Home প্রিয় বেলিফুল প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১২

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১২

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১২
উম্মে হাবিবা

~~~ ভালোবাসার কি কোনো রং হয়!যদি হয়েও থাকে তাহলে সেটা কি রং? সাদা!, শুভ্র পবিত্র প্রশান্তির রং। কিন্তু মানুষ যে লাল গোলাপকে ভালোবাসার প্রতিক বলে। আচ্ছা গোলাপের জায়গায় সাদা রং এর বেলি হলে কি খুব সমস্যা হবে। কেউ যদি নিজ হাতে সাদা শুভ্র বেলি দিয়ে একটা গাঁজরা বুনে সেটা নিজ হাতে খোঁপায় পরিয়ে বলে ভালোবাসি। তখন কি তাকে ফিরিয়ে দেয়া যাবে? কেউ যদি এক মুঠো বেলি নিয়ে এসে বলে আমার ভালোবাসা তোমার জন্য। তখন কি সেই ভালোবাসা গ্রহন না করে থাকা যাবে। আমি তো পারবো না।
সোহাকে উঠতে দেখে রুদ্র সোহার ডাইরিটা বন্ধ করে পেলে। যেটা সে আসার সময় সোহার টেবিল থেকে লুকিয়ে নিয়ে এসেছিলো।

রুদ্র জানতো না কেউ তার মতো বেলি ফুল এতোটা পছন্দ করে।
সকাল সকাল ঘুম ভেঙ্গে সোহা হাই তুলতে তুলতে বসে। ঘুমের রেশ কাটিয়ে পাশে তাকিয়ে দেখে রুদ্র নেই। কালকে রাতে রুদ্রের বলা কথা টা হঠাৎ মনে পড়তেই আবারও লজ্জায় নুইয়ে যায় সোহা। দুহাতে মুখ ঢেকে হাসতে থাকে।
আর এই দিকে সকাল সকাল সোহার এমন অকারণে হাসার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না রুদ্র।
হাসতে হাসতে হঠাৎ পাশে নজর পড়তেই দেখে রুদ্র ভ্রু জোড়া কুঁচকে বুকে হাত গুঁজে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
সোহার হাসি আপনা আপনি বন্ধ হয়ে যায়।তারাহুড়ো করে ফ্রেশ হতে চলে যায়।
এইদিকে রুদ্র আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে।
সকালে নাস্তা শেষে যে যার রুমে চলে গিয়েছে। একটু পর সবাই সবার কলেজ কর্মস্থলে বের হবে। আজ আর রাজিয়া চৌধুরী বা আদিবা কেউ কোনো বিষয় নিয়ে সোহার পিছনে লাগেনি। তবে খাবার টেবিলে সোহা খেয়াল করেছে তাদের মা মেয়ের কার্যকালাপ।

একটু পর পর মিটিমিটি হাসা,চোখ দিয়ে ইশারায় কথা বলা। সব সোহার কাছে কেমন খটকা লাগছে।
তখন থেকে কোন ভাবনায় ডুবে আছো তুমি?
সোহা ভাবলো সে হয়তো একটু বেশি ভাবছে তাই রুদ্রের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে কিছু না বলে কলেজে যাওয়ার জন্য ড্রেস নিয়ে চেঞ্জ করতে যায়।
রুদ্র রুমেই চেঞ্জ করে নিয়েছে। নিজের অফিসের ব্যাগ গুছিয়ে পিছন ফিরতেই দেখে আদিবা দাঁড়িয়ে।
কি করছো রুদ্র। সোহা বুঝি তোমার অফিসের ব্যাগ টাও গুছিয়ে দেয় না।
ওটা তো সোহার কাজ না। আর আমার নিজের কাজ আমি নিজে করতে পছন্দ করি।
সোহা এগিয়ে এসে রুদ্রের হাত ধরে।
ছেড়ে দাও না রুদ্র ঐ মেয়ে টাকে কি আছে ওর মধ্যে।
রুদ্র হাত খানা ঝাড়া মেরে সরিয়ে দেয়। দূর থেকে কথা বলো আদিবা বার বার গায়ে ঢলে পড়বা না। আর কি বলছিলে ছেড়ে দিবো। আচ্ছা ধরো ছেড়ে দিলাম তারপর? তোমাকে বিয়ে করে নিবো?
হ্যাঁ আমি তো কবে থেকে এটার অপেক্ষায় আছি। তুমি আর আমি সুখে শান্তিতে সংসার করবো।
রুদ্র এবার তাচ্ছিল্যের হাসা হাসে__
সুখে তাও আবার তোমার সাথে যার এতো টুকু ম্যানার্স পর্যন্ত নেই যে কারোর রুমে প্রবেশ করতে হলে তার অনুমতি লাগে। তারউপর যদি সে বিবাহিত হয়। তার রুমে তার স্ত্রী থাকে।
রুদ্র আমি__

অনেক হয়েছে আদিবা। তোমার এসব ফালতু কথা শুনার সময় এখন আমার নেই আর না কখনো হবে। তুমি নিজে রুম থেকে বের হবে নাকি আমি ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবো।
রুদ্র তুমি ভুল করছো।
Get out of my room right now!!
আদিবা রেগে বেরিয়ে যাবে তখনি রুদ্র আবার বলে উঠে। এর পর থেকে আমার রুমের আশেপাশেও যাতো তোমাকে না দেখি।
রুদ্র অনেক বেশি রেগে থাকায় দরজায় টোকা দিয়ে সোহার উদ্দেশ্যে বলে__
আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি চলে এসো।
বলেই বেরিয়ে যায়।
এইদিকে এতোক্ষণ রুদ্র আর আদিবার সব কথা শুনে সোহা ভাবে এই ছ্যাচড়া মেয়েটাকে এবার একটা শিক্ষা অবশ্যই দিবে সে।
রুদ্র সদর দরজা পেরিয়ে বপর হতেই কেউ একজন নিজের কজে লেগে পড়ে। যেনো এতক্ষণ এটার অপেক্ষাতেই ছিলো।

সিঁড়িতে তেলে ঢেলে রাজিয়া চৌধুরী তারাতারি লুকিয়ে পড়ে আর সোহার আশার অপেক্ষা করে।
সোহা রুম থেকে বের হয়ে নিচে নামার জন্য সিঁড়িতে পার রাখবে তখনি দেখে হল রুমে ডেকোরেশন এর জন্য লাগানো একটা বড়ো আয়নায় রাজিয়া চৌধুরীকে দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে সে সোহা নামার অপেক্ষা করছে। সোহা এবার সিঁড়ির দিকে তাকায়। কয়েকটা সিঁড়িতে তেল ছড়ানো দেখে বুঝে যায় রাজিয়া চৌধুরীর আসল উদ্দেশ্য এই জন্যই বুঝি তখন মা মেয়ে ইশারায় কথা বলছে।
এখনতো মনে হচ্ছে শুধু মেয়েকে না মেয়ের মা কেও শিক্ষা দিতে হবে।
সোহা আস্তে আস্তে তেল পড়া সিঁড়ি টায় আসে। তারপর আস্তে করে বসে সিঁড়ি থেকে তেল নিয়ে নিজের পায়ে জামায় এমন ভাবে মাখে দেখলে মনে হবে সে এখানে অনেক জোরে পড়ে গিয়েছে।
রাজিয়া চৌধুরী এসব দেখে ভ্রু কুঁচকে ভাবছে__
এই মেয়ে এসব কি করছে? আর ও জানলো কিভাবে সিঁড়িতে তেল আছে।
তিনি আর কিছু ভাবার আগেই সোহা ওমাগো বলে জোরে এক চিৎকার দেয়।
রাজিয়া চৌধুরী ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় এই মেয়ে এমন চেঁচাচ্ছে কেনো।
এই দিকে সোহার চিৎকার শুনে রুনিয়া মেহতাব,, রৌদ, রেদওয়ান আর আশরাফ মেহতাব সবাই দোড়ে আসে আদিবাও আসে। সে মনে মনে খুশি হয় এটা ভেবে যে সোহা কে শিক্ষা দিতে পেরেছে।
সবাই দোড়ে সোহার কাছে আসতেই সোহা কান্না জুড়ে দেয়।
রুনিয়া মেহতাব তারাতাড়ি গিয়ে সোহার পাশে বসে।
কি হয়েছে আম্মু পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছো?

রৌদ চিৎকার করে বলে আম্মু দেখো এখানে তেল। ভাবি হয়তো তেলের কারণে পিছলে পড়ে ব্যথা পেয়েছে।
আশরাফ সাহেব বলে __কিন্তু এখানে তেল আসবে কিভাবে?
রেদওয়ান সাহেব ও একই কথা বলছে আর রুনিয়াকে বলছে সোহা কোথায় ব্যথা পেয়েছে দেখতে।
আরে আগে ভাবিকে রুমে নিয়েযেতে হবে। আমি ভাইয়াকে ডেকে আনি। বলেই দৌড়ে বেরিয়ে।
রুদ্র গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে বিরক্তি মুখে দাঁড়িয়ে আছে আর বারবার সময় দেখছে।
রৌদ দৌড়ে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলে__
ভাইয়া ভাবি সিঁড়িতে পড়ে গিয়েছে।
রৌদের কথার বুঝে উঠতেই কোনো দিকে না তাকিয়ে দৌড়ে বাসার ভিতরে ঢুকে।
সোহাকে কান্না ভেজা চোখে সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখে তার যানে এখনি হৃদপিণ্ড খানা বেরিয়ে আসবে। বুকের বা পাশে চিনচিন ব্যথা হচ্ছে রুদ্র বুঝতে পারে।
তারাতারি সোহার দিকে এগিয়ে যায় সোহার মুখ খানা দুহাতের আজলায় নিয়ে জিজ্ঞেস করে__
কি হয়েছে কোথায় ব্যথা পেয়েছো বলো দেখাও আমাকে।
রুদ্র আগে ওকে রুমে নিয়ে যেতে হবে।
রুদ্র কো দিকে না তাকিয়ে সোহাকে পাঁজা কোলে তুলে নেয়।সোহা এতক্ষণের অভিনয় এর কান্না আপনা আপনি থেকে যায়।

সবাই রুদ্রের পিছন পিছন রুমে প্রবেশ করে।
আদিবা হাসি মুখে নিজের মায়ের দিকে এগিয়ে যায়।
একদম ঠিক কাজ করেছো আম্মু এই মেয়েটার ভালো একটা শিক্ষা হবে। আমাদের সাথে লাগতে আসা।বেচারির মনে হয় পা টাই ভেঙ্গে গেছে। বলেই হাসতে থাকে।
ওর কিছুই হয়নি আদিবা।
আদিবা হাসি থামিয়ে মায়ের দিকে তাকায়।আর রাজিয়া চৌধুরী তখনকার সব গঠনা খুলে বলে।
এসব কি বলছো আম্মু! এই মেয়েতো দেখি আমাদের চেয়ে এক কাঠি উপরে।
চিন্তা করিস না যতই উপরে হোক নিচেতো ওকে আমি নামিয়ে আনবোই আর এই বাড়ি থেকেও তাড়াবো। এখন চল ঐ রুমে না হলে সন্দেহ করবে।
রুদ্র সোহাকে বেডে সুইয়ে দেয়। রেদওয়ান সাহেব বলে উঠে আমি ডাক্তারকে খবর দিচ্ছি। সোহা পড়ে বিপাকে ডাক্তারকে আসতে দেয়া যাবে ন না হলে সবাই জেনে যাবে সব।
না বাবা ডাক্তার লাগবে না এমনি একটু রেস্ট করলে ঠিক হয়ে যাবে।
রুদ্র ধমক দিয়ে বলে উঠে। বেশি বুঝো তুমি বাবা তুমি ডাক্তার আঙ্কেলকে আসতে বলো।
সোহা আবার মানা করবে তখনি রাজিয়া চৌধুরী বলে উঠেন।
রুদ্র তো ঠিকি বলছে।আর ডাক্তার এসে দেখলে সমস্যা কি।

সোহা আর কিছু বলতে পারে না সে মনেমনে বলে __এই মহিলার হাড়ে হাড়ি কুটনামি আর বজ্জাত গিরিতে ভরা।খুব করেই জানে ডাক্তার আনলে সবাই আমাকেই ভুল ভাববে। উফ এখন কিযে করি।
সবাই সোহার পাশে বসে আছে। রুদ্র প্রিন্সিপালের কাছে কল কর আজকের জন্য ছুটি চেয়ে নিয়েছে। রেদওয়ান সাহেবের গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকায় তাকা যেতে হয়েছে। রৌদের ক্লাস টেস্ট থাকায় সে ও চলে গিয়েছে।
রুমে রুদ্র রুনিয়া আর রাজিয়া চৌধুরী আছে আদিবা আসেনি আর এই রুমে।
হঠাৎ রুদ্রের কিছু মনে পড়তেই সে বলে উঠে। আচ্ছা আম্মু সিঁড়িতে তেল আসলো কিভাবে।
রুদ্রের কথায় রাজিয়া চৌধুরী ঘাবড়ে যান।
আমি বুঝতেছি না বাবা আমি তো এইদিকে তেল নিয়ে আসি নি আর মারিয়া ও বাসায় নেই যে বলবো ও ভুলে পেলেছে।

হঠাৎ বাসার কলিং বেল বাজতেই রুনিয়া মেহতাব বলে উঠেন__তুই বস ওর কাছে মনে হয় তোর ডাক্তার আঙ্কেল এসেছে আমি দেখছি। এটা বলেই রুনিয়া বেরিয়ে যান।
রুদ্র রাজিয়া চৌধুরীর দিকে সন্দেহের চোখে তাকাতেই রাজিয়া আমতা আমতা করে বলে তুই আমাকে সন্দেহ করছিস রুদু। তোর মনে হচ্ছে আমি আমি সিঁড়িতে তেল ফেলে তোর বউকে মারছে ছেয়েছি?
রুদ্র গম্ভীর গলায় বলে __আমি তো এমন কিছুই বলিনি আপনাকে ফুফু।সব কথা তো আপনি নিজেই বললেন। কাজটা যেই করে থাকুক সে অবশ্যই শাস্তি পাবে সে যেই হয়ে থাকুক।
তখনি দরজায় ঠকঠক শব্দ আর বাহির থেকে কেউ একজন বলে উঠে__ভিতরে আসতে পারি?
কন্ঠ শুনেই রুদ্র দরজার দিকে তাকায়। দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিকে দেখে ভিষন অবাক হয়। সাথে বেশ রেগেও যায়।
এই দিকে সোহার অবস্থা করুন সে ভাবছে এসব থেকে কিভাবে বাঁচবে এবার। রাজিয়া চৌধুরী সোহার অবস্থা দেখে বেশ খুশি হচ্ছেন।
ফর্সা লম্বা একদম রুদ্রের মতো একজন ফরমাল লুকে একজন রুমে প্রবেশ করে। হাতে ব্যাগ দেখে বুঝতে পারে উনি ডাক্তার।

রাজিয়া চৌধুরী ছেলেটাকে দেখে অবাক হলেও হাসি মুখে ছেলেটাকে বলে__
আরে ফয়সাল কেমন আছো তুমি? অনেক দিন পর তোমাকে দেখলাম।
ফয়সাল নামে লোকটা হেঁসে সালাম দেয় রাজিয়াকে।
জ্বি আসলে কর্ম ব্যাস্ততায় আসা হয় না এখন আর বলেই রের দিকে তাকায়।
রুনিয়া মেহতাব রুমে এসে একবার রুদ্রের দিকে তাকায় তারপর হাসার চেষ্টা করে বলে__
ফয়সাল তোমার বাবা আসার কথা ছিলো।
জ্বি মামুনি আসলে বাবা নিজেই আসতো হঠাৎ হসপিটালে একটা ইমার্জেন্সি পড়ে যাওয়ায় আমাকেই আসতে হলো।
তাও ভালো না হলেতো এখন আর মামুনিকে তোমার মনেই পড়ে না।
ফয়সাল আবার হাসে আর মাঝে মাঝে রুদ্রের দিকে তাকায় সে মুখটা কঠিন করে আছে। তারপর নজর যায় বিছানায় সুয়ে থাকা সোহার দিকে।
হঠাৎ একজন অপরিচিত ব্যাক্তির সাথে চোখাচোখি হতেই সোহা চোখ নামিয়ে নেয়।
আচ্ছা মামুনি এই মেয়েটা কে? দেখতে তো বেশ কিউট আপনার কোনো আত্মীয় নাকি।
রুনিয়া মেহতাব রুদ্রের দিকে তাকায় কি বলবেন ভেবে পাচ্ছেন না। ফয়সাল এবার সোহার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করে __

এই পিচ্চি কি নাম তোমার?
পিচ্চি বলায় সোহা ইতস্তত বোধ করে তাও মুখ ফুটে নিজের নাম বলবে তার আগেই রুদ্র বলে উঠে___
মিসেস রুদ্র মেহতাব।
ফয়সাল কিছুটা অবাক হয়ে তাকায়। ও কি ভুল শুনলো।
জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে রুনিয়া মেহতাব এর দিকে তাকাতেই তিনি চোখের ইশারা বুঝায় রুদ্র ঠিক বলছে।
ফয়সাল আবার তাকায় বিছানায় অর্ধশোয়া সোহার দিকে।
এই দিকে সোহা ভয়ে শেষ এখন যদি এই লোক বলে দেয় ওপায়ে কোনো আঘাত পায় নি তখন।
রুদ্র তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে __
আম্মু উনাকে উনার কাজ শুরু করতে বলো। এখানে গল্প আর আড্ডা দেয়ার জন্য ডাকা হয়নি তাকে।
রুদ্রের কথায় ফয়সাল নতমস্তকে হাসে।
সোহা বেশ অবাক হয়,, লোকটার সাথে রুনিয়ার কথা বলার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে তারা পরিচিত।
তাহলে রুদ্র এমন ব্যবহার করছে কেনো। তখনি সোহার মনে পড়ে কালকে রাতে রুদ্র বলেছিলো তার খুব কাছের বন্ধুর নাম ফয়সাল।

আচ্ছা উনি কি সেই ফয়সলা? এমন নানান চিন্তা ঘুরছে সোহার মাথায়।
ফয়সাল একটা টুল টেনে বসে সোহার বেডের পাশে। তারপর জিজ্ঞেস করে __
বলো তোমার কোথায় সমস্যা হচ্ছে।
রুনিয়া মেহতাব এগিয়ে এসে বলে__সোহা আসলে সিঁড়িতে পড়ে গিয়েছে।
রাজিয়া রসিয়ে রসিয়ে বলে __হুম দেখোতো বাবা ঠিক কতোটা ব্যথা পেয়েছো। মনে হয় অনেক দেখো ভেঙ্গে বা ফুলে গিয়েছে কিনা।
সোহা ভয়ে বালিশ চেপে ধরে আছে এই বুঝি ধরা খেলো। ফয়সাল সোহার পায়ে হাত দিতে যাবে তখনি রুদ্র বল উঠে।
ওকে ছোঁবে না।
ফয়সাল বিরক্ত হয়ে বলে__পা না ছুলে বুঝবো কিভাবে কোথায় ব্যথা পেয়েছে।
বুঝতে হবে না আপনি চলে যান আমি ওকে হসপিটাল নিয়ে যাবো।
সোহার প্রতি রুদ্রের এমন__

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১১

রুনিয়া বলে উঠে __ আ হা রুদ্র এমন করছিস কেনো মেয়েটার ব্যথা হচ্ছে ফয়সাল কে দেখতে দে একবার। রুদ্র এবার কিছু না বলে দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে আছে।
ফয়সাল সোহার পা ভালোভাবে দেখতে থাকে তারপর হাতের সাহায্যে বুঝার চেষ্টা করে কোনো গভীর আঘাত পেয়েছে কিনা।
কিচ্ছুক্ষণ পর ফয়সাল সবার দিকে তাকায় সোহা ভাবে এই বুঝি সব বলেদিলো। রাজিয়া আগ্রহের সাথে তাকায়।
তখনি ফয়সাল বলে __

প্রিয় বেলিফুল পর্ব ১৩