বৃষ্টি হয়ে নামবো পর্ব ৬ || Writer Nondini Nila

1943

বৃষ্টি হয়ে নামবো পর্ব ৬
Writer Nondini Nila

মুখে ঠান্ডা পানির স্পর্শে চোখ মেলে তাকালাম অগ্নিদৃষ্টিতে আদনান ভাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ভাইয়ার তাকানো দেখে একটা শুকনো ঢোক গিললাম।
নিজের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলাম ভূত হয়ে আছি। ভাইয়ার কাছে ধরা পড়ে গেলাম। আর সেই ভূত ক‌ই আচ্ছা সকাল হয়ে গেছে কি?
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা বাজে। তারমানে এখনো মাঝরাতে। আমি ভাইয়ার বিছানায় শুয়ে আছি।
ধরফরিয়ে উঠে বসলাম।
হাট উচু করে শাড়ির আচল হাতে নিয়ে বসে আছি আর কাপাকাপি করছি। ভাই আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রাগী ভাবে মনে হয় আমাকে এখন খুন করতে পারলে সে শান্তি পাবে। তার দিকে একবার কাঁপতে কাঁপতে চোখ উঁচু করে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। মনে মনে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে ভাবলাম এখন আমাকে ভাইয়ার হাত থেকে যে করেই হোক বাঁচতে হবে। এখান থেকে পালাতে হবে কি ভাবছ পালাবো ভাইয়ার রাগ যে করেই হোক কমাতে হবে।
আমি এক চোখ খুলে ভাইয়াকে দেখে ফট করে তিন চারবার সরি সরি সরি বলো উঠলাম।

তারপর চোখ খুলে কানে হাত দিয়ে বললাম,,
“আই এ্যাম ভেরি সরি ভাইয়া! প্লিজ, আমাকে কিছু বলো না। আমার না খুব ভয় লাগছে।আমাকে দেখো আমার শরীর কাপছে আমি আবার জ্ঞান হারাবো এতো ভয় পেলে প্লিজ তোমার চোখটা অন্যদিকে নাও না। কি ভয়ঙ্কর ভাবে তাকিয়ে আছো মনে হচ্ছে।আমাকে চোখের আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে ও মাই গড।কোন দুঃখে যে তোমাকে আমি ভয় দেখাতে আসলাম।কোথা থেকে সত্যি কারের ভূত চলে এলো আমাকে ভয় দেখাতে।”
কথাগুলো শেষ করে চোখ ভালো করে খুললাম। ভাই এখনো সেই ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
আমি কাঁদো কাঁদো মুখ করে কান থেকে হাত নামিয়ে বললাম,,
“সরি সরি প্লিজ অ্যাকসেপ্ট করে নাও না। আর জীবনে তোমাকে শাস্তি দেওয়ার কথা ভাববো না।‌ তুমি যা বলবে তাই শুনবো এই যে দেখো প্রমিস করছি।”
ভাই আমার দিকে সেইভাবেই তাকিয়ে আছে রোবটের মত। আমার ভয় আত্মা শুকিয়ে আসছে। এইসব যদি ভাইয়া আব্বু আম্মু মামনি কে বলে দেয়। আমার মান সম্মান সব চলে যাবে। আর ভাই না জানি আমাকে এর জন্য কি কি শাস্তি দেবে।এখন আমার কি হবে কেন যে এমন একটা প্ল্যান করতে গিয়েছিলাম।
গভীর ভাবনায় বিভোর আমি।তখন হঠাৎ পিকচার তোলার শব্দ আমার কানে এলো আমি চমকে সামনে তাকিয়ে দেখি। আদনান ভাই নিজের ফোনের ক্যামেরা অন করে আমার এই ভূত সাজা পিকচার তুলছে। আমি স্তব্ধ হয়ে তার ছবি তোলা দেখছি।এবার ভাইয়া ফোনটা নিজের পকেট এ ভরে মুখে হাত দিয়ে হো হো করে হেসে উঠলো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গুপ এ জয়েন হউন

সাথে চেপে ধরে আছে এমন হাসি হাসছে।যেন কোন বড়োসড়ো জোকস শুনছে আর জোকার দেখছে। আচ্ছা ভাইয়া কি আমাকে জোকার ভাবছে। নিজের দোষে নিজেই এখন জোকার হয়ে বসে আছি। ভাই হাসতে হাসতে নিজের ওয়ারডপের কাছে চলে গেল আমার থেকে অনেকটা দূর। তখনই হঠাৎ আমার ভুতের সেই আওয়াজ কানে এলো তখনই আমার সেই সময় কার ভূত আসার কথা মনে পড়ে গেল আর আমি ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। এখনো তো একটা বাজে তারমানে ভূতটা এই ঘরে আছে। আমি ভীতু মুখ করে চারপাল দেখছি।যতসব আজে বাজে কথা এখন আমার মাথায় আসছে। আমি একটা চিৎকার দিয়ে উঠলাম ভয়ে।আমার চিৎকার শুনে আদনান ভাই চমকে উঠলো আর এক প্রকার দৌড়ে আমার কাছে এসে বসলো।
আমি ভয়ে কাপাকাপি করছি চোখ বন্ধ করে। ভাইয়া আমার হাত স্পর্শ করে বলল,,
“হোয়াটস হ্যাপেনস দোলা?”
আমি ভয়ে কথা বলতে পারছি না কাঁদছি।
এত কাঁপছিস কেন আর কাঁদছিস কেন কি হয়েছে তোর? বল আমাকে?
আমি ওইভাবে থেকে আস্তে আস্তে তোতলাতে তোতলাতে বললাম,,”ভুওওওত ভুওওওত আছে তোমার ঘরে!
ভাইয়া মনে হয় ব্যাপারটা বুঝতে পারল তখন একটা ধমক দিল আমাকে,,
“স্টপ?একটু কান্নার আওয়াজ যেন না পাই চুপচাপ কাপাকাপি আর কান্নাকাটি বন্ধ করে চোখ মেলে তাকিয়ে সোজা হয়ে বস ইডিয়েট একটা?”
আমি শুনছি না।
“কি হলো আমার কথা কানে যায় না আমি তোকে কান্নাকাটি করতে মানা করেছি ইডিয়েট।”
“আমার খুব ভয় করছে তুমি আমাকে ধমকাচ্ছে কেন? এত নির্দয় তুমি কবে থেকে হলে ভাইয়া?”

আমি ভাইয়ার দিকে কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকিয়ে মৃদু গলায় বললাম।
ভাইয়া আমার দিকে গম্ভীর হয়ে কঠিন মুখ করে বলল,,,”ইডিয়েট কোন ভূত-পেত্নী নেই এখানে?ও সরি একটা পেত্নী এখানে আছে যে এখন আমার সামনেই বসে কান্নাকাটি করছে? ডাফার একটা এমন আজগুবি কাজকর্ম কে ঢুকিয়েছে বলতো?”
তুমি এখন ও আমাকে ধমকাচ্ছ? তোমার ঘরে ভুত আছে আমি নিজের চোখে দেখেছি?
ভাইয়া এবার সিরিয়াস হয়ে বলল,, আচ্ছা তা কি দেখেছেন আপনি?
“আমি এবার বলতে লাগলাম,,আমি নিজের চোখে দেখেছি তোমারে ঘরে আগুন হ্যা আগুন ছিল সেটা কেউ ধরে ছিল না একাই সেটা আমার চারপাশে ঘুরতে শুরু করে। তারপর তারপর কেউ আমাকে জাপ্টে ধরল তারপর তারপর ইয়েস আমাকে কামড়ে দিয়েছে। এই যে দেখো কামড়ের দাগ আছে।”
বলে ঘার দেখানোর জন্য হাত বাড়ালাম।
ভাইয়া এবার বলল,,
আচ্ছা আমার ঘরে না হয় ভূত ছিল তা তুই আমার ঘরে কি করছিলি এমন ভূত সেজে।
আমি হাত নামিয়ে ফেললাম,,,
মায়ের কথা শুনে আমি হকচকিয়ে গেছি কি বলবো ভেবে পাচ্ছিনা,,,
“কি হল আমার প্রশ্নের উত্তর দে। ভূত সেজে কি আমাকে ভয় দেখাতে এসেছিলি?”
ভাইয়ের কথা আমার পিল চমকে উঠলো। আমি হুহু করে কেদে উঠলাম,,
এ ছাড়া উপায় নাই। বাঁচতে হলে কাঁদো দোলা কাঁদ বেশি করে কাঁদ নাকের জল চোখের জল এক করে ফেলো। ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করতে হবে আদনান ভাই কে যদি একটু কাজে দেয়।

ভাইয়া আমার কান্না দেখে চুপ করে যায় আমি কেঁদেই যাচ্ছি।
একটু সময় আদনান ভাই চুপ করে থেকে চিৎকার করে বলে,,
“একদম কান্না অ্যাটিং করবিনা। সাহস কী করে হল তুই আমার রুমে এসে আমাকে ভয় দেখাতে চাষ। তোর মত ভীতু কিনা আমাকে ভয় দেখাবে সত্যি আমি অবাক হই তোর কাম কাজে।”
ভাইয়ার গমগম কণ্ঠ শুনে আমার কান্না অফ হয়ে গেছে।
তুই একটা কি কি বললি আমি যা বলব তাই শুনবি?
আমি একবার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল হুম
আচ্ছা তোকে ক্ষমা করলাম। শুধুমাত্র এই কথাটা বলার জন্য।শুধু বলা পর্যন্ত থাকলে হবে না আমার কথা শুনতে হবে আজ থেকে আমি যেটা বলবো তাই তাই করবি ওকে।
আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললাম।আর মনে মনে ভাবছি কি কি যে করাবে আমাকে দিয়ে আল্লাহ মাবুদ জানে।
কাল থেকে যেন আমি তাকে কোনোভাবেই মাঠে যেতে না দেখি বিকেলে।লোকে যদি যেতে চাস তাহলে আমার কানে খবর আসবে কারণ তোকে ফলো করার লোক আছে। তাই যদি লুকিয়ে যাস আমি সেটা খবর পাবোই। আর এইভাবে যদি আমি খবর পায় তাহলে জানিচ্ছিস‌ই তো আমি তোর কি হাল করবো?
আমার মাঠে না গেলে তো ভালো লাগে না বাড়িতে বোরিং লাগে।
সারাদিন কি বাড়িতে বসে থাকতে কারো ভালো লাগে তোমার জন্য তো আমি কোথাও যেতে পারি না।
আমার জন্য তুই কি বলছিস আমি তাকে বন্দী করে রাখি?
ভাইয়া রেগে বলল কথাটা।

আমিও মলিন মুখ করে বললাম,, বন্দী করে না রাখলেও তো এইতো মাঠে যেতে দেবে না তাহলে আমি কি সারাদিন ঘরে বসে থাকবো।
ঘরে বসে থাকবি কেন ছাদে যাবে আমাদের বাসায় আসবি।
ঘুরলে আমার কি হবে শুধু আমার তো খেলতে ভালো লাগে।।তুমি সব সময় আমার সাথে এরকম করো জন্য তোমাকে আমার সহ্য হয় না তুমি কেন আমাকে এত কড়া শাসন করো?কি শত্রুতা তোমার আমার সাথে সবকিছুতেই কেন লন্ডভন্ড করে দাও। আমার সমস্ত শখ আহ্লাদ তুমি নষ্ট করে দাও কেন?
বেশ করছি তুই এখন বড় হয়েছিস কেন বুঝিস না তুই। বাচ্চাদের মত লাফালাফি করাটা তোকে সোভা পায় না এখন। মাঠ ভর্তির লোকের সামনে তুই বাচ্চাদের মত লাফালাফি করিস তোর লজ্জা করেনা।কে তোর দিকে খারাপ নজরে তাকায় তোর তো সেদিকে খেয়াল থাকে না। সব সময় বাচ্চা মো না করলে তো চলে না আজকে তুই এসে পড়ছিস ভূত সেজে এটা কি কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ করবে।আমাকে ভয় দেখাতে এসে কিনা নিজেই ভয় পেয়ে জ্ঞান হারালি। এখন যদি তোর ভালো মন্দ কিছু হয়েছে তো আমার কী হতো? কতক্ষণ অজ্ঞান হয়ে ছিলি জানিস?এ এতটা সময় আমার মধ্যে কি ঝড় বয়ে গেছে জানিস?সবকিছুর একটা লিমিট আছে এই বারোটা পর্যন্ত জেগে বসে ছিলি কিনা এই আকাম করার জন্য?
ভাইয়া ক্রোধের সাথে কথাগুলো বলল।আমি মাথা নিচু করে চোখের জল ফেলছি এখন আমার সত্যি কষ্ট লাগছে।

বৃষ্টি হয়ে নামবো পর্ব ৫

আদনান রেগে কথা গুলো বলল দোলাকে কে কিন্তু দোতলার চোখের জল দেখে নরম হয়ে গেল। এগিয়ে এসে দোলা মুখ উঁচু করে চোখের পানি মুছে দিয়ে বলল,,
“এমন পাগলামী আর কখনো করবে না বুঝেছিস?”
আমি কিছু বলছি না চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছি।
কি হলো আমার কথা কানে যাচ্ছেনা এতক্ষণ তো মুখে কথার খৈ ফুটেছিল এখন চুপ করে আছিস কেন?”
আমি অভিমান সুরে বললাম,, এতো এতো বকে এখন আবার দরদ দেখানো হচ্ছে। তোমাকে আমি বুঝতে পারিনা ভাইয়া একেক সময় একেক রুপ ধরো কেন?
সেটা তুই বুঝতে পারবি না তোর মাথায় কি বুদ্ধিশুদ্ধি কিছুই নাই। বলে ভাই আমার মাথায় গাট্টা মারলো।

যা এখন ঘুমিয়ে পড় কি হয়েছিস একবার আয়নায় নিজেকে দেখে যাস।
না বাবা তার দরকার নাই আমার ভয় লাগে।
ভিতুর ডিম একটা ভয় লাগে তাহলে এরকম সাজছিস কেন?
রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে। ড্রেস চেঞ্জ করে গেছে মামনি র পাশে শুয়ে পড়লাম।

বৃষ্টি হয়ে নামবো পর্ব ৭