Home violent love session 2 violent love 2 part 3

violent love 2 part 3

violent love 2 part 3
Mariam akter juthi

“শহরের ব্যস্ত কোলাহল, কৃত্রিম লাইট গুলো টিমটিম করে জ্বলছে। পাখিরা দল বেঁধে নিজ গন্তব্যের নীড়ে আয়েশ জমিয়ে ক্লান্তি দূর করছে। শহরের ব্যস্ত মানুষ গুলোও নিজেদের কাজে ছুটে চলেছেন। তার ব্যতিক্রম নয় খান বাড়ির মানুষগুলোও। সাফওয়ান খান, মাহমুদ খান, সাইফুল খান, ইউনুস খান। চার ভাই একসাথে দুপুরের খাবার খেয়ে একসাথেই বের হয়েছিল অফিসে। রাদিফ রোদ কে নিয়ে বিকেলের দিকে বাহিরে বের হওয়ার কারণে অফিসে যেতে পারিনি। আরিশ সে, যে সেই সকালে ওভাবে এসে যেভাবে বউ বউ করে ছুটে গেল এখন অব্দি বাড়ি ফেরেনি। এখন রাত ৯.৩০ মিনিট। বাড়ির কর্তারা সব চলে এসেছেন, বেশ অনেকক্ষণ হয়। কিন্তু আরিশ আয়ান এখনো বাড়ি ফেরার নাম নেই। দুই ভাই যে একসাথেই আছে এটা সানজিদা খানের খুব ভালো করেই জানা আছে। কিন্তু চিন্তার হচ্ছে দুজনের কেউই ফোনটা তুলছে না। ছেলেটা মাত্র সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল। বাড়িতে থেকে রেস্ট নিবে। তানা, রাগ তার, এত রাগ, এত জেদ যে জেদ দেখিয়ে বাড়ি আসছেনা। সানজিদা খান পাইচারি করার মধ্য সাফওয়ান খান কে সিঁড়ি বেয়ে নিচে এসে সোফায় বসতে দেখে চিন্তিত কণ্ঠে বললেন,

‘শুনছেন একটু দেখুন না, ছেলেটার কোন খোঁজখবর পাচ্ছিনা। ছেলেটা কোথায় আছে সেটাও জানিনা। – ততক্ষণে জুথিও সিঁড়ি বেয়ে সানজিদা খানের কাছে এসে ওনার আঁচল পেঁচিয়ে পাশে বসতে উনি সেদিক একবার তাকিয়ে সাফওয়ান খানের দিক তাকাতে সাফওয়ান খান বললেন,
‘আমি নিজেও বিকেল থেকে ট্রাই করছি। কিন্তু আরিশ আমার ফোনটাও ধরেনি।
‘আপনি তাহলে দেখুন। আমার আর ভালো লাগছে না। এত চিন্তা আর নিতে পারছি না। – ওনার কথায় ফের সাফওয়ান খান কিছু বলতে যাবেন এমন সময় আরিশ আয়ান একসাথেই মেইন দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকলো। আরিশ কে বাড়ি ফিরতে দেখে সাফওয়ান খান উঠে আরিশের দিকে এগোতে এগোতে বললেন,
‘সকাল থেকে কোথায় ছিলে তুমি?
‘কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।

‘আরিশ! তোমার জন্য চিন্তা করছিল তোমার আম্মু। তোমার জন্য চিন্তা হয় আমাদের। যেখানে থাকো ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলেই তো হয় তাহলে তো আর এভাবে চিন্তা করতে হয় না তাই না।
‘আমার জন্য তো কাউকে চিন্তা করতে বলিনি। – বলে সামনের দিকে এগোতে নিলে সানজিদা খান বললেন,
‘কেন এভাবে তেরা কথা বলছো আরিশ? সোজা প্রশ্নের সোজা উত্তর দিলেই তো পারো।
সানজিদা খানের কথায় আরিশ ওনার পিছনে আচল পেঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জুথিকে এক পলক দেখে, বিরক্তি নিঃশ্বাস ফেলে চলে যেতে নিলে জুথি সেদিক বারবার আড় চোখে তাকিয়ে সানজিদা খান কে বলল,
‘এই ছেলেটা কে আম্মু? আমাদের বাড়িতে কেন এসেছে? এই ছেলেটা একদম ভালো না আম্মু একে এই বাড়ি থেকে বের করে দাও।

যেতে যেতে জুথির মুখে এই কথা শুনে, আরিশ রাগে কটমট দৃষ্টিতে ওর দিক তাকিয়ে ফুঁসতে ফুঁসতে রাগ পায়ে সিঁড়ি গুলো ক্রস করে নিজের রুমে গিয়ে ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দিল। আরিশ কে এভাবে রুমের দরজা আটকাতে সানজিদা খান নিঃশ্বাস ফেলে, সে দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে জুথির দিকে তাকালেন। জুথির কথার পিঠে কিছু কড়া কথা বলতে চাইলেন। তবে জুথির বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় আসতে পুনরায় দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে বললেন,
‘এটাই আমার ছেলে, আরিশ। তোমার স্বামী। যার জন্য প্রতিদিন আমার মাথা খেতে, স্বামীর স্বামী করে। এখন তাকেই বের করে দিতে বলছ?

জুথি সানজিদা খানের কথায় ওনার আঁচল ছেড়ে, সামনে এসে দাঁড়িয়ে চোখ দুটো ছোট ছোট করে বেশ খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল। হয়তো ওনার বলা কথাগুলো মস্তিষ্কের মধ্যে হরণ করার চেষ্টা করছে। যখন ওনার কথাটা সম্পূর্ণ বুঝে এলো তখন চোখ দুটো বড় বড় করে এক লাফে ওনার গলা জড়িয়ে ধরে লাফাতে লাফাতে বলল,
‘কিহহ উনিই আমার স্বামী। তোমরা এটা আগে বলবে না। – ওর এমন লাফালাফি তে সানজিদা খান, অবাক হয়ে কিছু বলতে নিবে, তার আগেই জুথি ওনার গলা ছেড়ে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই, আরিশ যেই রুমটার দিক গেছে সিঁড়ি বেয়ে সে দিকটায় গিয়ে জোরে জোরে দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে বলল,
‘দরজাটা খুলুন। তাড়াতাড়ি খুলুন। এক্ষুনি খুলুন।
আরিশ মাত্রই গোসলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। যদিও শীত তবুও সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য একটা গোসল না দিলে শরীরটা ফ্রেশ লাগবে না। তাই কভার থেকে জামা কাপড় গুলো বের করে বিছানায় রেখেছিল। এর মধ্যে দরজায় এত জোরে জোরে ধাক্কার শব্দ শুনে ভ্রু কুঁচকে সেদিক তাকালো। মুখের ললিপপ টা হাতে নিয়ে নাক মুখ কুঁচকে জানতে চেয়ে বলল,

‘কি চাই এখানে?
‘আপনাকে চাই দরজাটা খুলুন না। আমার আর তর সেইছে না। দরজাটা খুলুন। – আরিশ বিরক্ত হল। পুনরায় ললিপপটা মুখের মধ্যে নিয়ে তোয়ালেটা কাঁধে নিয়ে ওয়াশরুমের দিক হাঁটতে নিলে দরজায় এত জোরে জোরে কারআঘাত শুনে যেতে নিয়েও বিরক্তি নিয়ে, দরজার দিক তাকিয়ে বলল,
‘দরজার পাসওয়ার্ড জানিস না? তাহলে এতো ধাক্কানোর কি আছে?
‘মনে নেই, এখন বলুন। – চেঁচিয়ে। জুথির কথার আরিশ দাঁতের উপর দাঁত চেপে বলল,
‘ M.F.D.R.M । – আরিশ পাসওয়ার্ডটা বলতে দেরি কিন্তু জুথির টাইপ করে ঢুকতে দেরি হলো না। ততক্ষণে আরিশ কিছু বুঝে ওঠার আগেই জুথি লাফিয়ে আরিশের গলা জড়িয়ে ধরতে, হঠাৎ জুথির এরকম আক্রমণে আরিশ ব্যালেন্স হারিয়ে জুথিকে নিয়েই বিছানায় পড়ে যেতে জুথি উৎফুল্যতায় বলল,
‘স্বামী, আমার স্বামী। কত ভালোবাসি আপনাকে জানেন। কত অপেক্ষা করেছি আপনার জন্য জানেন। কতটা ছটফট করেছি জানেন। কেন আসেননি এতদিন। খুব, খুব ভালোবাসি যে আপনাকে।
জুথির এমন কান্ডে, আরিশ কিছু বলবে তার আগেই জুথি আরিশের বাহুডোর এর মধ্য থেকে কোনরকম উঠে আরিশের পেটের উপর বসে ঝুঁকে আরিশের গালে একের পর এক চুমু দিতে দিতে বলল,
‘অনেক অনেক অপেক্ষার পর আপনাকে পেয়েছি। প্রতিটা দিন ঘুম থেকে চোখ মেলে আপনাকে ইমেজিন করেছি। কিন্তু তবুও দিন ফুরায় আপনার দেখা পাইনি। আজ এভাবে পেয়েছি। আমার নিঃশ্বাস যতদিন আছে আপনাকে আর কোনদিন আমার থেকে হারাতে দিব না।

আরিশ বেশ অবাক হল, হঠাৎ তার মৌয়ের হলো টা কি? সকালে এত মানুষের সামনে স্বামী অস্বীকার করা, এখন এত আদরে আবেগী কথা শুনে ওভাবে থাকা অবস্থায়ই ভ্রু কুঁচকে বলল,
‘সকালে এত মানুষের সামনে বললি, আমি কে? এখন আবার এভাবে এসে চুমু খেয়ে বলছিস, আমার জন্য অপেক্ষা করেছিস। আমাকে হারাতে দিবি না। এই তোর আসল উদ্দেশ্যটা কি বলতো।
জুথি আরিশের কথায় চোখ মুখ ছোট করে মাথাটা আরিশের বুকে রেখে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,
‘বিশ্বাস করুন আমার কোন উদ্দেশ্য নেই। তখন তো আমি জানতাম না। আপনি আমার স্বামী। কিন্তু এখন তো জানি, তাই আমি শুধু চাই আপনার সাথে সারাটা জীবন থাকতে। আপনার বুকে মাথা রেখে শেষ নিঃশ্বাস টুকু ত্যাগ করতে। ভালোবাসি তো আপনাকে। নিজের থেকেও অনেক বেশি। আমি জানি আপনি হয়তো আমার উপর রাগ করে আছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি আর কোনভাবেই আপনাকে আমার থেকে দূরে যেতে দিবো না। মানে না।

আরিশ তার মৌয়ের থেকে এমন কথা শুনে এতক্ষণের রেগে থাকা সকল কিছুতে বিরক্ত হওয়া যেন নিমিষেই উধাও হয়ে গেছে। হুট করেই শুয়া থেকে জুথির কোমর জড়িয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ওকে গোল গোল ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
‘আমি আরিশ কথা দিচ্ছি, কোনদিন কোন ভাবে তোকে কষ্ট পেতে দিব না। তোর ওপর বয়ে আসা সেই সকল বিপদ আমি আমার নিজের কাঁধে মাথা পেতে নিব। তবুও তোর চোখ থেকে এক ফোঁটা জল বের হতে দিব না। ইনশাআল্লাহ। – বলে জুথিকে বিছানার উপর বসিয়ে হালকা করে জুথির নরম ঠোঁটে ঠোঁট ছোয়ালো। অতঃপর ওকে বুকের সাথে জড়িয়ে বলল,

‘মৌ!
‘হু।
‘তুই বললি তখন আমাকে চিনতে পারিস নি। তাহলে এখন কিভাবে চিনলি।
‘আম্মু বলেছে তো। আপনিই আমার স্বামী। তাইতো চিনেছি।
আরিশের মেজাজ খারাপ হলো, আম্মু বলেছে তাই চিনেছি বলতে মানেটা কি? তার মৌ তাকে চিনেনা। কিভাবে? যেই একটা মেয়েকে নিয়ে এত কিছু হল সে কিভাবে বলছে আম্মু বলা তো চিনেছে। আরিশ নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে স্লো ভয়েসে বলল,
‘মৌ, আমি জানি হয়তো তোর অভিমান হয়েছে। তাই এসব বলছিস। কিন্তু বারবার কেন বলছিস তুই আমাকে চিনতে পারিস নি।

‘আমি তো আপনাকে সত্যিই চিনতে পারিনি। ইভেন আপনার সাথে কিভাবে বিয়ে হয়েছে আমার সেটাও মনে,, – জুথির কথাগুলো বলতে দেরি, কিন্তু আরিশের রেগে গিয়ে ওর বাহু চেপে ধরে চেঁচাতে দেরি হলো না।
‘নাটক মারাও, ভুলে গেছিস সব ভুলে গেছিস। কিভাবে ভুলে গেছিস?

violent love 2 part 2

জুথি ভয় পেল, আরিশকে হঠাৎ সকালের মতো এভাবে রেখে যেতে দেখে। জুথি আরিশ কে এভাবে বাহু চেপে ধরতে দেখে ভয়ে গুটিসুটি দিয়ে বসতে আরিশ সেদিক তাকিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ওর মুখের দিক তাকিয়ে রইল। জুথির মুখ দেখে মনে হচ্ছে না যে মিথ্যা বলছে। তবে আরিশের বুঝে আসলো না এই ছয় মাসে কি এমন হলো? যার জন্য তার মৌ সব কিছুই ভুলে গেল। আগে সেটা জানতে হবে। – ভেবে তপ্ত নিশ্বাস ফেলে বলল,
‘রিলাক্স, রিলাক্স মৌ। তোমাকে মারব না।

violent love 2 part 4

2 COMMENTS

Comments are closed.