কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১৩
লামিয়া রহমান মেঘলা
চারদিকে শুধু জঙ্গল। উঁচু উঁচু গাছ আর ঘন পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে একটি পুরোনো গোডাউন। সন্ধ্যার পর থেকেই ধরণীজুড়ে নেমে এসেছে গভীর আধার। আলো যেন পথ হারিয়ে ফেলেছে, চারপাশে কেবল ছায়ার রাজত্ব।
নীরবতার ভেতরেও এক ধরনের শব্দ লেগে আছে। ঝিঝি পোকাগুলো তাদের আস্তানা থেকে একটানা ঝি ঝি সুর তুলেছে, যেন রাতকে আরও গভীর করে তুলছে। মাঝে মাঝে দূর থেকে কোনো অচেনা পাখির টুক টুক ডাক ভেসে আসে, তারপর আবার সব চুপচাপ।
কায়ানের ফোনের চার্জ শেষ হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগেই।
কায়ান এবং সেরিন এই মুহুর্তে একেবারে অন্ধকারের মাঝে বসে আছে।
কায়ানের বুকের সাথে সেরিন লেপ্টে আছে।
সেরিন ক্লান্ত। তার উপর পায়ে কেটেছে বেশ কিছুটা৷ সে ঘুমিয়ে গিয়েছে কায়ানের বুকের থেকেই।
কায়ান সেটা বুঝতে পেরে সেরিনে কোলে তুলে নেয়৷
সেরিনকে বাচ্চা দের মত কোলে রেখে সেরিনের ওড়নাটা দিয়ে জড়িয়ে নেয় দু’জন কে। ওড়ানাটা ছিলো সুতি কটনের বড় একটা ওড়না৷
কায়ান সেরিনকে কভার করে দেয়ালে মাথা ঠেকায়৷
চারিদিকে অন্ধকার দেখার মত কোন পরিবেশ নেই আশেপাশে কিছুই।
তবুও প্রিয়তমার নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে সে।
কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবতে থাকে,
“এই জীবনটা আরও সুন্দর হতো। তুমিই হতে আমার প্রথম স্ত্রী। জীবনে প্রথম এবং শেষ। কিন্তু হয়ত আমার নসিবে এমন কিছু ছিলোনা সেরিন। সৃষ্টিকর্তা হয়ত চেয়েছে তুমি আর আমি আলাদা হই।
কিন্তু সে দিন আজ পর্যন্ত আমি শুধু তোমাকেই চেয়ে এসেছি। প্রতিটা নামাজে, প্রতিটা দোয়ায়, প্রতিটা নিঃশ্বাসে। আল্লাহ আমার ডাক শুনেছে সেরিন।
সিকদার কায়ান মাহাবুব দুর্বল নয়। কিন্তু কথা যখন তোমার আসে তখন বোধ-হয় পৃথিবীর বুকে সব থেকে দুর্বল পুরুষটাই আমি।”
কায়ানের চোখে তখন যন্ত্রণা এবং মুক্তি উভয় অনুভুতি।
কায়ান, সেরিনের পিঠে হাত রাখে। সে চোখ এক করতে পারবে না। ঘন জঙ্গলের মাঝে দু’জনই ঘুমিয়ে গেলে যদি কিছু হয় তখন।
কায়া সিদ্ধান্ত নেয় সে তাকিয়ে থাকবে। সারাটা রাত তার নাইট লিলিকে পাহারা দেবে।
সিকদার নিবাস।
বানু মির্জা এদিক ওদিক পায়চারি করছেন।
শিমুল মা বাবার সাথে কথা বলছে,
“মা আসলে ওরা গিয়েছিলো পরে ভাইয়া ফেরত এসেছে। তাই আসলে পৌঁছায়নি এখনো।”
“ও। তাহলে থাক। কাল পাঠিয়ে দিস। মেয়েটাকে দেখিনা কত দিন বলত। বহুত হয়েছে ট্যুর। এরপরত তোর কাছেই থাকবে।”
“হ্যাঁ হ্যা তাইত। আব্বাকে চিন্তা করতে নিষেধ করো আম্মা।”
“আচ্ছা। ভালো থাক রাখছি। আল্লাহ হাফেজ।”
“আল্লাহ হাফেজ৷”.
কল কাটতে শিমুল হাফ ছাড়ে। চিন্তায় সে ঘেমে গিয়েছে।
জেবরান একের পর এক কল করেই চলেছে। পুলিশ রিপোর্ট ও করা হয়েছে।
কায়ানের বন্ধু হিমেল তালুকদার । সে বর্তমান এএসপি। জেবরান তাকে ফোন করে সবটা বলেছে। হিমেল নিজের ফোর্স নিয়ে কায়ানকে খোঁজার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে।
শিমুল কল কেটে জেবরানের দিকে এগিয়ে যায়।
” কিগো কেন খোঁজ পেলে?”
জেবরান মাথা নুইয়ে নেয়৷
“না৷”
বানু মির্জা এগিয়ে এলেন,
“জেবরান, আমার ছেলের কিছু হয়ে গেলে আমি কিন্তু কাউকে ক্ষমা করব না। আর সেরিনের মা বাবা ওনাদের কি জবাব দেব আমি।”
আহি, কাঁপতে থাকা বানু মির্জাকে ধরে বসে। বানু মির্জা চিন্তায় কাঁপছেন। সাথে ঘামছেনও বটে।
“আম্মা বেগম,শান্ত হন। আমরা সবাই চেষ্টা করছি। ভাইয়ার ফোনত বন্ধই সাথে গাড়ি টাকেও ট্রাক করা সম্ভব নয়। কি করব বলো।
আমি বুঝতে পারছি না হচ্ছে টা কি এসব৷”
শিমুল কান্না করে দেয়।
“সেরিন বড্ড বেশি বোঝে। কত বার বললাম আজ থাক আজ থাক। না বাড়িতে যাব। আল্লাহ আমার বোনটাকে আর কায়ান ভাইকে সেভ রাখো।”
বাড়িতে সবার মেন্টাল ব্রেকডাউন হয়েছে।
তবে মেহেরীণ, জারিফ, জিনুকে ঘুমিয়ে দিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ আগে।
সে এসব ড্রামা দেখছে নীরবে।
চিন্তা এখন একটু আধটু তারও হচ্ছে। সে যাদের পাঠিয়েছিলো তারাত কোন খবর দিচ্ছে না মেহেরীণ কে। এদিকে মেহেরীণ এসব করেছে সেটা ওর বাবা ভাই জানেনা। মেহেরীণ ওদের জানাতেও পারছে না। জানালে ওরা মেহেরীণ কে দোষারোপ করবে।
ওদিকে ওই গুন্ডা গুলোও কেন খোঁজ দিচ্ছে না।
বানু মির্জা একবার মেহেরীণের দিকে তকালেন,
কত বড় বেহায়া মহিলা তার স্বামীকে পাওয়া যাচ্ছে না আর সে নিশ্চিন্তে বসে আছে পায়ের উপর পা তুলে।
বানু মির্জার রাগ হলো তবে হটাৎ তার মাথায় কিছু কথা এলো।
মেহেরীণ আর যাই হোক কায়ানকে নিয়ে পজেসিভ। যার জন্য মেহেরীণ কিছুটা জবরদস্তি করেই বিয়েটা করেছিলো।
মেহেরীণ জানে সেরিনই, কায়ানের পছন্দ করা সেই মেয়েটা। তবে মেহেরীণ এত নিশ্চুপ কিভাবে যখন কায়ান এবং সেরিন এক সাথে লাপাত্তা।
তবেকি এই মেয়েটা কিছু করল।
বানু মির্জা মাথায় হাত রাখলেন। যদিও তিনি জানে মায়ের মন শত্রুর থেকেও খারাপ বলে কিন্তু এই মুহুর্তে মেহেরীণকে চোখে চোখে রাখা প্রয়োজন।
মধ্যে রাত কি শেষ রাত হবে। এখানে সময় আন্দাজ করার উপায় নেই। কারণ আশেপাশে অন্ধকার এবং কায়ানের ফোনটাও বন্ধ।
হটাৎ ঝোপঝাড়ের ভেতরে পাতার ঘর্ষণের শব্দ।
কায়ান জেগেই ছিলো। যদিও প্রচন্ড ঘুম ছিলো চোখে তবুও তার এখন ঘুমালে চলবে না। সে ঘুমালে তার বুকে ঘুমিয়ে থাকা মায়াবতীকে কে পাহারা দিবে।
কায়ান শক্ত করে সেরিনকে জড়িয়ে ধরে।
ওদিকে সেই শব্দ টা ক্রমশ ভেতরের দিকে আসছে।
কায়ান কিছুটা ভয় পেয়ে যায়। জিনিসটা কি হতে পারে। পরিস্থিতি এমন সেরিনকে একা রেখে যে যাবে দেখতে কি জিনিস তার উপায় নেই।
কায়ান চোখ বন্ধ করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানাতে থাকে।
ভাগ্য ভালো থাকায় সেই শব্দ টাও আস্তে আস্তে মিলিয়ে যায়৷
কায়ান হাফ ছাড়ে। কাল সকালেই সেরিনকে নিয়ে রওনা করতে হবে।
সূর্যের আলো ধরনী জুড়ে বিস্তার করেছে।
গোডাউনের দেয়ালে ভেন্টিলেটরের ফাক দিয়ে সূর্যের আলো পৌঁছে গিয়েছে কায়ান সেরিন পর্যন্ত।
সেরিন একটু নড়েচড়ে ওঠে।
নিজের সমস্ত শরীরটা কারোর শরীরের উপর অনুভব করে সেরিন চোখ খুলে তাকায়৷
কায়ানের বুক এটা। সেরিন মাথা তুলে তাকায়।
কায়ান তার দিকেই তাকিয়ে আছে। চোখ দু’টো রক্তিম হয়ে আছে। মুখশ্রীতে স্পষ্ট ক্লান্তি এবং নিরঘুমের ছাপ।
সেরিন উঠে বসে দ্রুত।
কায়ান হালকা করে বুকের সেখানে হাত রাখে যেখানে সেরিন সারাটা রাত শুয়ে ছিলো।
এতটা সময় হওয়ার কারণে তার বুকে ব্যাথা শুরু হয়েছে।
সেরিন দ্রুত হাত রাখে কায়ানের হাতে,
“ব্যথা করছে? আমি সরি।”
কায়ান সোজা হয়ে বসে,
“নো নো ইট’স ওকে।৷”
“আপনি ঘুমান নি রাতে?”
কায়ান, সেরিনের চোখে চোখ রাখে।
সেরিনের গালে হাত রেখে উত্তর দেয়,
“কিভাবে ঘুমাতাম আমি? আমি ঘুমালে তোমাকে কে পাহারা দিতো?”
সেরিনের চোখে পানি চিকচিক করে ওঠে। লোকটা সত্যি তাকে এতটা ভালোবাসে।
দু এক ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে নিচে।
কায়ান ব্যস্ত হয়ে পড়ে তা দেখে,
“কি হয়েছে? তোমার কোথাও সমস্যা হচ্ছে কি?”
“নাহ, আপনি সারাটা রাত জেগে ছিলেন আমার জন্য এত পাগল কেন আপনি?”
কায়ান, সেরিনকে জড়িয়ে ধরে,
“রিলাক্স আমি ঠিক আছি। হ্যাঁ তবে তুমি ভারি হওয়াতে বুকে ব্যথা। আহ…( ঢং করে)”
সেরিন কান্নার মাঝেও হেঁসে দেয়। কায়ানের বুকে মৃদু আঘাত করে,
“বদ লোক একটা। সরুন আপনি৷”
“আহা কোথায় সরব? আমিত তোমার কাছে থাকতে চাই৷”
সেরিন চোখ মুছে হেঁসে ফেলে।
কায়ান চারিদিকে দেখে। আশেপাশে কিছুই তেমন জরুরি জিনিস নেই।
কায়ান উঠে দাঁড়ায়,
“চলো, আমাদের যেতে হবে।”
সেরিন উঠে দাঁড়ায়।
“চলুন৷”
দু’জন বেরিয়ে আসে।
জঙ্গলটা রাতে ভয়ানক লাগলেও এখন সাভাবিক লাগছে।
কায়ান নিজের গাড়িটা যেখানে রেখেছিলো সে দিকে না গিয়ে ভুল করে অন্য দিকে যেতে থাকে সেরিনকে নিয়ে।
সেরিন শক্ত করে কায়ানের হাত ধরে রাখে।
তার ভেতরে এখনো ভয়।
কিছুক্ষণ হাঁটার পর সেরিন থেমে যায়৷ কায়ান ফিরে চায়৷
সেরিন বসে মাটিতে। কায়ানও বসে পড়ে,
“কি হয়েছে?”
সেরিন হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
“আর পারছি না। আমার পানি প্রয়োজন।”
কায়ান এদিক ওদিক দেখে। যত দুর চোখ যায় শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল। পানি কোথায় পাবে সে।
“সেরিন, বি স্ট্রং আর কিছুদুর হাঁটি।”
সেরিন, কায়ানের চোখের দিকে তাকায়।
হ্যাঁ তার পায়ে আঘাত পেয়েছে কিন্তু সারাটা রাত লোকটা তাকে বুকে নিয়ে এক বিন্দু ঘুমায় নি। না ঘুমিয়ে এখনো কতটা স্ট্রং হয়ে আছে। আর সে এতটুকু পারবে না করতে।
সেরিন সাহস সঞ্চয় করে। এরপর দু’জন আবারো হাঁটা শুরু করে।
হাঁটতে হাঁটতে বেশ অনেকটা সময় পার হয়ে যায়। এরপর তারা রাস্তার দেখা পায়।
দুজন ভীষণ খুশি হয়ে যায়।
রাস্তা পেয়েছে তার মানে বাজার বা লোকালয় পাবে। কিছুদুর হেঁটে দোকানের দেখা মিলে। দোকান নয় বাজার বলা চলে।
সেরিন নিজের ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে নেয়।
কায়ান সেরিনকে নিয়ে একটা দোনাকে চলে আসে,
“আসসালামু আলাইকুম৷”
“ওয়ালাইকুম সালাম। কি লাগবে?”
“পানি লাগত।”
কায়ান তার ওয়ালেট খানা পকেটে খুঁজতে যায়। কিন্তু না ওয়ালেট টা পকেটে নেই। হয়ত গাড়িতে রয়ে গেছে।
কায়ান, সেরিনের দিকে তাকায়। সেরিন বুঝতে পারে বিষয়টা৷
সেরিন মৃদু হেসে কায়ানের হাত ধরে বলে,
“ইট’স ওকে। একটু কল করতে পারেন নাকি দেখেন।”
কায়ান দোকানদারের দিকে তাকায়। দোকানদার এতক্ষণ তাদের দিকেই তাকিয়ে ছিলো কানফিউস’ড হয়ে।
“চাচা একটা ফোন পাওয়া যাবে। আসলে আমরা ভীষণ বিপদে পড়েছি। একটা কল করব। আমার ওয়ালেট টা গাড়িতে ফেলে রেখে এসেছি৷”
দোকানদার কিছুক্ষণ কায়ানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
“তোমরা কি পালায়ছো বাড়ি থেকে? তা বাপু পালাইছো কেন? তোমার বয়স দেইখা ত ছোকড়া মনে হয়না৷ এই বয়সে পলায়ছো কি জন্য? ”
কায়ান বিরক্ত হয়। মানুষ কত সহজে অপর দিকের মানুষ টাকে জাজ করে বসে।
সেরিন জানে কায়ানের রাগ হয়ে যাবে তাই সে কায়ানের হাত শক্ত করে ধরে বলে,
“আঙ্কেল ভুল ভাবছেন। আমি ওনার স্ত্রী। আমরা ঘুরতে যাচ্ছিলাম। হটাৎ বাগানের রাস্তা থেকে আমাদের ডাকাতে এটাক করে। আমরা পালিয়েছি সেখান থেকে।”
সেরিনের মুখে স্ত্রী কথাটা শুনে কায়ান অবাক হয়ে তাকায়।
ওদিকে দোকানদার এ কথা শুনে বেরিয়ে আসে ভেতর থেকে।
“ও মা কউ কি। হ হ ওই রাস্তায় ডাকাত পড়ে শুনছি।
এই লও আমার ফোন হেইডা তুমি কল করো যারে করবা। পুলিশরে কইবা নাকি?”
কায়ান ফোনটা হাতে নিয়ে বলে,
“ধন্যবাদ। জি করব ফোন। আঙ্কেল বলছি আই ফেন এর চার্জার হবে? না মানে ফোনে টাকা ছিলো। ক্যাশত নেই।”
লোকটা যেন কায়ানকে বুঝল।
“একটু দুরে গিয়া দেখো একখানা মোবাইলের দোকান ওইখানে পাইতে পারো।”.
” আচ্ছা ধন্যবাদ। চাচা জায়গার নামটা?”
“চাচুইড়া বাজার৷”
“আচ্ছা।”
কায়ান দ্রুতই জেবরান কে কল করে,
সিকদার নিবাসে কারোর চোখে ঘুম নেই সবাই চিন্তিত। হটাৎ করেই জেবরানের ফোন বেজে ওঠে। জেবরান দুই রিং হতে ফোন তুলে নেয়।
“হ্যালো।”
“জেবরান আমি কায়ান।”
জেবরান সোজা হয়ে বসে।
“ভাইয়া কোথায় তোমরা? ঠিক আছোত? আর সেরিন? আল্লাহ জানো কত চিন্তা হচ্ছে?”
“রিলাক্স আমি ঠিক আছি। সেরিন আমার সাথে আছে। আমরা চাচুড়িয়া বাজারে আছি প্লিজ দ্রুত হিমেল কে বল এখানে কাউকে পাঠাতে।”
“হিমেল ভাইকে কাল রাতেই কল করে সব বলেছি ভাইয়াত তোমাকেই খুঁজছে।”
“ওকে তাহলে ওকে প্লিজ দ্রুতই মানুষ পাঠাতে বল সাথে গাড়ি পাঠা৷”
“ওকে।”
“আমি রাখছি আমার ফোনের চার্জ শেষ। চার্জ দিতে পারলে কথা বলব৷”
“আচ্ছা ভাই চিন্তা করোনা ওখানেই থাকো আমিও আসছি৷”
কায়ান কল কেটে দেয়।
সেরিন তাকিয়ে আছে তার দিকেই।
কায়ান, ফোনটা দোকানদার কে দিয়ে সেরিনকে নিয়ে এগিয়ে যায়।
মোবাইলের দোকানে এসে কায়ান ফোন চার্জ দেয়।
সেরিনকে একটা চেয়ারে বসিয়ে কায়ান কিছু ক্যাশ বের করে নেয়৷
এরপর আবার সেরিনের কাছে চলে আসে,
“চলো তোমাকে খাইয়ে নিয়ে আসি।”
সেরিন পিট পিট করে তাকায়৷
কায়ান ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“কি হয়েছে?”
“এদিকে আসুন। “.
কায়ান ঝুঁকে যায়। সেরিন ফিসফিস করে বলে,
” আমি ওয়াসরুমে যাব৷”
কায়ান সেরিনের দিকে তাকায়।
“এখন?”
সেরিন আবার পিট পিট করে তাকায়।
“হুম এখন?”
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১২
কায়ান, আশেপাশে কোন পাবলিক ওয়াসরুম দেখল না। কি করবে এখন।
এমন সময় পেছন থেকে দোকানদারেরা জিজ্ঞেস করল,
“কি হইছে আপনাগো কেন সমস্যা? ”
“জি, এখানে কোথাও পাবলিক ওয়াসরুম আছে?”
“না এইহানে কোন ওইরকম বাথরুম ত নাই৷ তয় আমার বাড়ি ওই পেছনে। আমার বাড়িতে জান আমার বউ আছে।”
