অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৩৯ (২)
ফাহিমা ইসলাম
বর্তমানে ইরার কক্ষজুড়ে উপস্থিত বাড়ির প্রায় সবাই। মুখে কথা নেই, কারো চোখে স্বস্তি নেই। উদ্বেগ যেন অদৃশ্য জালের মতো সবাইকে আবদ্ধ করে রেখেছে।শয্যার উপর আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে ইরা। তার পাশে বসে আছেন ডক্টর। হঠাৎ করেই ইরার ওইভাবে জ্ঞান হারানোতে সকলেই বেশ চিন্তিত। তবে রৌদ্রিক বরাবরের মতোই শান্ত, তার যেটা মনে হচ্ছে সেটা ডক্টর না বলা অব্দি সে নিজেও সিওর হতে পারছে না। কয়েক মুহূর্তের নীরব পরীক্ষার পর অবশেষে ভদ্রলোকের ঠোঁটে প্রশান্ত এক হাসি ফুটে উঠলো।
“ভয়ের কোনো কারণ নেই। বরং অভিনন্দন দেওয়ার কারণ আছে। উনি মা হতে চলেছেন।”
ডক্টরের কথা শোনার পরই সবার মুখে বিস্ময়। রৌদ্রিক হালকা হাসলো, তার আন্দাজ তাহলে ঠিক ছিলো। শ্রাবণ যেনো স্তব্ধ হয়ে গেছে। সে কি ঠিক শুনেছে? ইরা মা হবে? তারমানে সে বাবা! কেমন অনুভূতি হচ্ছে সেটা সে নিজেও বুঝতে সক্ষম নয়। কেমন আজানা এক আনন্দ ভার করেছে তার হৃদয় মাঝে। বাবা হওয়ার সংবাদ কি এমনই হয়? সবার চোখে আনন্দ।
“কীইইইইইইই!”
সবচেয়ে জোরালো চিৎকারটি করে উঠলো রিনি।এমনভাবে লাফিয়ে উঠলো যে পাশে থাকা স্টুলটাকে ধাক্কা মেরে প্রায় ফেলে দিচ্ছিল।
“আমি পিপি হবো!”
তার উচ্ছ্বাস যেন পুরো বাড়ির ছাদ ভেদ করে আকাশে পৌঁছে গেল। সবার মুখেই হাসি, রোমানা সিকদার ইরার পাশে এসে বসে কপালে স্নেহময় স্পর্শ এঁকে দিলেন।
“ আল্লাহ আমাদের ঘর আলো করে আবারও নিয়ামত পাঠাচ্ছেন।”
ইরা নিজেও এখনে স্তব্ধ! সে মা হবে! তার মাঝে ছোট্ট একটা প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে, একটু একটু করে তার মাঝে বড় হবে। তারপর! তারপর তার কোল আলো করে তার অস্তিত্ব তার নিকট থাকবে। না চাইতেও অশ্রুবিন্দু তার চোখের কার্ণিশ বেয়ে গড়িয়ে পরলো। মাতৃত্বের স্বাদ কোন মেয়ে গ্রহণ করতে চায় না? মাতৃত্বের যে বড় কোনো প্রাপ্তি কি রয়েছে একটা মেয়ের নিকট? ইরার চোখ গেলো স্তব্ধ হয়ে থাকা শ্রাবণের দিকে, হয়তো তার মতো শ্রাবণেরও একই অবস্থা। তূর্ণার চোখ মুখেও খুশি উবড়ে পরছে। রোদেলা ঘুমিয়ে পরেছে নাহলে মেয়েটা যদি শুনতো তার সঙ্গে খেলার জন্য ভাই বা বোন আসতে চলেছে।
ডক্টর আরও কিছু আদেশ-নিদেশ করে চলে গেলেন। ইরাকে রেস্ট করতে দেওয়ার জন্য একে একে রুম ফাঁকা করে চলে গেলেন। রিনি তো পারছে না এখনোই নাচা শুরু করে দিতে। বিকেলেই খোঁটা দিচ্ছিল তাদের ভাবিকে জীবন যুদ্ধে পিছিয়ে থাকার জন্য, আর এখন জীবন যুদ্ধে এক ধাপ এগিয়ে গেলো ইরা। রিনি খুশিতে গদগদ হয়ে বলে ওঠে-
“আমি আবার পিপি হবো! আমাকে কেউ আটকাবি না! আমি এখনই বাচ্চার জন্য জামা কিনবো!”
“বাচ্চা জন্মাতে এখনো অনেক দেরি আছে।”
শ্রাবণ বিরক্ত গলায় বলতেই রিনি চোখ বড় বড় করে তাকালো।
“তুই চুপ থাক। তোর তো কোনো অনুভূতি নেই। আমি আবেগপ্রবণ মানুষ। তুই বুঝবি না ইরা ভাবি জীবন যুদ্ধে একধাপ যে এগিয়ে গেলো।
ইরার শেষের কথার মানে তেমন কেউ বুঝলো না। এইদিকে ইরা আর তূর্ণা ঠিকই বুঝেছে কিসের কথা বলছে ইরা। তাই ইরা লজ্জায় মাথা নুইয়ে ফেললো। রিনি কথা শেষ করেই সে দৌড়ে গিয়ে ইরার পাশে বসলো।
“শোনো, বাচ্চা যদি মেয়ে হয় তাহলে নাম আমি রাখবো।”
“আর ছেলে হলে?”
“তখনও আমি রাখবো।”
“ তুই আবার নামও রাখতে পারিস?”
রৌদ্রিকের শান্ত প্রশ্নে রিনি এক মুহূর্ত থমকে গেলততঃপর আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বললো-
“ওটা পরে গুগলে দেখে ঠিক করে ফেলবো। ভুলে যেওনা আমার রোদের নাম তার পিপিই রেখেছে হু!”
মুহূর্তেই পুরো কক্ষজুড়ে হাসির রোল পড়ে গেল। ইরা নিজেও হাসতে বাধ্য হলো। জানালার ওপারে চাঁদের আলো এখন নীরবে ঘরে প্রবেশ করছে। মনে হচ্ছে, আকাশও যেন এই ক্ষুদ্র সুখের অংশীদার হতে চায়। কারণ কিছু সংবাদ থাকে, যা শুধু একটি পরিবারের নয়একটি নতুন প্রাণের আগমনী বার্তা হয়ে সকল ক্লান্তি, সকল বিষণ্নতাকে পরাজিত করে দেয়।
চারিদিকে নিস্তব্ধতায় ঘিরে গেছে। রৌদ্রিক রুমে আসা মাত্রই দেখতে পেলো তূর্ণা রোদেলার পাশে বসে গভীর কিছু ভাবনায় মগ্ন। রৌদ্রিক কিছু বুঝতে পেরে ঘাটলো না তূর্ণাকে, আস্তে করে ঘরের সকল লাইট অফ করে দিয়ে, ড্রিম লাইট অন করে বিছানার কাছে আসতেই তূর্ণা তার দিকে চোখ তাক করলো। রৌদ্রিক উপেক্ষা করলো সেই দৃষ্টি। তবুও তূর্ণা হার মানলো না, বিড়াল ছানার মত রৌদ্রিকে দিকে তাকিয়ে বলে-
“ এই বর শুনুন না!”
রৌদ্রিক শুনেও না শোনার মত করে থাকলো। তূর্ণা বেশকিছুখন একই ভাবে ডাকলো, কিন্তু কাজে দিচ্ছে না দেখে রোদেলাকে হালকা সরিয়ে একদম রৌদ্রিকের গা ঘেঁষে আবারও বিড়াল ছানার মত করে বলে-
“ আপনি আমার শুনছেন না কেনো বর!”
রৌদ্রিক হালকা নড়লো। তূর্ণার এবার রৌদ্রিকের বাহুতে হাত রেখে অভিযোগের স্বরে বলে-
“ ইরাপুরও বেবি হবে, আমার হচ্ছে না কেনো? আপনি কি এখনো বেবি হওয়ার আদর করেননি আমায়? আমি তো জীবন যুদ্ধে পিছিয়ে যাচ্ছি বর!”
তূর্ণার এমন কথার কেমন রিয়েক্ট দেওয়া উচিৎ রৌদ্রিক সত্যি বুঝে উঠলো না। বাচ্চা না হওয়ার সঙ্গে জীবন যুদ্ধে পিছিয়ে যাওয়ার কোনো কারণ কি আছে?
রৌদ্রিকে জবাব না দিতে গেছে তূর্ণা হয়তো হালকা রেগে গেলো, এই মানুষটা সবসময় বাচ্চার কথা বললে এমন না শোনার ভান করে।
“ আপনাকে বলে দিচ্ছি আমার বেবি চাই! চাই মানে চাই-ই!”
“ ঘুমাও তূর্ণা, আপাতত তোমার বেবি নেওয়ার মত বয়স হয়নি।”
রৌদ্রিকের এমন কথায় তূর্ণা ফেঁপে উঠলো যেনো৷ রাগে-দুঃখে তার নেত্রকোণে অশ্রু এসে হানা দিয়েছে। নাক টেনে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে জেদি স্বরে বলে-
“ কিসের বয়স হয়নি আমার? আঠারো+ বয়স হয়েছে এখন আমি বাচ্চা নই, বেবি নিতে পারবো না।”
“ আঠারো বচ্ছর বিয়ের জন্য বাচ্চার জন্য নয়। বিশ বছর হওয়ার পর বেবি নওয়ার সময়।”
“ আপনি আমায় এখনো বেবি হওয়ার আদর করেননি তারমানে!”
তূর্ণার এমন বাচ্চামো কথা শুনে রৌদ্রিক তপ্ত নিশ্বাস ছাড়ে। সবুজ বাতির আলোয় তূর্ণার অশ্রুসজল নেত্রজোড়া জলজল করছে, রৌদ্রিক তূর্ণার দিকে চাইতেই তূর্ণা কার্ণিশে আটকে থাকা অশ্রুবিন্দুটা টুপ করে গড়িয়ে পরলো। তূর্ণা আরও আবেগী হয়ে উঠলো!
“ আমি পাগল বলে আমায় বেবি হওয়ার আদর করছেন না তাই না। সব বুঝতে পারছি!”
রৌদ্রিক তূর্ণার এমন কথা শুনে তূর্ণাকে টেনে নিয়ে নিজের বক্ষপটে আগলে নেয়। তূর্ণা হালকা কেঁপে উঠলো কান্নার কারণে।
“ বলেছিনা নিজেকে নিজে পাগল বলবে না। তুমি কি পাগল যে নিজেকে পাগল বলছো? আল্লাহ দিলে তুমি সুস্থ আছো, এটাকে পাগল বলে না তূর্ণা।”
“ তাহলে আমায় বেবি এনে দিন।”
রৌদ্রিক কি বিরক্ত হলো? না এই পুরুষ এত সহজেই বিরক্ত হয় না। নিজের অতি কাছের মানুষগুলোর প্রতি তো আরও নয়। তূর্ণাকে আরও গাঢ় ভাবে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে বলে-
“ এখন না, তোমার হেলথ কন্ডিশন আরও একটু বেটার হোক তারপর।”
তূর্ণা নাক ছিটকালো। রিনি আসার সময় তাকে পই পই করে বলে দিয়েছে যেকরেই হোক তাকেও ইরাপুর মত জীবন যুদ্ধে এগিয়ে আসতে হবে। রিনি এমনটা বলেনি যে এখনই বেবি নিয়ে নিতে, কিন্তু তূর্ণার মন-মস্তিষ্ক এখন এটা চাইছে।
“ সবই তো ঠিক আছে। আমায় বেবি হওয়ার আদর দিন না বর!”
“ দিয়েছি তো পাগলি। এখন ঘুমাও তো।”
বলেই রৌদ্রিক চোখ বুঁজে ফেললো। তূর্ণা কতবার ডাকলো কিন্তু রৌদ্রিক চোখ মেলে তাকালো না। তূর্ণা রাগে-দুঃখে কতখন নীরবে অশ্রু ঝরিয়ে গেলো। শতখানিক নালিশ করলো রৌদ্রিকের উপর, রৌদ্রিক নীরবে চোখ বুঁজে বউয়ের সব অভিযোগ শুনেছে শুধু। এখন সে যদি হেসে ফেলে তূর্ণা অন্যকিছু ভেবে বসবে। কান্না করতে করতে একসময় সেইভাবেই ঘুমি পরলো।”
নব দিনের সূচনা হয়েছে, রোদ্দুরেরা খিলখিল করে হেসে উঠছে যেনো নিজেদের আলোকরশ্মি দিয়ে। ইরার বেবি হবে সোনার পর থেকে রোমানা সিকদার আর রুমা সিকদার বিভিন্ন আচার বানাতে ব্যস্ত। এই সময়টাতে টক-ঝাল জাতীয় জিনিস খাওয়ার ইচ্ছে জাগে। রোদেলা তো বড্ড খুশি, একটু পর পর ইরার পেটে কান পেতে শোনার চেষ্টা করছে বেবি নড়ছে কিনা। কিন্তু কিছুই শুনতে না পেয়ে হতাশা ভুগছে মেয়েটা! ইরা তো হেসে শেষ, বার বার বলছে বেবি এখনো বড় হয়নি। একটু একটু করে বড় হলে তারপর দেখতে পাবে বেবি কিভাবে নড়ে। রোদেলা জবা সিকদারের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে-
“ দিদু, আনিও কি এত্ত ছোটো ছিলাম? আনি কি পাপার পেতেও এইভাবে ছিলাম।”
জবা সিকদার হেসে রোদেলাকে কোলে উঠে বলে-
“ হুম ওইখানেই ছিলে তুমি, তারপর আস্তে আস্তে বড় হয়েছো তো।”
“ তাহলে এই বেবি কেনো ইরামুর কাছে? চাচুর পেতে নেই কেনো?”
“ চাচুর আর বাবার পেটে কিভাবে বেবি থাকবে বল। বেবি তো মায়ের পেটে থাকে।”
“ না, পাপা বলেছে আনি পাপার কাছ থেকে হয়েছি।”
জবা সিকদার হেসে ফেললো। আর বোঝালো বা রৌদ্রিক যা বলবে তাই হবে রোদেলার কাছে।
“ হ্যাঁ বাবা তোর বাপের পেট থেকে হয়েছিস এবার খুশি?”
রোদেলা আনন্দে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো। জবা সিকদার ভালো কাঁথা সেলাই করতে পারে সেগুলোই করছেন টুকটাক। ইরার সবকিছু স্বপ্নের মত লাগছে, এই পরিবারটা সত্যি আলাদা একটা শান্তির জায়গায় তার জন্য। এই বাড়িতে আশার পর কোনোদিন মনে হয়নি এই মানুষগুলো পর। বরং সবসময় মনে হয়েছে তার জীবনে সেই আকস্মিক বিয়েটা হওয়া ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। ইরা বুঝতেই পারে না এখানে কে আসলে তার শ্বাশুড়ি। তিনটি মানুষই তাকে নিজের ছেলের বউয়ের মত করে আদর করে। তাকে করে শুধু এমনটা না তূর্ণাকেও একই ভাবে আদর করে। মনেই হয় না এরা তার চাচি শ্বাশুড়ি। ছোট থেকে একক পরিবারে বড় হয়েছে তাই যৌথ পরিবার কেমন হয় জানা ছিলনা তার।
রৌদ্রিকের সামনে একটু পর পর নাক টেনে যাচ্ছে তূর্ণা। সামনেই রৌদ্রিক নির্লিপ্ত ভাবে তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে, অথচ তারমধ্যে কোনো হেলদোল নেই।
কাঁদতে কাঁদতে চোখ-মুখ লাল করে ফেলেছে। রৌদ্রিক এবার হালকা কঠিন স্বরে বলে-
“ কান্না থামাও!”
তূর্ণা থামলো না। রৌদ্রিক বুঝলো এবার তূর্ণা বেবি নেওয়ার ভূত ভালো করেই চেপেছে। ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে তার সঙ্গে রয়েছে, বার বার একই কথা তার বেবি চাই।
“ কান্না থামাও তূর্ণা। আমি কি ম’রে গেছি যে এত কান্না করছো।”
রৌদ্রিকের এমন কথা শুনে তূর্ণা চমকে তাকালো। এইসব কি ধরনের কথাবার্তা রৌদ্রিকে। হালকা রাগ লাগলো তূর্ণার তাই রাগ দেখিয়ে বলে-
“ একদম উল্টা-পাল্টা কথা বলবেন না আমার বরকে নিয়ে বলে দিচ্ছি।”
রৌদ্রিকের হাসি পেলো হয়তো, তবে সে হাসলো না। বরাবরের মতোই শান্ত রইলো।
“ যাও পড়তে বস, ভেবো না এইসবের মাঝে পড়া নেওয়ার কথা ভুলে গেছি। মিস মোহার কাছে ঠিক মত পড়া দিচ্ছো না কেনো?”
“ খালি পড়া, আর পড়া। পড়া ছাড়া আমায় ভালোই বাসে না!”
“ মা কাঁতো কেনু?”
হঠাৎ রোদেলার কণ্ঠস্বর পেয়ে তূর্ণা যেনো আরও আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলো। এত আদুরে ভাবে জিজ্ঞেস করায় তূর্ণা যেনো আরও গলে গেলো। অশ্রুসিক্ত নেত্রজোড়া রোদেলার দিকে তাক করে বলে-
“ তোমার পাপা আমাকে বেবি দিচ্ছে না। তুমি তো একটা ভাই চাও তাই না, কিন্তু তোমার পাপা সেটা দিচ্ছে না।”
তূর্ণার কান্না দেখে রোদেলার ছোট্ট মনটা কেঁদে উঠলো। সহ্য হলো না মায়ের কান্না! এগিয়ে দিয়ে মায়ের গলা জড়িয়ে ধরলো তারপর অতি যত্ন নিয়ে ;ছোট ছোট নরম হাত দ্বারা তূর্ণার গালে লেপ্টে থাকা অশ্রুকণা গুলো মুছে দিয়ে বলে-
“ কাঁতে না, আনি বকে দিবো পাপালে দারাও।”
বলেই ছোট পা ফেলে এগিয়ে গেলো বেডসাইডের টেবিলের কাছে।সেখানে একটা চশমা রাখা আছে একদম রাশেদুল সিকদারের চশমার মতো। রাশেদুল সিকদারের এই চশমা রোদেলার ভালো লাগে দেখে, নাতনির জন্য পাওয়ার ছাড়া এমনি এনে দিয়েছে। রোদেলা সেটা নিজের চোখে পরে নিলো, তারপর একদম রৌদ্রিকের মত গম্ভীর মুখশ্রী খানা তৈরি করলো। এযেনো স্বয়ং রৌদ্রিকের ছোট ভার্সন। রৌদ্রিকের একদম সামনে এনে দাঁড়ালো, তারপর রৌদ্রিকের মত করেই দাঁড়িয়ে তারই ভঙ্গিমাতে বলে-
“ তোমার জন্য মা তীবন যুদ্ধে হেলে যাচ্ছে। পিপি বলেছে মা পিতিয়ে গেছে। আমাল বেবি চাই পাপা, আনাকে ভাই এনে দাউ। নাহয় মাইল দিবো একদম!”
রোদেলার এমন কথা শুনে রৌদ্রিক কি বলবে খুঁজে পেলো না। এতসব কোথা থেকে শুনলো এই মেয়ে? রিনি যে রোদেলাকেও একই ভাবে এইসব বুঝিয়েছে বেশ বুঝছে। রৌদ্রিকের মেয়ের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে বলে-
অবেলার প্রণয়ভেলা পর্ব ৩৯
“ পাপার কপি করছো? বাহ! ভাই চায় রোদেলা?”
রোদেলা অভিজ্ঞদের মত মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ জানালো তার চাই। রৌদ্রিক হেসে ফেললো এবার, মা-মেয়ে আন্দোলনে নেমেছে এইসবের।
“ করতে থাকো আন্দোলন। পাশে আছি সঙ্গ দিবো নি!”
