Home এই অবেলায় এই অবেলায় পর্ব ১০

এই অবেলায় পর্ব ১০

এই অবেলায় পর্ব ১০
সুমনা সাথী

তালুকদার বাড়িতে আজ সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ। বাড়ির ছোট ছেলের বিয়ে বলে কথা। আয়োজনে কোনো কমতি রাখা হয়নি। চারদিকে সাজ সাজ রব। আজ মেহেদি, কাল গায়ে হলুদ আর পরশু বিয়ে। আত্মীয়-স্বজনদের ভিড়ে বাড়িটা মুখরিত হয়ে উঠেছে। সবার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক। কাজের ফাঁকে ফাঁকে চলছে হাসাহাসি আর আড্ডা। অনন্ত এই প্রথমবার কলরবদের বাড়িতে পা রেখেছে। কলরবের সাথে তার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকলেও এই বাড়িতে আসা হয়ে ওঠেনি কোনোদিন। আরশাদ তালুকদার কলরবের বন্ধুবান্ধবদের খুব একটা পছন্দ করেন না। তাই কলরবও বন্ধুদের বাড়িতে এনে বাবার মেজাজ বিগড়ে দেওয়ার ঝুঁকি নেয়নি কখনো। অনন্ত সবেমাত্র প্রধান ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকেছে ঠিক তখনই ছোট একটা বাচ্চা ছেলে তার সামনে দিয়ে ছুটতে গিয়ে সজোরে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। অনন্ত অপ্রস্তুত হয়ে তড়িঘড়ি করে তাকে তুলে দাঁড় করিয়ে দিল। কিন্তু কৃতজ্ঞতা জানানো তো দূরের কথা, পিচ্চিটা মুহূর্তেই তার কচি হাতের মুঠোয় থাকা রঙ অনন্তের শার্টে মেখে দিল। নিজের বিধ্বস্ত পোশাকের দিকে তাকিয়ে অনন্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নরম স্বরে জিজ্ঞেস করল,

‘তোমার লাগেনি তো?’
ইহান দুই পাশে মাথা নেড়ে জবাব দিল, ‘আই অ্যাম ওকে!’
ঠিক সেই মুহূর্তে ইহানের পিছু পিছু দিয়া এসে সেখানে থমকে দাঁড়াল। কোমরে দুহাত রেখে দাঁড়িয়েছে সে। তার চোখেমুখে তখন রাগের ছায়া।তেজ দেখিয়ে বলল,
‘ইহান, এখনই আমাকে রঙগুলো ফেরত দে। নয়তো এখনই কিন্তু আমি পাপ্পাকে বলে দেব!’
ইহান মোটেও ডরাল না। উল্টো মুখ ভেঙিয়ে বলল,
‘এসেছে আমার পাপ্পাকি প্যারি! কিছু হলেই খালি পাপ্পার ভয় দেখানো। যা বল, আমি দেব না।’
কথাটা শেষ করেই ইহান আবার দৌড় লাগাল। দিয়াও তার পেছনে ধাওয়া করতে উদ্যত হতেই অনন্ত খপ করে তার হাতটা ধরে ফেলল। এতেই বিপত্তি বাধল। দিয়া প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে বড়দের মতো ভ্রু কুঁচকে অনন্তের দিকে চাইল। আগন্তুককে এভাবে হাত ধরতে দেখে সে বেশ গম্ভীর গলায় শাসন করল,
‘তুমি কে শুনি? আমাকে কেন ধরেছ? তোমার জন্য কত বড় সব্ব… না কী যেন একটা! উফ, ভুলে গেছি। ওটা হয়ে গেছে। ইহান তো চলে গেল!’

অনন্ত কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল এই পুঁচকে মেয়ের কথা শুনে। সে কৌতুহলী হয়ে শুধাল,
‘সর্বনাশ?’
দিয়া এবার তৃপ্তির সাথে মাথা নাড়ল, ‘হ্যাঁ, ওটাই!’
অনন্তের ঠোঁটের কোণে এবার এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। পিচ্চি মেয়েটার কথা বলার ধরন আর গম্ভীর ভাব দেখে সে বেশ মজা পাচ্ছে। পোশাকে রঙের দাগের বিরক্তি ভুলে সে নিচু হয়ে দিয়ার সমান হওয়ার চেষ্টা করল। মোলায়েম স্বরে বলল,
‘তুমি তো দারুণ কিউট! আচ্ছা, তোমাকে হাত ধরার জন্য সরি। তবে তুমি কি আমাকে একটু বলতে পারো কলরব কোথায়?’
দিয়া বড় বড় চোখ করে কয়েক মুহূর্ত অনন্তকে মেপে নিল। তার চোখেমুখে তখন একরাশ সন্দেহ। চট করে উত্তর না দিয়ে সে মাথাটা একটু কাত করে বলল,
‘তুমি কে শুনি? পাপ্পা আমাকে বলে দিয়েছে অচেনা কারো সাথে একদম কথা না বলতে। আর কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেও যেন কোনো উত্তর না দেই।’
অনন্ত বেশ দোটানায় পড়ে গেল। এইটুকু বাচ্চার নীতিবোধ দেখে সে মনে মনে তারিফ না করে পারল না। সে নিজেকে পরিচিত করার চেষ্টা করে বলল,

‘আরে, আমি কলরবের বন্ধু। ওর বিয়ের দাওয়াতে এসেছি। এবার তো অন্তত বলতে পারো ও এখন কোথায় আছে?’
দিয়া এক মুহূর্তও সময় নিল না। বেশ উদাসীন ভঙ্গিতে কাঁধ নাচিয়ে ছোট করে জবাব দিল,
‘নাহ, জানি না।’
বলেই সে আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। ইহানকে ধরার জন্য আবার ছুট লাগাল। অনন্ত একা দাঁড়িয়ে নিজের শার্টের রঙের দিকে তাকিয়ে হাসবে না কাঁদবে বুঝে উঠতে পারল না। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ধীরপায়ে ড্রয়িং রুমের দিকে পা বাড়াল। দরজার পর্দা সরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই সে কলরবকে দেখতে পেল। কিন্তু কলরবের পাশে বসা একটা বাচ্চা ছেলেকে দেখে অনন্তের চোখ বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে গেল। সে যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। কলরব অনন্তকে দেখেই সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। বন্ধুকে দেখে তার মুখে চওড়া হাসি ফুটলেও অনন্তের বিধ্বস্ত অবস্থা দেখে সে কিছুটা ভ্যাবাচ্যাকা খেল। অবাক হয়ে বলল,
‘আরে, তুই তো অনেক আগেই চলে এসেছিস দেখছি! কিন্তু বাড়িতে ঢুকেই কি রঙ খেলা শুরু করে দিলি? তোর এই অবস্থা কেন?’

অনন্ত কোনো উত্তর দিল না। সে তখনো এক দৃষ্টিতে কলরবের পাশে বসা ওই বাচ্চাটির দিকে তাকিয়ে আছে। তার মাথায় কিছুতেই ঢুকছে না। মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে বাড়ির আঙিনায় যে ছেলেটা তাকে নাকানিচুবানি খাইয়ে দিয়ে দৌড়ে পালাল। সে এত দ্রুত ভেতরে এসে এত শান্ত হয়ে বসে আছে কী করে! এটা কি কোনো জাদুমন্ত্র নাকি চোখের ভুল? অনন্ত কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে সরাসরি কলরবের পাশে বসা শিশুটির দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল,
‘এই বাচ্চাটা তোর কে হয় রে? ও-ই তো একটু আগে আমার গায়ে এই কাণ্ডটা করেছে!’
ইভান বড় বড় চোখ করে অনন্তের দিকে তাকিয়ে রইল। যেন সে আকাশ থেকে পড়েছে। ড্রয়িং রুমে উপস্থিত বাকি আত্মীয়স্বজনরাও বেশ অবাক হলেন। কলরব ইভানের মাথায় হাত রেখে কিছুটা সংশয় নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
‘ইভান? ও তো আমার ভাইয়ের ছেলে। মানে আমার ভাইপো। কিন্তু ও তোকে রঙ মাখাতে যাবে কেন? আর কখন দিল এই রঙ?’

অনন্ত কপালে ভাঁজ ফেলে বলল, ‘এই তো ঠিক একটু আগে। বাইরে যখন আমি ঢুকছিলাম। ওর সাথে একটা ছোট খাটো কিউট দেখতে মেয়েও ছিলো।’
কলরব এবার শব্দ করে হেসে উঠল। ইভানের দিকে তাকিয়ে তার হাসি আর থামছেই না। ইভান তখনো নির্বাক দর্শকের মতো তাকিয়ে আছে। অনন্তের কিংকর্তব্যবিমূঢ় চেহারা দেখে কলরব যেন আরও বেশি মজা পাচ্ছে। হাসতে হাসতেই বলল,
‘আরে গাধা, ওটা ইভান ছিল না। ওটা ওর যমজ ভাই ইহান ছিল! আর ওই মেয়েটা হলো দিয়া। তুই একদম ঠিক মানুষের পাল্লায় পড়েছিস। চল আমার সাথে ঘরে চল। আগে জামাটা বদলে ফ্রেশ হয়ে নে।’
অনন্ত যেন আকাশ থেকে পড়ল। জমজ ভাই! তার মানে এতক্ষণ সে যার সাথে বাইরে কথা বলছিলো সে অন্য কেউ। আর এখন সামনে যে বসে আছে, সে হুবহু এক চেহারার অন্য একজন। বিস্ময়ে তার মুখ হা হয়ে গেল। ইভান এতক্ষণ অবাক হয়ে বড়দের কথা শুনছিল। সে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে কলরবের দিকে তাকিয়ে বলল,
‘চাচ্চু, এই আংকেলটা কে?’
কলরব ইভানের মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দিল,
‘ইভান, ইনি আমার খুব ভালো বন্ধু নাম অনন্ত। তোর নতুন আংকেল।’
কলরব অনন্তের কাঁধে হাত দিয়ে ধাক্কা দিল, ‘চল এবার, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকলে হবে না।’

তালুকদার বাড়ির বিশাল ছাদে মেহেদির উৎসব মুখর আড্ডা জমে উঠেছে। আলোকসজ্জার ঝিলমিলে আলোয় চারপাশটা অপার্থিব সুন্দর লাগছে। রঙিন শামিয়ানা আর শতরঞ্জি বিছিয়ে বাড়ির মেয়েরা মেতে উঠেছে উৎসবে। দক্ষ তিনজন মেহেদি আর্টিস্ট আনা হয়েছে। যাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে একেকটা মেহেদীর আলপনা। বিকেলের দিকে অফিস থেকে ফেরার পর দিব্য নিজের ঘর থেকে আর বের হয়নি। এক সময়কার প্রাণোচ্ছ্বল আর আড্ডাপ্রিয় দিব্য তালুকদার এখন যেন এক অন্য মানুষ। সময়ের আবর্তে সে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে এক শক্ত খোলসের ভেতরে। এখন তার কাছে তার আভিজাত্য, পরিপাটি পোশাক আর মেপে চলা জীবনটাই মুখ্য। অসামাজিক না হলেও সবার সাথে হইহুল্লোড় করার সেই পুরনো অভ্যাসটা সে কবেই বিসর্জন দিয়েছে। হঠাৎ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দিব্যর মনে হলো দিয়ার এখন ঘুমানোর সময়। সে ধীরপায়ে ছাদে গেল মেয়ের খোঁজে কিন্তু সেখানে নবনী বা দিয়া কাউকেই পেল না। অগত্যা নিচে নেমে রান্নাঘরের দিকে আসতেই তার পা দুটো থমকে গেল। ভেতরের দৃশ্যটা দেখে দিব্যর বুকের ভেতরটা এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় মোচড় দিয়ে উঠল। দিয়া নবনীর পাশে বসে গল্প করছে। আর নবনী ভাতের লোকমা তুলে ওর মুখে দিচ্ছে। দিয়ার চোখেমুখে যে অনাবিল তৃপ্তি আর আনন্দ উপচে পড়ছে; তা দিব্যর কাছে এক অলীক স্বপ্নের মতো। ইদানীং দিয়া জেদ করে দিব্যর হাতেও খেতে চাইত না। মৌনিতা যখন ইহান আর ইভানকে খাওয়াতো তখন দিয়া অপলক চেয়ে থাকত বায়না ধরত তারও এমন একটা মা চাই। মৌনিতা দিয়াকে যথেষ্ট স্নেহ করলেও নিজের দুই চঞ্চল ছেলেকে সামলাতেই তার হিমশিম অবস্থা হতো। দিব্যর কঠোর পৌরুষদীপ্ত চোখ দুটো মুহূর্তের জন্য আর্দ্র হয়ে এল। সে দ্রুত চোখের কোণ মুছে নিজেকে সামলে নিয়ে ওদের দিকে এগিয়ে গেল। দিব্যকে দেখেই দিয়া এক গাল হেসে দিয়ে চিৎকার করে উঠল,

‘পাপ্পা, তুমি জানো মাম্মা আমাকে একটা পরির গল্প বলেছে? মাম্মা কত মিষ্টি করে গল্প বলে! তুমি তো এত সুন্দর করে গল্প বলতে পারো না।’
মেয়ের এই সরল স্বীকারোক্তিতে দিব্যর মুখটা মুহূর্তের জন্য একটু ছোট হয়ে গেল। সে কাষ্ঠ হাসি হেসে আমতা-আমতা করে বলল,
‘আরে, আমিও পারি। শুধু সময় পাইনি বলে বলা হয়নি এই যা!’
দিব্যর এমন কাঁচুমাচু মুখ দেখে নবনীর হাসি পেল। সে দিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,
‘বাদ দাও সোনা, দুনিয়ার সব মানুষ তো আর সবকিছু পারে না।’
দিব্য তৎক্ষণাৎ সায় দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, একদম ঠিক! এই যেমন ধরো আমি চাইলেই তুমি আর তোমার মাম্মা দুইজনকেই চট করে কোলে তুলে নিতে পারি। তোমার মাম্মা কি তা পারবে? ওকে একবার জিজ্ঞেস করে দেখো তো!’

নবনীর মনে হলো সে আকাশ থেকে পড়েছে। লোকটার স্বভাবই এমন। যেকোনো ছুতোয় নিজেকে জাহির করা চাই-ই চাই। সে মনে মনে একটা বড়সড় মুখ ভেঙাল। মুখে কিছু বলতে সাহস পেল না। ভালো করে জানে এই লোকের সাথে তর্কে যাওয়া মানেই হলো পুরনো কোনো কটু কথা বা অতীত নিয়ে খোঁচা খাওয়া। নবনী নিজের অভিজ্ঞতায় যথেষ্ট শিক্ষা পেয়েছে। তাই চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করল। দিয়া এবার গভীর চিন্তায় পড়ে গেল। কিছুক্ষণ ভেবে সে বেশ গম্ভীর গলায় সায় দিল,
‘সত্যি তো! মাম্মা ভীষণ উইক। শুধু ধপাস করে পড়ে যায়। মাম্মা, তোমার উচিত পাপ্পার মতো রোজ সকালে ডিসুম-ডিসুম করা। আর বেশি বেশি ল্যাপপট (ল্যাপটপ) চালানো আর ওই বিশ্রী তেঁতো কফি খাওয়া। তাহলেই তুমি ও পাপ্পার মতো স্ট্রং হবে!’
মেয়ের এমন অদ্ভুত কথা শুনে দিব্য আর নিজেকে সামলাতে পারল না। গম্ভীর দিব্য তালুকদার হঠাৎ শব্দ করে হেসে উঠল। নবনী থমকে গিয়ে অপলক চেয়ে রইল দিব্যর দিকে। এই প্রথম সে লোকটাকে প্রাণখুলে হাসতে দেখল। হাসির তোড়ে দিব্যর বাঁ গালে ছোট্ট একটা টোল পড়েছে। যা তার রুক্ষ ব্যক্তিত্বকে এক নিমেষে স্নিগ্ধ করে তুলেছে। গম্ভীর চেহারার চেয়ে এই হাসিমুখের দিব্যকে অন্যরকম লাগছে। দিব্য হাসি থামিয়ে নবনীর দিকে সরাসরি তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

‘রাইট বলেছো মাম্মা। আচ্ছা নবনী, দেখলাম বাড়ির সবাই ছাদে গিয়ে মেহেদি পরছে। হইচই করছে। তুমি এখানে একা বসে আছ কেন? তোমার কি মেহেদি পরতে ভালো লাগে না?’
দিয়া তার ছোট ছোট দুহাত মেলে ধরল দিব্যর মুখের সামনে। মেহেদির গাঢ় আলপনায় ওর কচি হাত দুটো তখন সত্যিই সুন্দর লাগছে। উজ্জ্বল চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
‘পাপ্পা, দেখো দিয়া দুই হাতে কত সুন্দর মেহেদি পরেছে! মাম্মা পরিয়ে দিয়েছে।’
দিব্য কৌতুহলে মেয়ের হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিল। খুঁটিয়ে দেখার ভান করে এক গাল হেসে বলল,
‘ওয়াও! আমার মাম্মার হাত তো দেখি একদম পরির হাতের মতো লাগছে!’
কথাটা বলেই দিব্যর নজর গেল নবনীর দিকে। সে তখন শান্ত মুখে নিবিষ্ট মনে ভাত মাখিয়ে চলেছে। দিব্যর মনের কোণে এক চিলতে শঙ্কা উঁকি দিল। মেয়েটা যেন দিন দিন নবনীর সাথে বড্ড বেশি মিশে যাচ্ছে। এক নিবিড় মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে যাচ্ছে দুজন। নবনী অনুভব করতে পারল কারো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তার ওপর স্থির হয়ে আছে। সে মুখ তুলে চাইতেই দিব্য হালকা করে ভ্রু নাচিয়ে আগের প্রশ্নের উত্তরটা চাইল। নবনী ধীর স্বরে বলল,
‘আসলে মেহেদি আমার ঠিক অপছন্দ না। দিয়াকে পরানোর পর হঠাৎ মনে হলো ওকে আগে খাওয়ানো দরকার। রাত তো অনেক হয়েছে। আমার সোনাটার খুব খিদে পেয়েছিল। তাই না সোনা?’
দিব্য এবার কিছুটা গম্ভীর হয়ে এল। বলল, ‘আমি তোমাকে বলেছিলাম নবনী। তুমি…..’
দিব্যর কথা শেষ হওয়ার আগেই নবনী বেশ দৃঢ়তার সাথে ওকে থামিয়ে দিল। এরপরের কথা ও ধারনা করে নিলো। অনুনয়ের সুরে বলল,

‘প্লিজ, এখন চুপ করুন। আপনি কিচ্ছু বলবেন না। দিয়া সোনা। তোমার খাওয়া তো শেষ। এবার চট করে নিজের ঘরে চলে যাও তো। মাম্মা হাত ধুয়ে এখনই আসছে, কেমন?’
দিব্য কিছুটা থতমত খেয়ে গেল। নবনী দিয়াকে চেয়ার থেকে নামিয়ে দিল। দিয়া বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নেড়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে যেতেই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা জেঁকে বসল চার দেওয়ালে। নবনী ঘুরে সরাসরি দিব্যর চোখের দিকে তাকাল। স্পষ্ট গলায় বলল,
‘আমি ওকে জন্ম দিইনি এটা আমি খুব ভালো করেই জানি। কিন্তু আমি তো প্রাণপণ চেষ্টা করছি ওর মা হয়ে ওঠার। আপনি বারবার কেন আমাকে মনে করিয়ে দেন যে ও আমার নয়? আপনিই তো বলেছিলেন ও আমার তখনই হবে যখন আমরা একে অপরের হব। আমি তো আপনাকে মনে-প্রাণে মেনে নিয়েছি। তাহলে ওকে নিজের করে পেতে গেলে আমাকে আর কী করতে হবে? হ্যাঁ, আমি জানি আমাদের মধ্যে সেই চিরাচরিত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। আপনার যদি মনে হয় তেমন কিছুর প্রয়োজন আছে তবে তাতেও আমি আপনাকে বাধা দেব না। মনের মিল ছাড়াও তো পৃথিবীতে কত শত দম্পতির সংসার টিকে থাকে। আমাদেরও নাহয়…’

নবনীর কথা শেষ হওয়ার আগেই দিব্য ঝড়ের বেগে এগিয়ে এসে একহাতে নবনীর বাহু সজোরে চেপে ধরল। আংশিক এমন আচরণে চমকে উঠলো নবনী। থরথর করে কেঁপে উঠলো ওর সমস্ত কাঁয়া। দিব্যর চোখদুটো অপমানে আর রাগে আগুনের মতো জ্বলছে। দাঁতে দাঁত চেপে ধমক দিয়ে উঠল,
‘জাস্ট শাট আপ নবনী! তুমি ঠিক কী বোঝাতে চাইছ আমাকে? ওই তথাকথিত নাটকীয় সংলাপের মতো। দেহ পাবেন কিন্তু মন পাবেন না, টাইপ কিছু?’
নবনী ছলছল চোখে সরাসরি দিব্যর চোখের ওপর স্থির দৃষ্টি রাখল। আজকে তার মেজাজ আর ধৈর্যের বাঁধ যেন ভেঙে গেছে। দিব্যর পুরো শরীর রাগে কাঁপতে লাগল। সে কি নবনীকে কোনোদিন স্রেফ একটা পণ্য হিসেবে ভেবেছে? যেখানে সে তিলে তিলে মেয়েটাকে নিজের মনের মণিকোঠায় জায়গা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সবসময় ওকে সহজ করার চেষ্টা করছে। সেখানে নবনীর এমন সস্তা প্রস্তাব তার পৌরুষে আর ইগোতে প্রচণ্ড আঘাত হানল। দিব্য পুনরায় চিৎকার করে উঠল,

‘তুমি আমাকে ঠিক কী মনে করো? তোমার কি মনে হয় তোমার মনে তোমার পুরনো প্রেমিক রাজত্ব করবে আর তুমি দয়া করে তোমার শরীরটা আমাকে দান করবে? বাহ! এতটাই মহান তুমি? এটাকে তুমি আমাকে মেনে নেওয়া বলো? একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো। দিব্য তালুকদার একই ভুল বারবার করে না। আর যা তার, তার ওপর সে ষোলোআনা অধিকার চায়। যদি তোমার ওই একশ ভাগের মধ্যে মাত্র পাঁচ ভাগও অন্য কারো জন্য জমা থাকে। তবে বাকি পঁচানব্বই ভাগও ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা আমি রাখি। তাই এই ধরনের কথা দ্বিতীয়বার আমাকে শোনানোর দুঃসাহস কক্ষনো করবে না!’
দিব্যর হাতের বাঁধন যেন নবনীর হাড় অবধি গিয়ে বিঁধছে। সে আরও কঠোর স্বরে যোগ করল,
‘যেদিন ভিতর-বাহির উভয় দিক থেকে আমাকে পুরোপুরি আপন করে নিতে পারবে; সেদিনই কেবল আমার কাছে এসো। আর যদি মনে হয় তা পারবে না তবে এখনো সময় আছে চলে যেতে পারো। এমন সস্তা সম্পর্ক দিব্য তালুকদার টানতে চাইনা।’
দিব্যর এই চরম আল্টিমেটাম নবনীকে যেন এক মুহূর্তের জন্য পাথর করে দিল। তার গলার কাছে কথাগুলো দলা পাকিয়ে আটকে গেল। চোখের কার্নিশ বেয়ে তপ্ত অশ্রু গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে কোনোমতে নিজের কম্পিত কণ্ঠস্বর সামলে নিয়ে ভাঙা গলায় বলল,
‘আপনি তাহলে বারবার একই কথা কেন তোলেন? দিয়া যেদিন থেকে আমাকে ‘মাম্মা’ বলে ডেকেছে, সেদিন থেকেই আমি ওর মা হয়ে গেছি। আমি ওকে মন থেকে ভালোবাসি। কিন্তু আপনি যখন পর পর এমন রূঢ় ব্যবহার করেন তখন খুব কষ্ট হয় আমার। নিজেকে প্রচণ্ড ছোট মনে হয়। আর… আর আপনিই বা কোথায় আমাকে মন থেকে মেনে নিতে পেরেছেন?’

দিব্য নবনীর দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে শীতল স্বরে বলল,
‘হ্যাঁ, মানতে পারিনি। মানতে পারিনি বলেই এখনো আমাদের মধ্যকার এই যোজন যোজন দূরত্ব আমি বজায় রেখেছি। কারন শুধু তথাকথিত স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক আমার চাইনা। তবে তোমাকে একটা কথা পরিষ্কার বলে রাখি। যদি সত্যি আমাকে মেনে নিয়ে আমার সাথে সারাজীবন কাটাতে চাও তবে ওই অতীত আর তোমার ওই তথাকথিত বিশ্বাসঘাতক প্রেমিককে মন থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলো। শুধুমাত্র আমার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো। তোমার ভাবনা, তোমার চিন্তা সবখানে শুধু এই দিব্য তালুকদারের রাজত্ব থাকবে। আমার মন পুরোপুরি বদলে যাওয়ার আগে তোমার কাছে সময় আছে; এর আগেই সিদ্ধান্ত নাও তুমি পারবে কি না। কারণ একবার যদি আমার মন তোমার দিকে ঘুরে যায়, তবে তোমার মুক্তি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি চাই একটা স্বচ্ছ সম্পর্ক। চাই তুমি আমাকে জোর করে নয় মন থেকে মেনে নাও৷’

দিব্য গভীর একটা শ্বাস নিয়ে নিজেকে কিছুটা সামলে নিল। ওর কণ্ঠস্বর কিছুটা নরম হয়ে এল।
‘আই অ্যাম সরি! রাগের মাথায় এমন কিছু কথা বলেছি যা বলা হয়তো আমার উচিত হয়নি। আজই শেষ। আজকের পর আমি আর ওই মানুষটার নাম উচ্চারণ করব না। আবারও সরি।’
নবনী চোখের জল মুছে জোরপূর্বক ঠোঁটের কোণে সামান্য হাসির রেখা টেনে আনল। করুণ স্বরে বলল,
‘ইটস ওকে! আপনি তো কোনো মিথ্যা অপবাদ দেননি। যা বলেছেন তা তো সত্যি।’
দিব্য নবনীর চোখের দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,
‘আমি শুধু চেয়েছি তোমার নিজের জীবন নিয়ে যেন কোনোদিন কোনো আফসোস না হয়। তোমার মনে যেন এই আক্ষেপ না জাগে যে; একজন সদ্য বিবাহিত মেয়ে হয়ে অন্যের বাচ্চার জন্য নিজের সব শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিতে হচ্ছে। ব্যাস, এতটুকুই আমার চাওয়া ছিল।’
কথাগুলো শেষ করে দিব্য নবনীর বাহু ছেড়ে দিল। এক মুহূর্তও আর সেখানে না দাঁড়িয়ে সে দ্রুতপায়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল। নবনী পাথরের মতো নিথর হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল।

মেয়েদের মেহেন্দি রাঙানোর মগ্নতার মাঝখানে হঠাৎ ঝড়ের বেগে ছাদে এসে হাজির হলো কলরব। সাথে ওর তিন বন্ধু অনন্ত, অভিক আর শান্ত। ছাদের এক কোণে পাশাপাশি বসে দুই মেহেন্দি আর্টিস্টের কাছ থেকে মেহেদীর নকশা করিয়ে নিচ্ছে নিযানা আর কুহু। কলরব কোনো ভনিতা না করেই ওদের একদম গা ঘেঁষে বসে পড়ল। আদেশের সুরে বলল,
‘এই তোরা সর তো দেখি। এবার আমরা মেহেন্দি পরব।’
কুহু অবাক হয়ে ভাইয়ের দিকে তাকাল। বড়রা কেউ নেই বলে ছাদটা এখন পুরোদমে তারা আর তাদের সমবয়সী কাজিনদের দখলে। কুহু নাক-মুখ কুঁচকে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল,
‘ছিঃ ভাইয়া! তোমার রুচির কি এই দশা হলো যে শেষমেশ ছেলে হয়েও মেয়েদের মতো হাতে মেহেন্দি পরবে?’
কথাটা শোনামাত্র কলরব আড়চোখে বন্ধুদের দিকে তাকাল। বোঝালো সে বিরক্ত তাদের উপর। শান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে এক চিলতে হেসে বলল,
‘আরে পিচ্চি, মেহেন্দির গায়ে কি কোথাও লেখা আছে যে এটা শুধু মেয়েদের স্বত্ব? আসলে আমার বন্ধুর আমাদের ভাবির সামনে প্রমাণ করতে হবেনা? সে তাকে কতটা ভালোবাসে। এটা তো একটা প্রমান!’
অনন্ত পাশ থেকে ফোড়ন কাটল, ‘ঠিক তাই। তোমার মতো এই লতাপাতা, হাতি-ঘোড়া আর হিজিবিজি সব ডিজাইন তো আর ও আঁকবে না। স্রেফ তোমার ভাবির নামের প্রথম অক্ষরটা লিখবে। এটা একটা রোমান্টিক ব্যাপার-স্যাপার আরকি!’

নিজের এত শখের সুনিপুণ কারুকাজকে ‘হাতি-ঘোড়ার ডিম’ বলায় কুহু প্রচণ্ড ক্ষেপে গেল। রাগে ওর গা রি রি করে উঠলেও ভাইয়ের বন্ধুদের সামনে আর কথা বাড়াল না। গটগট করে উঠে দাঁড়িয়ে কলরবের বসার জায়গা করে দিল সে। কলরব বসতেই অনন্তও ওর পাশে জাঁকিয়ে বসল। কুহু যাওয়ার আগে বলল,
‘ভাইয়া নাহয় ভাবির নাম লিখবে। তা অনন্ত জলিল ভাই আপনার কি কোনো “বর্ষা” আছে? আপনি কার নাম লিখবেন শুনি? যা ভালো মনে হয় করেন গে! নিযানা, চল এখান থেকে।’
কুহু আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। গটগট করে নিযানাকে নিয়ে ছাদের অন্য প্রান্তে চলে গেল। ওর ফেলে যাওয়া তীক্ষ্ণ কথার বাণে অনন্তর মুখটা মুহূর্তেই চুপসে গেল। উপস্থিত বন্ধুদের হাসির রোলে যেন অনন্তর অস্বস্তি আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। শান্ত হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ে কলরবের গা ঘেঁষে বসল। কৌতূহলী চোখে কুহুর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

‘আচ্ছা কলরব, এই মেয়েটা তোর ফুফাতো বোন তাইনা?’
কলরব অন্যমনস্কভাবে মাথা নেড়ে সায় দিল। অভিক তখন সুযোগ বুঝে টিপ্পনী কাটলো,
‘আরে কলরব, তুই তো আগে কোনোদিন শান্তকে বলিসনি যে তোর এমন সুন্দরী একটা ফুফাতো বোন আছে! জানলে তো শান্ত তোকে অনেক আগেই “দোস্ত” বাদ দিয়ে “শালা” ডাকা শুরু করত। তাই না শান্ত?’
শান্ত কৃত্রিম রাগে চোখ রাঙালেও ঠোঁটের কোণে একটা চিলতে হাসি ধরে রেখে বলল,
‘একেবারে ভুল বলিসনি ভাই। সি ইজ সো প্রিটি।’
বন্ধুর মুখে প্রশংসা শুনে কলরব থাপ্পড় বসাল শান্তর মাথায়। মুখ বাঁকিয়ে বলল,
‘তোর কোন দিক দিয়ে ওকে সুন্দরী মনে হলো শুনি? এক নম্বর চশমিশ আর আস্ত একখানা কানা! আর খবরদার, ভুলেও ওদিকে নজর দিস না। ওর মাকে চিনিস? জানলে তোকে সত্যি সত্যি কানা করে দেবে। আর তেঁতো হলেও সত্যিটা শোন। তোর মতো টেনেটুনে পাস করা ছেলের সাথে ওর একদম জমবে না। কানা হলে কী হবে মেয়েটা কিন্তু মারাত্মক ট্যালেন্টেড!’

শান্ত দমার পাত্র নয়। সে বেশ ভাব নিয়ে বুক ফুলিয়ে বলল,
‘আরে, আমিই বা কম কিসে? আমার আব্বা কি ভিখারি যে ওকে চাকরি করে খাওয়াতে হবে? একবার চান্স নিয়ে দেখলে ক্ষতি কী!’
বন্ধুর এমন আত্মবিশ্বাস দেখে কলরব এবার শয়তানি হাসল। উত্তেজিত হয়ে বলল,
‘আচ্ছা নে, চান্স নিয়েই দেখ! তোকে আমি পুরো সাপোর্ট করব। ওকে যদি কোনোভাবে পটাতে পারিস তবে কথা দিচ্ছি। এক মাস তোকে “আব্বা” বলে ডাকব! আমি মনে-প্রাণে চাই ওর মায়ের একবার মিনি হার্ট অ্যাটাক হোক!’
শান্ত হাত বাড়িয়ে দিল ডিল পাকা করার জন্য। আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,
‘ওকে, ডিল ডান! দেখে নিস তোকে আমি শালা করেই ছাড়বো শালা!’

নবনী যখন ঘরে ফিরল দেখল শান্ত হয়ে ঘুমানো দিয়া ছাড়া সেখানে আর কেউ নেই। অদ্ভুত তো লোকটা গেল কোথায়? রান্নাঘর থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন আত্মীয় ঘিরে ধরেছিল নবনীকে। তাঁদের সঙ্গ দিয়ে আর একসাথে রাতের খাওয়া সেরে ঘরে ফিরতে বেশ খানিকটা দেরিই হয়ে গেল। একরাশ অনিশ্চয়তা আর ক্লান্তি নিয়ে নবনী খাটের কোণে বসল। মাথাটা যন্ত্রণায় ভনভন করছে। বিয়েবাড়ি বলে কথা। রাত গড়িয়ে গেলেও বাড়ির প্রতিটি কোণ এখনো মানুষের কোলাহলে মুখরিত। নবনীর খুব ইচ্ছে ছিল দিয়াকে ঘুম পাড়িয়ে সে নিজে একটু মেহেন্দি পরবে। কিন্তু ততক্ষণে মেহেন্দি আর্টিস্টরা বিদায় নিয়েছেন। হাজার হোক, সে তো একটা মেয়ে; তারও তো কিছু শখ-আহ্লাদ আছে। দিব্য ঠিকই ধরেছে। মেহেন্দি নবনীর অন্যতম ভালো লাগার জিনিস।

এই অবেলায় পর্ব ৯

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে মনে মনে ভাবল। এখন আর আফসোস করে কী হবে? ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরে ঢুকল দিব্য। নবনী কেন যেন ওর চোখের দিকে তাকাতে পারছে না। এক অদ্ভুত জড়তা তাকে গ্রাস করেছে। ইশ, মানুষটার সাথে ওভাবে ঝগড়া না করলেই হতো! রাগের মাথায় তখন হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল সে। এদিকে দিব্যর মনের ভেতরেও এক প্রচণ্ড অপরাধবোধ কাজ করছে কিন্তু বাইরে থেকে সে তার গাম্ভীর্য বজায় রাখল। দিব্য ধীরপায়ে এগিয়ে এসে নবনীর সামনে দুটো মেহেন্দির টিউব রেখে দিল। নবনী পুরোপুরি হতভম্ব! সে একবার মেহেন্দির টিউবগুলোর দিকে তাকাল আর পরক্ষণেই বিস্ময় ভরা চোখে চাইল দিব্যর পানে। এগুলো সেই মেহেন্দি নয় যা বাড়ির বাকি সবাই পরেছে; এগুলো অন্য মেহেদী। মাঝরাতে এই মেহেন্দি দিব্য কোথায় পেল?

এই অবেলায় পর্ব ১১