বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ২
Muntaha jahan
পরিচয়–
পুরো শহর এ্যাশকে আশতিয়াক এ্যাশ নামে চিনলেও,পরিবারের কাছে সে আরাভ,পরিবারের সবাই তাকে আরাভ ডাকে,আরাভের বাবা চাচারা ২ জন এক ফুফু,আরাভের আব্বু সবার বড় মিনাল খান তার ২ ছেলে এক মেয়ে বড় ছেলে #আশতিয়াক_এ্যাশ – আরাভ!
২য় #ইমতিয়াজ_ইহান সে একজন ডাক্তার
তাদের একমাএ বোন আরাবী
২য়- নিহান খান তার এক ছেলে আয়ুশ,আয়ুশ তার বাবা এবং বড় চাচার সাথে তাদের বিজনেস দেখাশোনা করে
তাদের বোন সবার ছোট সাইফা রহমান তার এক মেয়ে তিশা
রাত ১০ টা
নিজের রুমে বসে আছে আরাভ,হাতে ফোন সেটার দিকে বিরক্ত চোখ তাকিয়ে আছে,মন চাইছে আছার মেরে ভেঙে ফেলতে!এই নিয়ে ৬০ বার কল করা শেষ ঈশান এবং তার বন্ধুদের কিন্তু কারো ফোনেই কল ডুকছে না সবার ফোন বন্ধ,এতেই বিরক্ত সে সাথে রাগ হচ্ছে প্রচুর,একটু পর তাকে নিচে যেতে হবে তারপর আর কখন রুমে এসে কল করতে পারবে তার ঠিক নেই তাই আগেই কথা বলে যেতে চাইছিলো কিন্তু তা আর হলো কই,এরা কখনো তার কথা শুনে?সবটা কয়টা বেয়াদব!
আরাভ আরো কয়েকবার ফোন করতে করতে রুমে আসলো আরাবী,আরাভকে টেনে নিয়ে নিচে চলে আসলো!
আরাভের বাড়ির মেইন গেইট দিয়ে প্রবেশ করলো আরাভের ৩ বন্ধু আর ঈশান,ঈশানের হাত ধরে টেনে নিয়ে ভিতরে ডুকছে আরাভের এক বন্ধু ঈশান বারবার নিজের হাত টেনে মুখ লুকাচ্ছে যাতে আরাভের চোখে না পড়ে,আরাভের বন্ধুরা টেনে নিয়ে এসেছে তাকে,আরাভকে প্রচুর ভয় পায় সে তার রাগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত সে এখন যদি আরাভ তাকে বাংলাদেশে দেখে তাহলে তাকে পুরো গিলে খাবে সেটা সে জানে!
ঈশান,নিল,ফাহাদ,কেনায়া,সবাই মিলে যেখানে মেহেদী অনুষ্ঠান হচ্ছে সেখানে এসে এক কোণায় ঘাপটি মেরে বসলো!
স্টেজে নাচ হচ্ছে,মিনাল খান মেয়ের বিয়ের জন্য শহরের নামকরা ডান্সারদের এনেছেন,আরাভ এক কোণায় বসে ফোনে তখনো কল করে যাচ্ছে ঈশানকে,চোখে মুখে রাগের আভাস স্পষ্ট,ফোনের ভিতরের ঈশানকে গিলে খাওয়ার পরিকল্পনা করছে,আরাভের থেকে কিছু হাত দূরে বসে ছিলো ঈশানরা,নিলের চোখে আরাভকে পড়তেই বাকিদের নিয়ে তক্ষুনি দৌড় দিলো সে,ঈশান দৌড়াতে দৌড়াতে বিরক্ত চোখে বললো
-“নিজে হেটে হেটে বাঘের গুহায় এসে এখন পালিয়ে লাভ আছে? বাঘের মুখে তো ঠিকই পড়তে হবে!
নিল দৌড়াতে দৌড়াতেই ধমকে উঠে বললো
-“চুপ কর বেয়াদব আমরা হেঁটে আসি নি,প্লেনে করে এসেছি,এওো টাকা দিয়ে টিকেট কেটে এখানে এসেছি আর এ কয় হেঁটে হেঁটে এসেছি,,শালা গন্ডার!
“আরাভের পড়নে কালো রঙের পাঞ্জাবি,মুখে কালো মাস্ক,হাতে বেন্ডের ঘড়ি,জীবনের প্রথম পাঞ্জাবি পড়েছে সে মনে হচ্ছে এদিক ওদিক দিয়ে খুলে খুলে পড়ে যাচ্ছে,এসব টিলাটিলা জিনিস জীবনে ও পড়তো না সে কিন্তু বোনের আবদার রাখতে পড়লো!
ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আশেপাশে তাকালো আরাভ কাঙ্ক্ষিত কাউকে খুঁজলো কিন্তু পেলো না,আরাভ খেয়াল করলো আশেপাশের মানুষ কিরকম করে তাকাচ্ছে তার দিকে হয়তো মাস্ক পড়ে থাকায়,কেউ জাতে তাকে না চিনে তারজন্য মুখে মাস্ক পড়ে আছে
আরাবী আরাভের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে,এখন সে আর তাহা নাচ করবে তারজন্য আরাভকে ডাকতে এসেছে,মা বাবা বারবার বারণ করছে আরাভে এসবে না জড়াতে সে রেগে যাবে,তারপর ও সাহস করে এসেছে ভাইয়ের সাথে নাচ করবে বলে!
-“ভাইয়া চলো নাচ করি!
-” সরি! এসব জোকারদের সাথে জোকার সেজে ঢং করার কোনো ইচ্ছে নেই আমার!
চুপসে গেলো আরাবী,আর কিছু বলার সাহস করলো না,এমনিতে ও সাহস করে অনেক কিছু বলে পূরণ করে নিয়েছে,আর কিছুর সাহস নেই এখন!
অগত্যাই তাহাকে নিয়ে স্টেজে উঠে গেলো সে!
আরাবী তাহার নাচের পর যখন ইহান আর তাহার নাম এনাউন্স করলো তখন স্টেজের দিকে তাকালো আরাভ,আর কোনো দিকে না তাকিয়েই লাফিয়ে উঠে পড়লো সে!
ইহান লুঙ্গি টিক করছিলো নাচের জন্য,কিন্তু আরাভকে স্টেজে উঠতে থেকে থমকে দাঁড়িয়ে রইলো ঠায়,সাথে পরিবারের সবাই ও অবাক চোখ তাকিয়ে আছে আরাভে দিকে!
আরাভ কেনো স্টেজে উটলো সেটা কারো বোধগম্য হলো না,তখনই বক্সে গান বেজে উঠলো “আয় সজনি”
সবাইকে আরেক ধাপ অবাক করে দিয়ে গানের সাথে কোমড় দুলিয়ে নেচে উঠলো আরাভ,আশেপাশের বিচ্ছু ছেলেরা শিষ দিচ্ছে,সাথে গলা ফাটিয়ে গান করছে আর নাচছে!
ঈশানরা আশেপাশে ঘুরে হাতে কিছু শুকনা খাবার নিয়ে আবার ও স্টেজে ওদিকে আসলো,নিল তখন আশপাশ খুঁজে আরাভকে খুঁজতে ব্যাস্ত,স্টেজের দিকে চোখ পড়তেই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো তার,হাতের খাবার টেবিলে রেখে চোখ ডলে আবার তাকালো!
ভুল না সত্যি! আসলেই নাচছে আরাভ? মাফিয়া বস আশতিয়াক এ্যাশ?
বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১
-“বিদেশের এতো এতো সুন্দরী মেয়ে এতো চেষ্টা করেও নজর তাদের দিকে করতে পারলো না ,আর বাংলাদেশে আসতে না আসতেই একজন তাকে নাচিয়ে ছাড়লো?
