Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 20

Mad for you 2 part 20

Mad for you 2 part 20
তানিয়া খাতুন

রাত তখন প্রায় এগারোটা।
সারা বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে আছে। চারপাশে এমন নীরবতা নেমে এসেছে যে দূরে কোথাও কুকুরের ডাকও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছেন অনেক আগেই।
শুধু রুহির চোখে ঘুম নেই।
নিজের ঘরের বিছানায় শুয়ে আছে সে, অথচ বারবার এপাশ-ওপাশ করছে।
চোখ বন্ধ করলেই যেন অজস্র চিন্তা এসে মাথার ভেতর ভিড় জমাচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগেই তার মায়ের ফোনে সিমরানের কল এসেছিল।
সেখান থেকেই সে জানতে পেরেছে, ক্ৰিশের বাড়ি, গাড়ি, এমনকি তার ব্যক্তিগত কাগজপত্র পর্যন্ত সরকারের হেফাজতে চলে গেছে।

চারদিকে এখন শুধু তার বাবার গ্রেফতার হওয়ার খবর।
খবরটা শোনার পর থেকেই অদ্ভুত এক অস্বস্তি কাজ করছে রুহির ভেতরে।
সে নিজেও বুঝতে পারছে না কেন।
বারবার একটি প্রশ্নই মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে— ক্ৰিশ তাহলে এখন কোথায়?
সারাটা দিন কেমন ভাবে কাটিয়েছে সে?
কিছু খেয়েছে তো?
রাতটা কোথায় কাটাবে?
মেয়েটি বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরল।
নিজের চুলের মুঠি নিজেই টেনে ধরে বিড়বিড় করে বলে,
— “আমি এসব ভাবছি কেন?”
কিন্তু মন কি আর এত সহজে কথা শোনে?
তার মনে পড়ে গেল বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ৰিশের কালো বুলেটটার কথা।
সেটা এখনো তাদের বাড়ির সামনেই পড়ে আছে।
কেউ নিতে আসেনি।
ক্ৰিশ‌ও আসেনি।
তাহলে মানুষটা কোথায়?
হঠাৎ করেই বুকের ভেতর অকারণ একটা শূন্যতা অনুভব করল রুহি।
সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ধমক দিল সে।

— “ওর জন্য আমার ভাবতে হবে কেন?”
ক্ৰিশ তার জীবনে যত ঝড় তুলেছে, যত ভয় দেখিয়েছে, যত অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে—তারপরও কেন আজ তার জন্য উদ্বেগ হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর রুহির জানা নেই।
সে শুধু জানে, আজ সারাদিন ধরে ক্ৰিশ কে একবারও দেখেনি।
আর এই না-দেখাটাই যেন তাকে অদ্ভুতভাবে অস্থির করে তুলেছে।
জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল সে।
রাতের আকাশে আধখানা চাঁদ ঝুলে আছে।
শীতল বাতাস এসে তার মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছে।
রুহি ধীরে ধীরে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
হয়তো এটাই সেই অদ্ভুত বন্ধন, যার কোনো ব্যাখ্যা হয় না।
হয়তো এটাই সেই সম্পর্ক, যেটা মন মানতে না চাইলেও ধীরে ধীরে হৃদয়ের ভেতর নিজের জায়গা তৈরি করে নেয়।
বিয়েটা সে কখনো চায়নি।
ক্ৰিশকেও কখনো নিজের জীবনের অংশ হিসেবে ভাবেনি।
তবু ভাগ্যের অদ্ভুত খেলায় দু’জন মানুষ একই সুতোয় বাঁধা পড়েছে।
আর সেই কারণেই হয়তো আজ নিজের অজান্তেই ক্ৰিশের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে সে।
বিছানায় ফিরে এসে ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ল রুহি।
চোখ দুটো বন্ধ করল বটে, কিন্তু ঘুম আর এল না।
মনের ভেতর বারবার একটাই মুখ ভেসে উঠতে লাগল—
একগুঁয়ে, উদ্ধত, রাগী সেই মানুষটা…ক্ৰিশ খান।

রুহি আর শুয়ে থাকতে পারল না।
বিছানা থেকে ধীরে ধীরে উঠে বেলকানি তে গিয়ে দাঁড়াল সে।
রাত অনেক গভীর হয়ে এসেছে। চারদিক নিস্তব্ধ।
দূরের রাস্তার বাতিগুলো মৃদু আলো ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর আকাশজুড়ে ঘন অন্ধকারের মাঝে দু-একটি তারা মিটমিট করে জ্বলছে।
রুহি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকাল।
মাথার ভেতর অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করছে।
যতই নিজেকে বোঝাক, ততই যেন ক্ৰিশের কথাই মনে পড়ছে।
সারাদিন মানুষটা কোথায় ছিল?
কিছু খেয়েছে তো?
রাতটা কোথায় কাটাবে?
হঠাৎই তার দৃষ্টি গিয়ে পড়ল মূল ফটকের দিকে।
অন্ধকারের মাঝখানে যেন একটি ছায়ামূর্তি ফটক টপকে ভেতরে ঢুকছে।
প্রথমে রুহি চমকে উঠলেও পরের মুহূর্তেই বুকের ধুকপুকানি বদলে গেল অন্য এক অনুভূতিতে।
লম্বা, চওড়া কাঁধের সেই অবয়বটিকে চিনতে তার এক মুহূর্তও লাগল না।
অজান্তেই রুহির ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।

মনে হলো বুকের উপর থেকে যেন বিশাল এক পাথর নেমে গেল।
ফটক পার হয়ে ক্ৰিশ ঠিক বারান্দার নিচে এসে দাঁড়াল।
মাথা তুলে উপরের দিকে তাকাতেই তার চোখ গিয়ে থামল রুহির মুখে।
এক মুহূর্ত।
দু’মুহূর্ত।
দুজনেই শুধু একে অপরকে দেখল।
সারাদিনের ক্লান্তি, উদ্বেগ—সবকিছু যেন সেই নীরব দৃষ্টির মাঝেই কথা বলে ফেলল।
ক্ৰিশ ভ্রু তুলে হাতের ইশারায় জিজ্ঞেস করল—
“উপরে যাব কীভাবে?”
রুহি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
সামনের দরজা দিয়ে আনতে গেলে সবাই দেখে ফেলবে।
কিছুক্ষণ ভেবে সে হাত তুলে ইশারা করল—
“এক মিনিট।”
তারপর দৌড়ে ঘরের ভেতরে চলে গেল।
আলমারি খুলে মায়ের একটি পুরোনো সুতির শাড়ি বের করল।
আবার দ্রুত বারান্দায় ফিরে এসে গ্রিলের এক কোণে শক্ত করে বেঁধে দিল।
ক্ৰিশ‌ নিচে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা দেখছিল।
তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।

— “না, লেদু সোনার একটু হলেও বুদ্ধি আছে।”
রুহি শাড়ির বাকি অংশ নিচে ঝুলিয়ে দিল।
হাত নেড়ে ইশারা করল উপরে উঠতে।
ক্ৰিশ আর দেরি করল না।
দৃঢ় হাতে কাপড়টা ধরে বারান্দার রেলিং বেয়ে উপরে উঠে এল।
উপরে উঠতেই রুহির বুকটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল।
এতক্ষণ অন্ধকারে ভালোভাবে দেখা যায়নি।
এখন আলোয় দাঁড়াতেই সে স্পষ্ট দেখতে পেল—
ক্ৰিশের শার্ট ধুলোয় ময়লা হয়ে গেছে।
প্যান্টে শুকিয়ে যাওয়া কাদার দাগ।
চুল এলোমেলো।
চোখদুটো ক্লান্ত।
মুখটাও কেমন শুকিয়ে গেছে।
সারাদিনের পরিশ্রম যেন তার পুরো শরীরে ছাপ ফেলে রেখেছে।
রুহির বুকটা কেমন করে উঠল।
সে আস্তে করে বলে,

— “আপনি আগে ফ্রেশ হয়ে নিন। আমি আব্বুর একটা শার্ট নিয়ে আসছি।”
কথা শেষ করেই চলে যেতে উদ্যত হলো।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই ক্ৰিশ তার হাত ধরে টেনে নিল।
রুহি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে ক্ৰিশের বুকের কাছে এসে পড়ল।
ক্ৰিশ দুই হাত দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।
এমনভাবে, যেন বহুদিন পর নিজের সবচেয়ে আপন কাউকে খুঁজে পেয়েছে।
তারপর ধীরে ধীরে মুখ নামিয়ে রুহির চুলের ভেতর মুখ গুঁজে দিল।
গভীর করে শ্বাস নিল।
যেন এই গন্ধটুকুই তার সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তির ওষুধ।
রুহি প্রথমে স্থির হয়ে রইল।
তারপর খুব আস্তে নিজের হাতটা তুলে ক্ৰিশের মাথায় রাখল।
— “আপনি কিছু খাননি, তাই না?”
ক্ৰিশ কোনো উত্তর দিল না।
— “সারাদিন রাস্তায় ঘুরেছেন?”
নীরবতা।
— “বাইকটা নিয়ে যাননি কেন?”
একটার পর একটা প্রশ্ন করে চলল রুহি।
ক্ৰিশ এবার একটু দূরে সরে এসে তার মুখের দিকে তাকাল।
দুই হাত দিয়ে রুহির গাল আলতো করে ধরে রাখল।
মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করল।
এই প্রথম সে স্পষ্ট দেখতে পেল—মেয়েটার চোখে উদ্বেগ।
তার জন্য সত্যিকারের উদ্বেগ।
এমন উদ্বেগ, যা অভিনয় করে দেখানো যায় না।
ক্ৰিশের বুকের ভেতর অদ্ভুত উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল।

— “আপনার কাজ খোঁজার দরকার নেই। আমি টিউশন পড়াবো। দু’জনের চলে যাবে।”
ক্ৰিশের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।
সে শান্ত স্বরে বলে,
— “তুইও আমাকে বিশ্বাস করিস না, বাটারফ্লাই?”
— “তোর‌ও কি মনে হয় আমি তোকে খাওয়াতে পারব না?”
রুহি হতভম্ব হয়ে গেল।
— “আল্লাহ! আমি ওভাবে বলিনি।”
— “আমি তো শুধু সাহায্য করতে চেয়েছি।”
ক্ৰিশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর নিচু স্বরে বলে,
— “আমার অভাবের সংসারে থাকতে পারবি, বাটারফ্লাই?”
প্রশ্নটার ভেতরে এমন এক আকুতি ছিল, যা রুহি আগে কখনও শোনেনি।
সেই ক্ৰিশ খান—
যে সবসময় আদেশ করে, জোর করে, নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়—
আজ যেন প্রথমবার কোনো উত্তর জানতে চাইছে।
রুহির বুকটা হালকা কেঁপে উঠল।
সে বিন্দুমাত্র দেরি না করে মাথা নাড়ল।
— “পারব।”
— “আর আপনাকে সাহায্যও করব।”
ক্ৰিশ কিছু বলল না।
শুধু গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
আর সেই দৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে রুহির হঠাৎ করেই ভীষণ লজ্জা লাগতে শুরু করল।
সে তাড়াতাড়ি মুখ ফিরিয়ে বলে,
— “আপনি ফ্রেশ হতে যান। আমি আপনার জন্য কাপড়ের ব্যবস্থা করছি।”
কথা শেষ করেই দৌড়ে ঘরের ভেতরে চলে গেল।

স্নানঘর থেকে বেরোতে বেরোতে ক্ৰিশের অবস্থা যেন একেবারে করুণ।
দীর্ঘ সময় ধরে গোসল করার পর তাড়াহুড়ো করে একটি শার্ট গায়ে চাপিয়েছে ঠিকই, কিন্তু লুঙ্গিটা এমনভাবে জড়িয়েছে যে সেটাকে লুঙ্গি না বলে কাপড়ের কোনো অদ্ভুত সৃষ্টি বললেই বেশি মানায়।
এক হাতে সেটি আঁকড়ে ধরে কোনোরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে এল সে।
ঠিক তখনই রুহি রান্নাঘর থেকে রুটি আর তরকারি নিয়ে ঘরে ঢুকছিল।
দরজার কাছে এসে ক্ৰিশ কে সেই অবস্থায় দেখে প্রথমে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল।
তারপর আর নিজেকে সামলাতে না পেরে খিলখিল করে হেসে উঠল।
তার হাসির শব্দে ক্ৰিশ‌ বিরক্ত মুখে তাকাল।
— হাসছিস কেন?
রুহি হাসতে হাসতেই বলে,
— আল্লাহ! আপনি লুঙ্গিটা কীভাবে পরেছেন? এটা লুঙ্গি নাকি নতুন কোনো ফ্যাশন?
ক্ৰিশ মাথা চুলকে অসহায় গলায় বলে,
— মজা করিস না, বউ। এটা বেঁধে দে। বাপের জন্মে এমন লেহেঙ্গা পরিনি।
রুহি ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
— মানে? আপনি কোনোদিন লুঙ্গি পরেননি?
— না।
— একদিনও না?
— না।
— তাহলে এতদিন কী পরতেন?
ক্ৰিশ কাশির ভান করে বলে,
— ওইসব তোর জানার দরকার নেই। আগে এটা সামলানোর ব্যবস্থা কর।
রুহির ঠোঁটের কোণে আবারও হাসি ফুটে উঠল।
— না, নিজের কাজ নিজেই করুন।
ক্ৰিশ অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল।
— পারছি না তো!
— চেষ্টা করুন।
— অনেক চেষ্টা করেছি।
— আরও করুন।
ক্ৰিশ কয়েক মুহূর্ত রুহির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে এল।

— আগে বলবি তো তুই আমার হট ইয়ে টা মিস করছিলি, নে দেখ।
রুহি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ক্ৰিশ দুষ্টুমি করে লুঙ্গির গিঁটটা একটু আলগা করে দিল।
রুহি চিৎকার করে উঠল।
মুহূর্তের মধ্যে তার গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে গেল।
সে তাড়াতাড়ি চোখ বন্ধ করে ফেলল এবং দৌড়ে গিয়ে লুঙ্গিটা তুলে ক্ৰিশের হাতে গুঁজে দিল।
— আপনি একটা অসভ্য মানুষ!
ক্ৰিৱ হেসে কুটিকুটি।
— এত লজ্জা পাচ্ছিস কেন?
— চুপ করুন!
— কিন্তু চোখ তো খুলেই তাকিয়েছিলি।
রুহি লজ্জা আর রাগে কাঁপতে লাগল।
— আমি তাকাইনি!
— সত্যি?
— সত্যি!
— তাহলে জানলি কীভাবে খুলে গেছে?
রুহি থমকে গেল।
ক্ৰিশ বিজয়ীর হাসি হাসল।
— ধরেছি!
রুহি এবার সত্যিই রেগে গেল।
— দূরে যান! একদম দূরে যান!
ক্ৰিশ হেসে তার হাত ধরে ফেলল।

— আচ্ছা আচ্ছা, রাগ করিস না। সত্যি বলছি, বেঁধে দে। না হলে আজ সারাদিন এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
রুহি মুখ গোমড়া করে দাঁড়িয়ে রইল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ৰিশের অসহায় মুখ দেখে তার মন নরম হয়ে গেল।
— ঠিক আছে। নড়বেন না।
খুব সাবধানে সে লুঙ্গিটা ঠিক করে গুছিয়ে বাঁধতে শুরু করল।
এত কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্ৰিশের দৃষ্টি বারবার রুহির মুখের ওপর গিয়ে থামছিল।
মেয়েটার কপালের কাছে এলোমেলো কিছু চুল উড়ছিল।
চোখ দুটো নিচু। মুখভর্তি লজ্জা।
ক্ৰিশের বুকের ভেতরটা কেমন যেন নরম হয়ে এল।
লুঙ্গি বাঁধা শেষ করে রুহি এক পা পিছিয়ে গেল।
— হয়ে গেছে।
— ধন্যবাদ, বউ।
— বেশি কথা নয়। এখন খেয়ে নিন।
ক্ৰিশ বিছানায় বসে পড়ল।
— তুই খাইয়ে দিবি।
— আবার শুরু হলো!
— আমি অসুস্থ।
— একটু আগে তো খুব দুষ্টুমি করছিলেন।
— অসুস্থ মানুষও দুষ্টুমি করতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সে ক্ৰিশের সামনে বসে রুটির টুকরো ছিঁড়ে তরকারি দিয়ে মুখের কাছে ধরল।
ক্ৰিশ শান্তভাবে খেতে লাগল।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই রুহির আঙুলে আলতো কামড় বসিয়ে দিল।

— আহ!
রুহি হাত সরিয়ে নিল।
— কামড়ালেন কেন?
— কারণ খাবারের চেয়ে তোকে বেশি টেস্টি লাগছে।
কথাটা শুনে রুহির গাল আবারও লাল হয়ে উঠল।
সে মাথা নিচু করে বলে,
— আপনার কোনো লজ্জা নেই।
— তোর সামনে নেই।
রুহির বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
কথাগুলো খুব সাধারণ হলেও ক্ৰিশের কণ্ঠে এমন এক মাদকতা ছিল, যা শুনলে রাগ করে থাকা যায় না।
খাওয়া শেষ হতেই ক্ৰিশ আলতো করে তার হাত ধরে ফেলল।
— বাটারফ্লাই…
— হুম?
— একটু কাছে আয়।
রুহি কিছু বলল না।
ক্ৰিশের কণ্ঠে এমন এক ক্লান্তি ছিল, যা উপেক্ষা করা কঠিন।
সে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
ক্ৰিশ তাকে নিজের কোলে বসিয়ে নিল।

— একটু আদর কর না।
রুহির বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।
কিছু না বলে সে দুই হাত দিয়ে ক্ৰিশের মুখটা ধরে কপালে একটি চুমু দিল। তারপর গালে।
ক্ৰিশ চোখ বন্ধ করে সেই স্পর্শ অনুভব করতে লাগল।
মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি যেন ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে।
রুহি তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল।
— এবার ভালো লাগছে?
ক্ৰিশ চোখ খুলল।
সেই চোখে এমন এক গভীর মুগ্ধতা ছিল যে রুহি আর তাকিয়ে থাকতে পারল না।
মুখ নিচু করে ফেলল।
ঘরজুড়ে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল।
শুধু দুজন মানুষের হৃদস্পন্দন যেন একে অপরের অস্তিত্ব অনুভব করছিল।
কিন্তু হঠাৎই ক্ৰিশ নিজেকে সামলে নিল।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
রুহি অবাক হয়ে তাকাল।
— কী হলো?
ক্ৰিশ উত্তর দিল না।
শুধু নিজের শার্টটা নিয়ে পরতে শুরু করল।
রুহির মুখটা অজান্তেই ছোট হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ আগে যে মানুষটা এতটা কাছে ছিল, সে হঠাৎ এত দূরে সরে যাচ্ছে কেন?

— চলে যাচ্ছেন?
খুব আস্তে করে প্রশ্নটা করল সে।
ক্ৰিশ থেমে গেল এক মুহূর্তের জন্য। কিন্তু উত্তর দিল না।
নীরবে নিজের পোশাক ঠিক করল।
তার চোখে-মুখে এমন এক অদ্ভুত টানাপোড়েন ছিল, যেন সে নিজেই নিজের সঙ্গে লড়াই করছে।
রুহি আরও কিছু বলতে চেয়েছিল। কিন্তু শব্দগুলো গলায় এসে আটকে গেল।
যেভাবে এসেছিল, ঠিক সেভাবে কোনো কথা না বলে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
রুহি স্থির হয়ে বিছানায় বসে রইল।
ঘরটা হঠাৎ করেই ভীষণ ফাঁকা লাগতে শুরু করল।
তার চোখের কোণে অজান্তেই পানি জমে উঠল।

Mad for you 2 part 19

সে নিজেও বুঝতে পারছিল না, ক্ৰিশের নীরব চলে যাওয়াটা কেন এত কষ্ট দিচ্ছে।
শুধু মনে হচ্ছিল, মানুষটা যদি আর একটু সময় পাশে থাকত…
তাহলে হয়তো তার বুকের ভেতরের এই অদ্ভুত শূন্যতাটা জন্ম নিত না।

Mad for you 2 part 21

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here