Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৩

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৩

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৩
রুপা

আর্য ওয়াশরুমের বন্ধ দরজার দিকে বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে। ভেতর থেকে গুমরে গুমরে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। আওয়াজটা বেশি জোরে না, খুবই ক্ষীণ—মেয়েটা হয়তো প্রাণপণ চেষ্টা করছে আওয়াজ যেন বাইরে বের না হয়। আর্যর বুকে যেন কেউ খামচে ধরল! মনে হলো হৃৎপিণ্ডে কেউ ধারালো নখ বিঁধিয়ে দিচ্ছে। এরকমটা কেন হচ্ছে? আর্য আর ভাবতে পারল না। সে দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
অনেকক্ষণ কান্না করার পর পুষ্প ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে। অতিরিক্ত কান্নার ফলে চোখ-মুখ ফুলে লাল হয়ে গেছে; যেন একটু টোকা দিলে চামড়া ভেদ করে রক্ত গড়িয়ে পড়বে! পুষ্পর হাত দুটোও অনেকখানি পুড়ে গেছে। পুষ্প রুমে এসে ওই পোড়া হাতে অনেক কষ্টে জামাকাপড়গুলো নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখে, কিন্তু চেইন লাগাতে পারে না। নিজের হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল সে। এতক্ষণ মনের কষ্টে বাহ্যিক দেহের ক্ষতের কষ্ট অনুভূত না হলেও, এখন বেশ জ্বলছে; যা সহ্যের সীমা অতিক্রম করছে। তবুও পুষ্প নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করে।

এখন যদি এসব কিছু ফুফুমিণি জানতে পারেন, তাহলে বাড়িতে আবারও অশান্তি শুরু হবে। মা-ছেলের মধ্যে তুলকালাম ঝগড়া শুরু হবে, যা পুষ্প চায় না। এমনিতেই সে আসার পর থেকে পরিবারে কম অশান্তি হচ্ছে না! পুষ্প নিজের হাতের অসহ্য যন্ত্রণা মুখ বুজে সহ্য করতে থাকে। সে বারান্দায় গিয়ে খরগোশ দুটোকে তুলতুল আর তুলিকে নিয়ে দেওয়াল ঘেঁষে মেঝেতে বসে পড়ে। সে একমনে তাকিয়ে থাকে নীল আকাশের দিকে। পুষ্প হঠাৎ আপন মনে বিড়বিড় করে জিজ্ঞেস করল—
– “এত বড় পৃথিবীতে কোথাও কি আমার একটুও ঠাঁই মিলবে না?”
রমণীর প্রশ্নের কোনো উত্তর আসে না। আসবেই বা কী করে, উত্তর দেওয়ার মতো কেউ তো নেই! পুষ্পর চোখ দিয়ে আপন ধারায় বেয়ে পড়ছে চোখের পানি। আজকে পুষ্পর মা-বাবার কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। পুষ্পর যখন পাঁচ বছর বয়স, তখন সে ছিল মা-বাবার একমাত্র রাজকন্যা। আদরের ভাগ হয়ে যাওয়ার ভয়ে দ্বিতীয় কোনো সন্তান নেননি পুষ্পর মা-বাবা। কিন্তু একদিন পুষ্পকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে ফিরে আসার পথে বড় ট্রাকের সাথে এক্সিডেন্ট হয়। সেখানেই স্পট ডেথ হয় পুষ্পর মা-বাবার।

তারপর থেকেই শুরু হয় পুষ্পর কষ্টের দিন। নানার বাড়ির আত্মীয় বলতে কেউ ছিল না, তাই পুষ্পর ঠাঁই হয় চাচার বাড়িতে। চাচা-চাচি মানুষের কথার ভয়ে দায়িত্ব নিলেও, ভেতরে ভেতরে পুষ্পর তিন বেলা ভাতের জায়গায় ভাত জুটেছে এক বেলা—তা-ও চাচাতো বোনের এঁটো ভাত! জামা পেয়েছে চাচাতো বোনের ছোট হয়ে যাওয়া পুরনো জামা। আট বছর বয়সেই তাকে হতে হয়েছে ঘরের রাঁধুনি। প্রথমে পাকা হাত না হলেও, হাত পুড়ে, খুন্তির ছ্যাঁকা খেয়ে এক বছরের মধ্যে সে পাকা রাঁধুনি হয়ে যায়। অনেক কষ্টে এসএসসি দিয়েছে; বাড়ির সবার কাজ শেষ করে পড়াশোনা করার সময় পেত না। তবুও মেধা ভালো হওয়ায় খুব ভালো রেজাল্ট করে, যা ভালো টিউটরের কাছে প্রাইভেট পড়েও করতে পারেনি তার চাচাতো বোন!

এই চাচাতো বোনের চেয়ে ভালো রেজাল্ট করায় চাচির সহ্য হয়নি, তাই পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। ভাগ্যক্রমে শেহনাজ সরকার আর্যর সাথে পুষ্পর বিয়ে দিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসেন পুষ্পকে, যার ফলে আবারও পড়াশোনা করার সুযোগ হয় তার। কিন্তু এখন পুষ্পর মনে হচ্ছে তার আগের জীবনই ভালো ছিল; সেখানে থাকলে অন্তত আজকে তার মায়ের শেষ স্মৃতিটা আগলে রাখতে পারত। সে আসার পর থেকে মা-ছেলের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে শুধুমাত্র তার জন্য। সে পারলে সব ঠিক করে দিয়ে চলে যেত এখান থেকে। রোজ রোজ অপমান, অবহেলা—তারও তো কষ্ট হয়! কিন্তু অভাগীদের কষ্ট পেলেও সেটাকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে হয়। তাদের দুঃখ প্রকাশ করার কোনো জায়গা নেই; মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছে, সেটাই তো অনেক!
অতীত-বর্তমান সব কষ্টের পাওয়া না-পাওয়ার হিসেব কষতে কষতে, হাতের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে একসময় চোখ লেগে আসে পুষ্পর। বারান্দার মেঝেতেই ঘুমিয়ে পড়ে সে।

শেহনাজ সরকার বাড়িতে ফেরার পর থেকে একবারও পুষ্পকে দেখতে না পেয়ে ভাবলেন হয়তো ঘুমিয়েছে। কিন্তু মাগরিবের আজানের পরও পুষ্পকে না দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে জেনিফার সরকারকে জিজ্ঞেস করলেন—
– “পুষ্প কোথায়?”
জেনিফার সরকারও বললেন দুপুরে খাওয়ার পরে রুমে গিয়েছিল, তারপর থেকে আর দেখেননি। কথাটা শুনে শেহনাজ সরকার আরও চিন্তিত হলেন। মেয়েটার আবার শরীর খারাপ করল না তো? তিনি হাতের কাজ রেখে হন্তদন্ত হয়ে ওপরে আর্যর রুমের দিকে চলে গেলেন।

শেহনাজ সরকার আর্যর রুমে ঢুকতেই নাকে এল কিছু একটা পোড়ার গন্ধ। তবে তিনি সেইসবে মন না দিয়ে রুমে চোখ ঘুরিয়ে চারপাশে দেখলেন পুষ্প কোথায়। কোথাও না দেখতে পেয়ে কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ল তাঁর। তবুও ভাবলেন হয়তো সিমরানের রুমে গেছে। বেরিয়ে যেতে গিয়েও তিনি ফিরে একবার বারান্দার দিকে তাকালেন। দেখলেন দরজাটা খোলা। কিছু একটা মনে করে বারান্দার দিকে এগিয়ে গেলেন। দরজার কাছে দাঁড়াতেই চোখ আটকে গেল বারান্দার এককোণে মেঝেতে, দেওয়ালে হেলান দিয়ে শুয়ে থাকা পুষ্পর দিকে। নিস্তেজ পড়ে আছে ফুলের মতো দেহটা!
তিনি এগিয়ে গিয়ে পুষ্পকে ডাকলেন—
– “পুষ্প! পুষ্প মা, কী হয়েছে? এভাবে মেঝেতে ঘুমাচ্ছিস কেন?”
শেহনাজ সরকারের ডাকেও কোনো সাড়া নেই পুষ্পর। তিনি এবার পুষ্পর গায়ে হাত দিয়ে ওঠাতে গিয়ে চমকে উঠলেন! পুষ্পর শরীর অতিরিক্ত গরম, জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। শেহনাজ সরকার এবার নিজে মেঝেতে বসে পুষ্পর নরম শরীরটা নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নিলেন। গালে আলতো চাপড় মারতে মারতে ডাকলেন—
– “পুষ্প মা, এই পুষ্প!”

পুষ্পর শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইল শেহনাজ সরকারের বুকে। তিনি এবার জেনিফার সরকারকে ডেকে দুজনে মিলে পুষ্পকে ধরাধরি করে বিছানায় শুইয়ে দিলেন। শেহনাজ সরকার জেনিফার সরকারকে বললেন ফ্যামিলি ডাক্তারকে কল করে তাড়াতাড়ি আসতে বলতে।
শেহনাজ সরকার নিজে একটা পাত্রে পানি নিয়ে কাপড় ভিজিয়ে পুষ্পর শরীর ভালো করে মুছে দিতে লাগলেন। শরীর মুছে দিতে গিয়ে পুষ্পর পোড়া হাত দেখে আঁতকে উঠলেন তিনি! পুষ্পর হাত দুটো বিশ্রীভাবে পুড়ে গেছে, চামড়া উঠে সাদা মাংস দেখা যাচ্ছে। তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জেনিফার সরকারকে জিজ্ঞেস করলেন—

– “ছোট, পুষ্প কি রান্নাঘরে গিয়েছিল? ও কি রান্না করেছে?”
– “ভাবী, পুষ্প রান্নাঘরে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু রান্না করেনি। রান্না তো আমি পুষ্প কলেজ থেকে আসার আগেই শেষ করেছি!”
জেনিফার সরকারের কথা শুনে শাহনাজ সরকারের কপালের ভাঁজ আরও গাঢ় হলো। তিনি আনমনে বললেন—
– “তাহলে এত বাজেভাবে পুষ্পর হাত পুড়ল কীভাবে?”
বড় ভাবীর কথা শুনে পুষ্পর হাতের দিকে তাকিয়ে নিজেও আঁতকে উঠলেন জেনিফার সরকার। কী বিশ্রীভাবে পুড়ে গেছে হাতটা!
এর মধ্যেই ডাক্তার এসে পুষ্পকে ভালো করে চেকআপ করলেন। পুড়ে যাওয়া হাতটা ভালো করে দেখে বললেন, হাত পুড়ে যাওয়ায় তীব্র ব্যথার কারণেই এই হাই ফিভার বা জ্বর এসেছে। ডাক্তার কিছু ওষুধ লিখে দিলেন আর একটা বার্নিং ক্রিম দিয়ে বললেন ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিতে। মেয়েটার খেয়াল রাখতে বলে তিনি চলে গেলেন। শেহনাজ সরকার ড্রাইভারকে দিয়ে ওষুধগুলো আনিয়ে নিলেন। তারপর বিছানার পাশে বসে বসে পুষ্পর মাথায় জলপট্টি দিতে দিতে পরম যত্নে তার পুড়ে যাওয়া হাতে মলম লাগিয়ে দিতে লাগলেন।

ঘড়ির কাঁটা সাড়ে এগারোটার ঘরে, কিন্তু সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই আর্যর। সে একটা ক্লাবের বার সেকশনে নিরিবিলি এক কোণে বসে গ্লাসের পর গ্লাস মদ পান করছে। আর্য তখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে সোজা চলে এসেছিল এই ক্লাবে; উদ্দেশ্য—ড্রিঙ্ক করে নিজের ভেতরের অযাচিত অস্থিরতা কমানো। পুষ্পর সেই গুমরে গুমরে কান্নার শব্দগুলো যেন তীব্র তীর হয়ে বিঁধছিল আর্যর হৃৎপিণ্ডে! তাই তো সে সহ্য করতে না পেরে রুম থেকে বের হয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু এখানে আসার পর এত ড্রিঙ্ক করেও আর্যর ভেতরের অস্থিরতা একবিন্দু কমল না, উল্টো আরও বাড়ছে। আর্য এবার গ্লাসে না ঢেলে সরাসরি বোতল মুখে দিয়ে খাওয়া শুরু করল। আর্যর চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে ওই গোলগাল ফর্সা মুখটা। আর্য এবার বিড়বিড় করে বলল—

– “স্টুপিড! কী প্রয়োজন ছিল আগুনে হাত দেওয়ার? আমি পুড়িয়েছি, আমি তোমাকে এর চেয়েও সুন্দর সুন্দর জামা কিনে দিতাম দরকার পড়লে! তা-ও তুমি আগুনে কেন হাত দিলে? এখন কষ্ট তুমি পাচ্ছ, কিন্তু আমার ভেতরে কেন এরকম দমবন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি হচ্ছে, কেন? আমার লাইফে কেন এসেছ, স্টুপিড মেয়ে?”
আর্য হঠাৎ মদের বোতলটা টেবিলে নামিয়ে রাখল। মাতাল মস্তিষ্কে হুট করেই একটা মারাত্মক চিন্তায় সে চমকে উঠল। বিড়বিড় করে আবারও বলল—
– “শিট! বাড়িতে তো কেউ এখনো দেখেনি ওই মেয়ের হাত পুড়ে গেছে! ও তো ঘরে একা…।”
পুষ্পর পুড়ে যাওয়া হাতের তীব্র যন্ত্রণার কথা মনে হতেই আর্য মদের বোতল রেখে ছিটকে উঠে দাঁড়াল। তাকে এখনই বাড়িতে যেতে হবে। হঠাৎ তার মস্তিষ্ক প্রশ্ন করল—কেন যেতে হবে? কিন্তু এবার আর মস্তিষ্ক মনের ওপর হাবি হতে পারল না। আর্য এবার বিরক্ত হয়ে নিজেই নিজেকে ধমকে বলল—যেতে হবে মানে যেতে হবে! মেয়েটাকে দেখতে হবে।
সে আর এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত ক্লাব থেকে বেরিয়ে গেল।

খাওয়া-দাওয়া করে সবাই যে যার রুমে ঘুমাচ্ছে, ঘুম নেই শুধু শেহনাজ সরকারের চোখে। আর্য সেই যে বেরিয়েছিল, আর ফেরেনি। শেহনাজ সরকার এখনো বসে আছেন পুষ্পর মাথার পাশে। রাতে ওষুধ খাইয়ে দিয়েছেন; জলপট্টি দেওয়া আর ওষুধের প্রভাবে জ্বর ছেড়ে দিয়েছে, ঘেমে কাপড় ভিজে গেছে পুষ্পর। শেহনাজ সরকার আবারও পুষ্পর সারা শরীর মুছে দিয়ে কাপড় পাল্টে দিলেন।
আর্যর জন্যও চিন্তা করছেন তিনি। যতই রাগ দেখান না কেন, আর্যকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন তিনি—একমাত্র ছেলে ওনার। তবুও নিজেকে বাইরে শক্ত দেখিয়ে শুধু ছেলে-মেয়ে দুটোর জীবন সুন্দর করতে চান তিনি।
হঠাৎ শেহনাজ সরকার খেয়াল করলেন, পুষ্প বিড়বিড় করে কিছু বলছে। তিনি ভাবলেন পুষ্প হয়তো কিছু চাইছে, তাই তিনি পুষ্পর মুখের দিকে ঝুঁকে শোনার চেষ্টা করলেন। পুষ্প বিড়বিড় করে বলছে—
– “আম্মু… ও আম্মু, কথা বলছ না কেন? ও আম্মু, বলো না, সরকার সাহেব কেন পোড়ালো তোমার ওড়না? এখন আমি তোমার ঘ্রাণ কীভাবে নেব?”

কথাটা বলতে বলতে ঠোঁট ভেঙে কেঁদে উঠল পুষ্প। বিচক্ষণ ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন শেহনাজ সরকার এবার সবকিছু আঁচ করতে পারলেন। রুমে ঢোকার পর সেই পোড়া গন্ধ, পুষ্পর বিশ্রীভাবে পুড়ে যাওয়া হাত, আর এখন পুষ্পর জ্বরের ঘোরে বলা কথাগুলো—সব মিলিয়ে তিনি বুঝতে পারলেন, আর্য পুষ্পর মায়ের ওড়না পোড়ানোর সময় হয়তো পুষ্প ওড়নার আগুন নেভাতে চেয়েছিল, আর তাতেই পুষ্পর হাত পুড়ে গেছে!
সবটা বুঝতে পেরেই শেহনাজ সরকারের মুখ শক্ত হয়ে গেল। তিনি তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে পুষ্পর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শান্ত করতে লাগলেন। মাথায় পরম মমতাময়ী হাতের ছোঁয়া পেয়ে পুষ্প আবারও ঘুমিয়ে গেল। পুষ্প ঘুমিয়ে যেতেই তিনি রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন!
শেহনাজ সরকার রুম থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে টলতে টলতে রুমে প্রবেশ করে আর্য সে কোনোদিক না তাকিয়ে সোজা এগিয়ে গেল বিছানার দিকে, যেখানে অবচেতনে শুয়ে আছে পুষ্প। আর্য গিয়ে রুমের দরজাটা বন্ধ করে দিল। তারপর আবার এগিয়ে গিয়ে পুষ্পর পাশে মেঝেতে বসল। পুষ্পর পোড়া হাতটা খুব আস্তে করে নিজের হাতের মুঠোয় নিল—যেন একটু জোরে ধরলেই মেয়েটা বড্ড ব্যথা পাবে! সেই পোড়া হাতের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলতে লাগল—

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১২

– “মেয়ে, তুমি কী করেছ আমার সাথে? তোমাকে আমি মন-মস্তিষ্ক থেকে বের করতে পারছি না কেন? যেই আমি নেশা করে দিনদুনিয়া ভুলে যাই, এখন এত নেশা করার পরেও তোমাকে ভুলতে পারছি না! জানো, আমার আজ বাড়িতে আসার একদম ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু তোমার হাত পুড়ে গেছে, এটা মনে পড়তেই আমি আর নিজেকে আটকাতে পারলাম না। পা দুটো যেন আমার কথাই শুনছিল না! আমি বলছি আসব না বাড়িতে—আসলেই তোমাকে দেখতে হবে, কিন্তু অবাধ্য মনটা বলছে তাকে দেখার জন্যই তো যেতে হবে! কিছুতেই নিজের মনকে আর ভোলাতে পারলাম না। নেশা করলেও বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল তোমার ওই ভীত চেহারাটা… মেয়ে, তুমি কী করেছ আমার সাথে, হুম?”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here