শেহেজাদার আদর পর্ব ২
সুমাইয়া ইসলাম নূর
গুলসানের অভিজাত পাড়ায় সারি সারি বড় বড় ভিলার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে চৌধুরী ভিলা। দূর থেকে দেখলেই বোঝা যায়—বাড়িটিতে সময়ের একটু পুরোনো ছোঁয়া আছে, কিন্তু সেই পুরোনো ভাবটাই যেন তার সৌন্দর্যকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
ভিলার সামনে বিশাল লোহার গেট, যার গায়ে পুরোনো নকশার কারুকাজ। গেটের ঠিক সামনে বিস্তৃত বাগান। সেখানে সারি সারি বাগানবিলাস ফুলের গাছ লাল আর গোলাপি রঙে ভরে রেখেছে চারপাশ। হালকা বাতাস এলেই ফুলগুলো দুলে ওঠে, যেন নিঃশব্দে ভিলার সৌন্দর্যের গল্প বলছে।
গেটের ভেতর ঢুকলেই চোখে পড়ে মার্বেলের চওড়া পথ, যা সোজা গিয়ে থেমেছে বাড়ির সামনে। সেই পথের দুই পাশে ছোট ছোট গাছ, ঝোপ আর ফুলের সারি। অনেক বছর ধরে যত্নে রাখা বাগান বলে বোঝা যায়—প্রতিটি গাছ যেন এই ভিলারই অংশ হয়ে গেছে।
দূর থেকে তাকালে দেখা যায় দোতলা পুরোনো ধাঁচের বাড়িটি। সাদা রঙের দেয়ালে সময়ের হালকা ছাপ। বড় বড় জানালা আর লম্বা বারান্দা বাড়িটাকে এক ধরনের রাজকীয় ভাব দিয়েছে। বারান্দার রেলিংয়ে পুরোনো দিনের নকশা, যা আজকাল খুব একটা দেখা যায় না।
চারপাশের আধুনিক বাড়িগুলোর মাঝেও চৌধুরী ভিলা যেন আলাদা—একটু নীরব, একটু গম্ভীর, আর পুরোনো দিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক অভিজাত বাড়ি। বাতাসে দুলতে থাকা বাগানবিলাসের ফুল আর নীরব বাগান মিলিয়ে ভিলাটাকে দূর থেকেই রহস্যময় আর আকর্ষণীয় করে তোলে।
বসন্তের নরম বিকেল।
চারদিকে যেন এক অদ্ভুত মধুরতা ছড়িয়ে আছে। বাতাসে কাঁচা ফুলের গন্ধ, দূরে কোথাও কোকিলের ডাক—সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজছে।
লাল শিমুল ফুলগুলো গাছের ডালে ডালে আগুনের মতো ফুটে আছে। মাঝে মাঝে হালকা বাতাসে কয়েকটা ফুল ঝরে পড়ে নরম ঘাসের ওপর লাল কার্পেটের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
গুলসানের বড় বাড়ি চৌধুরী ভিলার বিশাল বাগানের এক কোণে সেই পুরোনো শিমুল গাছটার নিচে চুপচাপ বসে আছে ইনায়া। তার সাদা ওড়নাটা হালকা বাতাসে দুলছে, কিন্তু তার মনটা যেন আজ খুব ভারী।
দুই হাত জড়িয়ে বসে সে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। চোখের সামনে ঝরে পড়া লাল শিমুল ফুলগুলো দেখেও আজ তার মনে কোনো আনন্দ নেই। বারবার তার মনে ভেসে উঠছে রুদ্রের কথা।
মনে মনে সে ভাবছে—
“আজ ওর সাথে এমনটা কেন হলো? আমি কেন এমোন ভুল করলাম?
কারো বিষয় না জেনে শুনে বোকার মতো ছি ভাবতেই নিজের উপর রাগ হচ্ছে বাল
একটা ঝরা শিমুল ফুল এসে পড়ল তার ঠিক সামনে। এনায়া ধীরে হাত বাড়িয়ে ফুলটা তুলে নিল। লাল পাপড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে তার বুকের ভেতরটা হালকা ব্যথা করে উঠল।
চারদিকে এত সুন্দর বসন্ত, এত রঙ, এত প্রাণ—তবু এনায়ার মনটা যেন আজ নিঃশব্দ এক শূন্যতায় ভরে আছে।
শিমুল গাছের ছায়ায় বসে সে শুধু ভাবছে…
রুদ্রের বলা শেষ কথাগুলো।
তোমার জন্য কেও আছে বোন যে তোমাকে নিজের থেকেও অনেক গুন ভালোবাসে
মনে মনে ভাবে সত্যি
ঠিক তখনই অফিসের ব্যস্ত দিন শেষ করে চৌধুরী ভিলার বড় দুই ছেলে, এই বাড়ির ইয়াং জেনারেশন, গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল।
গাড়ি থেকে নেমে তারা যখন বাগানের দিকে তাকাল, তখনই চোখে পড়ল এক পরিচিত দৃশ্য।
বিশাল বাগানের এক কোণে, সেই পুরোনো শিমুল গাছটার নিচে চুপচাপ বসে আছে এনায়া। লাল ঝরে পড়া শিমুল ফুলের মাঝখানে বসে থাকা মেয়েটাকে আজ কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগছে—চুপচাপ, নীরব, যেন নিজের ভেতরেই কোথাও হারিয়ে গেছে।
দূর থেকে তাকিয়েই তারা বুঝতে পারল—
এনায়ার মনে আজ নিশ্চয়ই কোনো ঝড় বইছে।
ওয়েট আপনারা ইনাদের দুজনকে চিনবেন না আগে পরিচয়টা দেয়
চৌধুরী ভিলা শুধু বড় বাড়ি নয়, এটি এক বিশাল চৌধুরী পরিবারের ঠিকানা।
এই পরিবারের বড় কর্তা লিখন চৌধুরী। কঠোর ব্যক্তিত্ব হলেও পরিবারের প্রতি তার ভালোবাসা অসীম। তার সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে।
বড় ছেলে #সেহেজাদ_ইউভি_চৌধুরী (২৭)—চৌধুরী পরিবারের গর্ব বলা যায় তাকে। নিজের মেধা আর দায়িত্ববোধ দিয়ে সে আজ পারিবারিক ব্যবসার বড় অংশ সামলাচ্ছে।
আর তার ছোট বোন পিয়াসা চৌধুরী (১৭), যে এনায়ার সাথে একই কলেজে পড়ে।
লিখন চৌধুরীর পরেই পরিবারের মেজো কর্তা রাতিব চৌধুরী। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
বড় ছেলে রেদোয়ান চৌধুরী (২৬)—বড় ভাই ইউভির ডান হাত বলা যায় তাকে। পারিবারিক ব্যবসার পাশাপাশি ইউভির অনেক কাজই সে সামলে দেয়।
মেজো মেয়ে #ইনায়া_নূর_চৌধুরী (১৭), ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার-এ পড়ে। সৌন্দর্যে যেন একেবারে পরীর মতো।
আর ছোট ছেলে রিদ চৌধুরী, এখনো স্কুলে পড়ে—ক্লাস ফাইভে।
পরিবারের সেজো কর্তা রবিউল চৌধুরী। তার রয়েছে দুই যমজ মেয়ে—আয়াত ও আতিকা, বয়স মাত্র পাঁচ বছর। তাদের হাসি-খুশি দুষ্টুমিতে প্রায়ই মুখর থাকে পুরো চৌধুরী ভিলা।
আর পরিবারের ছোট কর্তা রাইহান চৌধুরী। তবে বহু বছর আগে এক পারিবারিক সমস্যার কারণে মাত্র বিশ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তারপর থেকে তার কোনো খোঁজ কেউ আর পায়নি—তিনি বেঁচে আছেন নাকি হারিয়ে গেছেন, তা আজও অজানা।
চৌধুরী পরিবারের একমাত্র মেয়ে রিমঝিম চৌধুরী—এনায়ার ফুপি। তিনি একজন সিআইডি অফিসার, বড় একটি পদে চাকরি করেন। এখনও বিয়ে না হলেও তার বাগদান সম্পন্ন হয়েছে।
এই বিশাল পরিবারের রয়েছে নিজস্ব পারিবারিক ব্যবসা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলছে। সেই ব্যবসার দায়িত্ব এখন বাড়ি তিন করতার পাশাপাশি ইউভি ও রেদোয়ানের কাঁধেই।
তবে ইউভির আরেকটি ব্যক্তিগত ব্যবসা রয়েছে—যার কথা পুরো পরিবার জানে না।
শুধু একজনই জানে সেই গোপন কথা…
রেদোয়ান।
“কি রে বোনু, কি হয়েছে তোর হঠাৎ?”
ইনায়া পিছনে তাকিয়ে দেখে তার পেছনে রেদোয়ান আর ইউভি দাঁড়িয়ে আছে।
“কই ভাইয়া, কিছু না। এমনিই ভালো লাগছে না। সামনে কলেজের বসন্ত উৎসবটা নিয়ে একটু ভাবছিলাম।”
“ও আচ্ছা, তাহলে তো ঠিক আছে।”
এই বলে রেদোয়ান নিজের ছোট বোনের কপালে ভালোবাসার পরশ এঁকে দিল।
ইনায়া তখন ইউভির দিকে তাকিয়ে বলল,
“এই ইউভি ভাইয়া, কেমন আছেন আপনি? আর হঠাৎ এই বাড়িতে?”
ইউভি গম্ভীর মুখে বলল,
“ভালো না। আর আমার ইচ্ছা—আমি যখন খুশি তখন আসব। তোর কি কোনো সমস্যা?”
ইনায়া একটু ঘাবড়ে গিয়ে বলল,
“না… আমি সেটা বলতে চাইনি…”
ইনায়ার পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই ইউভি পকেটে দুই হাত ঢুকিয়ে বড় বড় পা ফেলে সেখান থেকে চলে গেল।
ইনায়া অবাক হয়ে রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কি হলো ভাই? আমি কি এমন বললাম যে ইউভি ভাইয়া এমন করে চলে গেল?”
রেদোয়ান হালকা হাসি দিয়ে বলল,
“আরেহ বোনু, তেমন কিছু না। ভাইয়ার হয়তো ক্লান্ত লাগছে। তাই একটু বিরক্ত হয়ে আছে। অফিস থেকেও আজ দেরি করে এসেছে। জানিস তো—একসাথে দুইটা ব্যবসা সামলাতে হয় তাকে।”
কথাটা বলেই হঠাৎ চুপ হয়ে গেল রেদোয়ান।
মনে মনে ভাবল,
এইরে! একদম বলেই দিচ্ছিলাম বোনুকে যে ভাইয়ার আরেকটা গোপন ব্যবসাও আছে…
ইনায়া অবাক হয়ে বলল,
“কি হলো ভাইয়া? চুপ করে গেলে কেন?”
“না, কিছু না। চল বোনু, অনেক খিদে পেয়েছে।”
“হুম, হ্যাঁ চল ভাইয়া।”
এই বলে ইনায়া তার ভাইয়ের কোমর জড়িয়ে ধরল, আর রেদোয়ানও বোনের কাঁধে হাত রেখে দুজন একসাথে বাড়ির ভেতরে চলে গেল
প্রধান দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে বিশাল একটা হলঘর। মেঝে জুড়ে সাদা চকচকে মার্বেল, যেন আয়নার মতো ঝকঝক করছে। মাথার উপর ঝুলছে বড় একটা ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি, যার আলো পড়ে পুরো হলঘরটাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।
দেয়ালের একপাশে বড় বড় ফ্রেমে বাঁধানো চৌধুরী পরিবারের পুরোনো ছবি, আর অন্য পাশে রয়েছে কিছু দামী পেইন্টিং। হলঘরের এক কোণে রাখা নরম সোফা সেট আর মাঝখানে বড় কাচের টেবিল—যেখানে পরিবারের সবাই মাঝে মাঝে একসাথে বসে গল্প করে।
ঘরের ঠিক মাঝখান দিয়েই উপরের তলায় ওঠার জন্য বড় একটা সিঁড়ি উঠে গেছে। সিঁড়িটা পুরো সাদা মার্বেলের তৈরি, আর দুপাশে সুন্দর ডিজাইনের মজবুত লোহার রেলিং। নিচ থেকে তাকালে দেখা যায় সিঁড়িটা সোজা উঠে মাঝখানে একটু ঘুরে উপরের তলায় গিয়ে মিলেছে।
সিঁড়ির নিচের অংশটা খোলা, তাই নিচে দাঁড়ালেই উপরের তলার বারান্দাটা পরিষ্কার দেখা যায়। উপরে উঠলে চারপাশ ঘিরে লম্বা একটা বারান্দা, সেখান থেকে নিচের হলঘরটাও দেখা যায়। বারান্দার দুপাশে সারি সারি বড় বড় বেডরুম—প্রতিটি ঘরের দরজায় সুন্দর নকশা করা কাঠের কাজ আর সামনে ছোট বারান্দা।
হলঘরের পাশেই বড় একটা ডাইনিং স্পেস, যেখানে লম্বা ডাইনিং টেবিল আর অনেকগুলো চেয়ার রাখা। একসাথে পুরো পরিবারের সবাই বসে খেতে পারে সেখানে। আর ডাইনিংয়ের পাশেই বড় রান্নাঘর, যেখানে সারাদিনই কাজের লোকদের ব্যস্ততা লেগে থাকে।
বড় বড় জানালা দিয়ে সবসময় হালকা বাতাস আর সূর্যের আলো ঢুকে পুরো বাড়িটাকে প্রাণবন্ত করে রাখে। বাড়ির প্রতিটি কোণায় একটা রাজকীয় ভাব—যেন এই বাড়ির দেয়ালগুলো চৌধুরী পরিবারের বহু বছরের গল্প আর স্মৃতির নীরব সাক্ষী।
এই সময় বাড়ির প্রধান দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল ইউভি চৌধুরী। অফিসের ফরমাল পোশাকে তাকে বেশ ক্লান্ত লাগছিল। সাদা শার্টের বোতাম দু-একটা খোলা, গলায় আলগা হয়ে থাকা টাইটা যেন সারাদিনের ব্যস্ততার গল্প বলছে। বড় বড় পা ফেলে সে হলঘরের মাঝখান দিয়ে ভেতরে এগিয়ে এল। রান্না ঘরে রান্নায় ব্যস্ত বাড়ির তিন গিন্নি। বাড়ির বর গিন্নি জ
রেশমা চৌধুরী বলল আমি আসছি
ঠিক তখনই রান্নাঘর দিক থেকে বের হয়ে এলেন রেসমা চৌধুরী। ছেলেকে দেখে তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
“ইউভি, আমার বাপজান! তুই এসেছিস? হঠাৎ কিছু না বলে?”
ইউভি একটু বিরক্ত গলায় বলল,
“উফ্ মা! বুঝলাম না—নিজের বাড়িতে আসব, তাও সবাই এত প্রশ্ন করে কেন?”
রেসমা চৌধুরী নরম গলায় বললেন,
“না মানে… তুই তো এই বাড়িতে তেমন থাকিস না, শুক্রবার ছাড়া তো তোকে দেখাই যায় না তাই বললাম।”
ইউভি একটু থেমে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“মা, আমি এই বাড়ি থেকে যাওয়ার আগে কি বলেছিলাম মনে আছে? আমি বলেছিলাম—যেদিন আমি বড় হব আর আমার আদর যেদিন বড় হবে, সেদিন আমি আবার এই বাড়িতে ফিরে আসব। ঠিক যেমন দশ বছর আগে এই বাড়িতে ছিলাম, সেভাবেই থাকব।”
রেসমা চৌধুরী অবাক হয়ে বললেন,
“কিন্তু বাবা, তোর আদর তো এখনও ছোট।”
ইউভির ঠোঁটে হালকা ব্যঙ্গের হাসি ফুটে উঠল।
“মা, তুমি কিছুই জানো না। তোমাদের গুণধর মেয়ে এখন আর ছোট নেই। সে এখন অন্য ছেলেদের প্রপোজ করে ‘ভালোবাসি’ বলে বেড়ায়… আর তুমি বলছো সে এখনও ছোট!”
এই সময় বাড়ির সদর দরজা দিয়ে হৈচৈ করতে করতে ঢুকল রেদোয়ান আর ইনায়া।
ওদের দেখেই ইউভির মুখটা হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেল। কিছু না বলে সে সোজা নিজের ব্যক্তিগত রুমের দিকে চলে গেল।
পেছন থেকে রেসমা চৌধুরী বললেন,
“ফ্রেশ হয়ে নিচে আয় বাবা, খাবার দিচ্ছি।”
এই বলে তিনি আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
যদিও ইউভি এই বাড়িতে থাকে না, তবুও তার রুমটা আগের মতোই সাজানো থাকে। মাঝে মাঝে দরকার হলে অথবা রেসমা চৌধুরীর জোরাজুরিতে সে আসে। ঈদের সময়ও সে চৌধুরী বাড়িতে আসে। তবে এবার থেকে ইউভি এই বাড়িতেই থাকবে।
রেসমা চৌধুরী তখন রেদোয়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তুইও ফ্রেশ হয়ে আয় বাবা, খাবার দিচ্ছি।”
রেদোয়ান হাসি দিয়ে বলল,
“ওকে বড় আম্মু।”
এই বলে সেও নিজের রুমের দিকে চলে গেল।
রেসমা চৌধুরীর চোখ তখন পড়ল ইনায়ার দিকে।
“একি করেছিস তুই, নূর? চুলের এই অবস্থা কেন?”
ইনায়া একটু মুখ গোমড়া করে বলল,
“আমি পরে ঠিক করে নেব বড় আম্মু… তুমি যাও। আমার ভালো লাগছে না।”
তারপর হঠাৎ বলল,
“ও বড় আম্মু, ফুপি খোকন আসবে বলো না?”
রেসমা চৌধুরী হেসে বললেন,
“আরেহ মেয়ে, সন্ধ্যার আগেই চলে আসবে।”
“ও আচ্ছা… তাহলে আমি এখানেই অপেক্ষা করি। পিয়াসার বাচ্চা কবে আসবি তুই নানু বাড়ি থেকে, পিহু রে!”
এই বলে ইনায়া সোফার ওপর থাস করে শুয়ে পড়ল।
মেয়েটার এই অবস্থা দেখে রেসমা চৌধুরী মুচকি হেসে রান্নাঘরের দিকে চলে গেলেন, সবার জন্য খাবার সাজাতে।
নিজের রুমে ঢুকেই দরজাটা ধীরে বন্ধ করে দিল ইউভি চৌধুরী।
রুমটা ঠিক আগের মতোই আছে—পরিপাটি, গুছানো, আর নীরব। যেন এত বছরেও কিছুই বদলায়নি। বড় জানালার পর্দা হালকা বাতাসে দুলছে।
ইউভি ধীরে ধীরে টাইটা খুলে টেবিলের ওপর ছুড়ে রাখল। তারপর এক হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরে কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
তার মাথায় বারবার ঘুরতে লাগল কিছুক্ষণ আগের কথা—
“তোমাদের গুণধর মেয়ে এখন অন্য ছেলেদের প্রপোজ করে…”
কথাটা মনে পড়তেই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল।
“ইনায়া…”
নিচু গলায় নিজের মনেই নামটা উচ্চারণ করল সে।
রুমের টেবিলের ওপর রাখা একটা পুরোনো ফটোফ্রেম হাতে তুলে নিল ইউভি। ছবিটায় ছোট্ট একটা মেয়ে—চোখে হাসি, মুখে সরলতা।
ইউভির ঠোঁটে অদ্ভুত একটা হাসি ফুটে উঠল।
“ছোট ছিলি তখন… তাই তোকে দূরে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন…”
কথাটা শেষ করল না সে।
জানালার বাইরে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল—
“এখন আর তোকে কারো দিকে তাকাতে দেব না… আদর।”
শেহেজাদার আদর পর্ব ১
তার চোখে তখন এমন এক অদ্ভুত দৃষ্টি, যেখানে রাগ, অধিকার আর অজানা এক অনুভূতি একসাথে মিশে আছে।
চৌধুরী বাড়িতে হয়তো সবাই ভেবেছে ইউভি হঠাৎ করেই ফিরে এসেছে।
কিন্তু সত্যিটা একেবারেই অন্য—
সে ফিরে এসেছে শুধু একজনের জন্য…
ইনায়া চৌধুরীর জন্য
তার আদর..
