Home অবেলার প্রণয়ভেলা অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৩ (২)

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৩ (২)

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৩ (২)
ফাহিমা ইসলাম

“ কিরে মামা কোন সকিনার স্বপ্নে বিভোর তুমি?”
কথাটুকু বলেই শ্রাবণেট কাঁধে হাত দিলো। পিছনে বাকিরাও একই প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে শ্রাবণের দিকে চেয়ে আছে। শ্রাবণ নিজের ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে,গলা খাঁকড়িয়ে বলে-
“ তোর নানির স্বপে বিভোর আমি শা*লা।”
“ শা*লা আমার নানির যোগ্য নাকি যে আমার নানির স্বপ্ন দেখবি। এখন মেইন কাহিনী ক মামা, কি হইছে কারো প্রেমে-টেমে পরলি নাকি?”
শ্রাবণ বিরক্ত হয়ে সবার দিকে তাকিয়ে খেটখেট করে বলে-
“ শা*লা তোদের জন্য তো দেখি ঠিক মত ভাবতেও পারবো না। কোনো কাহিনী না, তোরা হুদা বকিস না তো সর!”
শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে পিছন থেকে সাহিল এসে সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে-
“ এবার তো ডেম সিউর কোনো মাইয়া খপ্পর। দেরি না করে বলে ফেল কোন মেয়ে? নাম কি? বাড়ি কই? দেখতে কেমন?”
সাহিলের কথা শুনে শ্রাবণ দাঁতে দাঁত খিঁচিয়ে বলে-

“ কোথায় জন্ম হয়েছে এটা বলতে ভুলে গেছিস মনে হয়, ওইটাও জিজ্ঞেস কর শা*লা গরু। এক লগে কয়টা প্রশ্ন করিস? আর কিসের মেয়ে, সর তো বা*ল ভালো লাগছে না।”
শ্রাবণের কথা শুনে সকলেই ‘ওহহহ ওহহহ’ করে উঠলো। সবাইকে রাস্তায় এইভাবে চেঁচাতে দেখে পদযাত্রীরা কয়েকবার তাদের সকলের দিকে তাকালো। শ্রাবণের ইচ্ছে করলো সবকটার নাক ফাটিয়ে দিতে। রাকিব এবার শক্ত গলায় বলে-
“ নাটক কম কর শা*লা এখন সব সত্যি ই বলে ফেল। তোর হাব-ভাব সব আমরা চিনি তাই নাটক কম কর পিওওও!”
শ্রাবণ সবাইকে এড়িয়ে যেতে নিলে সবাই মিলে খপ করে ধরে ফেলে। সবকটা মিলে শ্রাবণকে চেপে ধরে বলে-
“ বল শা*লা বল কোন মাইয়ার প্রেমে ভাসতাছোস? শা*লা আমাদের সিঙ্গেল রেখে কিভাবে মিঙ্গেল হতে চাস তুই? বুক কাঁপেনি তোর একবারও? আমাদের মাসুম চেহারাগুলো স্মরণে আসেনি একবারও? তিতাস নাহয় মিঙ্গেল, তাই বলে তুই সেই খাতায় নাম লিখাবি?”
শ্রাবণ সবগুলোর উপর ভয়ংকর রেগে গিয়ে কয়েকটা গা’লি ছুড়লো সবার নিকট। তবুও তারা ছাড়লো না, শ্রাবণ বিরক্ত হয়ে সবার দিকে তাকিয়ে বলে-

“ ছাড় বলতাছি, গে’দের মত গায়ে পরে আছিস কেনো সবডি? সর তো সবগুলা অসহ্য!”
সবাই ছেড়ে দিতেই শ্রাবণ ভাবসাব নিয়ে ঠিক হয়ে বসলো। সবাই কৌতূহলী শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, শ্রাবণ গলা খাঁকড়িয়ে বলে ওঠে-
“ সেদিন তোদের সাথে দেখা করে মতিঝিল যাচ্ছিলাম। মাঝরাস্তায় তুমুল বেগে বৃষ্টি শুরু হলো, তাই শেষমেশ না পেরে একজায়গায় বাইকটা রেখে ছাউনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সময়ের সাথে তুমুল বেগে বৃষ্টি বেড়ে চললো, ঠিক তখনই আমার চোখের সামনে একটা দৃশ্য ভাবলো। সাধারণ দৃশ্য, যেকেউ দেখে থাকবে রাস্তায় বের হলে। তবে আমার নিকট সেই সাধারণ দৃশ্য অসাধারণে পরিণত হলো। আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলাম সেদিকে, কেউ ফুলের জন্য এত পাগল হয়? তাও সামান্য কৃষ্ণচূড়ার জন্য! অবাক হলাম বেশ। তুমুল বেগে বৃষ্টি হওয়ায় মেয়েটার মুখশ্রী আমার নিকট একদম অস্পষ্ট, তবে মেয়েটার পরণের সেই নীল শাড়ি আর লম্বা চুল আমাকে মেয়েটার প্রতি আলাদা এক চম্বুকী আকর্ষণ অনুভব করাচ্ছিল। না চাইতেও এগিয়ে গেলাম মেয়েটার দিকে, নিজের অজান্তেই ফোন বের করে বৃষ্টির তালে উম্মাদের মত নৃত্যতে মগহুল এক নারির ভিডিও ধারণ করি। কিন্তু মাঝ পথে হুস আসলো কি করছি আমি? তখন কি থামিয়ে দিয়েছি নিজেকে। তবে এখনো মাথা থেকে বের করতে পারিনি মেয়েটাকে। এখন সর সবটি।”

শ্রাবণের কথা শুনে শুনে সাহিল বলে ওঠে-
“ মামা তুই তো প্রেমে পরছোস, কিন্তু এমন ভোদাইয়ের মত কাজ করলি কেন? তোর দিল যেন সিংনাল পাঠাইছে, এরমানে ওই মেয়ে তোর প্রিয়তমা। আর তুই বলদার মত মেয়েটার নাম-টাম না জেনে চলে আসলি।”
শ্রাবণ বিরক্ত ভরা নয়ন নিয়ে সাহিলের দিকে তাকালো। এইদিকে রাকিব হুট করে বলে ওঠে-
“ মেয়েটার ভিডিও আছে না? বের কর, দেখি আমার পরিচিত একজন মতিঝিল থাকে। যদি কোনো ভাবে মেয়েটা ওই এরিয়ার হয় তাহলে খোঁজ বের করতে পারমু।”
“ নো নিড, তোরা বেশি ভাবছিস। আমি এইসব প্রেমে-টেমে পরি না। শ্রাবণ যার-তার প্রেমে পরে না, সেখানে মেয়েটা তো অপরিচিত এক অতিথি পাখি।”
সালিম শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বলে-

“ হইছে চুপ যা, কিসের মধ্যে পরছো সেটা খুব ভালো করেই বুঝতাছি। তোর প্রিয়তমার অছিলায় আমাদের ভাগ্যেও যদি কিছু জোটে মামা। কত কাল আর সিঙ্গেল মরমু বল।”
সালিম অসহায় মুখ করে কথাটুকু বলতেই সাহিল ওর পিঠে থাম করে কিল বসিয়ে দেয়। তারপর একখানা সুন্দর গা’লি উচ্চারণ করে বলে-
“ মাদারবোর্ড, মাসে মাসে মাইয়া পাল্টায়া আবার কয় সিঙ্গেল থাকমু কত কাল। দূর হ শা*লা!”
সালিম মুখ কালো করে বলে-
“ আরে ওইটা তো জাস্ট টাইম পাস করি। আসলটা তো খুঁজে পাইতাছি না এখনো, তোরা বন্ধু হয়ে আমার কষ্টটা বুঝলি না ছিঃ!”
“ রাখ তো সা*** কষ্ট শা’লা। মুখ খোলাইস না বলে দিলাম। আর তুই ভিডিওটা দেখা।”
শ্রাবণ আর কথা বাড়ালো না ফোনে থাকা এক মিনিটের ভিডিওটা সকলেই দেখালো। রাকিব কিছুসময় গভীর ভাবে দেখলো, না পরিচিত কেউ না। রাকিব শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বলে-
“ মেয়েটা চাস কি না বল। তাহলে খোঁজ লাগামু, নাইলে হুদা খোঁজ করে লাভ কি বল।”
শ্রাবণ বিরক্ত হয়ে বলে-
“ তো আমি কখন বললাম আমার মেয়েটাকে চাই? তোরাই তো ওভার রিয়েক্ট করছিস।”
“ সত্যি চাস না?”
“ হ্যাঁ তো আবার কি। শ্রাবণ সিকদার যার-তার প্রেমে পরে না।”

দিবাকরের দাহনময় দৃষ্টিপাতে আজ ধরণী যেন তপ্ত নিঃশ্বাসে দগ্ধমান। আকাশের নীলাভ গাম্ভীর্য ভেদ করে সূর্য তার প্রখর অগ্নিতেজ বিস্তার করেছে চারদিকে, নির্দয়ভাবে। এই দগ্ধ প্রহরের মাঝেই গৃহপাশবর্তী বাগানের অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন জগৎ একটু ছায়া, একটু প্রশান্তি,আর দুটি ভিন্ন প্রাণের নিঃশব্দ আশ্রয়। বাগানের মাঝখানে এক পুরোনো আমগাছের ছায়াতলে বসে আছে তূর্ণা। তার এলোমেলো চুলে সূর্যের আলো এসে বিচ্ছুরিত হচ্ছে অদ্ভুত এক দীপ্তিতে, অথচ মুখখানি প্রশান্ত। আজ যেন তার ভেতরের অস্থিরতা কিছুটা স্তিমিত। তার পাশেই বসে আছে ক্ষুদ্রকায় এক পুতুলসদৃশ প্রাণ রোদেলা। গালভরা হাসি আর টলমলে চাহনিতে ভরপুর। সে তূর্ণার কোলে আধা শুয়ে, আধা বসে একমনে তার আঙুলগুলো নিয়ে খেলছে। তূর্ণা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। যেন সে কোনো মানুষ নয়,একটি জীবন্ত পুতুল। যাকে সে নিজের ভাঙা জগতের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে আগলে রেখেছে।

“পুতুল…”
মৃদু স্বরে ডাকলো রোদেলাকে, তার কণ্ঠে অদ্ভুত এক স্নেহের কম্পন মিশে আছে।
“তুমি এত সুন্দর কেনো হয়েছো? হুম?”
রোদেলা খিলখিল করে হেসে ওঠে। তার ছোট্ট হাত দিয়ে তূর্ণার গাল টিপে দিয়ে আধো আধো বুলি বলে ওঠে-
“তুনি তুন্দল”
শব্দটা উচ্চারণ করেই সে আবার হেসে ফেলে, তূর্ণাও শিশুসুলভ বিস্ময়ে তাকিয়ে থেকে বলে-
“আমি তুন্দল?”
তার কণ্ঠে কৌতূহল মিশে আছে, আবারও জিজ্ঞেস করে-
“তুন্দল হলে কি হয়?”
রোদেলা একটু ভেবে, নিজের মতো করে উত্তর বানিয়ে বলে-
“তুন্দল মানে… তুনি আনাল!”
এই সরল সংজ্ঞা শুনে তূর্ণা হঠাৎই চুপ করে যায়। সে কিছুই বুঝলো না তেমন। তবে তার ভাঙা মনের জটিল গোলকধাঁধায় এই সহজ কথাটুকু যেন আলোর রেখা হয়ে প্রবেশ করে। সে হঠাৎ রোদেলাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে-

“হ্যাঁ… আমি তোমার… আমি তোমারই পুতুল।”
বাগানে আসার পেছনের কাহিনীটাও যেন তাদের মতোই অদ্ভুত সরলতায় ভরা। আজ সকালে রোদেলা নাকি তার “রাজকুমারী পুতুল” হারিয়ে ফেলেছে। পুরো বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও যখন পুতুলটির সন্ধান মেলেনি, তখন সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সেই কান্নার শব্দ সহ্য করতে না পেরে তূর্ণাই তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে আসে বাগানে। কারণ তার বিশ্বাস,“হারানো জিনিস গাছের নিচেই লুকিয়ে থাকে।” তার এই অদ্ভুত যুক্তিতে রোদেলা মুগ্ধ হয়ে যায়। তাই দু’জনে মিলে শুরু করে পুতুল খোঁজা অভিযান। কখনো ফুলের ঝোপের ভেতর উঁকি দিয়ে দেখছে, আবার কখনো মাটিতে কান পেতে শোনার ভান করছে। যেন পুতুলটা নিজেই ডেকে উঠে তাদের জানাবে সে কোথায় রয়েছে।

“পুতুল… তুই কই?”
তূর্ণা গম্ভীর হয়ে বলে ওঠে। রোদেলাও তার অনুকরণ করে বলে ওঠে-
“পুতু বাইল হও!”
এইসব করতে গিয়ে দুইজনেরই গায়ে ময়লা লেগে গেছে। জবা সিকদার রোদেলাকে খুঁজতে খুঁজতে বাহিরে এলেন। দূর থেকেই রোদেলা আর তূর্ণার কান্ড দেখে বিরক্ত হলেন তিনি, গাম্ভীর্যের ঠাসা মুখশ্রী নিয়ে দুইজনের নিকট এগিয়ে এলেন তিনি। তূর্ণা আর রোদেলা মাটিতে বসে খোঁজাখুঁজি করছিল তখন। হঠাৎ কারো আগমনের বার্তা পেতেই উপরে তাকাতেই জবা সিকদারকে দেখে তূর্ণার মুখটা চুপসে যায়, তবে রোদেলা দাদির দিকে তাকিয়ে সরল মনে বলে ওঠে-

“ পুতু নাই দিতা, পুতু নাই।”
“ পুতুল তোমার আমার ঘরে, তোমরা এখানে কি করছো? গায়ে ময়লা ভড়িয়েছো কেনো দু’জন?”
রোদেলা সরল মনেই হেসে দিয়ে বলে-
“ আলে, দিতু পুতু খুতি। পুতু কুতা কয় না, পুতা পুতু।”
তূর্ণা চুপটি করে রয়েছে, আঁড়চোখে বার বার জবা সিকদারকে দেখছে। জবা সিকদার তূর্ণার দিকে তাকিয়ে বলে-
“ দুইজনই এখন সোজা ঘরে চল, তুমি সোজা গিয়ে গোসল করবে। একটু পর খাবার খাবে সবাই, তাই পরিষ্কার হয়ে আসবে। এখন ওঠ ভদ্র মেয়ের মত ভিতরে যাও।”
তূর্ণা বাধ্য মেয়ের মত মাথা নাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো। গায়ে মাটি দিয়ে মেখে গেছে, চুলে অব্দি শুঁকনো পাতা লেগে আছে। তূর্ণা যেতে নিলে জবা সিকদার গম্ভীর স্বরে ডেকে ওঠে-

“ দাঁড়াও মেয়ে!”
বলেই তূর্ণার নিকট এগিয়ে এলেন। জবা সিকদারকে কাছে আসতে দেখে ভয়ে তূর্ণা খিঁচিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়, সে ভাবলো তাকে আবারও আঘাত করবে জবা সিকদার। যদিও আগের মত কঠোর নেই তিনি, তারপরও তূর্ণা এই মানুষটাকে ভয় পায় অনেক। বেশ কিছু সময় পেরোনোর পরও যখন কোনো আঘাত অনুভব না করায়। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো তূর্ণা, জবা সিকদার গম্ভীর ভাবে তার কেশরাশির মধ্যে আটকে থাকা শুঁকনো পাতাগুলো ফেলে দিচ্ছেন। তূর্ণা এবার সম্পূর্ণ চক্ষু মেলে তাকালো, তবে তার মুখশ্রী জুড়ে হালকা ভয়ে রেখা বিদ্যমান। সব পাতা ফেলে দিয়ে যাওয়ার ইশারা করেন তিনি, তূর্ণা সেটা মেনে দৌড়ে ভিতরে চলে যায়। জবা সিকদার তূর্ণার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে, তূর্ণা যদি ভালো হত তাহলে তা কোনো আপত্তি ছিল না এই আকস্মিক বিয়েতে। ছেলের জন্য নিজের মনকে রোজ বোঝান তিনি, তূর্ণাকে বোঝার চেষ্টা করেন। জবা সিকদার রোদেলাকে কোলে তুলে ভিতরে নিয়ে গেলেন৷

রুমা সিকদার দূর থেকে সবটা দেখছিলেন, জবা সিকদার কাছে আসতেই রুমা সিকদার হেসে বলে-
“ মেয়েটাকে মেনে নিলেই পারো ভাবি৷ শুধু শুধু নিজের সঙ্গে দ্বন্দ্ব করার কোনো মানে আছে?”
জবা সিকদার কিছু বললেন না, রুমা সিকদার আবারও বলে-
“ মেনে নাও ভাবি, আর কত নারাজ হয়ে থাকবে অবুঝ মেয়েটার উপর। দেখতে গেলে এইসবে ওর কোনো দোষ নেই বরং ও নিজেও আমাদের মত ভুক্তভোগী।”
জবা সিকদার কিছু বললো না কিছু সময় তাকিয়ে থেকে ভিতরে চলে গেলেন। রুমা সিকদারও দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভিতরে চলে গেলেন।

আলো ফুরিয়ে রাত্রির কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেছে নীলিমার। আকাশ জুড়ে মিটমিট করে জ্বলচ্ছে নক্ষত্রগুলো। সঙ্গে দেখা মিলেছে একফালি চাঁদের। রোদেলা আট তূর্ণা দু’জনই গভীর নিদ্রায় মগ্ন, হাত দিয়ে নিজের সঙ্গে আগলে রেখেছে রোদেলাকে। পাশেই সেই হারিয়ে যাওয়া পুতুলটাও, যেটার খোঁজ তারা সারা বাগান জুড়ে করছিলো। রুমে হালকা আলো জ্বলছে। রাত বেশ হওয়ায় দু’জনই ঘুমের দেশে তলিয়ে গেছে। তখনই আস্তে করে দরজা খুলে নৈঃশব্দে রুমে প্রবেশ করে রৌদ্রিক, কান্তি তার সারা মুখশ্রীতে জ্বলজ্বল করছে। তারপরও দিন শেষে যখন মেয়েট মুখখানা দেখে তখন না চাইতেি সকল কান্তি দূর হয়ে যায়। শরীরের কান্তির চেয়ে মনের কান্তি বড্ড পিরাদায়ক, মন যখন শান্ত, নির্মল অবস্থায় থাকে তখন সবকিছুই সুন্দর লাগে। রৌদ্রিক বিছানায় ঘুমন্ত দুই ব্যক্তির অবস্থা বুঝতে পেরে আর রুমের আলো জ্বালালো না। হাতের মধ্যে থাকা ছোট্ট গোন্ডের ব্যাগটা নিয়ে নিঃশব্দে এগিয়ে গেলো বিছানার দিকে।
রোদেলার জন্য হাতের ছোট্ট চিকন চুড়ি, পায়ের নুপুর আরও বেশ কিছু জিনিস বানাতে দিয়েছিল।

পরে কি মনে করে তূর্ণার জন্যও একই জিনিস নিয়ে এসেছে, রৌদ্রিক ব্যাগ থেকে দুই জোড়া স্বর্ণের নুপুর বের করলো। রোদেলা ছোট্ট আদুরে মাখা পায়ে আস্তে করে চুমু এঁকে দিলো রৌদ্রিক, এতেই যেনো মনের মধ্যে থাকা কান্তি ভাবটা কমে এলো। নিজ হাতে অতি সাবধানে রোদেলার পায়ে নুপুর জোড়া পরিয়ে দিলো। মসৃন,ফর্সা ছোট্ট পায়ে স্বর্ণের নুপুর জোড়া জ্বলজ্বল করছে। বড্ড আদুরে লাগছে রোদেলার পা জোড়া, রৌদ্রিকের ওষ্ঠকোণে হালকা হাসির রেখা ফুটে উঠলো। পর পর অতি সাবধানে নিজে আসা হাতের চুড়িগুলোও পরিয়ে দিলো। সবকিছু পরানোর পর রোদেলাকে আরও আদুরে লাগছে।

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৩

রৌদ্রিকের চোখ গেলো ঘুমন্ত তূর্ণার দিকে, এলোমেলো ভাবে ঘুমিয়ে আছে মেয়েটা। কি ভাবে ব্যাগে থাকা নুপুর নিয়ে অতি সাবধানে তূর্ণার পায়েও পরিয়ে দিলো, বেশ মানিয়েছে জিনিসগুলো। একই ভাবে হাতেও পরিয়ে দিলো, মেয়েটাকে বিয়ের পর থেকে একটা কিছু কিনে দিতে পারেনি।
তূর্ণা আর রোদেলাকে এই সামান্য অলংকারে অপরুপ সুন্দর লাগছে। কি ভেবে নিজের ফোন বের করে ফটাফট কয়েকটা ছবি নিজের ফোনে বন্দি করে নিলো। একসঙ্গে লেপ্টে আছে তারা,যেনো কত বছরের সম্পর্ক এদের। রৌদ্রিক ভাবেনি তূর্ণা রোদেলাকে এতটা আপন করে নিবে এত অল্প সময়ে। আর রোদেলাও খুব বেশি মিশে গেছে তূর্ণার সঙ্গে।

অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ১৪