Home অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬২

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬২

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬২
রিদিতা চৌধুরী

দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিয়ে সৌহার্দ্য এক পা সামনে বাড়াল। তার মাথার ভেতর তখন বাইরের পৃথিবীর সমস্ত রাগ আর বিরক্তি ছাপিয়ে এক তীব্র ভালোলাগা আর অধিকারবোধের ঝড় বইছে। ঘরের স্নিগ্ধ আলো-আঁধারে চোখ পড়তেই সে দেখল, রিদি খাটের কোণে থমকে আছে; চোখে তার লজ্জা, দ্বিধা আর বুক কাঁপানো এক মিষ্টি ভয়। শাড়ির আঁচলটা শক্ত করে টেনে সে যেন এই উন্মাদনা থেকে নিজেকে একটু লুকাতে চাইছে।
সৌহার্দ্য এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে হাত দিয়ে নিজের অবিন্যস্ত চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিল। তারপর গভীর চোখে তাকিয়ে হাতের ইশারায় রিদিকে ডাকল নিজের কাছে। রিদি শাড়ির কুঁচি সামলে ধীর পায়ে এগিয়ে আসতেই সৌহার্দ্য আর অপেক্ষা করল না—এক টানে তার কোমর জড়িয়ে ধরে নরম গালে ভালোবাসার এক ছোঁয়া এঁকে দিল। তারপর ঠান্ডা অথচ মায়াবী গলায় ফিসফিস করে বলল—
“ভয় পাচ্ছ জান?”
রিদি মনে মনে ভাবল, সে কী উত্তর দেবে? সে তো আসলেই ভয় পাচ্ছে—সৌহার্দ্যকে নয়, সৌহার্দ্যের এই পাগল করে দেওয়া উন্মাদনাকে! রিদি ভালো করেই জানে, সৌহার্দ্য যতই কথা দিক না কেন যে সে শান্ত থাকবে, ঠিক ওই মুহূর্তটাতে এসে সেই প্রতিশ্রুতির কথা তার আর মনে থাকে না। তার ওপর এখন তো তাদের ভালোবাসার সাক্ষী হয়ে পেটে বড় হচ্ছে টুইন বেবি! যদি কোনো সমস্যা হয়?
রিদির এই মিষ্টি দ্বিধা আর মায়াবী ভাবনার মাঝেই সৌহার্দ্য তাকে আরও নিবিড় করে নিজের সাথে জড়িয়ে ধরল। তার উষ্ণ, শক্ত পুরুষালী হাতের কড়া স্পর্শ শাড়ির সূক্ষ্ম ভাঁজ ভেদ করে রিদির নরম, উন্মুক্ত কোমরে পড়তেই রিদির সমস্ত শরীর শিহরিত হয়ে কেঁপে উঠল, আর তার অবাধ্য বুক চিরে বেরিয়ে এল এক ভীষণ মায়াবী ও উষ্ণ স্পন্দন। ঠিক তখনই কান ঘেঁষে মাদকতা মেশানো স্বরে সৌহার্দ্য বলে উঠল—

“প্রমিজ করছি একটুও কষ্ট দেব না, কিন্তু আজ বাধা দিও না প্লিজ; দিলেও আমি শুনছি না!”
প্রতিবাদের আর কোনো সুযোগ না দিয়ে সে রিদিকে পাঁজা-কোলে তুলে আলতো করে বিছানায় শুইয়ে দিল। এরপর তার কোমল পেটের কাছাকাছি শাড়িটা একটু সরিয়ে পরম মমতায় সেখানে কয়েকটি গভীর চুমু খেল। তারপর মোলায়েম কণ্ঠে, ফিসফিস করে বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে বলল—
“জান, বাচ্চারা আমার! এখন পাপা মাম্মাকে আদর করবে, পাপাকে একটু বিরক্ত করবে না, ওকে?”
সৌহার্দ্যের এই দুষ্টু-মিষ্টি কথায় রিদির গাল দুটো লাল হয়ে গেল। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে সে বিড়বিড় করে বলে উঠল—
“বেহায়া লোক! বাচ্চাদেরকেও বাজে কথা বলছে!”
রিদি যতটাই আস্তে বলুক না কেন, সৌহার্দ্যের কান এড়ানোর সাধ্য কার! সে চটজলদি রিদির আরও ওপরে ঝুঁকে এল। রিদির কানের ঠিক লতি ঘেঁষে নরম ঠোঁট ছুঁয়ে ফিসফিস করে বলল—

“আমার সাথে তুমি একটু বেহায়া হও, বউ, তাহলে ম…”
কথাটা শেষ হতে দিল না রিদি। লজ্জার চরম সীমায় পৌঁছে সে নিজের হাত দিয়ে সৌহার্দ্যের মুখ চেপে ধরল। কিন্তু সৌহার্দ্যের জেদের কাছে সেই বাধা হার মানল নিমেষে। রিদির হাত দুটো অত্যন্ত আদুরে ছোঁয়ায় সরিয়ে নিয়ে, এক হাতে তার দুটো নরম হাত মাথার ওপরে আলতো করে আটকে ধরল সৌহার্দ্য। তারপর নিজের তীব্র ভালোবাসার সবটুকু উষ্ণতা ঢেলে রিদির কাঁপাকাঁপা মিষ্টি ঠোঁটে গেঁথে দিল এক আদিম ও গভীর চুম্বন। সেই গাঢ় চুম্বনের নেশা আর পাগল করা উত্তাপ বিদ্যুতের ঝলকানির মতো ছড়িয়ে পড়তে লাগল রিদির অবশ হয়ে আসা মেয়েলি কায়ার প্রতিটা ভাঁজে ভাঁজে। আবেশে বুঁদ হয়ে যাওয়া দুজনের দীর্ঘশ্বাসের উষ্ণতা এক সুতোয় মিলে গিয়ে তারা হারিয়ে গেল ভালোবাসার এক অতল গভীরে, মায়াবী ও রোমাঞ্চকর এক অজানা রাজ্যে!

সকাল হতেই খান বাড়ি বেশ গমগমে হয়ে উঠেছে। চারদিক দারুণ এক সাজে সেজে উঠেছে। আজ শাহবীরের গায়ে হলুদ—যদিও শাহবীর এসব হলুদ বা আনুষ্ঠানিকতায় কদম ফেলতে একদমই রাজি ছিল না। সব আয়োজন করতে হচ্ছে কেবল সৌহার্দ্যের জেদের কারণে! কারণটা আর কিছু নয়—রিদি চেয়েছিল, এখানে যেহেতু গায়ে হলুদ হচ্ছে না, তবে বাড়ির মেয়েরা মিলে সুমিদের বাড়ি গিয়ে হলুদ সেরে আসবে।

ব্যস! এই সামান্য কথাটা কোনোভাবে সৌহার্দ্যের কানে পৌঁছাতেই সে জেদ ধরে বসে। রিদির সেই ইচ্ছেকে পূরণ করতেই সে শাহবীরকে দিয়ে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের সমস্ত আয়োজন করাচ্ছে।
আজকের আয়োজনে অবশ্য বাইরের খুব বেশি মেহমান নেই। চৌধুরী বাড়ির লোকজন আসবে বিকালের দিকে। রিদির নানার বাড়িতে দাওয়াত দেওয়া হলেও তারা কেউ আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। শুধু ফাহান কথা দিয়েছে সে সরাসরি বিয়ের দিনই আসবে। ওদিকে শাহবীরের কলিগ ও বিজনেস পার্টনাররাও সবাই বিয়ের দিনেই উপস্থিত হবে।
ঘুম থেকে ওঠার পর প্রায় আধা ঘণ্টা কেটে গেলেও রিদি সৌহার্দ্যের জন্য রুম থেকে বের হতে পারছে না। সৌহার্দ্য নিজেও যেমন বের হচ্ছে না, তেমনি রিদিকেও এক পা-ও ফেলতে দিচ্ছে না বাইরে। রুমের ভেতর থেকে শাহবীরকে ফোন করে সে সোজা বলে দিয়েছে তাদের নাস্তাটা যেন রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সৌহার্দ্যের একটাই কথা—বাড়িতে এখন সাজসজ্জার কাজ চলছে, আনাগোনা করছে কত অচেনা ছেলেপেলে; তাদের সামনে তার বউ কিছুতেই এভাবে বের হতে পারবে না! যতক্ষণ পর্যন্ত বাড়ির ভেতরের সব সাজানো ও গোছানোর কাজ শেষ না হচ্ছে, রিদি রুমের বাইরে যাবে তো দূরের কথা, দরজা-জানালার ধারেও ঘেঁষতে পারবে না।
এতক্ষণ সৌহার্দ্যের এই হুকুম মেনে চললেও এখন রিদির চরম বিরক্তি লাগছে। বাইরে থেকে সবার হাসিঠাট্টা, হইচই আর আনন্দের আওয়াজ ভেসে আসছে, আর সে কিনা একা একটা রুমের ভেতর বন্দি হয়ে বসে আছে! অথচ যে মানুষটার জেদের কারণে তার এই দশা, সেই সৌহার্দ্য দিব্যি উপুড় হয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন—বাইরের কোনো হুঁশই তার নেই।
আর পেরে উঠল না রিদি। বিরক্তিতে মুখটা কালো করে সে সৌহার্দ্যের পিঠে হাত রেখে মিনমিন করে ডেকে উঠল—

“শুনছেন?”
সৌহার্দ্য ঘুমজড়ানো কণ্ঠে কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়ে বিড়বিড় করল—
“বলো, সুইটহার্ট?”
রিদি সৌহার্দ্যের আরও একটু কাছে এগিয়ে গিয়ে তার ওই উন্মুক্ত, ফর্সা পিঠে আদুরে একটা চুমু দিয়ে মিনতিভরা গলায় বলল—
“আমি নিচে যাই প্লিজ? অনেকক্ষণ তো হলো!”
বার একই কথা শুনে সৌহার্দ্যের ঘুম যেন এক মুহূর্তে পালিয়ে গেল। বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে সে চোখ মেলল এবং ধমকের সুরে বলে উঠল—
“বিরক্ত করছ কেন, স্টুপিড? একবার বলছি না নিচের সাজানোর কাজ শেষ হলে যাবে? এক কথা বারবার বলে রাগাচ্ছ কেন আমায়?”
রিদিও এবার আর চুপ রইল না। অভিমানে তার গাল দুটো ফুলে উঠল, চোখ দুটো ছলছল করে এল। অভিমানী কণ্ঠে সে বলে উঠল—

“নিচে সবাই কত আনন্দ করছে, আমি এখানে আপনার সাথে বসে থেকে কী করব? কেন যেতে দিচ্ছেন না আমাকে?”
সৌহার্দ্য এবার বিরক্ত হয়ে পাশ ফিরে রিদির মুখোমুখি হলো। রিদির রাগে ফোলা ফোলা গাল দুটো টেনে ধরে সে বিরক্তি নিয়ে বলল—
“খেলবে! কী খেলতে চাও বলো? ক্রিকেট, ফুটবল নাকি হাডুডু? কো—”
সৌহার্দ্যকে পুরো কথাটা শেষ করতে দিল না রিদি। রাগের চরম সীমায় পৌঁছে সে একদম তেড়ে গিয়ে বলে উঠল—
“জুয়া খেলব! খেলবেন আসুন, অসভ্য লোক!”
বউয়ের মুখ থেকে হঠাৎ এমন অদ্ভুত কথা শুনে সৌহার্দ্য তো রীতিমতো থমকে গেল! মুহূর্তের জন্য তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। পরমুহূর্তেই রিদির দিকে আগুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে দাঁতে দাঁত চেপে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল—
“বেয়াদব মহিলা! এসব বাজে শব্দ কোথা থেকে শিখেছ তুমি? ওই চারচোখ শিখিয়েছে এগুলো তোমাকে, না?”

রিদি কিছু একটা পালটা জবাব দিতে যাবে, ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো। বিরক্তিতে মুখটা আরও কালো করে সৌহার্দ্য গিয়ে দরজা খুলল। সামনে হাতে নাস্তার ট্রে নিয়ে রিভাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তার রাগটা একটু কমল। হাত বাড়িয়ে রিভার হাত থেকে নাস্তাগুলো নিতে নিতে সে বোনের শুকনো মুখটার দিকে তাকিয়ে চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
“খেয়েছিস তুই? মুখ এমন শুকনো কেন? ফারিস কিছু বলেছে?”
রিভা মলিন মুখে শুধু মাথা নেড়ে বোঝাল যে তেমন কিছু না। কিন্তু সৌহার্দ্যের তীক্ষ্ণ নজর এড়াল না। সে ভ্রু কুঁচকে রিভার দিকে তাকিয়ে রইল। ভাইকে এভাবে পলকহীন তাকিয়ে থাকতে দেখে রিভা কেমন যেন অস্বস্তিতে পড়ে গেল, তড়িঘড়ি করে বলল—

“আমি যাচ্ছি, ভাইয়া। তোমরা নাস্তা করে নাও।”
বলেই রিভা সেখানে আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না, দ্রুত পায়ে সরে গেল।
সৌহার্দ্য খাবারের ট্রে-টা খাটের ওপর রেখে রিদিকে এক টানে টেনে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে নিল। তার নরম গালে ভালোবাসার একটা আলতো চুমু এঁকে দিয়ে প্লেট থেকে গরম পরোটার ছোট একটা টুকরো রিদির মুখের সামনে বাড়িয়ে দিতে দিতে সে আদুরে অথচ ধমকের সুরে বলল—
“কথায় কথায় গাল ফোলাবে না, নিজেকে কন্ট্রোল করতে কষ্ট হয়!”
সুযোগ বুঝে রিদি তৎক্ষণাৎ সৌহার্দ্যের গলা জড়িয়ে ধরে, একটু আদুরে আবদারে ফিসফিস করে বলল—

“আমাকে নিচে বের হতে দিলে আপনাকে গুনে গুনে দশটা চুমু খাবো!”
রিদির এমন লোভনীয় প্রস্তাবেও সৌহার্দ্য যেন বিকারহীন। বিরক্তি নিয়ে সে মুখ কুঁচকে বলল—
“আমার এখন চুমু খাওয়ার মুড নেই! মুড হলে তখন ভেবে দেখব।”
সৌহার্দ্যের এই পাথুরে জবাবে রিদি নিরাশ হয়ে আর একটা কথাও বাড়াল না। সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারল, আজ কোনোভাবেই এই জেদি মানুষটাকে বাগে আনা যাবে না! যতক্ষণ না বাড়ির ভেতরের সাজসজ্জার কাজ শেষ হচ্ছে এবং সৌহার্দ্যের মন গলেছে, ততক্ষণ এই রুমের চার দেওয়ালের বন্দিদশা ছাড়া তার আর কোনো গতি নেই।

দুপুর প্রায় বারোটা। বাগানের একপাশে দাঁড়িয়ে আনমনে সিগারেট খাচ্ছিল শাহবীর। হঠাৎ পেছনে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে সে চমকে ফিরে তাকাল। রিভাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই সে দ্রুত হাতে জ্বলন্ত সিগারেটটা ফেলে দিয়ে জুতো দিয়ে পিষে নিভিয়ে দিল। তারপর রিভার দিকে তাকিয়ে একটু গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
“ভালো আছো?”
রিভা শাহবীরের এই সাধারণ কথার কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু হাত বাড়িয়ে এক কাপ গরম কফি তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে ঈষৎ আঁকুপাঁকু, কাঁপা কাঁপা গলায় জানতে চাইল—
“সুমি আপুকে ভালোবাসেন?”
শাহবীর এক মুহূর্ত রিভার চোখের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে উত্তর দিল—
“হুম!”
রিভা ঠোঁটে এক চিলতে ম্লান হাসি টেনে শাহবীরের চোখের গভীরে তাকিয়ে প্রশ্ন করল—
“এই জন্য কি আমাকে রিজেক্ট করেছিলেন?”
শাহবীর আগের মতোই শান্ত ও নির্বিকার গলায় বলল—

“না!”
পরমুহূর্তেই ঠান্ডা অথচ কঠিন কণ্ঠে আবার যোগ করল—
“এখান থেকে যাও, ফারিস দেখলে কষ্ট পাবে। আমি চাই না ও আমাকে ভুল বুঝুক!”
রিভা এবার এক অদ্ভুত হাসার ব্যর্থ চেষ্টা করে জানতে চাইল—
“তাহলে কি আপনার বন্ধুর জন্য আমাকে রিজেক্ট করেছিলেন?”
শাহবীর এ কথার কোনো উত্তর দিল না। সে চুপ করে রইল। শাহবীরের থেকে কোনো জবাব না পেয়ে রিভা যখন ফিরতি পথে পা বাড়াল, তখনই শাহবীর পিছন থেকে ডেকে উঠল—
“শোনো?”
রিভা এক পা এগিয়েই থমকে দাঁড়িয়ে গেল। শাহবীর ঠান্ডা অথচ ধারালো গলায় যা বলল, তাতে রিভার বুকটা কেঁপে উঠল—

“আমি তোমাকে ভালোবাসতাম কিনা জানা নেই, তবে তোমার মায়ায় পড়ে গিয়েছিলাম। তুমি মেয়েটাই এত মিষ্টি, চাইলে কেউ তোমায় রিজেক্ট করতে পারে না! সত্যি কথা কী জানো? তোমাকে ছাড়া আমি ঠিকই মুভ অন করতে পেরেছি, কিন্তু ফারিস তোমাকে না পেলে বাঁচত না! পাগলের মতো ভালোবাসে তোমায়, ওকে কষ্ট দিও না!”
রিভা আর কোনো কথা বলল না। চোখের কোণে জমে থাকা ছোট্ট জলের ফোঁটাটা দ্রুত হাতে মুছে সে বাড়ির ভেতরের দিকে দ্রুত পায়ে হেঁটে চলে গেল। যদিও সে মনে প্রাণে শাহবীরকে কবেই ভুলে গিয়েছিল, কিন্তু এই বাড়িতে এসে শাহবীরকে এত কাছ থেকে দেখার পর তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন এক অজানা, অচেনা কষ্টে ভারী হয়ে উঠছিল!

রিভা চোখের আড়াল হতেই শাহবীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মনে পড়ে গেল তখনকার দিনগুলোর কথা—রিভার সেই নিষ্পাপ পাগলামি, নাছোড়বান্দা জেদ আর অদ্ভুত আবদারগুলো। সত্যিই তো, রিভা নামের সেই মিষ্টি মেয়েটির পাগলামিগুলো তার মতো শক্ত-পোক্ত, গম্ভীর পুরুষের বুকটাও গলিয়ে দিতে পুরোপুরি সক্ষম হয়েছিল।
কিন্তু ওই যে, ঠিক সেই মুহূর্তেই যখন সে জানতে পারল এই মেয়েটিকে তার বন্ধু ফারিস নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, তখন সে আর এক মুহূর্তও দেরি করেনি। নিজের অবাধ্য মনটার লাগাম টেনে ধরে সে এক ঝটকায় নিজের সমস্ত অনুভূতিকে গলা টিপে মেরে ফেলেছিল। সুজনের কাছে ফারিসের রিভার প্রতি ভালোবাসার কথাগুলো যদি সে না শুনত, তবে হয়তো অজান্তেই নিজের প্রিয় বন্ধুর জীবনের সবচেয়ে বড় সুখটা সে নিজের হাতে কেড়ে নিত!
শাহবীরের এই ভাবনার মাঝেই হুট করে এসে তার পাশে দাঁড়াল সৌহার্দ্য। ট্রাউজারের পকেটে এক হাত গুঁজে, রিভার ফেলে যাওয়া কফির মগটা হাতে তুলে নিয়ে তাতে একটা চুমুক দিল সে। এরপর সামনের উন্মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে বেশ নিস্পৃহ গলায় প্রশ্ন করল—

“ভালোবাসতি?”
শাহবীর এ কথার কোনো উত্তর দিল না, চুপ করে রইল।
সৌহার্দ্য তখন আকাশের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে মৃদু হাসল, তারপর গম্ভীর অথচ গভীর কণ্ঠে বলে উঠল—
“জানিস, আমাদের এই বন্ধুমহলে তুই সবার সেরা? নির্দ্বিধায় বন্ধুদের জন্য নিজের সবটুকু স্যাক্রিফাইস করে দিতে পারিস! তোর জায়গায় যদি আমি হতাম, তবে হয়তো আমি পারতাম না। ফারিস যা করেছে, আমিও হয়তো সেটাই করতাম—নিজের ভালোবাসাকে নিজের হাতে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া অসম্ভব।”
শাহবীর এবার একটা হালকা, ম্লান হাসি হেসে নিচু গলায় বলল—

“সেই জন্যই কি রাতের আঁধারে বারবার নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে বাঁচিয়েছিস? তুই ভেবেছিস আমি কিচ্ছু জানি না? ওই নারী পাচারকারী চক্রটাকে ধরতে গিয়ে সেদিন আমাকে গুলি খাওয়া থেকে কে বাঁচিয়েছিল? আর দেশে ফেরার পর আমাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে মারাত্মক অ্যাক্সিডেন্টটা কে করেছিল?”
সৌহার্দ্য এক মুহূর্তের জন্য একেবারে নীরব হয়ে গেল। তারপর কপট গম্ভীর মুখে আকাশের দিকে তাকিয়ে খুব স্পষ্ট গলায় বলে উঠল—
“সেটা অন্য হিসাব! কিন্তু যাকে ভালোবাসি, তাকে অন্য কারো জন্য দান করার মতো এত বড় মহৎ কাজ আমি জীবনেও করতে পারতাম না!”

বিকাল চারটা। ছাদ থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হুট করেই কারো সাথে সজোরে ধাক্কা খেল সুজন। হুড়মুড় করে ঠিক তার বুকের ওপর এসে পড়ল কেউ একজন। বিরক্তির চরম সীমায় গিয়ে সুজন মুখ তুলতেই দেখল—সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেঘা!
একঝলক তাকিয়ে সুজন তাকে নিজের কাছ থেকে একটু সরিয়ে দাঁড় করাল, তারপর দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে খোঁচা মেরে বলল—
“কাল মাত্র ফুটবল টিম বানানোর প্রস্তাব দিয়েছি, আজই দেখছি একেবারে তৈরি হয়ে চলে এসেছ?”
মেঘা নাক কুঁচকে, রেগে গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে উঠল—
“কী যা-তা বলছেন! আমি তো ছাদে যাচ্ছিলাম, স্লিপ খেয়ে পড়ে গেছি! ইচ্ছে—”
কথাটা শেষ করতে দিল না সুজন। অত্যন্ত গম্ভীর মুখ করে সে বাধা দিয়ে বলল—
“ইচ্ছে-অনিচ্ছে বুঝি না! আমার বউয়ের হক নষ্ট করছ তুমি! এই বুকে কেবল আমার বউয়ের পড়ার কথা ছিল, তুমি তার আগে পড়ে গেছ! এখন এর জরিমানা দিতে হবে!”
মেঘা তো চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে রইল। এ আবার কেমন আজব লজিক! সে কি ইচ্ছে করে পড়ে গেছে নাকি? আশ্চর্য তো! তবুও ঝামেলা বাড়াতে না চেয়ে সে একটু আড়ষ্ট হয়ে জিজ্ঞেস করল—

“কী জরিমানা চান?”
মনে মনে একটা কুটিল ও চতুর হাসি হাসল সুজন। যা হোক, এই সরল-বোকা মেয়েটাকে কোনো রকমে ফাঁসাতে পারলেই হলো! গম্ভীর গলায় সে এক কথাতেই ফয়সালা করে দিল—
“আমার বউয়ের হক নষ্ট করছ, এখন তোমাকে আমার বউ হতে হবে!”
মেঘা যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল! এ কেমন পাগলামি কথা! এত অদ্ভুত যুক্তির মাথামুন্ডু কিছুই খুঁজে পেল না সে। রাগে গাল ফুলিয়ে সে বলে উঠল—
“কী বলছেন এসব, খারাপ লোক! আমি কেন আপনার বউ হবো?”
সুজন মুখ খুলে কিছু একটা পাল্টা বলতে যাবে, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে এসে হাজির হলো সৌহার্দ্য। কপাল কুঁচকে সুজনের দিকে তাকিয়ে সে বিরক্তিভরা কণ্ঠে প্রশ্ন করল—

“কী করছিস তুই এখানে?”
সৌহার্দ্যের দিকে তাকিয়ে সুজনও কম বিরক্ত হলো না। মুখ বাঁকিয়ে বলল—
“তোর কি আর একটু পরে আসলে হতো না?”
সৌহার্দ্য সুজনকে পাত্তাই দিল না। মেঘা ততক্ষণে সুযোগ বুঝে সৌহার্দ্যের দিকে তাকিয়ে কাঁচুমাচু মুখে নালিশ ঠুকল—
“দেখুন না ভাইয়া, উনি আমাকে আজেবাজে কথা বলে বিরক্ত করছেন!”
সৌহার্দ্য মেঘার দিকে না তাকিয়ে নির্বিকার কণ্ঠে শুধু বলল—
“তুমি যেতে পারো।”

মেঘা আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না, মাথা নেড়ে দ্রুত পায়ে ছাদ থেকে পালিয়ে গেল। মেঘা যাওয়ার পর সৌহার্দ্য ঠান্ডা ও বিরক্ত গলায় সুজনকে শুনিয়ে দিল—
“বাচ্চা একটা মেয়ে! দুনিয়াতে কি মেয়ের এত অভাব পড়ছে, ইডিয়ট?”
সুজন উল্টো আরও বেশি বিরক্ত হয়ে তেড়ে এল—
“তোদের সবার সমস্যা কী বল তো? নিজেরা বাচ্চা মেয়ে বিয়ে করে তাকে বাচ্চার মা বানিয়ে ফেলছিস, আর শুধু আমি করতে গেলেই দোষ? তুই—”
কথাটা পুরো শেষও করতে পারল না সুজন, সৌহার্দ্য বিরক্ত হয়ে পাশ কাটিয়ে ছাদের রেলিংয়ের দিকে এগিয়ে গেল। সুজনও দমে না গিয়ে তার পিছন পিছন গিয়ে দাঁড়াল এবং পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে সৌহার্দ্যের দিকে বাড়িয়ে দিল। কিন্তু সৌহার্দ্য গমগমে কণ্ঠে শুধু একটা কথাই বলল—

“আমি সিগারেট খাই না!”
কথাটা শুনে সুজন তো রীতিমতো থমকে গেল! যে ছেলে খাবারের চেয়ে সিগারেটে আসক্ত বেশি, সে আজ বলছে সিগারেট খায় না! ভিরমি খেয়ে সে ঠাট্টার সুরে জানতে চাইল—
“কখন থেকে ভাই?”
সৌহার্দ্যের সংক্ষিপ্ত, নির্বাক জবাব ছিল—
“যবে থেকে বউ মানা করছে!”
সুজন আর কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই হাঁপাতে হাঁপাতে সেখানে এসে হাজির হলো ফারিস। এসেই সে রহস্যময় হেসে বলল—
“তুই এদিকে বউয়ের জন্য সিগারেট খাওয়া বাদ দিচ্ছিস, আর ওদিকে তোর বউকে দেখলাম নিচে একটা হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে দাঁত বের করে হাস—”
ফারিসের কথাগুলো কান পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই রাগে সৌহার্দ্যের গোটা শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল! চোখের পলকে, ঝড়ের গতিতে সে ছাদ থেকে সিঁড়ির দিকে ছুটল। সৌহার্দ্যের এমন পাগলাটে ও হিংস্র রূপ দেখে সুজন হতবাক হয়ে সন্দেহভাজন দৃষ্টিতে ফারিসের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল—
“সত্যি বলছিস?”
ফারিস তার শার্টের কলারটা ঠিক করতে করতে নির্ভার ভঙ্গিতে জবাব দিল—
“মিথ্যা কেন বলব!”

ছাদ থেকে নেমে সৌহার্দ্য রিদিকে পুরো বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজতে শুরু করল। খুঁজতে খুঁজতে একপর্যায়ে বাগানে পা রাখতেই তার পায়ের গতি থমকে গেল। সামনে তাকিয়ে সে দেখল—কী সুন্দর! তার বউ একটা চার-পাঁচ বছরের ফুটফুটে বাচ্চা ছেলের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে!
এই দৃশ্য দেখেই সৌহার্দ্যের নাক-মুখ কুঁচকে গেল। এক সেকেন্ডের জন্য ছাদে থাকা ফারিসের কথা মনে পড়তেই ছাদের দিকে তাকিয়ে তাকে ইচ্ছেমতো গালি দিল। কিন্তু পরমুহূর্তেই সামনের দিকে তাকাতেই তার রক্ত মাথায় উঠে গেল—রিদি ঝুঁকে সেই বাচ্চাটার গালে পরম মমতায় চুমু খাচ্ছে!
মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে যাওয়া রাগটা এবার তরতর করে দশগুণ বেড়ে গেল। ঝড়ের গতিতে এগিয়ে গিয়ে সৌহার্দ্য বাচ্চাটাকে এক টানে রিদির কাছ থেকে টেনে সরিয়ে দিল। তারপর রিদির দিকে কটমট করে তাকিয়ে ধমকের সুরে বলে উঠল—

“স্টুপিড! সব সময় রং জায়গায় ঠোঁট চালাতে হয় কেন?”
এরপর বাচ্চাটার দিকে চোখ রাঙিয়ে কড়া গলায় বলল—
“পুঁচকে, তোমার মায়ের কাছে যাও! এই আন্টির আশেপাশে আর কখনো আসবে না, ওকে!”
কিন্তু বাচ্চা রাফানও কম যায় না! সে সৌহার্দ্যের থেকেও তিনগুণ বেশি তেজ দেখিয়ে বুক ফুলিয়ে বলে উঠল—
“একশো বাল আসব! এটা আন্টি না, আমাল বউ!”
সৌহার্দ্য বিরক্তি ও রাগে ফেটে পড়ার জোগাড় হয়ে বলল—
“এটা আমার বউ, স্টুপিড পুঁচকে!”
রাফান সৌহার্দ্যের চেয়ে এক ধাপ বেশি বিরক্তি মিশিয়ে নাক সিঁটকে বলল—
“না, এটা আমাল বউ!”
সৌহার্দ্য এবার রাগে-বিরক্তিতে দাঁতে দাঁত চেপে বলল—
“স্টুপিড বাচ্চা! নাক টিপলে দুধ বেরোবে, আর এসব ফালতু কথা তোমাকে কে শিখিয়েছে?”
রাফান ছোট্ট আঙুল তুলে ছাদের দিকে ইশারা করে বলল—

“ওই যে, ওই আংটেল!”
সৌহার্দ্য সঙ্গে ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখল ফারিস দাঁড়িয়ে দাঁত কেলাচ্ছে। সে তখন দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিস করে বলল—
“তোকে আমি জ্যান্ত পুঁতে দেবো, ইডিয়ট!”
সৌহার্দ্যের এই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য অবস্থার মাঝেই রিদি মুচকি হেসে বাচ্চাটাকে নিয়ে বাড়ির ভেতরে পা বাড়াল। তা দেখে সৌহার্দ্য তেজি কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠল—
“ইউ দেড় ব্যাটারি! স্টুপিড, বাচ্চাটার হাত ছেড়ে হাঁটো বলছি!”
সৌহার্দ্যের কথা শুনে রিদি উল্টো ভেংচি কেটে দিল। আর তাকে দেখে রাফান রিদিকে নিজের দিকে ঝুঁকিয়ে গালে একটা চুমু বসিয়ে দিয়ে সৌহার্দ্যকে জিব বের করে চরম একটা ভেংচি কাটল!
রাফানের এমন ঔদ্ধত্য দেখে সৌহার্দ্য রাগে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে হিসহিস করে বলল—
“স্টুপিড পুঁচকে! হাতের কাছে পেলে তুলে আছাড় মারব তোমাকে!”
ওদিকে ছাদ থেকে ফারিস তখন আরও উস্কে দেওয়ার জন্য গলা ফাটিয়ে চেঁচিয়ে উঠল—
“তোর থেকে কিন্তু হ্যান্ডসাম!”
ফারিসের কথা শুনে সৌহার্দ্যের মুখটা রাগে আরও কুঁচকে গেল—পুরো শরীরটা তখন তার রাগে দাউদাউ করে জ্বলছে!

সন্ধ্যার ম্লান আলোয় বসুন্ধরা শপিং মল তখন গমগম করছে। বিয়ের কেনাকাটার জন্য সবাই এসেছে, উৎসবের আমেজ চারদিকে। বিয়ের বাকি সব কেনাকাটা কয়েকদিন আগেই শাহবীর, সৌহার্দ্য আর সুজন মিলে শেষ করে সুমিদের বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। শুধু বাকি ছিল বিয়ের লেহেঙ্গাটা। সুমি জেদ ধরেছিল, নিজের শখের লেহেঙ্গাটা সে নিজেই পছন্দ করে কিনবে—আর সেই কারণেই শাহবীর সেটা কেনেনি।
সুমি ভেবেছিল, আজ যখন সবাই মিলে শপিংয়ে বের হবে, তখন হয়তো শাহবীরের অভিমানটা একটু গলবে। অন্তত এই সুযোগে সে শাহবীরের রাগ ভাঙাতে পারবে। কিন্তু আসার ঠিক আগমুহূর্তে সুমি জানতে পারল, শাহবীর আসছে না। সেই দিনের পর থেকে শাহবীর সুমির সাথে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। সুমি অনেকবার কল দিয়েছিল, কিন্তু শাহবীর রিসিভ করেনি। শাহবীর আসেনি বলে সে লেহেঙ্গা কেনার পুরো দায়িত্বটা রিদি আর পৃথার ওপর ছেড়ে দিয়ে সেও আসেনি!
বিয়ের মূল কেনাকাটা আগেই চুকেবুকে গেছে, এখন সবাই ব্যস্ত নিজেদের পছন্দমতো কিছু একটা বেছে নিতে। রিভা সেই কখন থেকে দোকানের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ঘুরে একটা করে শাড়ি দেখছে আর উল্টেপাল্টে রাখছে, কিন্তু কোনোটিই তার মনঃপূত হচ্ছে না। এদিকে রিভার এই দীর্ঘ শাড়ি বাছাই পর্ব দেখতে দেখতে ফারিসের সহ্যশক্তি একদম শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছে।
বিরক্তিতে মুখ কালো করে ফারিস এক ধমক দিয়ে বলে উঠল,

— “শ্বশুরের বেয়াদব মেয়ে! এভাবে একটা শাড়ি পছন্দ করতে করতে কি আমার মাথার সব চুল পাকিয়ে বুড়ো করে দিবি নাকি?”
ফারিসের এমন কথায় রিভা ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুখটা কুঁকড়ে ফেলল। রাগ দেখিয়ে পাল্টা জবাব দিল,
— “চুপ করুন তো, ফারিস ভাই! আপনার এই বকবকানির জন্যই তো আমার মাথা কাজ করছে না, কিচ্ছু পছন্দ হচ্ছে না!”
কথাটা বলেই ফারিসের ওপর থেকে রাগটা সরিয়ে রিভা সোজা রিদির দিকে এগিয়ে গেল। রিদির হাত ধরে আবদারের সুরে বলল,
— “ভাবি, তুমি প্লিজ আমাকে একটা সুন্দর শাড়ি পছন্দ করে দাও তো!”
রিদি মুচকি হেসে কয়েকটি শাড়ি থেকে একটা দারুণ শাড়ি রিভার হাতে তুলে দিল। এরপর নিজের জন্য একটা শাড়ি পছন্দ করতে হাত বাড়াবে, ঠিক তখনই নিস্তব্ধতা ভেঙে সৌহার্দ্যের গম্ভীর ও গমগমে কণ্ঠস্বর ভেসে এল—

— “ওটা না… কালো কালারটা নাও।”
কথাটি শুনে সবাই অবাক হয়ে তাকাল সেদিকে! কারণ শপিংয়ে আসার পর থেকে সৌহার্দ্যকে একবারের জন্যও এদিক-ওদিক তাকাতে দেখা যায়নি। সে দোকানের এককোণে চুপচাপ বসে অনবরত মোবাইল টিপে চলেছে, দেখে মনে হচ্ছিল চারপাশের এই হইচই বা কেনাকাটার সাথে তার দূরতম কোনো সম্পর্কই নেই। অথচ সবার অজান্তেই তার তীক্ষ্ণ নজর ঠিকই রিদির ওপর ছিল!
সৌহার্দ্যের এমন আকস্মিক ও অদ্ভুত অধিকারবোধ দেখে রিদি আর কথা বাড়াল না। বুকের ভেতর কেমন যেন এক অজানা ভালো লাগার কাঁপন খেলে গেল। সে সৌহার্দ্যের দিকে এক পলক তাকিয়ে আলগোছে সেই কালো শাড়িটাই তুলে নিল নিজের হাতে।

পৃথাও নিজের পছন্দমতো শাড়ি কিনে নিয়েছে। তবে তন্বী আর আকাশ আসেনি; তন্বীর গর্ভাবস্থার প্রায় আট মাস চলছে, তার ওপর কোলজুড়ে আরেকটা ছোট বাচ্চা আছে—তাই আকাশ তাকে বাইরে আসতে দেয়নি। এসেছে শুধু সৌহার্দ্য, রিদি, ফারিস, রিভা, পৃথা, জুথি, মেঘা আর সুজন।
এখানে আসার পর থেকেই সুজন যেন মেঘার ছায়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেঘা যেখানে যাচ্ছে, সুজন ঠিক তার পেছনে পেছনে ঘুরছে। অথচ মেয়েটা সুজনকে দুই পয়সারও পাত্তা দিচ্ছে না! সুজন একটু কাছে ঘেঁষলেই মেঘা ফায়ার হয়ে দূরে সরে যাচ্ছে। দৃশ্যটা দেখে মনে হচ্ছিল যেন বিড়াল ইঁদুর ধরতে দৌড়াচ্ছে আর ইঁদুরটা চতুরভাবে বারবার পালিয়ে যাচ্ছে!
সবার কেনাকাটা যখন শেষ, তখন সৌহার্দ্য সবাইকে গাড়িতে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলে রিদির নরম হাতটা নিজের শক্ত হাতের মুঠোয় নিয়ে একটা ডায়মন্ডের শোরুমে নিয়ে ঢুকল।
রিদি ভেতরে ঢুকে ভ্রু কুঁচকে বিরক্ত নিয়ে বলল,

— “কদিন আগেই তো ডায়মন্ডের কতকিছু কিনে দিলেন, এখন আবার এখানে কেন?”
সৌহার্দ্য কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা শোরুমের ভেতরে প্রবেশ করল এবং সেলসম্যানকে সুন্দর কিছু ডায়মন্ডের সেট দেখাতে বলল। এরপর রিদির দিকে এক পলক তাকিয়ে বেশ গম্ভীর গলায় বলল,
— “বীরের বউয়ের জন্য পছন্দ করো।”
রিদি সেলসম্যানের দেখানো সেটগুলো থেকে একটা সুন্দর সেট পছন্দ করে নিল। ঠিক তখনই শোকেসের গ্লাস ভেদ করে সৌহার্দ্যের চোখ আটকে গেল একটি চমৎকার নীল রঙের ডায়মন্ডের রিংয়ের ওপর। নীল ডায়মন্ডের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জোগাড়! সে মুহূর্তের মধ্যে সেলসম্যানকে ইশারা করে রিংটা বের করতে বলল।
রিদি রিংটার দিকে তাকিয়ে কৌতূহলী ও কিছুটা অবাক সুরে জিজ্ঞেস করল,

— “এত দামি রিং কার জন্য নিচ্ছেন?”
সৌহার্দ্য একটু বিরক্তি ফুটিয়ে শীতল গলায় বলল,
— “আমার তো আরেকটা বউ আছে, তার জন্য নিচ্ছি!”
রিদি রেগে গিয়ে মুখ মুচড়ে ফেলল। চোখ ছোট করে জবাব দিল,
— “আপনার যা তেজ! একটা বউ পেয়েছেন, তাতেই শুকরিয়া আদায় করুন! আমি তো…”
কথা শেষ করতে দিল না সৌহার্দ্য। ধমক দিয়ে কড়া গলায় বলে উঠল,
— “স্টুপিড! চুপ করবে তুমি?”
বলেই আর কোনো কথা না বাড়িয়ে রিদির ডান হাতটা নিজের শক্ত মুঠোয় টেনে নিল এবং ঝড়ের বেগে আংটিটা তার আঙুলে পরিয়ে দিল।
রিদি হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে ফিকফিক করে বিড়বিড় করে বলল,

— “ত্যাড়া লোক একটা! কোনো কথা সোজাভাবে বললে তার ইজ্জত ধুলোয় মিশে যাবে!”
রিদির কথা কান পর্যন্ত পৌঁছালেও সৌহার্দ্য কোনো উত্তর দিল না। বিল মিটিয়ে রিদির হাত ধরে বাইরে বেরিয়ে আসার পর ফারিস প্রস্তাব করল, “চল, রেস্তোরাঁয় গিয়ে ওদের কিছু খাইয়ে নিয়ে আসি।”
ঘড়ির কাঁটার দিকে একবার চোখ বুলিয়ে সৌহার্দ্য সংশয়ে বলল, “ওদিকে আবার দেরি হবে না?”
সুজন একটু ভেবে আশ্বস্ত করল, “আরে না, ওদিক সামলানোর জন্য আকাশ আরবান তো আছেই!”
আর না করল না সৌহার্দ্য। সবাই মিলে রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করল। সবাই এক টেবিলে বসলেও, সৌহার্দ্য রিদিকে নিয়ে একটু আলাদা বসল। এমনিতে এই কোলাহলপূর্ণ ভিড় তার একদমই পছন্দ নয়; মেজাজ কিছুটা চড়ে থাকলেও কেবল নিজের জেদি বউটার মুখের দিকে তাকিয়েই সে সব বিরক্তি হজম করে নিচ্ছে।

সৌহার্দ্য রিদির দিকে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী খাবে বলো?”
রিদির যেন কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না; বরং ভেতরটা কেমন যেন গুলিয়ে আসছে। কিন্তু সে তা সৌহার্দ্যকে বুঝতে দিতে নারাজ—বুঝলেই শুরু হয়ে যাবে বকাঝকা। এমনিতেই সৌহার্দ্য নিজে আসতে চায়নি, তাকেও আসতে দিতে চায়নি। কিন্তু রিদি যে অভিমান করে মুখ ফুলিয়ে বসেছিল, তাই বাধ্য হয়েই তাকে আসতে হলো।
আমতা আমতা করে রিদি ফিসফিস করে বলল, “আমি… কিছু খাব না, বাড়ি গিয়ে খাব!”
রিদির ফ্যাকাশে মুখখানা দেখেই সৌহার্দ্যের বুকটা কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে রিদিকে নিজের আরও কাছে টেনে নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে বলে উঠল, “খারাপ লাগছে, জান?”
রিদি কোনো উত্তর দিল না, কেবল চোখ দুটো বুজে এল। আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না সৌহার্দ্য। ফারিসদের দ্রুত আসতে বলে রিদিকে তৎক্ষণাৎ পাঁজা কোলে তুলে নিল সে। তারপর কাউকে আর কোনো সুযোগ না দিয়ে গটগট পায়ে রেস্তোরাঁ ছেড়ে বেরিয়ে গেল বাড়ির উদ্দেশ্যে।

রাত নামতেই খান বাড়িতে উৎসবের আমেজ। আত্মীয়-স্বজনে বাড়িটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ। বাগানের মৃদু আলোয় চলছে বিশাল এক হলুদ সন্ধ্যার আয়োজন। মেয়েদের মধ্যে এক অদ্ভুত উচ্ছ্বাস—সবাই মিলে ঠিক করেছে, সবাই কলাপাতার রঙের শাড়ি পরবে। ছেলেরা পরবে সাদা পাঞ্জাবি। এটা কেবল সৌহার্দ্যের জেদের জন্য, সে সাদা ছাড়া অন্য কোনো রঙ পরবে না; তাই তার সেই একরোখা স্বভাবের সামনে আর কেউ কথা বাড়ানোর সাহস করেনি।
এদিকে রিদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শাড়ির কুচিগুলো ঠিক করার এক অসম্ভব চেষ্টায় ব্যস্ত। তখন হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে সে চোখ তুলে তাকাল। দেখল, ফোনে কার সাথে যেন কথা বলতে বলতে ঘরে প্রবেশ করছে সৌহার্দ্য। রিদির ওপর তার চোখ পড়তেই সে হঠাৎ কথা থামিয়ে ফোনটা কেটে একপাশে রাখল। এরপর হাতের ঘড়িটা খুলতে খুলতে যখন বাথরুমের দিকে এগোবে, ঠিক তখনই রিদি মায়াভরা চোখে তার দিকে তাকিয়ে ডেকে উঠল—

—”শুনছেন, ডাক্তার সাহেব? আমার শাড়িটা একটু ঠিক করে দেবেন প্লিজ?”
সৌহার্দ্য বিরক্তির একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। রিদির দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঝাঁজালো গলায় বলে উঠল,
—”স্টুপিড! কে বলেছে তোমাকে শাড়ি পরতে?”
তারপর আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে বাথরুমের দিকে এগোতে এগোতে বলতে লাগল,
—”খোলার প্রয়োজন হলে ডাক দিও, ঠিক করতে আমি পারি না! আমার কাজ নষ্ট করা?”
বলেই সজোরে বাথরুমের দরজাটা ঠাস করে বন্ধ করে দিল সে।
রিদি এক মুহূর্ত বোকা বনে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলে উঠল,
—”আস্ত একটা ত্যাড়া লোক!”
রাত তখন প্রায় বারোটা। চারপাশের কোলাহল আর আলোয় হলুদ অনুষ্ঠানটি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। কিন্তু স্টেজে বসে থাকা শাহবীরের চেহারায় বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট—এসব হইচই বা জাঁকজমক তার ধাতে সয় না, কেবল ছোটবোনের মন রক্ষা করতেই তাকে জোর করে এই প্যান্ডেলে বসে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে বাগানের এক কোণে আলো-আঁধারির মাঝে বসে আছে সৌহার্দ্য। কোকের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে তার পলকহীন দৃষ্টি আটকে আছে শুধু রিদির ওপর। একটু দূরেই পৃথা, রিভা আর অন্যদের সাথে কোনো একটা বিষয় নিয়ে হেসে হেসে কথা বলছে রিদি।
সৌহার্দ্যের ঠিক পাশেই মুখ গোমড়া করে বসে আছে সুজন; সেও এই আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে বিরক্ত। কিছুক্ষণ পর পর একজনএকজন উঠে গিয়ে শাহবীরকে একটু করে হলুদ মাখিয়ে আসছে, আর শাহবীরও বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে ফেলছে। বড়রা অবশ্য তরুণদের স্বাধীনতা দিতে আগেই অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন, যাতে ওরা প্রাণ খুলে মজা করতে পারে।
সৌহার্দ্যকে বারবার হলুদ মাখাতে যেতে বলা হলেও সে একচুলও নড়েনি। শেষমেশ রিদি একা গিয়ে ভাইকে হলুদ লাগিয়ে আসছে। মঞ্চে এখন আরবান-পৃথা, আকাশ-তন্বী আর ফারিস-রিভারা জোড়ায় জোড়ায় উঠে শাহবীরকে হলুদ ছোঁয়াচ্ছে।

সেই জুগলের রোমান্স দেখে সুজন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আফসোসের সুরে বলে উঠল, “আজ একটা বউ নেই বলে একদম এতিমের মতো একা বসে আছি রে!”
সৌহার্দ্য বিরক্তিতে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বলল, “এইসব অসহ্য ফালতু কাজ করার চেয়ে বউ না থাকাই ভালো!”
সুজন মুখ কুঁচকে বাঁকা সুরে বলে উঠল, “তোর মতো একটা আস্ত রসকসহীন মানুষ এসব বুঝবি না! কীভাবে যে দুটো বাচ্চা পয়দা কর…”
বাকি কথাটুকু আর মুখ দিয়ে বের হলো না। সৌহার্দ্যের চোখ থেকে ছুড়ে দেওয়া এক তীব্র ধমকে সুজনের গলা আটকে গেল, “জাস্ট শাট আপ, ইডিয়ট!”
কথাটা বলেই আর এক মুহূর্ত দেরি না করে গটগট পায়ে স্টেজের পাশ থেকে সরে বাড়ির ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেল সৌহার্দ্য।

চারপাশে একবার চোখ বুলিয়েও সৌহার্দ্যকে কোথাও দেখতে না পেয়ে রিদি ধীরপায়ে নিজের রুমে এসে ঢুকল। ঘরের ভেতর ঘুটঘুটে অন্ধকার দেখে তার কপাল কুঁচকে গেল। সে কিছু একটা বলতে যাওয়ার আগেই, হুট করে অন্ধকারের বুক থেকে একটা শক্ত হাত তার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের শরীরের সাথে একেবারে মিশিয়ে ফেলল। কানের কাছে সৌহার্দ্যের ভারী ও তপ্ত নিশ্বাস টের পাওয়া গেল, “কে অনুমতি দিয়েছে তোমাকে শাড়ি পরে এভাবে রংঢং করে ঘুরে বেড়ানোর?”
সৌহার্দ্যের গলার স্বরের তীব্রতা আর রাগটা টের পেয়ে রিদি শিউরে উঠল। সে আমতা আমতা করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করল, “এমন করছেন কেন? আমার একটা মাত্র ভাইয়ের… আজকের দিনটার জন্য একটু…”
কিন্তু কথা শেষ করতে দিল না সৌহার্দ্য। রাগে আর অধিকারে রিদির নরম ঘাড়ে তীক্ষ্ণ একটা কামড় বসিয়ে দিল সে। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল রিদি, তবুও মুখ থেকে টু শব্দটা না করে দাঁত চেপে সহ্য করে নিল।

পরমুহূর্তেই সৌহার্দ্যের রাগ যেন নিমেষে বরফের মতো গলে জল হয়ে গেল। রাগের সেই তীব্রতা সরিয়ে তার স্পর্শ নরম হয়ে এল; সে আলতো করে সেই কামড়ের দাগটার ওপর একটা উষ্ণ চুমু এঁকে দিল। এরপর রিদির হলুদ ছোঁয়া লাগা মায়াবী নরম গালে নিজের গালটা আলতো করে ঘষে দিল। সমস্ত উন্মাদনা থামিয়ে, গলায় এক তীব্র মাদকতা আর আকুলতা মিশিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল, “জান… আই ওয়ান্ট ইউ রাইট নাও।”

সৌহার্দ্যের এমন তীব্র আবেগঘন মুহূর্তেও রিদির মাথার ভেতরে যেন অন্য ভূত চাপল! এমন রোমান্টিক আবহে এক বালতি ঠান্ডা জল ঢেলে দিয়ে সে অভিমানী সুরে বলে বসল, “ইশ্‌… ডাক্তার সাহেব আমারও ইচ্ছে করছে এভাবে ধুমধাম করে বিয়ে কর…”

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬১

ব্যস! মুহূর্তের মধ্যে সৌহার্দ্যের সব আবেগ কর্পূরের মতো উড়ে গেল। তার জায়গায় ভর করল চরম রাগ আর একরাশ বিরক্তি। রিদিকে এক ঝটকায় নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে সে বিরক্তিতে তেতে উঠল, “সরো স্টুপিড মহিলা! সারাজীবন শুধু বিয়ে করব নাকি?”

অপরিচিতা অর্ধাঙ্গিনী পর্ব ৬৩