লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩১ (২)
লিজা মনি
বৃদ্ধ লোকটার আরজি যেন এনিকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে তুলছিলো। এনির একটা কথায় মনে হচ্ছে হয়ত সামান্য ভুল করাতে এমন মরন শাস্থি দেওয়া হচ্ছে। এনি নিকের হাত ছাড়িয়ে দ্রুত লোকটার কাছে যায়। অধিরাজের হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বলে,
” এমন কি অন্যায় করেছে উনি? বাবার বয়সী। বার্ধক্যের কারনে নুইয়ে গিয়েছে। এমন বয়স্ক ব্যাক্তিটার সাথে হেচড়া-হেচড়ি করছেন। এতটা নিকৃষ্টি না হলেও তো পারেন।
নিক এখন ও নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। এনি তার হাতটাকে ঝটকা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে বার বার একই দৃশ্য চোখে ভাসছে। শরীর কাঁপছে ভীষনভাবে। হাতটাকে মুষ্টিবদ্ধ করতে করতে শক্ত কন্ঠে বলে,
” ইউ উইল রিসিভ দ্য পানিশমেন্ট অফ ক্রায়িং ওভার অ্যানাদার ম্যান, বেবিগার্ল। অ্যান্ড ইউ উইল এনজয় দ্যাট পানিশমেন্ট টুডে। ইট ইজ নট ফিজিকাল, অনলি ইমোশনাল হার্ম।
নিকের ভয়ংকর গর্জনে অধিরাজ, এনি থেমে যায়। সবাই নিকের দিকে তাকায় ভয়াতুর দৃষ্টিতে। নিক ঘাড় ঘুরিয়ে এনির দিকে তাকায়। চোখ দুইটা অসম্ভব লাল হয়ে আছে। এনি নিকের দিকে এক পলক তাকিয়ে দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। নিক নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির দিকে এগিয়ে যায়। ঝড়ের পূর্ভাবাস অনুভব করে আরিশ নিকের হাত ধরে অস্ফুর্ত স্বরে বলে,
” মেয়েটাকে প্রচুর দুর্বল দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে অসুস্থ। প্লিজ ভাই আঘাত করিস না।
নিক তীর্যক চোখে তাকিয়ে চোয়াল শক্ত করে ফেলে। আরিশের কলার চেপে ধরে বলে,
” ওর দিকে তাকিয়েছিস কেনো?
আরিশ নিককে শান্ত করে বলে,
” তাকায় নি আমি। প্রথম অনাকাঙ্খিতভাবে চোখ গিয়েছে। সেই ধারনা থেকে বলছি। তর বউয়ের দিকে তাকানোর সাহস আমার নেই। সে ধ্বংসাত্বক । মেয়েটাকে….
আরিশকে আর বলতে দেয় নি। নিক এনির দিকে তাকিয়ে কর্কশ আওয়াজে বলে,
” সেটা আমি আর সে দেখে নিব।
নিক আরিশকে এক ঝটকায় সরিয়ে দেয়। তীব্র ক্ষুব্দতা নিয়ে এনির হাতটা চেপে ধরে। এনি ব্যাথায় চোখ খিঁচে ফেলে। নিক সেই শব্দকে উপেক্ষা করে অধিরাজের দিকে তাকিয়ে ইশারা করে। অধিরাজ টেনে -হিচড়ে লোকটাকে নিয়ে যেতে থাকে। লোকটা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে মিনতি করছে। এনির মাথা ভঁন -ভঁন করছে। লোকটার চিৎকার তার আত্না পর্যন্ত নাড়িয়ে দিচ্ছে। কিসের এত বর্বরতা, কিসের এত অহংকার? শুধুই কি ক্ষমতা আর টাকা আছে বলে।
টর্চার সেলের সেই অন্ধকারে নেমে এসেছে এক ধরনের শ্বাসরুদ্ধ চাপা নীরবতা। দেয়ালের স্যাঁতসেঁতে ইঁটগুলো কাঁপা-ধরা আলোতে এমনভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে যেন বহুদিনের দমিত চিৎকার সেখানে জমাট বেঁধে ছায়ার আকার নিয়েছে। আবছা একটি লণ্ঠনের টিমটিমে আলো রুমটাকে পুরো আলোকিত করতে না পেরে বরং আরও কর্কশ ও আতঙ্ক-জাগানো অন্ধকারের জন্ম দিচ্ছে। সেই অন্ধকারের শীতলতা হঠাৎ হঠাৎ শরীরের ভেতর দিয়ে ছুরি হয়ে সরে যায়।
রুমের মাঝ বরাবর একখানা বরফ ঠাণ্ডা স্টিলের চেয়ারে এনিকে বেঁধে রাখা হয়েছে । তার হাতের দড়িগুলো এত নিখুঁতভাবে শক্ত যেন কোনো ভুল-ভ্রান্তির সুযোগ রাখেনি। এনির নিঃশ্বাস এর বেগ অনিয়মিত ভাবে চলছে।চোখের কোণে জমে থাকা সন্ত্রাস ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে ওঠা কুয়াশার মতো জমে আছে। চারদিকে এক অজানা ঘনত্ব আর হুমকির আসন্ন বিস্ফোরণের।
এনির ঠিক সামনেই পা ঝুলিয়ে বসে আছে গ্যাংস্টার বস। তার মুখের ওপর ঝুলে থাকা আধো আলোতে চোখ দুটো অস্বাভাবিকভাবে তীক্ষ্ণ হয়ে আছে। যেন তাকালেই বুকের ভেতর থেকে শ্বাস আটকে যায়। তার পায়ের আস্তে-ধীরে দোলানি রুমের নীরবতায় এমন প্রতিধ্বনি তোলে মনে হয় প্রতিটি দোলাই একেকটি আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস।
নিকের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে।ঠোঁটের কোণে জমে থাকা রাগ থমথমে নীরবতার মধ্যেই ভয়ংকরভাবে ফুটে উঠছে। চেয়ারের ওপরে সামান্য ঝুঁকে সে এনির দিকে তাকায় এমন দৃষ্টিতে। যেখানে দৃষ্টিতে কোনো দয়া নেই। কোনো দ্বিধা নেই। আছে শুধু দাবিদারী ক্রোধ আর নিঃসংকোচ আধিপত্য। নিকের নীরব রাগ যেন রুমের দেয়াল ভেদ করে চারদিকের বাতাসকে ভারী করে তুলছে।
নিক এনির দিকে ঝুঁকলে এনি চোখ -মুখ খিঁচে ফেলে। পুরোটা রুম অন্ধকার হয়ে আছে। চার-পাশের পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না। তবে অনুভব করতে পারছে কোনো এক ভয়ংকর জায়গা এসেছে সে। রক্তের টাটকা গন্ধ নাকে আসছে বাতাসের সাথে। মনে হচ্ছে যেন চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। আর সে রক্তের সমুদ্রে বসে আছে। এনির পুরো শরীর কাটা দিয়ে উঠে। আচমকা কানে বেজে উঠে বাঘের হিংস্র গর্জন। পর মুহূর্তে ভেসে আসে কুকুরের ফুঁশ-ফুঁশ শব্দ। এনি এই নেকড়ের মত কুকুর আর বাঘটাকে ভীষণ ভয় পায়। সারা রাত জ্বরে ছটফট করেছে। এখন পুনরায় এমন কিছুর সম্মুখীন হয়ে যেন জ্বরের মাত্রা আর ও তীব্র হয়ে উঠে। চোখ বন্ধ করে ঠোঁট কামড়ে ফুঁপিয়ে উঠে।হাত দুইটা শক্ত করে চায়ারের শক্ত অংশ চেপে ধরে। অন্ধকারের মধ্যে ভেসে আসে পরিচিত পুরুষের হিংস্র অথচ শান্ত কন্ঠস্বর,
” কেনো বের হয়েছো রুম থেকে? কেনো অন্য পুরুষের নজরে আসলে?
এনি কেঁপে উঠে এমন ভয়ানক স্বরে। অন্ধকারে এমন গা ছমছমে পরিবেশে নিকের আওয়াজটা যেন অশুভ শুনালো। এনির গলা পর্যন্ত শুকিয়ে আসছে। নিক শান্ত চোখে এনির দিকে তাকিয়ে দুইবার শিষ বাজায়। সাথে সাথে পুরো রুম আলোকিত হয়ে পড়ে। এনি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে নেয়। এই আলোতে তাকাতে তার ভয় হচ্ছে। যদি বিধ্বংস আর বর্বরতার সম্মুখীন হয়। তাহলে সে সহ্য করতে পারবে না। তবুও মন বলছে এক পলক তাকাতে। হিংস্র নগরীর মধ্যে ধ্বংসাত্বক পরিবেশটাতে নজর বুলাতে। সামনে থাকা পুরুষটা ঠিক কেমন তার সম্পর্কে আরও একটু ধারনা নিতে। এনি পিট-পিট করে চোখ খুললো। সাথে সাথে তার চোখ স্তব্দ হয়ে যায়। চোখের পাতা ফেলতেও তার ভয় হচ্ছে। তীব্র ভয়ের সন্ত্রস্ত অভিঘাতে এনির দেহশৌষ্টব যেন এক অদৃশ্য সংকোচনের ভেতর সম্পূর্ণভাবে গুটিয়ে গেছে। গলা এমনভাবে শুষ্ক হয়ে উঠেছে যে সামান্য গিলতেও মনে হচ্ছে প্রাচীন মরুভূমির বালুকণারা তার খাদনালী ঘষে ক্ষরণ তুলছে। শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ ভেঙে গিয়ে অনিয়মিত ভাবে। ক্ষীণ এবং ভঙ্গুর হয়ে যাচ্ছে। যেন প্রতিটি শ্বাস টানাই এক দুঃসাহসিক অপরাধ। আর শ্বাস ছাড়াটাই শাস্তিযোগ্য বিবমিষার মতো ভয়ের শিরশিরানি জাগায়।
হৃদস্পন্দন এত অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত যেন হৃদপিণ্ড নিজের খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। কাঁপতে থাকা ধুকধুক শব্দ বুকের গভীরতা থেকে গলার শিকড়ে উঠে এসে প্রতিটি শিরায় প্রতিধ্বনি করছে। আঙুলের ডগা পর্যন্ত ঠাণ্ডা শীতলতা নেমে গেছে বরফের মতো।।
হাত – পা নয় শুধু। পুরো শরীর কাঁপছে। চোখের পাতা টানটান হয়ে গিয়েছে।দৃষ্টি স্থির রাখতে চাইলেও প্রতিটি ছায়া তার কাছে অস্বাভাবিক আকৃতি ধারণ করছে ধীরে ধীরে। যেন অন্ধকার নিজেই তাকে গ্রাস করতে উদ্যত। ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। পায়ের পাতায় এক ধরণের নিস্পন্দতার চাপ। হাঁটু জোড়া অনিয়ন্ত্রিত কাঁপুনি তোলায়। মেরুদণ্ড বরাবর এক টানা স্রোতের মতো আতঙ্ক নেমে যাচ্ছে এমন ভয়ের প্রবাব। এনি হাঁপানি রোগীর মত হাঁপিয়ে উঠে। চিৎকার দিতেও ভুলে যায় সে। রুমটা বেশি বড় নয়। বারো হাত টাইপের একটা রুম। বিদঘুটে গা ছমছমে পরিবেশ। দেয়ালে রক্তের ছোপ, ছোপ দাগ।কারোর গলা কেটে ফেললে রক্ত যখন ছিটকে পড়ে দেয়ালে। তখন যেমন আকার সৃষ্টি হয় ঠিক তেমন ভাবে দেয়ালে দাগ লেগে আছে। যে কেউ দেখলেই বুঝে যাবে এইটা কশাই খানা। এখানে হাজার ও জনের গলা -কাটা হয়েছে। ছয়টা মৃত দেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে উপর থেকে। মাথাটা ঝুলে আছে নিচের দিকে। তাদের পড়ছে লজ্জা স্থান ঢাকার জন্য ছোট্ট একটা আন্ডারওয়ার। পুরো শরীর নগ্ন। এই নগ্ন শরীরের উপর বিকৃতভাবে নকশা বদলে দেওয়া হয়েছে। দেখলে যে কেউ বলবে অনেক দিনের নির্যাতন সহ্য করা কিছু মৃত প্রায় দেহ। কিন্ত অদ্ভুত ব্যাপার এদেরকে এই মাত্র ঝুলানো হয়েছে। রক্ত পড়ছে উপর থেকে টুপ-টুপ করে। নির্জন এই রুমে রক্তের ফোটাগুলো পড়ার শব্দ যেন আরও ভয়ানক হয়ে উঠে। বাম পাশে ঝুলানো ব্যাক্তিটার মাথা কেটে ফেলা হয়েছে। বডি আছে কিন্তু মাথা নেই। শরীরে অসংখ্য চাকুর আঘাত। চামড়া ছিঁড়ে গিয়ে সাদা মাংশ খানা বের হয়ে আছে। ডান পাশে ঝুলানো ব্যক্তিটার বক্ষ থেকে শুরু করে পেটের নিচের অংশ পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়েছে। পেটের মাংশ দুই পাশে ভাগ হয়ে আছে। সাদা মাংস রক্তে কালো হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীর। যেন মনে হচ্ছে নাড়ি -ভুড়ি বের হয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান হয়ে কেমন ঝুলে আছে। একদম মাঝ বরারবর ব্যক্তিটার চোখ দুইটা তুলে নেওয়া হয়েছে। এই লোকটার গো*প*ন*ঙ্গ থেকে টগবগিয়ে রক্ত ঝরছে। সামান্য কপাল কুচকে তাকালেই বুঝা যাবে অণ্ডকোষ সহ পুরু*** কেটে দেওয়া হয়েছে। কিন্ত কেনো করলো এমনটা?
লোকটার জিহ্বা অনেকটা বের হয়ে আছে। চোখ তুলে ফেলার কারনে জায়গাটা কেমন হিংস্র হয়ে উঠেছে। রক্ত পড়ছে পুরো শরীর থেকে। পুরো শরীর আঘাতে থেতলে গিয়েছে। আরেকজন লোকের শরীরে সূচ গেঁথে রাখা হয়েছে। হাতে -পায়ে সব জায়গাতে বিষাক্ত সূচ। কেউ আর জীবিত নেই। সবাই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে অনেক আগেই। মৃত্যুটাও হয়ত বেশি সময় হয় নি। হয়ত দশ -বিশ মিনিটের ভিতরেই রুহটা ত্যাগ করেছে। এনি আর তাকাতে পারলো না। নাড়ি -ভুড়ি উল্টে আসার উপক্রম হয়ে পড়ে। টর্চার সেলের সেই দমবন্ধ আঁধারে জমে থাকা আতঙ্কের ঘন স্তর যেন একযোগে এনির শরীর ও মনের ওপর আঘাত হেনে তাকে সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। গ্যাংস্টার বসের নীরব অথচ শাসকসুলভ দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা তার ভেতরের স্থিরতাকে এতটাই বিদীর্ণ করেছিল যে প্রতিটি অনুভূতি, প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি শ্বাস সবকিছুই বিশৃঙ্খল অস্থিরতায় পরিণত হয়ে যায়। চারপাশের এমন বিকৃত দৃশ্য মাথা ঘুরে আসে। সেই প্রচণ্ড মানসিক অভিঘাতের ভারে এনির পেটের ভেতরে আকস্মিক এক তীব্র মোচড় ওঠে। ভয়ের অনিয়ন্ত্রিত ঢেউ তার খাদনালী বরাবর হিংস্রভাবে বেয়ে উঠে এসে তাকে শ্বাসরুদ্ধ যন্ত্রণায় ঠেলে দেয়। চোখের সামনে আলো-ছায়া দুলে ওঠে। দৃষ্টিসীমা বিকৃত হয়ে যায়।আর সেই অস্থির মুহূর্তেই তার পেট গুলিয়ে গর গরে উঠে আসে নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে। পরমুহূর্তে সে বমি করে ফেলে।
নিক যেন আগে থেকেই এমন কিছুর আভাস পেয়েছিলো। চোখের পলকে সে সরে যায়। এনির দিকে তাকিয়ে নাক -মুখ কুচকে ফেলে। এনি এখন অসহায় ও দমচাপা কাঁপুনিতে ভেঙে পড়া এক সত্তার মতো। বমির তীব্রতা আর পরবর্তী জ্বালাধরা শূন্যতা তাকে আরও অস্থির আর দুর্বল করে তোলে। এনির গলা শুষ্ক হয়ে যায় আগুনে পোড়া পথের মতো। প্রতিটি শ্বাসই যেন বেদনার সাথে আঁকড়ে ধরে তোলা কোনো বাধ্যতামূলক প্রচেষ্টা। মাথার ভেতরে এক অনবরত ঝিমধরা গর্জন চলছে। হৃদস্পন্দনের অনিয়ন্ত্রিত ভাবে যেন ধাক্কাধাক্কি। শিরায় শিরায় ছড়িয়ে থাকা আতঙ্কের বিদ্যুৎ। চারপাশে নাড়ি -ভুড়ি বের করা বিকৃত লাশ, তার মাঝ খানে সে বসে আছে। সামনে জানোয়ার রুপী গ্যাংস্টার বসের তীর্যক চাহনী। সব কিছু অনুভব করতেই এনি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে মানসিক বিপর্যয়ের এমন এক চূড়ায় পৌঁছে গেছে যেখানে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মানসিক স্থৈর্য, আর সচেতন নিয়ন্ত্রণ তিনটিই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে তাকে শুধু কম্পমান আতঙ্কের অবশ সত্তায় রূপান্তরিত করে ফেলেছে। এনি চোখ বন্ধ করা অবস্থায় ফুঁপিয়ে উঠে,
” নরকের যন্ত্রনা দিচ্ছেন গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান। শারীরিক ভাবে মেরু ফেলুন। এই মানসিক ভয় আর যন্ত্রনা সহ্য করতে পারছি না। দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার। চার-পাশের বিকৃত অবস্থায় আমি দম ফেটে মরে যাচ্ছি।
নিকের মুখে কোনো রিয়্যাকশন নেই। গার্ডকে ইশারা করে বমি ক্লিন করে দিয়ে যাওয়ার জন্য। নিকের আদেশ পাওয়া মাত্র দুইজন লোক আসে। তারা মুলত এই টর্চার সেল পরিষ্কার রাখে। পাঁচ মিনিটের ভিতরে সব আবার আগের মত করে দেয়। নিক পানির বোতল হাতে নিয়ে এনির দিয়ে এগিয়ে দেয়। এরপর শান্ত অথচ ভয়ানক গলায় বলে,
” পানিটা খাও। কুইক।
এনি চোয়াল শক্ত করে বলে,
” রক্ত মিশিয়ে দিন -নি তো? আপনার সাথে থাকতেও গা গুলাচ্ছে। ছিহহহ! এতটা বিকৃত মস্তিষ্কের কিভাবে আপনি। ভুল নয়। সত্যি আপনি একজন বিকৃত মস্তিষ্কের সাইকোপ্যাথ।
এনির কথায় নিক হাসলো। তবে এইটা খুশির হাসি নয়। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে,
” তুমি কোনো দিক দিয়ে কম বেবিগার্ল?
এনি অবুঝের ন্যায় বলে,
” মানে? আপনি নিজের সাথে আমাকে তুলনা করছেন? আপনি একটা জানোয়ার, পুরো শরীর পাপে ডুবে গিয়েছে।
থেমে… নিশ্বাস নিয়ে বলে,
” আদ’ও আপনি মানুষ কি -না সন্দেহ হয়।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরা অবস্থায় গ্লাসটা নাড়া-চড়া করে। শান্ত গলায় বলে,
” পানিটা খেয়ে নাও ব্লাড রোজ।
এনি হাত -পা ছড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। নরকের মধ্যে বেঁধে রেখে জানোয়ারের বাচ্চা আদিক্ষেতা দেখাতে এসেছে। নিক এনির দিকে আবার ও পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে বলে,
” মুখ খুলো। পানি খাওয়া প্রয়োজন এখন তোমার।
এনি হা করে না। দুই ঠোঁট আরও শক্তভাবে চেপে ধরে রেখেছে। নিকের সহ্য হলো না। এক ঝটকায় পুরোটা পানি এনির মুখের উপর ছুঁড়ে মারে। আচমকা পানি পড়াতে এনি হকচকিয়ে উঠে। শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে যাচ্ছিলো। নিক এনির থুতনিটা ধরে ধমকে উঠে,
” বান্দির বাচ্চা ভালোভাবে বুঝালে কানে যায় না? মুখ খুল। আর পানি খা।
এনি ধমক খেয়ে ঢকঢক করে পানিটা খেয়ে নেয়। সামান্য নাঁখোঁজ ও করে নি। নিক খাওয়াতে সক্ষম হয়ে একটা বাঁকা হাসি দেয়। এরপর এনির সামনা সামনি পা-ঝুলিয়ে বসে।
নিককে বসতে দেখে এনি বিরবির করে বলে,
” জানোয়ার।
নিক কথাটা শুনলো। ঠোঁট কামড়ে ধরে এনির পুরো শরীরে চোখ বুলাতে থাকে। নিকের এমন দৃষ্টিতে এনির অস্বস্তি বেড়ে যায়। কেমন লুচ্চাদের মত ঠোঁট কামড়ে ধরে তাকিয়ে আছে। কোথায় কোথায় তাকাচ্ছে আল্লাহ জানে। নির্ঘাত দৃষ্টি খারাপ দিকেই যাচ্ছে। দৃষ্টির উপর ঠাডা পড়ুক এই লোকের।নিক পুরো শরীরের দিকে তাকিয়ে একই ভঙ্গিমায় বলে,
” রাইট বেবিগার্ল, আমি জানোয়ার।
“স্বীকার করছেন ”
” বাস্তবতা ভুলে গেলে হবে। স্বীকার না করে যাব কোথায়?
” যাক একটা জিনিস তো স্বীকার করলেন। মানুষের মংস খেলে পুর্ন জানোয়ার হয়ে যেতেন।
নিক এনির দিয়ে তাকিয়ে গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” সেটাও বাদ রাখি নি। তিন দিন আগেও খেয়েছি।
এনির ভিতর আরও গুলিয়ে আসে। এই লোক মানুষের মাংস খায়? নাউযুবিল্লাহ! এই ঠোঁট দিয়ে সহস্রবার তাকে চুম্বন করেছে।ভাবতেই এনির মাথা ঘুরতে থাকে। নিকের দিকে না তাকিয়ে নাক ছিটকিয়ে বলে,
” ছিহহ! মানুষ হয়ে মানুষের মাংস ভক্ষণ করেন কিভাবে? ঘৃণা লাগে না।
নিক চেয়ার থেকে উঠে আসে। কালো হুডিটা নামিয়ে এনির দিকে ঝুঁকে পড়ে। কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে স্পর্শ করে বলে,
” কেনো? তোমাকে খায় নি আমি? একবার নয় অনেক বার খেয়েছি। একটুও ঘৃনা লাগে নি। বরং এইটা এমন এক খাবার যেটা ধরলে আর ছাড়তে ইচ্ছে করে না মাই ফাকিং ব্লাড রোজ।
এনি বোকার মত হা করে তাকিয়ে থাকে। লজ্জায় কান গরম হয়ে আসে। নিক আরও কিছু বাক্য উচ্চারন করে। এইসব কথা আগে কখনো শুনে নি। খোলা-খুলিভাবে একটা লোক এতটা নির্লজ্জ কিভাবে হয়। এনি লজ্জায় মুখ খিঁচে ফেলে,
” চুপ করুন। অসভ্য চিতা বাঘ।
নিক সরে আসে এনির কাছ থেকে। পুনরায় চেয়ারে বসে বলে,
” তুমি লজ্জা কেনো পাচ্ছো বেবিগার্ল? জানোয়ারের ভক্ষণ হয়েছো তুমি। সেটা শুনে কান্না করা উচিত ছিলো। অথচ তুমি লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছো। ভালোবেসে ফেলো নি -তো স্পর্শগুলোকে।
এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
” অনেক চালাক আপনি। আমি নয় পুরো দেশ জানে এইটা। তাই বোকা চিন্তা করে নিজেকে বোকা বানাবেন না।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” দ্বিতীয়বারের মত রিপিট করছি বেবিগার্ল। নিজের অজান্তেই আমার প্রেমে ঠিক এতটা অন্ধ হবে যে, আমার সামান্য অনুপস্থিতিতে তুমি আমার থেকে ও বড় সাইকোতে পরিনত হবে।
এনি নিকের চোখে -চোখ রেখে বলে,
” আপনার মনে হয়, কোনোদিন আপনার প্রেমে পড়ব? মানুষ হয়ে মানুষের প্রেমে পড়া যায় কিন্ত কোনো জানোয়ারের নয়।
” আর এই ইতিহাস তুমি ভাঙবে। তুমি ও এক জানোয়ারের প্রেমে পড়বে। বললাম না আমাকে পাওয়ার জন্য আমার থেকে ও বড় সাইকোতে পরিনত হবে।
এনি কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। তার পুরো মুখে পানি। হালকা শুকিয়ে গেছে। তার পর ও বাকি পানিগুলোর ফলে কেমন যেন সুড়সুড়ি লাগছে। এই কষ্টের মধ্যেও হাসি পাচ্ছে। এনি রাগ দেখিয়ে নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” হাত খুলে দিন মুখ মুছবো। সুঁড়সুঁড়ি লাগছে আমার।
নিক কেমন অদ্ভুত নজরে তাকায়। এনি চোয়াল শক্ত করে বলে,
” হয় নিজে মুছে দিন নয়ত হাতের বাঁধন খুলে দিন। এখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সামর্থ আমার নেই আপনিও জানেন।
” কাছে গেলে অঘটন ঘটে যাবে। কাঁদবে, ছটফট করবে, লাইট অফ হবে অনেক কিছুই হবে। বাট পরিশেষে শাওয়ারের কাজে ভুগতে হবে।
থেমে…
” কারন এখানে ওয়াশরুম থেকে শুরু করে সব জায়গায় ক্যামেরা বসানো।
এনির ইচ্ছে করছিলো হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদতে। এমন নির্লজ্জ লোক কিভাবে বানিয়েছে। মুখের কোনো ব্রেক নেই। যা ইচ্ছে বলে দেয় অসভ্যের মত।এনি চুপ হয়ে যায়। নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,
” রক্তে তোমার ফোবিয়া রাইট বেবিগার্ল?
” অজানা থাকার কথা নয়। সব জেনেই তো এসেছেন আমার সম্পর্ক। এখন আবার প্রশ্ন করছেন কেনো?
” কে তুমি? নিকের ঠান্ডা আর রহস্যময় গলায়।
” কে তুমি ” এই বাক্যটা এনির ভিতরটা পর্যন্ত নাড়িয়ে তুলে। নিকের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” জানেন না আমার সম্পর্কে?
” অনেক কিছুই অজানা। চাইলে দুই মিনিটের ভিতরে জানতে পারি। কিন্তু সাক্ষী সামনে রেখে নিজে কেনো কষ্ট করে জানতে যাব।
” আপনি ভাবলেন কিভাবে সাক্ষী স্বীকার উক্তি দিবে?
নিক রহস্যময়ভাবে হেসে বলে,
” সব কিছুই করবে। গ্যাংস্টার বস কাচা খেলোয়ার নয় বেবিগার্ল। মায়ের আচলের ভিতরে বড় হয় নি সে। বছরের পর বছর নেকড়ের গুহায় যুদ্ধ করে আসা এক যুদ্ধা। দুই বছরের ভিতরে মাফিয়া সিংহাসনের মালিক হওয়া গ্যাংস্টার বস নিক জেভরান। গ্যাংস্টার বস হয়ে যদি শ্যয্যা -সঙ্গীর পেট থেকে কথা বের করতে না পারি তাহলে শত্রুকে প্রতিঘাত করব কিভাবে?
এনির চোখে পানি টুইটুম্বুর,
” রক্ষিতা থেকে আজ শয্যাসঙ্গী। বানান আলাদা হলেও অর্থ কিছুটা একই। যাকে বলে যাস্ট ভোগবস্তু।
নিক অধরে হাসি ফুটিয়ে বলে,
” বিছানায় যে -কেউ ঠাই পায় না বেবিগার্ল। আমার টিস্যুতে হাত দেওয়ার সাহস কারো নেই। সেখানে তুমি আমার রুমে থাকছো। যতবার পালাবে ঠিক খুঁজে বের করে ফেলব।
হাতে শক্ত করে বাঁধার ফলে ব্যাথা পাচ্ছে সে। ব্যথায় ছটফট করে বলে,
” এইবার ও ঠিক খুঁজে নিয়েছেন আমাকে।কি চাই এখন? তিন দিন ধরে মরন যন্ত্রনা সহ্য কিরছি। শরীরটা চাচ্ছেন না কেনো?
নিক রাগ নিয়ন্ত্রনের জন্য কপাল ঘেষে। ঠোঁট কামড়ে অদ্ভুতভাবে হেসে বলে,
” ফিজিক্যাল এটাচের মাধ্যমে যদি শাস্তি দেওয়া যেত তাহলে ট্রাস্ট মি ব্লাড রোজ, প্রতিটা সময় তর ছোট্ট শরীরটা আমার শক্ত-পোক্ত দেহের নিচে পিষে যেত। এই শরীরটা আমি চাইলে প্রথম রাতেই কামনা মিটিয়ে টিস্যুর মত ছুঁড়ে ফেলে দিতাম। বার বার সতিত্ব হারানো যায় এমন নিয়ম থাকলে বার বার তুমি ফার্স্ট হতে।
এনি দৃষ্টি এদিক-সেদিম ঘুরায়। ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,
” কলঙ্কিত তো করেছেন?
” কিভাবে?
” রক্ষিতা বানিয়ে।
নিকের চোখের রং চেইঞ্জ হতে থাকে। এমনি রাগটাকে কন্ট্রোলে রেখেছিলো কিছুক্ষণ। কিন্তু এখন আর পারলো না গ্যাংস্টার বস। বসা থেকে উঠে এনির চুলের মুঠি শক্ত ভাবে চেপে ধরে। চুলে চাপ প্রয়োগ করে বলে,
” শালী মাদার্ফাক, রক্ষিতা শব্দটা ভালো লাগে শুনতে? রক্ষিতার মত ট্রিট করেছি আমি তকে? শুয়রের বাচ্চা বল?
এনি চোখের পানি ছেড়ে বলে,
” নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন। আমার জায়গায় যদি আপনি থাকতেন তাহলে কেমন হত? আপনি বলেছেন আমি আপনার রক্ষিতা। ভুলে যাবেন না নিক জেভরান। কলঙ্কের কালিমা আপনি লেপ্টে দিয়েছন। বিয়ে ছাড়া আমার নগ্ন বডি দেখেছেন। সেটার ভিডিও ধারন করেছেন। শরীর কাটা দিয়ে উঠে এইসব মনে হলে।
নিক এনির চোয়ালটা শক্তভাবে চেপে ধরে বলে,
” সারাদিন আমার দোষ খুঁজে বেড়াস। এখন এত বোকা কেনো তুই? নগ্ন ভিডিও দেখিয়েছি আমি তকে একবার ও?
” না।
” তাহলে কেনো বললি আমি ভিডিও করেছি।
” আপনি নিজে বলেছেন।
” বিশ্বাস করে সব থেকে বড় ভুল করেছো বেবিগার্ল। মিথ্যে ব্লেক মেইল ছিলো এইটা। তর শরীরে কলঙ্ক লাগাতে চাইলে যেদিন কিনেছিলাম ঠিক সেদিন পুরুষ্যত্ব জাহির করতে পারতাম। হাজারও পুরুষের লালসার হাত থেকে বাঁচাতাম না। এইসিব ফাকিং কাজ করতে গিয়ে নিজেও বিরক্ত হয়েছি। কেনো করেছি তর জন্য এতসব?
” কেনো? এনি আচমকা অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে।
নিক কিছুক্ষন চুপ থেকে বলে,
” কায়াতকে হারানোর জন্য। কি আছে তর মধ্যে কে জানে? জঙ্গলের কালারের মত দুইটা চোখ আর দবদবে বোয়াল মাছের মত সাদা চামড়া। গুন ও নেই। বলদের মত রিয়্যাক্ট করতে জানে শুধু। কি দেখে তকে নিলামে তুলেছিলো উপর ওয়ালা ভালো জানেন। নিজেরা নিজেরা কাম**কামড়ি লেগে দিয়েছে। একসময় বন্ধু ছিলো এখন আমার জাত শত্রু হয়ে বসে আছে বাই****।
নিজের রুপের এমন প্রশংসায় এনি চোয়াল শক্ত করে বলে,
” প্রশংসা করতে না পারলে কাউকে বর্ননা করবেন না। নিজেও তো বোয়াল মাছের মত দবদবে ফর্সা। বিড়ালের মত দুইটা চোখ। ঘাড় পর্যন্ত চুল। যেমন পাগলদের থাকে। জেল – দিয়ে সেট করা থাকলেই হিরু মনে হয় না। কি দেখে আপনার উপর সবাই ক্রাশ খায় উপর ওয়ালা ভালো জানেন। জানোয়ারের মত হৃদয় আর কুম্ভকর্নের মত শরীর।
নিক তীর্যক চোখে তাকিয়ে বলে,
” আমি এত কুৎসিত অথচ আমি যখন কাছে যায় তখন শ্বাসের গতি এত দ্রুত চলে কেনো? একদম যখন মিশে যায় তখন তো শ্বাস পাল্লা দিয়ে মাপা হলে পাল্লা ও ভর সহ্য করতে পারবে না।
এনি চোখ -মুখ খিঁচে ফেলে,
” বাজে কথা থেকে বিরত থাকুন।
এনি চোখ তুলে নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আপনি আমাকে আগে থেকে চিনতেন? ভুলেও সেদিন হারানোর জন্য আমাকে কিনে নিয়ে আসেন নি? সত্যি করে বলুন আপনি চিনতেন আগে আমাকে? আমি যেদিন পাচার হয়েছিলাম। তখন একজন ব্যক্তির ভয়ানক গলা আমি শুনেছি। ঠিক আপনার স্বর হুবহু। আপনি সেদিন ও আমাকে দেখেছেন। সবার থেকে আমাকে আলাদা একটা রুমে রাখা হয়েছিলো। যেটা দেখলে একদম বুঝা যায় নি এইটা পাচার কেন্দ্রের রুম। সব থেকে বড় কথা নাভিদ ভাইয়ের সাথে আপনার কিসের সম্পর্ক? উনি কিভাবে চিনে আপনাকে? আমাকে সাহায্য করেছে জেনেও জানে মারেন নি কেনো?
এনি প্রশ্ন করতে করতে হাঁপিয়ে উঠে। নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে তাকিয়ে আছে। নিককে শান্ত থামতে দেখে এনি নিশ্বাস টেনে বলে,
” দেখুন শরীরের কন্ডিশন আমার এমনিতেও ভালো নয়। যে কোনো সময় মরেও যেতে পারি। যতটা শক্ত দেখাচ্ছি ততটা শক্ত নয় আমি। মানসিক ভাবে আমি ট্রমাতে চলে যাচ্ছি। শারীরিক ভাবে আমি মরে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। এতটা দুর্বল অনুভব করি যে দাড়াতেও কষ্ট হয়। তবুও আপনার সাথে শক্তি দেখায়। শুধু মাত্র সুস্থভাবে বাঁচার জন্য। এই আঘাত, এই যন্ত্রনা, এইসব মানসিক আঘাত, চারপাশের বিকৃত দৃশ্য আর নিতে পারছি না। শরীর এখনও গুলাচ্ছে। বহু কষ্টে শক্ত হয়ে বসে আছি। মরার আগে জাস্ট এইটা জেনে যেতে চাই আমাকে আগে থেকে চিনতেন কি-না। দুই থেকে দেড় বছর যবৎ আমি কাটা মাথা আর কলিজা পাচ্ছি। তাও আবার পুরুষ মানুষের। ঠিক যতজন আমাকে বিরক্ত করেছে পরের দিন বা পর মুহূর্তে আমার কাছে কাটা মাথা আর রক্তাক্ত কলিজার পেকেট এসেছে। প্রথমে ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। বাজে সপ্ন দেখতাম। আমার অতীত আমাকে তারা করত। অতীতের তিক্ত সত্য আমার চোখে ভেসে উঠত। প্রথম এক বছর ভয়ে শ্বাস ফেলতেও ভুলে গিয়েছি। পরে ধীরে ধীরে নরমাল হয়ে আসি। পার্সেল আসলেও আর খুলে দেখতাম ন। কারন ধারনা হয়ে গিয়েছিলো কি আসতে পারে? কে পাঠাত এইসব? আপনি?
এনির দৃষ্টি নিকের দিকে। নিক সাবলীলভাবে উত্তর দেয়,
” প্রশ্ন করছো? ভয় করছে না?
এনি ঠোঁট ভেজায়। লোকটা আবার রেগে গেলো না তো। পর মুহূর্ত বাঁকা হেসে বলে,
” যার হাতে আমার সতিত্ব ধ্বংস হয়েছে তাকে সামান্য কথা জিজ্ঞাসা করতে ভয় পাব কেনো?নিজের স্বামীকে কেউ ভয় পায়?
এনির দুষ্টু হাসি। মুহূর্তের এনির এমন ফুরফুরা পরিবর্তন নিকের কপালে ভাঁজ ফেলে দেয়। কথাটা তাকে নাড়িয়ে তুলছে বার বার। সে কি আদ’ও এই মেয়েকে নিজের স্ত্রী হিসেবে মানে? যদি না মানে তাহকে এত ডেম্পারেট কেনো এই নারীর প্রতি।
” কন্ট্রোলল্যাস করতে চাইছো?
” উত্তর জানতে চাইছি।
” উত্তর দেয় না আমি। লোকের গলায় হাত চেপে ধরে প্রশ্ন করা আমার স্বভাব।
” সেইম কাজটা আমিও আপনাকে করছি। স্ত্রী হয়ে স্বামীর কাছে উত্তর জানতে চাইছি। কে পাঠাতো এইসব মাথা? আপনার খুনের স্টাইল ঠিক একই রকম। চুপচাপ থাকা কি সম্মতি ধরে নিব?
নিক গম্ভীর হয়ে বলে,
” অনেক জনকেই মেরেছি।
এনি ঠোঁট চেপে শ্বাস টেনে সাহস জুগিয়ে বলে,
” আমাকে এখানে বেঁধে রখার কারন?
” মানসিক যন্ত্রনা।
এনি চোখ বন্ধ করে বলে,
” আমার দিকে তাকালে আপনার কি সমস্যা ছিলো? তখন তো আমি আপনার কেনা গোলাম ছিলাম না। তাহলে ওদেরকে মেরেছেন কেনো?
নিকের চোয়াল শক্ত হতে থাকে ধীরে -ধীরে,
” রক্ত দিয়ে হাত ধৌত করতে আমার বরাবর পছন্দ বেবিগার্ল। হালাল এখন করলেও চোখ দিয়ে কিনে নিয়েছিলাম আর ও দুই বছর আগেই। আমি যা একবার চাই সেটা যে -কোনো মুল্যেই পেয়ে ছাড়ি। আর সঠিক সময় আসলে ছিনিয়ে নেয়। আমার জিনিসে কেউ তাকালে তার কলিজা আর মাথা কাটাটা স্বাভাবিক।
এনি ঘন ঘন নিশ্বাস টানে। ঘুরিয়ে -প্যাচিয়ে বললেও এনি বুঝেছে সবটা। মাথা ভঁন -ভঁন করছে তার।
” সামান্য তাকানোর জন্য এমন ভিবৎষ্য মৃত্যু দিতে হাত কাঁপে নি?
” তোমার হাত কাঁপে নি নিজের চাচাকে আশিটা টুকরো করতে?
এনি থমকে যায়। স্তব্দতার ন্যায় নিকের দিকে তাকায়। নিক শব্দ করে পৈশাচিক ভাবে হেসে উঠে। এনি জড়তা নিয়ে বলে,
” ক… কিভাবে জেনেছেন?
” অজানা নয় কোনো জিনিস এই। নিজের চাচাকে কিভাবে মেরেছো? হাত কাঁপে নি? আমার থেকেও বড় সাইকোপ্যাথ তো তুমি বেবিগার্ল। ভালো মেয়ে ভাবতাম। অথচ তুমি….
এনি রাগে গর্জে উঠে,
” কি, খারাপ মেয়ে? হ্যা খারাপ এই তো? সম্মানের জন্য কখনো লড়াই করেছেন নিক -জেভরান? এই সৌন্দর্য আমার জন্য অভিশাপ। আত্নহত্যা যদি মহাপাপ না হত তাহলে আমি আনাস্তাসিয়া এনি সেদিন এই নদীতে ঝাঁপ দিতাম যেদিন আমার জন্মদাত্রী আর জন্মদাতা আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলো । আপনারা হাজার ও নারীকে দিয়ে ব্যবসা করান। হাজার ও মায়ের বুক খালি করেন। নারীর সম্মান আপনারা বুঝবেন না। এই অভিশাপ যুক্ত সৌন্দর্যের জন্য প্রচুড় লড়াই করেছি আমি। এক সাথে চার জনের মাথাও কেটেছি।
এনি থামে। শ্বাস ফেলে বড় বড় করে। নিক এনির দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে রাগ স্পষ্ট ।এনি ক্লান্ত স্বরে বলে,
” জানতে চাচ্ছেন আমার অতীত তাই -তো? জেনে আর কি করবেন? অতীতের থেকে আমার বর্তমান খুব ভয়ংকর। তবুও স্মরন করিয়ে দিচ্ছি আপনাকে। আমি কিসের সাথে লড়াই করে এসেছি। জানতে যখন চাচ্ছেন তখন এড়িয়ে যাব কেনো? আনাস্তাসিয়া এনি ইরানের রাজকন্যা ছিলো। তার বাবা- মায়ের রজকন্যা ছিলো। পৃর্নিমার রাতে হয়েছিলো তার জন্ম। বাবা – মায়ের ভালোবাসার ফলস্বরুপ আমার জন্ম হয়েছিলো। খুশিতে আত্নহারা হয়ে পড়েছিলো তার বাবা – মা। বাবার মত নীল চোখের অধিকারি আনাস্তাসিয়া এনি। মায়ের মত লাস্যময়ী সৌন্দর্য। পেয়েছিলাম সব থেকে আকর্ষনীয় সোনালী লম্বা কেশ। ধীরে ধীরে হাসি, তামাসা ভালোবাসার মাধ্যমে বড় হচ্ছিলাম। কিন্তু বিধাতা সেটা বেশিদিন টিকিয়ে রাখে নি। নিজের চাচার কু-নজর পড়তে থাকে আমার উপর। আমার মা-কে প্রচুর নোংরা চোখে দেখত। নয় বছরের আমি সব না বুঝলেও এইটা বুঝি নিজের চাচার দৃষ্টি খারাপ। আল্লাহ পাক এইটুকু জ্ঞান দিয়েছিলো তখন। কার নজর কেমন সেটা নিয়ে ধারনা ছিলো আমার। একদিন পাপা আর আম্মু ব্যবসায়ীক পার্টিতে যায়। আমাকে যেতে বললে আমি মানা করে দেয়। আমায় আর জোর করে নি। পাপা আর আম্মু চলে যায়। খালি বাসা। কাজের মামুনি ঘুমাচ্ছে। আমি বাগানে খেলছিলাম। হঠাৎ নিজের চাচার আগমন ঘটে। কেমন দাঁত বের করে বিদঘুটে ভাবে হাসছিলো। আমি ছোট থেকেই এই লোকটাকে ভয় পায়। কাছে গেলেই কেমন অশালীন ভাবে স্পর্শ করত। আম্মু মানা করেছে যাতে এই লোকের কাছে না যায়। আমাকে ডাকলেও আর যেতাম না। লোকটার কাছে না গেলে রেগে ভয় দেখাত। আমি ভয়ে আম্মুকে জড়িয়ে ধরতাম।কিন্তু সেদিন আর রেহায় পায় নি। আমি লোকটাকে দেখে খেলা রেখেই দৌঁড় দেয় বাড়ির ভিতরের দিকে। কিন্ত তার আগেই লোকটা আমার চুলে ধরে ফেলে। আমি ব্যাথায় চিৎকার করে উঠি। আমি ছাড়া -পাওয়ার জন্য গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে থাকি। লোকটা পৈশাচিক ভাবে হেসে আমার দিকে তাকিয়ে বলে
” বাড়িতে কেউ নেই মামুনি। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলেও কেউ আসবে না বাঁচাতে।
আমি ভয়ে কান্না করতে করতে বলি,
” আমার ইঞ্জিন মামুনি ভিতরে আছে। উনি পাপার কাছে নালিশ করবে আঙ্কেল। পাপা আপনাকে প্রচুর পানিশমেন্ট দিবে।
কি বোকা ছিলাম আমি। যে লোকটা আমার দিকে কুলষিত দৃষ্টি ফেলে ইজ্জত লুটের জন্য এসেছে তাকে তখন ও আঙ্কেল সম্মোধন করছিলাম। শুয়রের বাচ্চাটা তখন আমার কান্নায় গলে নি। চাচা জাতকে কলঙ্কিত করার জন্য আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। একটা বন্ধ রুমের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। আমি সর্বশক্তি দিয়ে হাত -পা ছড়াছড়ি করে চেচাচ্ছি। তখনও বুঝতাম না আমার ইজ্জত লুট করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিশু শুলভ মন বলছিলো আমাকে মেরে ফেলবে তাই নিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই ইঞ্জিন মামুনি মানে আন্টি লোকটাকে পিছন থেকে ঝাপটে ধরে। উনি কাজের লোক হলেও আমি তাকে আরেকটা মা মনে করি। রাশিয়ান ছিলো উনি। বাংলা বলতে পারত না। ভাঙ্গা ভাঙ্গা ভাবে বলত। আমি মামুনি বলে কান্না করে উঠি। পুরুষ মানুষের শক্তির সাথে একটা নারী বরাবর এই তুচ্ছ। প্রচুর ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় মামুনি আর কুত্তার বাচ্চাটার। মামুনি আঘাতে রক্তক্ত হয়ে পড়েছে। তবুও আমাকে বাঁচাতে লড়াই করে যাচ্ছে। মামুনির রক্ত দেখে কাঁদতে ভুলে যায়। তখন হুট করে বড় একটা ভাব চলে আসে। আমার চুলে ক্লিপ ছিলো।।রাগে বাম হাতে ক্লিপ খুলে লোকটার চোখের মধ্যে ডুকিয়ে দেয়। লোকটা মোটেও এইটার জন্য প্রস্তুত ছিলো না। চোখে ধরে গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে উঠে।
আমি সেদিকে না তাকিয়ে মামুনির কাছে দৌঁড়ে যায়।কিছুক্ষনের মধ্যে আব্বুও আসে। এমন তছ-নছ অবস্থা দেখে প্রচুর অবাক হয়। নিজের ছোট ভাইকে কাতরাতে দেখে ভাতৃস্নেহ কান্না করে চেঁচিয়ে উঠে। অথচ আমার বাবা তখনও জানে নি তার মেয়েকে কুলষিত করতে এসেছিলো। মিথ্যে বলব না।।বাজেভাবে আমাকে ছুঁয়েছে। যে জায়গায় স্পর্শ করা বারন ছিলো সেখানেও বাদ দেয় নি। মামুনি সব ঘটনা খুলে বলে। পাপা সেদিন জানোয়ারটাকে প্রচুর মেরেছে। মার খেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলো। আম্মুর যেন এতদিনে জমিয়ে রাখা রাগ কিছুটা কমেছে। লোকটাকে ছটফট করতে দেখে হাসি দেখেছি আমি। এরপর চলে যায় আর ও চার বছর। আমি চৌদ্দ বছরের এক নাবালিকা। স্কুলে খবর যায় আমাদের বাড়িতে আগুন লেগে গিয়েছে। ভিতরে পুড়ে ছাই হয়েছে আমার বাবা – মা।
স্কুল থেকে চলে আসি। নিয়ে আসা হয় আমাকে। কান্না করতে করতে কতবার জ্ঞান হারিয়েছি তার হিসেব নেই। হঠাৎ দেখতে পায় চাচা রুপী নরপশুটাকে হাসছে। কেমন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমি সবাইকে বলেছি আমার বাবা – মাকে এই লোকটা মেরেছে। এই লোকটা সেদিনকার মারের প্রতিশোধ নিতে ওদেরকে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমাকেও কুলষিত করে ফেলবে। সেদিন শুধু পাপা আর আম্মুই মরে নি। সাথে ইঞ্জিন মাম্মুও ছাই হয়ে গিয়েছে। যেদিন আমার বাবা -মা মরেছে সেদিন আমাকে সান্তনা দেওয়ার নাম করে অশালীন ভাবে বার বার ছুঁয়েছে। নিরুপায় আমি শুধু কাদছিলাম। আমাকে আমার পাপার বন্ধু গালিব আঙ্কেল নিয়ে আসে। কি আশ্চর্য বাহিরের লোক, সামান্য আত্নার সম্পর্ক মাত্র। অথচ আমাকে মেয়ের মত দেখতেন। তথচ নিজের চাচা দেখত অশুভ নজরে। সেখানেও কেটে যায় এক বছর।বাবা – মায়ের – মামুনির স্মৃতি ভাসতে থাকে। প্রতিশুধের আগুন জ্বলে উঠে ভিতরে। এমন এক আগুন যেটা দিয়ে ছাড়-খাড় করে দিতে ইচ্ছে করছিলো সব কিছু। রাত একটা পর্যন্ত ছুঁড়ি ধাঁর করি।।এরপর নিশ্বব্দে বেরিয়ে যায় চাচার বাড়ির উদ্দেশ্যে। জানতাম এদিক-সেদিক হয়ে গেলে জীবন নিয়ে আর ফেরত আসব না।।জানি না তখন এই সাহস কোথা থেকে জেগে উঠলো। বরাবর ভিতু প্রকৃতির আমি। অল্পতেই নরম হয়ে যায়। হেটে -হেটে গিয়েছি চাচার বাড়ি। চুলগুলো ছিলো খোলা।
এই নীল চোখের গভীরতায় সবাই হারিয়ে যায়। কিন্ত এই চোখে সেদিন ছিলো প্রতিশোধের আগুন। দরজার সামনে টুকা দিতেই দরজা খুলে দেয়। আমি শূন্য চোখে ভেতরে প্রবেশ করি। বাড়িতে কেউ ছিলো না। একজন স্টাফ ছাড়া পুরো বাড়ি পিন পিন নিরবতা। দরজা খুলে দেখি চাচা উবুর হয়ে ঘুমিয়ে আছে। দরজাটা নিশ্বব্দে লাগিয়ে দেয়। এরপর নিয়ে আসা বাঁধ নিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলি।।লোকটা মদ খেয়ে টাল হয়ে ছিলো।।তাই শুধু উম উম করছিলো। আমি ছুঁড়িটার মধ্যে চুমু খেয়ে ঘুমন্ত চাচার উপর ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। এমনভাবে চেহারাকে বিকৃত করেছিলাম যে কেউ দেখলেও জ্ঞান হারাবে। মনের জেদ আর রাগ মিটাতে টুকরোতে পরিনত করি। গননা করে দেখলাম আশিটা টুকরো। ব্যাস শেষ করেছিলাম একজনকে।।তবে সিক্রেট হলো সেদিন স্টাফটাও আমাকে প্রচুর সাহায্য করেছে।
নিক রাগে চোয়াল শক্ত করে ফেলেছে।।আচমকা এনির বাহু ধরে বলে,
” কোথায় কবর দেওয়া হয়েছে?
এনি পানির দিকে তাকিয়ে বলে,
” পানি খেতে চাই।
নিক এগিয়ে দেয়। এনি ঢকঢক করে খেয়ে বলে,
” কবর দেয় নি। মাংসটা সমুদ্রে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম।আর হাড্ডি গলিয়ে পুতুল বানিয়েছি। যাতে শুয়রের বাচ্চাকে সব সময় আঘাত করতে পারি।।যখন আমি অতিরিক্ত রেগে যায়। তখন রাগ নিয়ন্ত্রন করতে পুতুলের গায়ে আগুনের ছেকা দিতাম।ব্যাস আমার রাগ নিয়ন্ত্রনে চলে আসত।
নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
” ভেরি গুড বেবিগার্ল। আই ফিল সো প্রাউড। এক হাজার চুমু তোমার জন্য বরাদ্ধ করলাম।
এনি শব্দ করে হাসলো। নিক গম্ভীরতা টেনে বলে,
” আমার খুন দেখে ভয় পাও কেনো তাহলে?
” মাতাল আর সজ্ঞান
দুইটা ব্যবধান আছে। আমি তখন প্রতিশোধের নেশায় ডুবে ছিলাম। মারতে হাত কাঁপে নি। কিন্তু যখন সজ্ঞানে আসি তখন বুঝতে পারি কি করেছি।।নিজের হাতকেও ভয়ে পেতে শুরু করি। পাগলের মত অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো আমার। মানসিক রোগীতে পরিনত হয়। তখন থেকে রক্তে আমার ফোবিয়া। রক্ত দেখলে নিজের মধ্যে থাকি না। মানসিক ভাবে মরে যায়। যেমন এখন ধীরে ধীরে মরছি। আঙ্কেলের বাসা থেকে পালিয়ে আসি। রাস্তায় কান্না করছিলাম বসে বসে।হায়রে নিয়তি রাজকন্য কান্না করছিলো পথিকের মত।।সেদিন রাতে নাভিদ ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হয়। উনাকে আমি আগে থেকেই চিনতাম। যখন আমি আরও ছোট ছিলাম তখন প্রায় সময় আমাদের বাড়িতে যেত। আমাকে খুব মায়া করত। বন্ধু ছিলো আমার বলতে গেলে।পাপার সাথেও ভালো সখ্যতা ছিলো। আম্মু প্রচুর ভালোবাসত উনাকে। উনি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গিয়েছিলো ব্যবসার ক্ষেত্রে। আমাকে রাস্তায় দেখে বাসায় নিয়ে আসে। নিজের একজনকে পেয়ে খুব ভালো লাগছিলো। আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। দুই মাস চিকিৎসা দেওয়া হয় আমাকে। সেখানেই নাজলী আপুর সাথে আমার দেখা। বোন হয়ে উঠে আমার। শুরু হয় আমার হাসি – খুশি জীবন, ঠিক আগের মত। কিন্তু কাল -বৈশাখী ঝড়ের মত সব লন্ড-বন্ড করে দিয়েছেন। ইজ্জত বাঁচাতেই সব যুদ্ধ। নিজের বাবা-মাকে হারালাম।।অথচ আজ আমি নিলাম কেন্দ্র থেকে তোলে আনা কারোর রক্ষিতা। আমাকে বিয়ে করেছে ঠিক কিন্তু কোনোদিন স্ত্রী সম্মান দেয় নি। বাবার ছায়া নেই উপরে। সবাই তিলে তিলে কষ্ট দিচ্ছে। কলিজায় ক্ষত হয়ে গিয়েছে। আর পারছি না সহ্য করতে।
এনি ঘন নিশ্বাস টেনে বলে।,
“নিয়তি কেনো আমাকে বার বার নরকে ঠেলে দেয়। কেনো স্বাভাবিক জীবন পার করতে পারছি না আমি। বৃদ্ধ লোকটার অন্যায়?
” তোমার দিকে তাকিয়েছে। মিসেস চিত্রার খুনী। দেয়ালে টাঙ্গানো প্রতিটা বিকৃত শরীর মিসেস চিত্রার খুনীর। যার অন্ডকোষ কাটা হয়েছে সে রে***পিস্ট।
এনি ছটফটিয়ে উঠে,
” ম….মাসিকে রে***প করা হয়েছিলো?
নিক কাঁধ নাড়িয়ে রিভলভারটা টেবিলের উপর রাখে। এনি চোখের পানি ছেড়ে চোখ বন্ধ করে বলে,
” এইভাবে না হোক অন্য ভাবে কোনো একদিন আমিও হারিয়ে যাব। সে….
এনি আর বলতে পারে নি। নিক এনিকে বুকের সাথে ঝাপটে ধরে।।সময় ব্যয় না করে বেরিয়ে যায় টর্চার সেল থেকে। ডিভানের উপর বসে এনির দিকে এক পলক তাকায়। এনি শ্বাস টানছে ঘন ঘন। আচমকা নিক ঝাঁপিয়ে পড়ে এনির দিকে। চুমুর বর্ষন দিতে থাকে পুরো গালে- মুখে। অধৈর্য গ্যাংস্টার বস এক উন্মাদে পরিনত হয়। নিক প্যান্টের পকেট থেকে রিমোট বের করে মিনারের সমস্ত কাউচ নামিয়ে দেয়। কালো শক্ত কাউচ ভেঙ্গে এই মুহূর্তে কারোর আসার ক্ষমতা নেই। নিক এনিকে এক ঝটকায় ঘুরিয়ে ফেলে। কুর্তির ফিতে টান দিয়ে খুলে ফেলে। ফিতে খুলে ফেলাতে অনেকাংশ জায়গা উন্মুক্ত হয়ে যায়। নিক সেখানে পাগলাটে ওষ্ঠ ছেঁয়ায়। ঠোঁট ছুইয়ে ফিসফিস করে বলে ,
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩১
” বলেছিলাম এক হাজার চুমুর বর্ষন পড়বে। আমার এক জায়গায় চুমু দিতে ভালো লাগে না। তাই পুরো সর্বাঙ্গ বেছে নিলাম। কন্ট্রোল হারিয়ে যদি অতিরিক্ত কিছু হয়ে যায় তাহলে ডোন্ট মাইন্ড।
এনি রাগে, ক্ষোভে নিকের বুকে ধ্বাক্কা দিয়ে বলে,
” সেইমল্যাস! কষ্টের অতীত বলেছি। কলিজা ফেটে যাচ্ছে আমার। আর উনি এসেছে বাসর করতে ।স্থান -কালের ঠিক নেই।যেখানে-সেখানে চিতা বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। সরুন উপর থেকে।
এনি নিককে সরিয়ে দিতে দিতে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো। কিন্ত সেটার সুযোগ হয় নি। নিক ওষ্ঠজোড়া আটকে ফেলে। অন্য হাতে বেল্ট দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে।সময় গড়িয়ে যায়। গ্যাংস্টার বসের তীব্র উন্মাদ স্পর্শ প্রতিবারের মত এনি দাঁত চেপে সহ্য করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এত বড় একটা কষ্টের কাহিনী বলেছে। কোথায় একটু কষ্ট পাবে। সেটা না করে ডাইরেক্ট…..
