অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৬
Maha Aarat
২ মাস পর~
মাঘের সমাপ্তি হয়েছে কবেই।প্রকৃতিতে শীতের আবহ দাবিয়ে গেছে আরও একমাস।পরিবর্তন হয়েছে পরিবেশের।গাছপালা নি:সাড় হয়ে আছে পাতাশূন্য হয়ে।বসন্তের আগমনে চারিদিকে হৈ-হুল্লোড়।বন্য প্রাণী তাদের অভ্যস্ত রুটিনে ফিরে আসে,পাখিরা নীড়ে ফিরেছে, গাছেরা নতুন পাতা বের করতে শুরু করেছে।শীতে ঝরে পড়া গাছগুলো বসন্তের আগমনের সঙ্গেই প্রকৃতি নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে পূর্ণ হয়ে ওঠে।গোলাপ,শিউলি,চন্দ্রমল্লিকা জুঁইফুলের মতো ফুলগুলো প্রকৃতিকে আরও নতুন রঙ্গে রাঙ্গায়।
পুরো একটা প্রতীক্ষিত দিবস!প্রিয়তমের এক সাক্ষাতের জন্য মরিয়া হওয়া চোখ বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে মাইমুনার।দীর্ঘ তিনমাস পর শাহ’য়ের সাথে দেখা হবে,উনার সুন্দর কন্ঠস্বর কাছ থেকে শুনবে,তাঁর সুদর্শন পুরুষকে কাছ থেকে দেখবে,এই খুশিতে তাঁর অশ্রুবর্ষণ থামছেই না।অবশেষে অপেক্ষার ঘড়ি ঘুরলো যখন গোধূলিলগ্ন দুয়ারে।মাইমুনা দরজার পাশ থেকে প্রথম দৃষ্টিতেই চমৎকার হাসলেন।আব্বু সাথে ছিলেন,আম্মুর সাথে আলাপ শেষে আরহাম একবার আশেপাশে তাকালেন।অতপর রুমে এসে দরজাটা একটু চাপিয়ে দিতেই এক দৃঢ় আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে নিলেন।মাইমুনার গাল বেয়ে পড়া চোখের পানি আরহামের ঘন দাঁড়ি বেয়ে মেঝেতে পড়লো।মুচকি হেসে তাঁর চোখমুখ মুছে দিতে দিতে বললেন, এখন আর কিসের কান্না হানি?আমি তো চোখের সামনে,এই যে ইচ্ছে হলেই আমাকে ছোঁয়া যায়।’
মাইমুনা আরহামের খুশবু মাখা প্রশস্ত বুকের মধ্যে বিড়ালছানার মতো চুপটি হয়ে থেমে থেমে উত্তর দিলেন, ‘আপনার সাথে প্রথমবারের মতো এতো দীর্ঘ দূরত্ব।কীভাবে যে সময়গুলো কেটেছে..
‘অপেক্ষা তো শেষ,হানি।আমিও অনেক মিস করেছি।আর কখনো এতো দীর্ঘ দূরত্ব হবে না ইন শা আল্লাহ।’
মাইমুনা তাকালো,প্রিয়তমের মায়ামুখ কতদিন দেখা হয় না উনার।আরহাম ও তাকালেন কিছুক্ষণ।এই দুইটা মানুষের অনুপস্থিতি উনার জীবনকে যেনো বিষিয়ে দিচ্ছিল!
মাগরিবের সালাত শেষে নাস্তা তৈরী করছিলো হাফসা।আব্বুর জন্য আদা দেওয়া গরম চা,আর বাকিদের জন্য কফি তৈরী করছিলো।এরই মধ্যে কলিং বেল বেজে উঠলো আর সেও ট্রে হাতে বেরোচ্ছিলো।আরহাম মাত্র টুপি খুলতে খুলতে সোফায় হেলান দিচ্ছিলেন অমনি তাকে দেখে চোখ হারালেন।উমায়ের এর সাথে মিট হয়নি উনার।মাইমুনার রুম থেকে বেরোতেই আযান হয়।তাই এক কাপড়ে সোজা মসজিদের উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন।
ড্রয়িংরুমে আম্মু,আব্বু,মাইমুনা।আরহাম আলাদা করে তাঁর সাক্ষাৎ এর সুযোগ পাননি।হাফসা খুব একটা তাকালো না।অন্যদের হাতে কাপটা এগিয়ে দিলেও আরহামের সামনে কেবল ট্রে টা তুলে ধরলো।আরহাম তীক্ষ্ণ চোখে দেখলেন, উনার বোকা ফুল লজ্জ্বায় শেষ!
শুধুমাত্র কফি’টা শেষ করলেন আরহাম।আম্মু জোর দিয়ে বললেন রুমে গিয়ে বিশ্রাম নাও।এতদূর জার্নি থেকে আসা।আরহামের চোখেমুখেও যেনো ক্লান্তির রেশ।চুপচাপ উপরে চলে যেতেই হাফসা স্বস্তির শ্বাস ফেলে কিচেন থেকে বেরোলো।এতক্ষণে তাঁর মনে হচ্ছিল কোনো বন্দি খাঁচায় ছটফট করা কোনো বিহঙ্গ সে।
প্রায় ঘন্টাখানেক পর রুমে আসলো হাফসা।ইশারের সালাত আদায় করার তাড়া নিয়ে রুমে ডুকতেই দেখলো বেলকনির লাইট জ্বলছে।কি আশ্চর্য সে তো জ্বালায়নি।গুটি গুটি পায়ে এগোতেই আরহাম মুখোমুখি হলেন।দম বন্ধকর শ্বাস মুক্ত হওয়ার পায়তারায় এক কদম সরে আসতেই আরহাম খপ করে হাত ধরে ফেললেন।
‘এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন?’
গোপনে ফুস করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে সে।অতপর হাফসা সালাম দিতেই আরহাম জবাব দিয়ে দীর্ঘ সময় নিয়ে কপালে এক কোমল স্পর্শ আঁকলেন।অতপর হাতের পিঠে গাঢ় চুমু খেয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
‘এতো দেরি করে আসলেন?ইউ সুড হ্যাভ নোওন দ্যাট,আই ওয়াজ ওয়েটিং ফর ইউ।’
‘ম্ মানে আমি..
দূ পকেটে হাত গুজতে গুজতে আরহাম লক্ষ্য করলেন সে চোখ অব্দি তুলে তাকাচ্ছে না।নার্ভাসনেসে হাত কচলাতে কচলাতে দিশাহারা অবস্থা।আরহামও আর দীর্ঘ আলাপে এগোলেন না।ক্লান্তি আর মাথাব্যথায় চোখ বসে যাচ্ছে উনার।
‘স্বাভাবিক হোন,উমায়ের।
আমি রুমে যাচ্ছি।’
আরহাম চলে গেলে ধপ করে সেখানেই বসে পড়লো সে।লোকটার সামনে তাঁর এতো অস্বস্তির কারন সে নিজেও বুঝতে পারছে না।এতোদিন পর সাক্ষাৎ, অথচ ওর নীরব আচরনে তিনি কষ্ট পেলেন না তো?
ডিনারে খেতে বসে এশাকে ধারালো নজরে লক্ষ্য করছিলেন রায়ান।তাঁর ফোলা ফোলা চোখ,শুকনো চেহারা আর লাল হয়ে আসা মুখের দিকে তাকালে নিশ্চিত বুঝা যায়,কিছু একটা হয়েছে।এশা নিত্যকার মতো বাবার পাতে খাবার তুলে রায়ানের প্লেটে দিতে চাইলেই তিনি মানা করে দেন।ব্যসস তাকে থামানোর জন্য দ্বিতীয় কোনো বাক্য প্রয়োজন নেই অথচ খাবার খেতে গিয়ে মনে হলো এক লোকমা গিলতেও সে নারাজ।খুব চেষ্টা করেও কোনো দিশা করতে পারলো না।রায়ানও খাবার থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘খাচ্ছো না কেন?অসুস্থ তুমি?’
এশা না বোধক মাথা নাড়াতেই বাবা গম্ভীর স্বরে বললেন, ‘ও গত দূ তিনদিন থেকেই অসুস্থ।তুমি খোঁজ রাখলে না জানতে।’
নাহ!সবসময়ের মতো এশার চোখেমুখে এখন কোনো রাগের আভাস নেই,চোখ রাঙ্গানি নেই।তাঁর এমন নির্জীবতা রায়ানকে অনুতপ্ত করতে বাধ্য করলো ভীষণ।
বাবা আবারও বললেন, ‘তুমি সারাদিন-সন্ধ্যা বাইরে থাকো।তুমি কীভাবে বাসার খবর জানবে?ওর মেডিসিন এনে দিয়েছে বিনু।’
রায়ান কয়েক সেকেন্ড তাকালেন তার দিকে।উনি কীভাবে বাসার খবর জানবেন আসলেই তো।সারাদিন এতো এতো কল টেক্সট এর কোনো উত্তর তো পৌঁছায় না উনার কাছে।
আরহামের ঘুম ভাঙ্গলো বেশ দেরীতেই।আম্মু তখনো জেগে।ফ্রেশ হয়ে নামাজ পড়ে নিচে নামতেই আম্মু খাবারের তোড়জোড় করলেন।আরহাম ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলেন এগারোটা বেজে একুশ মিনিট।
আম্মু খাবার এগিয়ে দিচ্ছিলেন হূলস্থুল করে।আরহাম উনাকে বসিয়ে নিজেই সার্ভ করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনারা সবাই খেয়েছেন?’
‘খাওয়া হয়েছে তুমি বাদে।’
‘উনারা ঘুমে?’
‘হাফসা তাকাতে পারছিলো না ঘুমে,পাঠিয়ে দিয়েছি রুমে।আর মাইমুনা একটু আগে মেডিসিন নিলো।’
‘আইরা?’
‘দরজা বন্ধ।ঘুমিয়ে গিয়েছে নিশ্চয়ই।’
‘আপনি ঘুমান গিয়ে আম্মু্।আমি খেয়ে নিচ্ছি তো।’
‘একটু থাকি তুমি….
‘উহু যান।আপনি অসুস্থ হবেন নয়তো।’
আরহাম রুমে ফিরে দেখলেন মাইমুনা তখনো জেগে।তাকে ঘুমানোর তাড়া দিয়েও যখন কাজ হলো না আরহাম ব্যর্থ হয়ে বললেন, একটু অপেক্ষা করুন।আমি একটু আসছি।’
আরহাম প্রথমে হাফসার রুমে গেলেন।দরজা ঠেলে ড্রীম লাইটের আলোতে তাঁর মুখটা যেনো এক টুকরো স্বর্গীয় সৌন্দর্য!আরহাম চুপিচুপি গালে হাত রেখে বললেন, ‘শাস্তি টুকু জমা রেখেছি।হিসেব হবে সবকিছুর।’
খানিক পর মাইমুনার কাছে গিয়ে বললেন, আপনার তো একটা উপহার আমার কাছে পাওনা’ অতপর একটা বক্স থেকে দূটো লকেট বের করে বললেন এখানের একটা অরিজিনাল, অন্যটা রেপ্লিকা।আপনি তো জিতে গিয়েছিলেন তাই…
আরহাম বলতে বলতে একটা লকেট তাকে পরিয়ে দিলেন।মাইমুনা খুশিতে এক্সাইটমেন্ট দমিয়ে রেখে বললেন, ‘হাফসা রেপ্লিকা টা তাই না?’
আরহাম তার এহেন প্রশ্ন সম্পূর্ণরুপে এড়িয়ে মুচকি হাসতেই মাইমুনা লজ্জ্বায় জড়োসড়ো হয়ে বললেন, এভাবে তাকাবেন না শাহ,আই এম সাই!’
‘আমি তো এটাই বেশী মিস করছিলাম।ইয়োর সাই ফেইস!’
শীতের সময় বাতাস শীতল থাকলেও, বসন্তে বাতাস থাকে আরও হালকা, কোমল এবং বেশি তাজা।
বিকেলের সেই কোমলপ্রাণ বাতাস গায়ে মেখেই আদওয়ারা ফিরলো।পিছনে পড়ে রইলো একজোড়া নিষ্প্রাণ দৃষ্টি,নির্বাক এক আগন্তুক।তার মলিন দৃষ্টি আদওয়ার হৃদয়ে বাড়ি লেগেও যেনো মুচড়ে পড়ছে।আদওয়া বুঝতে পারছে না তার এ দুনোমনা অনুভূতির নাম কি।অনেকক্ষণ ভেবে সে নিশ্চিত হলো,এটা তার করুণা,আর তার ভালোবাসা তো আরহাম।
যতটুকু মন খারাপ নিয়ে সে বাসায় ফিরলো ততটুকু খুশি হলো যখন শুনলো লোকটা দেশে আসছেন।কিছুক্ষণ রুমের মধ্যে হইচই করতে করতে একসময় শান্ত হয়ে বসে পড়ে।তিনি নিশ্চয়ই উনার স্ত্রী দের সাথে সুন্দর সময় পার করছেন আর সে!মানুষ ভালোবাসার এতো কাঙ্গাল কেন?আর সে নিজেই বা কেন এতো?এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত চোখে গভীর তন্দ্রা নেমে এলো।
আজকের সারাদিন আরহাম বাইরে ছিলেন।এতদিনে জমে থাকা বড় দায়িত্বগুলো একই সাথে সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে উনার।খাবার টেবিলে উনাকে কেন জানি খুব চিন্তিত দেখালো।
হাফসা রুমে আসলো বেশ মন খারাপ নিয়ে।আরহামের অবসর সময়ের বেশীরভাগ সময় তিনি আপুর সাথে কাটান এটা ভাবলে তার খুব কষ্ট হয়।না চাইতেও গোল গোল আঁখিদ্বয় অশ্রুতে টইটম্বুর হয়ে আসতেই হাতের পিঠ দিয়ে সেটা মুছে নিলো।নিজেকে বারবার বুঝাতে ব্যর্থ সে,আরহাম দূজনকে সমান ভালোবাসেন।
রুমে আসার মিনিট বিশেক পরেই আরহাম আসলেন।ওয়াশরুম থেকে অযু করে এসে তিলাওয়াত সারতে সারতে হাফসা ততক্ষণে চুপেচাপে শুয়ে পড়েছে।আরহাম এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ঘুমিয়ে পড়েছেন?’
হাফসা কমফোর্টার এর ভেতর থেকেই জবাব দিলো, ‘উহু।’
‘উঠে বসুন উমায়ের।একটু কথা বলি।’
হাফসা উঠলো।আরহাম কথা শুরু করলেন।মিশরে কীভাবে সময় কেটেছে,ফিরে আসার আগে কিছু টুরিস্টস্পোট ঘোরার অনুভূতি,নিত্যকার রুটিন,স্টাডি রিলেটেড গল্প করতে করতে মাহেরর কাছে এসে আলোচনা থামলো।
‘মাহের আসলো না?’
‘ভ্ ভাইয়া তো আসেন।’
‘আইরা কবে এসেছে?’
‘হ্ হবে অনেকদিন।’
‘ওর মন খারাপ কেনো?’
কথায় কথায় আলোচনা গিয়ে এখানেই থামবে হাফসা বুঝতে পারলো।মাহের আর আইরার সম্পর্কের দূরত্ব নিয়ে আরহাম কিছু জানেন না।কীভাবে শুরু করবে ভাবতেই অস্বস্তি হচ্ছে ওর।কিছুক্ষণ আমতা আমতা করে বলতে শুরু করলো, ‘ভাইয়া আর আপুর তো…..
‘কি?’
‘ম্ মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে আড়াই মাস যাবত।ভাইয়া..
হাফসা কথা শেষ করতে পারলো না এরই মধ্যে আরহামকে চিন্তিত দেখালো।হাফসা ঢোক গিলে আবারও কথা শুরু করার আগেই আরহাম হাত বাড়িয়ে তাকে কাছে টেনে ভরাট কন্ঠে বললেন, ‘পরে বলবেন।এখন আমি আমার প্রাপ্তিটা বুঝে নিতে চাই।নো মোওর ওয়ার্ডস নাও।’
আরহাম তাঁর কপালে আলতো চুমু খেয়ে গাল অব্দি নামলেন।লজ্জ্বাবতীর মতো নেতিয়ে যাওয়া হাফসা মৃদু চিৎকার করে উঠলো জোরে আঘাত পেতে।চুমু নয়,ইচ্ছে করেই তাকে আঘাত দিয়ে আরহাম তখনো চুপচাপ,কোনো ভাবাবেগ নেই উনার।
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সে প্রশ্ন করলো, ‘ই্ ইচ্ছে করে?’
আরহামও থমথমে আওয়াজে উত্তর দিলেন ‘ইচ্ছে করেই।’
হাফসার টলমলে চোখ আরহামকে ব্যথিত করতে পারলো না।তাঁর তুলতুলে গালে দাঁতের দাগ স্পষ্ট ভাসছে।আরহাম পুনরায় হাফসার কাছে এগিয়ে যেতেই সরে গেলো সে।আরহাম তাকে নিজের বাহুতে জড়িয়ে নিয়ে ধীর অথচ তেজী কন্ঠে বললেন, ‘আজকে একটু তিতা ভালোবাসা দিই।সহ্য করুন নয়তো আমার রাগ বাড়বে।’
হাফসা টু শব্দটি অব্দি করলো না আর।তাকে কাঁদতে দেখলে অস্থির হয়ে যাওয়া মানুষটা আজ ইচ্ছে করে খুব কাঁদতে দিলেন।সেই আঘাতের গা আরও তাজা হয়ে উঠলো যখন খুব ভোরবেলা মাইমুনা তাকে ডেকে নিয়ে হীরের লকেট টা দেখালেন।শাহ উপহার দিয়েছেন বলে কতো খুশি তিনি।হাফসা কেবল চুপ করে থাকলো।তাঁর অবাধ্য মনটা অবাধ্য কিছু ভেবে চলছে,যেগুলোর কোনো জোরালো উত্তর নেই।হীরে-জহরতের ওপর তাঁর কোনো লোভ নেই,লোভ শুধু একটু আধটু ভালোবাসার।
‘এতোকিছু হয়ে গেলো আমাকে একটাবার জানালে না?’
হসপিটাল থেকে মিনিট বিশেক দূরে এই ক্যাফেটি।বেলা বারোটায় আরহামের সাথে দেখা করার কথা মাহেরের।তাদের সাক্ষাৎ হয়েছে মিনিট ত্রিশেক আগেই।মাহেরের কথা সম্পূর্ণ হলে আরহাম অনেকক্ষণ চুপ ছিলেন।অবশেষে উপরোক্ত প্রশ্ন করতেই মাহের জবাব দিলেন, ‘তুমি এক্সট্রা প্রেশার নিবে,চাইনি সেটা।’
‘আমার এতোটুক একটা বোনকে সামলাতে পারলে না?’
‘তোমার বোন আমার বোনের মতো বোঝদার হলে তো হতেই।না হওয়ায় ও সমস্যা নেই কিন্তু…
আরহাম মাহেরের কথা সম্পূর্ণ করতে না দিয়েই জিজ্ঞেস করলেন ‘তোমার বোন বোঝদার,তবে আমাকে বুঝেন না।তোমার বোনের কি কোনো পছন্দ ছিলো মাহের?’
‘অবশ্যই না।কোনো সমস্যা?’
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৫
আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলে উত্তর দিলেন, ‘নাহ।যোহরের আযান পড়বে।আজকে উঠি।আমি ভেবে দেখবো।’
‘ভাবো আর যা-ই করো,তোমার বোনকে প্যাকেট করে পাঠিয়ে দিও প্লিজ।’
আরহাম মুচকি হাসলেন।প্রতিশ্রুতি দিলেন এসব বিষয় আম্মু বা আহনাফ তাজওয়ার কিছু জানবেন না।
উঠে আসার আগে মাহের আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন, ‘কোনোভাবেই যেনো জানেন না।শ্বশুরসাহেব বিয়ের দিন এমনিই যে হুমকি আমাকে দিয়েছেন, এটার বরখেলাপ হয়েছে জানলে আমি শেষ!’
