সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৯
তানিয়া হুসাইন
চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে আছে।চারদিকে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক গার্ডের চোখে আতঙ্কের সাথে লেগে আছে প্রস্তুতির ছাপ। এই মুহূর্তে তারা সবাই অপেক্ষা করছে একমাত্র ব্যক্তিটির জন্য,
মাফিয়া বস রাজভীর আলভারেয।
কেউ কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না, কারণ জানে শেষ কথা বলার অধিকার একমাত্র তার।
এক এক করে সাদা কালো একাধিক সেডান ও ব্ল্যাক বু*লেটপ্রুফ এসইউভি এসে থামে গেটের সামনে। গাড়িগুলোর গ্লাস কালো, ভেতরে দেখা যায় না, কিন্তু যারা জানে তারা বোঝে, এখন আসছে মাফিয়া লিজেন্ডদের দল।
প্রথমে নামে নিকো রামিরেজ রাগে ফেটে পড়া মুখ। তার পেছন পেছন ডিয়েগো, ঠান্ডা মেজাজের এক দক্ষ মস্তিষ্ক, যার হাতে গার্ড অপারেশন থাকে। তারপর নামে ম্যাটিয়াস ভীরের ছায়ার মতো বিশ্বস্ত আর ভয়ঙ্কর সব লোক।
তাদের চোখ পড়ে দূরে একটা বোরখা-পরা মেয়ের উপর। পুরো শরীর ঢাকা, এমনকি চোখ পর্যন্ত কাপড়ে আচ্ছাদিত। দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে।
নিকো তখনই রেগে সামনে যেতে উদ্যত হয়,
কিন্তু ডিয়েগো দ্রুত তার সামনে এসে দাঁড়ায়, কাঁধে হাত রেখে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
থামো।
বস আসছে। সে নিজে দেখবে।
নিকোর পা থেমে যায়।
কিন্তু রাগে হিস হিস করতে করতে সামনে তাকিয়ে আছে সে,
কিছুক্ষনের মধ্যেই আরো একটি গাড়ির শব্দ শোনা যায়।
সবার দৃষ্টি তখন গেটের বাইরে গর্জনের মতো শব্দ করে আসতে থাকা গাড়ির দিকে।
বড় একটা ব্ল্যাক এসইউভি ধুলো উড়িয়ে এসে থামে।
গাড়ির দরজা খুলতেই প্রথমে দেখা যায় একজোড়া কালো বুট।
তারপর নিচে নেমে আসে ভীর।
কাঁধ পর্যন্ত এলোমেলো চুল, গভীর লালচে চোখে,নির্ঘুম চোখ , রাগ আর অস্থিরতা মিশে এক ভয়াবহ বিভৎস রূপ ধারণ করেছে। কালো শার্টটা বুক অবধি খোলা, পেটের মধ্যে গোঁজা গাঢ় কালো রি*ভলবার। তার উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ মুখটা এতটাই কঠিন, এতটাই ভয়াবহ যে চারপাশ হিম হয়ে যায়। দাঁড়িগুলো গুছানো নয়, সে যেন রক্তের তৃষ্ণায় পাগল এক শিকারির মুখচ্ছবি।
ভীর কারো দিকে না তাকিয়ে সোজা এগিয়ে যায় সেই মেয়েটির দিকে।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।
মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দে। হাত-চোখ-মুখ সব ঢাকা। তাকে দেখে কিছু বোঝা যাচ্ছে না।বস্তার মতো বোরখা পড়নে,ভীরের মনে হলো এটা ইশায়া না তবুও
ভীর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, তার ভয়াল কণ্ঠে বলে,
__মুখ খোলো।
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাফিয়ারা নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে।
মেয়েটির ঠোঁট কাঁপছে, সে জানে এই পুরুষটির রাগ মানে মৃত্যু।
এরা মাফিয়া।
সে আর কিছু না ভেবেই হাত দিয়ে মুখের কাপড় নামিয়ে নেয়।
ভীরের চোখে যেন আগুন জ্বলে ওঠে।
না এটা ইশায়া না।
___একটা গম্ভীর নিরবতা ভাঙে, পেছন থেকে নিকোর মুখ থেকে বের হয় রাগে,
ফাক।
এবারো পেলাম না।
ভীর পেছন ঘুরে দাঁড়ায়। তার মুখের রাগ স্পষ্ট, অগ্নিগিরির ছাই।যত সময় যাচ্ছে সে তার মাত্রা হারাচ্ছে।
কোনো শব্দ না করেই সে তাকায় মেয়েটির দিকে।
চলে যা। তোকে আমরা খুঁজছিলাম না।
ভীরের কথা শেষে মেয়েটি দৌড়ে চলে যায়।
ভীর দাঁড়িয়ে। নীরবতা গিলে নিচ্ছে তাকে।
তার বুকের ভেতরে ধ্বংস চলতে থাকে।
পেছনে থাকা কেউ এগিয়ে আসে না।
কেউ একটি শব্দ ও করেনা,
সবাই জানে ভীর এখন আগুন হয়ে আছে,এই আগুন যার মুখোমুখি হবে, সে শেষ হয়ে যাবে।
ভীর দুহাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাড়িয়ে আছে,
এতো ব্যর্থতা সে মেনে নিতে পারছে না।
ভীর এখন নিজেকে একেবারে হেল্পলেস অনুভব করছে।
যার একটা ইশারায় কোটি মানুষ কাঁপে,
যে এক ডাকে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, রাজ্য সবকিছুকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখে,
আজ সেই ভীর-ই একটি মেয়েকে খুঁজে বের করতে পারছে না।
তার সমস্ত ক্ষমতা, বাহিনী, কৌশল সব আজ যেন ব্যর্থ হয়ে গেছে।
তার রাজত্ব, তার শাসন সবই অর্থহীন হয়ে গেছে এখন।
আমি যদি ওকে খুঁজেই না পাই তাহলে এই রাজত্ব, এই শক্তির কী প্রয়োজন।
যে রাজত্ব যে শক্তি নিজের রানীকে ধরে রাখতে পারে না।
তার ভেতরে একটা অজানা ভয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
হয়তো সত্যিই সে তাকে হারিয়ে ফেলেছে।
হয়তো আর কখনও তাকে দেখতে পাবে না, ছুঁতে পারবে না।
এই ভয়টা বুকের মাঝে সাপের মতো কুণ্ডলি পাকিয়ে বসে আছে।
ভীর তখন একদৃষ্টিতে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে,
এমন সময় নিকো ধীর পায়ে এগিয়ে আসে।
তার মুখে ক্লান্তি, চোখে সংশয়।
—ভাই, আমার মনে হয় ও হয়তো আর…
ভীর ধীরে ঘুরে তাকায়।
তার চোখের পাতা কাঁপছে না, চোয়াল শক্ত।
এক ঝলকে তাকায় নিকোর চোখে।
নিকো থমকে যায়।
কিন্তু একটু পর আবার গলা নিচু করে বলে,
—সব জায়গায় আমাদের লোক লাগানো ভাই,
প্রত্যেকটা গ্রাম, প্রতিটা ঘর, বর্ডার, বাজার, জঙ্গল সব চেক করেছি।
কিন্তু কোথাও পাইনি আমরা।
ও হয়তো মিগুয়েলের লোকের হাতে পড়েছে।
হয়তো প্রতিশোধ নিতে…
ভীর পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
একরাশ আগুন ঘূর্ণি খাচ্ছে ভেতরে।
ভীর বলে,
এমন ও হতে পারে কেউ ওকে আশ্রয় দিয়েছে,
কারও সাহায্যে ও এখন লুকিয়ে আছে।
___কিন্তু সেটা
ভীর হঠাৎ রাগে গর্জে ওঠে,
—স্টপ!
নিকো থেমে যায় বলে না কিছু আর।
আর কেউ না বুঝুক ভীরের অস্থিরতা সে বুঝতে পারছে।
ভীর এক পা এগিয়ে এসে গম্ভীর গলায় বলে,
—আমার সোমব্রা আর লোবোকে আনার ব্যবস্থা কর।
যত দ্রুত সম্ভব ওদেরকে এখানে আনো,গুয়াতেমালায়।
নিকো চোখ তুলে তাকায়,
তার ঠোঁটের কোণে কুটিল হাসি ফুটে ওঠে।
—গ্রেট আইডিয়া ব্রো,
আমি এক্ষুনি সব ব্যবস্থা করছি।
ভীর স্থির কণ্ঠে বলে,
—এই পৃথিবীর যে কোনো কোণায় লুকিয়ে থাকিস না কেন।
আমার চোখের আড়ালে যাওয়া মানেই মৃত্যু।
এবার শুধু বন্দিত্ব না,
তোর কবর হবে আমার রাজত্বের মাটির নিচে।
তার ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কণ্ঠে এমন হুমকি,
যেটা মাটির তলায় জমে থাকা আগ্নেয়গিরির মতো,
চুপচাপ, অথচ ধ্বংসাত্মক।
___এদিকে টিয়াগো অস্থির।
ঘরের এক কোণ থেকে আরেক কোণে হাঁটছে সে। ভেতরে চাপা উত্তেজনা, ভয়, আর এক অদ্ভুত আনন্দ কাজ করছে একসাথে। বারবার দরজার ফাঁক দিয়ে রাস্তার দিকে উঁকি দিচ্ছে,
চোখে একটাই প্রশ্ন মাফিয়ার লোকেরা এখনো আছে তো।
ভয়ের ঘাম মুছতে মুছতে নিজের মোবাইলের স্ক্রিনে সময় দেখে।
অন্ধকার হলেই মেয়েটিকে বলবে চলে যেতে।যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেয়েটাকে সরিয়ে ফেলতে হবে,তবে-ই বাঁচা যাবে।
এই মেয়েটা বের হলেই আমাদের মুক্তি,চোয়াল শক্ত করে নিজেকে বোঝায় টিয়াগো।
ও জানে একবার ধরা পড়লে তার হাড্ডি-মাংস আলাদা করে দেবে আলভারেয।
মেক্সিকোর কিং সে,
একবার দৃষ্টি পড়লে নিঃশ্বাসও শেষ হবে চোখের পলকে।
তাই এখন গা ঢাকা দিয়ে কাজ সারতে হবে।
চুপিচুপি, নিঃশব্দে।
একটু পরপর টিয়াগো বাজার পর্যন্ত গিয়ে দেখে আসছে রাস্তা ফাঁকা কিনা।
যদি বাড়ির গেটের সামনে কোনো পাহারা না থাকে, তবে মেয়েটাকে বলবে সোজা বেরিয়ে যেতে।
কারণ কেউ যদি দেখে ফেলে তাদের ঘরে এই মেয়ে আছে তাহলে তাদের আর নিস্তার নেই।
গেটের পেছনের অন্ধকার গলিটা ভালো করেই চেনে টিয়াগো।
সেখান দিয়েই চলে যেতে বলবে সে শুধু অন্ধকার হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
তারপর বাঁচার আনন্দ, আর তৃপ্তি।
মেয়েটার হাতে থাকা ডায়মন্ডের রিংটা ইতিমধ্যেই সে হাতিয়ে নিয়েছে।
রিংটা তার পকেটে সুরক্ষিত।
আর গলায় যে অমূল্য পেন্ডেন্ট সেটা তো সে পেয়েই গেছে।
এই দুটো জিনিসই যথেষ্ট
বাকি জীবন আরামে কাটানোর জন্য।
আর মেয়েটার কি হবে?
তাকেও হয়ত শেষ করতে হবে, যদি কথা বলতে শুরু করে,
তবে সেটাও পরে দেখা যাবে।
এই মুহূর্তে তার একমাত্র লক্ষ্য মেয়েটাকে এইখান থেকে লোক চক্ষুর আড়ালে বের করে দেওয়া।
একবার তাদের সীমানা থেকে বেরিয়ে গেলে এরপর যা কিছুই হোক না কেন তার আর কিছু যায় আসে না। নিজে বাঁচতে পারলেই হলো।
নিজের লোভ নিজের জীবনএই দুইয়ের কথা ভেবেই টিয়াগো আজ হয়ে উঠেছে শ*কুন।টিয়াগো একবার ভেবেছিলো মিগুয়েলের লোকদের হাতে তুলে দিবে এই মেয়েকে কিন্তু অতি লোভে শেষে না প্রান হারাতে হয় এই ভয়ে আর কিছু করেনি।
সে কেবল অপেক্ষায় আছে, কখন মূহূর্তটা আসবে।
আর কখন সে তার খেলার শেষ চালটা চালবে।
______ভীরের নির্দেশের ঠিক পরেই মেক্সিকো থেকে সোমব্রা ও লোবো কে বিশেষ বিমানে করে রওনা করানো হয়। এই দুটো ট্রেইনিংপ্রাপ্ত কুকুর,
সোমব্রা ও লোবো শুধু সাধারণ অনুসন্ধান নয়, তারা মানুষের ঘ্রাণ, সাইকোলজিকাল রেসপন্স, এমনকি তার শরীরের নড়াচড়ার ধরন পর্যন্ত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
____
ভীর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে , চোখে অস্বস্তি আর রাগের মিশ্র প্রতিচ্ছবি।
তার অপেক্ষা এখন কেবল সোমব্রা ও লোবোর জন্য।
এই দুজন তার কাছে এখন অস্ত্রের থেকেও শক্তিশালী, ভয়ংকর এক অস্তিত্ব।
তার মনোজগতে এখন একটাই চিন্তা ইশায়া।
যেভাবেই হোক তাকে ফিরে পেতেই হবে।
___এমন সময় হঠাৎ করেই পাশ থেকে এনরিকো একটু ধীর কণ্ঠে বলে,
— বস!
আজকে একটা ডিল সাইন করার কথা ছিল, ঢিলার ফোর্বস কোম্পানির সাথে।
তার কণ্ঠস্বর কেমন যেন নরম, কাঁচুমাচু করে বলছে।
ডিলার বারবার ফোন দিচ্ছে তাকে।
____ভীরের ধৈর্যের সীমা যেন তখনই ছিঁড়ে গেল।
সে রাগে এক লাফে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠল,
— Maldito cabron!
তুই পাগল নাকি?
তার গলা এত উচ্চস্বরে যে আশেপাশে থাকা গার্ডরা কেঁপে ওঠে।
— তুই ডিলের কথা বলছিস এখন?
আমার মাথা ছিড়ে যাচ্ছে।
আর তুই বলছিস ব্যবসার কথা?
রিকো ততক্ষণে মাথা নিচু করে ফেলেছে। ভীরের ক্রোধ যেন আগুন হয়ে তার শরীর ছুঁয়ে যাচ্ছে।
ভীর দাঁত কটমট করে নিজেকে ঠান্ডা করে বলে ওঠে,
— সব ডিল, সব প্ল্যান ক্যানসেল করে দাও। এখনই। এই মুহূর্তে।
যতক্ষণ না আমি তাকে ফিরে পাচ্ছি,
ততক্ষণ আমার কোনো কিছুতেই মন বসবে না।
না ব্যবসা, না অ*স্ত্র, না সাম্রাজ্য।
I need her. At any cost.
জীবন দিয়ে হলেও আমি তাকে ফেরত আনবো।
তার চোখে তখন অদ্ভুত এক অন্ধকার,
যার নাম ভালোবাসা,যার রূপ পাগলামি,
আর যার পরিণতি হবে ধ্বংস।
বিমানটা মেক্সিকো থেকে আসে গুয়াতেমালার সীমান্ত ঘেঁষা একটি ছোট আর্মি এয়ারস্ট্রিপে। সময় লাগে আনুমানিক ৪ঘন্টা।
মারিয়া এলেনা ও আসে, বিমান নামার সাথে সাথেই দুই কুকুরের আলাদা ইউনিট তাদের গিয়ারসহ গার্ডদের হাতে তুলে দেয়।
ভীরের হাতে ইশায়ার ব্যবহৃত একটি পোশাক আর চুলের ছোট্ট এক গোছা এগিয়ে দেয় মারিয়া এলেনা।
ভীত হাটু গেরে বসে ওদের কাছে।
ভীরকে দেখেই কালো ও বাদামী রঙের বিশালদেহী কুকুর দুটো লাফাতে শুরু করে।মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় সে।ভীর ওদের কাছে এগিয়ে দেয় ইশায়ার ব্যবহৃত জিনিসগুলো। সোমব্রা ও লোবো এক ঝলকেই গন্ধ শুঁকে নিচে মাথা নামিয়ে দেয়।
তাদের চারপাশে তখন গোল করে দাঁড়িয়ে থাকা দশজন স্পেশাল গার্ড।
কুকুর দুটি শুরু করে নির্দেশিত রেঞ্জ স্ক্যানিং।
তারা যেখানে দাঁড়ায়, সেখানে বাতাস, মাটি, এমনকি সামান্য সুরক্ষিত গন্ধ পর্যন্ত বিশ্লেষণ করে।
প্রথম দফার অনুসন্ধান হয় বাড়ির ভেতরে, তারপর একে একে নিচতলা, বেসমেন্ট, বাইরের বাগান এবং অবশেষে মেইন গেটের দিকে।
সে আমার বন্দিনী পর্ব ৪৮
সেখানে গিয়ে লোবো চুপ করে দাঁড়ায়। চোখ সরু করে। তারপর এক ঝাঁক বাতাস শুঁকে লাফিয়ে ওঠে একদিকে।
ইশায়া মেইন গেট পার হয়ে বাইরে যায় এটা স্পষ্ট কিন্তু কোন দিকে গিয়েছিল তারপর তা আর সিসিটিভিতে উঠেনি ।
এখন তার প্রতিটি পদচিহ্ন, তার স্মেল অনুসরণ করে কুকুর গুলো ছোটা শুরু করে,
এখন ইশায়া শিকার আর সোমব্রা ও লোবো নির্মম শিকারি।
