Home আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৪৩

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৪৩

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৪৩
অরাত্রিকা রহমান

মিরায়া ওই পরিস্থিতিতে আর সেখানে অবস্থান করতে চাইছিল না তাই সেই স্থান ত্যাগ করতে উদ্যত হয়। জ্যাকের এই হাল দেখে তার সাঙ্গো পাঙ্গোরা চুপ থাকলো না এবার আদনান ও জ্যাক এর অধিনে কাজ করা আরো কিছু ছেলে পেলে তেরে আসে একসাথে। মিরায়া খেয়াল করছিল না তাদের তবে রায়ান করছে, একটা ছেলে বার কাউন্টারের উপরে রাখা একটা বোতল তুলে দৌড়ে মিরায়ার উপর আক্রমণ করতে যাবে তখনি রায়ান তার পা বাড়িয়ে ল্যাং মেরে ছেলে টাকে ফেলে দিল। সাথে সাথে ছেলেটার কাঁচের বোতলটা নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙে গেল। শব্দ শুনে মিরায়া পিছনে তাকাতেই দেখলো মাটিতে ছেলেটা পড়ে আছে। রায়ান ছেলেটার মাথার কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে চুলের মুঠি ধরে ভাঙা কাঁচ গুলোতে তার মুখ চেপে ধরলো, ছেলেটা রীতিমতো কাতরাচ্ছে যন্ত্রণায়-“আআআআ…!” চিৎকার করছে। মিরায়া হতবাক এই সম্পূর্ণ ঘটনাটা যেন ন্যানো সেকেন্ডে ঘটে গেলো। এই অবস্থা দেখে অন্য সব ছেলে রাও একসাথে এবার ঝাপিয়ে পড়লো রায়ানের উপর।

হঠাৎই সব দিক থেকে ছেলেগুলো রায়ানের উপর একসাথে আক্রমণ করায় মিরায়া আতকে উঠলো। বারের আলো লালচে অন্ধকারে দুলছে, মিউজিক থেমে গেছে, শুধু কাঁচের টুকরোয় জুতার শব্দ।
রায়ান দাঁড়িয়ে একপা পিছিয়ে ডানদিকে বেঁকে যায় — প্রথম লোকটা ঘুষি চালিয়েছিল মুখের দিকে, কিন্তু রায়ান তার কব্জি ধরে ঘুরিয়ে নিজের কাঁধে ফেলে দিল। ছেলেটা উল্টে পড়লো টেবিল ভেঙে —
দ্বিতীয়জন ছুটে আসে বোতল হাতে। রায়ান সাইডস্টেপ করে তার পেটের কাছে হাঁটু চালিয়ে দেয়, ছেলেটা কুঁকড়ে পড়তেই রায়ান তার মুখে হালকা ঘুষি মারে —ঠান্ডা, হুঁশিয়ারি তার প্রতিটি আঘাতের জবাবে।
আরও তিনজন একসাথে তেড়ে আসে। রায়ান পেছন ঘুরে একটা বারের চেয়ার টেনে নিয়ে ঘুরিয়ে মারে —একজনের মুখে লাগে, আরেকজনের গলায় চেয়ার ঠেকে থেমে যায়।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

রায়ান ওই ফাঁকেই কনুই তুলে তৃতীয়জনের চোয়ালে আঘাত করে —ঠাস! রক্ত ছিটকে পরে টেবিলে।
একজন ছেলেকে ধরে দেয়ালে ঠেসে তার গলা চেপে ধরে —
“হাড়ামির বাচ্চা তোরা, সবাই মিলে একটা মেয়েকে আটকাতে চাইছিস? হাতে চুরি পড়ে বসে থাক প্রয়োজনে!”
ছেলেটা হাঁপাচ্ছে, রায়ান ঠেলে দেয় দেয়ালে।
মিরায়া সব দেখছে, ভয়ে আর অবিশ্বাসে কাঁপছে, তবু চোখ ফেরাতে পারছে না — যেন রায়ানের প্রতিটা মুভ একেকটা শক। মিরায়া চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে মনে মনে বিড়বিড় করলো-“এসব হচ্ছে টা কি হঠাৎ।”
রায়ান তখন দুইজনের সাথে একসাথে লড়ছে — একজন ডানদিকে, আরেকজন বাঁ দিকে। ডানদিকেরটা লাথি মেরে আসে — রায়ান ব্লক করে তার হাঁটু চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। বাম দিকেরটা তখন কাঁচের বোতল ভেঙে তেড়ে আসে।

ঠিক তখনই পিছনের দিক থেকে একটা ভারী আওয়াজ —
মাহির! সে বার কাউন্টার পার হয়ে সরাসরি আরেকজন গুন্ডার মুখে ঘুষি মেরে ফেলে দিয়েছে।
“তুই তোরটা সামলে নে! আমিও দেখছি।” — বলে মাহির রায়ানের পাশে এসে দাঁড়ায়।
রায়ান তাকিয়ে হালকা হেসে বলে-
“ঠিক আছে, দুজনে মিলে শেষ করি তাহলে। অনেক দিন হলো বল! লাস্ট মনে হয় কলেজে একসাথে এমন করার সুযোগ পেয়েছিলাম।”

দুজনের মুভমেন্ট এতটাই সিঙ্কড, যেন অনেক পুরোনো বোঝাপড়া —রায়ান একদিকে ঘুষি মারে, মাহির তার পাশ ঘুরে অপর দিক থেকে লাথি মেরে প্রতিপক্ষকে নিচে ফেলে দেয়। একজন রায়ানকে ধরতে গেলে মাহির পেছন থেকে তার ঘাড় ধরে দেয়ালে ঠেলে মারে, রায়ান একই সময়ে পাশের আরেকজনকে কনুই মেরে ফেলে দেয়। একজনের পেটে ঘুষি, আরেকজনের মুখে মাহিরের হাঁটু । দুজনের কম্বিনেশন একদম নিখুঁত।
রায়ান তখন বলে-“এই দিকটা আমার!”
মাহির হেসে, “তাহলে বাকি টুকু আমার!”
দুজনের মধ্যে যেন মেলবন্ধন, নিঃশব্দ টিমওয়ার্ক —রায়ানকে বাঁচাতে মাহির ঠিক তখনই এক ছেলের ঘুষি ব্লক করে ঘুরিয়ে ফেলে দেয়।

রায়ান পেছন ঘুরে বলে, “Nice save, bro.”
মাহির হালকা হাসে, “just for you!”
রায়ান ব্যঙ্গ করে, “ছিঃ! ইউউউ!”
মাহির হেঁসে উঠলো সাথে সাথে। এই দিকে মিরায়া দুইজনকে দেখে হা হয়ে আছে।
মনে মনে চোখ বাঁকিয়ে বিলাপ করছে মাথায় হাত দিয়ে-“কি এটা অবস্থা এই পরিস্থিতিতেও মজা করছে দুইজন।”
এমন সময় রায়ান আর মাহির একসাথে দুটো আলাদা দিক থেকে আঘাত করে —একজনকে রায়ান ফেলে দেয় টেবিলের উপর, আরেকজনকে মাহির দেয়ালে আছড়ে মারে। বারের ভেতর এখন কাঁচের শব্দ, চেয়ার ভাঙা, আর দুজনের ভারী নিঃশ্বাসের আওয়াজে গরম হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
ঠিক তখনই —

রায়ান ঘুরে দাঁড়াতেই দেখে পেছন থেকে এক ছেলে কাঁচের বোতল ভেঙে তার উপর আক্রমণ করতে যাচ্ছে। রায়ান ঠিক ঘুরে তাকানোর আগেই —
ঠাস! শব্দ হলো, বার কাউন্টারের উপর থেকে একটা হেলমেট মিরায়া ছুঁড়ে মেরেছে ছেলেটার মাথায়! বোতলটা ছেলেটার হাত থেকে পড়ে ভেঙে যায় মাটিতে।
মিরায়া নিজের চশমাটা এবার খুলে ছেলেটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, রাগে আর আতঙ্কে তার মুখে দুমদাম ঘুষি মারছে

রায়ান অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, প্রথমবারের মতো সে রায়ার (মিরায়ার) চোখ দেখলো—চোখে আগুন।
মিরায়া ও হঠাৎ রায়ানের তার দিকে তাকিয়ে থাকা বুঝে রায়ানের দিকে তাকায় দুজনের চোখে চোখ পড়ে — রায়ানের নিঃশ্বাস যেন থেমে যায় এক মুহূর্তে। তার চোখ দুটোতে বিস্ময়, যেন কোথাও থেকে চেনা আলো ঝলমল করছে। রায়ান একটু বিচলিত কন্ঠে-“ওই চোখ! ওই চোখ! আআআ.. কোথায় দেখেছি!”
মুহূর্তে সব ভুলে গেলো, গুলিয়ে গেল। এমন হাটকারীতার মাঝে রায়া আর মিরায়ার মাঝে তুলনা করবে বা মিল খুঁজবে তা মাথাতেও আসছে না। মিরায়াকে সে এই ভাবে কখনো চিন্তাও করেনি সেক্ষেত্রে মিরায়ার ব্যাপারে সন্দেহ তার মাথাতেও আসছে না। শুধু মনে হচ্ছে মেয়েটাকে চেনে আর খুব কাছ থেকে চেনে।

ঠিক সেই সময় পেছন থেকে এক গুন্ডা আক্রমণ করতে আসে ভাঙা বোতল হাতে। মিরায়া সেটা চোখের কোণায় দেখে সাথে সাথে উঠে দাড়িয়ে রায়ানের হাত টেনে নিজের দিকে নিয়ে আসে। বোতলটা তার চুলের পাশ দিয়ে ছুঁয়ে যায়, চিরচির শব্দ, আর রায়ান হঠাৎ জ্ঞানে ফিরলো, তখনি ঘুরে ওই ছেলেটার বুকের মাঝ বরাবর লাথি মারে , ছেলেটা গিয়ে পড়ে দেয়ালে।
ধাক্কার শক্তিতে রায়ান মিরায়ার উপর পড়ে যায়, মিরায়াও ব্যালেন্স রাখতে পারেনি রায়ানের শরীর এর। দুজনের দেহ একে অপরের গায়ে থেমে থাকে কয়েক সেকেন্ড, রায়ানের হাত মিরায়ার কোমরে, মিরায়ার হাত রায়ানের গলায়। দুজনের চোখ একে অপরের মুখের এত কাছাকাছি যে নিঃশ্বাস ছুঁয়ে যায়। মিরায়ার চোখে এক পলক কিছু নরম ঝিলিক, তারপর হঠাৎই চোখ বন্ধ করে নেয়।

এক সেকেন্ড পরেই তাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয় — রায়ান থেমে যায়, যেন ঘোর ভাঙলো আবার। রায়ান সড়ে গিয়ে একহাতে চুল খামচে ধরে চেচালো-“আআআ..! রায়ান হুয়াটস রং উইথ ইউ ডেমেট।”
মিরায়া বুঝতে পারছে না রায়ানের কি হচ্ছে তবে পিছন থেকে আবার আক্রমণ দেখে গলায় ভারী ভাব এনে চেচালো আবার- “পিছনে দেখুন!”
রায়ান ঘুরে তাকিয়ে শেষ দুজনকে একসাথে ধরে, একজনের পেটে কনুই, আরেকজনের মুখে সোজা ঘুষি — দুজনেই একসাথে পড়ে যায় মাটিতে। মনে হচ্ছিল নিজের মনের অস্থিরতা ঝাড়ছে মারের মধ্য দিয়ে। ঠিক তখন মাহিরও শেষ ছেলেটাকে ধরে মাটিতে আছাড় মেরে ফেলে দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে- “ফিনিশড?”
রায়ান মাহিরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লো- “হ্যাঁ… আপাতত।”

চারদিকে নিস্তব্ধতা নেমে আসে, শুধু ভাঙা বোতলের শব্দ, আর তিনজনের ভারী শ্বাস। ছেলে গুলো ফ্লোরে পড়ে কাতরাচ্ছে। হঠাৎ পুলিশের গাড়ির শব্দ শুনা যায়। সবাই অবাক হয়।
-“কেউ কি পুলিশে কল করেছে নাকি?” কেউ একজন বলল। সাথে সাথে সবাই মাথা না সূচক নাড়াতে লাগলো। তখনি একজন এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল-
“এই বাংলোর পিছন দিকে। স্মাগলিং হচ্ছিল যেটার খবর পুলিশ রা পেয়ে রেট দিয়েছে। সবাইকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা এদিকেই আসছে সবাই পালাউ।”
কথাটা শুনার সাথে সাথে সবাই আতংকিত হয়ে ছুটা ছুটি করতে লাগলো বের হওয়ার জন্য। মাহির মাথায় হাত দিয়ে রায়ানকে বলল- “দোস্ত এবার কি করবি?”

রায়ান পা দিয়ে জোরে ফ্লোরে আঘাত করলো-“সিসসট..!”
মাহির রায়ানের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মিরায়া মনে মনে বলল-
“নিজেদের কি মনে করে এরা? এইসব ঝামেলায় ফাসলে চৌধুরী বাড়ির মানসম্মান কিচ্ছু থাকবে না এটা কি বুঝেছেন না উনি।”
মিরায়া দুই জনকে এমন ভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে বলল-
“আর ইউ গাইজ ম্যাড অর হুয়াট? সবাই পালাচ্ছে দেখতে পাচ্ছেন না? কি করবেন মানে কি আবার পালান।”
মিরায়া কথাগুলো বলেই দৌড়ে বের হয় সেখান থেকে। চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে তার। এখন রায়ানের সামনে পড়লে আর তার পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

রায়ান মাহির দুইজনই মিরায়ার কথা কানে নেয়। রায়ান মাহির কে বলল-“তুই যা বাইক বের কর। হারি আপ। এক সেকেন্ড দাড়াবি না বলে দিলাম। আমিও বাইক বের করে বাড়ি চলে যাবো।”
মাহির বের হয়ে যায় রায়ানের কথায় কিন্তু রায়ান তখনও বের হলো না। তার একটু সময়ের দরকার ছিল সব হজম করার জন্য। রায়ান নিজের মাথা শান্ত করল-“রায়ান বেশি ভাবিস না। মেয়ে টা যেই হোক তোর কি! চেনা চেনা লাগতেই পারে।”

রায়ান হঠাৎ কারো পায়ের আওয়াজ শুনলো। একসাথে প্রায় অনেক জন আসছে এমন মনে হচ্ছে। রায়ান আর কিছু না ভেবে দৌড়ালো বের হতে মুখে তুচ্ছ স্বর-“কি একটা দিন ধুর। রায়ান চৌধুরী এখন পুলিশের থেকেও পালাচ্ছে জাস্ট বিকজ অব দোস মাদার ফাক**স।”

মাহির নিজের বাইক নিয়ে বের হয়ে গেছে। মিরায়াও নিজের বাইক বের করেছে তবে মন খচখচ করছিল রায়ান তখনও বের হয়নি দেখে। তাই একটু দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। রায়ান ও একটু পর বের হয়ে আসে বাইক নিতে। মিরায়া একটু দূর থেকে রায়ানকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। কিন্তু সে রায়ানের হাবভাব দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল-“কি করছেন উনি? কিছু কি খুঁজছে? তাড়াতাড়ি বাইকে উঠে না পালিয়ে কি করছে দাঁড়িয়ে। পুলিশ চলে আসলে এবার!”
রায়ান আসলে তার বাইকের চাবি খুঁজছিল। মারামারি করতে গিয়ে কখন যে পকেট থেকে পড়ে গেছে বুঝতেই পারে নি। রায়ান চাবি কোথাও পেয়ে বাইকে লাথি মারলো-“সিসটট..! এই চাবিটা আবার কোথায় পড়লো বাল।”
তখনি মিরায়া দেখলো কিছু পুলিশ সামনের দিকে আসছে। সে দ্রুত আর কিছু না চিন্তা করে বাইক চালিয়ে রায়ানের কাছে গিয়ে থামলো। রায়ান হঠাৎ মিরায়াকে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“মিস.রায়া আপনি এখনো বের হন নি এখানে থেকে?”
মিরায়া রায়ানের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলল-
“এখন এসবের সময় নেই পুলিশ রা চলে আসবে। আপনি তাড়াতাড়ি বাইক স্টার্ট দিন, দাঁড়িয়ে না থেকে।”
রায়ান বলল-“কিভাবে দিবো? চাবি তো নেই।”
মিরায়া ভ্রু কুঁচকে তাকায় রায়ানের দিকে-“চাবি নেই মানে?”
হঠাৎ শোনা গেল পুলিশের আওয়াজ-“ওই দিকটা চেক করো। দেখো কেউ আছে কি না।”
মিরায়া আওয়াজ টা শুনে মাথায় আর কিছু না পেয়ছ রায়ানকে বলল-“Get on the back. Fast.”
রায়ান অবাক হয়ে চোখ বাঁকা করে চেঁচিয়ে বলল-“what…!”

মিরায়া রায়ানের মুখ চেপে ধরলো হাত দিয়ে আর আস্তে করে বলল- “চুপ..! আস্তে। পিছনে উঠে বসুন আপাতত। কিছু সময় পর এখানে নামিয়ে দিয়ে যাবো তখন চাবি খুঁজে বাইক নিয়ে বাড়ি চলে যাবেন‌। এবার ঠিক আছে?”
রায়ান মিরায়ার হাতের মধ্যে থেকেই মাথা নাড়িয়ে না বলল-“উঁহু।” রায়ান মিরায়ার হাতের দিকে ইশারা করল যেন বোঝাতে চাইছে হাতটা মুখ থেকে নামাতে।
মিরায়া এবার নিজের হাত রায়ানের মুখ থেকে নামিয়ে নিল। রায়ান এবার স্বাভাবিকভাবেই বলল-
“আমি কোনো মেয়ের পিছনে উঠবো না। আমার বউ আছে।”
মিরায়া ভ্রু কুচকালো রায়ানের কথা শুনে। সে রায়ানকে শান্ত ভাবে বুঝালো-
“আপনার একার বউ আছে এমন না আমারও বর আছে। শুধুই সাহায্য করতে চাইছি আপনাকে। উঠে বসুন যদি জেলে না যেতে চান।”

রায়ান অবাক হয়ে মিরার দিকে তাকিয়ে দেখলো। আর মনে মনে বিড়বিড় করলো- “রায়া..বিবাহিত মেয়ে?”
তারপর পুলিশের আওয়াজ শোনা গেল আবার-
“স্যার একবার বাম দিকের জায়গাটা দেখে আসবো?”
মিরায়া রায়ান বাম দিকেই ছিল বাংলোর। রায়ান কে মিরায়া জোর করেই বলল এবার-
“আপনি প্লিজ উঠুন না। নাহলে একসাথে জেলে যেতে হবে।”
রায়ান আর উপায় না পেয়ে উঠে পড়লো বাইকে। মিরায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। সে বাইক স্টার্ট দেব সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ অনুভব করলো রায়ান তাকে ধরছে না। মিরায়া একটু রাগ নিয়ে রায়ানের উদ্দেশ্যে বলল-
“ধরে বসুন পড়ে যাবেন।”

রায়ান আবারও চোখ ছোট ছোট করে বলল- “আমি কত বার বলবো আমি বিবাহিত। আমার বাড়িতে সুন্দর, ছোট্ট, অনেক আদুরে একটা বউ আছে।”
মিরায়ার এবার রাগ মাথায় চড়ে গেল যেন মনে মনে বিড়বিড় করল-“গোলামের পুত রে… আমিই তোর সুন্দর, ছোট্ট আর আদুরে বউ। বউরে আদর করতে চাইলে আমাকেই করা লাগবে।”
মিরায়া আয়নায় রায়ানের একটা বোকা বোকা চেহারার দেখে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল-“আমার বর টার এই দিকটা সম্পর্কে তো আমি জানতাম ও না। হিহিহি। How cute!”
মিরায়ার মাথায় হঠাৎ দুষ্টু বুদ্ধি ভর করলো। সে ইচ্ছে করে শুরু তেই বাইক স্টার্ট দেওয়ার সময় আঁতকা গিয়ার মারতেই রায়ান ব্যালেন্স রাখতে না পেরে মিরায়ার কোমর আঁকড়ে ধরলো। মিরায়া ও চোখ বড়বড় করে নিলো। সে ভেবেছিল রায়ান হয়তো কাঁধে ধরবে কিন্তু শেষ মেষ ধরেছে কোমর। মিরায়া কিছু বলার আগেই রায়ান সোজা হয়ে কোমরের থেকে হাত সড়িয়ে নিয়ে বলল-

“এই আপনার সমস্যা কি? আমার এ্যাডভান্টেজ নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”
মিরায়া মুখ বাঁকিয়ে বলল-“হ্যাঁ আমার তো ঠেকা পড়েছে আপনার অ্যাডভান্টেজ নেওয়ার। আমার বর খুব হ্যান্ডসাম বুঝেছেন।”
এই বলে বাইক স্টার্ট চালাতে শুরু করলো। রায়ান ও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল-“Good for you then.”

পার্টি একটা বাংলোতে হচ্ছিল যেটা জ্যাকের বাবার নামে। কিন্তু বাংলোতে সব অনৈতিক কাজ করতো জ্যাক তার বাবার ক্ষমতা দেখিয়ে। তার বাবাও খুব ভালো ব্যক্তিত্বের মানুষ নন।
এই ঘটনার কথা তার কানে পৌছালো খুব দ্রুত। জ্যাক হসপিটালে ভর্তি, সেখান থেকে ফোন আসায় তিনি সোজা সোজি হসপিটালেই যান।
হসপিটালে মি.কিবরিয়া সরকার (জ্যাক এর বাবা) পৌঁছাতেই আদনান খোড়াতে খোড়াতে সামনে আসলো তার। তিনি আদনান কে পা থেকে মাথা অব্দি দেখলেন বিভিন্ন জায়গায় কাটা ছেড়ার দাগ। হাতে ব্যান্ডেজ গলায় ঝুলানো।
তিনি কঠিন কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন আদনান কে-
“জ্যাক কই? কি হয়েছে?”
আদনান একটু ভয় পেয়ে যায়। তার পর আমতা আমতা করে বলল-“আংকেল আসলে জ্যাক এর…!”
কথাটা শেষ করতে পারছে না। কিভাবে যে বলবে তাও বুঝতে পারছে না।
কিবরিয়া সরকার জোরে ধমক দিয়ে বললেন –

“হয়েছে টা কি ওর?”
তখনি ডক্টর এসে জিজ্ঞেস করলেন-“জ্যাক সরকারের বাড়ির লোক কে আছেন?”
আদনান কে রেখে কিবরিয়া সরকার নিজে এগিয়ে গিয়ে বললেন-“আমিই তোর বাড়ির লোক। ওর বাবা।”
ডক্টর শান্ত ভাবে একটু অস্বস্তিতে বললেন-“আপনার ছেলের পেনিসে জোরালো আঘাত লেগেছে। যার দরুন কিছু দিন তাকে বেড রেস্ট নিতে হবে। এই কয়দিন তার রেচন অঙ্গের কাজে একটু সমস্যা হবে। আই মিন তার মূত্র ত্যাগের ক্ষেত্রে।”

কিবরিয়া সরকার অবাক হয়ে রাগান্বিত চোখে মুখে ঘুরিয়ে আদনানের দিকে তাকান। আদনান লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে। কিবরিয়া সরকার ডক্টর কে জিজ্ঞেস করলেন-
“ডক্টর ভবিষ্যতে এটার কি কোনো সমস্যা…!”
ডক্টর বুঝতে পারলেন কিবরিয়া সরকার হয়তো বংশ গতি ধরে রাখার ক্ষমতার কথা বলছেন । তাই আর কিছু বলতে না দিয়ে উত্তর করলেন নিজের থেকে-
“দেখুন এভাবে আমরা কিছু বলে দিতে পারবো না। আমরা তেমন কিছু লক্ষ্য করি নি। তবে জ্যাক সুস্থ হলে তার সক্ষমতা সে নিজে বুঝতে পারবে। আমরা এই ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না।”
ডক্টর একটু লজ্জায় কথা গুলো বললেন। কিবরিয়া সরকার ডক্টর এর কথা শুনে তাদের ধন্যবাদ জানান –

“থ্যাংক ইউ ডক্টর।”
এরপর ডক্টর ও চলে গেলেন। কিবরিয়া সরকার এবার আদনানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। আদনান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গম্ভীর গলায় প্রশ্ন এলো-
“এসব কি করে হলো? থানা থেকে কল এসেছিল আমার কাছে। থানার কাজ সামলাতে না সামলাতে এখন এই খবর।”
আদনান এখনো চুপ করে দাঁড়িয়ে কি বলবে কিছুই মাথায় আসছে না। কিবরিয়া সরকার আবার চেঁচিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন-

“আমি কিছু জিজ্ঞেস করছি..! ওকে এভাবে কে মারলো? তোমার এই অবস্থা কেন? কে করেছে এগুলো?”
আদনান সামান্য কেঁপে উঠে বলল-
“একটা মেয়েকে বসের খুব ভালো লেগে গিছিল। পরে ওই মেয়েই ওখানে মেরেছে। আর বাকি সবার এই অবস্থা দুটো ছেলে করেছে। ওদের মধ্যে একজন রায়ান। আজকের রেসের উইনার।”
কিবরিয়া সরকার নিজে নিজে আওড়ালো-“একটা মেয়ে? আর একটা ছেলে? নাম রায়ান? পুরো নামটা কি?”
আদনান বলল-“রায়ান চৌধুরী, আংকেল।”
কিবরিয়া সরকার বিড়বিড় করলো-“রায়ান চৌধুরী..! চৌধুরী বাড়ির ছেলে!…

মিরায়া রায়ান প্রায় ১৫ মিনিট বাইকে ঘুরছে। দুইজনের কেউ কিছু বলছে না। মিরায়া খানিকটা বিরক্ত। আর রায়ানের তো পাত্তাই নেই । সে বাইকে বসে ফোন দেখছে। মিরায়া সামনের আয়নাতে রায়ানের হাবভাব দেখছে। রায়ান হালকা মিটিমিটি হাসছে কেন জানি। মিরায়ার কৌতুহল জাগলো সেটা জানতে তবে নিজের থেকে জিজ্ঞেস করতে কেমন গায়ে পড়া লাগছিল তার তাই চুপ রইল।
মিরায়া মনে মনে- “বেশি আত্মসম্মান থাকলে বুঝি এই হয় রে মিরা। কিচ্ছু করার নেই। এখন তুই মিসেস. মিরায়া চৌধুরী না। মিস. রায়া রহমান।”
রায়ান মুচকি হেঁসে হঠাৎ নিজের থেকেই রায়াকে বলল-
“মিস. রায়া..! আপনি আমার বউকে দেখবেন?”
মিরায়া বাইক চালাতে চালাতে হঠাৎ গিপ হালকা করে দিল। আর সাথে বাকিটাও দুলে উঠলো। দু’জনই একটু হেলে গিয়ে ঠিক ড়য়ে বসলো।

রায়ান-“এখন রেস চলছে না। স্বাভাবিক ভাবে রাইড করুন আপনার হাতেও তো লেগেছে।”
কথাটা রায়ান মানবিকতা থেকে বলল। মিরায়া একটু তুচ্ছ হেঁসে বিড়বিড় করলো-
“সেটাই সব করা শেষ এখন নিজেকে নিজে দেখবো তাও বরই দেখবে।”
কিন্তু ছবি কোথায় পেলেন উনি যে অন্য কাউকে দেখাবেন।
মিরায়া স্বাভাবিক দেখাতে বলল-“হ্যাঁ দেখান। সমস্যা নেই।”
রায়ান তার ফোন টা সামনের দিকে দিলো আর একটার পর একটা পাস করতে লাগলো ফোনে। মিরায়া হতবাক হয়ে আছে। রায়ানের ফোনে মিরায়ার এমন এমন ছবি আছে সে জানতো ও না। ছবি গুলো একদমই স্বাভাবিক নয়। কোনটাতে মুখ হাতে ঢাকা পড়ে আছে, কোনোটাতে মন খুলে হাসতে থাকা মুখ, কোনোটা বিরক্তি মাখা চেহাড়া। আর এমন এমন সময়ের যেন ছবি তুলার একটা মুহূর্ত বাদ যায় নি। আর এই সব গুলো ছবি। রায়ান আমেরিকা থাকা কালীন সময়ের। মিরায়ার মনে আছে সে এই জায়গাগুলো তখন ই পড়ে ছিল।
মিরায়ার মনে হাজারটা প্রশ্ন ছিল। অস্বাভাবিক লাগবে বলে জিজ্ঞেস করতে পারছে না। রায়ান নিজের থেকে বলল-

“আমার বউটা সুন্দর না?”
মুখে একটা তৃপ্তির আর গর্বিত ভাব ফুটে উঠছে যেন ছবির মেয়েটাকে বউ বলতে।
মিরায়া আয়নায় রায়ানের মুখটা দেখলো। কোনো বাচ্চা যেন তার পছন্দের খেলনা কে দেখছে এমন লাগছে চোখগুলো, একদম জলজল করছে।
মিরায়া মুচকি হেঁসে বলল-“হুম খুব সুন্দর। তবে ছবি গুলো এমন কেন যেন মনে হচ্ছে কেউ না জানিয়ে তুলেছে।”
রায়ান অবাক মুখে বলল-“বাহ্ আপনি তো বেশ ভালো লক্ষ্য করেন। ঠিক ধরেছেন ওকে না জানিয়ে তোলা এই ছবি গুলো।”

মিরায়া ও অবাক হয় তার কারণ জানতে খুব ইচ্ছা হলো তাই জিজ্ঞেস করে বসলো-“কারণ!? নিজের বউ চাইলে তো সামনে থেকেই দেখতে পারেন।”
রায়ান হঠাৎ মুখ ছোট করে বিড়বিড় করল-“দেখতে তো পাই ইং আর কত? একটু ছুঁয়ে দেখতে তো পারি না।”
মিরায়া হালকা শুনতে পেলো রায়ানের কথা। সে ঠোঁট কামড়ে হেসে মনে মনে বলল-“ইসস! খুব শখ ছুঁয়ে দেখার তাই না! আসার সময়ও তো ছয়ে এলেন আর কত ছুঁতে হয়? অশ্লীল বর কোথাকার।”
রায়ান নিজের থেকেই মিরায়াকে বলতে লাগলো ছবিগুলোর কাহিনী –

“আসলে আমি কাজের জন্য যখন আমেরিকায় যাই তখন আমার হৃদপাখিকে খুব মনে পরতো। বাই দ্যা ওয়ে হৃদপাখি মানে আমার বউয়ের ডাক নাম আর কি শুধু আমার হৃদপাখি।”
মিরায়া আবার মুচকি হাসলো। পেটে যেন হাজারো প্রজাপতি উড়াউড়ি করছে।
রায়ান-“যখন ওর কথা ভাবতাম মনে হতো তখনি চলে ওর কাছে চলে যাই। কিন্তু তা তো সম্ভব ছিল না। একটু দেখবো তার সুযোগ ও কম হতো। আমার তো মনে হতো সব সময় সামনে বসিয়ে রাখি। তার পর বুদ্ধি বের করলাম একটা।”

মিরায়া প্রশ্ন করল-“কি বুদ্ধি?”
রায়ান-“একটা মেয়ে ফোটোগ্রাফার কে কয়েক দিনের জন্য ঠিক করে আমার বউটা কে ফোলো করে ছবি তুলে আমাকে পাঠানোর ডিল করেছিলাম। তো ওই মেয়েটাই আমাকে আমার বউয়ের এই কিউট কিউট ছবি গুলো তুলে পাঠাতো সব সময়। আর এইগুলো দেখেই সারাদিন রাত পার করতাম। আমার ইম্পর্ট্যান্ট মিটিং গুলো ও ওর ফেস না দেখে শুরু করতে পারতাম না, এতো অস্বস্তি হতো।”
রায়ান আবেগে ভেসে যা মনে আসছে সব বলে যাচ্ছে ভাবতেও না কাকে বলছে একটা অচেনা মেয়ে কে কেনই বা বলছে। তার হঠাৎ রায়া কে বেশ নিজের মনে হলো তবে এটাও তার অজানা রহস্য।
মিরায়ার চোখে পানি ছলছল করছিল। কিন্তু সেটাকে কোনো ভাবেই প্রভাব ফেলতছ দিচ্ছিল না তার বাইরের আবরণে। মিরায়া আযো জানতে জিজ্ঞেস করলো-

“অস্বস্তি কেন হতো?”
রায়ান উৎসাহ নিয়েই বলল-
“চিন্তা হতো, ঠিক আছে কি না , কি করছে, কোনো সমস্যায় পড়লো কিনা।”
রায়ান হঠাৎ চুপ হয়ে গেলে যেন কেবল মাত্র বুঝতে পারলো সে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি বলছে অচেনা কাউকে। মিরায়াও আর কিছু বলল না।
মিরায়া মনে মনে-“এতোই যদি চিন্তা তাহলে ছেড়ে কেন গেলিছিলেন আমায়? কতটা কষ্ট হয়েছে জানেন? না জানলেও এবার জানবেন। যখন দেখবেন আমিও নেই তখন বুঝতে পারবে খারাপ লাগা কাকে বলে। আচ্ছা আপনি আপনার হৃদপাখিকে নিতে আসবেন তো?” (বাইকের আয়নায় রায়ানের দিকে তাকিয়ে নিজে নিজে বলল মিরায়া)
হঠাৎ রায়ান বলল-“মিস রায়া? অনেক টা সময় পার হয়েছে। এবার আমাকে বাংলোতে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরে যান।”

আসলেই খুব রাত হয়ে যাচ্ছিল। মিরায়া চট্টগ্রামের জন্য রওনা দিলেও ভোর হয়ে যাবে যেতে। রায়ানের ও বাড়ি ফেরা দরকার সবাই হয়তো অপেক্ষা করছে। তার মাঝে মিরায়াকে না দেখে তার প্রতিক্রিয়া কি হবে তার ঠিক নেই। মিরায়া রায়ানের কথা মতো বাংলোর দিকে নিয়ে গেল বাইক।
কিছু সময় পরে বাংলোর সামনে পৌঁছালো রায়ান মিরায়া। এখন জায়গাটা বেশ শুনশান, একদম নীরব। রায়ান ধীরে বাইক থেকে নেমে মিরায়ার থেকে তাকিয়ে বলল-
“থ্যাংক ইউ মিস. রায়া। ইট ওয়াজ সো সারপ্রাইজিং টু মিট এ রাইডার লাইক ইউ।”
মিরায়া হালকা হেসে বলল-“ইউ আর ওয়েল কাম মিস্টার. রায়ান। সেইম হিয়ার।”

দুইজনের মাঝে ফরমাল একটা বিদায় পর্ব হলো। রায়ান বাংলোর ভিতরে গেলো চাবিটা খুঁজতে। মিরায়াও এবার রওনা দেবে বাড়ির উদ্দেশ্যে। মিরায়ার হাত হঠাৎ একটু ব্যাথা শুরু করায় সে গ্লাভস গুলো খুলে নিলো। অনেকটা সময় এভাবে বাইক চালানোর পর তাও পড়ে যাওয়াতে ব্যাথা পাওয়ার পর খুব চাপ পড়ে গেছে হাতে। মিরায়া নিজের হাত একটু ইজি করতে সামান্য হেন্ড এ্যাক্সাসাইজ করে হাত ঝাড়া দিলো। তখনি ভুল বসতো মিরায়ার হাতে থাকা রায়ানের দেওয়া হিরের ব্রেসলেট টা পড়ে গেল।

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৪২

কিন্তু মিরায়া সেটা টের পায় নি। সে আবার গ্লাভস গুলো পড়ে নিল‌। তখনো তেমন ভাবে খেয়াল করেনি ব্রেসলেট টা। স্বাভাবিক সেটা কারণ, সে এর আগে এমন কিছু পড়ে নি সুতরাং হাতে কোনো এ্যাক্সাসরিস দেখার অভ্যাস তার নেই। সেই প্রেক্ষিতেই তার খেয়াল হয়নি তার হাত খালি।
মিরায়া বাইক স্টার্ট দিয়ে দিতে বলল-“চল মিরা এবার আবারো একটা লম্বা জার্নি হবে তোর অনেক দিন পর। কিন্তু ব্যাপার না। তোর বর ঠিক নিতে আসবে তোকে, চিন্তা করিস না।”

আত্মার অঙ্গীকারে অভিমোহ পর্ব ৪৪