Home অবাধ্য হৃদয় অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪ (২)

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪ (২)

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪ (২)
নুরিয়া ইসলাম

তখন চারদিকে নিচ্ছিদ্র অন্ধকার। পৃথিবীটা যেন একটা গভীর খাদের ভেতর চুপচাপ ডুবে আছে এতটাই নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে চারিপাশে । শুধু বাতাসটা কেমন যেন ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে বয়ে যাচ্ছিল। এই নিস্তব্ধতা হঠাৎ ভেঙে গেল একটা শব্দে। একটা দুর্বল, যন্ত্রণাকাতর গোঙানির শব্দ।
​এরিক সারারাত জেগে ইনায়ার কপালে জলপট্টি দিয়ে, সবেমাত্র ঘুমটা ধরেছিল।কিন্তু ইনায়ার গোঙানির শব্দেই তার ঘুম ভেঙে গেল।সে দেখল, ইনায়া বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাঁপছে। তার সমস্ত শরীর জ্বরের তীব্র তাপে পুড়ছে। এরিক তার পাশে বসল, তার চোখে গভীর ব্যাকুলতা ফুটে উঠলো।
​এরিক নিজের উষ্ণ হাত দিয়ে ইনায়ার হাতটা চেপে ধরল। ইনায়ার ত্বকের উওপ্ত তাপমাএা এরিকের হাতেও ছড়িয়ে পড়ল।
​ইনায়া দুর্বল কন্ঠে বলল,

— “এরিক, আপনি আমার কাছ থেকে দূরে থাকুন। এই তাপমাএা আপনাকে গ্রাস করবে।”
​এরিক ইনায়ার কথায় মৃদু হাসল । এই জ্বরের ঘোরেও তার মুনলাইট তার জন্য চিন্তা করছে এর চেয়ে বেশি পাওয়া এরিকের জন্য কি হতে পারে। সে ইনায়ার কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়ালো।সে এইবার কোনরকম বিলম্ব না করে বিছানায় ইনায়ার শরীরের উপরে ভর দিয়ে উঠে পড়লো।এরিক ইনায়ার দিকে ঝুঁকে নেশালো কন্ঠে বললো,
— Does this position suit my ownership of you?”
ইনায়ার শরীর এরিকের তীব্রভাবে কেঁপে উঠলো । এরিক ইনায়ার সন্নিকটে গিয়ে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

​—”তোমার শরীরের তাপমাএা আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করুক, মুনলাইট। আমি তো চাই আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার এই উন্মাদ উত্তাপ মিশে যাক। তোমার থেকে দূরে যাওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
কথাগুলো বলে সে ধীরে ধীরে ইনায়ার কপাল থেকে চুলগুলো সরিয়ে দিল। তার চোখ নামল ইনায়ার গলার দিকে যেখানে মৃদু ঘাম জমেছে আর ত্বক জ্বরের তাপে লাল হয়ে আছে।এরিকের চোখে মুহুর্তের মধ্যে নেশা ধরে গেল।তাইতো সে নিজেকে কোনরকম কন্ট্রোল করতে না পেরে তার মুখটা ইনায়ার গলায় কাছে গিয়ে রাখল। সে এক দীর্ঘ উষ্ণ চুম্বন এঁকে দিল তার সেই স্পর্শকাতর স্থানে।
​ইনায়ার শরীর বিদ্যুতের মতো কেঁপে উঠল। এই স্পর্শে তার দুর্বলতা কাটছে না, বরং অন্য এক উত্তেজনা তাকে গ্রাস করছে। সে এরিকের চুলে আঙুল চালিয়ে আরও কাছে টেনে নিল।

​—”ওহ্… এরিক
ইনায়ার মুখ থেকে এক চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে এলো,পরমুহর্তে নিজেকে ছাড়িয়ে বললো,
—এরিক এই অবৈধ সম্পর্কে আমি জড়াতে চাই না আপনি চলে যান।
এরিক ইনায়ার গলায় ঠোঁট ছুঁড়িয়ে বলে উঠলো,
— বাঁধা দিও না জান।একটু বোঝার চেষ্টা কর,এই মুহুর্তে তোমার আমাকে প্রয়োজন! আমাকে একটু ভরসা করো। আমি কোন পর পুরুষ নই মুনলাইট নিজেকে আমার ভালোবাসার কাছে সঁপে দাও, সব দ্বিধা ভুলে যাও।
এরিকের কথা শুনে ইনায়ার চোখ মুহূর্তের জন্য বুজে এল, সে এক গভীর শ্বাস নিতে চাইছে। তার ভেতরে যে দ্বিধা এবং আকাঙ্ক্ষার তুমুল লড়াই চলছে, তা তার মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠলো। তার ঠোঁট জোড়া সামান্য কেঁপে উঠলো এই কাঁপা কাঁপা ঠোঁটকে সামান্য প্রসারিত করে সে বলে উঠলো,

—কিন্তু….
তাঁর ঠোঁট দুটো চেপে ধরলো এরিক। তীব্র অধিকারবোধে সে ইনায়ার ঠোঁটে আক্রমণাত্মকভাবে উষ্ণ চুম্বন এঁকে দিল। এক মুহূর্তের জন্যও ইনায়াকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে, সে তার সমস্ত ভালোবাসা, উন্মাদনা এবং আকাঙ্ক্ষা ওই চুম্বনের মধ্যে দিয়ে ঢেলে দিতে চাইল। তার একটি হাত ইনায়ার মাথার পেছনের চুলে শক্তভাবে চেপে ধরলো, যাতে সে সরে যেতে না পারে, এবং অন্য হাতটি ইনায়ার কোমরের চারপাশে জড়িয়ে তাকে নিজের শরীরের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে চেপে ধরলো। ইনায়ার শরীর তখন তীব্র উত্তেজনায় ধনুকের মতো বেঁকে উঠলো।
​চুম্বন থেকে সামান্য সরে এসে, এরিক তার ঠোঁট ইনায়ার কানের কাছে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

—”আর কোন কিন্তু নয়,মুনলাইট!তুমি কেন বুঝতে পারছো না, তোমার শরীরের এই অসহ্য তাপ, আমার ভেতরে এক বন্য কামনা জাগাচ্ছে। আমি এই মুহূর্তে তোমার প্রতিটি অংশ গভীরভাবে অনুভব করতে চাই।”
​সে ঠোঁট ছেড়ে এবার তার নজর ইনায়ার বক্ষ ভাঁজের উপর স্থির হলো। ইনায়ার বক্ষভাঁজ জ্বরের তাপে কেঁপে কেঁপে উঠছে, যেন কোনো নিষিদ্ধ মাদক। এরিক আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। সে নিজের ঠোঁট দুটোকে ইনায়ার বক্ষভাঁজে গভীরভাবে স্থাপন করল। এক তীব্র, দীর্ঘ, ভালোবাসার ঝড় তাদের দুজনকে গ্রাস করল মুহুর্তেই।
ইনায়ার হাত দুটো মুহূর্তের মধ্যে এরিকের শার্ট খামচে ধরল। তার শরীরের সমস্ত শক্তি যেন এই চুম্বনের মাধ্যমে এরিকের দেহে চলে যাচ্ছে। সেও নিজের ভিতরের বয়ে চলা উওেজনার কাছে হার মেনে ধরা দিল স্বামী নামক তার কাঙ্খিত পুরুষটির কাছে। পাগলের মতো সে এরিকের ঠোঁটে -চুম্বন করল।
এরিক ইনায়ার উন্মাদনা লক্ষ্য করে ইনায়াকে জ্বালানোর জন্য বলে উঠলো,

—এভাবে কামড়ে ধরো না জান!এভাবে আদর করলে তো আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারব না।তখন তুমি নিজেই হিমসিম খেয়ে যাবে আমাকে সামলাতে।
এরিকের কণ্ঠস্বর ইনায়ার তন্দ্রাচ্ছন্ন কানে পৌঁছানো মাত্র, জ্বরের ঘোরে থাকা ইনায়ার লজ্জারা উষ্ণ স্রোতে ভেসে গেল। সে অস্থিরভাবে এরিককে ঠেলে দূরে সরানোর চেষ্টা করল, তার স্পর্শের তীব্রতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে চাইল। এরিকের মনে ক্ষণিকের জন্য বিরক্তি এল এমন মুহূর্তে কোনো পুরুষের পক্ষেই নিজেকে সংযত রাখা যে দুরূহ!

​কিন্তু সেই বিরক্তি নিমেষেই এক গভীর, অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষায় রূপান্তরিত হলো। এরিক আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। এক মৃদু কিন্তু দৃঢ় টানে ইনায়ার গলায় জড়ানো ওড়নাটি টেনে নিয়ে সে পরম যত্নে তার দুই হাত খাটের শিয়রের সঙ্গে বাঁধল। এই বাঁধন ইনায়ার সমস্ত প্রতিরোধকে এক লহমায় কেড়ে নিল। এই মুহূর্তে, ইনায়া সম্পূর্ণভাবে তার ভালোবাসার মানুষের কাছে সমর্পিত, এরিকের একান্ত নিয়ন্ত্রণে যেখানে প্রতিটা স্পর্শ আর প্রতিটি নিঃশ্বাস কেবল তাদের দুজনের গভীর, উত্তাল আবেগের সাক্ষী।এরিক এইবার ইনায়ার কানের কাছে তার মুখ নিয়ে ধীর স্বরে ফিসফিস করে বললো,

— সি বেবি!তোমার শরীরের তাপমাত্রাও আমার ছোঁয়ায় কমতে শুরু করেছে। তুমি শুধু শক্ত করে জরিয়ে ধরো আমাকে।
এরিকের কথা শুনে, ইনায়ার জ্বরতপ্ত শরীরে লজ্জার লালিমা ঢেউ খেলিয়ে গেল।সদ্য ফোটা গোলাপের পাপড়ির মতো স্নিগ্ধ সেই আভা। জ্বরের ঘোর আরও তীব্র হলো সেই অনুভূতির মিশ্রণে, আর সে আর এক মুহূর্তও দ্বিধা না করে এরিককে অসহায় শিশুর মতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল,
—আপনার এই উন্মাদ স্পর্শে আমি ডুবে যেতে চাই এরিক। আমি আপনার ভালোবাসার গভীরে মিশে গিয়ে এই জ্বরের হাত থেকে মুক্তি চাই।”

​ইনায়ার আত্মসমর্পণের কথাগুলো এরিকের কানে তখন বিজয়ের উন্মত্ত সুর হয়ে বাজছিল । সে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করল না। তার দৃষ্টি ইনায়ার চোখে স্থির, সেখানে সে এই মুহূর্তের প্রতিটি দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা পাঠ করছে।
​এরিক ইনায়াকে আরও নিবিড়ভাবে বুকে চেপে ধরল। জ্বরের তীব্রতা আর কামনার প্রখরতা তাদের দুজনের মাঝে একাকার হয়ে গেল। এই উষ্ণতা এক আগুনের স্রোত, যা দুজনকে ভাসিয়ে নিয়ে চলল অতলান্ত প্রেমের সাগরে।
​এরিক তার ঠোঁটকে ইনায়ার ঠোঁট থেকে সরিয়ে না নিয়ে আরও গভীর করল সেই বন্ধনকে। এই চুম্বন ছিল শুধু ঠোঁটের মিলন নয়, ছিল দুটি হৃদয়ের স্বর্গীয় বন্ধন। ইনায়া অনুভব করল, তার সমস্ত অস্তিত্ব পূর্ণিমার চাঁদের আলোর মতো এরিকের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে, সম্পূর্ণভাবে তার আকাঙ্ক্ষিত পুরুষটির কাছে সমর্পিত হচ্ছে।
​এরিক এক হাতে আলতো করে ইনায়ার শাড়ির বাঁধন শিথিল করল। তার হাত শাড়ির ভাঁজে হেমন্তের ভোরের কুয়াশার মতো সঞ্চালিত হলো। পোশাকের অন্তরাল সরে যেতেই, ইনায়ার জ্বরে রক্তিম ত্বক বসন্তের প্রথম ফুলের মতো উদ্ভাসিত হলো।

এরিকের চোখ ইনায়ার উন্মুক্ত শরীরের দিকে স্থির,
সে মুহুর্তে বদ্ধপরিকর ইনায়ার শরীরে তার দেওয়া ভালোবাসার চিহ্নগুলো ফুটিয়ে তুলতে। সে আর নিজেকে সামলাতে পারলো না।তার নিশ্বাস দ্রুত বইছিল। সে ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
— “আজ আমার সমস্ত সত্তা দিয়ে তোমাকে অনুভব করতে চাই, মুনলাইট।আমি তোমাকে আজ সারা রাত আমার ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধতে চাই।সে অনুমতি কি আমায় দিবে।

দেখতে দেখতে আরো দুটো দিন প্রবাহিত হলো। এই দুটো দিন ইনায়ার কাছে যেন দুটো যুগের মতো মনে হয়েছে। মনের ভেতর একটা অজানা ভয় আর চাপা উত্তেজনা তাকে সারাক্ষণ অস্থির করে রেখেছে। সে ঠিক করতে পারছিল না, কী করবে বা কীভাবে এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে।
​ ইনায়া তখন ঘরের ভেতর পায়চারি করছিল। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছিল, যদিও ঘরের ভেতর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবুও তার হৃৎপিণ্ড দ্রুত লয়ে চলছিল, আর চোখ দুটো বারবার টেবিলে রাখা প্রেগন্যান্সি কিটটির দিকে যাচ্ছিল। কতক্ষণ এই অস্থিরতা নিয়ে কাটল, তা সে নিজেও জানে না। একবার ভাবে, ওটা ছুঁয়ে দেখবে না আরেকবার ভাবে, না দেখলেও তো বাস্তবটা বদলে যাবে না।

​দীর্ঘ ভাবনার পর, শেষে একসময় সে স্থির হলো। হাত কাঁপছিল, তবুও সাহস করে কিটটি তুলে নিল। কয়েক সেকেন্ড সে শ্বাস বন্ধ করে ফলাফলটির দিকে তাকাল। ফলাফল দেখে তার হৃৎপিণ্ড থমকে গেল—পজেটিভ!
দুটো গাঢ় গোলাপি রেখা তার চোখে স্থির হয়ে রইল। সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। এক তীব্র আতঙ্ক গ্রাস করল তাকে। এ কী হলো তার সাথে?
নিজের অজান্তেই তার একটি হাত পেটের উপর চলে গেল। ফিসফিস করে নিজেকেই জিজ্ঞেস করল,

—একজন খ্রিস্টান ছেলের সন্তান আমার গর্ভে! কে দিবে এই সন্তানকে স্বকৃীতি?আমাদের এই নিষিদ্ধ ভালোবাসার ফসল কি কেবলই সামাজিক পাপ হয়ে থাকবে? ধর্মের কাঁটাতারে বিদ্ধ হয়ে এই অসহায় সন্তান কি অবৈধ পরিচয় নিয়ে বড় হবে? সমাজ কি এই মিলনকে কখনও মেনে নেবে?
সে একজন মুসলিম ঘরের মেয়ে, আর এরিক অন্য ধর্মের। এই সমাজে এই সম্পর্ক, এই সন্তান সবকিছুই অস্বাভাবিক এবং নিষিদ্ধ। ভালোবাসার পরিণতি এমন ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনবে, তা সে ভাবেনি। তার সমস্ত শরীর ভয়ে শিহরিত হলো।
ঠিক সেই মুহূর্তে তার ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল মারিয়া। ইনায়ার হাতে প্রেগনেন্সি কিটটি দেখেই মারিয়ার চোখ কৌতূহলে বড় হয়ে গেল। ইনায়ার মুখ দেখেই কিছু একটা আন্দাজ করে সে দ্রুত এগিয়ে এলো। মারিয়া কিটটি একপ্রকার কেড়ে নিয়ে দেখল। ফলাফল দেখে তার মুখে বিস্ময় ফুটে উঠলো। সে কিছুক্ষণ নীরবে কিটটির দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর অবাক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

​— “ইনায়া, তুই… তুই কি মা হতে চলেছিস?”
​প্রশ্নটা ইনায়ার কানে প্রবেশ করতেই তার সর্বাঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে উঠলো। তার ভয়ের মাএা আরো বেড়ে গেল।
এতক্ষণ ইনায়ার দরজার আড়ালে দাঁড়িয়েছিলেন রুখসানা বেগম। মারিয়ার এবং ইনায়ার সমস্ত কথা সে শুনছিল। তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না।সঙ্গে সঙ্গে তিনি দরজার বাইরে থেকেই এক তীক্ষ্ণ চিৎকার দিয়ে উঠলেন।কারো চিৎকার শুনে পিছনে তাকাতেই ইনায়া আর মারিয়া দেখতে পেল রুখসানা বেগমকে, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে। তিনি দ্রুত ঘরে ঢুকে এসে চিৎকার করে বললেন,

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৪

—“ছিঃ! ছিঃ! ছিঃ! তুই কিনা একটা খ্রিষ্টান ছেলের পাপের ফসল পেটে ধরেছিস, মুখপুড়ি! এই টাউনে আমাদের আর কোনো ইজ্জত রাখলি না তুই! তোর মতো কলঙ্কিনী মেয়েকে এই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া উচিত। লজ্জা করলো না, একটা বিধর্মী ছেলের সঙ্গে শুয়ে এমন কাজ করতে!”
সে এইবার ক্ষিপ্ত হয়ে ইনায়ার চুলের মুঠি ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
​—তুই কেবল একটা নিষিদ্ধ প্রেমের বীজ পেটে ধরিসনি মুখপুড়ি, তুই আমাদের বংশের মুখে কালি মেখে দিয়েছিস! এই সন্তান অবৈধ! এই সন্তান অবাঞ্ছিত!

অবাধ্য হৃদয় পর্ব ৩৫