Home রাজনীতির রংমহল ৩ রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৯

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৯

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৯
সিমরান মিমি

সন্ধ্যার পর চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করলেও সরদার বাড়িতে তার অন্যরুপ। চারদিক টা খোলা মার্কেটের মতো ঝকঝকে আলোকিত। শুধু লোকজনেরই অভাব। এ বাড়ির আশপাশ টা ভয়ংকর সুন্দর। প্রাচীর ঘেরা বিশালকার এড়িয়া। গেট থেকে সোজা সুন্দর রাস্তা, যা এসে পড়েছে বাড়ির সদর দরজা পর্যন্ত। বাম পাশে নানা রঙের- ঢঙের ফুল গাছ। শীতের শুরুতেই ফুটে উঠেছে কিছু চমৎকার ফুল। ডান পাশে প্রাচীরের পাশাপাশি বড় একটা বাগান থাকলেও তারপর সুন্দর একটা গ্যারেজ। যেটার উপরে ছাদ হলেও চারপাশ টা একদম খোলা। পেছন দিকে কি আছে সোভাম তা জানে না। জানার ইচ্ছেও জাগে নি। বাড়ি এবং সামনের পরিচ্ছন্ন বাগান দেখেই রুচিশীলতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।

সদর দরজা চাপানো নাকি ভেতর থেকে লক করা, তা বোধগম্য হলো না। অসস্তিকর এক উত্তেজনা নিয়ে এলোমেলো আঙুলে কলিং বেল চাপলো সোভাম। গায়ে যেনো কোনো জোর ই নেই। মিনিট খানেকের মধ্যে তার’ই বয়সী একজন ছেলে খুলে দিলো দরজা। এই ছেলেটা সোভামের পরিচিত। তাকে সেদিন ছাদে দেখেছে, যাকে পুলিশ এরেস্ট করেছিলো। ছেলেটা ভ্রুঁ কুঁচকে সোভাম কে দেখলো। মুখ টা অচেনা৷ দলের কোনো ছেলে হওয়ার ও চান্স নেই। দেখে ভদ্র ছেলেই মনে হচ্ছে। অবশ্য সোভাম নিতান্তই ভদ্র। জিজ্ঞেস করলো,
– আপনি কে?
সোভাম ঢুকতে গিয়েও বাঁধা পেলো। মনে মনে অবাক হলো ভীষণ। তাকে এতো তোড়জোড় করে আসতে বললো, অথচ চেনে না। এমনকি বাড়ির কাউকেও বলে নি কেউ একজন সন্ধ্যায় আসবে। শামসুল সরদারের তো উচিত ছিলো নিজে থেকেই ড্রয়িংরুমে অপেক্ষা করা। কিন্তু তা সে করেনি। অত্যন্ত অবহেলার সাথে ডেকেছে এ বাড়িতে। অবশ্য ডাকার কারন ও সে জানে। নিশ্চয়ই অতি আদরের অভদ্র মেয়েটা নালিশ করেছে বাবার কাছে। সে নিয়েই আলোচনা হবে। ধমক, হুমকি, শাসন ইত্যাদিও হয়তো গচ্ছিত রয়েছে সোভামের জন্য।

– আমাকে জনাব শামসুল সরদার ডেকেছিলেন।
রিহান চোখ বড় বড় করে তাকালো। সামনে দাঁড়ানো ভদ্রবেশী যুবককে দেখে ভীষণ করে অবাক হলো। ‘শামসুল সরদার ’ – এই ছেলে কাকাকে নাম ধরে সম্বোধন করছে। তাতে নেই কোনো সম্মান বা কূর্ণিশ। এমনভাবে বললো যেনো সে এই নাম উচ্চারণ করতে বিরক্ত। যেহেতু কাকা ডেকেছে, এর মানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি। না হলে এক্ষুনি কানের উপরে দু – ঘা লাগিয়ে শাসিয়ে বললো,
– এমপিসাহেব বল ভদ্রবেশী কুলাঙ্গার!
কিন্তু সে তা করলো না। কাকা রেগে গেলে সমস্যা। দরজা ছেড়ে দাঁড়িয়ে বিরক্তি মাখা কন্ঠে বললো,
– আসুন।

সোভাম চলে গেলো ভেতরে। হাঁটার গতিতে ছিলো না কোনো জড়তা। কারোর বসতে বলার অপেক্ষাও করলো না। সগর্বে নিজে গিয়ে বসলো সোফায়, যেনো এটা তারই বাড়ি। ড্রয়িংরুমে তেমন কেউ উপস্থিত নেই। যাও রিহান ছিলো, তাও সোভাম আসার পর পরই সে চলে গেলো দোতলায়। হয়তো কাকাকে ডাকতে।
এসেছিলো মাত্র পাঁচ মিনিট বসবে বলে। অথচ দশ মিনিট কেটে যাওয়ার পরেও শামসুল সরদারের টিকিটাও দেখা গেলো না। বিরক্ত হয়ে আশেপাশে তাকালো সোভাম। কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। একজন মধ্যবয়সী মহিলা মাথায় আধ ঘোমটা দিয়ে নাস্তার ট্রে দিয়ে গেছে কিছুক্ষণ পূর্বে। দেখে বোঝা যাচ্ছে ইনি এ বাড়ির রান্নাঘর সামলায়। ট্রে তে বিভিন্ন রকমের নাস্তা। ঠান্ডা লেবুর শরবত, ডিম, আঙুর, কেটে স্লাইস করা আপেল, কয়েক টুকরো কমলা এবং দুটো মিষ্টি। সোভাম এসবের কিছুই ছুলো না। বসে রইলো ওভাবেই। আর মাত্র পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করবে। এরপর এ বাড়ির গেটে লাত্থি মেরে বেড়িয়ে যাবে চিরতরে। ডেকে নিয়ে এসে এ কেমন অপমান। রাগে সারা গা কাঁপতে লাগলো। যতটুকু টান আর সম্মান নিয়ে এবাড়িতে ঢুকেছিলো, তার পুরোটাই মিনিটের কাঁটার সাথে সাথে ক্ষয়ে যাচ্ছে। একপর্যায়ে উঠে দাঁড়ালো সোভাম। পা বাড়ালো সদর দরজার দিকে।

– আমি আসার আগেই চলে যাচ্ছেন?
গুরুগম্ভীর আওয়াজটা কানে যেতেই থমকে দাঁড়ালো সোভাম। কেমন যেনো প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো শব্দগুলো। বুকের ভেতরটা থমকে গেলো। ‘বাবা’ – হ্যাঁ বাবা। পেছন ঘুরলেই দেখা যাবে বাবা নামক সেই অদ্ভুত ব্যক্তিত্বের মানুষটাকে। যার মুখ, আকৃতি সকল কিছু ভুলতে বসেছিলো সোভাম। শামসুল সরদার সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন নিচে। ব্যক্তিগত সোফায় দাম্ভিকতার সহিত পায়ের উপর পা তুলে বসলো। সোভাম নিজেকে সংযত করে ফিরে এলো সোফায়। ধীরে ধীরে চোখ রাখলো বাবার মুখের দিকে। সাদা লুঙ্গির সাথে পাঞ্জাবি পরিহিত, বয়সের ভারে কাবু না হওয়া শক্তপোক্ত মানুষটাকে দেখে চোখ ফেরাতে পারলো না। এতোটা সুপুরুষ তার বাবা দেখে অবাক হলো। চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে বললো,
– একজন শিক্ষকের সময়ের মূল্য যে ব্যক্তি বা যারা দিতে পারে না, সে জায়গা অতিদ্রুত ত্যাগ করা শ্রেয়। আর দ্বিতীয়বার সেখানে না আসা একজন ব্যক্তিত্ববান শিক্ষকের ধর্ম।
খলিলুর রহমান পাশেই বসেছেন। তিনি সোভামের উত্তর শুনে হাসলেন। তাচ্ছিল্যের স্বরে বললেন,

– শিক্ষক! চার দিনের শিক্ষক বলো।
অপমানিত বোধ করলো সোভাম। কিন্তু চুপ করে বসে রইলো না। বরং খলিলুর সরদারের বিপরীতে উত্তর দিয়ে বললো,
– দিন তো শুধু গণনার ব্যাপার। কোনো একদিন চার যুগের শিক্ষক হয়ে যাবো।
শামসুল সরদার হাত দিয়ে ইশারা দিলেন। থেমে গেলেন খলিলুর। কটমট করে তাকালেন সোভামের দিকে। কিন্তু তা আমলে নিলো না সোভাম। বরং শামসুল সরদারকে তাড়া দিয়ে বললেন,
– আমাকে ডেকেছেন কেনো? দ্রুত বললে ভালো হয়, যেতে হবে।
– যাওয়ার এতোটা তাড়া কেনো, মাস্টার?
বুকের ভেতরটা কেমন চিনচিন করছে। শ্বাস নিতেও যেনো বেজায় কষ্ট হচ্ছে সোভামের। এখানে বেশিক্ষণ থাকা উচিত হবে না। চোখ জ্বলছে। বাসায় গিয়ে লম্বা সময়ের জন্য ঘুমাতে হবে। কিছুটা অভিমান মিশ্রিত কন্ঠে বললো,

– অলরেডি বিশ মিনিট পার হয়ে গেছে। অপরিচিত মানুষদের সাথে এর থেকে বেশি সময় আলাপ করা অপ্রয়োজনীয় মনে হলো, তাই।
ছেলেটার কথাবার্তা কেমন অদ্ভুত। বেজায় সাহসের বহিঃপ্রকাশ করছে। এটা তার জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে না। শামসুল সরদারের সামনে এমন চটাং চটাং কথা কখনো আমজাদ শিকদার ও বলে নি। সেখানে দুদিনের এই চুনোপুঁটি মারাত্মক তেজ দেখাচ্ছে। শক্ত কন্ঠে বললো,
– নাম কি?
– সোভাম সরদার!
কেঁপে উঠলো শামসুল। সবকিছু কেমন ফাঁকা ফাঁকা ঠেকলো হুট করেই। বহু দিনের চাপা বেদনাতুর স্মৃতি গুলো হানা দিলো। বুক ফুলে এলো দীর্ঘনিশ্বাসে। চোখ টা বন্ধ করে মাথা এলিয়ে দিলো সোফায়। খলিলুর সরদার ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠলেন। পানি এগিয়ে দিলেন ভাইয়ের দিকে। আতংকে ভরা কন্ঠে বললেন,

– ভাইজান, ঠিক আছেন আপনি?
সোভামের দিকে তাকিয়ে নাক সিঁটকে বললো,
– আর নাম পায় নি রাখার।
অগোচরে হাসলো সোভাম। বাবা কি তাকে মনে করে কষ্ট পাচ্ছে। এমন হলে সে প্রতিদিন এই নাম তাকে মনে করিয়ে দিয়ে কষ্ট দেবে। এমন কষ্ট তাকে পৈশাচিক আনন্দ দিচ্ছে।
শামসুল সরদার নিজেকে সংযত করে সোভামের দিকে তাকালো। তার চোখের কোটর লাল হয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করলেন,
– বাবার নাম কি? থাকো কোথায়?
– ঢাকায়।
– আর বাবার নাম?
– আমাকে ডেকেছেন কেনো, সেটা বলুন। যেতে হবে।
সম্বিত ফিরে পেলেন শামসুল। একই নাম তো কত মানুষের হয়। তাই বলে কি সবাই আপন? মুখ – চোখ শক্ত করে বললেন,

– শোনো মাস্টার, দু দিন হলো পিরোজপুরে এসেছো। এখানের পরিবেশ এখনো বুঝে উঠতে পারো নি। নতুন বলেই ছাড় পেলে। পরবর্তীতে আমার মেয়েকে অপমান করার কথা কল্পনায় ও আনবেনা। প্রয়োজনে একশোবার বোঝাবে।
সোভাম ভ্রুঁ কুঁচকালো। কিছুটা রাগন্বিত হয়ে বললো,
– আমাকে এ ব্যাপারে শাঁসানোর আগে আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। মেয়ে ছোট নয় আপনার। লেখাপড়ায় খারাপ হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই বলে ক্লাস রুমে অভদ্রতা করলে তাকে শাসন করার দায়িত্ব আমার। যখন ইচ্ছে ক্লাস চলাকালীন সে ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাবে, টিচার দের গুরুত্ব দেবে না, কথার মর্যাদা দেবে না – এমন আচরণ কি সরদার বাড়িকে প্রতিনিধিত্ব করে? পুরো কলেজের সকলে আপনার মেয়েকে অভদ্র, মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত মেয়ে হিসেবে চেনে। হয়তো সাহস হয় না দেখেই কখনো বলে নি। শুনুন এমপিসাহেব, এলাকার সম্মানিত একজন ব্যক্তি আপনি। কিন্তু আপনার মেয়ে সেই সম্মান টা রাখছে না। এমনকি তাকে শাসন করার দায়ে আমাকে বাড়িতে ডেকে সেই সম্মান টা আপনিও রাখলেন না। সে যাই হোক, আপনাদের প্রকৃতি ই হয়তো এমন। তবে আমি একটা কথা বলে রাখলাম – সামনে আর্শির এইচএসসি। এরকম অভদ্রতা করলে, ক্লাস না করে বেরিয়ে গেলে, এমনকি খাতায় কোনো কিছু না লিখলে, আমি তাকে টেস্টে আটকে দেবো। বাকি সাবজেক্টে পার পেলেও আমার সাবজেক্টে পাবে না, এটা মাথায় রাখবেন। আসছি!
হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন শামসুল। এসবের কিছুই তো তিনি জানতেন না। অপমানে, রাগে সারা গা কাঁপতে লাগলো। এসব ঠুনকো ব্যাপারে জড়িয়ে সম্মান হারানো উচিত হবে না। নিজেকে সংযত করে সোভামের উদ্দেশ্যে বললেন,
– আর্শিয়া আর এমনটা করবে না, মাস্টার। আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন। নাস্তা খান।
সোভাম খেলো না। উঠে দাঁড়িয়ে বাবার উদ্দেশ্যে বললো,
– বোঝার জন্য ধন্যবাদ! আসছি……

শিকদার দের ক্লাবের সামনে উচ্চ আওয়াজে পার্টি করেও কোনো লাভ হলো না। উলটো এক রাতের জন্য হলেও জেলে থাকতে হয়েছে। অপমানে বাহার এবং রিহান ঘুমাতে পারে নি দু রাত। ইনস্পেকটর বলেছেন, পরশ শিকদার নিজেই উর্ধতন কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে জানিয়েছিলেন। যার চাপে বাধ্য হয়ে এরেস্ট করতে হয়েছে তাকে। এটা শুনে রাগ আরো তীব্রতর হলো। এভাবে চুপ করে বসে থাকা যায় না। কিছু একটা করে শিকদার দের ইমেজ নষ্ট করতে হবে পাবলিকের সামনে। আর নির্বাচনের আগে করতে পারলে নিজেদেরই লাভ। বাহার বেশ ভয়ংকর একটা পরিকল্পনা করলো। দলের নূন্যতম পর্যায়ের এক কিশোর বালক কে লেলিয়ে দিলো এ পরিকল্পনায়। সেই হলো এর প্রধান গুটি। বড় ব্রিজের আশ পাশ টা একটু লোকসমাগমে ভর্তি। সিএনজি স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড সকলই এর প্রান্তর থেকে শুরু। কিছু একটা ঘটলে মুহুর্তে’ই তা ছড়িয়ে পড়বে দাবানলের মতো।
ব্রিজের গোড়ায় বড়োসড়ো একটা ভিড় পড়ে গেছে। মানুষ জন জড়ো হয়ে তামাশা দেখছে। প্রবীণ নামক একটা সতেরো / আঠারো বছরের ছেলের কলার চেপে ধরে আছে সুজন। পাশে আরো পাঁচ ছয়জন দলের ছেলে। সুমন কলে আছে পরশ শিকদারের সাথে। উত্তেজিত কন্ঠে বললো,
– ভাই, এইটা সহ্য করা যায় না। আপনার কোনো কথা শুনবো না আমরা। ওই জানোয়ারের বাচ্চায় পোস্টার নামাইছে, সেইটা ছিড়ছে, আপনার ছবির উপরে পা দিয়ে লাথি মারছে, এরপর ময়লার স্তুপের মধ্যে ফালাইছে। সব কিছু রাসেল ভিডিও কইরা রাখছে। ওরা ছাড়বো না।
পরশ নিশ্চুপ হয়ে শুনলো। খানিকক্ষণ বাদে শান্ত হয়ে বললো,

– ওরে ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। যে পা দিয়া পোস্টারে লাথি মারছে, ওই পা ভাঙ। এক্ষুণি!
ব্যাস! নির্দেশ পেয়ে গেলো তারা। এবার যাই হোক না কেনো, তা পরশ ভাই দেখবে। প্রবীণকে দুজন ঝাপটে ধরলো যেনো নড়তে না পারে। সে ভয়ংকর ভাবে ঘামতে লাগলো। তাকাতে লাগলো আশেপাশে। বাহার ভাই বলেছে, কিছু হলে তারা চলে আসবে। অথচ আসছে না। আশেপাশে সরদার দলের কাউকেই দেখা যাচ্ছে না।
দূরত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাহার। সবার অগোচরে, আড়ালে, অন্ধকারে। থোরাই যাবে প্রবীণকে বাঁচাতে! বরং তারা তো এজন্যই পরিকল্পনা টা করেছে। প্রবীণকে মেরে ধরে রেখে যাওয়ার পর আহত অবস্থায় হস্পিটালে ভর্তি করবে তারা। একদিকে প্রেস- মিডিয়া কে জানাবে, অন্যদিকে প্রবীণ হিন্দু ধর্মের হওয়ায় পরশ শিকদারের ভোট কমে যাবে। নিজেদের ধর্মের একটা বাচ্চা ছেলেকে এভাবে পিটিয়েছে জানলে নিমিষেই তাদের মত পালটে যাবে।
সুজন স্টিক হাতে হাঁপিয়ে উঠলো। এ যাবৎ প্রায় বিষ ঘাঁ মেরেছে। এবারে পা ভাঙার পালা। চারপাশে শতশত লোকের ভিড় পরে গেছে। দেখুক এরা শিকদার দের তান্ডব। পোস্টারে হাত দিয়ে অপমান করার শাস্তি জানুক। যেনো দেখে আত্মা কেঁপে ওঠে। প্রবীণের চিৎকারে আশপাশ কেঁপে উঠলো। কিন্তু কেউ এলো না বাঁচাতে। অল্পবয়সী ছেলের আর্তনাদে রিকশা থেকে নেমে পড়লো সোভাম। ভিড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে এমন ভয়ংকর ঘটনা দেখে চমকে উঠলো। এখনো পেটাচ্ছে ছেলেটাকে । যন্ত্রণায় মাটিতে উবু হয়ে ছটফট করছে ছেলেটা। দুহাত অনবরত নাড়িয়ে আটকাতে চাইছে আঘাত। পাশে দাঁড়ানো একজন লোককে জিজ্ঞেস করতেই সে বললো ,

– পোস্টার ছিড়ছে, তাই পিটাইতেছে।
এমন ঠুনকো কারন শুনে অবাক হয়ে গেলো সোভাম। গায়ের রক্ত টগবগ করে ফুটতে লাগলো। ওমন বেদনার্ত চিৎকার, ছটফট করতে থাকা শরীর টা দেখে আটকাতে পারলো না নিজেকে। ক্ষোভ নিয়ে এগিয়ে গেলো সামনে। সুজনকে ধাক্কা মেরে সরাতে চাইলো। কিন্তু সে নড়লো পর্যন্ত না। পরক্ষণেই স্বজোরে ঘুষি মারলো ঘাড়ের উপর। হাত থেকে টেনে নিয়ে গেলো স্টিক। চিৎকার করে বলে উঠলো,
– অমানুষের মতো ছেলেটাকে পেটাচ্ছেন কেনো? মানছি, রাজনৈতিক পোস্টার ছিড়েছে, অন্যায় করেছে। তো পুলিশ ডাকছেন না কেনো? এভাবে জানোয়ারের মতো পেটালে কি মনে করেছেন, এলাকাবাসী ভোট দেবে?
সুজন আহাম্মক হয়ে তাকিয়ে রইলো। উপস্থিত সকলেই অবাকের সর্বোচ্চ সীমায় পৌছেছে। এই প্রথম কেউ মারামারির সময় যে চে এসে বিপদের সম্মুখে দাঁড়িয়েছে। একে তো ছয় টুকরো করে ফেলবে সুজন। সুমনের দিকে তাকাতেই সে ইশারায় থামতে বললো। এরপর কল লাগালো পরশের নাম্বারে। রিসিভড হতেই বললো,

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৮

– ভাই, লোক টা আমার বয়সী, কিন্তু অপরিচিত। এর আগে দেখি নাই। সন্ধ্যায় সরদার বাড়ি ঢুকতে দেখছি। ও সুজনরে ঘুষি মারছে। আমাগো জানোয়ার, অমানুষ যা ইচ্ছা বলতাছে। নতুন এজেন্ডা মনে হয়। আপনারে না জানাইয়া কিছু করলে রাগ করেন। এখন বলেন, কি করমু?
ক্ষেপে গেলো পরশ। দাঁতে দাঁত পিষে অশ্লীল গালি দিয়ে বললো,
– তোরা ওখানে আট নয়জন। কিভাবে ঘুষি মারলো ও? তোরা কি হিজরা? হাত ভেঙে দিতে পারলি না!
ফোন টা সযত্নে ডান হাতে নিলো সুমন। কল কাঁটার পূর্বে বললো,
– বুঝছি ভাই! দুইটারেই হাসপাতালে দেখতে আইসেন।

রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ১০