প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ২
insia isha chowdhury
প্রণয় যেন অবাক হওয়ার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। এই মেয়েতো দেখছি কথায় কথায় অজ্ঞান হয়ে যায়! মুহূর্তের মধ্যেই প্রণয় আর কিছু না ভেবে সূচনাকে দু’হাতে কোলে তুলে নিল।
নরম আলোয় ভরা ফুলসজ্জার ঘরটা তখন এক অদ্ভুত নীরবতায় ডুবে আছে। প্রণয় ধীরে ধীরে সূচনাকে নিয়ে গিয়ে তুলতুলে বিছানার ওপর শুইয়ে দিল। কিন্তু তাড়াহুড়োর মধ্যে সূচনার শাড়ির কুঁচি এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। আঁচলটাও সরে গিয়ে পেটের কিছুটা অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
দৃশ্যটা চোখে পড়তেই প্রণয়ের বুকের ভেতর কেমন অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল। গলায় হঠাৎ শুকনো ঢোক আটকে গেল। তৎক্ষণাৎ সে দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিল।
ঠিক তখনই বাইরে থেকে হৈচৈ আর উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর ভেসে এলো। সূচনার হঠাৎ চিৎকার শুনে মির্জা বাড়ির সবাই দ্রুত প্রণয়ের ঘরের দিকেই এগিয়ে আসছে। বিষয়টা বুঝতে পেরেই প্রণয়ের ভ্রু কুঁচকে গেল। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে পাশে থাকা কম্ফোটারটা তুলে সূচনার পা থেকে গলা পর্যন্ত আলতো করে ঢেকে দিল। সে চায় না, তার স্ত্রীকে সে ছাড়া অন্যকেউ এভাবে দেখুক।
প্রণয় সূচনাকে ঢেকে দিতেই দরজা ঠেলে একে একে সবাই ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ল।
শায়লা খাতুন দ্রুত, পায়ে প্রণয়ের রুমে ঢুকে পড়লেন। মুখজুড়ে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা। বিছানায় নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা সূচনার পাশে গিয়ে বসতেই কাঁপা হাতে ওর কপাল আর গাল ছুঁয়ে দেখলেন। তারপর ব্যস্ত কণ্ঠে বলে উঠলেন,
“প্রণয়, সূচনার কী হয়েছে?”
প্রণয় ঠোঁট নাড়ালেও কোনো শব্দ বের হলো না। কী বলবে সে? তার বউ তাকে দেখেই চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেছে— এ কথা কি আর সহজে বলা যায়! ঠিক তখনই প্রণয়ের খালাতো বোন সুপ্তি বলে উঠল,
“খালামণি, তুমি নিজের ছেলের জন্য কী বউমাই পছন্দ করেছো! শ্বশুরবাড়িতে এসেছে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে, আবার এখন চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেল!
শায়লা খাতুন সঙ্গে সঙ্গে কড়া চোখে তাকালেন সুপ্তির দিকে।
“সুপ্তি, একদম চুপ। সবসময় ফাজলামো ভালো
লাগে না।“
তারপর আবার উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“প্রণয়, বল তো বাবা, হঠাৎ এমন করে চিৎকার করল কেন ও?
প্রণয় অসহায় মুখে মাথা চুলকালো। পরিস্থিতি সামলানোর মতো কোনো ভাষাই যেন খুঁজে পাচ্ছে না সে। এমন সময় ঘরের এক কোণ থেকে প্রণয়ের বড় ভাইয়ের ছোট একমাএ ছেলে তামজিদ গম্ভীর মুখে বলে উঠল,
“দাদিমা, আমার মনে হয় চাচ্চু চাচি মাকে মেরেছে। তাই চাচি’মা চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে গেছে!
মুহূর্তেই ঘরের পরিবেশ থমকে গেল। তারপর কয়েকজন হেসে ফেলল চাপা স্বরে।
প্রণয় চোখ বড় বড় করে তামজিদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“বেশি কথা বলো না! আর একটা কথা বললে কিন্তু তোমাকে আর চকলেট দেব না।
তামজিদ সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট ফুলিয়ে চুপ করে গেল।
প্রণয় এবার মায়ের দিকে তাকিয়ে গলা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,
“আসলে মা… ও হয়তো কিছু ভেবে প্যানিক করে ফেলেছিল। তাই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।”
এদিকে প্রণয়ের বড় ভাবি রিমা দ্রুত এক গ্লাস পানি এনে সূচনার মুখে আলতো করে ছিটিয়ে দিল। কয়েক মুহূর্ত পর সূচনার চোখের পাতাগুলো কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে ও চোখ মেলে তাকাতেই চারপাশের সবার মুখে যেন স্বস্তির ছায়া নেমে এলো। কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চারপাশে তাকিয়ে থেকে উঠে বসতেই শায়লা খাতুন উদ্বিগ্ন মুখে ওর কাছে ঝুঁকে বললেন,
“আম্মু, তুমি ঠিক আছো তো?”
সূচনা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় বড় করে তাকালো। তারপর এমন এক অসহায় মুখ করল যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অন্যায়টা ওর সাথেই হয়েছে।
তারপর বলল,
“কিভাবে ঠিক থাকবো আমি! আচ্ছা আন্টি, আপনার সাথে কি আমার কোনো শত্রুতা আছে? আমি কি আপনার মেয়ের মতো না?”
ঘরে থাকা সবাই খানিকটা থমকে গেল। তবে শায়লা খাতুন অবাক হলেও বিরক্ত হলেন না। কারণ সূচনার মা রোকসানা খাতুন আগেই তাকে বলেছিলেন, তার মেয়েটা একটু অবুঝ স্বভাবের। মনে যা আসে তাই বলে ফেলে, কথা বলার আগে খুব একটা ভেবে দেখে না।
শায়লা খাতুন মৃদু হেসে সূচনার গালে আলতো করে হাত রাখলেন।
“আরে পাগলি মেয়ে, তোমার সাথে আমার আবার কিসের শত্রুতা থাকবে? তুমি তো আমার মেয়েরই মতো। কী হয়েছে বলো তো?”
সূচনা এবার ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“তাহলে আপনি আমাকে মিথ্যা কেন বললেন? আপনি তো বলেছিলেন আপনার ছেলের নাম আবরার!”
শায়লা খাতুন হালকা অবাক হয়ে বললেন,
“হ্যাঁ তো, আমার ছেলের নাম আবরার প্রণয় মির্জা। তাতে কী হয়েছে?”
কথাটা শুনেই সূচনার মুখটা আরও শুকিয়ে গেল।
মনে মনে বিড়বিড় করে ভাবল,
“আমার এত বড় সর্বনাশ করে আবার জিজ্ঞেস করছে কী হয়েছে! আমি তো ভেবেছিলাম কোনো রাজকুমার আসবে আমাকে বিয়ে করতে। অথচ বিয়ে হয়ে গেল একটা জল্লাদের সাথে! এবার আমার কী হবে আল্লাহই জানে!”
হঠাৎই সূচনার কিছু একটা মনে পড়তেই সে তড়িঘড়ি করে বলে উঠল,
“কিন্তু আমি এখানে আসলাম কীভাবে? আমি তো আমাদের বাসায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম! এখানে এলাম কিভাবে?”
শায়লা খাতুন কিছু বলার আগেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিমা হেসে উত্তর দিল,
“আসলে অনেক রাত হয়ে যাচ্ছিল। তাই বাধ্য হয়েই তুমি যখন ঘুমিয়ে ছিলে, তখন তোমাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।”
কথাটা শুনে সূচনা কপালে হাত ঠেকাল।
মনে মনে আফসোসে বলে উঠল,
“ইয়া খোদা! আমার মা-বাবাও না! আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছি, আর তারা আমাকে এভাবেই শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দিল!”
পরক্ষণেই নিজের কথাই মনে পড়ে গেল ওর।
বিয়ে নিয়ে কতটা এক্সাইটেড ছিল সে! সারাদিন ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত খায়নি। তখন ওর মা কতবার বলেছিল,
“সূচনা, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া কর। বিয়ের দিন যদি মাথা ঘুরে পড়ে যাস, তাহলে মান-সম্মান কিছু থাকবে?”
আর সূচনা তখন বুক ফুলিয়ে কত বড় বড় কথা বলেছিল!
“তো কী হয়েছে? আমি মাথা ঘুরে পড়ে গেলেও আমাকে ঠিকই শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেবে, বুঝলে? কারণ মেয়েদের আসল বাড়ি তো শ্বশুরবাড়িই! আর এখন আমাকে স্কিন কেয়ার করতে দাও। আমার বিয়েতে আমাকে এত সুন্দর লাগতে হবে যেন আমার সৌন্দর্য দেখেই আমার বর মাথা ঘুরে পড়ে যায়!”
কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সবকিছু একদম উল্টো হয়ে গেছে। বরের মাথা ঘোরা তো দূরের কথা, বরকে দেখেই উল্টো সে নিজেই অজ্ঞান হয়ে পড়েছে!
ভাবতেই সূচনার মুখটা কাঁচুমাচু হয়ে গেল। চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে রইল সে।
তখন শায়লা খাতুন স্নেহভরা কণ্ঠে বললেন,
“আমি তোমার আর প্রণয়ের জন্য খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি। তোমরা দু’জন খেয়ে নিও।”
তারপর বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“আর প্রণয়, তুমি ঠিকভাবে সূচনার খেয়াল রাখো।”
এরপর ঘরে থাকা সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“চলো সবাই, এবার নিজেদের ঘরে যাও।”
এক এক করে সবাই বেরিয়ে যেতে লাগল।
কিছুক্ষণ পর শায়লা খাতুন ওপরে প্রণয়ের ঘরে দু’জনের খাবার পাঠিয়ে দিলেন। রিমা নিঃশব্দে ট্রে টেবিলের ওপর রেখে আবার চুপচাপ বেরিয়ে গেল।
রিমা বের হতেই প্রণয় সূচনার দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,
“ভাবি খাবার দিয়ে গেছে, খেয়ে নাও।”
কথাটা বলেই সে আলমারি খুলে একটা কালো ট্রাউজার আর ধূসর রঙের টি-শার্ট নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ পর বাথরুমের ভেতর থেকে পানির শব্দ ভেসে আসতে লাগল। সূচনা বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে। টেবিলের ওপর সাজানো খাবারের দিকে একবার তাকিয়েই আবার চোখ ফিরিয়ে নিল। ভীষণ খিদে পেলেও এই মুহূর্তে তার কিছু খেতে ইচ্ছে করছে না। সারাদিনের ঘটনাগুলো এখনও মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঠিক তখনই বাথরুমের দরজা খুলে গেল।
ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতেই প্রণয় বেরিয়ে এলো। ধূসর টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজারে তাকে অদ্ভুত পরিপাটি লাগছে। হঠাৎই সূচনার সাথে প্রণয়ের চোখাচোখি হয়ে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গেই সূচনা মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকালো।
প্রণয় টেবিলের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকালো। খাবার যেমন ছিল তেমনই পড়ে আছে। ধীর গলায় জিজ্ঞেস করল,
“এখনো খাবার খাওনি কেন?”
সূচনা ঠোঁট কামড়ে নিচু স্বরে বলল,
“খিদে নেই। তাই খাইনি।”
প্রণয় এবার সরাসরি সূচনার দিকে তাকালো। গলায় হালকা কঠোরতা এনে বলল,
“সকাল থেকে কয়বার অজ্ঞান হয়েছো সেটা মনে আছে? না খেয়ে থাকলে আবার কখন পড়ে যাবে তার ঠিক নেই। আর আবরার প্রণয় মির্জার বউ এত দুর্বল হলে চলবে না। আমি যা বলছি সেটা করো। চুপচাপ খাবার খেয়ে নাও।”
প্রণয়ের কথাটা শেষ হতেই সূচনা যেন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল। হুট করে বিছানার ওপর দাঁড়িয়ে গেল। চোখমুখ রাগে লাল হয়ে গেছে।
“কেন? আপনার কথা অমান্য করলে আপনি কী করবেন?”
এক হাত উঁচু করে সূচনা আরও বলল,
“এটা কিন্তু আপনার ক্লাসরুম বা অফিস না যে আমাকে “শাট আপ এন্ড গেট আউট” বলবেন! আমি এখান থেকে কোথাও যাচ্ছি না।”
কথাগুলো বলে সূচনা নিজের কপালের সামনে পড়ে থাকা চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে নিয়ে রাগী চোখে প্রণয়ের দিকে তাকিয়ে রইল।
কিন্তু রাগের মাথায় সে বুঝতেই পারেনি, এতক্ষণ কমফোর্টারের আড়ালে থাকার কারণে তার শাড়ির কুঁচি নিচ থেকে পুরো খুলে গেছে। প্রণয় কিছু না বলে শুধু স্থির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
প্রথমে সূচনা অবাক হলো। এত কথা শোনানোর পরও লোকটা কিছু বলছে না কেন? পরের মুহূর্তেই সে প্রণয়ের দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজের দিকে তাকালো। আর তাকাতেই আতঙ্কে চোখ বড় বড় হয়ে গেল। তড়িঘড়ি করে কমফোর্টার টেনে নিজেকে ঢেকে ফেলল সে। লজ্জা আর অস্বস্তিতে মুখ একদম লাল হয়ে গেছে।
তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“আমার একটা নির্লজ্জ লোকের সাথে বিয়ে হয়েছে! আমার জামাই একটা নির্লজ্জ!”
কথাটা শুনতেই প্রণয়ের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। হাত দুটোও অজান্তে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল।
সে মনে মনে নিজেকেই বোঝালো,
ধৈর্য প্রণয়… ধৈর্য…
তারপর ঠাণ্ডা গলায় বলল,
“পৃথিবীর কোন জামাই নির্লজ্জ না, তুমি আমাকে সেটা প্রমাণ করে দেখাও। পৃথিবীর সব জামাই তার বউ এর কাছে নির্লজ্জ।”
সূচনা কোন কথার জবাব না দিয়ে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এটা কি আপনার অংক নাকি যে আমি প্রমাণ করে দেখাবো?”
প্রণয় ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
“ওটা প্রমাণ করা ছাড়ো! তুমি তো কোনো অংকই করতে পারবে না। আবার কি প্রমাণ করবে?!”
সূচনার চোখ কুঁচকে গেল।
“আপনি আমাকে অপমান করছেন?”
প্রণয় এবার কপাল চেপে ধরে বিরক্ত গলায় বলল,
“সূচনা, আমার মেজাজ খারাপ করিও না। চুপচাপ খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমি প্রচণ্ড টায়ার্ড।”
এতক্ষণে সূচনারও খিদে পেয়ে গেছে। তবে সেটা মুখে প্রকাশ করল না। কিছুক্ষণ ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“ঠিক আছে… কিন্তু আপনি এখন এই রুম থেকে বের হয়ে যান।”
প্রণয় ভ্রু উঁচু করল।
“হোয়াট? তুমি আমাকে আমার ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলছো?”
“হ্যাঁ, বলছি। আপনি না গেলে আমি এখানেই বসে থাকবো। আর আপনাকেও ঘুমাতে দেবো না।”
প্রণয় কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বিরক্ত নিঃশ্বাস ফেলে অবশেষে দরজার দিকে হাঁটল। দরজা খুলে বের হওয়ার আগে একবার পিছনে তাকিয়ে বলল,
প্রণয়ের নব্য সূচনা পর্ব ১
“অসম্ভব অদ্ভুত রকমের একটা মেয়ে!”
প্রণয় বের হয়ে যেতেই সূচনা দ্রুত বিছানা থেকে নেমে এসে দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিল।
ইতিমধ্যে তার লাল জামদানি শাড়িটা পুরো খুলে মেঝেতে এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে।
লজ্জায় নিজের মাথায় হাত দিয়ে সূচনা দ্রুত শাড়িটা সামলে নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে বের হলো সে। কোমর পর্যন্ত ভেজা চুল পিঠজুড়ে ছড়িয়ে আছে। পরনে হালকা রঙের একটা পাজামা সেট।
