সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৮
তানিয়া হুসাইন
রাত তখন অনেক। শহরের কোলাহল স্তিমিত হয়ে গেছে। চারপাশে নিস্তব্ধতা।
রাত করেই বাড়ি ফেরে আদ্রিয়ান।
দরজায় নক করতেই রুমানা এসে দরজা খুলে দেয়।
তার গা জুড়ে ক্লান্তির ছাপ,চোখে একরাশ নির্লিপ্ততা।
তাকে দেখেই বুঝা যায় এই মানুষটা এখন আর স্বাভাবিক জীবন-যাপনে নেই।
ড্রয়িংরুমে বসে আছেন সায়মা বেগম, ছেলের জন্য অপেক্ষায়।
কিন্তু আদ্রিয়ান তার দিকে না তাকিয়ে সোজা সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়।
সায়মা বেগম পেছন থেকে ডেকে ওঠেন,
— আদ্রিয়ান।
আদ্রিয়ান পা থামায়, ঘাড় ঘোরায় না।
— তুমি কি ওকে আনবে না?
সায়মা বেগম প্রশ্ন ছুড়েন।
এই প্রশ্নে আদ্রিয়ান কিছু না বলে আবার উপরের দিকে পা বাড়ায়।
তার এই বিষয়গুলো আর ভালো লাগে না, সে এড়িয়ে-ই চলে সবসময় এগুলো।
__আবার ও সায়মা বেগম ডাকেন, এবার তার গলায় কষ্ট ঝরে পড়ে,
তিন মাস হয়ে গেছে রাহি চলে গেছে।
তোমার কি একবারও মনে হয় না, তোমার ওকে গিয়ে নিয়ে আসা উচিত?
___আর নিজেকে সামলাতে পারে না আদ্রিয়ান।
সে ঘুরে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে ওঠে,
না, আমার মনে হয় না!
ওকে আমি আনিনি! ওকে আমি যেতে ও বলিনি!
তুমি এনেছো! তোমরাই এনেছো! তোমরাই চেয়েছো!
এখানে বারবার আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে?
সায়মা বেগম একটু নরম কণ্ঠে বলেন,
—এভাবে আর কতদিন জেদ ধরে রাখবে?
নিজের জীবনটা এভাবে নষ্ট করে ফেলছো।
আমরা আর কতদিনই বা বাঁচবো?
আমরা চাই, তুমি যেন নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিতে পারো।
না হলে আমরা মরেও শান্তি পাবো না।
রাহি অনেক ভালো মেয়ে, আর ও তোকে অনেক ভালোবাসে।
ওকে বিয়ে করে নে বাবা।
___কিন্তু আদ্রিয়ান দৃঢ় গলায় বলে ওঠে,
আমি বিয়ে করবো না।
না, রাহিকে আর না অন্য কাউকে।
সায়মা বেগম অনেক কিছু বলেন ছেলেকে।
তার কণ্ঠে আবেগ, চোখে জল মনে হাজারো দুঃখ।
আদ্রিয়ান তোর বাবার শরীরটা ভাল নেই।
মেয়েটা চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছেন,শরীরে রোগ বাসা বেঁধে ফেলেছে।
আমিও কোন দিন মরে যাই ঠিক নেই, তোর এই জীবনটা এভাবে এলোমেলো ছেড়ে গেলে আমরা যে মরেও শান্তি পাবনারে বাবা
___ আদ্রিয়ান চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
তার মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।
কোনো ভাবান্তরও নেই।
সবকিছু শুনে সে নিশ্চুপ, যেন অনুভূতিহীন।
___সায়মা বেগম ছেলেকে এভাবে চুপচাপ থাকতে দেখে শেষবারের মতো বলেন,
তুই কি ওকে আনতে যাবি-ই না?
আদ্রিয়ান খুব গম্ভীর গলায় শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে,
— না।
তারপর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না।
চুপচাপ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে যায়, পেছনে রেখে যায় এক অসহায় মাকে
যিনি শুধু একটাই চাওয়া নিয়ে বেঁচে আছেন , ছেলের জীবনটা যেন গুছিয়ে দিয়ে যেতে পারেন।
মেয়েটা তো তার আর নেই।
বড় ছেলেটার জীবন গোছানো আছে।
কিন্তু তার এই ছেলেটার কি হবে।
আদ্রিয়ান চুপচাপ নিজের রুমে ঢোকে।
তার মুখে কোনো রাগ নেই, কোনো অভিব্যক্তি নেই,
শুধু একরাশ ক্লান্তি।
হাত বাড়িয়ে ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয়।
ঘরটা নিঃশব্দ হয়ে পড়ে। এক অজানা ভার যেন আকাশ থেকে নেমে আসে এই চার দেয়ালে।
আদ্রিয়ান ধীর পায়ে গিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। চোখ দুটি বন্ধ করে রাখে কিছুক্ষণ।
বুকে যেন এক অদৃশ্য পাথর চেপে বসে আছে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
এই শূন্যতা তাকে দিন দিন গ্রাস করে ফেলছে।
তার কপাল ঘামে ভিজে আছে, কিন্তু ঘরের ভেতর গরম নেই।
হঠাৎ একটা চিরচেনা কণ্ঠস্বর ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয়।
__মামনির সাথে এত খারাপ ব্যবহার করিস কেনো?
দিন দিন জঘন্য হয়ে যাচ্ছিস তুই।
চমকে উঠে চোখ মেলে আদ্রিয়ান।
সমানে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ হঠাৎ চোখের সামনে ঘন ধোঁয়ার পর্দা সরতে থাকে,বেরিয়ে আসে এক চেনা অবয়ব,
সাদা পোশাকে বসে আছে সাফা।
বিছানার একপাশে, ঠোঁটের কোণে এক চিলতে মৃদু হাসি।
চোখে পুরোনো সেই উজ্জ্বলতা, অথচ কোথাও যেন হালকা দুঃখের ছাপ।
আদ্রিয়ান চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
কিছু বলে না। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসে।
সাফা আবার বলে ওঠে,
— দাঁড়ি কাটিস না কেনো?
দিন দিন বুড়ো হয়ে যাচ্ছিস।
তার গলায় আছে ছেলেমানুষি আবার কোথাও স্নেহমাখা আদর।
___আদ্রিয়ান কাঁপা গলায় বলে ওঠে,
কিন্তু তুই আগের মতোই আছিস।
ঠিক যেভাবে ছেড়ে চলে গিয়েছিলি।
তার কণ্ঠে যন্ত্রনা,
হারিয়ে ফেলার হাহাকার।
সে এখনও বিশ্বাস করতে পারে না সাফা নেই।
মানতে পারেনা এই নির্মম সত্যিটা।
____সাফার চোখ কাঁপে।
মৃদু গলায় সে বলে ওঠে,
বিয়েটা করে নে আদ্র।
এভাবে জীবন চলবে না রে।
___আদ্রিয়ান চোখ সরিয়ে নেয়। মাথাটা বিছানায় গুঁজে ফেলে।
চলছে তো।
এভাবেই চালিয়ে নেবো বাকিটা জীবন।
তার ঠোঁটে একটুও হাসি নেই।
আছে আত্মবিসর্জনের ঘোষণা, মৃত ভালোবাসার প্রতিধ্বনি।
সাফা এবার গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—ছেলে মানুষি করিস না আদ্র।
মামা মামনি অসুস্থ, তাদের দিক টাও বুঝ।
আমি নেই আর তোদের মাঝে।
আদ্রিয়ান চোখ বন্ধ করে ফেলে,
নিঃশব্দে বলে ওঠে,
— আছিস, আমার সামনে, আমার রুমে আমার নিশ্বাসে।
সাফা এবার মৃদু কাঁপা স্বরে বলে,
—এটা তোর কল্পনা আদ্র।
আমি নেই। আমি শুধু তোর স্মৃতি।
তুই নিজেকে যেভাবে বেঁধে রেখেছিস, সেটা ঠিক না।”
আদ্রিয়ান লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে।
— আমি এতেই সন্তুষ্ট।
এই কল্পনাই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।
তুই থাকিস আমার পাশে, এই ভাবনাতেই শান্তি পাই।
এভাবেই চলে যাবে জীবন।
সাফা এবার একটু সামনে এগিয়ে আসে।
তার কণ্ঠে এবার সায়মা বেগমের কথার প্রতিধ্বনি।
— কিন্তু আমি চাই তুই তোর জীবনটা গুছিয়ে নে।
রাহি অনেক ভালো মেয়ে।
ও তোকে ভালোবাসে, তোকে ভালো রাখবে।
ওর হাতটা ধর, ওকে বিয়ে করে নে।
আদ্রিয়ান কিছু বলে না।
চোখ বন্ধ করে থাকে।
তার চারপাশে কুয়াশা ঘনিয়ে আসে আবার।
সাফা আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে।
আদ্রিয়ান বিছানায় নিঃশব্দে শুয়ে থাকে,
সাফা নেই, তবু যেন ওর স্নেহ, অভিমান, আদর সব মিশে থাকে এই ঘরের বাতাসে।
কিছুক্ষণের জন্য হলেও সে ভুলে থাকতে পারে সবকিছু।
___মারিয়া এলেনা রুমে আসে।
ইশায়া তখন কিট্টিকে ছোট্ট একটা গোলাপি ফ্রক পরিয়ে দিচ্ছে,
একদিকে জামা পরাচ্ছে, অন্যদিকে কানের কাছে ফিসফিস করে বলছে,
আজকে তুমি মাম্মার সাথেই থাকবে, বেশি দুষ্টুমি করবে না ঠিক আছে?
__কিট্টি ইশায়ার কথার তালে তালে ম্যাও ম্যাও করে ওঠে।।
__দরজায় দাঁড়িয়ে মারিয়া এলেনা।
গলায় যথারীতি কোনো আবেগ নেই, কণ্ঠস্বরটা শুষ্ক আর কর্তব্যপরায়ণ।
গম্ভীর গলায় বলে,
— ম্যাম, আপনাকে প্রস্তুত হতে হবে। আপনাকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
___ইশায়ার চোখে বিস্ময়।
অবাক হয় সে এরকম কথা শুনে,
কোথায় যেতে হবে?
___মারিয়া এলেনা চোখ নিচু করে ধীরে বলে ওঠেন, বসের কাছে। তিনি আপনার জন্য খবর পাঠিয়েছেন।
ইশায়া এই বাড়িতে এসেছে দশ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে।
এই সময়ের মধ্যে ইশায়া কখনো এই চার দেয়ালের বাইরে পা রাখেনি।
একদিনও না।
তাহলে আজ কেনো?
এই প্রাসাদটাই তার বন্দী দুনিয়া।
এইখানে তার নিজের মতামতের কোনো দাম নেই।
ভীর যা আদেশ দেয়, তাই চুপচাপ পালন করতে হয় তাকে।
আজ হঠাৎ কী হলো?
ইশায়া কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
সে বুঝতে পারছে না কিছু।
মারিয়া এলেনা ততক্ষণে তার প্রয়োজনীয় জামা-কাপড় গুছিয়ে নিচ্ছেন।
দামী শাড়ি, পার্স, ছোট্ট জুয়েলারি বক্স, পারফিউম সব এক এক করে ব্যাগে ঢুকাচ্ছেন।
ইশায়া কিছু বলেনা।
তার কিছু বলার নেই।
তাকে কখনো কিছু জিজ্ঞেস করা হয় না।
__ইশায়া একটি লাল থ্রি-পিস পরে নেয়।
মারিয়া এলেনা বের করে দিয়েছে এটা।
পোশাকটিতে সূক্ষ্ম জরি ও হাতে কাজ করা সূতোর ফুল ফুটে আছে।সুন্দর জমকালো একটা ড্রেস অনেক এক্সপেন্সিভ।
আজকের দিনের জন্য এটাই বেস্ট মনে হয়েছিল মারিয়া এলেনার কাছে।
__ইশায়া নিঃশব্দে বসে আছে।
মারিয়া এলেনা তার লম্বা চুলগুলো সযত্নে বেনি করে দেন।
ম্যাম, আপনার চুলগুলো আগের চেয়েও অনেক লম্বা হয়ে গেছে। মাশাআল্লাহ, এই বাঙালি সাজে আপনাকে খুব চমৎকার লাগে।
__ইশায়া আয়নার দিকে তাকায় না।
সে শুধু কিট্টির দিকে একবার তাকায়, নিচু হয়ে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
একটু ঝুঁকে তার কপালে চুমু খায়।
— তারপর বলে,
আমার কিট্টিকে দেখে রেখো।
ওকে ঠিক সময় মতো খাবার দিবে।
ওর যেনো কোন কিছুর কমতি না হয়। সবসময় ওর পাশে থেকো, প্লিজ।
মারিয়া এলেনা মাথা নিচু করে সাড়া দেন।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচজন মহিলা বডিগার্ড,
সবার চোখে শীতলতা, মুখ নিষ্ঠুর নির্লিপ্তি।
তারা সবাই প্রশিক্ষিত, ভীরের বিশেষ নির্বাচিত নিরাপত্তা বাহিনী।
তারা কোনো কথা না বলেই ইশায়াকে ঘিরে দাঁড়ায়।
ইশায়া বাইরে পা রাখে,
১০ মাস পর সে প্রথমবার এই প্রাসাদের বাইরে পা রেখেছে।
বাতাসে অন্যরকম একটা গন্ধ,
ইশায়ার বুক ধুকপুক করে ওঠে।
একটা অদ্ভুত শূন্যতা জমাট বাঁধে বুকের ভেতর।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিলাসবহুল হেলিকপ্টার।
পাইলট প্রস্তুত, ভেতরটা পুরোপুরি সাউন্ডপ্রুফ আর নিরাপত্তা আবদ্ধ।
তাদের গন্তব্য গুয়াতেমালার সিয়েরা এল হারাদো পাহাড়ঘেরা এলাকা।
___হেলিকপ্টারে বসে ইশায়া চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে।
আকাশের নিচে বিস্তৃত পৃথিবী ছুটে যাচ্ছে,
গাড়ি, লোকজন, শহর সবকিছু যেন তার থেকে আলাদা কোনো দুনিয়া।
এতদিন পরে বাইরের আকাশটা দেখতে কেমন অচেনা লাগছে,
মনে মনে ভাবে সে।
এক সময় তো এগুলোই ছিলো তার প্রতিদিনের সঙ্গী।
আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে,
এই আকাশটাই তো আমার মুক্তির পথ।
এই বাতাসই তো একসময় আমার ছিলো।
তাহলে এমন কেনো হলো,
চোখ ঝাপসা হয়ে আসে ইশায়ার।
___ কিন্তু ভেতর ভেতর একটা অজানা ভয় তাড়া করছে তাকে,
ভীর কেন ডেকে পাঠিয়েছে?
তাকে কী করবে আবার?
কোনো শাস্তি?
নাকি অন্য কিছু?
ইশায়ার কিট্টির মুখটা বারবার ভেসে ওঠে চোখের সামনে।
এই বন্দী জীবনে তার একমাত্র প্রিয় জিনিস।
ও আমাকে খুঁজবে।
আরও শক্ত করে ব্যাগটা ধরে রাখে ইশায়া।
ভয় আর ভালোবাসা একসাথে খেলা করে তার চোখে মুখে।
কালকের যুদ্ধ শেষ হয়েছে,
আর যুদ্ধ মানেই মৃত্যু।
ভীর জিতেছে।
সে গুয়াতেমালার মাটি দখল করে নিয়েছে,
রক্ত আর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে মিগুয়েলের গড়ে তোলা আস্তানা।
___কিন্তু মিগুয়েল বাঁচার জন্য পালিয়েছে।
ভীরের চোখে চোখ রেখে পালিয়েছে।
এই অপমান ভীর গিলতে পারছে না।
সে পারে না কোনো শত্রুকে দয়া করে ছেড়ে দিতে।
যুদ্ধ শেষ হলেও,
ভীর এখনো বিশ্রাম নেয়নি।
গুয়াতেমালার পাহাড় ঘেরা দূর্গ থেকে সে বেরিয়েছে,
চোখে রক্তের মতো আগুন।
তার একটাই লক্ষ্য,
মিগুয়েলকে খুঁজে বের করে টুকরো টুকরো করা।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে,
গুপ্তচররা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে চারপাশে।
তবু মিগুয়েলের ছায়াও নেই।
ভীর দাঁড়িয়ে ছিল নিজের ওয়ার রুমে,
চোখ তার বিশাল ম্যাপে আটকে,
পাহাড়, জঙ্গল, নদী, গ্রামের রাস্তা।
তখনই দরজায় ধীর কড়া নেড়ে এক গুপ্তচর ঢোকে,
নত মস্তিষ্কে বলে,
__Boss, we have something.
ভীর ঘুরে দাঁড়ায়।
চোখে তার ভয়ংকর প্রশান্তি।
গুপ্তচর বলে,
__মিগুয়েল সে এখন পাহাড়ের নিচে, পুরনো এক পরিত্যক্ত গ্রামের পাশে,
এক লাল ইটের বাড়িতে।
ওখানে কিছু বাকি সৈন্য আছে,
আর আছে তার লুকানো অ*স্ত্রভাণ্ডার।
ভীর এক সেকেন্ডও নষ্ট করে না।
সান্তিয়াগো, নিকো, ডিয়েগো, লুইস, এনরিকো, ম্যাটিয়াস সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,
চলো।
__দশটা গাড়ি বেরিয়ে পড়ে।
প্রাইভেট জেট সব প্রস্তুত।
ভীরের হাতে কালো রা*ইফেল,
ভীর একটা কথা খুব ভালো করেই জানে শত্রুর শেষ রাখতে নেই।
আর মাথায় ঠান্ডা আগুন।
পাহাড়ি পথে ঝড়ের মতো ছুটে চলে তারা।
বনের ভেতর অন্ধকার যেন তাদের পথ দেখায়।
ভীর চুপচাপ সামনে তাকিয়ে থাকে,
তুই কি মনে করেছিস পালিয়ে বেঁচে যাবি মিগুয়েল।
মরতে তোকেই হবেই। আমার হাতে।
গুয়াতেমালার পাহাড় ঘেরা এক প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এক খবর
রাজভীর আসছে।
____গাড়ির কনভয় ছুটে চলে অসমতল রাস্তায়, পাথরে গড়া, পাশেই খাড়া খাঁদ প্রকৃতি যেন ভয় দেখায়।
তবুও তারা এগিয়ে চলে। কারণ সামনে শত্রু, আর রাজভীর শত্রুকে কখনও ছেড়ে দেয় না।
ভীরের আসার খবর আগেই পৌঁছে যায় মিগুয়েলের কাছে।
শুধু সে না, তার সঙ্গে থাকা বড় বড় পাঁচজন ভয়ংকর গ্যাং*স্টার এর কাছে, তাদের সহায়তায়-ই পালিয়ে যায় মিগুয়েল।
তারা জানে, ভীর মানেই মৃত্যু।
তাই তারা কেউই আর সেখানে থাকার সাহস রাখে না।
পালিয়ে যায় অন্ধকার পথ ধরে, ফেলে যায় সৈন্য আর ঘাঁটি।
ভীরের সাথে সামনা সামনি লড়ার সাহস কারোর-ই নেই।
____ভীরের বাহিনী ছায়ার মতো ঢুকে পড়ে।
কোনো চিৎকার নেই, কোনো দয়া নেই,
শুধু গুলি, রক্ত, আর নিঃশব্দ মৃত্যু।
সান্তিয়াগো ফা*য়ার করতে করতে এগিয়ে আসে।
নিকো এগিয়ে আসে ছায়ার মতো, তার হাতের চা*কু ছিন্ন করে শ্বাসনালী সামনে আসা প্রত্যেকের।
ডিয়েগো কোণায় থাকা বাং*কারে ঢুকে গ্যাস ছুঁড়ে দেয়।
আর ভীর?
সে চুপচাপ সামনে এগোয়, চোখে তীব্র আগুন তার একমাত্র লক্ষ্য,
শেষ সৈন্যটিকেও নিজের পায়ের নিচে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।
চারদিকে শুধু ধোঁয়া, গন্ধ, আর রক্তাক্ত নীরবতা।
___ভীর রাগে চিৎকার করে বলে,
তুই বাঁচতে পারবি না মিগুয়েল, তোকে আমি ছিন্ন বিন্ন করে ফেলবো।
এভাবে কয়দিন পালিয়ে বাঁচবি তুই।
মরতে তোকে হবেই।
____অন্যদিকে সেই সময়
গুয়াতেমালার অন্যপ্রান্তে, পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি দূর্গের মতো বিলাসবহুল বাড়িতে,
ইশায়া পৌঁছায়।
এই বাড়িটি বাইরে থেকে খুব সাধারণ মনে হলেও, ভেতরে একদম আলাদা জগৎ।
ছাদে হেলিপ্যাড, চারদিকে ট্রিপল সিকিউরিটি, নজরে ক্যামেরা, ড্রোন সার্ভেইলেন্স, ইনফ্রারেড লেজার গার্ড।
ভেতরে ১০০+ দক্ষ প্রশিক্ষিত গার্ড।
ভীর আগেই ইশায়ার জন্য সব ব্যবস্থা করে রেখেছে ঘর, জামাকাপড়, খাবার, সবকিছু।
ইশায়াকে নিয়ে যাওয়া হয় তার রুমে,
ঘরটা তার প্রাসাদের মতো বড় না হলেও,ছোট না,
প্রতিটি জিনিসই মূল্যবান।
বড় কিং সাইজ বেড,
পাশে সাজানো দামি ঘড়ি, অ*স্ত্র, আর ভীরের ব্যক্তিগত ছোট মেমোরি-বক্স।
গাঢ় রঙের ওয়ালপেপারে উজ্জ্বল লাইটের ছায়া পড়ে।
এক কোণে বইয়ের তাক।
ইশায়া প্রথমে অবাক হয়।
তারপর ধীরে ধীরে চোখ বুলায় চারপাশে।
সে চুপচাপ বিছানায় বসে, জানালা দিয়ে পাহাড়ের দিকে তাকায়।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৩৭
____ভীর নিজের হাতে পরিদর্শন করে পুরো এলাকা,
ধ্বংসপ্রাপ্ত অ*স্ত্রভাণ্ডার, ডেটা রিকভারি, রিক্রুটিং সিস্টেম সব সে নিজেই চেক করে।
এর মাঝে ডিয়েগো এসে খবর দেয়,
Boss,
she has arrived.
ভীর থেমে যায়।
চোখ বন্ধ করে একবার শ্বাস নেয়।
কিন্তু চোখে বয়ে যায় অদ্ভুত এক উন্মত্ততা।
__Prepare the jet. I’m going tonight.
