Remedy part 11 (2)
মীরা রায়াদ
শাইয়ানরা যখন ফিরল তখন প্রায় ভোর। হাসপাতালে কিংবা ক্যাম্পে শাইয়ানকে নাইট ডিউটিতে থাকতে হয় প্রায় সময় তাই তার সমস্যা হলো না। কিন্তু আহিরের রাত জাগার অভ্যাস নেই, সে ঘুমে ঢুলে পরে যাচ্ছে। তাকে ধরে কোনো মতে তার রুমে দিয়ে নিজের রুমে ফিরে এলো শাইয়ান। দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ দৃশ্য দেখলো সে। তার বউটা তার বিছানা ঝুড়ে ঘুমাচ্ছে। বুকের ভিতর ভালোবাসায় ভোরে গেলো মুহূর্তে। পা বাড়িয়ে ঝুমের কাছাকাছি গিয়ে খুব নিবিড়ে দেখলো ঝুমকে। ইচ্ছে করছে বুকের ভিতর ঝাপটে জড়িয়ে ধরতে। স্যালাইন শেষের দিকে, তাই সেটা খুলে রেখে ঝুমের হাতের নার্ভ চেক করলো একবার, খুব ধীরে চলছে।
মেয়েটা এখনো দুর্বল! আস্তে করে হাতটা রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেল। দিনে তার ৫/৬ বার গোসল করারও রেকর্ড আছে তার। বাইরে থেকে এসে গোসল না করলে কেমন যেন শরীর চিটচিটে লাগে। গোসল শেষে কালো ট্রাউজার আর কালো টি শার্ট পরে মাথা না মুছেই বেরিয়ে এলো। তারপর কোনরূপ সময় নষ্ট না করে ঝুমের ওপর আলতো ভোর ছেড়ে বুকে মাথা রেখে দুহাতে জড়িয়ে ধরে চোখ বন্ধ করলো। এতো শান্তি কি সে আগে কখনো পেয়েছে? উহু, পায়নি। এখন তার নিজের একটা মানুষ আছে, যার কাছে সে নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে। এই মেয়েটা আস্ত এক শান্তি। প্রথম দিনই কিছু না করে যেভাবে তাকে পাগল করে নিল! আচ্ছা, তার মতো কি আরো অনেকে পাগল হয়েছে? কথাটা ভেবেই শাইয়ানের চোখ মুখ কুচকে গেল। মাথা তুলে ঝুমকে দেখে নিল ভালো করে, যে এখন যাবৎ দুনিয়া ভুলে ঘুমে বিভোর। কতক্ষন দেখলো জানা নেই শাইয়ানের।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
হঠাৎ চোখ গিয়ে পরলো ঝুমের চিকন, পাতলা ছোট ঠোঁটের ওপরে। মুহূর্তে শাইয়ানের সারা শরীর গরম হয়ে গেলো। মাথার মধ্যে কেউ যেন বারবার উল্টা পাল্টা বলে উস্কে দেয়া শুরু করলো তাকে। কয়েকবার মাথা ঝাকিয়ে ঝুমের গালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে ঝুমের বুকে নাক- মুখ দাবিয়ে ওভাবে পরে রইলো। মনকে সে বুঝাতে চাইল, কোনো রকম অকাজ করা যাবে না। এমনিতেই আজ অনেক কিছু করা হয়েছে। কিন্তু মন কি তার কথা শোনে? তার মন হচ্ছে বড় অবাধ্য। যে সব সময় এই আদুরে মেয়েটার জন্য পাগল। তার কথা অমান্য করে এই মেয়েটার দিকে ছুটে চলে। শাইয়ান বড়বড় নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে সামলাতে পারল না। বেশরমের মতো ঝুমের ঠোঁটের ওপর হামলে পরলো। শুরুতে ভেবেছিল হালকা, অল্প করে একটা চুমু খেয়ে সরে আসবে। কিন্তু তার মত মানুষ অল্পতে কি আর শান্ত হয়?
রীতিমত ঘুমে বেঁহুশ মেয়েটার ওপর হামলে পরে চুমু খেল। ঘুমন্ত অবস্থায় ঝুমের কপাল কুচকে গেল। নিশ্বাস নিতে না পেরে হালকা ছটফট ও করল। কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা ও ঘুমের ওষুধের প্রভাবের কাছে তা অতি নগণ্য হওয়ায় সে আবার ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়। শাইয়ান ঝুমকে ছেড়ে ঘনঘন নিশ্বাস নিয়ে ঝুমের পানে তাকালো। আঙুল তুলে ঝুমের লাল লাল ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে বলল –
” আবারও সরি ঠিক আছে? এবার কিন্তু বেশি কষ্ট দিইনি। আপনি এর থেকে বেশি কষ্ট দেন আমাকে। বারবার চেষ্টা করেও আপনার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারি না, এতে আমার কি দোষ বলুন?”
কথাগুলো বলতে বলতে সে ঝুমের বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করলো। তার এখন খুব ভালো লাগছে। দুচোখ ভরে ঘুম পাচ্ছে।
ঝুমের যখন ঘুম ভাঙলো তখন সে রুমে একা। মাথা ভার ভার লাগায় কপালে আঙুল চেপে উঠে বসলো। অনেকক্ষন থম মেরে বসে থাকার পর রাতের কথা স্মরণে এলো আস্তে ধীরে। ভালো করে চোখ মেলে দেখলো সে এখনো শাইয়ানের রুমে। কিন্তু শাইয়ানকে দেখতে পেলো না কোথাও। দেয়াল ঘড়িতে জানান দিচ্ছে দুপুর ১:২৭ মিনিট। এতক্ষন ঘুমিয়েছে সে? অবিশ্বাস্য! চোখ বড়বড় করে ঘড়ির দিকে হা করে তাকিয়ে রইলো। ঠিক সেই সময় শাইয়ান বারান্দা থেকে রুমে এসে ঝুমকে বোকার মতো দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে হেসে ফেলল। মেয়েটা হয়তো বিশ্বাস করতে পারছে না যে সে এতক্ষন ঘুমিয়েছে। কারো হাসির শব্দে ঘড়ি থেকে চোখ ঘুরিয়ে সেদিকে তাকালে শাইয়ানকে দেখে ঘাবড়ে গেল ঝুম। তার মাঝে আবার অস্বাভাবিকতা দেখে শাইয়ান শান্ত গলায় বলল –
” রিল্যাক্স। খেয়ে ফেলবো না আমি আপনাকে। শান্ত হয়ে নিন। আগে ফ্রেশ হয়ে আসুন আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
ঝুম শুনল কিন্তু প্রতিক্রিয়া করলো না। ভয়ে তার কলিজা এতটুকুনি হয়ে আছে। কিছু বললে যদি কালকের মতো আবার তার ওপর চড়াও হয়? সেই ভয়ে কথা বলল না। শাইয়ান নিজে এগিয়ে এসে ঝুমের জন্য জামা বের করে তার হাতে দিয়ে ইশারা করলো ফ্রেশ হয়ে আসতে। ঝুম উঠে দাড়িয়ে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়িয়ে আবার থেমে যায়। ইতিউতি করে কিছু বলার জন্য। শাইয়ান তার প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষন করছিল।
” ওয়াশরুমে দুটো টুথ ব্রাশ আছে। ব্লুটা আমার পার্পলটা আপনার।”
ঝুম দৃষ্টি স্থির করলো শাইয়ানের ওপর। ব্রাশ খুঁজছিল সে বলেনি তাহলে বুঝলো কি করে? আর পার্পল কালার তার পছন্দের এটাই বা জনলো কিভাবে? প্রশ্ন থাকলেও সে করতে পরলো না। করতে ইচ্ছা করলো না। ধীর পায়ে হেঁটে চলে গেল। শাইয়ান দাঁড়িয়ে তার বুকে ব্যাথার প্রতিকারকে দেখলো। মেয়েটার চলনে ও যেন মায়া জড়িয়ে। শাইয়ান বুঝলো এই মেয়ের জন্যই তাকে শেষ হতে হবে। সে দিন দিন আরো দেওয়ানা হয়ে যাচ্ছে। বিয়ের পর লিমিট ছড়িয়ে তার পাগলামো বাড়ছে।
ঝুম বের হলো পাক্কা ১ ঘণ্টা লাগিয়ে। এতক্ষন শাইয়ানের রুহ্ গলায় উঠে এসেছিল। বার তিনেক সে ওয়াশরুমের দরজায় টোকাও দিয়েছে। ঝুম বিরক্ত লোকটার উৎপাতে। গোসলটাও কি এখন ঠিক করে করতে পারবে না? সেই স্বাধীনতাও কি তারা হরণ করবে? অথচ বোকা মেয়েটা বুঝলো না শাইয়ান তাকে নিয়ে কত বেশি চিন্তিত। দুর্বল শরীর নিয়ে পরে গেলো কি না, এতক্ষন গোসল করলে জ্বর আসতে পারে, এমন কত কিছু যে ভেবে ফেলল তার ইয়াত্তা নেই। ঝুমকে বের হতে দেখে ছুটে শাইয়ান তার কাছে গেল। গাঢ় নীল রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টের গোল জামাটাতে মেয়েটাকে অপূর্ব লাগছে। লম্বা লম্বা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে কোনো রকমে পেঁচানো।চুলের থেকে তোয়ালেটা ছোট হওয়ায় বেশ সমস্যায় পরতে হয়েছে ঝুমকে। গোসলের আগে সে তোয়ালে নিয়ে যায়নি, ওয়াশরুমে যেটা পেল সেটাই মাথায় জড়িয়েছে। যার দরুন, চুল থেকে গড়িয়ে ফোটাফোটা পানি মেঝেতে পরছে, জামার এক পাশ ভিজে গেছে। শাইয়ান ভাবলো আজই বড় দেখে কয়েকটা তোয়ালে আনবে সে।
” এতো দেরি করলেন কেন?”
ঝুম বিরক্ত লোকটার ওপর। অদ্ভুত কথা বলে শুধু। মেয়েদের গোসলে দেরি হতেই পারে, তাই বলে কারণ জানতে চাইবে? আশ্চর্য অভদ্র তো!
” শ্যাম্পু করছিলাম। লম্বা চুলে শ্যাম্পু করতে সময় লাগে অনেক।”
শাইয়ানের চোখ মুখ খুশিতে ঝিলিক দিয়ে উঠলো।
” আমার শ্যাম্পু দিয়ে?”
” হুম।”
” সমস্যা হয়নি?”
” না।”
” আমার ব্যবহারিত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে সমস্যা না হলে আমাকে নিয়ে কি সমস্যা?”
এই পর্যায়ে ঝুমকে অপ্রস্তুত দেখলো। সে কি বলবে বুঝতে পারছে না। এতো ভেবেতো আর কাজটা করেনি। এখন কি বলবে সে? ঝুমকে থতমত খেতে দেখে মজা পেল শাইয়ান। মেয়েটা তাকে যে পরিমাণ জ্বালায় তার একটু আধটু সেও শোধ নিবে এবার থেকে।
” জামা ভিজে যাচ্ছে আরীবা।”
” হুম।”
” আমি মুছে দিচ্ছি এদিকে আসুন।”
” আমি পারবো।”
” জানি পারবেন তাও করে দিই?”
শাইয়ান বড় করুন সুরে বলল। ঝুম তাকালো তার দিকে। কি মনে করে বারণ করতে পারল না সে। মাথা নেড়ে সম্মতি দিল, শাইয়ানের চোখে মুখে খুশির ঝলক দেখা দিলো। সবটাই নীরবে ঝুম দেখলো। ঝুমকে টেনে বেডের সাইডে বসিয়ে দিয়ে শাইয়ান তার পিছনে বেডের ওপর হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে অনভ্যস্ত হাতে ঝুমের চুল মুছে দিতে লাগলো। এতটা যত্নে আস্তে করছিল যে ঝুমের চোখে আবার ঘুম ভিড় জমিয়েছে। সে ওভাবেই চোখ বন্ধ করে বসে রইল কতক্ষন। ধ্যান ভাঙলো শাইয়ানের কথায়।
” আপনি জানতে না আমি আর্মড ফোর্সের সাথে জড়িত?”
ঝুম দুদিকে মাথা নেড়ে না বুঝাল। শাইয়ান ঝুমের মাথায় ভালো করে তোয়ালেটা বেঁধে দেয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু পারল না।
” আমি করছি।”
ঝুম শাইয়ানের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দক্ষ হাতে কেমন কেমন করে পেঁচিয়ে খোপা করে নিল। শাইয়ান হা করে তাকিয়ে দেখল শুধু। মেয়েটাকে এখন পুরোদমে তার বউ লাগছে। শাইয়ানকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে অসস্তিতে ঝুম এদিক ওদিক তাকালো বার কয়েক। শাইয়ান বুঝতে পারল সে বেহায়ার মতো তার বউকে দেখছে। শুকনো কাশি দিয়ে ঝুমের মনোযোগ নিজের দিকে নিল সে। অত্যন্ত সিরিয়াস গলায় বলল –
” কি জানতেন আমার ব্যাপারে?”
ঝুম একপলক শাইয়ানের দিকে তাকিয়ে পরমুহূর্তে দৃষ্টি সরিয়ে নিচে তাকায়। নিচু গলায় ধীরে বলে –
” ডক্টর।”
মধুর ঠেকলো ডাকটি। শাইয়ানের ভালো লেগেছে।
” আর?”
” আর কিছু না।”
” ব্যাস এতটুকুই জানেন আমার ব্যাপারে?”
ঝুম শুধু মাথা নাড়ালো। কালকের মেয়েটার সাথে আজকের এই ঝুমকে মিলানো যাচ্ছে না। কই সেই রাগী পাগলী মেয়েটা?
” তা কে বলেছিল আপনাকে আমি যে ডাক্তার?”
” ঈশাল।”
” ওহ্। আর আর্মড ফোর্সের সাথে জড়িত এটা কিভাবে জানলেন?”
ঝুম ইতস্তত ভাব নিয়ে তার ডান হাতের একটি আঙ্গুল তুলে পিছনের ক্যাবিনেটের দিকে তাক করলো। শাইয়ান দৃষ্টি সে দিকে দিলে দেখতে পেলো গতবছরে ক্যাম্পিং এর সময় তোলা ছবিটি। দৃষ্টি আবার ঝুমের দিকে এনে দেখল ঝুমকে। ঝুমের হাত মৃদু কাপছে।
” আরীবা।”
” হুম।”
” তাকান আমার দিকে।”
ঝুম তাকালো, চোখে চোখ রাখল। দেখলো সেই চোখ দুটো, যা তাকে ভাবাতো, কি আছে ওই চোখে? কি চায় ওই দুচোখ? আজ এতো কাছ থেকে হয়তো কিছু বুঝতে পারছে ঝুম। তাও সে বুঝতে চায় না। সে শুধু বাংলাদেশে যেতে চায়। এখানে তার দমবন্ধ লাগে। নিজেকে খাঁচায় বন্দী চড়ুই পাখি লাগে।
” আমি একজন আর্মড ডক্টর আরীবা। ওটা ক্যাম্পিং এর সময়ের ছবি। ক্যাম্পে সকলকে ইউনিফর্ম পরতে হয় বাধ্যতামূকভাবে। সেখানে সাধারণ সৈনিক যা একজন ডাক্তার ও তাই।”
ঝুম কিছু বলল না। তার এসব কথা শুনতে ভালো লাগছে না।
” আমার পাসপোর্ট কোথায়?”
এতক্ষন ভালই ছিল কিন্তু এবার শাইয়ানের মেজাজ খেলে গেল। এই মেয়ে কাল থেকে পাসপোর্টের জন্য যেমন করা শুরু করেছে তাতে মনে হচ্ছে পাসপোর্ট ছাড়া সে মরে যাবে। কেন এখানে থাকতে তার সমস্যা কি? বাংলাদেশে আছেই বা কি তার? কিছু বাজে স্মৃতি আর একাকীত্ব, এছাড়া ওই তো নিজের একটা ব্যবসা। সেতো চাইলে ঝুম এ দেশেও শুরু করতে পারবে। চাইলে আম্মাও সাহায্য করবে। চোখ মুখ কঠোর করে উঠে দাড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল –
” পাসপোর্টের কথা ভুলে যান আরীবা। ওটা আর আপনি পাবেন না। এখানে থাকার জন্য মনকে স্থির করুন। আমাদের বিয়ে হয়েছে। আপনি এখন আমার স্ত্রী।”
ঝুম কেঁদে উঠলো। সে এখানে থাকতে চায় না। এই বিয়ে মানে না। তাকে ঠকানো হয়েছে। সে চায়নি শাইয়ানকে বিয়ে করতে। অসহায়ের মতো ডুকরে কেঁদে বলল –
” আমাকে যেতে দিন দয়া করে। আমি এখানে থাকতে চাই না। আমি এসব চাইনি। এভাবে বিয়ে হয় না। আপনারা আমাকে ঠকিয়েছেন। আমার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছেন। মানি না আমি এই বিয়ে। আমাকে যেতে দিন।”
শাইয়ান দরাজ গলায় রুষ্ঠ হয়ে বলল –
” আপনাকে যেতে দেয়া সম্ভব না। না মানলেও বিয়েটা আমাদের হয়ে গেছে।”
” আপনি কেন বুঝছেন না। আপনার সাথে আমাকে মানায় না।”
” কেন মানায় না?”
ঝুম অস্থির হয়ে পরলো। কি করে বলবে শাইয়ানকে তার অতীতে লাগা কলঙ্ক? যা সে ভুলে থাকতে চায়, তার সম্মুখীনই কেন তাকে বারবার হতে হয়? সে পারছে না আর নিতে। না পারতে ঝুম উল্টো পাল্টা কারণ দেখাতে শুরু করলো। উঠে শাইয়ানের বরাবর দাঁড়িয়ে নিজের মাথার ওপর হাত দিয়ে বলল –
” দেখুন কোথায় আপনি, কোথায় আমি। আমি আপনার থেকে উচ্চতায় কতো ছোট দেখুন( বলে মাথার কাছ থেকে হাত নিয়ে শাইয়ানের বুক বরাবর দেখায়। তারপর শাইয়ানের হাত টেনে নিজের হাতের কাছে নিয়ে শাইয়ানের শরীরে উজ্জ্বলতা দেখিয়ে বলল) আপনি আমার থেকে কতো বেশি ফর্সা। আপনার পাশে আমাকে মানায় না।”
শাইয়ান শব্দ করে হেঁসে ফেলল ঝুমের অবুজপনা দেখে। মেয়েটা কি ভেবেছে, এসব বললে সে মেনে নিবে ঝুমের কথা? এতো বোকা কেন তার বউটা? সে জানে ঝুম উচ্চতায় তার থেকে ১১” খাটো, তার থেকে ঝুমের গায়ের রং ফিকে। কিন্তু তাতে কি শাইয়ানের ভালোবাসা কমে যাবে? সেতো সব জেনশুনেই ভালোবেসেছে ঝুমকে। ঝুমের কেন মনে হলো এতো সহজে শাইয়ান তাকে ছেড়ে দিবে? নিজেকে সামলে ঝুমের দিকে ঝুঁকে বলল –
” তো?”
ঝুম ভড়কে গিয়ে দুপা পিছিয়ে নিল। লোকটা উন্মাদ। বদ্ধ উন্মাদ। সত্যি না বললে তার রেহাই নেই ভেবে সে মেঝেতে বসে কেঁদে দিল শব্দ করে। শাইয়ান দেখলো কিন্তু থামলো না তাকে। দেখতে চায় ঝুম আরো কতদূর যেতে পরে। অতীতের সব কিছু সে শুনতে চায় ঝুমের মুখ থেকে। যতো কাদার কেঁদে নিক। যখন সে ধরবে পিষে ফেলবে নিজের সাথে, তখন বুঝাবে শাইয়ান কি জিনিস। একবার শুধু মানিয়ে নিক সব কিছুর সাথে নিজেকে, তারপর সে দেখবে কত কাদতে পারে এই মেয়ে।
দিশেহারা ঝুম কাদতে কাদতে হাঁপিয়ে গেল। গলা কাপছে তার। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। শাইয়ান ঠিক তার সামনে প্যান্টের পকেটে দুহাত ভরে সটান দাঁড়িয়ে তাকে দেখছে। ফ্যাসফ্যাসে গলায় ঝুম বলল –
Remedy part 11
” আপনি আমার অতীত জানেন না।”
” জানার দরকার নেই।”
” উফ্ আপনি কেন বুঝতে পারছেন না আমার কথা?”
” কি বুঝতে বলছেন?”
মাথা তুলে শাইয়ানের দিকে তাকিয়ে ঝুম কয়েক পল চুপ থেকে বলল –
” আমি ডিভোর্সি।”
