Home Remedy Remedy part 4

Remedy part 4

Remedy part 4
মীরা রায়াদ

” ভেবে ছিলাম আপনি নাজুক হবেন কিন্তু এতটাও আশা করিনি। এভাবে সামান্য ব্যাথায় জ্বরে কাবু হয়ে গেলেতো সমস্যা ম্যাডাম। আপনি যা করেছেন তার শাস্তি তো ভয়ানক, সেই ব্যাথা কি করে সহ্য করবেন? আমার দেয়া আঘাত কিভাবে সহ্য করবেন, হুম? আমি কিন্তু মোটেও ভালো ছেলে না। আপনার জন্য আমায় হসপিটাল থেকে ঘুরে আসতে হয়েছে ( মৃদুঃ হেসে), ভেবে দেখেছেন কি ভয়ানক কাণ্ড ঘটিয়েছেন আপনি। এতো বড় একটা কাজ করে সামান্য ব্যাথায় বিছানা নিয়েছেন? আনবেলিভেবল। শুনুন, তৈরি হন সময় কিন্তু বেশি নেই। আমি দয়া করতে জানি না। নিজেকে প্রস্তুত করুন আমার জন্য। দেখা হচ্ছে খুব শীগ্রই।”

আর একমুহূর্তও ওখানে না দাঁড়িয়ে বেরিয়ে আসলো শাইয়ান। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে দেখতে পেল ঈশাল আসছে। ওষুধের বক্সটি হাতে নিয়ে একবার ফিরে ঝুমকে দেখে নিয়ে কয়েকটি ওষুধ ঈশালের হাতে দিয়ে বলল –
“কিছু খাবার খাওয়ানোর পর এগুলো দিবেন ইনশাআল্লাহ্ জ্বর কমে যাবে।”
ঈশাল মাথা নাড়িয়ে রুমে চলে গেলে শাইয়ানও আর না দাঁড়িয়ে নিজের ঘরে এসে দেখতে পেল সেখানে আগে থেকে আহির তার বেড জুড়ে হাতপা ছরিয়ে শুয়ে আছে। কিছুটা বিরক্তই হলো সে এবার। দরজাটা শব্দ করে লাগিয়ে দিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দিল। প্রায় অনেকক্ষন ধরে শাইয়ানের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ঘুমে তার চোখ লেগে এসেছিল। যার দরুন বিকট শব্দে সে রীতিমত ভয়ে আতকে উঠেছে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

” কি হয়েছে? কি হয়েছে?”
” এখানে কি করছো?”
” এমনি কথা বলতে এসেছিলাম। কিন্তু তুমি যে এই রাত বিরেতে জনসেবা করতে যাবে তা বুঝতে পারিনি। তাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”
আহিরের অভিমুখে সটান দাঁড়িয়ে তাকে পর্যবেক্ষন করে যা বোঝার বুঝে নিল শাইয়ান। কথা না বাড়িয়ে পকেট থেকে ফোন বের করে হাতে নিয়ে কিছু একটা করে কানে চাপলো। হয়তো কাউকে কল দিয়েছে।
” This is Major Doctor Shaiyaan Rehman Ansari speaking. You must give me the detailed information of the picture and name that have been sent to you by tomorrow at 12 pm. It’s a serious and secret mission. And yes, make sure that no one else know about this except you. Clear?” (মেজর ডক্টর শাইয়ান রেহমান আনসারী বলছি। তোমাকে যে ছবি আর নাম পাঠানো হয়েছে তার ডিটেইলস ইনফরমেশন আমাকে আগামীকাল দুপুর ১২ টার মধ্যে দিবে। ইটস অ্যান সিরিয়াস এন্ড সিক্রেট মিশন। আর হ্যাঁ তুমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ যেন এই ব্যাপারে না জানতে পারে। ক্লিয়ার )”

ওপাশ থেকে হয়তো কিছু একটা বলা হল সাথে সাথে শাইয়ান কল কেটে ফোনের স্ক্রিনে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। আহির এতক্ষন শাইয়ানকেই দেখছিল। শাইয়ানকে তার ঠিক লাগছে না। কিছু একটা কি মিস করে যাচ্ছে সে? কিসের ইনফরমেশন চাইছে? আহির যে তার দিকে তাকিয়ে আছে বুঝতে পেরে ফোন পকেটে রেখে আহিরের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল –
” কি? ঘুমাতে যাবে না? নাকি আজ এখানে থাকার প্ল্যান করছো? লিসেন, অনেক রাত হয়েছে ঘুম পেয়েছে আমার।”
তার কথায় আহির নড়েচড়ে বসলো। মুখভঙ্গি সিরিয়াস করে প্রশ্ন করল –
” অনেক হয়েছে শাইয়ান এবার সবটা ক্লিয়ার করো। তুমি না জানিয়ে এসেছিলে কেন? কাল কি হয়েছিল? কোনো প্রশ্নের উত্তর তো দিচ্ছই না উল্টো এড়িয়ে যাচ্ছো। কত দিনের ছুটিতে এসেছো এবার?”

” ছুটিতে আসিনি।”
” তাহলে?”
” মিশনে এসেছি।”
” করাচিতে মিশন? সিরিয়াস কিছু।”
“উম না আবার খুব একটা হালকা ভাবেও নেয়া যাচ্ছে না। দেখি আগে তারপর বলতে পারবো।”
” ওওওও ( সব বুঝতে পেরেছে এমনভাবে সুর টেনে বলল আহির)। আচ্ছা তুমি ঝুমকে কিভাবে চেনো বলতো?”
ঝুমের কথা শুনে শাইয়ানের চোখ ছোট ছোট হয়ে এলো, যা আহিরের দৃষ্টি অগোচর হয়নি।
” চিনি না।”
ছোটো উত্তর কিন্তু আহির সন্তুষ্ট হতে পারল না। বিরক্তিতে তার চোখমুখ কুঁচকে গেল। হয়তো সে যা শুনতে চেয়েছিল প্রতিউত্তরে তার বিপরীত কিছু শুনতে পেয়ে সে মোটে খুশি হয়নি। যদিও সে কিছু একটা হয়তো বুঝতে পেরেছে। এখন শুধু কনফার্মেশনের দরকার।

” তুমি জানো ঝুম বাংলাদেশী?”
” হু…হুম?”
শাইয়ান অন্যমনস্ক ছিল, তাই আহিরের কথা বুঝতে পারল না।
” ঝুম বাংলাদেশী। বাংলাদেশ থেকে ঈশালের বিয়েতে এসেছে।”
প্রতিউত্তরে শাইয়ানকে নীরব দেখলো। ভাবুক সে ঝুমের আদো ভাঙা উর্দু শুনেই বুঝেছিল সে পাকিস্তানে থাকে না। তাই বলে যে পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ও নয় তা তার ধারণার বাইরে ছিল। ভেবেছিল হয়তো পাকিস্তানের বাইরে থাকে কিন্তু একেবারে বাংলাদেশী হবে তা আশা করেনি। এই মেয়ে যতো সময় যাচ্ছে ততোই তাকে অবাক করে দিচ্ছে।
” তো এইসব আমাকে কেন জানাচ্ছো?”
এই পর্যায়ে আহিরের চোখে মুখে দুষ্টুমির আভাস খেলে গেল।

” বাসায় এসে যেভাবে তুমি তার কথা জিজ্ঞেস করলে, তাছাড়া যার চিন্তায় তুমি না ঘুমিয়ে ঈশালের রুমের সামনে ঘুরঘুর করছিলে তার কথা না বলে কার কথা বলব বল?( এক ভ্রু নাচিয়ে দুষ্টুমির ছলে বলল আহির)।
শাইয়ান দেখল তার ভাইকে। বয়স তাদের ৩১ বছর। সে ঠিক যতটা গম্ভীর আহির ঠিক ততটাই চঞ্চল। চোখেমুখে দুষ্টুমি লেগে থাকে। এতো বড় হয়েছে কিন্তু স্বভাবের কোনো পরিবর্তন নেই। কিভাবে যে এই ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে মান্য করে সবাই সেটাই বুঝতে পারে না শাইয়ান।
” ওনার থেকে দূরে থাকবে আহির। এই ব্যাপারে মাথা ঘামানো বন্ধ করো। আর হ্যাঁ, ( কিছুটা সিরিয়াস হয়ে কড়া গলায় বলল) ওনার সাথে আর কোনো দুষ্টামি না। এরপর যদি তোমার কারণে ওনার শরীরে ব্যাথা লাগে, সেটা তোমার জন্য ভালো হবে না।”
আহির তৎক্ষণাৎ দুহাত তুলে ভয় পাওয়ার ভঙ্গি করে বলল –

” এত্তো ইন্সিকিউরিটি? বাহ্ দরুন। বাট ব্রো, বিলিভ মি তাকে হার্ট করার কোনো ইন্টেনশন আমার ছিল না।”
শাইয়ান শুধু মাথা নাড়ালো। সে জানে আহির আর যাই করুক কাউকে হার্ট করবে না। কিন্তু জেনে হোক কিংবা অজান্তে ঝুম তার কারণে ব্যাথা পেয়েছে এটাই সত্যি। আর সে ছাড়া ওই মেয়েকে কেউ ব্যাথা দিবে এটা সে কিভাবে সহ্য করবে? ওই মেয়ে শুধু তার দেয়া ব্যাথায় জ্বরে ভুগবে, এটাই তার নিয়তি।

টানা দুদিন অসম্ভব জ্বরে ভুগেছে ঝুম। কোমরে ও পায়ে ব্যাথায় প্রথম দিন ঠিক করে হাঁটতে পর্যন্ত পারছিল না। এখনো কিছুটা ব্যাথা রয়েছে, কিন্তু সহনীয়। আজ অনেকটাই সুস্থবোধ করছে তাই বসারঘরে এসে বসলো। মিশাল খুব মনোযোগের সাথে কোনো এক পাকিস্তানি ড্রামা দেখে চলেছে। আর আয়ান গম্ভীর মুখে কমিক্স পড়ছে। এই ছেলেটা বয়সের তুলনায় ম্যাচিউর বেশি। তারা তিনজন বাদে বসার ঘরে আপাদত কেউ নেই। এর মাঝে ঈশালের মা তার হাতে এক বাটি নুডলস দিয়ে খেতে ইশারা করে চলে গেলেন। হাতে থাকা নুডলসের বাটি নিয়ে দুপা তুলে আরাম করে বসে টিভির পর্দায় দৃষ্টি রেখে কিছুক্ষন নুডলস মুখে দিচ্ছিল তো কিছুক্ষন টিভিতে চলা ড্রামায় মন দিচ্ছিল সে। খুবই ইন্টারেস্টিং সিন চলছে এখন। মিশাল, ঝুম বাদে আয়ানের মনোযোগ ও এখন টিভির পর্দায়। ঠিক তখন দুম করে কেউ টিভি বন্ধ করে দিল। সাথে সাথে মিশাল চেঁচিয়ে উঠল।

ঝুমের ও কিঞ্চিৎ মেজাজ বিগড়েছে কিন্তু প্রকাশ করল না। ততক্ষনে টিভি বন্ধ করা ব্যক্তি ঝুমের পাশে এসে বসে পরল। সেই ছেলেটি। যার জন্য ঝুমকে জ্বর আর ব্যাথায় বিছানা নিতে হয়েছিল। চোখমুখ কুঁচকে সে নুডলস খাওয়ায় মন দিল। আহিরকে বকতে বকতে মিশাল আবার গিয়ে টিভি ছাড়লো। আহির যখন বাড়িতে থাকে তার অত্যাচারে বাড়ির ছোট সদস্যগুলো শান্তিতে থাকতে পারে না। কাউকে না কাউকে প্রতিনিয়ত জ্বালাতন করবেই। বিশেষ করে মিশালের পিছনে সে বেশি লাগে। বিরক্তিতে মিশালের চোখমুখ অন্ধকার হয়ে গেছে। মূলত আহির বসার ঘরে এসেছে অনেকক্ষন হয়েছিল। কিন্তু কেউ তাকে অ্যাটেনশন না দিয়ে কিসব দেখায় মন দিয়ে বসে আছে বলে সে এমন কাজটি করল। এতে যেমন জ্বালাতন করা হলো, তেমনই সবার মনোযোগ পাওয়াও হলো। শুকনো কাশির ভঙ্গিমায় গোলা পরিষ্কার করে বলল –

” ঝুম রাইট?”
ঝুম একপলক চেয়ে মাথা নাড়িয়ে ‘ হ্যাঁ ‘ উত্তর দিয়ে আবার নুডলস খাওয়ায় মন দিল। এই ছেলের সাথে তার কথা বলতে ভালো লাগছে না। সে দিন তার অভাবে পরে যাওয়াতে কিভাবে হাসছিল। অসভ্য অসভ্য। কিন্তু আহির চুপ থাকার লোক না।
” নূপুর পেয়েছেন?”
নূপুরের কথায় আবার ঝুমের মন খারাপ হয়ে গেল। সে পায়নি। সবাই অনেক খুঁজেও পায়নি। দুঃখী দুঃখী মুখ করে তাকালো আহিরের পানে। দুদিকে মাথা নাড়িয়ে জানালো পায়নি। মেয়েটির জন্য তার মায়া হলো। সেদিন থেকে এখন পর্যন্ত তার সাথে শুধু ইশারাতেই কথা বলে যাচ্ছে। সমস্যা কি? মায়া হলেও তা প্রকাশ না করে বলল –

” পাওয়ার কথাও না।”
বড় বড় অবুঝ চোখে তাকিয়ে মানে খুঁজলো ঝুম। কিন্তু কিছুই বুঝতে পরলো না।
” আমাকে নুডলস থেকে ভাগ দেয়া যাবে?”
মুখের ওপর না বলার স্বভাব না থাকায় হাতের বাটি কিছুটা এগিয়ে দিল আহিরের দিকে। ঠিক সেই সময় বাড়ির মেইন দরজা দিয়ে শাইয়ানের প্রবেশ। তার দৃষ্টি এখন ঝুমের বাড়িয়ে দেয়া হাতের দিকে। আহির হাত বাড়িয়ে নেয়ার আগে শুনতে পেল শাইয়ানের গমগমে সুরের ডাক।
” আহির।”

শুধু আহির না, বসার ঘরের প্রতিটি সদস্য তার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে চাইল, এমনকি ঝুম নিজেও। এই প্রথম তাদের মুখোমুখি দেখা হলো কি? হ্যাঁ, এটিই প্রথম দর্শন ছিল তাদের। ওই বড় বড় চোখের পুতুল মানবীর দৃষ্টিতে তার কি কিছু হলো? হয়েছে। এইযে তার বুক কাপছে সেদিনের সেই বৃষ্টি ভেজা বিকেলের মতো। মেয়েটি তাকে মেরে ফেলতে চাইছে নাকি? কি সাংঘাতিক! মুহূর্তের মাঝে কি হলো জানে না কিন্তু সে অনুভব করতে পারল সে অসুস্থ হয়ে পরছে আবার। ঘেমে গিয়েছে বুঝতে পেরে দ্রুত স্লিভস্ টেনে কনুই পর্যন্ত উঠল। ঘনঘন নিশ্বাস নিয়ে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতে করতে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
শাইয়ানের ওমন অস্থির অবস্থা দেখে ঝড়ের বেগে সেও ছুটল। এদিকে ঝুম, মিশাল ও আয়ান তাদের গমন পথে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে।

ঘরে প্রবেশ করে কোনো রকম কাপা হাতে গলার টাইয়ের নটটা খুলে পরণের শার্টের দু একটি বোতাম খুলে দিয়ে ধপ করে পাশে থাকা সোফায় বসে পরল। তার বসার ভঙ্গি অত্যন্ত এলোমেলো। এথেকে বোঝা যাচ্ছে তার মনের অবস্থা কতটা বিশ্রী। আহির এসে তাকে একনজর দেখে পাশে বসল।
” ঠিক আছো?”
” উহুম।”
ফোঁস করে নিশ্বাস ছেড়ে আহির আবার বলল –
” সেদিন হসপিটাল পর্যন্ত তাহলে ঝুমের কারণে যেতে হয়েছিল?”
শাইয়ান একই ভঙ্গিতে বসে শুধু দৃষ্টি আহিরের পানে দিয়ে নীরবে কিছু বুঝাল। আহির মৃদু হেঁসে বলল –
” বড় চাচী আম্মা আলসো লাইকস হার।”
এই পর্যায়ে শাইয়ানের ঠোঁটের কোণে হাসির ঝলক দেখা মিলল। আহির সেই হাসি দেখে নিজেও হেঁসে ফেলল।

” শাইয়ান।”
” হুম।”
” যতটুকু দেখলাম সে বড্ড ভীতু আর সহজ সরল। তোমার মনে হয় না তাকে আরো কিছুটা সময় দেয়া উচিৎ?”
” That’s won’t be good for me।”
আহির আর কিছু বলল না। শাইয়ানকে রেস্ট নিতে বলে সে বেরিয়ে পরলো। যেতে যেতে শুনতে পেল খুবই চমৎকার গলায় গাওয়া স্পষ্ট বাংলা গান।

Remedy part 3

“তোকে একার দেখার লুকিয়ে কি মজা
সে তো আমি ছাড়া কেউ জানে না
তোকে চাওয়ার পাওয়ার নয় রে সোজা
সে তো আমি ছাড়া কেউ জানে না।”

Remedy part 5