Home আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (২)

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (২)

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (২)
অরাত্রিকা রহমান

মিরা বাড়ির ভেতরে এসে সঙ্গে সঙ্গে সোরায়ার কাছে গিয়ে বসলো। সোরায়া মিরাকে পাশে পেতেই একটু উৎফুল্ল হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“আপু..কে কে এসেছে?”
মিরা মাহিরের আসার খবর নিজের থেকে সোরায়াকে না দিয়ে উল্টো সোরায়া এই ব্যপারে কিছু জানে কিনা তা যাচাই করার জন্য এমনি স্বাভাবিক ভাবেই বলল-
“আরে..তোর কিছু ভাবি আর ননদ এসেছে। আর কেউ তো এলো না।”
এ কথায় সোরায়ার মুখটা সামান্য মলিন হতে দেখে মিরা বুঝে গেল মাহিরের মেয়ে সেজে এখানে আসা সম্পর্কে সোরায়ার হয়তো কিছু জানা নেই। সে একটু নীরবতা রেখে সোরায়ার দিকে ঝুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“আর কারো কি আসার কথা ছিল?”

সোরায়া ঠোঁটে সূক্ষ্ম বানোয়াট হাঁসি রেখে মাথা না সূচক নাড়িয়ে বলল- “উঁহু, এমনি জিজ্ঞেস করলাম।”
মিরা এবার নিশ্চিত হলো যে সোরায়া আদতে মাহিরের এখানে লুকিয়ে আসার ব্যাপারে কিছু না জানলেও মাহির আসবে এমনটা আশা করছিল। আর এই আশা সত্যি হয়নি বলেই এতো উদাস মন তার। মিরা তার বাচ্চা সুলভ ছোট্ট বোনের গালে হাত রেখে আদুরে গলায় বলল-
“আমার ছোট্ট বনু টা কত বড় হয়ে গেছে। কাল তার বিয়ে। এমন দিনে মন মরা করে রাখতে আছে? মন খুলে আনন্দ কর। তোর যা চাই ঠিক পেয়ে যাবি।”
সোরায়া মিরার কথার মানে ঠিক মতো না বুঝেই মিষ্টি হাসলো। মিরা সোরায়ার হাস্যোজ্জ্বল মুখটা দেখে মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“যাকে চাইছিস তাকে তো পাবি বনু। কিন্তু নতুন জামাইকে একটু হেনস্থা না করলে কি আর বিয়ে বাড়ি জোমবে বল? Advance sorry..”
মিরা কথাটা মনে মনে চিন্তা করেই হিহি করে হেঁসে উঠলো। কে জানে কি দুষ্টু বুদ্ধি পাকিয়েছে!

এইদিকে বাড়ির পিছন দিকে অন্য রকম সার্কাস বসেছে মনে হচ্ছে। বোরকা পড়া ৬ ফুট লম্বা একটা বলিষ্ঠ ছেলে, হিজাব নেকাবের ঠিক ঠিকানা নেই, মনে হচ্ছে এই খুলে পড়ে যাবে- দৌড়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে আর তার পিছনে আরেকজন একটা পাতা বাহার গাছের টব মাথায় তুলে তাড়া করছে।
-“মাহিরের বাচ্চা.. দাঁড়া বলছি। নয়তো এই টব তোর মাথায় মারবো আমি। ওখানেই দাঁড়া।”
-“পাগল কুত্তায় কাটেছে নাকি আমারে যে দাঁড়াবো? তোকে কোনো বিশ্বাস নেই। কাল আমার বিয়ে এখন কিছুতেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া যাবে না।”

রায়ান মাহিরের পিছনে ছুটা বন্ধ করে হাতের টব টা মাটিতে আছাড় মেরে চেঁচিয়ে বলল-
“কাল বিয়ে তো আজ নেকামি করে সং সেজে বউ দেখতে এসেছিস কেন? কাল থেকে তো তোরই হয়ে যেতো।”
মাহিরও ছুটা থামিয়ে হাঁটুর উপর হাত রেখে, ভর দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল-
“তুই বিয়ের আগে বউকে লুকিয়ে দেখতে আসার মজা কি বুঝবি? তুই তো বউ তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছিস।”
এটা যেন কাটা গায়ে একদম নুনের ছিটে ছিল। রায়ান পুনরায় মাটি থেকে টব তুলতে গেল-
“শালা তোর বিয়ের জন্য কত কি করছি আমি। নিজের বউ বাচ্চার ও ঠিক মতো খেয়াল রাখতে পারছি না কাজের ব্যস্ততায় আর তুই বেইমান আমাকেই খোঁচা দেস। তোরে আমি..!”
মাহির দ্রুত রায়ানের কাছে এসে রায়ানকে আষ্টেপৃষ্ঠে জাপটে ধরে মিনতির সুরে বলতে লাগলো-
“আচ্ছা সরি সরি! এমন করিস কেন? তুই না আমার ভাই। ভাইয়ের জন্য এই টুকু তো মানুষ করেই তাই না বল?”
রায়ান টব ছেড়ে এখন মাহিরের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে করতে বলল-
“মাহির ছাড় আমাকে। তুই আর আমার মানসম্মান খাইছ না ভাই। মাফ কর। আমি এই বাড়ির বড় জামাই। বাড়ি ভর্তি মানুষ, কেউ যদি তোকে এই রূপে আমাকে জড়িয়ে ধরে থাকতে দেখে, আমাকে চরিত্রহীন লম্পট ভাববে। ছাড়..!”

মাহির রায়ানের দূর্বলতার সুযোগ নিতে একটুও ছাড় দিল না। উল্টো আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রায়ানের কাছে একটা শর্ত রেখে বলল-
“ছেঁড়ে দিবো তো, আগে বল সোরায়া আর আমাকে একা দেখা করার একটা সুযোগ করে দিবি?”
রায়ানের ছটফটানি থেমে গেল। ছেলেটার চোখে এখন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। রায়ান মাহিরের চোখের দিকে তাকিয়ে খ্যাক করে উঠে বলল-
“আমি তোর এই ফালতু প্লেনের আগে পিছে উপর নিচে কোথাও নেই। নিজে এসেছিস নিজে সুযোগ বুঝে দেখা করে নে যা। আমি তোকে চিনি না।”
মাহির জোর করেই রায়ান কে জাপ্টে ধরে বলল-

“আমি জানি না তুই কিছু একটা ব্যবস্থা করে দিবি আমাকে। নইলে ছাড়বো না।”
-“মাহির রাগ উঠাবি না, ছাড় এখনি নয়তো এমন জায়গায় মারবো যে বিয়ের শখ মিটে যাবে একদম।”
মাহির সঙ্গে সঙ্গে রায়ান কে ছেড়ে আলাদা হয়ে দাঁড়িয়ে হতাশাগ্রস্থ কণ্ঠে বলল-
“আজ আপন বলতে কেউ নাই আমার। মানুষের ফ্রেন্ড রা কত..!”
-“চুপ কর ভাই আমার। বুঝছি তো! আর কিছু বলা লাগবে না।”
রায়ান নিজের পাঞ্জাবি ঝেড়ে। মাহিরের নাটকীয় সংলাপের ধারা অব্যাহত হওয়ার আগেই তাকে থামিয়ে দিল। হঠাৎ রায়ানের ফোনের রিংটোন বাজলো। মুখে বিরক্ত ভাব নিয়ে রায়ান নিজের ফোনটা পকেট থেকে বের করলো-
“সবাই কিছু একসাথে মরা মরে কেন খোদা? অশান্তি..?”
ফোনের স্ক্রিনে জ্বল জ্বল করছে “হৃদপাখি” নামটা। মিরা কল করেছে দেখে রায়ান তাড়াতাড়ি কলটা রিসিভ করলো-

“হৃদপাখি..আর ইউ ওকে বেইব?”
-“হাবি..! একটা হেল্প করবেন?”
-“হ্যাঁ, অবশ্যই সোনা। কি লাগবে তোমার বলো শুধু?
শরীর খারাপ করছে? কিছু খাবে? পেটে ব্যাথা করছে না তো আবার? আচ্ছা ওয়েট আমি আসছি?”
-“আরে না না, আমার কিছু হয় নি ঠিক আছি। আসতে হবে না। বিষয়টা বনুকে নিয়ে। কাজটা করে দিন, তাহলেই হবে।”
-“চড়ুই পাখিকে নিয়ে? কি হয়েছে ওর?”
রায়ানের চিন্তিত গলায় সোরায়ার কথা শুনে মাহির রায়ানের কাছাকাছি এসে তাকে উদ্বিগ্ন হয়ে ফিসফিসিয়ে বলল-
“স্পিকারে দে ফোন।”

রায়ান মাহিরের কথায় প্রথমে রাজি না হলেও মাহির হাত জোড় করে বলায় সে মিরার কলটা স্পিকারে রাখলো।
-“আরে পেনিক করছেন কেন? তেমন কিছু না। আসলে আমি নিচে আছি তো বনু উপরে আমার সিঁড়ি বেয়ে আর উপরে উঠতে ইচ্ছে করছে না। আপনি একটু ওকে নিয়ে আসবেন প্লিজ। ও একা ঘরে বসে আছে।”
সোরায়া তার রুমে একা কথাটা কানে যেতেই মাহির বেশ খুশি হলো যেন কাঙ্ক্ষিত সুযোগ টা পেয়েই গেছে। কিন্তু রায়ান মিরার কথায় আগা মাথা কিছুই খুঁজে পেলো না‌। বাড়িতে এতো মানুষ থাকতে মিরা তাকেই কেন ফোন করবে!? রায়ান বিষয় টা পরিষ্কার ভাবে বুঝার জন্য মিরাকে অন্য উপদেশ দিয়ে বলল-
“কিন্তু বেইবি, আমি কিভাবে চড়ুইয়ের ঘরে যাই বলো! তুমি বরং রিমিকে পাঠাও।”
রায়ানের পাল্টা কথায় মাহিরের শুধু মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া বাকি ছিল। তার প্রাণের বন্ধু তার বউয়ের সাথে দেখা করার এমন সুবর্ণ সুযোগ টা তার থেকে কেড়ে নিচ্ছে বলে বুকটা যেন তার ফেটে যাচ্ছে। মিরা অপর পাশ থেকে শান্ত তবে বেশ মায়া মায়া মোহ লাগিয়ে বলল- “রিমি মেহমান দের দেখছে।”

-“আম্মু বা খালামণি কে বলো।”
-“মামণি আর চাচি কাজ শেষ করে সবে রেডি হতে গেল। আশে পাশে আর কেউ নেই।”
-“পাত্রক্ষের এতো জন এলো ওদের বাড়ির বউ যেহেতু ওরাই নিয়ে আসুক। তুমি ওদের বলো।”
মিরা এবার বিরক্ত হয়ে গেল। জোরে চেঁচিয়ে উঠলো রায়ানের উপর-
“একটা কাজ দিয়েছি, আদরের বউয়ের জন্য এটুকুও করতে পারবেন না আপনি? আমাকে অন্য কাউকে বলতে হবে? দরকার নেই থাক। আমিই সিঁড়ি বেয়ে ওকে নিয়ে আসছি। এরপর আমার কিছু হলে বুঝে নিয়েন।”
রায়ানের মিরার কথায় সন্দেহ হলো। যেই মেয়ে তার চিন্তার বিন্দু মাত্র পরোয়া করে না, সাড়া দিন সিঁড়ি দিয়ে উঠার নামা করে তার আজ এতো অভিযোগ! চাইছে কি মেয়েটা! যাই হোক বউয়ের কথার মানে উল্টো হলেও তার মূল্য অপরিসীম। রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরাকে শান্ত করতে বলল-
“ওকে ওকে চিল, শান্ত হও। আমি যাচ্ছি। তোমার যেতে হবে না। রেস্ট নাও। কিছু খাও। ওকে?”
মিরার রাগী গলা সঙ্গে সঙ্গে শান্ত হয়ে এলো। রায়ানের হাড় মেনে নেওয়াতে খুব খুশি হয়ে রায়ানের কথা মেনে নিল-
“ওকে হাবি…লাভ ইউ।”
-“হুম..লাভ ইউ মোর।”
ফোনটা কাটতেই মাহির রায়ানের উদ্দেশ্যে ঠেস মেরে বলল-“তোর থেকে তো ভাবিই ভালো। অজান্তেই আমার কত বড় হেল্প করলো। মানুষ ঠিকই বলে- ভাবি মায়ের সমান। তুই থাক তোর যাওয়া লাগবে না। আমি যাই আমার বউয়ের কাছে।”
মাহির নিজের নেকাব ঠিক ঠাকই করে পড়ে নিল।

সোরায়ার ঘর~
খোলা দরজা টা আলতো করে চাপিয়ে রাখা। বাইরে থেকে সামান্য ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল। বিছানায় সোরায়ার জায়গায় বসে আঙুর খেতে খেতে আলতায় রাঙা নূপুর পরিহিত পা দুলাচ্ছে মিরা। বোরকা পড়া মাহিরের অপেক্ষাই করছিল সে, আর তখনি দরজা খুলে বোরকা পড়া এক বলিষ্ঠ মানবের আবির্ভাব হলো। মিরাকে দেখে আখাম্বা লম্বা মানুষ টা থ মেরে দাঁড়িয়ে গেল, যেন খুব আশ্চর্য হয়েছে মিরাকে দেখে। কালো কাপড়ে ঢাকা মানুষটাকে বেশ অপ্রস্তুত অবস্থায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মিরা খিলখিল করে হেঁসে ধপ করে বিছানা থেকে নেমে, দুহাত পিছনে বেঁধে হেঁয়ালি করে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে আসতে আসতে বলতে লাগলো-
“এ বাবা , কি হলো এটা? এখানে তো সোরায়ার থাকার কথা তাহলে আমি কেন? হিহি..! যাই বলুন, বোরকায় বেশ মানিয়েছে আপনাকে মাহির ভাই। বনু দেখলে পুরো ফিদা হয়ে যেতো। কিন্তু মাহির ভাই..এর পর কখনো মেয়ে বেশ ধারণ করলে জুতাও মেয়েদের পড়বেন, আরো ভালো মানাবে। হিহি।”
সামনে থেকে কোনো প্রতি উত্তর আসছে না দেখে মিরা অধৈর্য হয়ে বলল-
“আর লুকোচুরি ভালো লাগছে না মাহির ভাই। আই এম বোর্ড।”
মাহির তবুও একচুলও নড়ছে না বলে মিরা নিজের থেকেই মাহিরের নেকাব উঠিয়ে দিয়ে বলল-

“ধাপ্পা..!”
-“হাই, মাই টুউ মাচ চালাক চতুর ওয়াইফি..!”
নেকাব সরানোর পর বোরকার আড়ালে মাহিরের বদলে রায়ান কে দেখ মিরা আশ্চর্য হয়ে হলো-
“রায়ান..আ.. আপনি..! আপনি কেন? কিভাবে? মাহির ভাই কোথায়?”
রায়ান বাঁকা হেঁসে মিরাকে খেপাতে বলল-
“আমি ড্যাম সিওর মাহির আর তুমি মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই বোন। মানে এতো কাঁচা প্লেন কেউ কিভাবে করে? একজন মেয়ে সেজে ছেলে মানুষের জুতা পড়ে এসেছে, তো আরেকজন বোনকে গ্রাউন্ড ফ্লোরে বসিয়ে রেখে সে উপরে আছে বলে জাল পেতেছে। লাইক সিরিয়াসলি? (মিরায়ার দিকে ঝুঁকে সরল মুখ করে) Do I look that much idiot to you baby?”

মিরা বাচ্চাদের খেলা নষ্ট হয়ে গেলে ঠিক যেমন বিরক্ত মুখভঙ্গী করে ঠিক তেমন মুখ বানিয়ে বিছানায় গিয়ে ধপ করে বসে পড়লো। বউয়ের অভিমান দেখে রায়ান নিজের মাথা ঝাঁকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ধীর পায়ে মিরার কাছে এগিয়ে গিয়ে ঠিক মিরার পাশে বসে মিরার মাথায় আলতো করে হাত রাখল। মিরা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রায়ানের হাত নিজের মাথা থেকে সরিয়ে দিয়ে নিজে নিজে তার ভেতরের ছোট আত্মাটাকে বলল-
“প্রিন্সেস তোমার পাপাকে বলে দাও। মাম্মার মুড অফ। মাম্মার সব মজা নষ্ট করে দিয়ে একদম ঠিক করেনি সে।”
রায়ান হাফ ছেঁড়ে মুচকি হাসলো। যত দিন যাচ্ছে তার বুঝদার বউটা কেমন যেন আরো অবুঝ হয়ে যাচ্ছে। যদিও মিরার এই দিকটা কখনোই তার বিরক্তিকর লাগে নি বরং বেশ ভালোই লাগে। রায়ান মিরার মাথায় আবারো হাত রেখে মিরার ধাঁচেরই প্রতি উত্তর করলো-

“প্রিন্সেস, তোমার পাপা যে তোমার মাম্মা কে হাসানোর জন্য বোরকা পড়ে এসেছে তা কি তার চোখে পড়ছে?”
মিরা রায়ানের কথায় তার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকালো। বেশ সূক্ষ্ম চোখে পা থেকে মাথা অব্দি রায়ানকে দেখলো। তার হাসি তো পেলো, কিন্তু সে ভুলেও হাসলো না। মুখ গম্ভীর করে বলল-
“বোরকা টা খুলে ফেলুন। বিচ্ছিরি দেখাচ্ছে।”
রায়ান নিজের বুকের বা পাশে হাত চেপে ধরে নাটকীয় সুরে বলল-
“আউচ..! খুলতেও বললা, তাও কি? সব ছেঁড়ে বোরকা..?!”
মিরা রায়ানের এই কথা শুনে আর নিজের হাঁসি ধরে রাখতে পাড়লো না। ফিক করে হেঁসে উঠলো। রায়ানও সাথে হেসে উঠলো। কায়দা করে ছোট্ট মেয়ে দেহটাকে নিজের সাথে লাগিয়ে নিল সে। পরম যত্নে মিরার কপালে , দুগালে, নাকে, থুতনিতে চুমু খেলো। আর সব শেষে তার প্রিয় ঠোঁট জোড়ার উপর বৃদ্ধা আঙ্গুল ছুঁইয়ে কিছু একটা পরখ করে যেই নিজেকে সেখানে বিলিন করতে যাবে তখনি মিরা হাঁসি থামিয়ে আবার গোমড়া মুখ করে রায়ানের থেকে দূরে সরে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“তখন মাহির ভাই কে জড়িয়ে ধরতে গেছিলেন কেন? ছেলে হলেও ছিল তো মেয়ে বেশেই।”
-“আমি জানতাম ওটা মাহির। তোমাকে থামাতেই তো ভুলে ওকে ওইভাবে…(মিরা কে খেপানোর চেষ্টা করে) Are you jealous baby ?”
মিরা বাজ পাখির ন্যায় ছোট ছোট চোখ করে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
“Jealousy আবার কি..? আমার তো জেন্ত কবর দিতে ইচ্ছা করে।”
রায়ান শব্দ করে হেঁসে উঠলো। মিরার অভিমানী ফোলা গাল গুলো টেনে দিয়ে আদুরে গলায় বলল-
“You look so mine..when you are jealous, my Mrs..”

মিরা লাজুক হেঁসে মাথা নিচু করে নিল। রায়ান ঘাড় কাত করে মিরার লজ্জায় রাঙা মুখ টা দেখার চেষ্টা করলো। বউয়ের লজ্জায় ঢাকা মুখ খানি দেখার সৌভাগ্য তো আর সব সময় হয় না। দিনে একবার দুবার যাও সে সামান্য লজ্জার কারণ হতে পারতো এখন মিরার শারীরিক অবস্থার জন্য সেটুকুও পারছে না। মিরা একটু মুখ তুলে রায়ানের দিকে চাইলো‌। চোখে চোখ পড়তেই পুনরায় চোখের পাতা নামিয়ে নিল। রায়ান মিরা থুতনিতে হাত রেখে মেয়েটার মুখ উঁচু করে নিজের মুখোমুখি করে শান্ত ঘোর লাগানো চাহুনি যে মিরার দিকে তাকিয়ে বলল-
“আমি নিশ্চিত, আজ আমার চাঁদ কে দেখে ওই আকাশের চাঁদের ও লজ্জা লাগছে।”
মিরা লাজুক হাসলো। কিন্তু নিজের উদ্দেশ্য থেকে আর মনোযোগ ব্যাহত করলো না। হাসি মুখেই জিজ্ঞেস করলো-
“হাবি..আপনি এখানে..তো মাহির ভাই কোথায়?”
রায়ান ও মিরার মতো হেঁসে হেঁসে উত্তর দিল-

“মাহির মাহিরের বউয়ের কাছে। আর আমি আমার বউয়ের কাছে।”
মিরার মুখের হাঁসি উধাও হয়ে গেল। বিছানা থেকে চট করে নেমে গিয়ে জোরে চেঁচিয়ে উঠলো-
“কিহ্? বউয়ের কাছে মানে?”
রায়ানও বিছানা থেকে নেমে গিয়ে মিরার উপর চড়াও হয়ে বলল-
“তুমি কনে পক্ষ, বর পক্ষ কে হেনস্থা করতে চাইতেই পারো। আমিও তো বর পক্ষের, আমাকে তো ডিফেন্ড করতে হবে আমার বন্ধু কে।”
মিরার চোখ দুটো আশ্চর্যে বড় বড় করে নিয়ে প্রশ্ন করলো- “মানে..কি করেছেন আপনি?”
-“চরের উপর বাটপারি।”

(ফ্ল্যাশব্যাক)
মিরা ফোন কাটার পর পর রায়ান মাথায় হাত দিয়ে মাহিরের অবস্থা দেখে তার মজা উড়িয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-
“বউটাতো আমার তাই আমি জানি- ওর দ্বারা কি কি সম্ভব। হঠাৎ আজ লাভ ইউ বেরোলো ম্যাডামের মুখ থেকে তাও এমন কারণে! সামথিং ইজ ফিসি..!”
রায়ান কিছু একটা ভেবে নিজের ফোন থেকে সোরায়া কে কল করলো। ফোনটা এক থেকে দুবার বাজতেই রিসিভ হলো।
-“হ্যালো রায়ান ভাইয়া..!”
“হ্যাঁ হ্যালো, সোরা..! মিরা কোথায় রে?”
সোরায়ার কণ্ঠ শোনার সাথে সাথে মাহির থমকে গেল। ফিরে আবার রায়ানের কাছে এলো দ্রুত গতিতে। রায়ান হাত উঁচু করে মাহির কে চুপ থাকতে বললো।

-“আপু তো একটু আগেই উপরে গেল।”
-“তুই কোথায় তাহলে?”
-“আমি তো রিমি আপু আর বাকিদের সাথে নিচে স্টেজে বসে আছি।”
সোরায়ার কথা শুনে রায়ান নিচের ঠোঁট কামড়ে হেঁসে মাহিরের দিকে তাকালো। মাহির ও হতবাক। রায়ান সোরায়াকে আর কিছু না বলে সম্পূর্ণ বানোয়াট কাহিনী শুনালো-
“চড়ুই মিরার একটু হেল্প লাগবে তোর। ছাদে যা তো।”
-“আপু ছাদে? এই সময় ছাদে কেন? কি হয়েছে? কি হেল্প লাগবে?”
-“আরে, তোকে দরকার আমাকে তো বললো না কিছু। যা না…!”
-“আচ্ছা আচ্ছা, যাচ্ছি।”
রায়ান ফোন কেটে দিল। মাহিরের মাথায় সব তালগোল পাকিয়ে গেছে। কে কোথায়! কার কি হেল্প! সব মাথায় জোট পাকিয়ে গেছে। রায়ান মাহির কে ঠিক করে বুঝিয়ে বলল-
“শোন, মিরা সাম হাও তোকে চিনতে পেরে গেছে। এই ভাবে ধরা খেলে মানসম্মান সব যাবে। যা বলছি তা কর।”
মাহির সম্মতি দিলে রায়ান মাহির কে প্লেনটা বুঝিয়ে বলল-
“তুই এখন মাহির হয়ে ছাদে যাবি। সোরা ছাদে যাবে এখন ওখানে মিরা আছে এই ভেবে। বুঝলি?”
মাহির একদিকের হিসেব বুঝলো কিন্তু কৌতুহলে প্রশ্ন করলো-
“তাহলে ভাবির কাছে কে যাবে?”
রায়ান মাহিরের মাথায় গাট্টা মেরে বলল-
“আমার বউয়ের কাছে আমি যাবো। তুই তোর বউয়ের কাছে যা। আর এই বোরকা খোল। আমি তোর বেশ নিয়েই যাবো। তোকে চিনলো কিভাবে এটাও তো জানতে হবে।”
অতঃপর যা হওয়ার তা তো হলোই।

মিরা রায়ানের মুখে সম্পূর্ণ কাহিনী শুনে আগুপিছু কিছু না ভেবেই দ্রুত পায়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল ঘর থেকে বের হতে। রায়ানও তাড়াতাড়ি দৌড়ে গিয়ে মিরার কোমর জড়িয়ে ধরে শূন্যে তুলে নিল মেয়েটাকে। মিরা রায়ানের থেকে ছাড়া পেতে ছটফট করতে করতে বলল-
“ছাড়ুন আমাকে। এখন গেলে ওদের হাতে নাতে ধরতে পারবো।”
-“আচ্ছা, সমস্যা কোথায়? একটু কথা বলুক না। এমনিতেও কাল তো বিয়ে হয়েই যাবে।”
-“আরে আমি কি ওদের শত্রু নাকি? সোরা নিজেও মাহির ভাইয়ের সাথে দেখা করতে চাইছিল। আমি তো শুধু একটু মজা নিতে চাইছি‌।”
রায়ান মিরাকে বিছানায় নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে বলতে নিল-“হৃদপাখি..আমার কথা বোঝার চেষ্টা..!”

-“আপনি যদি এখন আমার সাথে হাত মেলান তাহলে আপনাকে আপনার পছন্দের সুইট রিওয়ার্ড দিবো।”
রায়ান ভ্রু কুঁচকে মিরার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“আমার পছন্দের সুইট?”
মিরা দাঁত বের করে হেঁসে রায়ানের গলা জড়িয়ে ধরে ছেলেটার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কিছু একটা বলল। সম্ভবত মিষ্টির পরিচিতি 🌚..!
রায়ানের গলা শুকিয়ে এলো। শুকনো ঢোক গিলে নিল যেন হঠাৎ বেশ তৃষ্ণার্ত লাগছে তার। সে দ্বিধায় প্রশ্ন করলো-
“সত্যি দিবা তো? চিটিং করলেও ছাড় দিবো না বলে দিচ্ছি আগেই।”
-“ওকে ডিল। আমি চিটিং করলেও আপনার স্বাধীনতা রইল নিজের প্রাপ্য জিনিস আদায় করার। এবার বলুন..Are you in?”

-“Of course.. I am so in for it…I am so into you as well..”
মিরা মুখ টিপে হাসলো। তার রায়ান কে কাবু করতে কয়েক সেকেন্ডের বেশি লাগবে না এটা তার নিজের উপরে বন্ধ বিশ্বাস ছিল। মিরা বিছানা থেকে নেমে রায়ানের হাত টেনে দরজার দিকে এগিয়ে যেতে নিলে রায়ান এক জায়গায় ই থমকে দাঁড়িয়ে রইল। মিরা অনেক বার টানলো কিন্তু তাতে ছয় ফুট উচ্চতার অধিকারী পুরুষটার কোনো হেলদোল দেখা গেল না। মিরা অধৈর্য হয়ে রায়ান সামনে এসে মাথা উঁচু করে রায়ানের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কি হলো আবার? দাঁড়িয়ে গেলেন কেন?”
রায়ান আইফেল টাওয়ারের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে সোজা তাকিয়ে বলল-
“এনার্জি নেই, চার্জ শেষ।”

মিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, সে জানে রায়ান কি ডিমান্ড করছে। এখন কথা না রাখলেও চলবে না বেচারির।
-“নিচু হন একটু। এভাবে সোজা দাড়িয়ে থাকলে নাগাল পাবো কিভাবে?”
রায়ান হাঁফ ছেড়ে নিজের পড়নে থাকা বোরকা খুলে ফেলে পাঞ্জাবি টানটান করে ঠিক ঠাকই করে মিরার উচ্চতা অনুযায়ী ঝুঁকতে ঝুঁকতে মিরাকে খেপানোর উদ্দেশ্যে বলল-
“বেটে বউ বিয়ে করার যে কি জ্বালা..!”
-“তাই নাকি?”
মিরা ভ্রু উঁচু করে রায়ানের কথায় প্রতিক্রিয়া দেখলে রায়ান ও নিজের কথায় সম্মতি দেয় মাথা নেড়ে। মিরাও রায়ান কে খেপানোর উদ্দেশ্যে তার পাঞ্জাবির কলার সোজা করতে করতে বলল-
“তাহলে কি আমার নিজের লেভেল অনুযায়ী কাউকে খুঁজে নেওয়া উচিত?”
বেশ এই কথায় রায়ানের গায়ে বেশ ফোস্কা পড়লো। সেকেন্ডের ব্যবধানে মিরাকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় হুমকির সুরে বলল-

“খুন করে ফেলবো একদম।”
মিরা ভয় মনে মনে নিজেকে দোষারোপ করলো-
“হায় খোদা, কেন বলতে গেলাম এটা।”
রায়ানের চিন্তা চেতনার পরিধির ব্যাপ্তি ঘটলো না বরং চোখ জোড়ার সাথে হৃদস্পন্দন, মস্তিষ্ক একসাথে ষড়যন্ত্র করে স্থির হলো মিরার কমল লাল টুকটুকে ওষ্ঠযুগলে। মিরা রায়ানের দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজের ঠোঁটের পথ ঠাওড় করে একটু আঁতকে উঠে কিছু বলতে চাইলো-
“রা.. উমম্..!
ব্যাস! উক্তির বহিঃপ্রকাশ এতো টুকু তেই থামলো। কাঁপা কাঁপা আঙুলে মেয়েটা রায়ানের পাঞ্জাবির কিছু অংশ আঁকড়ে ধরলো। এতো করে কি ছেলেটাকে আরো উস্কে দিল তা সে নিজেও জানে না। রায়ান মিরার ওষ্ঠের উপর চাপ বৃদ্ধি করলে মিরা রায়ানের পাঞ্জাবি ছেঁড়ে একহাতে রায়ানের ঘাড়ের কাছে একগুচ্ছ চুল মুঠো করে ধরলো। এই উন্মাদ পুরুষের তৃষ্ণা নিবারণের শেষ মূহূর্ত অতিবাহিত হওয়া ছাড়া আজ নিজের মুক্তির কোনো আশা মিরার চোখে ধরা পড়লো না।

একই সময়ে-ছাদে~
-“আপু…আপু..কি হয়েছে তোমার? ঠিক আছো.,?”
উজ্জ্বল নক্ষত্র, আর সাথে কিছু কৃত্রিম রঙিন লাইটে গোটা ছাদ আলোয় জ্বলজ্বল করছে। সম্পূর্ণ ফাঁকা ছাদের মধ্যমণি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সোরায়া- গায়ে হালকা সবুজ ও কমলা রংয়ের লেহেঙ্গা, আর হালকা কিছু গহনা। কার্ল করা চুল গুলো অতিরিক্ত হওয়ায় অবাধ্য রূপ নিয়েছে। সোরায়া ছাদে এসেছে বড় জোড় ২-৩ মিনিট। মিরাকে ছাদের কোনো কোণাতেই দেখতে না পেয়ে সে হতাশ। মনে মনে ভাবলো, হয়তো মিরা তার আসার আগেই নিচে নেমে গেছে নিজের ঘরে। সোরায়া আর দাঁড়ানোর প্রয়োজন বোধ করলো না। লেহেঙ্গার দুই দিক নিজের হাতের মুঠোয় তুলে পিছন ফিরলো ছাদ থেকে প্রস্থান করতে।
হঠাৎ ছাদের লোহার দরজাটা বিকট আওয়াজ করলো- কেউ দরজা খুলছে। সোরায়া মিটিমিটি চাইলো দরজার দিকে। টোটাল ফোর্মাল ড্রেসআপে একজন ব্যক্তি। ছাদে প্রবেশ করে দরজাটা চাপানোর সময় তার প্রসস্থ পিঠ সোরায়ার নজরে পড়লো দূর থেকে‌। এসময় ছাদে কে আসতে পারে না বুঝে সোরায়া শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলো-
“কে ওখানে..? এসময় ছাদে কি?”
অচেনা মানুষটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল-
“একজন অধৈর্য বর। নিজের হবু বউ কে একনজর দেখতে এসেছি। ছাদ ব্যতীত তাকে এখন একা পাওয়া মুশকিল ছিল।”

সোরায়া মাহিরের দিকে কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে রইল। কি হচ্ছে! চোখের সামনে যাকে দেখছে সে কি সত্যিই এসেছে তার কাছে? নিজের চোখকেই যেন বিশ্বাস হচ্ছে না তার। মাহির বিমোহিত চাহুনিতে সোরায়ার মুখোশ্রীর দিকে তাকিয়ে আনমনে বলল-
“মাশাআল্লাহ..কি অদ্ভুত মারাত্মক..!”
সোরায়া সাথে সাথে নিজের মাথা নিচু করে নিলো দ্বিধা ও লজ্জায়। উভয়ের হৃদস্পন্দনের গতির তীব্রতা আকাশ চুম্বি। সোরায়া মাথা নিচু করেই নরম স্বরে জিজ্ঞাসা করলো-
“এই সময় কেন এলেন? কেউ দেখে ফেললে হাসাহাসি করবে।”
মাহির মুচকি হেঁসে দৃঢ়তা সহিত বলল-
“না আসার জন্য হাজার কারণ ছিল কিন্তু আসার জন্য ছিল শুধু একটা কারণ- তুমি..! পৃথিবীর ৮ম আশ্চর্য সৌন্দর্য দেখতে এই একটা কারণই যথেষ্ট ছিল।”
সোরায়া মাথা তুলে মাহিরের দিকে তাকালো। মেয়েটার দুচোখ ছলছল করছে। হয়তো অতিরিক্ত আনন্দে। মাহির নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে তার দু বাহু উন্মুক্ত করে সোরায়া কে নিজের দিকে ডাকলে সোরায়া মনের ডাকে ছুট্টে মাহিরের কাছে গিয়ে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরলো। দুজনেই একে অপরের সংস্পর্শে এসে শান্তি শৃঙ্গের চূড়ায় নিজেদের অনুভব করলো। সোরায়ার মাথায় হাত রেখে মাহির দুচোখ বন্ধ করে একটা লম্বা নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলল-

“মনে হচ্ছে, যেন জানে জান ফিরলো এতোক্ষণে।”
সোরায়া মাহির বুকে মুখ লুকিয়ে লাজুক হেঁসে বলল-
“শুধু শুধু আজ এলেন কেন? আপু, রিমি আপু, ভাইয়ারা আপনাকে দেখলেই মজা উড়াবে।”
মাহির সোরায়া কে আরো শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে সে কথা তুচ্ছার্থে উড়িয়ে দিয়ে বলল-
“Now that you are in my arms.. It’s all gonna be worth it..”
একটা দীর্ঘ আলিঙ্গনে তাদের মূল্যবান কিছু সময় ব্যয় হলে মাহির সোরায়াকে নিজের থেকে আলগা করে মেয়েটার কপালে একটা ছোট্ট স্নেহের পরশ এঁকে দিয়ে বলল-

“আল্লাহ, আমার জান বাচ্চার যেন কারো নজর না লাগে। মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ..!”
সোরায়া বাচ্চাদের মতো ফ্যাল ফ্যাল করে মাহিরের দিকে তাকিয়ে কেবল হাসছে। তার এটা ভেবেই খুশি লাগছে যে মাহির তার সাথে দেখা করতে এসেছে, যা সে চাইছিল। মাহির সোরায়ার হাস্যোজ্জ্বল মায়া ভরা মুখটার দিকে তাকিয়ে সোরায়ার গালে টেনে সাবধান করে বলল-
“এভাবে তাকিয়ে মায়া লাগানোর চেষ্টা করে লাভ নেই। আমি এর চেয়ে বেশি আদর করবো না এখন। বাড়ন আছে।”
সোরায়ার গাল দুটো মাহিরের কথায় লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো। মাথা নিচু করে নিয়ে মনে মনে চিন্তা করলো- সে তো কিছু করার চেষ্টা করছিল না তাহলে মাহির তাকে এটা কেন বলল!? নির্ঘাত তার নিজেরই ইচ্ছে করছে আদর করতে কিন্তু এখন তার সুযোগ নেই বলে সোরায়ার উপর দিয়ে বিষয়টা কাটিয়ে যাচ্ছে। সোরায়াও উল্টো ভাব দেখিয়ে বলল-

“আমি মোটেও মায়া লাগানোর চেষ্টা করছিলাম না। আর আমার আদরের ও দরকার নেই। হুহহ্!”
মাহির বাঁকা হেঁসে সোরায়ার দিকে ঝুকে মেয়েটার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল-
“মায়ায় তো সেই কবে থেকে পড়ে আছি। আর বাকি রইল আদর..সেটার হিসেব কাল থেকে শুরু হবে‌। তুমি নিজ দায়িত্বে বুঝিয়ে দিও, আমি নিজ অধিকারে বুঝে নিব।”
সোরায়া চট করে চোখ দুটো বড় বড় করে মাহিরের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে ভাঙা ভাঙা শব্দে জিজ্ঞেস করলো-“এ্যাঁ…মা..মানে?”

মাহির সোরায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নরম গলায় বলল-
“আজকের জন্য এতো টুকু ইনফরমেশন এনাফ। এখন এই ছোট্ট মাথায় এর বেশি প্রেশার নিলে বেডিতেও এফেক্ট পড়বে। I just can’t afford that..You know?”
সোরায়া শুধু শুনেই গেল বলার মতো কিছুও মুখে আসছে না। যাকগে সে এখন খুব খুশি নিজের মনের স্বান্তনায়। দুজন ছাদের দোলনায় বসে দুলতে লাগলো। বেশ আপন মনে একজন আরেকজনকে নিজেদের বাড়ির মজার কাহিনী গুলো সাজানো গোছানো ভাষায় বলল কি কি হয়েছে। সোরায়া বেশ আগ্রহ নিয়ে সকালে তার আর রুদ্রর ঘটনাও বলল- তা শুনে মাহিরের হাসি থামার নামই নিচ্ছে না। এভাবে করে কখন সময় পার হলো দুজনের কেউই টের পেল না। হঠাৎ মাহির নিজের থেকে উদ্যোগ নিয়ে সোরায়াকে জিজ্ঞেস করলো-
“জান..একটা প্রশ্ন সব সময়ই আমার মাথায় ঘুরপাক খায়। কখনো জিজ্ঞেস করা হয় নি তোমাকে আজ করি?”
সোরায়া মাহিরের বাহু জড়িয়ে বসে ছিল তখন। মুখ টা উঁচু করে মাহিরের দিকে তাকিয়ে সম্মতি দিল-“হুম..!”
-“কলেজের প্রথম দিনে ক্লাস রুমে টিচার ও স্টুডেন্ট হিসেবে প্রথম দেখে হওয়া থেকে আজকে একে অপরকে বিয়ে করার বিষয়টা তোমার স্বপ্নের মতো লাগে না?”
সোরায়া মাহিরের কথায় হালকা হাসলো। তার পর দোলনায় লেহেঙ্গা সামলে পা তুলে মাহিরের দিকে করে বসে মাহির কে উৎসাহিত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো-

“আপনাকে কে বলেছে আমি আমার ক্লাস টিচার এর প্রেমে পড়েছিলাম?”
মাহির অবাক হয়ে পাল্টা প্রশ্ন করলো-
“তো আমি কে?..আমি তো তোমার ক্লাস টিচারই ছিলাম। তুমি আমার প্রেমে পড়নি তো কার..!”
মাহিরের কথা সম্পূর্ণ হতে না দিয়েই সোরায়া আগে আগে বলল-
“ওয়েট ওয়েট, আমি আমার ক্লাস টিচার এর প্রেমে পড়িনি। আমি যার প্রেমে পড়েছিলাম, ভাগ্যক্রমে সে আমার ক্লাস টিচার হয়ে গেছিল। আর দুটো মানুষই আপনি ছিলেন।”
মাহির মাথায় সব হিসেব কেমন গুলিয়ে গেল। সোরায়ার কথায় আগা গোড়া কিছু খুঁজে পেল না। সোরায়া মাহিরের চোখে মুখে আশ্চর্য ভাব দেখে নিজের থেকে পরিষ্কার করে বিষয়টা তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করলো-
“আচ্ছা, আমি বুঝিয়ে বলছি। কলেজে আপনার জয়েনিং ডেটে আপনি রাস্তায় এক বৃদ্ধ দম্পতি কে সাহায্য করেছিলেন কিছু বখাটে লোকদের থেকে বাঁচিয়ে, মনে আছে?”
মাহির নিজের স্মৃতির উপর জোর দিয়ে সেদিনের কথা মনে করার চেষ্টা করলো। কিন্তু অনেক আগের ঘটনা ছিল বলে ঠিক তেমন কিছুই মনে পড়লো না। তবে সোরায়া যা বলছে এমন কিছু সে একবার করেছিল তা খেয়াল আছে। সেটা যে কলেজের জয়েনিং ডেটের ঘটনা তা ঠিক খেয়াল নেই। মাহির সোরায়ার কথায় হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ে সম্মতি দিলে সোরায়া খিলখিলিয়ে হেঁসে বলল-

“সেদিন রিক্সায় বসে আপনাকে মারামারি করতে দেখে তো আমি পুরোই ফিদা হয়ে গেছিলাম। রাস্তায় অচেনা একজন মানুষের উপর ক্রাশ খেয়ে তার সাথে আর দেখা হবে না মেনে নিয়ে বেজার মুখে কলেজে এসে ক্লাস রুমে বসতেই সেই মানুষটা আমার টিচার হয়ে আমার সামনে এলো। আর আজ.,সে আমার বর। (ভাব নিয়ে আকাশ পানে চেয়ে ভাবুক মুখ করে বলল) উমম্..ঠিকই বলেছেন, স্বপ্নের থেকে কম কিছু না।”
মাহিরের চোখে সোরায়ার বলা প্রতিটা শব্দ খুব জোরে প্রতিধ্বনিত হলো। চোখের সামনে কয়েক মিনিটে সম্পূর্ণ ঘটনা কল্পনা করলো। সত্যিই তো, স্বপ্নের থেকে কম কি?! মাহির সোরায়ার দিকে তাকিয়ে তার অতীতের রূঢ় ব্যবহারের জন্য অনুতপ্ত হয়ে বলল-
“সোরা..জান I am so sorry…আমি কল্পনাও করতে পারবো না। এতো মন থেকে কাউকে চাওয়ার পর তার অমানবিক আচরণ তোমাকে ঠিক কতটা কষ্ট দিয়েছে।”
সোরায়া মাহিরের কাতর কণ্ঠ শুনে হেসে বলল-“Thank you for that…”

-“Thank you for what?”
-“বাহ রে, যদি আমাকে না বোকতেন আমি কি দূরে যেতাম? দূরে না গেলে কি আপনি আমার প্রয়োজনীয়তা বুঝতেন? প্রয়োজনীয়তা না বুঝলে কি কখনো আমাকে নিজের করে চাইতেন? নিজের করে না চাইলে কি আমরা আজ এখানে বসে থাকতাম? আর না কাল আমাদের বিয়ে হতো? কিচ্ছু হতো না। So thank you..”
মাহির হা হয়ে কেবল শুনে গেল মেয়ে টার কথা। এই ছোট্ট বয়সে তার কথার ধরন যত সাবলীল মানে তত গভীর অথচ একফোঁটা উপলব্ধি নেই। মাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোরায়া কে আবার জিজ্ঞেস করলো-
“আরেকটা প্রশ্ন ছিল.. করবো?”
-“হুম…!”
-“তুমি কি ছোট থেকেই এতো সুন্দর? না আমার প্রেমে পড়ার পরে হয়েছো?”
সোরায়া খিলখিলিয়ে হেঁসে দুই হাতে মুখ লুকিয়ে নিয়ে লজ্জায় বলল- “যাহ্..! আমার লজ্জা করে না বুঝি?”
মাহির সোরায়া কে নিজের বুকে জড়িয়ে নিয়ে যাবে ঠিক তখনই তাদের দরজা খোলার শব্দ হলো।
-“হাবি.. মেহেদী আর্টিস্ট যে একজন ছেলে তা তো বলেন নি আগে। আর ছাদেই যেহেতু মেহেদী পড়া হবে এতো কষ্ট করে স্টেজ কেন সাজালাম বলুন তো?”
মিরার গলার আওয়াজে মাহির আর সোরায়া হকচকিয়ে দোলনা থেকে নামলো। সোরায়া মাহিরের পিছনে বৃথা লুকানোর চেষ্টা করলো। মিরা আর মিরার ঠিক পিছন পিছন রায়ান বন্য স্বামীর মতো মাহির আর সোরায়ার দিকে এগিয়ে আসছে। মাহির চোখের ইশারায় রায়ানের দিকে চাইলো-

“এইসব কি ভাই..?”
রায়ান ইশারায় অদৃশ্য হাত জোড় করে যেন মিনতির সুরে মাহির কে বলল-
“Sorry রে ভাই, happy wife happy life..”
মাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে মিরার উদ্দেশ্যে কিছু বলতে যাবে তার আগে রায়ান নিজের থেকে মিরার পক্ষ থেকে নাটকীয় কণ্ঠে বলল-
“আরে জামাই রাজা যে..আপনি এখানে?”
মিরা বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে রায়ানের কথায় তাল দিয়ে বলল-
“মৌমাছি তো মৌচাকের আশেপাশেই থাকে। এ আবার নতুন কি..!”
সোরায়া মাহফিলের পিছন থেকে উঁকি দিয়ে মিরার দিকে দেখলো। মিরাও সোরায়া কে দেখলো। সোরায়া খবর লুকিয়ে গেলে মিরা ভাব নিয়ে বলল-

“কি ভেবেছিলেন শুনি? আমার চোখ ফাঁকি দেওয়া এতো সোজা হবে?”
সোরায়া নিজের ভয়কে সাইডে রেখে মাহিরের পিছন থেকে বেরিয়ে এসে বলল-
“আমাদের কি ৫ মিনিটের প্রাইভেসি দেওয়া যায় না? কেমন ভাই বোন তোমরা?”
মিরা সোরায়া কে ধমক দিয়ে বলল-
“সোরা, বেশি কথা না বলে নিচে চল। মেহেদী আর্টিস্টরা এসে বসে আছে। তোর শশুরবাড়ি থেকে কাজিনরাও ভাবিরা এসেছে আর নতুন বউয়ের খবর নেই।”
রায়ান মাহিরের উদ্দেশ্যে বলল-
“জামাই বাবাজি..আপনিও আসুন। দেখা করার সময় শেষ। বাকি টা নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেরে নিয়েন কেমন? আপনারই আমানত। আপনার বাড়িতেই যাবে।”
রায়ানের কথা মাহির পোরায়ার দিকে তাকানোর সাথে সাথে সোরায়া লজ্জায় মাথা নিচু করে নিল। মিরা মাহির আর সোরায়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে খেপানোর উদ্দেশ্যে বলল-

“এক রাতের ব্যাপার মাত্র। এইটুকু সবুরও হচ্ছে না আপনাদের?”
মিরার পিছন দিয়ে রায়ান ও এগিয়ে এসে ভাব নিয়ে বলল-
“সেটাই তো আমাকে দেখ.. কিছু শেখ আমার থেকে। দশটা বছর অপেক্ষা করেছি..!”
মিরা চটে গিয়ে পিছন ঘুরে বলল- ” কিসের অপেক্ষায়? ডিভোর্সের? এসব শিখবে?”
রায়ান উল্টো ধমক দিয়ে বলল-“ওই.. ফালতু কথা তুলো কেন? ওইটা আমি ছিলাম না।”
-“তো কে ছিল?”
-“আরে আমি একটু হ্যান্ডসাম তো তাই এক পরী আমাকে সিঙ্গেল পেয়ে খপ করে ধরে ফেলেছিল। ওইটার প্ররোচনায় একটা ভুল হয়ে গেছে। আমি আসলে নির্দোষ।”
মিরা রায়ানের সহজ স্বীকারোক্তিতে না চাইতেও হেঁসে দিল। সাথে সোরায়াও মুখ টিপে হাসলো। মাহির মিরার কাছে মিনতি করে বলল-

“মিরা ভাবি, আপু, আমি সরি। আসলে আমি সোরা কে খুব মিস করছিলাম। আর থাকতেও পারি নি। একটু ম্যানেজ করে নিন এখন সবাইকে। প্লিজ প্লিজ।”
-“আপু, প্লিজ, চাচি চাচা, আর মামণি বাবাকে কোনো মতো বুঝিয়ে দাও।”
মিরা মাহিরের ব্যাপারে সবকিছু সবাইকে জানিয়েই ওদের ছাদে থেকে নিচে নিয়ে এসে যা মাহির আর সোরায়া জানে না। মিরা একটু ভাব নিয়ে বলল-
“আচ্ছা হয়েছে। চল এবার। দেরি হয়ে যাচ্ছে। কখন মেহেদী পড়বো কখন নাচগান হবে! তাড়াতাড়ি নিচে চল।”
এরপর আর কি ! তারা সবাই নিচে নামলো।

রহমান বাড়ির ড্রয়িং রুম এখন পরিপূর্ণ হয়ে ভরে উঠেছে। চারপাশে গোলাপ আর রজনীগন্ধার মালা ঝুলছে, সাদা ও হলুদের আলোয় পুরো পরিবেশটা আরও উষ্ণ আর উৎসবমুখর লাগছে। মাঝখানে বড় করে সাজানো মেহেদীর আসর—নরম কুশন, রঙিন চাদর আর ফুল দিয়ে ঘেরা। সেখানে বসে আছে মিরা, রিমি আর সোরায়া; তিনজনের মুখেই আলাদা আলাদা উচ্ছ্বাসের আভা। মেহেদী আর্টিস্টরা একমনে নিজেদের শৈল্পিক কাজে ব্যস্ত। মিরা মাঝে মাঝে হাত উঁচু করে নকশা দেখছে, রিমি নিজেরটার পাশা পাশি বাকিদের পাও দেখছে। একজন আরেক জনের টা দেখে পরখ করছেন কার্টা বেশি সুন্দর হচ্ছে। আর দেখে মুগ্ধ হয়ে হাসছে, এদিকে সোরায়ার দুহাতে দুই মেহেদী আর্টিস্ট বসেছে, কনে বলে কথা। সবাই প্লেন করে তাদের হাতে তাদের স্বামীরর নাম লিখালো। মিযা আর রিমি একটু প্লেন করেই মেহেদীর ডিজাইনের ভেতর লুকিয়ে রায়ান আর রুদ্রর নাম লিখালো। সোরায়ার তো সে সুযোগ নেই। মাহির বলেছে দুই হাতে বড় করে যেন তার নাম লিখা থাকে, সবাইকে বোঝাতে হবে না. সে কার বউ!

চারদিকে মেয়েদের হাসি-ঠাট্টা থামছেই না। কেউ মেহেদি শুকোতে শুকোতে ফুচকা খাচ্ছে, কেউ ঝালমুড়ি হাতে গল্পে মশগুল, কেউ আবার জুসের গ্লাস সামলে এক হাতে নকশা বাঁচিয়ে বসে আছে। ছোট ছোট বাচ্চারাও এদিক-ওদিক দৌড়ে বেড়াচ্ছে, মাঝে মাঝে এসে বড়দের হাতে মেহেদী দেখছে বিস্ময়ে। এক পাশে স্পিকারে বাজছে প্রাণখোলা গানের তালে তালে কয়েকজন নেচে উঠেছে। তালি, উল্লাস আর হাসির শব্দে পুরো বাড়িটা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। রিমিকে টেনে নাচের দলে নেওয়া হয়েছে, সোরায়া হাতভর্তি মেহেদী নিয়েই কোমর দুলিয়ে উঠেছে, আর মিরা বসে বসেই হেসে তাদের দেখছে। সামান্য একটু বিরতি তে সবাই মেহেদী দেওয়ায় মনোযোগ নিবেশ করলে হঠাৎ গান বাজলো-

“Mehedi Laga ke rakhna..
Doli saja ke rakhna…”
সবাই বিস্ময় যে সামনের দিকে তাকাতেই দেখলো মাহির ফোর্মাল ড্রেস চেঞ্জ করে পাঞ্জাবি আর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্টেজের উপর। সোরায়া হা হয়ে মাহফিলের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে গান অব্যাহত থাকলো-
“Mehedi Laga ke rakhna..
Doli saja ke rakhna…
Lene tujhe o gori
Aayenge there sajna”
এর পর তার সাথে রায়ান আর রুদ্র ও একই ভাবে এন্ট্রি নিলো স্টেজে। মিরা আর রিমির চোখ ও ছানা বড়া। রায়ান রুদ্র মাহির স্টেজে জিতে যাওয়া ভাব নিচ্ছিল দেখে মিরা বসে থেকেই গানের লাইনে লিপসিং করলো-

“Sehra saja ke rakhna..
Chehara chupa ke rakhna..”
এবার সাথে রিমিও যোগ দিল-
“Sehra saja ke rakhna..
Chehara chupa ke rakhna..
Yeh Dil ki bat apne,
Dil mein daba ke rakhna..”
রুদ্র রিমির হাত ধরে রিমিকে তুলে টেনে এনে স্টেজে তুলে তার উদ্দেশ্যে গাইলো-
“Udh udhke Teri zulfeun..
Karti hain Kya isharee..
Dil thake khade hain..
Ashiq sabhi kanware..
তখন রিমি-
“Chup jaaye sari kudiyan..
Gharme mein sharam me mare..
Gaon mein AA gaye hain..
Pagal shehar ke sare..”
রুদ্র- “Nazrein jhuka ke rakhna..
Daman bachake rakhna..
“Nazrein jhuka ke rakhna..
Daman bachake rakhna..
Lene tujhe o gori
Aayenge there sajna”

এবার রায়ান মিরার কাছে গিয়ে বসে থাকে হেয়ালি করে কাঁধে ধাক্কা দিয়ে গাইলো-
“Main ek Jawan ladka..
TU ek haseen ladka..
Yeh Dil machal gaya to..
Mera kusoor Kya hai..”
তখন মিরা উল্টো জবাবে গাইলো-
“Rakhna tha Dil pe kabu..
Yeh husn to hai Jadu..
Jadu..yeh chal geya to..
Mera kusoor Kya hai..”
মাহির সোরায়ার সামনে গিয়ে মাথায় মাথা ঠেকিয়ে-
“Rasta hamara takan..
Darwaja khula rakhna..
Rasta hamara takan..
Darwaja khula rakhna..
Lene tujhe o gori
Aayenge there sajna”
তখন সোরায়া-

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫

“Kuch or abna khehna..
Kuch orna ab Karna..
“Kuch or abna khehna..
Kuch orna ab Karna..
Yeh dil ki bat apne..
Dik Mai daba ke rakhna ..

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৫ (৩)

1 COMMENT

Comments are closed.