অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৫
ফাহিমা ইসলাম
রাত্রির গাঢ়তম স্তব্ধতার অন্তঃসলিলা ভেদ করে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়ে নতুন প্রভাতের সূত্রপাত ঘটেছে।
সকাল সকাল নিজের রুমের বারান্দায় বসে আছে রৌদ্রিক, বুকের উপর ঘুমন্ত রোদেলা লেপ্টে আছে। দিনটা বেশ মেঘলা হওয়ায় আবারও ঘুমিয়ে পরেছে রোদেলা রৌদ্রিকের কোলেই। রৌদ্রিকের মুখশ্রীতে কোনো আবেগের ছাপ নেই, অথচ চোখের গভীরে জমাট বেঁধে আছে অজস্র অপ্রকাশিত অনুভূতির স্তূপ।
হাতে বিশাল মোটা একটা বই, সেটাই মনোযোগ দিয়ে পরাতে ব্যস্ত সে। তূর্ণা নিজে রুমা সিকদারের সঙ্গে রয়েছে, তখনই সেখানে কাজের মেয়ে কুসুম আসে সিদ্ধ ডিম নিয়ে। সকালে খাবার বলতে ডিম আর ব্লেক কফি খায় রৌদ্রিক। রোদেলা ঘুমানোর কারণে সে আর নিচে যায়নি, তাই উপরেরই পাঠিয়েছে। কুসুমের পিছে পিছে গুটি গুটি পায়ে তূর্ণাও এখানে উপস্থিত হয়েছে। রৌদ্রিক একবার শান্ত চোখে তূর্ণাকে দেখে নিলো।
রৌদ্রিক টেবিলে রাখা প্লেট থেকে একটা সিদ্ধ ডিম তুলে নিলো মুখে দিলো। কুসুম রেখে চলে গেছে তার কাজ আছে নিচে। এদিকে হঠাৎ পাশ থেকে এক বিস্ময়-বিস্ফারিত কণ্ঠ ভেসে এলো-
“ আল্লাহ বর আপনি এটা কি করলেন। সাপের ডিম
খেয়ে নিলেন? এখন তো আপনিও সাপ হয়ে যাবেন।”
গুটিশুটি মেরে থাকা মেয়েটার চোখ দু’টো অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে উঠেছে। ভয় আর কৌতূহলের মিশেলে তার মুখাবয়ব যেন শিশুসুলভ এক রহস্যময়তায় ভরে গেছে। রৌদ্রিক প্রথমে থামলো তূর্ণার কথায়। কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তূর্ণার দিকে। তার চোখে বিরক্তি নেই, বিস্ময়ও নেই শুধু এক অদ্ভুত সংযত নীরবতা। যেন সে ভাবছে , এই অযৌক্তিক কথার প্রতিক্রিয়া কী হওয়া উচিত? তারপর অত্যন্ত স্বাভাবিক স্বরে বলল-
“হোয়াট..? সাপের ডিম মানে ? কি বলছো এইসব.?”
তূর্ণার রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে বড় বড় চোখে করে বলে-
“হ্যাঁ, কালকে টিভিতে দেখলাম সাদা সাদা ডিম সেগুলো সাপের ডিম। আর সাপের ডিম খেলে তো
সাপ হয়ে যাবেন, যেমন মুরগী খেলে মুরগী হয়ে যায়।”
রৌদ্রিকের ঠোঁটের কোণে অতি সূক্ষ্ম, প্রায় অদৃশ্য এক রেখা খেলে গেল হাসি, নাকি নিছক প্রতিক্রিয়ার ছায়া, তা বোঝা দুষ্কর। রৌদ্রিক ভ্রু কুঁচকিও আবারও বলে-
“ওও আচ্ছা তাই নাকি! মুরগীর ডিম খেলে মুরগী হয়ে যায়, ইন্টারেস্টিং ভেরি ইন্টারেস্টিং! তাই তো বলি তুমি দিন দিন মুরগী মত দেখতে হচ্ছো কেনো।”
রৌদ্রিকের কথা শুনে তূর্ণা যেনো আকাশ থেকে পরলো। তারপরও ভয়ে ভয়ে রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে বলে-
“ কিহহহ! আমি মুরগী হয়ে যাচ্ছি! আল্লাহ বর আমাকে বাঁচান আমি মুরগী হতে চাই না। মুরগী হলে সবাই আমাকে ধরে খেয়ে ফেলবে।”
তূর্ণার কথা শুনে রৌদ্রিক দুশ্চিন্তামাখা মুখ করে গম্ভীর স্বরে বলে-
“ তোমাকে আর বাঁচানো যাবে না। আল রেডি তোমার মুরগী মত চুল গজাচ্ছে, খুব শীঘ্রই তুমি একটা মুরগীতে পরিণত হবে।”
রৌদ্রিকের কথা শুনে তূর্ণা এবা কান্না করে দেওয়ার উপক্রম। কালকেই টিভিতে দেখলো হাঁসের ডিমের মত, সাপের ডিম খাওয়াচ্ছে। আর সে জানে ডিম খেলে নাকি ধীরে ধীরে মুরগী হয়ে যায়, তাই তূর্ণা ডিম খেতে চায় না। তূর্ণা কাঁদো কাঁদো মুখ করে ভেজা গলায় বলে-
“ না না..আমি মুরগী হব না আর। আমাকে বাঁচান, মুরগী হলে তো আমি আর তোমাদের সাথে থাকতে পারবো না। সবাই মিলে আমাকে রান্না করে খেয়ে ফেলবে।”
তূর্ণার কথা শুনে রৌদ্রিক আরও সিরিয়াস মুডে বলে-
“ সরি তূর্ণা আর উপায় নেই, তুমি কতগুলো মুরগীর ডিম খেয়েছে বল তো। তাই তো এত তাড়াতাড়ি মুরগী হয়ে যাচ্ছো.. আমি তো একটা সাপের ডিম খেয়েছি তাই সাপ হইনি এখনো।”
তূর্ণা এবার সত্যি ই কেঁদে দিলো। রৌদ্রিক সবসময় সত্য কথা বলে, মজাও করে না তাই তূর্ণার কাছে সব সত্যি মনে হলো। সে কাঁদতে কাঁদতে বলে ওঠে-
“ আমি তো মুরগীর ডিম খাইনি বর, আমাকে বাঁচিয়ে দাও বর! আমি মুরগী হব না। আমাকে মুরগী হতে দিও না বর!”
বলতে বলতে তূর্ণার শ্বাস যেন আটকে গেল। সে আবারও নাক টানতে টানতে বলে-
“ আপনার কি সাপের ডিম বর?”
রৌদ্রিক তূর্ণার ক্রন্দনরত মুখশ্রীর দিলে তাকিয়ে নির্বিকারভাবে উত্তর দিল-
“ পাহাড়ি সাপের ডিম। খুব বিরল প্রজাতি।”
তূর্ণা কান্না করতে করতে আবারও বলে-
“ আমি মুরগী হব না। আমাকে বাঁচাও বর, আমাকে মুরগী হতে দিও না!”
রৌদ্রিক না চাইতেও হেসে ফেললো তবে সেটা শব্দহীন হাসি। হাসি থামিয়ে তূর্ণার দিকে তাকিয়ে বলে-
“ আচ্ছা কান্না থামাও, এই সময় বেশি কান্না করা চলবে না। একদম কান্না করবে না, নাহলে ঠিক করাবো না কিন্তু!”
রৌদ্রিকের কথা শুনে তূর্ণা ঝটপট নিজের হাত দ্বারা চোখের পানি মুছে ফেলে। তবে বার বার গাল গড়িয়ে অশ্রু ঝড়ছে! তূর্ণার এমন অবস্থা দেখে রৌদ্রিক আর কিছু বললো না, সে আবার মজা করা শুরু করলো কবে? নিজের এহেম কাজে নিজেই অবাক হলো বেশ। এদিকে দু’জনের কথা শুনে রোদেলার ঘুম ছুটে গেছে।
রৌদ্রিকের বুকের উপর থেকে মাথা তুলে ঘুম ঘুম চোখে তাকালো। মুখটা ফুলিয়ে রেখে, তার উপর গালগুলো লাল লাল হয়ে আছে। যার কারণে রোদেলা অনেক আদুরে লাগছে, রৌদ্রিক হাতের সাহায্যে নিজের মেয়ের সামনে আসা চুলগুলো অতি যত্ন সহকারে সরিয়ে দেয়। রোদেলা মুখ ফুলিয়েই ঘুমের ঘোরেই বলে ওঠে-
“ দুদু খাবু, দুদু তাও..দুদু তাও।”
রোদেলার কথা শুনে তূর্ণার কান্না বন্ধ হয়ে গেছে পুরোপুরি। সে রোদেলা আদুরে মুখখানির দিকে তাকিয়ে নাক টেনে বলে-
“ তুমি এত সুন্দর কেনো পুতুল? আমার কাছে আসতো, তোমাকে দেখে এখন অনেক আদর পাচ্ছে আমার।”
রোদেলা মুখ ঘোরালো, সে যাবে না তার এখন দুধ চাই। রৌদ্রিক সামনে রাখা ফিটারের বোতলটা তুলে রোদেলার মুখের সামনে দেয়। সেটা দেখতেই রোদেলা মুখে পুরে নিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়; এদিকে রোদেলার না করায় তূর্ণার মনটা খারাপ হয়ে যায়। রোদেলা কোনোদিন এমনটা করে না তার সঙ্গে,তাই হঠাৎ রোদেলার এমনটা করায় তূর্ণার বেশ খারাপ লাগলো। অল্পতেই তার মনটা খারাপ হয়ে যায়, সেখানে তার মস্তিষ্কও আস্ত একটা বাচ্চা। তাই অন্য আর একটা বাচ্চার মনোভাব তার বোঝার ক্ষমতা তার নেই, রৌদ্রিক তূর্ণার বিষয়টা আন্দাজ করতে পেরে শান্ত গলায় বলে-
“ ঘুমের ঘোরে বলেছে, নিতে পারে এখন?”
রৌদ্রিকের কথা শুনে তূর্ণার মুখ চকচক করে উঠলো। রৌদ্রিক অন্য হাত দিয়ে তার পাশে আর একটা চেয়ার টেনে নিজের নিকটেই রাখলো, তারপর ইশারায় তূর্ণাকে সেখানটায় বসার আদেশ করলো। তূর্ণা কোনো কিছু না ভেবে ঝটপট বসে পরলো। রৌদ্রিক আস্তে করে রোদেলাকে তূর্ণার দিকে দিলো, তারপর তার হাতে থাকা ফিটার ধরিয়ে দেয়। তূর্ণা আলতো হাতে রোদেলাকে নিজের বুকের সঙ্গে আগলে নিয়ে গুনগুনিয়ে গান করতে করতে রোদেলাকে দুধ পানে সাহায্য করছে। রোদেলা তার কালো নেত্রমণি জোড়া মেলে তাকিয়ে আছে তূর্ণার দিকে; রোদেলা চোখ দু’টো হেসে উঠছে বার বার! তাকে বড্ড খুশি দেখাচ্ছে। রৌদ্রিক শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে সেদিকে, না চাইতেও তার সামনের দৃশ্যটা তাকে সেখানটায় ডুবিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আতল গভীরে। তূর্ণা আর রোদেলাকে দেখে মনে হচ্ছে এদের সম্পর্ক হয়তো জনম জনমের। কেউ বলনে তূর্ণা অসুস্থ? মেয়েটা কি সুন্দর করে তার সন্তানকে নিজের কাছে আগলে রেখেছে, একজন মা যেমনটা তার সন্তাকে আগলে রাখে ঠিক সেভাবেই।
অথচ রোদেলার সঙ্গে যার রক্তের সম্পর্ক, নাড়ির টান রয়েছে সে কোনোদিন রোদেলাকে এতটা ভালোবেসে কাছে টেনে নেয়নি। রৌদ্রিক চোখ সরিয়ে নিলো, কিছু সময় পর রোদেলা খাওয়া শেষ করে মুখ তুলে তূর্ণার দিকে তাকায়। মায়া মায়া চোখে তূর্ণার দিকে তাকিয়ে বলে-
“ মা..ম..মা মা!”
তূর্ণার খুশি হয়ে যায় ”মা” ডাকটা শুনে, তার নেত্রজোড়া জ্বলজ্বল করে উঠলো মুহুর্তেই। রোদেলা এখন তাকে শুধুই মা বলে ডাকে, আগে “তুনা মা “বলতো আর এখন মা! তূর্ণার জানা নেই এই ডাকে কি এমন আছে, কিন্তু সে বড্ড শান্তি পায় যখন রোদেলা এত মায়া মায়া করে মা ডাকে। তূর্ণা নিষ্পাপ মনে বলে-
“ হ্যাঁ পুতুল, আমি তোমার মা আর তুমি আমার পুতুল।”
রোদেলা আপন মনে খিলখিল করে হেসে উঠলো। তূর্ণার সমগ্র মুখশ্রীতে তার ছোট্ট নরম হাতখানি দিয়ে; তূর্ণার সারা মুখে হাত বুলিয়ে দিলো। রৌদ্রিক চোখ সরিয়ে নিলো, কিছুসময় পর নিরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করে-
“ মেডিসিন নিয়েছো? নাকি এমনি ঘুরছো?”
“ হ্যাঁ নিয়েছি তো রুমা মা খাইয়ে দিয়েছে। জানে কি তিঁতা ওইগুলো আমি না খাবো না ওইসব পঁচা জিনিস।”
নাক-মুখ কুঁচকিয়ে বলে ওঠে তূর্ণা। তূর্ণার পূর্ণ চিকিৎসা শুরু হয়েছে, যতটুকু সম্ভব তূর্ণা ধীরে ধীরে রিকভার করবে সময়ের সঙ্গে। রৌদ্রিক গম্ভীর গলায় বলে-
“ না খেলে তুমিও সুস্থ হবে না। আর তোমাকে সুস্থ হতে হবে, তুমি কি সুস্থ হতে চাও না?”
“ চাই তো, তাই তো ওইগুলো খাচ্ছি। আমি সুস্থ হলে স্কুল যাব আমারও এত এত বন্ধু হবে তখন, তাই না বর?”
রৌদ্রিক শান্ত দৃষ্টিতে তূর্ণার দিকে তাকিয়ে বলে-
“ হুম সব হবে তোমার। খালি নিজের উপর বিশ্বাস রাখ, তাহলেই সফল হবে তুমি।”
“ আনিও তপল হব পাপা।”
“ হ্যাঁ তোমাকেও হতে হবে। কিন্তু সবসময় আমার চড়ুই বাচ্চা হয়ে থাক তাহলেই হবে।”
চওড়া রোদ পরে গিয়ে গোধূলির লগ্নের আবির্ভাব ঘটেছে নীলিমা জুড়ে। পক্ষীরাজরা দল বেধে নীড়ের পথে উড়াল দিয়েছে, ব্যস্ত নগরী তার মতোই ব্যস্তময় সময় পার করছে। রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল থেকে গাড়ির চলাচল লেগে রয়েছে। হসপিটালের নিজের কাবেনি বসে রয়েছে রৌদ্রিক, সামনেই সামির বসে আছে। সামির রৌদ্রিকের খুব কাছের ফ্রেন্ড। স্কুল লাইফ থেকেই বন্ধুত্ব তাদের, অনেকগুলে বছর কেটেছে সব তাদের বন্ধুত্ব পাল্টায়নি। কিছু সময় পর একজন স্টাফ এসে দু’জনের কফি দিয়ে গেলো, রৌদ্রিক কিছু রিপোর্ট দেখতে ব্যস্ত। সামির কফিতে চুমু দিতে দিতে বলে ওঠে-
“ ভাবির কি খবর? সব ঠিকঠাক তো? না মানে ওর কন্ডিশনের পেশেন্ট কেমন হয় জানিস তো।”
রৌদ্রিক গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে শান্ত গলায় উওর দেয়-
“ ভালো, ওর ওমন কন্ডিশন গ্রো হয়নি তাই ওর মধ্যে এত চঞ্চলতা নেই যেটা ওর থাকার দরকার ছিল। অন্যদের তুলনায় অনেকটা শান্ত প্রকৃতির ওর।”
“ ওকে কেনো বেছে নিলি? ভালোবাসতে পারবি না বলে?”
রৌদ্রিক শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সামিরের দিকে।
ভালোবাসা কোনো দৃশ্যমান সমীকরণ নয়,যে এটা কারো অবস্থা, প্রাপ্তি কিংবা অপূর্ণতার হিসেব কষে জন্ম নেয় না। এটা জন্ম নেয় নিঃশব্দ কোনো অন্তর্গহ্বরে, যেখানে যুক্তির শিকল ভেঙে অনুভূতিরা নিজেদের অস্তিত্ব ঘোষণা করে। মানুষের জীবনে প্রেম বহুবার আসে, তবে ভালোবাসা বলে-কয়ে আসে না।
ভালোবাসা মানে কারো ভাঙাচোরা বাস্তবতাকে জেনেও
তার ভেতরের অনন্ত সম্ভাবনাকে আলিঙ্গন করা।
কারণ ভালোবাসা কখনো “কেমন আছো” দেখে জন্মায় না, ভালোবাসা জন্মায়। “তুমি যেমন, ঠিক তেমনভাবেই তোমাকে চাই” এটদই নির্মম সত্যে।
“ ওকে ভালোবাসতে চাইলে আমি ওকে ওর সব অবস্থাকে ভালোবাসবো। আমার কাছে ভালোবাসার সংজ্ঞা মানে তাকে সব অবস্থায় নিজের মধ্যে জায়গা করে দেওয়া।”
“ তারমানে ভালোবাসিস ওকে?”
“ ভালোবাসি বলটা ভুল হবে, তবে হৃদয় যদি চায় তাহলে বাসতেই পারে। হৃদয়ের উপর কারো মালিকানার বারণ শোনে না। তার মর্জি মত চলে ”
“ ধূর শালা এত কোল্ড কেন তুই? একটু ভালোবাসা প্রকাশ করবি নাকি, জীবনে তোর প্রেম কাহিনী দেখার ইচ্ছে স্বপ্নই রয়ে গেলো এই জন্যে।”
বিরক্তি নিয়ে বলে ওঠে সামির। রৌদ্রিক নিজের কাজে মন দিয়ে বলে-
“ কফি খাওয়া হলে বের হয়ে যায় ভাই। মাথা খাস না আর আরও একটা সার্জারী আছে।”
“ হ, তোমারে ভালো কথা কইলে মাথা খারাপ হয় তোমার। ”
এরই মধ্যে সেখানে একজন স্টাফ নক করে। রৌদ্রিক অনুমতি দিতেই ভিতরে প্রবেশ করে।
“ স্যার আপনার সঙ্গে একজন দেখা করতে চাচ্ছে।”
“ কে?”
“ চিনি না স্যার, বার বার আপনার কাছে আসতে চাচ্ছে। এখনো বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে।”
স্টাফটার কথা শেষ হতেই কেবিনের দরজা ঢেলে প্রীয়তি প্রবেশ করলো। হঠাৎ এখানে প্রীয়তিকে দেখে সামির অবাক হলো, রৌদ্রিক অবাক হলো নাকি না। সেটা তার কঠোর মুখশ্রী দেখে বোঝা গেলো না। প্রীয়তি রৌদ্রিকের দিকে তাকিয়ে জোরে বলে ওঠে-
“ আমার কল ধরছো না কেনো রৌদ্র? কালকে থেকে কয়বার ফোন দিয়েছি তোমায় আমি?”
প্রীয়তির কথা শুনে রৌদ্রিক শান্ত, কঠোর দৃষ্টিতে তাকিয়ে হিমশীতল কণ্ঠে বলে-
“ কিপ ইউর ভয়েস ডাউন। এটা তোমার বাড়ি নয় যে যখন-তখন পারমিশন ছাড়া ঢুকে পরবে।”
“ একশোবার করবো, তুমি আমার ফোন তুলছো না কেনো?”
“ তোমার ফোন তোলার কারণ তো দেখছি না যে তুলবো।”
প্রীয়তি শক্ত গলায় বলে ওঠে-
“ অবশ্যই তুলবে, তোমার কাছে যেহেতু আমার মেয়ে আছে। সেহেতু আমি মা হয়ে আমার মেয়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য ফোন দিতেই পারি।”
প্রীয়তির কথা শুনে রৌদ্রিকের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। নিজের রাগটাকে দমিয়ে স্টাফকে বাহিরে চলে যেতে বলে। তারপর রক্তিম চোখে প্রীয়তির দিকে তাকিয়ে বলে-
“ তোমার মেয়ে? হাউ ডেয়ার ইউ! এই ওয়ার্ড ইউস কর কিভাবে? রোদেলা আমার মেয়ে, ওনকি মাই’ন আন্ড হু দ্যা হেল আর ইউ?”
রৌদ্রিকের কথা শুনে প্রীয়তি রাগে ফেঁপে উঠলো। রাগে কিরমির করতে করেত বলে ওঠে-
“ রৌদ্র, ভুলে যেও না সে আমারও মেয়ে। জন্ম দিয়েছি ওকে আমি। তোমার কোনো অধিকার নেই আমার মেয়েকে আমার থেকে দূরে সরানোর।”
“ ডিভোর্সের আগে এই দরদ কোথায় ছিল? আর মেয়ে, মেয়ে করা বন্ধ কর। জন্ম তো কুত্তাও দেয়, তারা বিবেকহীন হয়েও সন্তানকে আগলে রাখতে জানে। তুমি কি জানো টেল মি! কুত্তার থেকেও নিকৃষ্ট তুমি।”
“ রৌদ্র… তুমি আমাকে এইভাবে অপমান করতে পারো না।”
“ আই ক্যান, এখান থেকে বের হও। নেক্সট টাইম ফোন দিবে না আমায় একদম।”
প্রীয়তি শক্ত গলায় বলে-
অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৪
” আমি আমার মেয়েকে চাই। ওর সঙ্গে দেখা করবো আমি।”
এতক্ষণ সামির নীরব ছিল, কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা না বলায় ভালো। কিন্তু এবার চুপ থাকলো না,
“ প্রীয়তি সরি টু সে, তুমি তো বলেছিলে রোদেলাকে তোমার চাই না। তাহলে এখন মেয়ের জন্য মন পুরছে কেনো? নাকি অন্য কারণ রয়েছে?”
প্রীয়তি শক্ত চোখে সামিরের দিকে তাকালো। কালকে থেকে প্রীয়তি রৌদ্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে কিন্তু রৌদ্রিক কিছুতেই তার ফোন কিংবা মেসেজ কিছুরই উত্তর দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছে সে।
