Home আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৮

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৮

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৮
অরাত্রিকা রহমান

পরের দিন সকাল~
কাঁটায় কাঁটায় এখন ৭টা বাজছে। সকালের স্নিগ্ধতা ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে চারপাশে। তবে রায়ান আর মিরার ঘরটায় সেই স্নিগ্ধতার ছিটে ফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না। রায়ানের ঘুম ভেঙেছে প্রায় আরো ১০-১৫ মিনিট আগে। উঠেই তার প্রথম কাজ ছিল তাদের ঘরের প্রত্যেকটা জানালা লাগিয়ে পর্দা টেনে দেওয়া। মিরার ঘুম যেন না ভাঙে তার জন্যই এই কাজ করা। পর্দা ভেদ করে আসা আবছা আলোয় রায়ান নিজের কুনুইয়ে ভর দিয়ে হাতের তালুতে গাল ঠেকিয়ে রেখে ঘুমন্ত মিরাকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখে যাচ্ছে। মিরা ঘুম ছুটছে ধীরে ধীরে। রায়ানের নজর স্থির মিরা গলায় ও কলার বোনে উজ্জ্বল লালচে দাগগুলোর উপর। যার অবদান সম্পূর্ণ তার। গত রাতে তার সযত্নে করা চিহ্ন গুলো দেখে রায়ানের মন তৃপ্তির সুধা পান করছিল। এক ফালি হেঁসে রায়ান তার হাত বাড়িয়ে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে দাগ গুলো আলতো করে ছুঁয়ে দিল‌। আবার পর মূহুর্তেই কি যেন ভেবে সেখানে নিজের ওষ্ঠ ছোয়ালো‌। রায়ানের চুলের ঘনঘটায় মিরার গলায় শিরশির অনুভুতির সৃষ্টি হলো। মিরা চমকিত হয়ে ফট করে নিজের দুচোখ মেললো-“কেএএএ..!”

রায়ান মিরাকে চমকে উঠতে দেখে মুচকি হাসলো তবে নিজের মাথা উঠালো না। মিরা রায়ানের চুলের ভাঁজে আঙ্গুল গলিয়ে দিয়ে দীর্ঘ এক স্বস্তির নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলল-
“উউউফফফ, সকাল সকাল এভাবে ভয় দেখানোর মানে হয়?”
রায়ান নিজের মুখ উঠালো। তার চোখে মুখে এখনো দুষ্টুমির ছাপ। রায়ান মিরার উপর থেকে উঠে বসে নিজের এলোমেলো চুল গুলো হাতের সাহায্যে সামলে হতাশা হয়ে বলল-
“আমি থাকতে তোমার এতোটা কাছে অন্য কেউ আসতে পারে এমনটা যে তুমি ভাবতেও পারো দেখে অবাক হচ্ছি। হতাশ.. হতাশ..!”
মিরাও এবার উঠে বসলো। গায়ে সামান্য জোড়তা, হয়তো অভ্যন্তরীণ ব্যাথাতুর অনুভূতির জন্য। মিরা উঠে বসে নিজের ছন্নছাড়া লম্বা চুলের গুচ্ছ হাতে পেঁচিয়ে খোঁপা করে নিল। রায়ান হঠাৎ তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তার কোমল উদরে হাত প্রতিস্থাপন করলো‌। মিরার ঘাড়ের উপর থুতনি রাখলো রায়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, যেন বিশ্রাম নিচ্ছে। মিরা জানালা বন্ধ ও পর্দা দিয়ে ঢাকা দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলো-
“ঘরটা এমন অন্ধকার কেন? জানালা সব বন্ধ, পর্দা টানা..! একটু তো আলো ও আসছে না।”
-“আলোতে তোমার ঘুমাতে সমস্যা হচ্ছিল তাই বন্ধ করে দিয়েছি। এমনিতেই রাতে ঠিক মতো ঘুম হয় নি তোমার আমার জন্য।”

মিরা চোখ বাঁকিয়ে রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল-
“রিয়েলাইজেশন যখন আছে জনাবের, আশা করি এরপর তার খেয়াল থাকবে যে বউকে ঘুমাতে দিতে হয়। আর বউ যদি প্রেগন্যান্ট হয়ে তাহলে তার ঘুমের প্রয়োজন বেরে যায়।”
রায়ান মিরাকে ছেঁড়ে দিয়ে বিছানার থেকে নেমে গেল। মিরার মনে হলো তার কথায় হয়তো রায়ানের খারাপ লেগেছে। মিরা রায়ানের হাত আঁকড়ে ধরে মায়াবী চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“কি হলো? কোথায় যাচ্ছেন?”
রায়ান মিরার দিকে ঝুঁকে এসে মেয়েটার দুগালে হাত রেখে তার ললাটে রুক্ষ চুমু দিয়ে বলল-
“খেয়াল রাখছি। এখন এখানে আমার উপস্থিতি আমার হবু বাচ্চার মাকে বেশ জ্বালাতোন করবে। ওমন কিছু যেন না হয় তাই শাওয়ার নিতে যাচ্ছি। যাবে?”
মিরা ঠোঁট ফুলিয়ে নিল। রায়ান মিরার প্রতিক্রিয়া দেখে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-
“আরেকটু ঘুমিয়ে নাও হৃদপাখি। ঢাকায় ব্যাক করতে হবে। লং জার্নি তে কাহিল হয়ে যাবে তোমার।”
মিরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো-
“ঢাকা ব্যাক করবো মানে? আজই..!”
-“হ্যাঁ, আজই। আমার কিছু ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে। আমরা মাহির আর সোরার সাথেই ঢাকা ব্যাক করছি আজ।”
মিরা দ্রুত বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ালো। উরুর দিকে সামান্য ব্যাথা অনুভব হলেও মিরা স্থির হয়ে রায়ানের সামনে দাঁড়ালো –

“হাবি, আমি আর কিছু দিন এখানে থাকি? আপনার কাজ থাকলে আপনি চলে যান। আমি নাহয় পরে..!”
-“আমি তোমার কাছে তোমার মতামত জানতে চাই নি হৃদপাখি। আমি তোমাকে জানিয়ে দিলাম। আমরা আজই ব্যাক করবো। এ্যান্ড দ্যাটস ফাইনাল।”
মিরা নিজের কথা সম্পূর্ণ করার আগেই রায়ান নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকে গেল। মিরা উদাস মনে বিছানায় বসে বিড়বিড় করলো কিছু একটা। তখনই ঘরের দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ হলো। মিরা গিয়ে দরজা টা খুলতেই রোকেয়া বেগম ব্যস্ত কণ্ঠে বললেন-
“মিরা, তুই উঠে গেছিস? সোরার শশুর আর শাশুড়ি ড্রয়িং রুমে। তোরা কেউ নামছিস না। বিষয়টাকি ভালো দেখায়? নিচে আয়।”
মিরার মনটা তখনও খারাপ। সে রোকেয়া বেগম কে মলিন কণ্ঠে বলল-
“চাচি, রায়ান বলছেন আজই ঢাকা ফিরতে হবে। কি যেন কাজ আছে উনার। আমি আরো কিছু দিন থাকতে চাই। কিন্তু উনি দিবেন না থাকতে। তুমি কিছু একটা করে উনাকে মানিয়ে নাও প্লিজ।”
রোকেয়া বেগম মাথায় হাত। মিরা এখনই চলে যাক তা তিনি চান না‌। একই সাথে বাড়ির দুই মেয়ে একসাথে চলে গেলে বুকটা কেমন শূন্য হয়ে যাবে তাদের। কিন্তু রায়ানের কথা চিন্তা করে তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন-
“আমার হয়েছে যত জ্বালা‌। তোর বরের মতো তব্দা কে মানানোর ক্ষমতা কি আর তোর চাচির আছে? ওর মাই আজ অব্দি কোনো কথা শোনাতে পারলো না ওকে দিয়ে।”
মিরা মুখটা নিচু করে নিল। রোকেয়া বেগম মিরাকে মন খারাপ করতে দেখে মিরার গালে হাত রেখে স্বান্তনা দিয়ে বললেন-

“মন খারাপ করে না মা। আচ্ছা, আমি রিভান কে বলবো নি। তুই ফ্রেশ হয়ে নিচে আয়।”
মিরা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ালো। রোকেয়া বেগম পিছন ফিরে আবারো মিরার দিকে ঘুরে বললেন-
“ওহ আচ্ছা, ভালো কথা। নামার আগে সোরায়া কে ডাকিস।”
-“তুমি তো এসেছই। ডেকে যাও ওকে।”
রোকেয়া বেগম মিরার দিকে এক পা এগিয়ে তার মাথায় গাট্টা মেরে বলল-
“ধামরি মেয়ে, তোর কি বোধ বুদ্ধি নেই? আমি চাচি হয়ে বাসর ঘরে কিভাবে ডাকতে যাবো। নামার সময় ওদের ডেকে যাবি। বুঝেছিস?”
মিরা মাথায় হাতের তালু ঘষে বলল-“আচ্ছা ঠিক আছে।”
রোকেয়া বেগম দ্রুত পদক্ষেপে প্রস্থান করলেন।

সকালের নরম আলোটা পর্দার ফাঁক গলে নিজ পথ খুঁজে প্রবেশ করেছে ঘরটায়। রাত-ভোরের ক্লান্তি আর অদ্ভুত এক নতুন অনুভূতির ভারে ঘরজুড়ে টহল দিচ্ছে শান্তি ও উষ্ণ নীরবতা। বিছানায় পাতা নতুন চাদর টা একটু এলোমেলোভাবে কুঁচকে আছে, বালিশের কোণে ও ঘরের এক কণায় ফ্লোরে গড়াগড়ি খাওয়া পুরোনো চারদরে ছড়িয়ে আছে কিছু অগোছালো স্মৃতির চিহ্ন— গতকালের দীর্ঘ আবেগময় রাতের সাক্ষী হয়ে।
সূয্যিমামার তীক্ষ্ণ রশ্মির তোপে সোরায়া আধোঘুমে চোখ মেলে বুঝতে পারল, সকালের আলোতে সবকিছু যেন অন্যরকম লাগছে। চারপাশে এক অচেনা পরিচিতির আবেশ। তার সম্পূর্ণ শরীর এক সুপ্ত ব্যাথায় জড়জড়িত। মৃদু চোখের পলক ফেলে সেই ব্যাথা নিবারণের চেষ্টা করতেই সে খেয়াল করলো তার শরীরে কোনো পোশাক নেই, কেবল চাদর দ্বারা শরীর টা আবৃত। সোরায়া আরো একটু আড়ষ্টতায় চাদরটা নিজের বুকের কাছে খামচে ধরে চোখ বুজে ফেলল। হঠাৎ গত রাতের কিছু অপ্রত্যাশিত দৃশ্য সোরায়ার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে নিদ্রাহীন ফোলা চোখজোড়া তার বড় বড় হয়ে আচমকা খুলে গেল আর গাল দুটো নিজে থেকেই তাদের বর্ণ পরিবর্তন করে রক্তিম হয়ে উঠলো। সোরায়া দুহাতে নিজের মুখ ঢেকে মাথা নাড়িয়ে নিজেকে অবিশ্বাস করার বৃথা চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো নিজের লাজ লুকাতে। মাহিরের কথা মাথায় আসতেই সোরায়া বাস্তবে পদার্পণ করলো। সোরায়া হালকা মাথা ঘুরাতেই বুঝলো মাহির পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে তার ভেজা চুলে মুখ গুজে ঘুমোচ্ছে। সোরায়া নিজের শিথিল হাত কোমরের কাছে জড়িয়ে থাকা মাহিরের পেশি বহুল হাতের উপর রেখে মাহিরের আয়ত্ত থেকে কিছু টা ছাড়া পাবা চেষ্টা করলো। মাহির ঘুমের ঘোরেই নিজের ঝাঁকি দিয়ে সোরায়ার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে মেয়েটার কোমর আবারো জড়িয়ে ধরলো। এবার আরো দৃঢ় হলো সেই বাঁধন। মাহির সামান্য বিরক্ত বোধে নিজের ভ্রু কুঁচকে সোরায়ার চুলের ভাঁজে আরো গভীরে মেয়েটার ঘাড়ে মুখ গুঁজে আওয়াজ করলো-“উমমম্..উহু..!” মনে হলো যেন তার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই সোরায়াকে ছাড়ার‌।

সোরায়া আপনা আপনি লজ্জায় কুঁকড়ে গেল। এতোটা লজ্জায় মাহিরের মুমোমুখি হওয়ার সাহস নিজের মধ্যে আছে কিনা সেই চিন্তা নিয়ে সে দোদুল্যমান। সোরায়ার মনে হলো মাহির হয়তো গভীর ঘুমে। সে ওভাবেই কিছুক্ষণ সময় নিয়ে দেহের সুপ্ত ব্যাথা সামাল দিতে শুয়ে রইল। মাহিরের প্রতিটি ক্লান্ত নিঃশ্বাসে তার ঘাড়ে এসে পড়ছে। যা তার মনে বেশ কৌতূহলের জন্ম দিচ্ছে – এখন মাহিরকে ঠিক কেমন দেখতে লাগছে? গত রাতের মতোই ভয়াত্মক নাকি অন্যরকম! সোরায়া হঠাৎ একটু কাচুমাচু হয়ে ওভাবেই মাহিরের দিকে ফিরল খুব সাবধানে, যেন মাহিরের ঘুমে কোনো প্রকার ব্যঘাত না ঘটে। প্রথমে তার চোখ বন্ধই ছিল। এক মিনিট পর যখন তার মনে হলো তার নড়াচড়ায় মাহিরের ঘুম ভাঙে নি, সোরায়া মিটিমিটি চোখের পাতা খুললো। মাহিরের চোখে জোড়া বন্ধ, ছেলেটার মুখে ক্লান্ত অথচ তৃপ্ত এক শান্তি। তার নিঃশ্বাসের ধীর ওঠানামা ঘরের নিস্তব্ধতাকে আরও কোমল করে তুলেছে। সোরায়ার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক মৃদু হাসি ফুটে উঠল। লাজ, ক্লান্তি আর নতুন জীবনের অদ্ভুত মিশেলে সকালটা মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠলো তার। সে মাহিরের নাকে একটা আঙ্গুল ছুঁইয়ে ঠোঁট ফুলালো। ছেলেটার এমন শান্ত অবয়ব দেখে খুব নরম কণ্ঠে বিড়বিড় করলো-

” রাক্ষস লোক, রাতে কি ভয়ংকর লাগছিল। আর এখন এমন ভাবে ঘুমোচ্ছে যেন সে নিষ্পাপ..ভাজা মাছটা ও উল্টে খেতে জানে না।”
হঠাৎ করেই মাহিরের ঠোঁটজোড়া নড়ে উঠলো-
” আমি কিন্তু সব শুনছি..!”
সোরায়া হতবাক। সে তড়িৎ গতিতে নিজের আঙ্গুল মাহিরের নাকের উপর থেকে সরিয়ে নিল। অবিশ্বাস্যে তার কণ্ঠে কম্পন দেখা দিল-
” আআ..আপনি ঘুমানোর নাটক করছিলেন?”
মাহির দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের চোখের পাতা খুললো। সকালের শুরু তে প্রথমবার দুজনের চোখাচোখি হলো। মাহির আবেশে সোরায়ার কোমর জড়িয়ে নিজের দিকে টেনে নিল মেয়েটাকে। সোরায়া এখনো বুঝে উঠতে পারছে না তার কেমন আচরণ করা উচিত এখন‌। মাহির কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই না সূচক মাথা নাড়লো।
সোরায়া তা দেখে স্বল্প রাগে জিজ্ঞেস করলো-
” তো? কখন থেকে জেগে আছেন?”
মাহির সোরায়া কে নিজের নিচে ফেলে তার উপরে ঝুকে বলল-

” যখন থেকে তোমার স্পর্শ অনুভব হয়েছে।”
সোরায়া বিশ্বাস করতে পারছে না মাহির এতটা সময় ধরে জেগে অথচ তাকে সেটা বুঝতে দেয় নি। সোরায়া গাল ফুলিয়ে বলল-
” ইটস চিটিং..!”
সোরায়া খেয়াল করলো মাহিরের গায়ে শার্ট জড়ানো‌। উপরের তিনটে বোতাম খোলাই রয়ে গেছে শার্টের। সোরায়ার মাথায় প্রশ্ন এলো-
” আপনি নিজে শার্ট পড়ে আছেন। আমার গায়ে কিছু নেই কেন? নিজের গা তো ঠিকই ঢেকেছেন।”
মাহির মুচকি হেঁসে সোরায়ার দিকে নেশাত্মক চাহুনিতে তাকিয়ে দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল-
” আর বলো না, ভোরে শাওয়ার নিয়ে ঠান্ডা লাগছিল। নিজেকে গরম করতে গেল আবার শাওয়ার নিতে হতো তাই শার্ট পড়ে নিয়েছি?”
সোরায়া মাহিরের কথায় যেন আরো রেগে গেল। ভোরে তো মাহির তাকে নিয়েই শাওয়ার নিয়েছে। তাহলে মাহিরের একা ঠান্ডা লাগবে কেন? সে একই ভাবে মুখ ফুলিয়ে বলল-

” আমিও তো শাওয়ার নিয়েছি আমার ঠান্ডা লাগে নি বুঝি?”
মাহির সোরায়ার কলার বোনের উপর আঙ্গুলের খেলা জারি করলো‌। দুষ্টু হাসি খেলে গেল তার ঠোঁটের কোণে-
” ইউ লুকড হট, বউজান। আর আমার তোমাকে এভাবে দেখতে ভালো লাগছে তাই কিছু পড়াই নি।”
সোরায়ার রাগ হয়তো এবার মাত্র ছাড়ালো। মাহিরের যুক্তি তার কোনো দিক থেকে সংগত মনে হলো না। সে এক প্রকার ধমক দিয়ে বলল-
” অসভ্যতামি কম করুন..!”
মাহির সঙ্গে সঙ্গে সোরায়ার গলায় মুখ ডুবিয়ে দিয়ে অবুঝের মতো বলল-
” পারবো না। তুমি অভ্যাস করে নাও। Just get used to it..”
সোরায়া অস্বস্তিতে ছটফট করলো। মাহির তাকে নির্দেশাত্মক কণ্ঠে বলল-
“উফ্, সব তো হয়ে গেছে জান‌‌। এখনো ছটফট করছো কেন? শান্ত থাকো না একটু।”

সোরায়ার চোখের গন্ডিতে হঠাৎ অশ্রুর কণারা ভীর করলো। বুকে যেন তার ঝড় বইছে। সোরায়া খিচিয়ে বন্ধ করে নিল নিজের চোখের পাতা। মাহির সোরায়ার গলা থেকে মুখ তুলে সোরায়ার লজ্জায় লাল হয়ে উঠা গালে ছোট্ট একটা চুমু খেল। সোরায়া এখন বিন্দু মাত্র সাহস দেখাচ্ছে না চোখ খোলার। মাহির সোরায়ার এমন কাচুমাচু অবস্থা দেখে মজা পেল হয় তো‌‌। সে সোরায়ার সম্পূর্ণ মুখশ্রীতে টুকরো টুকরো ভাগে নিজের ওষ্ঠ ছোয়ালো‌। সোরায়া অনবরত কাঁপছে। কম্পিত ওষ্ঠ জোড়া সংবরন করতে দাঁতে কামড়ে ধরলো মেয়েটা। মাহির এই দৃশ্য দেখে হয়তো নিজের নিয়ন্ত্রণ পরিপূর্ণ ভাবে হাড়ালো-

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৭ (৩)

“মাই স্ট্রবেরি লিপস..!”
যেই না সে সোরায়ার লাল হয়ে ফুলে উঠা ঠোঁট জোড়ার দিকে অগ্রসর হলো ওমনি তাদের দরজায় সজোরে আওয়াজ হলো-
“বনু..? মাহির ভাই..? উঠেছেন?”

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৭৮ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here