Home এমপির অবাধ্য বউ এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৬

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৬

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৬
সুহাসিনী

প্রেম চারপাশে চোখ বুলাচ্ছে।তাদের বাইকে ইতিমধ্যেই আদিবাসীদের আস্তানায় ঢুকে পড়েছে। হঠাৎ তাদের উপর হামলা হলে তাদের সাথে থাকা পুলিশ ফোর্স দক্ষ ভাবে তার মোকাবেলা করে। সামনাসামনি আদিবাসীদের হিংস্রতার প্রমাণ পেয়ে প্রেমের হৃদস্পন্দন আগের চেয়ে আরো দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে।
কিছুক্ষণের মধ্যে মেইন জায়গায় পৌঁছে যায় তাঁরা। অনেককে পুলিশ গ্রেফতার করে আবার কয়েকজন হুলুস্থুলের মধ্যে পালিয়ে যায়।কিন্তু রাহিদের খোঁজ কেউ দিতে পারে না।অপরাধীদের মধ্যে একজন জানায় কিছুক্ষণ আগেই তাদের একটা জীপ বেরিয়ে গেছে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে। সেখানেও কয়েকটা মেয়ে ছিল।তাদের মধ্যে হয়তো প্রেমের খোঁজ করা মেয়ে থাকতে পারে।

প্রেম আর দেরি না করে জীপ এর লোকেশন নিয়ে লোক লাগালো। কিছুক্ষন পরেই খবর এলো প্রেমের দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী ওই গাড়িতে থাকা কোনো মেয়ে নেই। এমনকি ওইখানে থাকা কোনো মেয়ে প্রেমকে চিনেও না। খবরটা শুনেই প্রেম কাদা যুক্ত মাটিতে ধপ করে বসে পড়ল। তার মনে হচ্ছে সে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছে।নিজেকে কেমন নিঃস্ব লাগছে।প্রেম কেমন পাথর হয়ে গেছে।লিয়ন ও কেমন থম মেরে আছে।তার মনেও এখন অনেক খারাপ চিন্তার উকি দিচ্ছে।
হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলো,
“কিছুক্ষন আগেই তিনডা মাইয়্যারে ভোগ কইরা জ্যান্ত আগুনে পুরায়া তাগর গোস্ত দিয়া মজা মাস্তি কইরা খাইলো।হয়তো ওই মাইয়্যারেই খুজতাছেন আপনেরা।”
লোকটার কথা শুনে সবার দৃষ্টি সেদিকেই নিবদ্ধ হলো।লিয়ন প্রেমের অবস্থা দেখতে প্রেমের দিকে তাকাতেই দেখলো প্রেম মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে।লিয়ন এক চিৎকার মেরে প্রেমকে ধরলো।প্রেমের হুশ নেই। লিয়ন তাড়াতাড়ি ধরাধরি করে প্রেমকে নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্য রওনা দিল।

রাহি আর নিপা অনেকক্ষণ হলো হাঁটছে।তাদের দম ফুরিয়ে এসেছে।একটু ভয়ও করছে রাত হওয়ায়।ওরা যেই জায়গা থেকে আলাদা হয়েছিল সেই জায়গায় আবার এক হয়েছে।তারা সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই প্রেমদের গাড়ি অধিবাসীদের উদ্দেশ্যে গেছে সেখান দিয়ে। রাহি মনে করেছিল গাড়ি গুলো হয়তো ওই বদমাশ ছেলেগুলোই নিয়ে তাদের খুঁজতে বের হয়েছে। তাই গাড়িগুলো চলে যাওয়ার পর রাহি নিপা নিপা এক হয়েছে।
তারা আর কিছুক্ষন হেঁটে মেন রোডে ওঠে। তারপর একটা সিএনজি নিয়ে বাসায় যায়। নিপাও রাহির সাথে তাদের বাড়িতে যায়।বাড়িতে গিয়ে আমজাদ খানকে দিয়ে নিপাদের বাড়িতে ফোন করিয়ে নিপাকে তার সাথে রাখার জন্য রাজি করিয়ে নেয়। আমজাদ খানকে বলে তারা বৃষ্টিতে আটকে গিয়েছিল বিধায় বাসায় আসতে রাত হয়েছে। আমজাদ খানও তাদের কথা বিশ্বাস করে নেয়।তিনি বা বাড়ির কেউ প্রেমের খবর জানে না।তারা জানে প্রেম পার্টি অফিসেই আছে।

রাহি তার শশুরের কাছে আবদার করে তাকে আর নিপাকে আজকে রাতেই শপিং করাতে নিয়ে যেতে হবে। আজকে থেকে পরীক্ষা শেষ তাই শপিং করে মন ফ্রেশ করবে। আমজাদ খানও রাজি হয়ে যায়।
নিপা আর রাহি রেডি হতে চলে যায়।নিপা রাহির ড্রেস পড়ে নেয়।তারা শপিং এর জন্য বেরিয়ে যায়। আয়েশাকে যাওয়ার জন্য বলেছিল কিন্তু সে রাজী হয়নি।তাই তারাই গিয়েছে।
এইদিকে তার জামাই তার জন্য চিন্তায় হার্ট ব্লক করে বসে আছে আর সে বান্ধবী নিয়ে মনের সুখে কেনাকাটা করতে ব্যস্ত।

প্রায় দুই ঘণ্টা যাবৎ রাহি মনের আনন্দে শপিং করছে। হঠাৎ আমজাদ খান এর ফোন কল আসলো লিয়নের কাছ থেকে।লিয়ন জানালো প্রেম হাসপাতালে ভর্তি। আমজাদ খান আর দেরি না করে নিপাকে জিনিসপত্র দিয়ে গাড়ি দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিলো।রাহি আর সে গেলো হাসপাতালে।
তারা হাসপাতালে পৌঁছালে রাহিকে দেখে লিয়নের চোখ কপালে উঠে গেলো।যেই মেয়ের জন্য এতো কিছু এই মেয়ে এখন এখানে সেজেগুজে দাড়িয়ে আছে।প্রেম যদি জানতে পারে এক আছাড় মেরেই একে উপরে পাঠিয়ে দিবে।রাহিকে দেখে লিয়ন তাকে জিজ্ঞেস করলো এতক্ষণ তারা কোথায় ছিল?রাহি বললো তারা এতক্ষণ যাবৎ শপিং করছিল, তার সাথে নীপাও ছিল।লিয়ন কিছুটা স্বস্তি বোধ করলেও মনে মনে রাগ হলো,তারা যাদের জন্য এতো ছটফট করলো তারা নাকি বাইরে আনন্দে সময় কাটাচ্ছিল।
রাহি অস্থির হয়ে প্রেমের কথা জানতে চাইলে লিয়ন বললো,
“ভাইয়ের জ্ঞান ফিরেছে। জ্ঞান ফেরার পর থেকে আপনাকে দেখতে চাইছে।আপনার চিন্তায় ভাইয়ের হার্ট ব্লক হয়ে গিয়েছিল।একজন খবর দিয়েছিল,আপনাদের নাকি কিডন্যাপ করা হয়েছে।আপনাদের খুঁজতে গিয়েই ভাইয়ের এই অবস্থা।”

রাহি বুঝে পেলো না তার খবর প্রেম কি করে জানল। রাহি আর কিছু না বলে আমজাদ খান আর লিয়নকে বাইরে থাকতে বলে নিজে ভেতর গেলো।রাহিকে দেখে প্রেম চমকে গেলো।রাহি ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো।প্রেম রাহিকে জিজ্ঞেস করলে রাহি সব খুলে বলল।
রাহি প্রেমের কাছে গিয়ে বসে দেখলো প্রেম কেমন অস্বাভাবিক ভাবে ঘামছে,তাই টেবিল থেকে টিস্যু নিয়ে প্রেমের শরীর মুছে দিতে লাগলো।এতে করে যেনো প্রেমের অস্বস্তি বেড়ে গেলো।প্রেম গম্ভীর স্বরে বলল,
“ডোর লক করে এসো, ফাস্ট।”
রাহি প্রেমের এমন কথার মানে বুঝতে পারল না।ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
“দরজা লক করতে যাব কেনো এখন?”
“যেটা বলেছি সেটা করো,গো ফাস্ট।”

রাহি কথা বাড়ালো না। দরজা লাগিয়ে দিলো। ভিআইপি কেবিন হওয়ায় দরজা লাগানো তে বাইরে থেকে কিছু দেখা যাচ্ছে না আর ভেতর থেকেও বাইরের কিছু দেখা যাচ্ছে না।রাহি এসে আবার তার কাজে মনোযোগ দিলো।
রাহির প্রতিটি স্পর্শে প্রেম চোখ বন্ধ করে নিচ্ছে। রাহি প্রেমের হাত মুছে শেষ করে ধীরে ধীরে প্রেমের পঞ্জাবিটা বুকের উপর তুলে বুক মুছে দিচ্ছে। আস্তে আস্তে রাহি নিচের দিকে গেলে ফট করে প্রেম রাহির হাত ধরে ফেলে।রাহি চোখ তুলে প্রেমের দিকে তাকালে দেখলো প্রেম কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।প্রেম রাহিকে শান্ত গলায় শুধালো,

“আমাকে উলটপালট করে দিতে এভাবে উঠে পড়ে লেগেছিস কেনো বেগমজান? তুই কেনো বুঝিস না তোকে এভাবে এতো কাছে দেখলে আমার তোর মাঝে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।”
রাহি কিছু বলল না,শুধু ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো প্রেমের মুখের দিকে। প্রেম রাহিকে নিজের দিকে আর একটু টেনে এনে বেডে বসালো।এরপর নিজের হাতে লাগানো সেলাইন এক টান খুলে ফেললো।সেখানে থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। তা দেখে রাহি অস্থির হয়ে বলল,
“আপনি এমন করছেন কেনো এমপি সাহেব।নিজের প্রতি কি একটুও দয়া মায়া নেই আপনার?নিজেকে শেষ করতে এভাবে উঠে পড়ে লেগেছেন কেনো?”
“আমাকে তো তুই শেষ করে দিচ্ছিস।তুই বার বার কেনো হারিয়ে যেতে চাস আমার থেকে বল।তোর এমপি সাহেব যে তার বেগমজানকে ছাড়া এক মুহূর্তও কল্পনা করতে পারে না। বেগমজান ছাড়া তার অস্তিত্ব শূন্য।”
রাহি এবার মাথা নিচু করে ফেললো।সেও বোধহয় বুঝতে পারছে তার প্রতি তার এমপি সাহেব এর লোকানো অনুভূতি।সেও এবার ফিল করতে পারছে।

“আমাকে তোর মাঝে হারিয়ে যেতে দে আজ।আজকে তোকে নিজের করে নিতে চায়।আজ কোনো বাঁধা মানতে পারবো না আমি।আজকে দয়া করে আমাকে আটকাতে আসিস না।”
রাহি কি বলবে বুঝতে পারছে না।আজকে সে কোন মছবিতে পড়লো।বাইরে তার শ্বশুর অপেক্ষা করছে ছেলের সাথে দেখা করার জন্য । আর তার অসভ্য ছেলে আকাম কুকাম করার জন্য আবদার চালাচ্ছে। রাহি মিনমিন করে বলল,

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৫

“এটা হাসপাতাল,বাইরে বাবা অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।তার চেয়ে বড় কথা আপনি অসুস্থ এমপি সাহেব।”
প্রেম ঘোর লাগা কণ্ঠে বললো,
“সো হোয়াট মাই ডিয়ার বেবিওয়াইফ।”
বলেই রাহিকে এক টানে নিজের উপর ফেলে রাহির অধরজোড়া নিজের দখলে নিয়ে নিলো।

এমপির অবাধ্য বউ পর্ব ২৭