অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪২
Maha Aarat
কনকনে শীতের সবচেয়ে ভয়াবহ রুপ যেনো জানুয়ারিতেই।হাঁড় কাঁপানো শীতে হাত-পা যেনো বরফটুকরো।যেদিন সূর্যের দেখা মিলা মুশকিল হয় সেদিন যেনো মনে হয়,প্রকৃতি শীতল হয়ে আছে এক শীতোষ্ণ আবরণে।
তাঁর নতুন জীবনের প্রথম সকালটা খুব একটা ব্যতিক্রমী ছিলো না।ঘড়িতে ফজরের এলার্ম টোন বাজায় চোখগুলো টান টান করে খুলতে দেখে লোকটা ইতিমধ্যে অযু সেরে আসছেন।আলসেমি করে না সে।এমনিতে আলসেমির সীমা না থাকুক,কিন্তু রবের সাথে সাক্ষাৎ এর সময়টুকুতে যেনো অলসতা এক সহস্র কোটি হাত দূরে থাকুক।
মাহেরের সামনে দিয়ে উঠে সে অযু করতে গেলো।এসে দেখলো,জায়নামাজ বিছিয়ে রাখা।দূর্ভাগ্যবশত রুমে একটাই জায়নামাজ।মাহের একটা পরিষ্কার অথচ পাতলা চাদরে দাঁড়িয়ে তাকে উমে’র জায়নামাজ দিলে আইরা অপ্রস্তুত হয়ে বললো, ‘আমাকে ওটা দিন।আপনি এটা নিন আমার সমস্যা হবে না।’
মাহের প্রত্যুত্তর না করে ইকামত আরম্ভ করলেন।
সারা রাতের জমে থাকা শিশিরের বিন্দুফোঁটায় রুমের থাই ঝাপসা হয়ে আছে।চারদিক আবদ্ধ থাকলেও রুমে যেনো অনুভূত হচ্ছে ঠান্ডা এয়ার কন্ডিশন।অযু শেষে তাড়াতাড়ি এসে মোজা জোড়া পায়ে দিয়েছিলো সে।জায়নামাজ টা গাঢ়ী আর আরামদায়ক হলেও নিচ থেকে যেনো টাইলসের সব ঠান্ডা তাঁর পায়ের নিচ দিয়ে ঢুকে যাচ্ছে।অথচ তিনি খালিপায়ে পাতলা চাদরে দাঁড়িয়ে।উনার কেমন অনুভূত হচ্ছে?নামাজ শেষ হয়েছে কিছুক্ষণ আগেই।নামাজরত অবস্থায়ই বসে সে মনে মনে তাঁর রেগুলার তাসবিহ-তাহলীল গুলো পড়ে নিচ্ছে।মাহের মাথা নিচু করে কি করছেন সেটা তার আন্দাজের বাইরে।ঘুমে ঝুঁকছেন না রবের সাথে নীরব সাক্ষাৎ বুঝতে পারলো না।
মোনাজাত শেষে দূজনে উঠলো।উঠেই আইরা চট করে বিছানায় উঠে গায়ে কমফোর্টার জড়িয়ে নিলো।অথচ তিনি ব্লেজার গায়ে সাথে মাফলার-টাফলার জড়িয়ে কোথায় বেরোচ্ছেন?পেছন ফিরে তাঁর দিকে এক নজর তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন , ‘তোমার খিদে লেগেছে?’
‘লেগেছে।’
‘সত্যি লেগেছে?’
‘খিদে নিয়ে মিথ্যে বলা যায়?’
মাহের জবাব না দিয়ে দরজা হটিয়ে চুপচাপ বাইরে চলে গেলেন।
আইরা বসে বসে ভাবছিলো গতকালকের করা তাঁর পাগলামি নিয়ে।এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিলো না তো যার জন্য গোটাজীবন পস্তাতে হবে তাঁর?এমন একটা গম্ভীর মানুষ নিয়ে সে কীভাবে বাঁচবে।একটু তো অনুভূতি থাকুক।একটু মন খুলে গল্প হোক,গল্পের সাথে এক কাপ চা হোক,শীতের সকালে কুয়াশায় একসাথে হাঁটার মুহুর্ত হোক,মাঝে মাঝে এক পাতে খাবার খাওয়া হোক।তার ছোট্ট ছোট্ট আবদারগুলো একটু প্রায়োরিটি পাক।মন খুলে একটু হাসা হোক।এইতো?আর কি?এগুলো খুব বেশী কিছু?
মাহের ফিরে এলেন কিছুক্ষণ পরই।নিয়ে এলেন বেশ কয়েক রকম ফ্রুটস।খানিক অপারগতা নিয়ে বললেন ,
‘আপাতত একটু খিদে সামলাও।ডেকোরের্টাসরা মাত্র খিচুড়ি বসাবে।’
আপেলে কামড় বসাতে বসাতে আইরা জিজ্ঞেস করলো, ‘আপনার খিদে লাগেনি?’
‘না।’
‘আমাকে ‘তুমি’ করে বলছেন কেন?’
‘আপনি সম্বোধন করার মতো বড় নয় তুমি।’
‘আগে বড় ছিলাম?বিয়ে হয়েছে বলে ছোট হয়ে গেলাম?’
মাহের উত্তর দিলেন না। চুপচাপ বেরিয়ে গেলেন।আইরা নিজেকে সামলালো।কথা বলার কোনো আগহ নেই উনার।এক্ষেত্রে বিরক্ত করার কোনো মানে হয়না।
আরহামের পরিবার থেকে বলা হয়েছে খাবারের বেশি আয়োজন না করতে।পরিবার ছাড়া বাইরের মানুষ খুব একটা বেশি না।তবুও অসময়ের প্রস্তুতি তাদের ,আবার একা মানুষ।সবকিছু মিলিয়ে আব্বু বলেছেন, তাঁরা যেনো আয়োজন নিয়ে হ্যাপিতেশ না করে।তারা আসবেন,মেয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবেন।তারপর চলে যাবেন ব্যসস।
সকাল থেকে কিছুটা ব্যস্ততায় যাচ্ছে আরহামের।এর মধ্যে একটা নাম্বার থেকে এতো কল দেখে চমকালেন তিনি।ভেবে নিলেন গুরুত্বপূর্ণ কিছু।ব্যক করতেই ভেসে আসলো কোনো উল্লাসিত মেয়েলি কন্ঠ, ‘আমি জনতাম আপনি আমার কল ব্যাক করবেনই….
আরহাম ফোন হাতে এনে নাম্বারে চোখ বুলালেনএরই মধ্যে মাইমুনার কল এসে ঢুকলো।দ্রুত আদওয়ার নাম্বার ব্লক লিস্টে ফেলে খুব সতর্কে নিজের রাগটুকু হজম করে নিলেন।এই ননসেন্স মেয়ের জন্য উনার ব্যক্তিগত লাইফে সাফার করতে হচ্ছে।দোষ না করেই স্ত্রীদের কাছে দোষী হয়ে আছেন।এর সবচেয়ে কঠিন শাস্তি কি দেয়া যায় ভাবতে ভাবতে মাইমুনার রুমের দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি।
মাহের আর সবার জন্য গিফট কিনা হয়েছে।আর মাইমুনার রুমেই সেগুলো প্যাক খোলা হচ্ছে দেখে খবর দেওয়ার জন্য তার এ কল।অথচ আরহাম মনে মনে ভাবছিলেন মাইমুনার বোধহয় রাগ কমেছে।আইরা,মাইমুনা হাফসা সহ আইরার কাজিনদের জন্য গিফট আনা হয়েছে।আরহাম এক নজরে সেগুলো দেখেই দূটো কালার সিলেক্ট করে বললেন, ‘এগুলো বাদে সবাইকে দিয়ে দিন।’
‘তোমার জন্য পান্জাবি তুমি কেন আবায়া চোজ করছো?’
‘উ্ উনাদের জন্য আম্মু।’
আব্বু স্ সামনে থাকায় বেশ অপ্রস্তুত হলেন আরহাম।আম্মু মুচকি হেসে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও মাইমুনার দৃষ্টি তখনো আরহামের দিকেই।মুখে তাঁর মিষ্টি লাজুক হাসি।চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নিলেন মাইমুনা।আরহাম তাকে কৌশলে আড়ালে ডেকেএনে বললেন , ‘এই কানে ধরলাম হানি।কখনো এমন ভুল আর হবে না।কথা বলুন প্লিজ।ঢের শাস্তি হয়ে গেছে একদিনে।’
‘হাফসা কথা বলে নিয়েছে?ওর সাথে কনফারেন্সে ছিলেন?’
‘না ফোনে তো ওই.. মুখ ফসকে ভয়ংকর সত্যিটা বলতে গিয়ে আরহাম তৎক্ষনাৎ কথা পাল্টে নিয়ে বললেন, ‘না উনি তো কথা বলেননি।’
মাইমুনা আরহামের অপ্রস্তুত অবস্থা দেখে সন্দিহান কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন , ‘কার ফোন ছিল?’
‘ক্ কেউ না।চিনি না।’
‘সত্যি চিনেন না?’
‘হানি!কি নিয়ে পড়ে আছেন?আমাকে কেন সন্দেহ করেন আপনারা?’
‘আপনি আমাদের ব্যক্তিগত প্রোপার্টি তাই।একটু নজরে রাখতে হয়।বলতে বলতে আরহামের বুকপকেট থেকে ফোনটা আলতো হাতে তুলে নিলো মাইমুনা।ভেতরে ভেতরে আরহামের অবস্থা গুরুতর।আজকে আর রক্ষা নেই।কিন্তু কল না যাওয়ায় মাইমুনা উনার ফোনে নাম্বার তুলে আরহামের কানে লাগিয়ে হ্যালো বলতে ইশারা করলে আরহাম চুপ’ই থাকলেন।ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসলে মাইমুনার চোখে যেনো উল্কা ছুটলো।কল কেটে আরহামের হাতে ফোন ধরিয়ে হঠাৎ করেই কেমন যেনো একেবারে শান্ত নদীর মতো স্থির হয়ে গেলেন।একেবারে শান্তকন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন , ‘লুকোচ্ছিলেন কেন?’
‘ শাস্তি টা বাড়বে তাই।’
‘আপনার প্রতি কখনো বিশ্বাস হারাবে না তো?’
আরহাম অসন্তোষ প্রকাশ করলেন।একটা তুচ্ছ মেয়ের জন্য উনার বিশ্বস্ত স্ত্রীদের বিশ্বাসে ভাটা পড়েছে।এর জবাব তো সবচেয়ে কঠিনভাবে দিবেন তিনি।মাইমুনার কপালে আলতো চুমু এঁকে হাতে হাত জড়িয়ে বললেন , ‘আজকে করেছেন করেছেন।আর কখনো এ প্রশ্নটা করারও সুযোগ দিব না আপনাদের।’
ঘড়িতে সাড়ে দশটা।মাহের মাত্র বাসায় এসে ঢুকেছেন।ডাইনিং এ হাফসার সাথে দেখা হতেই সে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো, আইরার ঘুম ভেঙেছে কি।মাহের ঠোঁট উল্টে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললেন , ‘আমি কি জানি!’
ভাইকে রুমে পাঠালো সে দেখে আসতে।অথচ মাহের রুমে এসে দেখলেন বিছানার এ মোড় থেকে ও মোড় জড়িয়ে শুয়ে আছে সে।এটা নিশ্চয়ই নতুন কিছু নয় তবে মাহেরের জন্য হলেও নতুন।বিছানার বেডশীটে কয়েকবার আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিয়ে তাকে ডাকলেন, ‘এক্সকিউজ মি! ওয়েইক আপ।’
ঘুমের মধ্যে সে বোধহয় বিরক্ত হলো।চোখমুখ কুঁচকে বাকিশ দিয়ে মাথা ঢেকে নিতে নিতে বলল , ‘প্লিজ আম্মু বিরক্ত..
কথা ফুরোবার আগেই ঘুমে তলিয়ে গেলো সে।মাহের হতাশ হয়ে ফিরে ডাইনিং এ নাস্তা নিয়ে বসতে বসতে বললেন , ‘লাভ হয়নি।তুমি খেতে বসো।উনি উঠলে খেয়ে নিবে।’
হাফসা বসলো না।কাকামণি আর মাহেরের খাবার টা রেডি করে সে রুমে ফিরে এলো।দেখতে পেলো হোমস্ক্রিনের উপরের নোটিফিকেশন।আরহামের টেক্সট এসেছে।টেক্সট পড়তে গিয়ে লজ্জ্বায় মিইয়ে যাচ্ছিলো সে।এতো রোমান্টিক কথাবার্তা সে হজম করবে কীভাবে!
“আমার লাল টুকটুকে বউ!আজকে সুন্দর করে সাজুন।আমি এসে কয়েকটা হালাল চুমু খাবো।বাঁধা দিতে চাইলে মারাত্মক কিছু হয়ে যাবে।সো,বি কেয়ারফুল।’
নাস্তা শেষে কাকামণি বেরিয়ে গেছেন নিচে।যেখানে খাবারের আয়োজন চলছে।বিভিন্ন মসলার মিশেলে খাবারের অদ্ভুত সুন্দর এক ঘ্রাণ তৈরী হয়েছে।শীতল বাতাসের সাথে তীব্র সুঘ্রাণ মো মো করে ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে।মাহের সোফায় পা তুলে শুয়ে শুয়ে ফোন চাপছিলেন।আচমকা ফোন আসে অমি’র।মাহের কিছুটা সময় নিয়ে ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো, ‘স্যার আপনার বিয়ের সাক্ষী হিসেবে হলেও তো আমাকে ইনভাইট করতে পারতেন।আপনার বিয়ে নিয়ে টেনশন করতে করতে আমি শুকিয়ে গিয়েছি,চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল আর সুন্দর চুলগুলো পড়ে যাচ্ছিলো কেবল আপনার বিয়ের চিন্তা করতে করতেই।আর আপনি কি না আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করে নিলেন?এই বাজে সত্য টা কী করে মেনে নিবো,স্যার?’
অমির কন্ঠে আহাজারি,সাথে বিষন্নতা।মাহের কি উত্তর দিবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না।এটা স্বীকার করতে বাধ্য তিনি যে,অমি উনার খুব কাছের কেউ।আমাদের হৃদয়ে খুব কম মানুষই স্থান পায়।আর স্থান পায় তারাই যারা আমাদের খুব যত্নের,প্রিয় কিছু মুখ।অমি ঠিক মাহেরের তেমন অলিখিত ঘনিষ্ঠ কেউ।
মাহের উত্তর দিলেন, ‘কি করে তোমাকে বলবো আমি নিজেও তো ভাবতো পারিনি বিয়ে খেতে গিয়ে আমার বিয়ে হয়ে যাবে।এখনই চলে আসো।’
‘স্যার ক্ কি গিফট আনবো স্যার?’
‘তোমার ঘাড় আর মাথা।’
‘ওগুলো তো আনবোই স্যার আর কিছু বলতে বলতে বেহুশে বলা কথা গুলো দ্রুত শোধরে নিয়ে বলে, ‘কোনো ভুল হলে সরি স্যার।ক্ষমা করবেন।এক্ষুণি আসছি আমি।’
রুম ছেড়ে ভাইকে ডাইনিং এ সোফায় শু’তে দেখে একটু চিন্তায় পড়ে গেলো হাফসা।মাথায় হাত রেখে হয়তো ঘুমে তলিয়ে গিয়েছেন তিনি।এদিকে হাতের কাজগুলো সেরে নিচ্ছিলো হাফসা।এমন সময় কারো ফুঁপিয়ে কান্না শুনতে পেয়ে তড়িৎ ঘাড় ফিরায় সে।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আইরা কাঁদছে।হাফসা দ্রুত গেলো তাঁর কাছে।হুলস্থুল শব্দ পেয়ে মাহেরও নড়েচড়ে উঠলেন।
আইরা বেসামাল ভাবে কাঁদছে।আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে বলছে, ‘ভ্ ভাবিপু আপু আ্ আমি আম্মু আব্বুর ক্ কাছে যাব।ব্ বাড়ি যাব।’
কেন জানি আইরার কান্নাগুলো বুকে লাগছিলো হাফসার।এই সময় আইরাকে যেনো সবচেয়ে বেশী অসহায় লাগছিলো।ওর ইনোসেন্ট মুখের দিকে তাকালে বড্ড মায়া হয় হাফসার।এ চেহারায় সরলতা ব্যতীত যেনো অন্য কোনো রহস্য নেই।কেমন করে বাচ্চাদের মতো হেঁচকি দিতে দিতে কাঁদছিলো।আইরাকে এনে সোফায় বসিয়ে চোখমুখ মুছে দিতে দিতে হাফসা ইশারায় বুঝাচ্ছিলো এইতো একটু পরেই আম্মু আব্বু চলে আসবে।এইতো,আর কিছুক্ষণ..
মাহের এতোক্ষণ সোফায় বসে চুপচাপ তাকে দেখছিলেন।উনার চোখে স্পষ্ট উঁকি দিচ্ছে ঘুমের প্রজাপতি।হাফসা উঠে যেতেই তিনি দেরি করলেন না।আলতো হাতে আইরার হাত ধরে রুমে নিয়ে এলেন।কিছুক্ষণ এক দৃষ্টে তাকিয়ে কনিষ্ঠা আঙ্গুল দিয়ে খুব সতর্কে তাঁর চোখের জল মুছে দিয়ে বললেন , ‘আম্মু আব্বু তো একটু পরেই চলে আসবে।তুমি তো যেকোনো সময় তাদের দেখতে পারবে।আর কেঁদো না।’
এভাবে কেউ স্বান্তনা দেয়?আইরা ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলো।স্বান্তনা কি এতটুকু হয়?একটাবারও বলতে পারতেন না যে, ‘আমি তো আছি কান্না কীসের!’
‘আমাকে একটু সময় দাও।শিখিয়ে দাও।তুমি যেমন চাও আমি তেমন হওয়ার চেষ্টা করবো।তবুও এরকম বাচ্চাদের মতো ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদবে না।’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৪১
খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে কথাগুলো বলে মাহের চলে গেলেন।আইরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকলো,তিনি কি তাকে সমবেদনা জানালেন?না তাঁর কান্নার স্টাইলকে অপমান করলেন?’
বুকটা ভারী লাগে আইরার।দিনশেষে এটাই সত্যি ,আজ থেকে বাবার বাড়ির মেহমান সে!যে ঘরটা তাঁর চাঞ্চল্যতায় মুখরিত থাকতো,যে ঘরের প্রতিটা জিনিসে তাঁর বিচরণ,তাঁর অস্তিত্ব লেপ্টে আছে সেই ঘরের অতিথি সে এখন।বুক ফেটে কান্না আসছে তাঁর।যতটুক পারলো সামলাতে চেষ্টা করলো সে।একসময় আর পারা গেলো না।তাঁর অবিরাম কান্নার আওয়াজ পাশের ঘরে গেলেও মাহের আর এদিকে এলেন না।উনার স্মরনে আসছে এক জোড়া মুখ।কি সৌন্দর্যই না লেপ্টে আছে তাদের চেহারায়।অথচ পেছনের গল্পটা যে বড়ই কুৎসিত।
