Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১
Muntaha jahan

” দীর্ঘ ২৫ বছর পর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছে খান বাড়ির বড় ছেলে #আশতিয়াক_এ্যাশ বয়স যখন মাএ ৫ বছর তখন নিজের মামার সাথে আমেরিকা পাড়ি জমায়,তারপর অনেক বার দেশে নিজের কাজে আসলেও পরিবারের কাছে ফিরে নি সে,এ্যাশ এখনো পরিবারের কাছে ফিরার কোনো ইচ্ছে ছিলো না কিন্তু নিজের ছোট বোনের এমন আকুতি স্বর সে উপেক্ষা করতে পারে নি বোনের মন রাখতে নিজের এতো বছরের তুলা কালো সামাজ্যটা নিজের ছোট ভাই সমতুল্য এসিস্ট্যান্ট ঈশানের কাছে দিয়ে এসেছে,খুব গোপনে একা থাকে আসতে হয়েছে,নয়তো তার শএু পক্ষের দল জানলে হয়তো তার পিছু নিয়ে তার পরিবারের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে!আর সেটা সে চায় না বলেই নিজেকে নিজের পরিবার থেকে দূরে রাখে,সব রকম অনুভূতি থেকে দূরে রাখে!
“প্লেন এসে ঢাকা এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করতেই আস্তে আস্তে যাএীরা সব নামতে লাগলো,তাদের মধ্যে দিয়ে নেমে এলো এ্যাশ পড়নে কালো রঙের লম্বা ওভার কোর্ট মুখে কালো মাক্স,চুল গুলো উষ্কখুষ্ক ভাবে কপালে পড়ে আছে এ্যাশ সেগুলো ঠিক করে আশেপাশে তাকালো দূরে নিজের বাবাকে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গেলো সে সেদিকে!
এ্যাশ এসে বাবার সামনে দাঁড়ালো মাক্স পড়ায় প্রথমে এ্যাশকে না চিনলেও এ্যাশ মাক্স খুলতেই ছেলেকে চিনে ফেলনেন তিনি আবেগ প্রবন হয়ে জরিয়ে ধরলেন! এ্যাশ বাবাকে সালাম করে গাড়িতে উঠে বসলো, টুকটাক কথা বলতে বলতে রওনা হলেন বাড়ির উদ্দেশ্যে!

একেতো এ্যাশ ফিরছে এতো বছর পর তারউপর বিয়ে সব মিলিয়ে খান বাড়িতে রমরমা পরিবেশ,রান্নাঘরে মা চাচীরা মিলে এ্যাশের পছন্দের সব রকম খাবার তৈরি করতে ব্যাস্ত আশেপাশে আপাতত তাদের কোনো নজর নেই সব মনোযোগ রান্নার দিকে,রান্নায় একটু ভুল হলেই যেনো তাদের বিশাল বড় ক্ষতি হয়ে যাবে!
সোফায় মন খারাপ করে বসে হাতের চুরি গুনছে আরাবী,হঠাৎই দরজায় ভাইকে দেখে “ভাইয়া এসে গেছে” বলে এক চিৎকার দিয়ে ছুটে গিয়ে ভাইয়ের গলা জরিয়ে ধরলো সে! এ্যাশ নিজের ব্যালেন্স ঠিক রেখে আরাবীকে জরিয়ে ধরলো মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে হাসলো এ্যাশ! এই মেয়ের কালকে বিয়ে কেউ বলে? এখনো বাচ্চামি গেলো না!
আরাবীর চিৎকারে ততক্ষণে ড্রয়িং রুমের দরজার সামনে উপস্থিত সবাই,এ্যাশের মা আয়েশা খান ছেলেকে দেখে কেঁদে ফেললেন,এ্যাশ আরাবীর থেকে নিজের ছাড়িয়ে মাকে গিয়ে জরিয়ে ধরলো

-“কেঁদো না মা!
মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে এ্যাশ কপালে ছোট্ট করে চুমু দিয়ে এগিয়ে গিয়ে চাচা চাচীদের সালাম করলো!
এ্যাশকে চেপে ধরেও কেউ এখন কিছু খাওয়াতে পারলো না,তাই বাধ্য হয়ে চলে গেলেন যার যার কাজে,আয়েশা মুখ ভার করে ছেলের দিকে তাকিয়ে উপরের সিঁড়ির পাশের ৩ নাম্বার রুমটা ইশারায় দেখিয়ে দিয়ে তিনিও চলে গেলেন রান্নাঘরে!
মায়ের অভিমান বুঝলো এ্যাশ কিছু খায়নি দেখে যে মা তার ভিষণ অভিমান করেছে এটা সে জানে,তবে এখন অভিমান ভাঙানোর সময় নেই তার হাতে,অনেক লম্বা জার্নি করে ক্লান্ত সে আপাতত ফ্রেশ হয়ে ঘুমানো প্রয়োজন আবার ঈশান কে ফোন দিয়ে ও খোঁজ নিতে হবে! এ্যাশ শুধু নিজের কাপড়ের লাগেজটা নিয়ে উপরে চলে গেলো!

প্রচন্ড জোরে মিউজিকের আওয়াজে ঘুম ভাঙলো এ্যাশের! বিরক্তির চরম পর্যায়ে আছে সে! এতো সুন্দর ঘুৃম টা তার ভেঙে দিল! এ্যাশ বিরক্ত নিয়ে রুম থেকে বের হলো কে গান বাজাচ্ছে দেখার জন্য! সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে একটা রুম ক্রস করতে গিয়ে থেমে গেলো এ্যাশ! এই রুম থেকে আওয়াজ আসছে! এ্যাশ দরজার একটু ফাঁক দিয়ে উঁকি দিলো সঙ্গে সঙ্গে নিজের চোখ আটকালো ভিতরে সাদা ড্রেস পড়ে নৃত্য করা রমনীর উপর! হৃৎস্পন্দন থেমে গেলো তার! অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে!
আরাবীর মেহেদীতে নাচার জন্য নাচ প্যাকটিস করছে তাহা,নাচতে গিয়ে বার বার হোটচ খাচ্ছে লম্বা গাউনে!
এবার হোটচ খেয়ে পড়ে যেতে নিতেই একটা শক্ত হাত এসে আঁকড়ে ধরলো তার কোমড়,তাহা চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে গলা জরিয়ে ধরলো!
এ্যাশ এখনো তাকিয়ে আছে তাহা দিকে চোখের পলক ফেলছে না! তাহা কিছুক্ষণ থেকে যখন বুঝলো সে পড়ে নি তখন নিজের চোখ খুলে সামনে তাকালো হঠাৎই অপরিচিত মুখ দেখে চমকে এ্যাশকে ধাক্কা দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো সে! এ্যাশের দিকে তাকিয়ে রেগে বললো

-“আপনি আমায় টাচ করলেন কেনো?
তাহার কথায় ধ্যান ভাঙে এ্যাশের! তাহার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে
-“তোমার নাম কি? এই বাড়ির কি হও তুমি?
প্রশ্নের উওরের বদলে আবার প্রশ্নে ক্ষেপে গেলো তাহা! আঙুল তুলে বললো
-“সে যাই হোই আপনাকে কেন বলবো?আপনি কে? কতবড় সাহস আমাকে টাচ করে! আমি খালামনির কাছে বিছার দিবো!

আর দাঁড়ালো না তাহা বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো,এ্যাশ শুনতে পেলো তাহা চিৎকার করে আয়েশা বেগমকে ডাকছে!এ্যাশ বুকের বা পাশে হাত রেখে বললো
-“২ বছর আগে এই হৃদয়হীন নিষ্ঠুর মাফিয়ার বুকে ঝড় তুলা এই রমনী আমার বাড়িতে কি করছে?এই বাড়ির কে এই মেয়েটা?

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২