Home Born to be villains Born to be villains part 14 (3)

Born to be villains part 14 (3)

Born to be villains part 14 (3)
মিথুবুড়ি

‘মনিটরিং রুম থেকে বেরিয়ে ডোর লক করে সামনে তাকাতেই ফাদারের মুখোমুখি হলো রিচার্ড। ফাদার তার অপ্রভিত অভিব্যতি অগ্রাহ্য করে হাত ধরে টানতে টানতে সোজা নিয়ে গেল গ্যারেজে।
‘ড্রাইভওয়ের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে আছে রিচার্ডের তিনতলা ব্যক্তিগত গ্যারেজ। যেখানে তার পুরো ম্যানশনই মাত্র দোতলা। গ্যারেজে নেই এমন কিছু নেই! স্পোর্টস কার, সুপার কার, হাইপার কার থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সব নামী ব্র্যান্ডের গাড়িই রয়েছে তার কালেকশনে। তিনতলা গ্যারেজ পরিপূর্ণ থাকলেও সে গাড়ি কিনে। মন ভালো থাকলে গাড়ি কেনে, মন খারাপ থাকলেও গাড়ি কেনে। মোট কথা গাড়ি তার আসক্তি। কারো শখ যেমন বাইক, রিচার্ডের শখ তেমন গাড়ি; নতুন মডেল দেখলে তার ভেতরটা কেঁপে ওঠে। এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে নতুন গাড়ির ঘ্রাণ নেওয়ার।

‘The Weeknd-এর Starboy গানের সেই লাইন দুটো আছে না…
“We don’t pray for love,
We just pray for cars”
‘লাইনটা যেন রিচার্ড কায়নাতের জন্যই তৈরি হয়েছে।
গ্যারেজের অভিমুখে অচঞ্চল ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে একটি BMW M5—নীল হেডলাইটের দু’টি চোখ ব্ল্যাক পাইথনের মতোই শিকারী, স্থির ও হিংস্র দৃষ্টিতে রিচার্ডের দিকে তাকিয়ে। ফাদার নিঃশব্দে হাসল। শুধু গাড়ির চাবিটা এগিয়ে দিল রিচার্ডের দিকে। রিচার্ড এক পলক গাড়ির দিকে তাকাল। তারপর মন্থর, নিয়ন্ত্রিত গতিতে গ্রীবা বাঁকিয়ে তাকাল ব্ল্যাক বিউটির চোখে অতি সূক্ষ্ণ, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। মুহূর্তটায় যেন মুখোমুখি হলো দুই শিকারী দৃষ্টি। শুরশুরে হাওয়ার সঙ্গে নতুন গাড়ির তীব্র, মারাত্মক রঙের ঘ্রাণ ভৌ ভৌ করে ঢুকে পড়ল রিচার্ডের নাকে। সে চোখ বুজে ড্রাগসের মতো টেনে নিল সেই ঘ্রাণ। নেশার মতো, ক্ষমতার মতো করে টানল ঘ্রাণ।
‘ফাদার ক্ষুরধার নজরে রিচার্ডকে নিরীক্ষণ করে তৃপ্ত হাসিতে বললেন,

“আ লিটল গিফট ফর ইয়্যু মাই বয়।”
‘লিটল গিফট! রিচার্ড নিঃশব্দে ঠোঁটের এক কোণ এলিয়ে হাসল। নিকোটিনের ধোঁয়ায় পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া কালচে ঠোঁটের কোণে ব্যঙ্গমাখা হাসি ঝুলিয়ে সে সরাসরি তাকাল ফাদারের দিকে। কাটাছেঁড়া দৃষ্টি নিয়ে সে অকপটে জানতে চাইল,
“লোভ? তাও আবার রিচার্ড কায়নাতকে?”
‘স্নেহার্দ রিদের ওমন ধারালো, বিদ্ধ কণ্ঠে ম্লান ভঙ্গিতে মুখ আচ্ছন্ন হয় ফাদারের গৌরবদীপ্তি তেজোময় মুখশ্রী৷ ফাদার আহত কণ্ঠে বলতে চাইলেন,
“না রিদ, তুমি আমাকে ভুল ব….
‘তাকে বাক্য সম্পূর্ণ করতে দিল না হিমালয়ের মতো নিটল সে। উলটে উগড়ে দিল তীব্র ব্যঙ্গপূর্ণ বাক্য,
“চার বছরে আপনার বিজনেস কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছি, ডু ইয়্যু হ্যাভ এনি আইডিয়া ভিনসেনজো ক্যাসিনো?”

‘ফাদারের অন্তর্ভেদী দৃষ্টি রিচার্ডের চোখের তিক্ততা আর বিষাদ আড়াল করতে পারল না। তবে অকৃতজ্ঞতার ছাপ ফাদারের মধ্যে ফুটে ওঠে না। তার ক্ষমতাই যথেষ্ট নয় এই শীতল, অদম্য, বলিষ্ঠ দেহধারী মানুষের কৃতজ্ঞতাকে অস্বীকার করার। তাই তো সে কৃতজ্ঞ হৃদয় আর কণ্ঠে আকুতি নিয়ে বললেন,
“আমি জানি, জানি….সব জানি মাই বয়। আমি তোমাকে যা দিয়েছি, তুমি তার দ্বিগুণ ফিরিয়ে দিয়েছো আমায়। আমার হারিয়ে ফেলা সকল সম্পদ আমায় ফিরিয়ে দিয়ে আবারও আমাকে আমার সিংহাসনে বসিয়েছো তুমি। তোমার কথা আমি কীভাবে ভুলি রিদ? সেই ক্ষমতা যে আমার নেই। পুরো বিশ্বের কাছে আমি ক্ষমতাবান হলেও একটা জায়গায় এসে আমি দূর্বল, আমি ভঙ্গুর। আর সেটা আর কেউ নয়, তুমি রিদ।”
‘রিচার্ড তখনও বরফের মতো শীতল। চিবুকে চিরায়ত গম্ভীরতা। অনুভূতির ছাপহীন মুখে শাণিত দৃষ্টিতে সে ফাদারের দিকে তাকিয়ে আছে। ফাদারের কণ্ঠে ধীরে ধীরে খাদে নামছে। কৃতজ্ঞতা না কি তা বোঝা গেল না, তবে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তার কণ্ঠ ভিজে আসছিল।

“তোমার করা কাজ ভুলে থাকা আমার পক্ষে অসম্ভব, রিদ। যাকে আমি একদিন আশ্রয় দিয়েছিলাম, সেই ছেলেটাই আজ আমার ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যকে দাঁড় করিয়েছে। ব্যবসার ধস থামিয়েছো, রক্তপাত থামিয়েছো, হারানো রাজ্য ফিরিয়ে দিয়েছো। আমার নামের ওজনকে আবার ক্ষমতার দরজায় গর্জে উঠতে শিখিয়েছো। ভেঙে পড়া আমার সাম্রাজ্যের প্রতিটি ইট তুমি নতুন করে জোড়া দিয়েছো। যে ব্যবসা একসময় দেউলিয়া হওয়ার মুখে ছিল, তুমি সেটাকে রাতারাতি বহু-দেশীয় চেইনে রূপ দিয়েছো। তোমার হাতেই উদ্ধার হয়েছে আমার সমস্ত ব্যাংকক্রাপ্ট বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো। সুইস থেকে সিঙ্গাপুর, দুবাই থেকে আমস্টারডাম পর্যন্ত সব… সব। বিভিন্ন দেশের শেয়ার মার্কেটে তুমি আমার নামকে আবার টেনে তুলেছো। ওয়াল স্ট্রিট থেকে টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জ… সব জায়গায়। সব… সব সব। তুমিই তো সব হারানো চুক্তি ফিরিয়ে এনেছো, ভাঙা ডিল নতুন করে লিখিয়েছো। আর…আর যেই ক্ষমতার টেবিলে আমার জন্য আর চেয়ার ছিল না, সেই টেবিলে তুমি আমাকে নতুন চেয়ার বানিয়ে বসিয়েছো। তুমি তো শুধু আমার পাশে দাঁড়াওনি… তুমি আমাকে আমার সিংহাসনে ফিরিয়ে বসিয়েছো, রিদ। দুনিয়াকে দেখিয়ে দিয়েছো—যে ক্ষমতা একদিন আমার ছিল, আজ তার অধিপতি আমি। কিন্তু দুনিয়া সে কথা জানলেও আমি তো জানি এর প্রকৃত অধিপতি তুমি।”

“অনেক কিছু করেছি তো? তবে কিছুই আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নয়। কৃতজ্ঞতার ছদ্মবেশে আমার ক্ষমতার এক ঝলক দেখিয়ে দিয়েছি পুরো বিশ্বকে। এবার পালা আপনার। আপনাকে এবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে, ফাদার। প্লিজ, লিভ মি এলোন।”
‘সপাটে ওমন জ্বালাময় আর তপ্ত ঝড়ানো বাক্যে বুকের ভেতর চিনচিনে ব্যাথা অনুভূত হয়। আজ ফাদার ব্যাথা, অভিমান, অপমান ভুলে সমস্ত দূরত্ব দূর করে কাছে এলেন। রিচার্ডের হাত ধরে ফ্যাসফ্যাসে আওয়াজে বলতে থাকেন,
“অতীতের জন্য তুমি আমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, সেটা আমি কখনোই চাইনি রিদ। এটা তুমিও জানো। আমি তোমাকে ছেলের আসনে বসিয়েছিলাম। জায়গা দিয়েছিলাম হৃদয়ের ভেতরে। কিন্তু তুমি সেই স্থানটাই চাওনি। তোমার পুরুষতান্ত্রিক অহং এত প্রবল ছিল যে আমার স্নেহও তোমার কাছে করুণা বলে মনে হত।”

‘রিচার্ড তুষ্ট হেসে হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,”আমার একটা নীতি আছে, জানেন তো? রিচার্ড কায়নাত শোধবোধে বিশ্বাসী। যতদিন আপনার স্নেহে কোনো ছলনা ছিল না, ততদিন আমি আপনাকে সম্মান করেছি। কিন্তু যখন আপনি সম্পর্কের মাঝে স্বার্থ ঢুকালেন, তখন থেকেই শুরু হয়ে গেল দেনাপাওনা। আপনি আমাকে যা দিলেন, আমি তা ফেরত দিয়েছি। এবার সেটা যদি ছলনা হয়, তবে ছলনা। যদি ভালোবাসা হয়, ভালোবাসা।”
‘ফাদারের চোখের কোল কালো মেঘে ঢেকে গেল। অবিশ্বাস্য চোখে রিচার্ডের দিকে তাকিয়ে দুর্বল গলায় বললেন,
“আমার স্বার্থ ছিল না রিদ। সম্পর্ক করতে চেয়েছি তোমার সাথে। তোমাকে বিশ্বাস করে আমার মে….
‘থমকে থাকা মন ফিরল পৈশাচিক রূপে, হঠাৎই হিংস্র শিকারীর মতো গর্জন করে উঠল রিচার্ড,
“দ্যাটস ফাকিং বুলশিট!”

‘ফাদার কাঁপলেন না। এই হুংকারের সাথে সে চিরপরিচিত। রিচার্ডের গর্জনে গার্ডগুলো কেঁপে উঠল। লুকাস ছুটে এসে দাঁড়াল ফায়ারের পিছনে। ফাদার এবার অশ্রু ছেড়ে দিলেন। দাম্ভিক অহংকারে ভরা মানুষটি হঠাৎ করেই আবেগের বন্যায় ভেসে গেল। ব্যথিত পিতার মতো ফাদার আবারও রিচার্ডের হাত দু’হাতের মুঠোয় নিয়ে বলতে থাকে,
“রিদ, রিদ…..আমার বাঘের বাচ্চা। তুমি মন থেকে বলো তো—তুমি কি কখনো আমার ছোঁয়ায় বাবার স্নেহ পাওনি? তোমাকে যে আমি কোন স্থানে রাখি, সেটা কী তুমি এতো বছরেও বুঝতে পারোনি?”
‘রিচার্ড নির্বাক, নির্লিপ্ত। পাহাড়ের মতো শক্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে সে। কোনো আবেগই তার মেশিনজাত হৃদয়কে প্রভাবিত করতে পারছে না। ফাদার কাঁপা কাঁপা হাত রাখলেন মরুভূমির মতো খরখরে চিবুকে। সকল তৃষ্ণা, আকাঙ্খা দুস্থ কণ্ঠে ঢেলে দিয়ে অনুরোধ করে বলে,

“একটাবার আমাকে বাবা বলে ডাকো,রিদ।”
‘নির্জ্জীব অভিব্যক্তিতে মুখ ফিরিয়ে নেয় রিচার্ড। লুকাস
বিস্ময়ে ভরা চোখে তাকিয়ে আছে ফাদারের দিকে। এই মানুষটাকে সে মেয়ের বিপর্যস্ত অবস্থাতেও কাঁদতে দেখেনি। অথচ আজ কাঁদছে এই লোকটা, যার ভয়ে কাঁপে ইতালির অলিগলি। তবে রিচার্ডের কাঠিন্য সদাতেজি মুখ দেখে অবাক হয় না সে। খুব কাছের মানুষের কাছ থেকে আঘাত পেলে মানুষ পাথর রুপান্তরিত হয়।
‘ফাদার কম্পিত হাতে রিচার্ডকে নিজের দিকে ঘুরালো। তার চোখের কোলে অশ্রুর প্লাবন। সকল গার্ডদের মাঝে বিস্ময়ের স্রোত ছড়িয়ে দিয়ে ফাদার মুমূর্ষু ব্যক্তির ন্যায় বলতে লাগলেন,
“নিজের মেয়ের মুখে বাবা ডাক শোনার আগে, তোমার মুখ থেকে বাবা ডাক শুনতে চেয়েছি আমি। তুমি তো আমার সেই রিদ, যে আমার এক কলে নিজের স্বপ্ন ছেড়ে এসেছিল। তুমি তো আমার সে-ই রিদ, যে আমার জন্য জান দিতে প্রস্তুত। আর কতদিন রাগ করে থাকবি বাবা? আমি জানি, আমি তোমার সাথে অন্যায় করেছি, জুলুম করেছি তোমার সাথে। কিন্তু আমি কি করতাম বলো? আমার হাত যে বাঁধা ছিল।”

‘কাঁপা ঠোঁটের রিচার্ডের কপালে ঠোঁট রাখলেন ফাদার। রিচার্ড চোখ বুঁজে। অল্প হাসে৷ তার হাসির মধ্যে একধরণের রসিকতা ছিল। কিন্তু কণ্ঠে ছিল এক আকাশ পরিমাণ অভিমান।
“যদি সত্যিই আপনার ভালোবাসায় আমি থাকতাম, তাহলে আমার সাথে এমমটা করতে পারতেন না, ফাদার৷”
‘ফাদার জাপ্টে ধরলেন রিচার্ড’কে। অনবরত মাথা নাড়াতে নাড়াতে বলতে থাকে,”রিদ…..রিদ জান বাচ্চা আমার…আমার বাঘের বাচ্চা.. আমি আর কি করতাম বলো তো? বাবা হয়ে আমার হাত যে বাঁধা ছিল। এক সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে আরেক সন্তানকে আঘাত করেছি আমি। এতে করে আমিও ভালো নেই। বিশ্বাস করো রিদ, আমি একটুও ভালো নেই। তিনশো চোট্টাটিটা দিন ধরে আমার সাথে ঠিকভাবে কথা বলো না তুমি, আমার পাশে বসো না, আমার রিদ আমার চোখে চোখ রাখে না, আমার রিদ আমার ওষুধের খবর নেয় না, আমাকে সম্মান করে… এতো এতো যন্ত্রণা নিয়ে আমি একটুও ভালো নেই রিদ। আমার রাতে ঘুম হয় না। সারাক্ষণ ছটফট করি, কখন আমার রিদ আসবে। আমার সাথে একটু কথা বলতে। কিন্তু তুমি ফিরো না। ছোট্টো রিদ বড় হয়ে এখন আর একটু পরপর ফাদারের কাছে ছুটে আসে না। শুধু আমার একটা স্বীদ্ধান্তের জন্য কতটা পর করে দিয়ে আমায়, তুমি ভেবে দেখেছো?”

“সবচেয়ে বড় আঘাতটা আপন মানুষই দিয়ে থাকে।”
‘ফাদার পাগলের মতো রিচার্ডের সারা মুখে চুমু খেতে থাকেন। ঠিক যেভাবে প্রথমদিন রিচার্ডকে কোলে নিয়েছিল সময় খেয়েছিল৷
“তোমাকে ছাড়া আমি কিছু না, রিদ। তুমি অন্তত এভাবে আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। আমি তিলে তিলে মরে যাবে।”
‘রিচার্ডের চোখ তখনও বন্ধ করা। ঠোঁটের কোণে অল্পস্বল্প হাসি,”আমি তো আপনার জন্য জানও দিতে পারবো।আপনিই শিখিয়েছিলেন—প্রয়োজনে সঙ্গীর জন্য জীবনও দিতে হয়। সম্পর্কে রয়ালিটি থাকতে হয় তাই না? এখন বলুন আপনি কি পারবেন আমাকে সেই অস্বাস্থ্যকর সম্পর্ক থেকে মুক্তি দিতে?”
‘ফাদার থমকালেন,”রিদ….
‘রিচার্ড চোখ খুলল। এবার তার কণ্ঠে ফেটে পড়ল যন্ত্রণা,

“আমার তো মা-বাপ কেউই ছিল না। আমার একমাত্র আশ্রয় আর ভরসার জায়গা তো আপনিই ছিলেন। কই একটা বার-ও তো ভাবলেন না, একটা ছেলে তার স্বপ্ন ছেড়ে কীভাবে বেঁচে আছে, একটা বারও তো জানতে চাইলেন না, বিষ পান করতে কেমন লাগে?”
“ওটা ভালোবাসা ছিল রি…..
“ঘৃণিত জিনিস আমার জন্য বিষ।”
‘ফাদার কিছু বলতে যাবেন, তখনই রিচার্ডের ফোন শব্দ করে উঠল। রিচার্ড ফোন বের করে দেখল ইমামার মেসেজ,
“ফর মি, দ্য রিয়াল ডেফিনিশন অব হ্যান্ডসাম ইজ আ ম্যান উইথ ম্যানার্স, রেসপেক্ট, অ্যান্ড আ কালম টোন দ্যাট নেভার ডিসরেসপেক্টস।”
‘তৎক্ষণাৎ রিচার্ডের অভিব্যক্তিতে পরিবর্তন আসে। গুরুগম্ভীর, কঠিন মুখে এক ধরনের অজানা আলোড়ন ফুটে ওঠে। ফাদার চমকে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন,
“ড্রাগন কুইন!… হু ইজ ড্রাগন কুইন?”
‘রিচার্ড বাঁকা হাসল। সোজা জবাব না দিয়ে পা বাড়িয়ে সামনে চলে গেল। যেতে যেতে বলল,
“ওনার অব রিচার্ড কায়নাত।”

‘জানালায় এখনও অনবরত ভূতুরে কম্পনের মতো থকথকে শব্দ হচ্ছে। ভেতরে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য চিরকুট আর ফুল। খাটের এককোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে ইমামা। চিবুক মটমট করছে তীব্র ক্রোধ আর একরাশ বিতৃষ্ণায়। ডান হাত তখনো বরফের পানিতে ডোবানো। তখন আগুনের উল্কা এসে যে জায়গাটায় পড়েছিল, ওই জায়গাটায় ফোসকা পড়ে গেছে।
‘ফোনটা আবার বেজে উঠল। ইমামার ক্রোধ ধীরে ধীরে ঘনীভূত হচ্ছে। এখন রাত চারটা। চারপাশে নিস্তব্ধতা এখন কিছুটা শান্ত। জিম থেকে কে বা কারা তাকে উদ্ধার করেছিল, তার কিছুই মনে নেই। জ্ঞান ফিরেছিল নিজ ঘরে।তখন ঘড়িতে বারোটা। আর সেই মুহূর্ত পর থেকেই শুরু হয়েছে হৃদয়হীন লোকটার অবিরাম কল। যে আগুনে পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিল, সে-ই এখন ভালোবাসার মুখোশ পরে ফিরে এসেছে!

‘ইমামা কল রিসিভ করে না। তারপরই শুরু হয় অদ্ভুত সব কাণ্ড। যে ঈগলটা রোজ একবার আসে, আজ সে এসেছে চব্বিশ বার। একবারও খালি হাতে নয়। কখনো ফুল, কখনো চিরকুট। সেও যেন চোখের ভাষায় মালিকের হয়ে ক্ষমা চাইছে। কিন্তু আজ ইমামার মন আর গলে না। ফুল আর চিরকুট ছুঁয়েও দেখে না সে। উল্টো জানালাটা বন্ধ করে দেয়। তবু জানালার ওপাশ থেকে ঠকঠক শব্দ থামে না। আর ফোন…..সে তো এখনও বাজছেই।
‘একটা সময় বাধ্য হয়েই ইমামা ফোনটা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তারপর যা ঘটল, তা ছিল আরও ভয়ংকর। গভীর মাঝরাতে হঠাৎ করেই ল্যান্ডলাইন বেজে উঠে। অন্ধকারের ভেতর বসার ঘরে এগিয়ে যায় ইমামা। বুকের ভেতর অজানা শঙ্কা নিয়ে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসে কণ্ঠের ধমক,
“Don’t ignore me red.
You know that—I won’t breathe.”

‘ইমামা ফোনটা রেখে দ্রুত নিজের রুমে চলে যায়। তারপর থেকে অনবরত বাজতেই থাকে ল্যান্ডলাইন। কিন্তু ইমামা আর যায় না। শব্দে ইমান ওয়াসিমের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি কল রিসিভ করলে ওপাশ থেকে কোনো শব্দ ভেসে আসে না। এভাবে চারবার হলো। উপর থেকে সবকিছু লুকিয়ে দেখছিল ইমামা। ইমান ওয়াসিম রুমে ফিরতেই সে চুপিচুপিই এসে ল্যান্ডলাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কিন্তু সেখানেই শেষ হয় না। এরপর শুরু হয় আরও ভয়ংকর কাণ্ড।
‘হঠাৎ করেই বিকট শব্দে কলিং বেল বাজতে থাকে। রাত তখন দু’টো। অন্ধকারে ঢাকা ওয়াসিম মঞ্জিল হঠাৎ আলোয় ভরে ওঠে। ইমন দরজা খুলে দেখে বাইরে কেউ নেই। দরজা বন্ধ করে ঘরে ফিরতেই আবার কলিং বেল। এভাবে কয়েকবার ঘটতে থাকে একই ঘটনা। বাড়িজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এক অজানা আতঙ্ক। মনে হচ্ছিল যেন এটা কোনো ভুতুড়ে বাড়ি।

‘ইমন ভয়ে কাঁপতে থাকে। সারাটা সময় ইমামা ছিল নীরব। সবার ভেতরেই চাপা শঙ্কা, দমবন্ধ করা আতঙ্ক। ঠিক তখনই হঠাৎ ওয়াসিম ভিলার ওপর দিয়ে চার-পাঁচটা হেলিকপ্টার পাক খেতে শুরু করে। এবার আর বুঝতে বাকি থাকে না আসলে কী হচ্ছে। সকলের সন্দিহান দৃষ্টি গিয়ে পড়ে ইমামার ওপর। সে কিছু না বলে রুমে চলে যায়। বাধ্য হয়ে ফোনটা অন করে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই সবকিছু থেমে যায়।
‘আর তারপরই মেসেজ আসে নিদারুণ অনুরোধে,
“আমার সঙ্গে একটু কথা বলুন, মিস। আপনাকে খুব মিস করছি। আচ্ছা, আমি সরি, খুব করে সরি।”
‘কিন্তু ইমামার অভিমানে কঠিন হয়ে থাকা মুখে এমন আলতো অনুরোধেও একফোঁটা মায়ার ছাপ পড়ে না। ফোন দিতে দিতে ক্লান্ত সেই মানুষটা আবার মেসেজ পাঠায়, এবার আর্ত স্বরে,
“একটু কথা বল না রে, লক্ষীটি।”
‘তবু ইমামার মন গলে না। আদুরে আদুরে ডাকে একের পর এক মেসেজ আসতেই থাকে,
“আচ্ছা, আমি সরি তো। আমি অনুভূতি এক্সপ্রেস করতে পারি না রেড। ওকে, আমি মানছি। ওটা বাড়াবাড়ি ছিল। সরি, রেড রোজ।”

“আমার সাথে কথা বলুন এলিজান।”
“জান?”
“ও জান?”
“জান রে!”
“আমার জান।”
“এলিজান…”
“রেড।”
“মাই ডার্ক রেড।”
“মাই ফাকিং ডার্ক রেড।”
“মাই গর্জিয়াস লেডি।”
“হৃদয় হরিণী আমার।”
“বেইব?”
“হানি?”
“সুইহার্ট?”
“ডার্লিং?”
“সুন টু বি ওয়াইফি।”
“বেটার হাফ।”
“স্টপ ইগনোরিং মি, ইয়ার।”
“আই সেইড নো রেড।”

‘এক মুহূর্তের নীরবতার পর আসে শেষ লাইনটা ভারী আর হাহাকারভরা,
“আমি ঘৃণা নিতে পারি, রেড…কিন্তু অবহেলা সহ্য করতে পারি না।”
‘ওপাশের মানুষটা যেন প্রাণপণে চেষ্টা করছে নিজের রাগটাকে দমিয়ে রাখতে। ক্লান্ত শরীর, ক্ষয়ে যাওয়া ধৈর্য, তবুও হাল ছাড়ে না। তবে এবার ভাষা বদলায়, দেশের সীমানা পেরিয়ে ডাকে সে,
“Rouhi— আমার আত্মা।”
“Omri— আমার জীবন।”
“Azizam” — আমার প্রিয়।”
“Joonam” — আমার প্রাণ।”
“Em yêu” — প্রিয়তমা।”
“Mi Cielo” — আমার আকাশ।”
“Mi Reina” — আমার রানি।”
“M wangu” — আমার হৃদয়।”
“Lubirea mea” — আমার ভালোবাসা।”
“Mi Linda” — আমার সুন্দরী।”
‘কিন্তু ইমামা তখনও অনড়, নিরুত্তর। শূন্য চোখে শুধু মেসেজগুলো দেখে যায়। তবে এবার আর ধৈর্য ধরে না ওপাশের মানুষটার। হঠাৎ থেমে যায় ফোন মেসেজ।
‘কয়েক সেকেন্ড পর নিস্তব্ধতা চিরে ভেসে আসে এক হিংস্র হুংকার,

“এই আল্লাহর বান্দি এই—একদিনই বলছি আমি মানুষটা অতটা ভালো না। মাথায় একবার রক্ত উঠে গেলে, তোর রক্তে হাত ভেজাতেও বুক কাঁপবে না আমার। সো প্লিজ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিস না। আমার সঙ্গে একটু কথা বলুন ভালো করে, আমার হাতে সময় কম।’
‘ইমামা কেঁপে উঠল। তারপর হঠাৎই মনে পড়ল রুম থেকে স্পিকারটা সে এখনও সরায়নি। ঠিক তখনই আবার মেসেজ এলো। এবার ইমামা ঝাঁঝালো ভঙ্গিতে রিপ্লাই দিল। কিন্তু উত্তরটা এলো আদুরে, অভিমানী সুরে,
“আমার সঙ্গে কথা না বললে আপনার কী হবে? কিছুই হবে না। কিন্তু… কিন্তু আমার হবে।”
“কি হবে?” ইমামা লিখল।
“ঘুম হবে না।”
“কেন?”
“Call me addicted, but I can’t sleep without getting a good conversation with you, my love”
“কেন?”
‘উত্তরে এলো, “Ankhon ki nami hai tu,
Sab hain, par kami tu.
Meri zindagi hai tu”

‘দু’টো লাইনেই ইমামার সর্বাঙ্গে শিরশিরে অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল। এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো সে কি সত্যিই এতটা স্পেশাল, যার রাগ ভাঙাতে কেউ এত দূর যেতে পারে? তবু সে কিছু প্রকাশ করল না। হাতের গতি বাড়িয়ে দ্রুত লিখল,
“Texting is sweet, but I want your hands on my waist when I talk.”
‘ইমামার কথার সূক্ষ্ম ইঙ্গিতে এতক্ষণে রিচার্ডের বিচলিত মুখে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল। রিচার্ড ট্যারেসে অস্থিরচিত্তে পায়চারি করছিল অনেকক্ষণ ধরেই। এবার মনে হলো ভেতরের অস্থিরতা খানিকটা প্রশমিত হয়েছে। রিচার্ড বসে পড়ল। লিখল,
“Wanna meet?”
“Yes.”
“আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার হবো আমি। আর সেরা জিনিসগুলো দেরিতেই আসে।”
ই’মামা জানে এ মানুষটা সহজে ধরা দেওয়ার নয়। তবু সে নিজের জায়গা থেকে নড়ল না। লিখল,
“Wanna see you.”

“আমাদের দেখা হবে সামনাসামনি। আপনাকে আমি খুব কাছ থেকে দেখব, এলিজান।”
‘রাগে ইমামা ফোনটা ছুঁড়ে ফেলল বিছানার ওপর। অথচ সত্যিটা অন্য৷ লোকটাকে দেখার তৃষ্ণায় সে অস্থির। কল্পনায় তাকে নানা রঙে আঁকে, এক ঝলক দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রতিদিন তাকে নিঃশব্দে দুঃখী করে রাখে।
‘আবার ফোন হাতে নিল সে। স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে,
“আমাকে সময় দিন।”
‘দীর্ঘশ্বাস ফেলে ইমামা লিখল,”সুনীল আকাশের সৌন্দর্যে ঘেরা আপনার সেই নীল চোখ দু’টি আরেকবার দেখতে চাই।”
‘এবার আর তাকে নিরাশ করা হলো না। কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই ভেসে এলো সমুদ্র-নীল চোখের ছবি। ইমামা টের পেল তার নিঃশ্বাস থমকে গেছে। সে তলিয়ে যাচ্ছে ওই সমুদ্রের মায়ায়। পলক পড়ে না তার; একদৃষ্টিতে ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকে। এই চোখের মায়ায় আর কতবার যে সে ঘায়েল হবে তার নিজেরও জানা নেই।
‘তবু ইমামা সহজে কিছু প্রকাশ করল না। তার রাগ নেমে গেছে এটাও বুঝতে দিল না। বরং সে করে বসল চূড়ান্ত এক কাজ।

“আপনি আমাকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছেন।”
“What the fuck! Are you insane? মারার চেষ্টা মানে! আপনি মারা গেলে আমার কী হবে?”
“না। আপনি আমাকে মারার চেষ্টাই করেছেন।”
‘রিচার্ড সহজেই হাল ছেড়ে দিল। মেল ইগোর ধার ধারল না একটুও। আজকাল অধিকাংশ সম্পর্কের অধঃপতনের মূল কারণই তো এই মেল ইগো। সে সব দোষ নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে শান্ত গলায় জানতে চাইল,
“আচ্ছা, সব আমার দোষ। এখন কী করলে রাণীর রাগ কমবে, জানতে পারি?”
“কান ধরে ছবি দিতে হবে।”
‘ঠিক তখনই ফরজের আজান ধ্বনিত হচ্ছিল। ইতালির মতো পাপ-পুণ্যের শহরে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে না, তবু সময়টা বলে দিচ্ছিল বাংলাদেশে আজানের সময় হয়ে গেছে। রিচার্ড কিছুক্ষণ থমকে রইল। মনে হলো নিজের সঙ্গে নিজেরই যুদ্ধ চলছে। পরপর কয়েকবার গরম নিঃশ্বাস ফেলল। চোখ-মুখ কুচকে রাখল কিছুক্ষণ। তারপর উঠে দাঁড়াল। তার বাঁ হাত ফোনের কিবোর্ডে স্থির, আর ডান হাত ভেজা ছিল রক্তে। রিচার্ড ঝেড়ে ফেলল রক্ত। সোজা ওয়াশরুমের দিকে এগোল। যাওয়ার সময় মনে মনে যেন বলে উঠল,
“প্রেমে পড়ার পর তোর কী দিন এলো রে, রিচার্ড কায়নাত! হাতের রক্ত ধুয়ে এখন কানেও ধরতে হয় একটা মেয়ের মন পাওয়ার জন্য।”

‘রিচার্ড যখন ক্যামেরা অন করে হাত কানের কাছে নিচ্ছিল, তখন বারবার তার হাত থেমে যাচ্ছিল। চোখ-মুখ কুঁচকে যাচ্ছিল। তবু অবশেষে ছবি তুলল এবং ইমামার কাছে পাঠাল। ইমামা হাসতে হাসতে ছবি দেখল। এভাবে তার রাগ গলে গেল। রিচার্ড নিজেই নিজের উপর বিস্মিত। অবিশ্বাস্যের সঙ্গে আওড়ালো,
“Aisssh, I’m fucking obsessed with her.”

‘এরপর তাদের আলাপ আরও গভীর হলো। দিনের আলো ফুটতে লাগল। কথা বলতে বলতে ইমামা ঘুমিয়ে পড়ল। পায়ের কাছে পড়ে থাকল ল্যাপটপ, কানের কাছে ফোন। ল্যাপটপ আর ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে সমুদ্র-নীল চোখ দু’টো। ল্যাপটপের উপর ছড়িয়ে আছে কতগুলো চিরকুট আর সানফ্লাওয়ার। আজকে আর সে লাল বা কালো গোলাপ দেয়নি। ঘর ভরিয়ে দিয়েছে শুধুই সানফ্লাওয়ার দিয়ে। এই সানফ্লাওয়ার দেওয়ার পিছনেও আছে এক বিশেষ কারণ।
‘লোকমুখে শোনা যায় সানফ্লাওয়ারের এক রোমান্টিক মিথ যখন কেউ কাউকে সানফ্লাওয়ার উপহার দেয়, তখন একা নয়, দু’টি দিতে হয়। কারণ দিনের প্রখর রোদে সানফ্লাওয়ার সূর্যের দিকে মুখ তুলে রশ্মির মতো আলো ছড়ায়। কিন্তু রাত নামলে যখন আলো নিভে আসে, তখন তারা একে অপরের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। নিজেদের মাঝেই খুঁজে নেয় আলো।

এই মিথের ভাষায় কাউকে সানফ্লাওয়ার দেওয়া মানে শুধু ফুল দেওয়া নয়, না বলেও বলে দেওয়া—সব অন্ধকারে তুমিই আমার আলো।”
‘বাংলাদেশে তখন কেবল ভোরের আলো ফুটছে। তবে ইতালিতে সময় অনেকটাই এগিয়ে গেছে। রিচার্ড এলিজাবেথের ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। এই মুহূর্তে তার ভেতরটা অদ্ভুতভাবে হালকা। স্ট্রেসমুক্ত লাগছে তাকে। রিচার্ড উঠে দাঁড়াল। ঘুমন্ত মুখটার দিকে তাকিয়েই নীচু স্বরে বলে উঠল,
“আমি আপনার জন্মদাগ থেকে শুরু করে আপনার প্রতিটি রেখা জানি, প্রতিটি অনুভূতি চিনি। অথচ আপনি… আমাকে না দেখেও ভালোবেসেছেন। এই বিশ্বাসের ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না, এলিজান। আপমার বিশ্বাস আমি কখনোই আপনার বিশ্বাস ভাঙব না। কখনোই না। দরকার হলে এই অভিশপ্ত রাজ্যও ত্যাগ করব।”

Born to be villains part 14 (2)

‘কথা শেষ করেই সামনে এগোতে গিয়েই থমকে গেল সে। সামনে লুকাস দাঁড়িয়ে। তার মুখের ভাবই বলে দিচ্ছিল সবকিছু সে শুনেছে। সন্দিহান চোখে রিচার্ডের দিকে তাকিয়ে লুকাস বলল,
“একটা মেয়ের জন্য নিজের রাজ্য ছেড়ে দেবেন?”
‘রিচার্ড এক মুহূর্তও দেরি করল না। স্থির, নির্ভার কণ্ঠে উত্তর দিল,
“আমার উনিশ বছরের আকাঙ্ক্ষা, লোকা। ভালোবাসার মানুষটাই যদি জীবনে না থাকে, তাহলে রাজ্য দিয়ে কী হবে?”

Born to be villains part 15