লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৪০
লিজা মনি
” বাবা হতে চাই আমি ব্লাড রোজ। সন্তান চাই আমার।
এনির চোখ দুইটা পানিতে টুইটুম্বুর করে উঠে। ঠোঁট ভিজিয়ে কাঁপা গলায় বলে,
” আমি আপনার সন্তান চাই না। রাখতে চাই না আমার গর্ভে।
নিক গম্ভীর গলায় বলে,
” তোমার উত্তর চাই নি আমি।
এনি ভাঙ্গা গলায় বলে,
” এমন করবেন না প্লিজ । যদি বাবা হয়েও যান তাহলে পরিচয় কি দিবেন সন্তানের সামনে। বাচ্চা বড় হলে জানবে বাবা একজন ক্রিমিনাল, খুনী। যার নিজের জীবনের নিশ্চয়তা নেই সে নিজের বাচ্চার জীবনের নিশ্চয়তা কিভাবে দিবে।এই নরকে আমি আমার সন্তান বড় করব না। আমাকে যেভাবে চার দেয়ালে বন্ধী রেখেছেন তাকেও সেইমভাবে বন্ধী রাখবেন? সন্তান জন্ম দিয়ে, আপনার শত্রুদের কারনে নিজের সন্তানকে হারাতে পারব না। তার থেকে বরং নিশ্বন্তান থাকা ভালো। কোনো পিছুটান থাকবে না আমার। আমি বাচ্চা চাই না নিক জেভরান। এই অন্ধকার দুনিয়ার সাথে আমি আমার সন্তানকে সাক্ষ্যাত করাতে চায় না।
নিকের মুখাবয়বে ধীরে ধীরে রূপান্তর ঘটতে থাকে। কঠোরতা যেন আরও ধারালো হয়ে উঠে তার প্রতিটি রেখায়। এক মুহূর্তের ব্যবধানে পুরুষটির মুখমণ্ডল রক্তিম আভায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। ধূসর চোখদ্বয় এমন ভয়ংকর দীপ্তি ধারণ করে যে, মনে হয় চোখের পাতা নামলেই রক্ত ঝরে পড়বে।
এনি শুকনো কণ্ঠে ঢোক গিলে পিছু হটতে চাইলে মুহূর্তেই গ্যাংস্টার বসের নিষ্ঠুর থাবার মুখোমুখি হয়। নিক হঠাৎ করে এনির দুই বাহু দৃঢ়ভাবে চেপে ধরে।এমন শক্তিতে যে পালানোর সব পথ মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘন ঘন নিঃশ্বাস টানতে টানতে সে ভারী স্বরে বলে,
” হোয়াই ডু আই কিপ গেটিং ফ্যামিলিয়ার উইথ অল দিজ ফাকিং ইমোশনস অ্যান্ড ডিফিকাল্ট থিংস এগেইন অ্যান্ড এগেইন? এমন জীবন কেনো দেওয়া হলো আমাকে। ডু ইউ নো হোয়াট দ্য বিগেস্ট ট্রুথ ইজ? সেটা হলো আমাদের মত পাপীদের কোনো সংসার থাকে না। তাদের কোনো পরিবার থাকে না। তারা শুধুমাত্র তাচ্ছিল্যতা ডিজার্ব করে। বাহ্যিকভাবে সবাই ভয় পেলেও সবার কাছে তুচ্ছ। আজ মরি কেউ এক ফোটা চোখের পানি ফেলবে না। কেউ আফসোস করবে না কেনো মরে গেলো। বরং আর ও খুশি হবে একটা জানোয়ার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আর সব থেকে বেশি খুশি তুমি হবে। কিন্তু আমি তো এমন জীবন চায় নি। বাবা -মায়ের কোলে তো মানুষ হচ্ছিলাম। ক্রিকেটের দিকে ঝোঁক ছিলো আমার সব থেকে বেশি। আমার পছন্দের পেশা ক্রিকেট। ভেবেছিলাম বড় হয়ে ক্রিকেটার হব। তাহলে কেনো সব পাল্টে গেলো? ক্রিকেটার থেকে একজন কারাদন্ড খুনের আসামী। ক্ষমতা যদি আমার না থাকত তবে আমার স্থান হত জেল। সব থেকে কঠিন থেকে কঠিন সাজা আমার হত। কেনো আমার জন্মদাত্রী এতটা হিংস্র হলো আর আমাকে অমানুষে পরিনত করলো। ওই মহিলা আমার সব ধ্বংস করে দিয়েছে। আমার বাবা, দাদা -দাদু, বোন সবাইকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সর্বশেষ আমাকে ও পাপের দিকে ঢেলে দিয়েছে। আমি মনে হয় এমন এক পাপী যার হাত নিজের মায়ের রক্ত দিয়ে রাঙ্গানো। কিন্তু সে আমার মা নয়। কোনো চরিত্রহীন নারী আমার মা হতে পারে না। সংসার করার মত পুরুষ আমি নয়। সেটা আবার ও মনে করিয়ে দিলে। মনে করিয়ে দিলে আমাদের মত পাপীদের আপন বলতে কেউ থাকতে পারবে ণ।
নিক থামে….
” আমি নিজেকে বেশি প্রটেক্ট করার আগে তর প্রোটেকশন নিয়ে উন্মাদ হয়ে থাকি। আমি মরলে হয়ত খুশিতে আত্নহারা হয়ে যাবি। বাট ট্রাস্ট মি বেবিগার্ল। আমি ছাড়া তর কোনো গন্তব্য নেই। আমি সামান্য চোখ বন্ধ করে নিজের সর্বস্ব তুই হারিয়ে ফেলবি। দুই মিনিট ও টিকে থাকবি না। প্রথমে হারাবি সম্মান এরপর প্রান। এই যে আশে -পাশে আমার শত্রু দেখতে পাচ্ছো। এদের প্রতিটা ব্যক্তির টার্গেট তুমি। আমার একমাত্র দুর্বলতা। কারন দুর্বলতায় আঘাত করলে নিক জেভরান ভেঙ্গে যাবে।
এনি এতক্ষণ নিকের কথাগুলো শুনছিলো। মনে হচ্ছিলো কেউ যেন সূচ দিয়ে আঘাত করছে। হঠাৎ থমকে যায় সে।এনি অস্ফুর্ত আওয়াজে বলে,
” দুর্বলতা! আমি আপনার দুর্বলতা? যদি দুর্বলতা হয় তাহলে এত টর্চার কেনো করেছেন? কেনো পুরো দুনিয়ার সামনে অপমানিত করেছেন? আমাকে রক্ষিতার পরিচয় কেনো দিয়েছেন সবার সামনে?
নিক চোয়াল চেপে ধরে দাঁত পিষে বলে,
” রক্ষিতা হিসেবে না কিনে যদি সেদিন বউ বানিয়ে নিয়ে আসতাম, কি মনে হয় আসতে দিত তোমাকে?
এনি মনে করতে থাকে সেদিনের কুৎসিত ঘটনা গুলো। যে গুলো মনে হলে তার অন্তর আত্না পর্যন্ত কেঁপে উঠে। নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
” আমাকে নিলামে তো আপনারাই তুলেছিলেন।
নিক রাগে শার্টের বোতাম দুইটা খুলে ফেলে। শক্ত কন্ঠ বলে,
” ইট ওয়াজ টেকেন অ্যাট দ্য অকশন সেন্টার ইন মাই অ্যাবসেন্স।
এনি অস্থির হয়ে উঠে। সবটা জানার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে উঠে। আচমকা নিকের হাত ধরে ব্যাকুল কন্ঠে বলে,
” প্লিজ সবটা বলুন। আমাকে ইরান থেকে আফ্রিকায় নিয়ে এসেছে কে?
নিক এনির স্পর্শকৃত হাতের দিকে কপাল কুচকে তাকায়। এনির চোখ দুইটা ছটফট করছে। নিক হাত ছেড়ে বলে,
” অহেতুক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সময় নষ্ট করতে চাই না।
” অহেতুক নয়। আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন এইটা।
” কিন্তু আমার জন্য নয়।
” আপনি বলবেন না?
” প্রয়োজন বোধ করছি না।
” এখন যদি বলি দুইটা চুমু খান।
” এক সেকেন্ড ও দেরী করব না। শুধু কপালে নয় অনেক জায়গায় এই খাব।
এনি বাঁকা হেসে বলে,
” আমার কথা বলি নি। শুয়রের গালে খেতে বলেছিলাম।
নিক রক্তলাল চোখে তাকায়। তেড়ে যায় এনির দিকে,
” হারামির বাচ্চা।
এনি ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে। কোনো কিছু না ভেবে আচমকা নিকের বুকে মাথা রেখে দুই হাত দিয়ে ঝাপ্টে ধরে। নিক সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যায়। মাফিয়া বসের যান্ত্রিক হৃদয়টা কেঁপে উঠে। আচমকা সেই দৃশ্য তার চোখে পড়তেই গ্যাংস্টার বসের ভেতরের দীর্ঘদিনের পাথর হয়ে থাকা অনুভূতিগুলোতে এক অদ্ভুত ফাটল ধরে। ক্ষমতা, রক্ত আর ষড়যন্ত্রে মোড়ানো যে হৃদয় এতদিন যান্ত্রিক নিয়মে স্পন্দিত হতো সেটা মুহূর্তের মধ্যে অনিশ্চিত কাঁপনে দুলে ওঠে। নিকের বুকে এনির আশ্রয় নেওয়া যেন তার শাসকসত্তার ওপর নীরব এক প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।
নিকের দৃষ্টি স্থির থাকলেও অন্তর্লোকে অস্থিরতার ঢেউ ওঠে। এমন দৃশ্য তার নিয়ন্ত্রিত পৃথিবীতে অচেনা। শক্ত হাতে গড়া সাম্রাজ্যের বস হয়েও সে প্রথমবার বুঝতে পারে। মানবিক আবেগ কখনো কখনো অস্ত্রের চেয়েও ধারালো। সেই ক্ষণিকের স্পর্শ, সেই আকস্মিক আশ্রয় গ্যাংস্টার বসের ভেতরে জমে থাকা নিষ্ঠুর নির্লিপ্ততা এক মুহূর্তের জন্য হলেও যেন নিভে যেতে চাচ্ছে।
এনি অস্থির হয়ে বলে,
” আপনার রাগ ভয়ঙ্কর। এইটাকে আলিঙ্গন করার সাহস আমার নেই। শান্ত থাকুন। শান্ত হন আপনি। আমাকে বলুন সেদিন আমাকে কে তুলে নিয়ে এসেছিলো।
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,
” সুস্থ হয়েছো তুমি?
কথাটা এনির কানে প্রবেশ করতেই চোখ বড় বড় করে ফেলে। এক ঝটকায় নিকের থেকে দুরে সরে যায়। অনিচ্ছায় সামান্য জড়িয়ে ধরেছিলো। ভেবেছিলো জড়িয়ে ধরলে ধমে যাবে। হয়েছে ও তাই। অথচ এই লোক লুচ্চমির মুডে চলে গিয়েছে। আশ্চর্য!
এনি বিরবির করে বলে,
” দুর্বলতা কাটে নি এখনও। আমার দেখা সব থেকে অশ্লীল পুরুষ আপনি।
নিক ডিভানে গিয়ে বসে,
” পুরো মাফিয়া সম্রাজ্যকে চালনা করি আমি। অথচ আমার জিনিস তোমার ইশারাতে চলে। শক্তি তোমার ও কোনোদিক দিয়ে কম নেই।লুজিং কনশাসনেস ইজ দ্য অনলি প্রবলেম।
এনি কানের ভেতরে দুই আঙ্গুল ডুকিয়ে বলে,
” আল্লাহ, প্রয়োজনে সামনে বসে থাকা লোকটাকে বোবা করে দাও নয়ত আমাকে কালা বানিয়ে দাও। তবুও এত অনৈতিক বাণী আমাকে শুনিও না।
” হাত, ঠোঁট আর একটা জিনিস অক্ষত থাকলেই হবে।
এনির কান দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে। নিকের সামনে গিয়ে বসে। নিকের দুই হাত দুই পাশে ছড়িয়ে রেখেছে। দুই পা ফাঁকা করে বসা। ঘাড় পর্যন্ত চুলগুলো কয়েকটা কপালে পড়ে আছে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এনির দিকে। এনি শ্বাস নিয়ে বলে,
” আপনি আজ আমার উত্তির দিবেন গ্যাংস্টার বস। জীবনে কোনোদিন কৈফিয়ত চান নি। কিন্তু আমি আপনার থেকে কৈফিয়ত চাচ্ছি।
নিক ভ্রুঁ কুচকে বলে,
” সাহস বেড়েছে?
” বেড়েছে।
” এখন যদি আঘাত করে বসি
এনি মলিন হেসে বলে,
” আঘাত তো আর কম খায় নি জীবনে। আপনি না হয় আরও দিলেন। তবুও উত্তর জানতে চাই।
নিক নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে অশান্ত চোখ দুইটা দিয়ে এনিকে পর্যবেক্ষণ করে। গম্ভীর গলায় বলে,
” সেদিন মার্কেট থেকে আসার সময় তোমার সাথে কে ছিলো?
এনি চট করে উত্তর দেয়,
” কবে?
” যেদিন তোমাকে তুলে আনা হয়েছিলো।
” আমার ফ্রেন্ড ছিলো। কিন্তু আমাকে কে কিডন্যাপ করেছে? আমি ভেবেছিলাম আপনি? আপনি নয় তো?
নিক শক্ত কন্ঠে বলে,
‘ গ্যাংস্টার বসের কাউকে কিডন্যাপ করতে হয় না। যেটা নেওয়ার সেটা জনসম্মুখে ছিনিয়ে নিতে জানে। তোমাকে কায়াত কিডন্যাপ করেছে। এই দেশের সব থেকে বড় স্মাগলার।
এনি অবাক হয়ে বলে,
” কিন্তু কেনো?
” রাশিয়া পাচার করবে তাই।
এনির হৃদয় কেঁপে উঠে। কাঁপা গলায় বলে,
” কিন্তু আমাকে তো পাচার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। আমার সাথে অনেক মেয়ে ছিলো প্রাইভেট জেটের ভেতরে। এই পাচার কেন্দ্র আপনার তাই তো?
নিকের জবাব,
” আমার সম্রাজ্য যখন তখন এর মালিক আমি ছাড়া কে হবে।
এনির চোখ দিয়ে দুই ফুটা পানি ঝরতে থাকে। ঠোঁট আটকে কান্না বন্ধ করে রেখে বলে,
” আমাকে পাচার না করে নিলামে তুলা হলো কেনো?
নিক টেবিলের উপর থেকে সামান্য ওয়াইন গিলে নেয়। গ্লাসটা শব্দ করে রেখে বলে,
” তোমাকে পাচার কেন্দ্রে নিয়ে আসে কায়াত। কিন্তু এই পাচার কেন্দ্রের ভেতরে আঠারো জন মাফিয়া ডুকার ক্ষমতা রাখে। তোমাকে যখন অজ্ঞান অবস্থায় গাড়ি থেকে নামানো হয় তখন সবার কুলষিত নজর তোমার দিকে পড়ে। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। সবার থেকে সুন্দরী ছিলে তুমি।লালসা দেয় কয়েকজন। তোমার জ্ঞান ফিরলে রক্ষিতাদের দিয়ে ফ্রেশ করে আনা হয়। তখন শুধু কয়েক জন নয়। আঠারো জনের কামনার দৃষ্টি পড়েছিলো অনেকের । কেউ হারিয়ে গিয়েছিলো কিশোরি অবয়বে। কেউ নীল চোখের গভীরতায় হারিয়ে গিয়েছিলো। শুরু হয় নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ। কে আগে বিছানায় নিবে।
নিকের মুখ কঠিন হয়ে যায়। এনির মাথা ভঁন -ভঁন করছে। চোখের পানি মুছে বলে,
” সেদিন বাঁচালেন না আমায়?
” আমি কেনো বাঁচাব?
” তাহলে আজ কেনো পুরো দুনিয়ার থেকে আড়াল করে রেখেছেন। ওই লোকটা সামান্য কোমর স্পর্শ করেছিলো বলে হাত কেটে নিজের মাংস খাওয়াতে বাধ্য করলেন। ওদেরকে এমন লালসা দিতে দিয়েছেন কেনো?
নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে,
” তখন আমার বউ ছিলে না কিন্তু এখন আমার স্ত্রী।
এনি শান্ত গলায় বলে,
” তাহলে স্বীকার করছেন রক্ষিতা হিসেবে কিনেছিলেন?
নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে হেসে বলে,
” রক্ষিতা হিসেবে কিনলে বউ হতে পারতে না। চরিত্রহীন নারীদের নিজ হাতে খুন করি আমি। তোমার ধারনা ও নেই। প্রস্টিটিউট ক্লাবে দৈনিক কত জন নারী আমার হাতে রক্তাক্ত হয়।
এনির শরীরে কেউ যেন চাবুক পিটা করছে। গলা ধরে আসছে। ভাঙ্গা গলায় বলে,
” আপনি তো বলেছিলেন নারীদের স্পর্শে জাননা। তাহলে ওদের সাথে রাত কাটান কিভাবে?
নিক দাঁত পিষে ধমকে উঠে,
” অহেতুক গলার আওয়াজ বাড়লে মেরে উল্টো ঝুলিয়ে রাখব। প্রস্টিটিউট ক্লাবে ব্যশ্যাদের মরন যন্ত্রনা দিতে যায়। তার জন্য আমার পুরুষ্যত্ব নয় ছুঁ**ড়ি আর চাঁবুকের আঘাত এই যথেষ্ট।
এনি বিছানার চাদর খামছে ধরে বলে,
” ওদের তো আপনারা তৈরি করেছেন এমন। তাহলে ওদের কি অপরাধ?
” পাচার কেন্দ্র তৈরি করেছি আমরা। কিন্তু বারে নর্তকীরা নিজ ইচ্ছেয় আসে। টাকার বিনিময়ে নিজেকে বিলিয়ে দেয়।
” এই বারের মালিক কে?
” আমি।
এনি নাক ছিটকে বলে,
” নিজে তৈরা করা পাপ ভবনে কেউ কাজ করলেই অপরাধী?
” লোহা দিয়ে জুতা তৈরি করলেই কি সেই জুতা পড়তে হবে? নিজের মূল্য নেই? এদেরকে ধরে ধরে গলাটা আলাদা করা প্রয়োজন। আমার সামনে যেগুলো পড়েছে একজন ও জীবিত ফিরে নি।
” আমাকে পাচার কেন্দ্রে তুলা হয়েছিলো বলে আমাকে বাঁচান নি?
নিক অদ্ভুতভাবে হেসে বলে,
” যদি এমন হত তবে তুমি আমেরিকার কোনো এক জায়গায় প্রতিনিয়ত কোনো খদ্দেরের সঙ্গিনী হতে। স্থান হত নরকে। তুমি জানো না পাচারে রাখা হাজারও মেয়ে নিজের সতিত্ব হারিয়ে ফেলে। এরপর এদেরকে বিক্রি করতে না পেরে মেরা ফেলা হয়। অনেকের স্পর্শ, কুলষিত নজর পড়ে। নোংরা স্থানে রাখা হয়।তোমার সাথে এমন হয়েছে?
এনির শরীরটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে। ভাবতেই শরীর কাঁটা দিয়ে উঠছে। ছোট্ট করে বলে,
” না।
” কেনো হয় নি?
” আপনি সাহায্য করেছেন?
নিক বাঁকা হেসে বলে,
” কিছুটা বুদ্ধি হয়েছে।
” সব কিছু মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। আমাকে তখন চিনতেন না তাহলে বাঁচিয়েছেন কেনো? তাহলে কি দেড় বছর ধরে যে ছায়া আমার পিছু করত সেটা আপনি ছিলেন?
এনির ছটফট চোখ। বুকের ভেতরে তান্ডব চলছে। নিক ঈগল দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভ্রুঁ কুচকে ফেলে। বাঁকা হেসে চোখের দৃষ্টি ঘুরায়। এনি অশান্ত নিশ্বাস ছেড়ে বলে,
” চুপচাপ থাকা সম্মতির লক্ষণ। আমি আরও ভাবতাম কায়াত বা ইগর এদের মধ্যে কেউ হয়ত আমাকে ফলো করত। কারন কিডন্যাপ তো তারা করেছে। আগে ধরতে পারে নি সেই ছায়ার খোঁজ। তবে নিলামে উঠার পর ধারনা করেছিলাম এরাই হবে হয়ত। কিন্তু মোর এইভাবে ঘোরে যাবে আগে ভাবিনি। তাহলে কাটা মাথা আর কলিজার সাথে রক্তাক্ত চাদর পেচিয়ে আপনি পাঠাতেন?
নিক ডিভান থেকে উঠে দুই কদম এগিয়ে আসে। হিংস্র পুরুষটা শান্ত অথচ গভীর গলায় বলে,
” অন্য কেউ করলে খুঁশি হতে?
এনি চিন্তার সাথে হাঁপিয়ে উঠে। ঘন ঘন শ্বাস নিয়ে বলে,
” আমাকে আগেই ফলো করেছেন। টার্গেটে রেখেছেন আমাকে। তাহলে নিলাম থেকে কিনে আনাটা কায়াতের সাথে চ্যালেঞ্জ নয়। আপনার ইচ্ছে। আর সেদিন রাতে আপনি আমাকে প্রথম দেখেন নি। বরং আড়াই বছর ধরে আমাকে ট্র্যাক করেছেন।
নিক এনির দিকে ঝুকে। এনির থুতনিটা ধরে মাথাটা উঁচু করে। ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে,
“যে নারীকে আড়াই বছর ধরে প্রটেক্ট করে আসছে। একদিনের ব্যবধানে সেই নারীকে কেউ কিডন্যাপ করেছে। এরপর তাকে আনা হয়েছে নোংরা পাচার কেন্দ্রে। সেখানে থেমে যায় নি, নিলামে তুলা হয়েছে তাকে। ধ্বংসলীলা তো সেদিন এই চালিয়ে দিতাম। তবে মরবে তো সবাই। যেদিন নারীটাকে কিডন্যাপ করার দুঃস্বাসহস দেখিয়েছে সেদিন এই এক একজনের মৃত্যুর ঘন্টা বাজতে শুরু করেছে। সবার কাছ থেকে দলিলপত্র, কাজের হিসেব নিয়ে প্রতিটা দেহের মাথা আলাদা করে সমুদ্র ভাসাব।শান্ত ভাবে ধ্বংসলীলা চালাতে একটু বেশি পছন্দ করি আমি।
এনি মুখ খুলে কিছু বলার জন্য। নিক এনির ঠোঁটের উপর আঙ্গুল রেখে হিসহিসিয়ে উঠে,
” হুসস, দেখতে পাচ্ছো না কন্ট্রোল হারিয়েছি। কথা বলছো কেনো?
এনি বুকে ধ্বাক্কা দিয়ে বলে,
” কিন্তু আমার প্রশ্ন শেষ হয় নি। শান্ত হয়ে বসুন অসভ্য লোক।
নিক কথা শুনলো না। এনির ওষ্ঠ আকড়ে ধরে। এনি চোখ-মুখ খিঁচে ফেলে। নিকের হাত চলে যায় এনির উন্মুক্ত কোমড়ে। এনি শিউরে উঠে। এনি ধ্বাক্কা দেয় ছুটার জন্য। কিন্তু পারলো না শক্তিতে। নিক এনিকে বিছানায় ছুড়ে ফেলে।শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে এগিয়ে যায় । রমণীর ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছে। নিক শার্টটাকে অবহেলিতভাবে ছুড়ে ফেলে। রমণীকে কিছু বলার সুযোগ দিলো না। পুনরায় ওষ্ঠে মিলন ঘটায়। হিংস্র পুরুষটার শক্ত স্পর্শে অষ্টাদশী ছটফট করে। নিক বিরক্ত হয়ে ব্যাল্ট দিয়ে হাত বেঁধে দেয়। এনির চোখ নিরুপায়ের ঝলক। দন্তের ঘর্ষনে ব্যাথায় চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে। নিক এনির শার্টের বোতাম খুলার জন্য হাত রাখতেই উচ্চ শব্দ করে ফোন বেজে উঠে। নিকের কানে গেলো না সেই ফোনের আওয়াজ। নিক ঠোঁট ছেড়ে গলায় নামতেই এনি বলে,
” ফোন বাজছে।
” বাজুক।
এনি ব্যাথায় ঠোঁট নাড়াতে পারছে না। ছাড়া পাওয়ার জন্য অস্থির গলায় বলে,
” মেহের নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
নিক থেমে যায়। মাথা উঁচু করে তাকাতেই এনি ঠোঁট নাড়িয়ে বলে,
” ওর ব্রেইন সমস্যা তো। শুনলাম ও নাকি অসুস্থ।
নিক শ্বাস নিতে পারছে না। ঘন ঘন শ্বাস নিতে গিয়ে নিজেকে শান্ত করে। দ্রুত মোবাইলের কাছে যায়। ফোনে অধিরাজ নামটা ঝলমল করছে। অধৈর্য হয়ে ফোন রিসিভ করতেই অধিরাজের অস্থির কন্ঠ,
” বস, জেড বাড়ির বাহিরে এসেছে। একটা অঘটন ঘটাবে। আমার কথা তো জীবনেও শুনবে না।
নিক ঠোঁট চেপে ধরে প্রশ্ন করে,
” মেহের কি অসুস্থ?
” না বস। মেহের অসুস্থ হলে তো আরিশ স্যার জানাত। একদম সুস্থ সে।
” সিউর।
” জি বস।
” ওকে আমি আসছি দশ মিনিটের মধ্যে। জেডকে ফলো কর।
” ওকে বস।
নিক ফোন কেটে মার্বেল মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে। এতটা শক্তি দিয়ে ফেলেছে যে মোবাইলের কোনো অস্তিত্ব হয়ত ঠিক নেই। এনি শব্দে কেঁপে উঠে। গ্যাংস্টার বস রাগে চুল টেনে ধরে নিজের। রাগটাকে সামলাতে না পেরে প্রগাঢ় ক্ষুব্দতায় এনির একটা বাহু শক্ত করে চেপে ধরে গর্জে উঠে,
” ইউ লাই অ্যান্ড ডিসিভ মি, ইউ ফাকিং গার্ল। ওকে নিয়ে মিথ্যে কেনো বলেছিস?
এনি প্রতিটা ধমকে আবারও কেঁপে উঠে। শান্ত গলায় বলে,
” প্রেমিকা বলে খারাপ লাগছে।
নিক রুম কাঁপিয়ে হুংকার দিয়ে উঠে। এক ঝটকায় হাত ছেড়ে দিয়ে গলা চেপে ধরে,
” যাস্ট সেট আপ ইডিয়েট! এই পিচ্চি মেয়েটা আরিশের কলিজা। যখন আমরা পুরো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছিলাম তখন দাদামশাই মানে এই মেয়েটার দাদা আমাদের আশ্রয় দিয়েছিলো। ওর বাপ আমাকে নিজের সন্তানের মত দেখেছে। অথচ ওর বাপ ছিলো একজন স্মাগলার। ছোট্ট শিশু বাচ্চাটা আরিশকে একদিন ভাইয়া সম্মোধন করলো। আরিশের কঠিন মন গললো না। কিন্তু ধীরে ধীরে আরিশ কি মায়ায় পড়েছে উপর ওয়ালা ভালো জানেন। অদ্ভুতভাবে সে আমাকে ভাই সম্মোধন করত না। আমি আদর করতাম না প্রথম প্রথম। ওর মধ্যে নিজের বোনকে খুঁজে পেতাম। এরপর থেকে মায়া জন্মাতে থাকে। হয়ত আরিশ বোনের স্বিকৃতি দিয়েছে সেজন্য। একদিন হুট করে ওর বাবার গলিত লাশ পাওয়া যায়। কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বাচ্চা মেয়েটা। এরপর থেকে আরিশের বোন হিসেবে বড় হতে থাকে। আরিশের কলিজা ও। রক্তাক্ত হয়ে যখন আমি বাড়িতে ফিরতাম তখন ছোট ছোট হাত দিয়ে আমার রক্ত মুছে দিতে। এমনভাবে দিত যে আমার কঠিন মন ও গলে যেত।
বয়সের ব্যবধান থাকা সত্তেও আমাকে নাম ধরে ডাকত। পুরো রাত যখন জ্বরে ছটফট করেছি রাতের অন্ধকারে এসে কপালে জলপট্টি দিয়ে দিত। এমন ভাবে দুইজনকে দেখা শুনা করত যেন আমাদের অভিভাবক। যদি সেখানে যেতাম তবে কোনোদিন ক্ষুধার্ত ফিরে আসতে পারি নি। না খেলে কান্না শুরু করে দিত। আরিশ নিজের কলিজার টুকরো বোনের কথা ফেলত পারত না। খেয়ে আসতাম দুইজন এই। একদিন হুট করেই জানতে পারি ওর ব্রেইন টিউমার। প্রাপ্ত বয়স হলে অপারেশন করাতে হবে। এর মধ্যে যাতে সে কোনো মানসিক ট্রমাতে না পড়ে। এতে ওর জন্য ঝুঁকিপূর্ন হয়ে যাবে। কিন্তু এই মেয়েটা আমাকে জান -প্রান দিয়ে ভালোবাসতে শুরু করেছে। যদি সে খারাপ হত তাহলে কতটা থাপ্পর যে আমার হাতে খেত তার হিসেব ছাড়া। কিন্তু তোমার ধারনা ও নেই, মেহের কতটা সরল। আমি কোনো রিয়্যাকশন দিতাম না। ধীরে ধীরে আমি ওর তীব্র আসক্তি হয়ে পড়ি। যে মেয়েকে আমি নিজের হাতে বড় করলাম সে এই আমাকে ভালোবাসলো। কঠিন ভাবে কিছু বলতে পারব না। ওর কিছু হলে আরিশ ভেঙ্গে যাবে। আর আরিশ….
এনি মিহি সুরে বলে,
” আপনার বন্ধু কম কলিজার টুকরা ভাই।
নিক দাঁত পিষে গলা ছেড়ে দেয়,
” ইয়েস। মেহের আমাকে ভালোবাসে সেটা ওর ব্যাপার। সময় হলে ওকে ভালো জায়গায় বিয়ে দিব। কিন্তু ও আরিশের বোন ছাড়া আমার নজরে কিছুই নয়।
এনি প্রচুর অবাক হয়। এদের জীবন এমন জটিল কেনো। প্রতিটা সম্পর্কের পিছনে রহস্যে ঘেরা। সে-তো ভেবেছিলো মেহের -আরিশের রক্তের বোন। অথচ আজ শুনলো অন্য কিছু! নিজেকে অপরাধী মনে হলো। গলার আওয়াজ নামিয়ে বলে,
” দুঃখিত। আমি জানতাম না মেহের এমন গুরুতর রোগে আক্রান্ত। একবার যদি সে জানে আপনি বিয়ে করেছে তাহলে কি হবে ভেবেছেন?
নিক গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলে,
” আই ডোন্ট কেয়ার। এর আগেই ওর অপারেশন হয়ে যাবে। আর ওর জীবনে আরিশ -দাদামশাই এরা ছাড়া কেউ নেই। জানার ও কোনো উপাই নেই।
এনি গলার স্বর শক্ত করে বলে,
” আপনার কল্পনাও নেই নিক জেভরান মেয়েটা ঠিক কতটা আত্নবিশ্বাস নিয়ে জীবন পার করছে। সহজ -সরল মেয়েদের আঘাত করলে তারা ঠিক কতটা হিংস্র হয় ধারনা নেই আপনার। জানি না ভবিষ্যত কি হবে। তবে অনেক কিছুই পাল্টাবে। দোয়া করি ভালো কিছু হোক।
এনি সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলে। শুনা গেলো নিকের পায়ের শব্দ। বুঝতে পারলো কোনো কাজে বাহিরে গিয়েছে।
নাজলী নিচের খোলা অংসে ডিভানে বসে চাউমিন নাড়াচড়া করছে। একটা গার্ড থেকে মোবাইল ছিনিয়ে এনেছে জোর করে। শালার জিন্দেগী চতুর লোক সব কিছুতে লক করে দিয়েছে। নাজলী খাওয়া বাদ দিয়ে প্রতিটা আ্যপ চেক করছে লক খুলার জন্য। সামনে কারোর উপস্থিতি অনুভব করে বিরক্তি নিয়ে বলে,
‘ আরে বাল। শাওয়ার মোবাইল দিয়েছিস আমায়। সব কিছুতে লক কেনো? ডিস্ট্রাব না করে সরে দাড়াও।
কিন্তু অবয়বটা সরলো না। নাজলী বিরক্ত হয়ে পায়ের দিকে তাকায়। রেগে কিছু বলতে যাবে, মুখের দিকে তাকাতেই চেঁচিয়ে উঠে। চোখ দুইটা বড় বড় হয়ে যায়। আরিশের মুখটা রাগে লাল হয়ে আছে। হাতে চাবুক পেঁচানো। নাজলী শুকনো ঢোক গিলে। আরিশ এক পা টেবিলের উপর রেখে নাজলীর দিকে ঝুঁকে পড়ে। চাবুক নাড়িয়ে বলে,
‘প্র্যাগনেন্ট তুমি?
নাজলী অসহায় হয়ে মাথা নাড়ায়,
” নাহহ।
” তাহলে কেনো বললে তুমি প্র্যাগনেন্ট?
নাজলী হাসার চেষ্টা করে বলে,
” কখন বললাম প্র্যাগনেন্ট?মিথ্যে বলছেন কেনো?
আরিশ চোয়াল শক্ত করে বলে,
” যাস্ট সেট আপ। ফোনে নাটক কেনো করেছো? জানো এর জন্য কত হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে?
” ক্রিমিনাল লিডারকে একটা সামান্য মেয়ে হেনস্তা করছে বিষয়টা লজ্জাকর।
আরিশ চাবুকটা হাতে নিয়ে নাজলীর গলায় পেঁচয়ে ফেলে। রাগে কিড়মিড় করে বলে,
” ক্রিমিনাল লিডার হেনস্তা তোমার নাটকে নয়। সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছো তাই। রক্ত নিয়ে খেলা যার প্রতিদিনের অভ্যাস তাকে এক তুচ্ছ রমণী কিছুই করতে পারবে না।
নাজলীর শ্বঁাস বন্ধ হয়ে আসার অবস্থা। আরিশের দিকে তেজ নিয়ে বলে,
” অমানুষ একটা। চাবুক সরান বলছি। শ্বাস নিতে পারছি না।
” তো মরে যাও। নাকি প্র্যাগনেন্ট হওয়ার শখ আছে? তাহলে চলো শেষ ইচ্ছে পুরন করে দেয়। মিথ্যে নাটক সাজানোর শাস্তিও পেয়ে যাবে।
নাজলীর চোখ লাল হয়ে আসছে। অস্ফুর্তভাবে বলে,
” শান্তিতে থাকতে আপনাকে কোনোদিন দিব না। তার জন্য হাজারটা নাটক সাজানোর হলেও আমি সাজাব। ঠকিয়েছেন আমাকে। প্র্যাগনেন্ট হওয়ার নাটক করেছি বেশ করেছি। কিন্তু আফসোস আপনার চুপসে যাওয়া মুখটা দেখতে পারি নি।
কথাটা বলে আরিশের দিকে তাকায়।আরিশের মুখ কেমন হিংস্র হয়ে আছে। আরিশ চাবুক গলা থেকে খুলে ফেলে দেয়। নাজলী যেন প্রান ফিরে পেলো। গলায় ব্যাথা হয়ে গেছে। ঠিক সে -সময় শুনা গেলো আরিশের তিক্ত কথা,
” নাটক ছড়ানোর আগে এইটা আমাকে বললেই পারতে স্পর্শ পেতে চাও। কামনায় ছটফট করছে মন। অনেক দিন ধরে কারোর ছোঁয়া…….
আরিশ বলতে পারলো না। নাজলীর হাতের থাপ্পর বসে তার ডান গালে। আরিশ এখনও অন্য দুনিয়ায় আছে। বুঝতে পারছে না তার সাথে কি হয়েছে। নাজকী ক্ষ্যাপা বাঁঘিনীর মত গর্জে উঠে,
‘ কি ভেবেছিস আমাকে, তদের প্রস্টিটিউড ক্লাবের নারীদের মত নর্তকী। তদের মত নরপিশাচ! মেয়েদের সম্মান করতে জানেন না। অবশ্য করবে কিভাবে, সেই শিক্ষা এইতো কেউ কোনোদিন দেয় নি। বড় তো হয়েছেন অসামাজিক পরিবেশে। কোন মায়ের পেট থেকে জন্ম? জানি না জন্মের ও ঠিক আছে কি-না। জন্মের ভেজাল না হলে এমন নিচু মানসিকতার….
নাজলীর কন্ঠ থেমে যায়। আরিশের শক্ত হাত চেপে ধরে নাজলীর গলা। অন্য হাত চুলের মুঠি। আরিশ অতিরিক্ত রাগে কথা বলতে পারছে না। নাজলী আবছা আলোতে দেখছে লোকটাকে। কেমন ভয়ানক মানবে পরিনত হয়েছে। মুখ -চোখ লাল হয়ে গিয়েছে। আরিশ গলায় চেপে ধরে দেয়ালের সাথে মেশায়। কিড়মিড়িয়ে বলে,
” তুই নিজেও জানিস না ঠিক কোন জায়গায় আঘাত করেছিস আমায়। কাঁচা ঘা আবার তাজা করে তুললি। আমার মাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে যারা তাদের শরীরকে আমি এসিডে পুড়িয়ে মেরেছি। মরন যন্ত্রনা এতটা তীব্র দিয়েছি যে প্রান ভিক্ষে চাওয়ার জন্য ও সুযোগ দেয় নি। তকে বাঁচতে দিব ভেবেছিস?
দুই মিনিটের মধ্যে আমার চোখের সামনে থেকে যাবি। তবে এই বাংলোতে নয়। এই বাগান বাড়ির বাহিরে যাবি। যদি আর কোনোদিন আমার দৃষ্টিসীমানার মধ্যে পড়িস তবে সেদিন তর শেষ দিন হবে।
আরিশ এক ঝটকায় নাজলীকে ধ্বাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। বড় বড় পা ফেলে উপরে চলে যায়। নাজলী গলা ধরে দেয়াল ঘেষে বসে পড়ে। ফুঁপিয়ে উঠে বিষাক্ত মন,
” এই কোন পুরুষের জন্য হৃদয়ে মায়া জন্ম করলে উপর ওয়ালা। এই ধ্বংস আমি কিভাবে সইবো।
নাজলী উঠে দাঁড়ায়। অনেক দিন পর দরজা খুলা দেখে তৃষ্ণার্ত মন আলোতে যাওয়ার জন্য ছটফট করে উঠে। ছফট দৃষ্টি তুলে উপরে তাকায় রুমের দিকে। খালি পায়ে বের হয়ে যায় রুম থেকে। থাপ্পরের কারনে ঠোঁট ফেটে গিয়েছে। গার্ডরা আটকাতে আসলে নাজলী রক্তাক্ত চোখ নিয়ে তাকিয়ে বলে,
” খবরদার আটকাবে না কেউ। আমার মুক্তির দিন আজ। আর মুক্তি পেয়ে গেছি।
গার্ডরা সরে দাঁড়ায়।নাজলী বেরিয়ে যায় ঘন গাছ -পালা দিয়ে সাজানো অশুভ বাগান বাড়ি থেকে। কোথায় যাচ্ছে জানা নেই। গন্তব্য কোথায় জানা নেই। আফ্রিকা সম্রাজ্যের সব ওর অজানা। মস্তিষ্কে আসে নাভিদের নাম। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠে।
গভীর রজনী। নির্জন রাস্তা নিঃশ্বাস চেপে ধরে আছে। আচছা আলোয় পথের কিনারা আধো-ছায়ায় ভেসে ওঠে। আবার মিলিয়ে যায় অদৃশ্যতায়। বাতাস থমকে থাকলেও চারদিক নিস্তব্ধ নয়।ভিন্ন ভিন্ন পোকার অস্পষ্ট গুঞ্জন অন্ধকারের বুক চিরে উঠছে।কখনো ক্ষীণ আবার কখনো হঠাৎ তীক্ষ্ণ। আলো-অন্ধকারের দ্বন্দ্বে রাস্তা নিজেই অচেনা হয়ে ওঠে। নীরবতার আড়ালে লুকোনো এক অজানা আশঙ্কা বাতাসে জমে থাকে। পা ফেললেই রাতের গভীরতা আরও ঘনীভূত হয়ে গা ছমছমে শীতলতা ছড়িয়ে দেয়। রাস্তার একেবারে প্রান্তঘেঁষে এক রমণী নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। আবছা আলোতে লাল কেশ চিকচিক করছে। নাজলী গুটিয়ে নেয় নিজেকে। হুট করে কানে আসে কোনো মেয়ের গোঙ্গানির আওয়াজ। নাজলী রাতের অন্ধকারে ভয় পাচ্ছে প্রচুর। কলিজা পর্যন্ত কাঁপছে তার। আড়াল থেকে বের হয়ে সামান্য উঁকি দেয়। সামনেই একটা গাড়ি রাখা কালো। গাড়িটা অসম্ভব ভাবে নড়ছে। সামান্য এগিয়ে গিয়ে আড়ালে কান পাতে। একজন পুরুষের ফুঁশ -ফুঁশ নিশ্বাসের শব্দ। আর একজন নারীর গোঙ্গানী। নাজলীর পায়ের পাতা সহ পুরো শরীর শিরশির করে উঠে। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না সে এক জায়গায়। মস্তিষ্ক একটা শব্দ ঘুরছে,
” রে***প!
নাজলীর শরীর ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসে। স্নায়ুগুলো যেন একে একে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। কীভাবে সে মেয়েটাকে বাঁচাবে?এই প্রশ্নটাই তার চেতনার ভেতর বজ্রের মতো আঘাত হানছে। বুকের গভীর থেকে নিঃশব্দ প্রার্থনা উঠে আসে—হে আল্লাহ, শক্তি দাও, সাহস দাও। জীবন যদি চলে-ই যায়, তবুও মেয়েটাকে বাঁচাতে হবে.এই একটিমাত্র সংকল্পই তাকে আঁকড়ে ধরে রাখে।
তবু আতঙ্কের ভারে নাজলী জায়গা থেকে একচুলও নড়তে পারে না। গোটা শরীর যেন শীতল পাথরে রূপ নিয়েছে। ইচ্ছা আছে কিন্তু শক্তি নেই। ঠিক তখনই গাড়ির সমস্ত নড়াচড়া থেমে যায়।এক অস্বাভাবিক নীরবতা চারপাশ গ্রাস করে। আর সেই স্তব্ধতার বুক চিরে ভেসে আসে এক বিশ্রী অট্টহাসি। কী ভয়ংকর সেই হাসি! শব্দের ভেতরেই যেন লুকিয়ে থাকে অশুভের ছায়া। শেষমেশ শুধু একটি শব্দই কানে এসে ধাক্কা দেয়,
, ওয়ান ইজ ফিনিশড হানি !
লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৯
নাজলী দুই হাতে কান চেপে ধরে। ফিনিশড! শব্দটা তার মাথার ভেতর বারবার প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। কী ফিনিশড? মেয়েটাকে কি মেরে ফেলেছে ত? প্রশ্নের ভারে বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠে। মুহূর্তেই নাজলী কান্নায় ভেঙে পড়ে। দুই হাত ছন্নছাড়া হয়ে চুলের মুঠো আঁকড়ে ধরে। এই যন্ত্রণার বাস্তবতাকে ছিঁড়ে ফেলতে চাচ্ছে। অনেক দেরী হয়ে গেছে। বাঁচাতে পারলো না সে।
ঠিক তখনই দরজা খোলার কর্কশ শব্দ কানে আসে। ভয়ানক শঙ্কায় সে লুকানোর জন্য দৌড়ে ছুটে যায়। কিন্তু তার আগেই পেছন দিক থেকে নরপশুটার গগন কাঁপানো এক ডাঁক ভেসে আসে।সে ডাকে এমন হিংস্রতা যে শব্দই তাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট,
” কে ওখানে?

pls give us next chapte riam excited for nazli