অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা শেষ পর্ব
শ্রাবণী ইয়াসমিন
সকাল থেকেই বাড়িটা সরগরম। বাচ্চাদের কোলাহল, দৌড়ঝাঁপে চারদিক মুখর হয়ে আছে।
আনায়া হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে এদিক ওদিক ছুটছে আভিয়ান এর পিছু পিছু।
ছেলেটা নিজের মুখ ঢেখে বাড়িজুরে দৌড়াচ্ছে খাবার খাবে না বলে। আনায়া হালকা নিঃশ্বাস ফেলে তার সামনে গিয়ে তার পথ রোধ করে দাঁড়ায়। চামচে করে মুখের সামনে খাবার ধরে বলে,
“খেলা সারাদিন করা যায়, কিন্তু পেট খালি থাকলে খেলা হবে না।”
পাশের ঘরে জেভিয়ার সোফায় বসে। তার দুই পাশে জেনিফা আর জেসিকা, দুজন মিলে তার চুলে ব্যান্ড বেঁধে দিচ্ছে। একজন গোলাপি, আরেকজন নীল। মেয়েদের খিলখিল হাসিতে ঘরটা কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
জেভিয়ার হালকা হেসে মেয়েদের দিকে তাকায়।
চোখেমুখে তার অদ্ভুত প্রশান্তি। মেয়েদের মত করে তার চুল বাধছে বলে একটু বিরক্ত লাগলেও এখন তাদের মুখের হাসি দেখে তার নিজের ঠোঁটেরও হাসি ফুটে উঠছে।
হয়তো এইটাই প্রকৃত সুখ, এইটাই রক্তের বন্ধনের ভালোবাসার জোর যা একটা শক্তপোক্ত গম্ভীর মানুষ কেও অদ্ভুত কাজ কর্মে প্রশান্তি দিচ্ছে।
আজকের ফ্লাইটে তাদের রাশিয়া ফিরতে হবে তাই কাজে ব্যস্ততা একটু বেশিই বলা চলে। এখুনি বেরিয়ে যাবে তারা।
ভিক্টর আরও আগেই বেরিয়ে গিয়েছে। সে আনায়ার সামনে পড়তে চায়নি তাই মুখ লুকিয়ে বেরাচ্ছে। সে তীব্র অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে আছে। তাই চেয়েও আনায়ার সামনে গিয়ে দাড়াতে পারছে না।
তবে আজ তো আনায়ার জন্যই তার এবং জেভিয়ার এর মাঝে সকল মনোমালিন্য দূর হয়েছে। এর জন্য আনায়ার অবশ্যই একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। সে যদি সব কথা খুলে না বলতো জেভিয়ার কে হয়ত সকলেই এখনো একটি ভুলের মাঝেই থেকে যেত।
দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টার জার্নির পর, রাত ১টার সময় কালো, চকচকে গাড়িটি ড্রেভেন ম্যানরের সামনে থেমে দাঁড়ালো।
রাস্তার দু’পাশে ল্যাম্পপোস্টের ধূসর আলো পড়ে ঠিক যেন গাড়ির ফটকগুলো সব জেগে উঠেছে।
সারা রাস্তা প্রায় ঘুমিয়ে গেছে। আর বাচ্চাগুলোও দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তিতে অর্ধনিদ্রায়।
গাড়ি বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতেই একে একে বাড়ি থেকে তিন জন সার্ভেন্ট বেরিয়ে এলো।জেভিয়ার গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে আনায়ার হাত ধরে সামনের দিকে এগোতে চায়।
কিন্তু আনায়া স্থির দাঁড়িয়ে আছে। সে থেমে গেলে জেভিয়ারও থেমে যেতে বাধ্য হয়। গাড়ির ভেতর থেকে দুটি জোড়া চোখ সরাসরি তার দিকে তাকিয়ে আছে গোল গোল চোখে।
জেভিয়ার ফোস করে নিশ্বাস ফেলে। ততক্ষণে আভিয়ান গাড়ি থেকে নেমে এসে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। সে তার ছোট্ট হাত দিয়ে তার পাপার হাতের আঙুল ঝাকিয়ে বলে,
“পাপা, তুমি মাম্মাম নিয়ে যাও, আমি ওদের দুজনকে নিয়ে আসছি, তোমাদের পিছু পিছু।”
জেভিয়ার আভিয়ান এর দিকে সামান্য ভ্রু কুচকে তাকাল। ছেলেটার চোখে এক অদ্ভুত সাহস আর সরলতা। এবং ঠিক তখনই আভিয়ান সুন্দর একটা হাসি উপহার দিল যে হাসিতে ভেসে উঠল নিঃশব্দ, নিখুঁত বিশ্বাস এবং ভালোবাসা।
জেভিয়ার চোখের কোণে ধীরে ধীরে এক টুকরো মুচকি হাসি ফুটে ওঠে। বলা যায়, সেই মুহূর্তে তার জীবন ছোট্ট ছেলের নির্ভেজাল ভালোবাসায় এক নিস্তব্ধ আনন্দে ভরে উঠল।
সেইখানে দাঁড়িয়ে থাকা সার্ভেন্টটিও সায় দিয়ে বলল,
“জি স্যার, আপনি ম্যামকে নিয়ে যান। আমি বাচ্চাদের নিয়ে ফ্রেশ করিয়ে দিচ্ছি।”
জেভিয়ার আর কোনো কথা বাড়াল না। নিঃশব্দে আনায়ার হাত ধরে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করল।
আভিয়ান, জেনিফা এবং জেসিকাকে ন্যান্সি বরাদ্দকৃত রুমে নিয়ে গেল। সেইখানে তাদের ফ্রেশ করিয়ে ন্যান্সি তাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আজ তোমাদের ন্যান্সি আন্টি ঘুম পাড়াবে, ঠিক আছে?”
জেসিকা কাদো কাদো হয়ে চিৎকার করে ওঠে,
“আমি মাম্মামের কাছে যাবো!”
আভিয়ান সঙ্গে সঙ্গে জেসিকার সামনে এসে তার গালে ঠাস করে একটা চড় মেরে বলে,
“মাম্মাম আর পাপাকে আমাদের একটু আলাদা সময় দেওয়া উচিত। সব সময় এত ম্যা-ম্যা করিস কেন?”
ন্যান্সি তাদের কথা শুনে হেসে ফেলে। আভিয়ান-এর দিকে তাকিয়ে বলে,
“তোমাকে এইসব কে বলেছে যে মাম্মাম আর পাপাকে আলাদা সময় দেওয়া উচিত?”
আভিয়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
“ভিকু বলেছে। মাম্মাম আর পাপা আলাদা ছিল, তাই আমাদের উচিত তাদের আলাদা সময় দেওয়া।”
ন্যান্সি কিছুটা অবাক হলো সে ভেবে পেল না ঠিক কী বলা উচিত। সে মনের মধ্যে ভাবছে, “এই বাচ্চাদের এতসব বোঝানোর দরকার কী ছিলো?”
ন্যান্সি ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে বিরবির করে বলল,
“অদ্ভুত বাচ্চারা! এখন তারা অকালপক্ক হওয়ার মিশনে নেমে গেছে।”
জেভিয়ার ফ্রেশ হয়ে মাথা হেলিয়ে সোফায় বসে আছে। চোখ বন্ধ, কপালে হালকা ভাঁজ মাথাটা যেন ধরেছে বেশ। রুমটা নীরব, শুধু বাইরে থেকে হালকা বাতাসের শব্দ ভেসে আসছে।
আনায়া রুমে নেই। সে বাচ্চাদের ঘরে গেছে খাবার নিয়ে। এতগুলো বাচ্চা হওয়ার পর থেকে যেন ওরা কেউই কাউকে ঠিকমতো সময় দিতে পারে না।
একটা নিঃশব্দ দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা না বললেও বোঝা যায়।
কিছুক্ষণ পর দরজাটা হালক শব্দে খুলে গেল।
আনায়া ফিরে এলো। ন্যান্সি এখন বাচ্চাদের খাওয়াচ্ছে বলে সে একটু সময় বের করতে পেরেছে।
সে ধীরে জেভিয়ারের পাশে গিয়ে বসে,
চুপচাপ তার মাথায় হাত রাখলো।
জেভিয়ার চোখ খুলে তাকাল। তার পাশে আনায়া শান্ত মুখ, চোখে গভীর মায়া। কিছু মুহূর্তের জন্য জেভিয়ার এর মনে হলো,
এই মেয়েটা কি সত্যিই প্রতিদিন আরও সুন্দর হয়ে উঠছে? কি মোহনীয় সেই চেহারা, কত কোমল সেই হাত।
কত বছর সে এই স্পর্শ, এই মুখ, এই নিঃশ্বাস থেকে দূরে ছিল। আজ আবার সবকিছু ফিরে পেয়েছে যেন জীবনের সমস্ত হাহাকার এক মুহূর্তে থেমে গেছে।
জেভিয়ার ধীরে হাত বাড়িয়ে আনায়াকে টেনে নিল নিজের কাছে। তার বুকের ওপর মাথা রেখে চোখ বন্ধ করল।
জেভিয়ার চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল,
“ এই বুকের ওপর মাথা রেখে শান্তিতে মরণও সম্ভব।”
আনায়া কিছু না ভেবেই ধীরে জেভিয়ারের কপালে ঠোঁট ছোঁয়ালো। জেভিয়ার চোখ বন্ধ করল, তারপর হঠাৎ করেই আনায়াকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
তার গলার ভাঁজে মুখ রেখে গভীর নিশ্বাস টেনে নিয়ে এক হাতে তাকে টেনে নিজের কোলে বসাল,
তারপর দুই হাত দিয়ে আনায়ার গাল দুটো নিজের মুঠোয় নিয়ে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
“লাভবার্ড… আমার লাভবার্ড।”
আনায়া মুচকি হেসে তার বুকে মুখ লুকিয়ে বলল,
“হ্যাঁ… অবশ্যই তোমার লাভবার্ড আমি।”
জেভিয়ার আনায়াকে আরও কাছে টেনে নিয়ে নিঃশব্দে ফিসফিস করল,
“আমার শূন্য বুকে অবশেষে পূর্ণতার ছোঁয়া এলো।”
আনায়া চোখ বন্ধ করে সেই বুকের স্পন্দনে নিজেকে হারিয়ে ফেলল।যেখানে কোনো ভয় নেই, নেই বিচ্ছেদের ছায়া, শুধু আছে ভালোবাসার নিঃশব্দ পূর্ণতা।
আনায়া ধীর কন্ঠে বলে,
“যদি আমাকে তুমি হারিয়ে ফেলতে কি করতে তখন?”
জেভিয়ার আনায়ার চোখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে বলে ওঠে,
“আমার গল্পের শেষ পাতায়ও আমি লিখে রেখে যাবো, আমার লাভবার্ড কে নিজের করে পেতে যদি গোটা দুনিয়ার সাথেও যুদ্ধ করতে হয় তবে যুদ্ধক্ষেত্রে ধ্বংসযোজ্ঞ চালিয়ে আমি তাকে নিজের করে রাখবো।”
আনায়ার ঠোঁটের কোণে তার অজান্তেই হাসি ফুটে ওঠে।
জেভিয়ার আনায়ার ঠোঁটে শব্দ করে একটা চুমু দিয়ে অসহায়ভাবে বলে ওঠে,
” চলো বেড গেমস খেলি।”
আনায়া চোখ সরু করে তাকিয়ে বলে,
“তোমার সারাদিন এইসব ছাড়া কি আর কিছু মাথায় আসে না?”
জেভিয়ার আনায়াকে কোলে নিয়েই দাঁড়িয়ে বলে,
” ২১৯১ দিন মানে ৫২৫৮৪ ঘণ্টা, মানে ৩,১৫৫,০৪০ মিনিট অর্থাৎ ১৮৯,৩০২, ৪০০ সেকেন্ড দূরে ছিলে। হিসেবে তোমার সাথে এখন আমার উচিত রেগুলার কম করে হলেও ৬ বার ইন্টিমেট হওয়া।”
আনায়া একটা শুকনো ঢোক গিলে বলে,
“দেখো জেভিয়ার এত বছর আমরা আলাদা ছিলাম তো আমাদের মাঝে কিছুই হয়নি এতদিন। তো আজ আবার ইয়ে মানে ইন্টিমেট আর কি হতে গেলে আমার যদি পেইন হয়? তুমি অনেক রাফ হয়ে যাও।”
জেভিয়ার লাইট অফ করে আনায়ার পরনের পোশাক খুলে নিয়ে কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,
” ৩ টা বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি করিয়েছো। সেইটা করতে পারলে আমাকেও নিতে পারবে আই নো। বেশি পেইন দিবো না আই সোয়্যার।”
সে আনায়ার ঠোঁটজোড়া উন্মাদের মত করে কামড়াতে থাকে। এক হাত আনায়ার বুকে রেখে তাতে প্রেসার দিতেই আনায়া বিছানার চাদর খামচে ধরে। তার নিশ্বাস এর গতিও বাড়ছে। কিছুক্ষণের মাঝের জেভিয়ার যে আর কন্ট্রোলে থাকবে না সে ঢের বুঝতে পারছে। পেইন দিবে না দিবে না বলেও তার কন্ট্রোল হারাচ্ছে।
বিকেলের স্নিগ্ধ আলো কাচ ফুঁড়ে কেবিনের ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে। মৃদু আলোয় অ্যালেক্স কে দেখা যাচ্ছে হাঁটুর ওপর মুখ গুঁজে বসে আছে, হাড়সর্বস্ব দেহে জীবনের কোনো ছোঁয়া নেই।
দরজার কড়চা শব্দে মাথা তুলে তাকাতেই তার চোখ থমকে গেল। এক মুহূর্তে তার চঞ্চল চোখের গভীরে নেমে এলো অদ্ভুত স্তব্ধতা।
তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট এক পুতুল নীলাভ চোখ, লালচে কোকড়ানো চুল, মুখে হালকা বিস্ময়।
সে যেন জীবন্ত কোনো স্মৃতি অ্যাশলির মতো, অবিকল।
অ্যালেক্স এর মনে হলো তার এবং অ্যাশলির সন্তান হলেও হয়ত এমন একটা বাচ্চাই হতো তাইনা?
জেভিয়ার ধীরে অ্যালেক্সের দিকে এগিয়ে এলো।
অ্যালেক্স ধীরে উঠে দাঁড়াল, দৃষ্টি স্থির সেই ছোট্ট মেয়েটির মুখে। কোনো কথা না বলেই জেভিয়ার তাকে বুকে টেনে নিল। অ্যালেক্স নির্বাক, তার দৃষ্টি এখনো জেনিফার চোখে আটকে আছে।
জেভিয়ার মুচকি হেসে বলল,
“অ্যালেক্স, এইটা আমার মেয়ে জেনিফা—দেখো, একদম তোমার অ্যাশলির মতো না?”
তারপর আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল,
“ওটা জেসিকা, আর এইটা আমার ছেলে আভিয়ান।”
অ্যালেক্স একে একে তাদের দিকে তাকাল।
চোখে কোনো শব্দ নেই, শুধু এক নিঃশব্দ বেদনা।
আনায়া দূরে দাঁড়িয়ে আছে, কেবিনে ঢোকেনি।
কেন জানি, তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ জ্বালা পোড়া করছে। এই ছেলেটা অ্যালেক্স, যে জীবনভর কারও ভালোবাসা পায়নি না মা-বাবার, না তার প্রিয়তমা অ্যাশলির।
আনায়া চুপচাপ তাকিয়ে থাকে অ্যালেক্সের দিকে।
মনে মনে ভাবতে থাকে,
কি হতো যদি অ্যালেক্স আর অ্যাশলিরও একটা সংসার হতো? একটু শান্তি, একটু হাসি, একটু উষ্ণতা এইটুকু তো প্রাপ্য ছিলো ওর। কিন্তু নিয়তি যেন সব কিছুর হিসাব উল্টো করে রাখে।
বেশ কিছুক্ষণ পর জেভিয়ার কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো। আনায়া দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল ভিজে চোখে। জেভিয়ার তার কাছে এসে আনায়ার চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু মুছে দিল।
তারপর আলতো করে আনায়ার ভেজা পাপড়িতে এক চুমু এঁকে ফিসফিস করে বলল,
“কেঁদো না… আমি ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি।
আমরা অ্যালেক্সকে সুস্থ করে তুলব, তারপর ওর জন্য একটা নতুন জীবন গড়ে দেব… একদম নতুন শুরু হবে ওর জীবনের।”
আনায়া নীরবে মাথা নেড়ে জেভিয়ারের হাতটা শক্ত করে ধরল। দু’জন ধীরে ধীরে করিডোরের দিকে এগিয়ে গেল।
ভেতরে, কেবিনের আলো ম্লান। অ্যালেক্স চুপচাপ বসে আছে চোখে এক অচেনা শূন্যতা। ধীরে ধীরে সবকিছু আবার ঝাপসা হয়ে আসছে তার সামনে।
অতীতের দৃশ্যগুলো যেন একে একে ফিরে আসছে অ্যাশলির মুখ, তার হাসি। অ্যাশলি তো তার কাছে আবদার করেছিলো তাদের যেন ছোট একটা সংসার হয়।
কিন্তু সে যে ব্যর্থ। সে তার প্রিয়তমাকে দেওয়া কথা রাখতে পারেনি। সে এক কথায় একজন ব্যর্থ প্রেমিক পুরুষ। সে যদি আরেকটু বিচক্ষণ হতো তাহলে হয়ত আজ তারও তার ভাইয়ের মত একটা সংসার কি হতো না?
অ্যালেক্স ধীরে চোখ বন্ধ করল। তার গাল বেয়ে একফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তার হাত পা গুলো কাপছে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। হঠাৎই তার বুকে তীব্র চাপ অনুভব করছে সে। সে চিৎকার করতে চেয়েও করল না। সে তো চায়ই তার এই জীবন টা শেষ হয়ে যায়।
তার অ্যাশ কে ছাড়া এত দীর্ঘ জীবন দিয়ে সে করবে? তার চোখের সামনে একে একে সকল স্মৃতি ভেসে উঠছে একে একে।
অন্তস্থ হৃদয়ের তৃষ্ণা শেষ পর্ব
সে আর শ্বাস নিতে পারলো না তার চোখ ফুরে আরও এক ফোটা পানি বেরিয়ে এলো। ঠোঁট মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। তার মনে হলো, হয়তো সেই অশ্রুতেই মিশে আছে অপূর্ণ ভালোবাসার শেষ নিঃশ্বাস। সে বিরবির করে বলল,
“এই অভিশপ্ত জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে তোর কাছে আসছি আমি অ্যাশ। এইবার তোকে আর একা ছাড়ছি না……।’
সমাপ্ত
