Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৮+৯

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৮+৯

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৮+৯
উম্মে হাবিবা

~~~ বিয়ে এমন একটা পবিত্র সম্পর্ক যা অচেনা অজানা একটা মানুষের প্রতি হঠাৎ ভালো লাগা ভালোবাসা জন্ম দেয়। সময়ের সাথে সাথে সম্পর্ক গুলোকে নতুন রুপ দেয়। একজনের প্রতি আরেকজনের তৈরি করে বিশ্বাস আস্থা।
প্রতিদিনের মতো খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গে রুদ্রের। সোহা তাকে আঁটোসাটো ভাবে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছে। ইদানীং ঘুমটা যেনো একটু বেশি ভালো হয়৷ যেখানে আগে সারা রাতে দু’ঘন্টা ও ঘুমাতে পারতো না সেখানে আজ কাল বিছানায় গা এলিয়ে দিলেই ঘুম চলে আসে৷ এটাকি এই শ্যামলতার জন্য । মেয়েটা তাকে কেমন দিন দিন পরিবর্তন করে দিচ্ছে। কে জানতো রুদ্রের মতো এমন গম্ভীর স্বভাবের একজনের মতো ভালোবাসার অনুভূতি নিয়ে আসবে।
সকালে সবাই একসাথে বসে নাস্তা করছে। এই জিনিসটা সোহার ভালো লাগে। দুপুরে সবাই একসাথে খেতে না পারলেও সকালে আর রাতে সবাই এক সাথে খাবার খায়।

রুদ্র খাবার শেষ করে উঠে দাঁড়ায়।সোহার দিকে তাকিয়ে বলে_
তারাতারি খাবার শেষ করে তৈরি হয়ে নাও। আমি বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে পারবো না।
সোহা মনে মনে বলে শালার জিন্দেগী। কে বলছে উনাকে অপেক্ষা করতে। আমি যাবো না কলেজে।
কি বলেছি শুনতে পাও নি? তারাতারি এসো।
সব সময় এমন ধমকাও কেনো? ওকে নিয়ে কোথায় যাবে? জিজ্ঞেস করলেন রেদেওয়ান মেহতাব।
কলেজে যাবে ও, বিয়ে হয়েছে বলে কি পড়া শুনা বাদ দিয়ে দিবে। আমি একজন প্রোফেসর আর আমার বউ হবে অল্প শিক্ষিত এটা তো মানা যায় না।
বলেই রুদ্র গটগট শব্দ করে বাহিরে চলে যায়।
সোহা দৃষ্টি অসহায় করে দাদা আশরাফ মেহতাবের দিকে তাকায়।
এভাবে তাকিয়ে লাভ নেই নাত বউ। এই বেপারে আমি আমার নাতির পক্ষে। ঠিকিতো সবাই বলবো রুদ্রের বউ পড় শুনা জানে না।

এবার রেদওয়ান আর রুনিয়া মেহতাবের দিকে তাকায় সোহা।
শুনো মেয়ে তোমাকে আগেই বলেছি এই বাড়িতে রোদ যেভাবে থাকে তুমি ও সেই ভাবেই থাকবে। বিয়ের পর বাড়ির বউকে পড়াশুনা করতে বাধা দিবো এমন শাশুড়ী আমি নই।
সবার থেকে হতাশা ভরা উত্তর পেয়ে সোহা বুঝে যায় আর কিছু করার নেই তাকে পড়াশুনা চালুয়ে যেতে হবে।
একটা হালকা মিষ্টি কালারের জামা পরে বাহিরে এসে দেখে রুদ্র দাঁড়িয়ে আছে।
আপনি যাননি এখনো।
আমার কি চলে যাওয়ার কথা ছিলো?
না আপনি তো কাল রাতে বলেছিলেন যে আমাদের ব্যাপার টা যেনো কলেজের কেউ না জানে।
তো?

তো আপনি চলে যান আমি অটো করে চলে যাবো।
প্রয়োজন নেই কলেজ গেইট এর আগে নামিয়ে দিবো উঠে পড়ো।
সোহা বলার মতো আর কিছু খুঁজে পায় না।
পুরো রাস্তা তাদের মাঝে তেমন কথা হয় না। কলেজের কিছু আগে সোহা নেমে পড়ে আর রুদ্র চলে যায়।
এহ আমাকে এখানে নামিয়ে দিতে হবে। আমাদের বিয়ের কথা সবাই জানলে কি এমন হবে! নিজেকে সবার সামনে সিঙ্গেল দেখাতে চায়। যাতে মেয়েরা বেশি বেশি ক্রাশ খায়।ক্রাশ না গু খাবে গু।হায় আমার পোড়া কপাল এমন হ্যান্ডসাম বর পেয়েও সবাইকে দেখিয়ে ভাব দিতে পারতেছি না।
এসব বিরবির করতে করতে কলেজের ভিতরে চলে আসে।
হঠাৎ কারো সাথে জোরে ধাক্কা লাগে।
Oh, I’m sorry! I didn’t see you there
সোহা তাকিয়ে দেখে একজন অপরিচিত ব্যক্তি ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে আছে।কালো শার্ট কালো প্যান্ট চোখে কালো সানগ্লাস একদম ফরমাল ভাবে। সোহা তার দিকে তাকিয়ে বলে_

It’ ok
তখনি রাইসা এসে হাজির হয়। সোহার পিঠে ঠাস করে একটা থাপ্পড় দিয়।আচমকা এমন হওয়াতে সোহা ব্যথা পেয়ে পাশে ফিরতেই দেখে রাইসা দাঁড়িয়ে তারদিকে তাকিয়ে বেকুবের মতো হাসছে।
এমন বেআক্কেলের মতো কাজ করআে ছাড়বি তুই।
ছাড়বো একদিন আগে ভাইয়ার সাথে তো পরিচিত হই।
রাইসা ভেবেছে সামনে দাড়ানো অপরিচিত ব্যক্তি সোহার হাজবেন্ড।
ভাইয়া মানে?
তুই চুপ করে।
এই দিকে সামনে দাঁড়ানো ব্যক্তি এসবের কিছুই বুঝতে পারছে না।
আস-সালামু আলাইকুম দুলাভাই আমি রাইসা।
দুলাভাই ডাক শুনে সামনের লোকটা ভেবাচেকা খেয়ে যায়।
কেমন আছেন ভাইয়া।
জ্বি আলহামদুলিল্লাহ। আপনি?
আমিও বেশ ভালো আছি৷

এইদিকে সোহা রাইসার ভুল বুঝতেপেরে ওকে নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেয়।
এমন করছিস কেনো তুই সোহা?দেখেছেন ভাইয়া আমাকে আপনার সাথে পরিচয় করাতে চাচ্ছে না।
এতক্ষণে লোকটা বুঝতে পারে রাইসা নামে মেয়েটা ভাবছে সে তার বান্ধবীর বয়ফ্রেন্ড বা অন্য কিছু৷ সে সোহার দিকে তাকায় একটা বিরক্ত ভরা মায়াবি মুখ।
এইদিকে সোহা লোকটার দিকে তাকিয়ে একটা বোকা হাসি দিয়েরাইসাকে টেনেটুনে নিয়ে আসে।
পাগল তুই কি করছিলি এসব?
তুই এমন করছিস কেনো, তোর জামাইয়ের সাথে শুধু পরিচিত হচ্ছিলাম আমি অন্য মেয়েদের মতো বান্ধবীর জামাই নিয়া টানাটানি করতাম না বোইন। জামাই সুন্দর দেখে এমন করছিস?
আরে বোইন কার জামাই কিসের জামাই? আমি ঐলোক টাকে চিনিও না আজকেই প্রথম দেখলাম।
কিহ!

রাইসা জোরে বলে উঠে।
তাহলে তুই ঐ লোকটার সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি কথা বলতে ছিলি।
তুই গাদা আর সব সময় গাদাই থেকে যাবি আরে ঐ লোকটার সাথে হঠাৎ ধাক্কা লাগায় লোকটা আমাকে সরি বলছিলো।
রাইসা এবার সবটা বুঝতে পেরে সোহার দিকে তাকিয়ে একটা বোকা বোকা হাসি দেয়। লোকটাকে তোর সাথে কথা বলতে দেখে আমি ভেবেছিলাম__
তোর এসব ভাবা ভাবি কবে বন্ধ করবি,, আর যাকে তাকে আমার জামাই বানানো।
সরি ডার্লিং ভুল হয়েগেছে এবার চল ক্লাসে।
হুম চল।
তবে যাই বলিস লোকটা কিন্তু হ্যান্ডসাম আছে।
আবার!

আচ্ছা সরি আর বলবো না।
এই দিকে সেই অপরিচিত ব্যক্তি সোহাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। তার হাতে থাকা ফোনটা তখন থেকে ভাইব্রেট হয়ে যাচ্ছে।
হাতের দিকে তাকিয়ে কলটা রিসিভ করে কথা বলতে বলতে সে ও চলে যায়।
দোতলায় নিজের কেবিনের সামনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে একজন সব কিছু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তে দেখছিলো।
তার হাতের মুঠো খানা শক্ত হয় কপালের রগ ফুলে উঠে।
সোহা আর রাইসা বসে কথা বলছে তখনি প্রিন্সিপাল রুমে আসেন।
সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে পড়ে।
এই দিকে প্রিন্সিপালের সাথে তখনকার অপরিচিত ব্যক্তি কে দেখে দুজনেই চমকে যায়।
এই সোহা উনি এখানে কেনো?
আমাকে কি তোর সব জান্তা মনে হয়। আমি কিভাবে জানবো।
Hello everyone, please pay attention. This is Mr. Rafin Ahmed, your new ICT teacher. He will be taking your classes from today onwards. I hope you will enjoy learning from him

সবাই একসাথে Yes sir বলে।
আর এই দিকে সোহা আর রাইসা একে অপরের মুখের দিকে তাকায়।
রাফিনের চোখ যায় তৃতীয় নাম্বার টেবিলে বসা সোহার দিকে। তার পর চোখ সরিয়ে সবার দিকে তাকিয়ে বলে __
আস-সালামু আলাইকুম সবাইকে। আমি রাফিন আহমেদ। আশা করি আপনাদের সাথে__
আর কিছু বলার আগেই ক্লাসে রুদ্র প্রবেশ করে। সে প্রিন্সিপালের দিকে তাকিয়ে তাকে সম্মান জানিয়ে জিজ্ঞেস করে
স্যার আপনি এখানে।
আরে রুদ্র যে সরি তোমার ক্লাসের সময় চলে আসলাম। মিস্টার রাফিন উনি মিস্টার রুদ্র এখানকার ইংরেজি শিক্ষক। আর রুদ্র ও রাফিন এখন থেকে এদের ICT পড়াবে পাশাপাশি কম্পিউটার শিখাবে।
রাফিন হাসি মুখে হ্যান্ডশেক করার জন্য সামনে হাত বাড়ায়।
হ্যালো বলে তবে রুদ্রের মুখটা ভিষন গম্ভীর রেখেই সামান্য মাথা দুলিয়ে হাত মিলায়।
স্যার এখন আমার ক্লাস তো প্লিজ_
প্রিন্সিপাল হেসে বলে __
আচ্ছা তুমি ক্লাস নাও রাফিন আমার সাথে এসে।

রাফিন বেরিয়ে যাওয়ার সময় ও সোহার দিকে তাকিয়ে মুচকি একটা হাসি দেয়। যা রুদ্রের চোখ এড়ায় না।
এই দিকে ক্লাসের কিছু মেয়ে বলা বলি করছে__আমাদের ক্লাসে এখন দুইদুইজন হ্যান্ডসাম স্যার আছেন রাফিন স্যার ও মনে জয় সিঙ্গেল আর রুদ্র স্যার তো আগে থেকেই সিঙ্গেল। পাশ থেকে আরেকজন বলে, তবে য়াই বলিস রুদ্র স্যারের সাথে কিন্তু তুলোনা হয় না। উনি এক পিচ। জানিনা কোন ভাগ্যবতী নারী পাবে উনাকে।
এসব শুনে সোহার গা জ্বলে যাচ্ছে মনে মনে বলছে। ওরে শাঁকচুন্নির দল ঐ একপিচ আমার । তোদের ডাইনি মার্কা নজর সরা উনার থেকে।এক মিনিট আমিতো উনাকে ভালোবাসি না তো আমার এমন জ্বলছে কেনো? সোহা এসব ভাবছে তখনি একটা গম্ভীর আওয়াজ ভেসে আসে
সবাই এখনো দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? আপনাদের কি ক্লাস করার ইচ্ছে নেই।
রুদ্রের কথায় সবাই বসে পড়ে আর রুদ্র ক্লাস নিতে থাকে। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে সোহাকে দেখছে। কয়েকবার চোখা চোখি হলে সোহা আর লজ্জায় তাকায়নি। রাইসা সোহার পেটে গুতা মেরে বলে।এই সোহা তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে ভুলে গেছি।

এখন না ক্লাস শেষে বলিস।
না এখন না বলতে পারলে আমার পেট পেটে যাবে।
উফ আচ্ছা বল তবে আস্তে আস্তে।
বলছি তুইতো দুলাব্রো এর ছবি নাম কিছুই দেখাসও নি বলিস ও নি।
সময় হলে দেখাবো।
সময় হলে মানে! এখন কি সমস্যা?
এখন দেখালে তুই হার্টঅ্যাটাক করবি।
মানে?
এতো মানে মানে করিস না ঐটা সারপ্রাইজ ঠিক সময় পেয়ে যাবি।
আচ্ছা ঠিক আছে নাম টা তো বল।
নাম বলা যাবে না।
উফ আচ্ছা কি করে দেখতে কেমন এটা তো বলতেই পারিস। সোহা রুদ্রের দিকে তাকায় তার পর মুখটা দুঃখী দুঃখী বানিয়ে বলে _

পেশায় কসাই কালো ইয়া বড় ভুরি জল্লাদের মতো গোফ আর গা থেকে সব সময় কেমন বিশ্রী গন্ধ আসে। আমি তো কাছেই যাই না ঐ গন্ধে।
কি বলিস তোর বাড়ির লোক এমন একজনপর সাথে তোর বিয়ে কি করে দিলো।
কিছু করার নাই আমি কালো তো তাই দিয়েদিয়েছে।
কে বলছে তুই কালো।তোর চেহারায় যে মায়া তা ঐ বেশি দলা মাইয়াগো চেহারায় ও নাই।
সোহা কিছু বলবে তার আগেই।
আপনারা দুজন কি ক্লাসে গল্প করতে এসছেন? সোহা আর রাইসা দুজনেই ভয় পেয়ে যায়।
বলুন আমি কোন টপিক নিয়ে পড়াচ্ছিলাম?
দুজনেই চুপ কারণ তারাতো মনযোগই দেয় নি। রুদ্র এবার জোরেই বলে,
কি হলো বলছেন না কেনো?
তখন ও দুজন চুপ

রুদ্র এবার ধমক দিয়ে বলে__আপনারা কি পড়াশুনা করতে আসেন নাকি গল্প করতে আসেন। আপনারা দুজন পুরো ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকবেন।
সোহা অসহায় দৃষ্টিতে রুদ্রের দিকে তাকায় তবে রুদ্র সে দিকে আর না তাকিয়ে ক্লাস করাতে থাকে।
সোহার খারাপ লাগছে ভিষন। কই আগেও তো অনেক বার বকা খেয়েছে তখন তো এতো খারাপ লাগা কাজ করেনি।
একটা সময় রুদ্র দেখে সোহার চোখে পানি টলমল করছে। সে বুঝতে পারে তার এইভাবে রিয়েক্ট করা উচিত হয় নি।
বসে পড়ুন আপনারা। রাইসা সাথে সাথে বসলেও সোহার সেইদিকে কোনো হুশ নেই। তাই রাইসা টেনে বসিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করবে তার আগেই দেখে সোহার গাল বেয়ে দু ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ছে।
কলেজ শেষে রাইসা আর সোহা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে।
তোকে কেউ নিতে আসবে না একাই যাবি।
আমি চলে যাবো তুই যা।
আচ্ছা তাহলে বাসায় যেয়ে কল দিস কেমন।
সোহা মাথা নাড়ে। রুদ্র সকালে বলেছিলো যাতে বাহিরে তার জন্য অপেক্ষা করে তবে ক্লাসের গঠনা মনে পড়তেই মনে রাগ জন্ম নেয়।

সোহা হাটছে হঠাৎ পাশ একটা কালো গাড়ি এসে থামে। সোহা জানে গাড়ি টা কার তবুও সে হাটা থামাচ্ছে না। রুদ্র ভিতর থেকে বলে উঠে__
উঠে এসো।
তবে সোহা সেসবে পাত্তা না দিয়ে সামনের দিকে হাটছে।
রুদ্র এবার গাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সোহাকে টেনে জোর করে গাড়ির ভিতরে নিয়ে যায়। আর দরজা লক করে দেয়।
দরজা খুলে দিন আমি আপনার সাথে যাবো না।
তবে রুদ্র কোনো কথা না বলে সামনের দিকে তাকিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে।
কি হলো আপনাকে কি বলছি শুনতে পাচ্ছেন না।
রুদ্র এবার গাড়ি থামিয়ে সোহার দিকে তাকিয়ে বলে __
তোমাদের বাড়ি যাচ্ছি একটু আগে তোমার বোন কল দিয়েছে।
সামিয়া কল দিয়েছে? কিন্তু ও আপনার নাম্বার কিভাবে পেলো।
তোমাকে অনেক বার কল দিয়েছে তুমি না ধরায় তোমার বাবার কাছ থেকে আমার নাম্বার নিয়ে কল দুয়েছে একটু আগে।

ঐ আমার ফোন বাসায় রয়ে গেছে নিয়ে আসি নি। কিন্তু ও কেনো কল দিয়েছে আর আমরা ঐবাড়ি কেনো যাচ্ছি এখন।
গেলেই দেখতে পাবে।
সোহা আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। সে ভাবছে কারো আবার কিছু হলো না তো আবার।
গাড়ি এসে থামে সোহাদের বাসার সামনে। বেল বাজালে সামিয়া দরজা খুলে দেয়।
সে সোহাকে দেখেই খুশিতে জড়িয়ে ধরে।
কেমন আছো আপু?
ভালো,,তুই কেমন আছিস?
ভালো ছিলাম তবে তোমাকে দেখে এখন ভিষন ভালো।
সোহা হাসে,তার ছোট বোনটা তাকে ভিষন ভালো বাসে।
শুধু বোন কে দেখেই খুশি হয়েছো পিছন থেকে রুদ্র বলে।
আরে ভাইয়া যে আপনাকে দেখেতো ডাবল খুশি হয়েছি৷
সোহা আর রুদ্র বাসার ভিতরে আসে।
আম্মু জোথায় সামু আর বাড়ির সবাই কোথায় কাউকে দেখছি না কেনো,?
আব্বু আর বড়আব্বু গিয়েছে থানায় আম্মু বড়আম্মু আহিয়া সবাই তমাল ভাইয়ের রুমে সাথে ফুফু আর মাইশা আপু ও আছে।

সোহার ভ্রু জোড়া কুঁচকে যায় তবে শান্ত ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করে__
সবাই ঐ রুমে কেনো?
যাও গেলেই দেখতে পাবে। ভাইয়া আপনিও চলুন।
রুদ্র একটু হাসে তার পর ওদের সাথে যেতে থাকে। সোহার যদিও যে মোটেও ভালোলাগছে না শুধুমাত্র কৌতুহল বসতো যাচ্ছে।
সামিয়া রুদ্রকে ফিসফিস করে বলে,,ভাইয়া শুনেন আপনাকে একটা বিষয় জানিয়ে রাখি।
রুদ্রও সেম ভাবে ফিসফিস করে বলে__ কি বলে ফেলো।
ঐরুমে একটা ডাইনি আছে। দেখতে সুন্দর হলেও মনটা কালা। আপনি কিন্তু ভুলেও তাকাবেন না। আমি কিন্তু নজর রাখবো আপনার দিকে।
রুদ্র অবাক হয়ে তাকায় সামিয়ার দিকে তার পর বলে __ আরে শালি সাহেবা আমার তো বউ আছে অন্য মহিলার দিকে কেনো তাকাবো?
ঐটা মহিলা না ভাইয়া ঐটা একটা ডাইনি। অনেক সুন্দরি তবে আমার আপুর মতো মায়াবি না। ওর চুলগুলো ঘোড়ার লেজের মতো। আমার আপুর গুলা কালো কতো সুন্দর।
আপনি যদি ঐ ডাইনির দিকে তাকান বা তাহলে আমার বোনকে আপনার সাথে আর যেতে দিবো না আমি।
রুদ্র হাসে সামিয়ার বাচ্চা বাচ্চা কথায়।
দরজা ঠেলে কারো প্রবেশের শব্দে সবাই ঘুরে তাকায় সে দিকে। দরজায় সোহা দাঁড়িয়ে। তার পাশে রুদ্র আর সামিয়া।

মাইশার চোখ আটকে যায় সোহার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন পুরুষ টার দিকে। নাজমা বেগম ও অবাক হয়। এর আগে তারা সোহার হাজবেন্ড কে দেখেনি তাই দুজনেই অবাক।
লামিয়া বেগম খুশি হয়ে এসে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে।
সোহা তাকিয়ে দেখে তমালের দুই হাত ব্যান্ডেজ করা। এখানে কি হয়েছে আম্মু।
জানি না রে মা কালকে তমাল সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বলে গেলো রাতে বাসায় আসবে না বন্ধু দের সাথে পিকনিক করবে রাতের বেলা। তাই আমরাও আর কেউ টেনশন করি নি। কিন্তু আজকে সকালে কে বা কারা জানি ওকে বাসার সামনে পেলে যায়।আমরা যখন দেখি ওর দুই হাত পুড়ে গেছিলো।
ওর কোনো জ্ঞান ছিলো না।
রুদ্র এগিয়ে এসে তমালের দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দেয়। তারপর বলে__কি হয়েছে তোমার সাথে বলো।

তমাল একটু ইতস্তত করে বলে__ রাতে আসার কথা ছিলো না। তাই এক বন্ধুর বাসায় যাওয়ার জন্য দুজনে রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম তখন হঠাৎ একটা গাড়ি এসে আমাকে কালো একটা কাপড় মুখে পেছিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়।আমি একটু পরেই জ্ঞান হারাই। যখন জ্ঞান ফিরে আমি দেখি একটা অন্ধকার রুমে আমি। তখন একজন মাক্স পরা লোক আসে। কি সব অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বললো।
রুদ্র বলে কেমন কথা?
এই যেমন সে আমার কে আমি জানি না, তবে তার দিকে যে তাকাবে তাকেও বাঁচিয়ে রাখবো না। তবে আমি এসব কিছুই বুঝিনি।
তার পর?

তারপর মোটা মোটা দুইটা লোহার পাত আগুনে পুড়ুয়ে আমার হাতে চেপে ধরে। যন্ত্রণায় আমি আবার জ্ঞান হারাই আর যখন জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হসপিটালে। একটু পরেই আব্বু আর চাচ্চু মিলে বাসায় নিয়ে আসে। তাদের ধরনা হসপিটালে আমি সেইফ না।
সেইফ তো তুমি বাড়িতেও না।
কিবললেন আপনি?
না না বলেছি তুমি হয়তো কাউকে ধোকা দিয়েছো আর তার কোনো আপন লোক বদলা নিচ্ছে?
তমাল সাথে সাথে সোহার দিকে তাকায়।তার পর একটু তোতলিয়ে বলে__
ন-না এমন কেউ নেই যাকে ধোকা দিয়েছি।
আম্মু আমি আমার রুমে যাচ্ছি এটা বলেই সোহা বেরিয়ে যায়।রুদ্র তখন বলে_ আমার মনে হয় তমালের রেস্ট প্রয়োজন।

সবাই একে একে বের হয়ে যায়। রুদ্র তমালের দিকে একটু ঝুঁকে বলতে থাকে__
সব কিছুর একটা কারণ থাকে যা তোমার কাছে ফেলনা তা অন্য কারো কাছে সবচেয়ে দামি।
তমাল কিছু বুঝতে না পেরে তাকিয়ে থাকে হঠাৎ তার নজর যায় রুদ্রের হাতের ঘড়ি খানার দিকে। তার মনে হয় এটা সে আগেও দেখেছে, কিন্তু কোথায় দেখেছে সেটা মনে করতে পারছে না। রুদ্র বেরিয়ে যেতেই মাইশা তমাল কে বলে__
এটা সোহার হাজবেন্ড?
হুম।
নাম কি ওর।
রুদ্র,,কিন্তু তুমি কেনো জানতে চাচ্ছো?
এমনি,বিশ্বাস হচ্ছে না ওর মতো একটা মেয়ে এমন একজনকে ডির্জাব করে না।।
এটা তো ঠিক বলেছো, তবে দেখো হয়দিন রাখে।
আচ্ছা তুমি থাকো আমি একটু আসছি।
তুমি কোথায় যাও, এখন তো সবাই চলে গেছে একটু কাছে আসো।
আমি এখনি আসছি।
এটাবলেই তমাল কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বেরিয়ে যায়। রুদ্রের সামনে গিয়ে তার দিকে হাত বাড়িয়ে বলে__

হাই রুদ্র আমি মাইশা।
তুমি মাইশা তো আমি কি করবো? আমি জিজ্ঞেস করেছি তোমাকে?
তুমি মনে হয় আমাকে চিনতে পারো নি আমি সোহার কাজিন।
তুমি সোহার কাজিন, বিশ্বাস হচ্ছে না।
হ্যাঁ না আসলে হঠাৎ দেখলে কেউ বিশ্বাস করতে চায় না আসলে সোহা তো কালো আর আমি ফর্সা তাই। ওর থেকে আমি সব কিছুতে এগিয়ে তার জন্যই হয়তো।
কিন্তু আমি ভাবছি তোমার মতো একটা চিপ ক্যারেক্টারের মেয়ে,,সোহার কাজিন হয় কিভাবে।
তুমি কিন্তু আমাকে অপমান করছো।
প্রথমত তোমার মতো মেয়ের সাথে কথা বলতেও আমার ঘৃণা হচ্ছে আর দ্বিতীয় আমি তোমার বড় তাই তুমি না আপনি করে বলতে শিখুন।
অপমানে আর রাগে মাইশা ফেটে পড়ছে চলে যাওয়ার জন্য সামনে তাকাতেই দেখে সোহা বাহিরে আসছে। তাই সে ইচ্ছে করেই রুদ্রের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয়। সোহার সে দিকে নজর পড়তেই মাইশা তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে থাকে__
ছাড়ুন রুদ্র আপনি সোহার হাজবেন্ড আপনি এই ভাবে আমার সাথে জোর করতে পারেন না।
রুদ্র রেগে নিজের হাত ছাড়িয়ে মাইশাকে থাপ্পড় বসাবে তার আগেই সোহা রুদ্রের হাত ধরে ফেলে।রুদ্র সোহাকে দেখে অবাক হয়। আর ভাবে এই মেয়েটা আবার আমাকে ভুল বুঝলো নাতো। রুদ্র সোহাকে কিছু বলার চেষ্টা করে

সোহা আমি ___
কথা শেষ করার আগেই ঠাস করে একটা শব্দ হয়। মাইশা গালে হাত দুয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রুদ্র অবাক চোখে সোহার দিকে তাকায়। মাইশার হাত ধরে সোজা তমালের রুমে নিয়ে যায় সোহা।
জোরে দরজা খোলার শব্দ পেয়ে তমাল সেদিকে তাকায়। সোহা মাইশার হাতখানে জোরে মুচড়ে ধরে একটা ধাক্কা দেয়।
কি হচ্ছে কি এসব?তমাল রেগে জিজ্ঞেস করে।
তোমার এই ক্যারেক্টারলেস প্রেমিকা কে সামলাও। এর পর থেকে যদি কখনো আমার হাজবেন্ড এর আশে পাশেও ওকে দেখি কসম করে বলছে আমি সোহা নিজের সব থেকে ভয়ানক রুপটা ওকে দেখাবো।
মাইশা ন্যাকা কান্না করে বলে __ বিশ্বাস করো তমাল আমি কিছুই করিনি আমি আম্মুর কাছে যাচ্ছিলাম তখন সোহার হাজবেন্ড আমার সাথে কথা বলতে চায় আমার হাত ধরে পেলে আমি ছাড়াতে চাই কিন্তু সোহা এসে নিজের হাজবেন্ড কে কিছু না বলে আমাকে মারতে থাকে।
রুদ্র রেগে বলে__বেয়াদব মেয়ে আর একটা মিথ্যা বললে চেহারার মানচিত্র বদলে দিবো। তমাল নিজের প্রমিকা কে সামলাও যে যার তার জিনিসের উপর নজর দিয়ে বেড়াচ্ছে।
তমাল আমি সত্যি বলছি। তমাল সোহার দিকে তাকিয়ে বলে _
এসব তুই ইচ্ছে করে করছি আমি জানি না ভেবেছিস৷ কেনো এসেছিস এখানে আমাকে দেখতে এসেছিস দেখা শেষ এবার যা?

সোহা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে তার পর তমালের দিকে তাকিয়ে বলে__
কিছু মানুষের প্রতি ঘৃণার পরিমান এতে বেশি যে আমার সামনে যদি তাদের কুকুরেও খায় স্বাদ বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আমি লবন ছিটিয়ে দিবো।
এটা বলেই সোহা রুদ্রের হাত ধরে ঐ রুম থেকে বেরিয়ে সোজা নিচে আসে।
লামিয়া বেগম তাদের জন্য খাবার রাখছে টেবিলে। সোহা আর রুদ্রকে দেখে বলে।
এসে গিয়েছিস, বস চমি খাবার দিচ্ছি।
তার প্রয়োজন নেই আম্মু আমরা এখনি চলে যাবো।
এখনি কিন্তু কেনো।
সোহা কি বলবে ভেবেপায় না। রুদ্র বুঝতে পেরে বলে__
আসলে আমার জরুরি কাজ আছে আন্টি তাই।
কিন্তু বাবা খাবার টা খেয়ে যাও।
অন্য একদিন আন্টি।
এটা বলে রুদ্র আর সোহা বেরিয়ে আসে। সোহা সোজা গিয়ে গাড়িতে বসে। মাইশার রুদ্রের হাত ধরেছে এই দৃশ্য টা মনে পড়তেই রাগ যেনো কয়েকগুন বাড়ছে । রুদ্র গাড়িতে বসবে তখনি সামিয়া আসে রুদ্র কে ডাক দেয়।
ভাইয়া একটু একিকে আসুন।

আমি দেখিছি তখনকার সব কিছু। আমার আপি খুব ভালো প্লিজ আমার আপুকে কখনো কষ্ট দিয়েন না।
রুদ্র সোহার দিকে তাকায়।তারপর সমািয়াকে বলে চিন্তা করো না তোমার আপু ভালো থাকবে।
গাড়ি চলচে আপন গতিতে। সোহা একটু পর পর চোখ মুচতেছে।

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ৭

আর রুদ্র আড় চোখে তা দেখছে। আর তখনকার রনমূর্তি রুপের কথা মনে পড়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
কি সমস্যা আপনি হাসছেন কেনো আর এটা কোন জায়গা? বাসায় নিয়ে চলুন আমাকে
রুদ্র গাড়িটা একটা নদীর পাড়ে নিয়ে এসেছে। জায়গাটা বেশ শান্ত আর নিরিবিলি।
রুদ্র সোহার দিকে তাকিয়ে তার চোখের পানি মুছে দেয় তারপর হাতদুটো নিজের হাতের মুঠোয় নেয়। সোহা নিরবে এসব দেখছে__

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১০