকা মাথা নাড়ে ঈশান।জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে।
তিতির উদভ্রান্তের মতো এদিকওদিক করে।কি করবে সে এখন।তিতির উঠে নিচে কাউকে ডাকতে যেতে চাইলে বাধ সাজে ঈশান।হাত পেঁচিয়ে ধরে বুকটায় ইশারা করে।তিতির পাগলের মতো কেদে যাচ্ছে এখন।একহাতে বুকের ওপর মালিশ করে অন্য হাত টা গালে রাখে ঈশানের।

___”কোনো ওষুধ? হ্যা? কি করবো আমি।কি সমস্যা না বললে বুঝবো কি করে।”
ঈশান কথাই বলতে পারছে না।আচমকা নিভু নিভু চোখজোড়া বন্ধ হতেই আর্তনাদ করে ওঠে তিতির।
___”অ্যাই উঠুন না।ঈশান ভাই!”
ঈশান জবাব দেয় না।মুখের রঙ আরও অস্বাভাবিক হচ্ছে। তিতির এবার হাত ছাড়িয়ে ছুটে গিয়ে করিডর থেকে চিৎকার করে ডাকে নিশির নাম ধরে।নিশি, নূরি তখনো নিচেই বসা।ছোট গিন্নি বাচ্চাদের নিয়ে ঘরে গিয়েছেন।তিতির গলা পেয়ে নিশি,নূরি একপ্রকার ছুটে এলো ওপরে।
___”কি হয়েছে বার্বি।”
তিতির অনবরত কেঁদে যাচ্ছে।কোনোমতে ইশারা করে ঘরের দিকে।ভাঙা ভাঙা গলা বলে ওঠে,
___”তোমার ভাই।”
দুজনেই তিতিরের সাথে সাথে ঘরে ঢোকে।ভাই প্রায় অর্ধ জ্ঞান।নিশি মুখের দিকে তাকিয়ে এক ঝটকায় বুঝে ফেলে।তিতিরের দিকে তাকায়।ব্যাস্ত গলায় বলে,

___”কি খেয়েছে ভাই?”
তিতির তখন উদভ্রান্তের মতো করছে।কোনোমতে উচ্চারণ করলো খাবারগুলোর নাম।নিশি কপাল চাপড়ায়।
___”ভাইয়ের চিংড়ি তে হাই অ্যালার্জি।ছোট থেকে কড়া নিষেধ আছে।”
তিতির এবার আরও শব্দ করে কেঁদে ফেলে।নিশি মাথায় হাত রেখে শান্ত হতে বলে ছুটে যায় ঈশানের ঘরের ওষুধ রাখার ড্রয়ার টার দিকে।একটানে হাতড়িয়ে একটা ইনজেকশন বের করে আনে।দ্রুত হাতে পুশ করে ঈশানের শিরায়।তিতির তখন থরথরিয়ে কাঁপছে। নূরি শক্ত হাতে ধরে আছে তিতিরকে।
নিশি ইনজেকশন পুশ করে খানিকটা হাফ ছাড়ে।এগিয়ে এসে দাড়ায় তিতিরের পাশে।
___”টেনশন করিস না।ঘন্টাখানেকের মধ্যে জ্ঞান ফিরবে।অ্যালার্জির রেশ ও কেটে যাবে।আরেকটু দেরি হলে সর্বনাশ হতো।”
তিতির ফুপিয়ে যাচ্ছে।কান্ানর তোড়ে শরীর ঝড় তুলে কাপছে।

___”আমি জানতাম না।আমার দোষ”
নিশি গালে আলতো হাত রাখে।
___”তোর দোষ হবে কেনো পাগলি।তুই তো জানতিস না।ভাই কেনো খেলো বুঝলাম না।”
তিতির স্তব্ধ হয়।সত্যিই তো।ঈশান তো জানতো।তাহলে সে যখন খায়িয়ে দিলো ঈশান তাকে না করল না কেনো! আর প্রায় বিশ মিনিট নিশি,নূরি দুজনেই রইলো তিতিরের সাথে।বাড়ির কাউকে জানানোর দরকার নেই বলে চলে গেলো তারা।তিতির দরজা লক করে এসে বসলো ইশানের পাশটায়।মুখের লাল ভাব কমে এসেছে এরই মধ্যে। কনুই এ ভর দিয়ে ঈশানের সিওরে আধশোয়া হলো।
___”আমাকে গিলটি ফিল করাতে এটা করলেন না?এতো জেদ? আমাকে পছন্দ করেন না বলে নিজের ক্ষতি করতে হবে?বললেই হয়, আসি না আপনার সামনে।কেনো কষ্ট দিলেন নিজেকে।তাহলে শুনুন আপনি সফল হলেন আজকে। আমি কষ্ট পেয়েছেি। নিজেকে গিলটি ভাবছি আমি।অপরাধবোধে জর্জরিত হচ্ছি।কষ্ট হচ্ছে আপনার কষ্টে।একটা বেইমানের জন্য আমি কষ্ট পাচ্ছি।”
কপালে নিজের উষ্ণ অধরজোড়া ছোয়ালো তিতির।চোখের নোনাজল গড়িয়ে এসে পরলো ঈশানের বদনখানায়।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে পিটপিট করে তাকালো তিতির।দরজার বাইরে রিশা,রোশনির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে।নিজে কোথায় আছে পরখ করলো একবার।ঈশানের কপালে কপাল ঠেকিয়ে ঘুমিয়ে পরেছিলো ওইরাতে।সেভাবেই আছে এখন।ঘুমন্ত ঈশানের দিকে তাকালো।লোকটা বেঘোরে ঘুমুচ্ছে। দ্রুত সরে এসে দরজা খুললো।ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে চুপ করতে বললো রিশা,রোশনি কে।পাশে রাফিও আছে।তিনজনই ঘুমহীন চোখে দাড়িয়ে।তিতিরের ইশারায় শব্দ কমিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
___”আমরা ফার্স্ট বার্বি।ইউ আর লেট।বড় ভাইয়া কোথায়?”
তিতির নিজের ফিসফিস করে জবাব দিলো,
___”হি ইজ লেট।ঘুমই ভাঙেনি।তোরা যা।আমি ডেকে নিয়ে আসি কেমন?”
তিনজনই মাথা ঝাকিয়ে অন্য ঘরের দিকে ছোটে আবার।আজ তারা প্থরম সেহরী তে সবার আগে উঠেছে।প্রতি বছরই অবশ্য এটাই হয়।তিতির দরজা আটকে এসে বসে ঈশানের পাশে।মুখটা এখন স্বাভাবিক লাগছে।নিশ্বাস ও ফেলছে স্বাভাবিক ভাবেই।কি ভাবে ডাকবে বুঝতে পারছে না।অপরাধবোধ হচ্ছে। ঘড়িতে সময় দেখে।এখন না উঠলে ফ্রেশ হয়ে খেতে যেতে যেতে আজান পরে যাবে।অগত্যা বাধ্য হয়ে নরম গলায় ডাকলো,

___”শুনছেন?”
ঈশানের সাড়া পাওয়া যায়না।
___”ঈশান ভাই।শুনছেন?”
___”উমমমম্?”
ধকধক করে ওঠে তিতিরের বুকের ভিতর।মানুষের ঘুমন্ত কন্ঠ এতো আকর্ষণ করতে পারে! নিজের মুখটা নিচু করে কানের কাছে নেয় ঈশানের।কানের লতিতে নিজের নরম ঠোঁট ছোয়ায়।মূহুর্তে ঘুম ভেঙে যায় ঈশানের।বুকের ভিতর তোলপাড় তোলে কিছু একটা।তবে মোটেই তিতিরকে বুঝতে দেয় না সে।ঘুমের ভান করে পরে থাকে।তিতির ঠোঁট ছুয়িয়ে ক্ষান্ত হয়না।মৃদু কামড় মারে সেখানটায়।ফিসফিসিয়ে বলে,
___”আমাকে জব্দ করতে উঠে পরে থাকেন হ্যা?”
সোজা হয়ে বসে আবার জোরে ডাকে,
___”ঈশান ভাই?উঠবেন না?সেহরীর সময় এখন?”
___”উমমমম্। “
মহা সমস্যায় পরলো তিতির।বারবার এক শব্দ।ঈশান মনে মনে হাসে।এর আগেও আগ রাতে ঘুম ভেঙেছিলো তার।তিতিরকে এভাবেই পেয়েছিলো কাছে।ইচ্ছে করেই সরিয়ে দেয় নি সে।তিতিরের চোখের পানিতে ভিজে গেছিলো তার কপাল।

___”এসব অসভ্য শব্দ না করে উঠুন।আমি আর ডাকতে পারবো না।”
ঈশান এবার নিভু নিভু চোখে তাকায়।ধীরেসুস্থে উঠে বসে।হেলায় দেয় বিছানার হেডবোর্ডেে।
___”কি সমস্যা? “
___”রোজা রাখবেন না?”
___”রাখবো।তো?”
___”,তো মানে কি?খাবেন না?”
___”,খেতে তো পারবো না সম্ভবত। “
নিজের হাত ইশারা করলো তিতিরের দিকে।তিতির ঠোঁট উল্টায়।
___”ও রাতে ভূত খায়িয়ে দিয়েছিলো?”
___”কি খাওয়াবি?চিংড়ি?”
মুখটা চুপসো গেলো তিতিরের।মাথা নিচু করে ফেললো।মিনমিন করে বললো,
___”আমি জানতাম না সরি।”
___”সত্যি জানতি না?”
___”নাহ।”
___”ও।”

তিতির মুখ তুলে তাকায়।ঈশান তাকে কিছু বললো না!ধমক আশা করেছিলো সে।তবে ঈশান ধমক না দেওয়ায় সে ঠিকই সুযোগ এর সদ্ব্যবহার করে ফেললো,
___”,আপনি বলেননি কেনো চিংড়িতে এলার্জি?”
___”ভাবলাম বউ জানে আমার খাবারের বাছবিচার। তা সত্ত্বেও যখন দিচ্ছে।ভালোর জন্যই দিচ্ছে হয়তো”
তিতির বিরক্ত মুখে তাকায়।বাজে হেয়ালি পছন্দ হচ্ছে না তার।গম্ভীর মুখে বললে,
___”,ফ্রেশ হয়ে নিচে চলুন।”
___”তুই কোথায় যাবি!”
তিতির অবাক হয়।সে কোথায় যাবে মানে!সেহরী খাবে না?
___”আশ্চর্য কথা।সেহরি করবো না?”
ঈশান ভ্রু কোচকায়।
___”তোর পিরিয়ড ঠিক হয়েছে?”
লজ্জায় কান ঝাজিয়ে ওঠে তার।বাজে লোক।তার এতো চিন্তা কিসের!লজ্জা দেওয়ার মানে হয়!

___”আমি এখন ঘুমাবো তাই বলছেন?”
___”রোজা না রাখলে তো তাই করা উচিত। “
আক্কেল দেখো লোকটার।সে না গেলে বাড়িসুদ্ধ সবাই তাকে খুজবে।মামনী রা জানলেও এখন কি মামা দেরও জানাবে! নূন্যতম সেন্স নেই একদম।

সাঁঝের মায়া পর্ব ২৬

___”সে চিন্তা আপনার কেনো।খিদে পেয়েছে আমার। আপনার সমস্যা আমি খেলে?”
ঈশানের জবাবের অপেক্ষা না করে উঠে গিয়ে শব্দ করে বাথরুমের দরজা আটকে দেয়।ঈশান মিটিমিটি হাসে।ইচ্ছে করেই লজ্জায় ফেলেছে সে তিতিরকে।এক হাতে নিজের এলোমেলো চুলগুলোতে হাত চালায়।ঘাড়ে হাত ডলে বাঁকিয়ে হেসে ফেলে।

সাঁঝের মায়া পর্ব ২৭