Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৭ (২)

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৭ (২)

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৭ (২)
ইসরাত জাহান দ্যুতি

আধা ঘণ্টার মতো তুষার, রুমান, ওদের সাথে বাকবিতণ্ডা চলল নাওফিলের৷ ওরা বন্ধুত্ব ভাঙতে রাজি তবু দীপ্তর হদিস দেবে না। শেষের এমন কথাতে নাওফিল সমস্ত ধৈর্য হারিয়ে কান থেকে ফোনটা নামিয়েই ফ্লোরে ছুঁড়ে মারল অশ্রাব্য এক গালি দিয়ে। আর্টিফিশিয়াল কার্পেটের দয়ায় ফোনটা প্রাণ হারাল না এ যাত্রায়৷ কিছুটা আহত হয়ে পড়ে রইল কেবল। সেদিকে তীক্ষ্ণ চাউনি ছুঁড়ে তাকিয়ে থাকল কত সময় সে! তারপর কী যেন চিন্তা করে আবার তুলে হাতে নিলো। উদ্দেশ্য ইয়াসিফকে কল করা।
তিনবার কল হয়ে কেটে গেল। ইয়াসিফ ফোন তুলছে না একদমই। বোধ হয় ব্যস্ত আছে প্রচণ্ড, বুঝতে পারল নাওফিল। তারপর হঠাৎ মাথার চুলগুলো হাতের মুঠোয় চেপে ধরে টানতে থাকল পায়চারি করতে করতে। ঘরে ফিরে এসে বিছানাতে গা’টা ছেড়ে দিলো হঠাৎ, ঠান্ডা মাথায় কিছু ভাবার জন্য। দেওয়াল ঘড়িতে চোখ আটকে ভাবনাচিন্তা করতে করতেই ন’টার অ্যালার্ম দিয়ে উঠল ঘড়িটা। ঘণ্টাখানিক হলো দীধিতি ঘরে নেই। ওর সঙ্গে তখন রাগের মাথায় খুব অতিরিক্ত রূঢ় হয়ে গিয়েছিল। যেটা এই পরিস্থিতিতে একদমই উচিত হয়নি করা।

অপ্রত্যাশিত আঘাতটা নিয়ে দীধিতি নিচে অনেকটা ক্ষণ একা বসে থাকার পরও নাওফিলের দর্শন যখন পেল না সে, মনের ব্যথায় কাতর বুকটা ফেটে সে সময় কান্না ঠেলে আসে গলায়৷ মুখ চেপে হু হু করে কেঁদে উঠে তখনই দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। দোলাচল মন নিয়ে ভেবেছিল তক্ষুনি বেরিয়ে যাবে এখান থেকে৷ চলে যাবে তামান্নার কাছে। কিন্তু বিয়ের নবম দিনেই স্বামীর ঘর ছেড়ে এভাবে চলে যাওয়াটা খুবই বাজে দেখায় যে! সে সময় খুব মনে পড়ছিল ওর ঝুমুরের কথা৷ কিরণের মতোই যদি ওকেও একটুখানি ভালোবাসতেন ওই নারী, আজ মনের গহ্বরে দুঃখটা চাপা দিয়ে রাখতে হত না। মায়ের বুকে মাথা গুঁজে কান্নাটুকু করতে পারত, যাতনা কিছুটা হলেও লাঘব হত।

এলিভেটরের মাঝে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কাঁদার বাসনা নিয়ে ঢুকলেও কিন্তু সেভাবে কাঁদতে পারল না সে। কেন যেন ছেলেবেলা থেকেই ওর চাপা কান্নার স্বভাব। লিফটটা রুফটপে এসে খুলে যেতেই সে রুফটপেই পা দিলো। সাত মাস পূর্বের সেই টিন শেডের স্টোর রুমটা গায়েব। বিশাল মাঠের মতো রুপটপের অর্ধেকটাতে এখন বেশ বড়ো দু’টো ঘর তৈরি। সে ঘরের ছাদে চড়ার জন্য সিঁড়িও করা হয়েছে৷ ঘরটার সামনেই ট্যারেস করা আবার৷ ওদিকটাতে আজ মন টানল না ওর। আলো-আঁধারিতে ডুবে থাকা রুফটপের খোলা জায়গাতে এসে দাঁড়াল সে৷ কার্নিশে হেলে দাঁড়িয়ে নত মাথায় যখন টুপ টুপ করে চোখের জল বিসর্জন দিচ্ছিল ওর নয়নজোড়া, অনুভব হলো তখন কারও অস্তিত্ব ওর পাশেই দাঁড়িয়ে। কে নাওফিল? তাকে ভেবেই নিদারুণ কষ্ট আর অভিমানে মুখটা তুলল না। মিনিট দু’তিন গড়ানোর পরও যখন নাওফিল কথা বলছে না, তখন মাথা উঁচিয়ে ঘাড় ফেরাল পাশে। কী আশ্চর্য! নাওফিল তো নেই পাশে! অস্থির, চঞ্চল চোখে ছাদের সারাদিকে খুঁজল তাকে। আসলেই কোত্থাও নেই ছেলেটা। তবে ও যে স্পষ্ট অনুভব করল পাশে কারও অস্তিত্ব! মনের ভুল ছিল তবে? হ্যাঁ, তা-ই তবে। কারণ, মনটা অভিমানে টইটুম্বুর হলেও সে মনই বারবার অপেক্ষা প্রত্যাশা করছে৷ অপেক্ষা করছে নাওফিলের। অথচ একটা ঘণ্টা অতিক্রম হয়ে গেল। একবারের জন্যও ওই মানুষটা ওকে খুঁজল না, ডাকল না! পরপুরুষের অনাকাঙ্খিত ছোঁয়া ওর দেহে বলে সত্যিই সে নোংরা হয়ে গেল নাওফিলের কাছে? এতটাই সংকীর্ণ মানসিকতা মানুষটির? আগে তো টের পায়নি সে! ভালোবাসা বলতে তবে তার মাঝে কিচ্ছু নেই ওর জন্য। সব কেবল আকর্ষণ। ওর সুশ্রী রূপের প্রতি আকর্ষণ।

ঝরঝর করে আবারও কেঁদে উঠল সে৷ তখনই পুনরায় অনুভব করল ওর পাশে কেউ একজন রয়েছে৷ এত প্রখর ইন্দ্রিয়গম্য কি মনের ভুল হতে পারে? ত্বরিতগতিতে তাই ফের পাশ ফিরে তাকাতেই আতঙ্কে কেঁপে উঠল এবার ওর বক্ষঃস্থল। কার্নিশের ওপর দেড় হাতের মতো দূরে সুস্বাস্থ্যের অস্বাভাবিক ধবধবে বিড়াল বসে। জ্বলজ্বল চোখে কেমন নিবিড়ভাবে চেয়ে দেখছে ওকে। হঠাৎ করেই দেখার ফলে একটু চমকে গিয়েছিল দীধিতি। অবশেষে বিড়াল আবিষ্কার করে ক্রমশ মনে ভয়ের স্থিতি মিলিয়ে গেল। কিন্তু কখন এলো এটা এখানে? টেরই তো পেল না। আর বিড়লাটিই বা এত ওপরে কীভাবে এলো? কেউ কি ভুলে রেখে গেছে? সেটাই হবে। নয়ত একা একা তো রুফটপে আসা সম্ভব নয় এ প্রাণীর।
বিড়ালটাকে অবহেলা করল দীধিতি৷ ওখান থেকে সরে এসে হাঁটতে হাঁটতে উদাসী চোখে তারা ঝলমলিত আকাশ দেখতে থাকল৷ মনে পড়ল ওকে ঘিরে নাওফিলের সেই পাগলামোর দিনগুলো৷ ও বোধ হয় তখন থেকেই নাওফিলের স্রেফে জেদে পরিণত হয়েছিল ওর থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে৷ নয়ত ভালোবাসলে কি ওর কলঙ্ককেও গ্রহণ করে নিতে পারত না?

হাঁটার মাঝপথে হঠাৎ আবার অনুভব করল সে, ভারী পায়ে কেউ ওর পিছে পিছেই চলছে। দাঁড়িয়ে পড়ে পিছু ফিরতেই দেখল, ওর অনুভবই ঠিক। বিড়ালটা হাঁটছে ওর সঙ্গে সঙ্গে৷ কিন্তু বিড়ালের যে চলার শব্দ হয় না, সেখানে ভারী পায়ে চলা তো সম্ভবই নয়। এ ব্যাপারটা মাথাতে একটুও এলো না দীধিতির। কান্নায় ভিজে থাকা অন্যরকম গলায় সে আরও আহ্লাদ দিয়ে বলল বিড়ালটিকে, ‘তুই আমার কষ্ট ফিল করেছিস, তাই না রে? এজন্যই আমাকে সঙ্গ দিচ্ছিস? অবুঝ, অবলা প্রাণী বলেই হয়ত সান্ত্বনা দিতে পারছিস না। কিন্তু আমার যে সান্ত্বনার প্রয়োজন নেই। আমার তো প্রয়োজন কষ্টগুলো বলার মতো কাউকে একজন।’
বলতে বলতে সেই উদাসী চোখে আকাশপানে তাকিয়ে থাকল দীধিতি। তাই খেয়াল করল না, বিড়ালটি হঠাৎ অবিশ্বাস্যভাবে কুচকুচে কালো হয়ে ধীরে ধীরে কুকুরের আকৃতি হয়ে উঠেছে। অথচ মুখটা না কুকুর আর না বিড়ালের মতো। খু্বই কদাকার এক রূপ। দু’হাত সমান জিহ্বাটা ছুঁয়ে গেছে প্রাণীটার ছাদের মেঝে অবধি, আগুনে পোড়া লোহার মতো রক্তিম চোখজোড়ায় তীব্র রাগ। নাকের আকৃতি নেই। কিন্তু নাকের ছিদ্রদু’টোর একটি কপালে, আরেকটি নাকের স্থানের মাঝামাঝিতে। দেহের তুলনায় বিশাল মাথাটিতে মহিষের মতো বাঁকানো শিংজোড়া যেন ধারাল তলোয়ার। ঘাড়টা বাঁকা করে বিভৎস প্রাণীটা গড়গড় আওয়াজ তুলতেই জিহ্বা আরও বড়ো হতে থাকল তার। সেই সাথে তার দেহও।
আওয়াজ শুনে দীধিতি কপাল কুঁচকে পিছু ফিরবে, তখনই নাওফিল ছাদের দরজা মুখে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে ডেকে উঠল, ‘স্মরণ, তুমি এখানে কী করছ?’

মুহূর্তেই পেছনের সেই প্রাণীটি গায়েব হয়ে গেল। নাওফিলের দৃষ্টিতে অতিপ্রাকৃত সত্তা ধরা দেয়নি। কিন্তু সে হারিয়ে যেতেই সঙ্গে সঙ্গে কোথা থেকে এলোমেলো বাতাস এসে শনশন শব্দ তুলে দীধিতির গা ছুঁয়ে গেল। নাওফিলের দিকে কয়েক পল ছলছল চোখে তাকিয়ে দীধিতি ছাদের অন্য প্রান্তে এসে দাঁড়াল তখন। বড়ো বড়ো পা ফেলে নাওফিল ওর কাছে এগিয়ে এসেই মৃদু ধমকে শাসন গলায় বলল, ‘রাগ করে দূরে থাকার জন্য তোমার বাসাটা কি খুব ছোটো হয়ে গিয়েছিল? ছাদে কেন আসলে?’
নিশ্চুপ দীধিতি শূন্য দৃষ্টি মেলে উদ্দেশ্যহীন চেয়ে থেকে পালটা প্রশ্ন করল তাকে, ‘আমি সেদিন সত্যি রেপড হলে তুমি আমাকে বিয়েই করতে না, তাই না?’
প্রবল এক ধাক্কা খেল নাওফিল অনাকাঙ্খিত প্রশ্নটায়৷ তাকে নিয়ে এমন বিচ্ছিরি ধারণা কী করে করতে পারল দীধিতি? আর কেনইবা করল?
ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার চলা চিতাবাঘের গতির মতোই নাওফিলের মস্তিষ্কের গতি ছুটে ধরে ফেলল কারণটা৷ এক ঘণ্টা পূর্বের তার উগ্র ব্যবহারের কথাগুলোতে দীধিতি অসহনীয় আঘাত পেয়েছে। কিন্তু তার কথাগুলোর সারকথা যে মোটেও এমন ছিল না৷ সে হতে পারে আদর্শ স্বামী নয়। তাই বলে এতখানি নিচু মানসিকতারও যে নয়!

সহসাই দীধিতির হাতের কব্জি চেপে ধরে জোরপূর্বকই ওকে ছাদের অপরপ্রান্তে নিয়ে এলো নাওফিল৷ সাদা থাই গ্লাসের দরজাটার লক খুলে ট্যারেসে প্রবেশ করল দু’জন। গা ছেড়ে দেওয়ার মতো নির্লিপ্ত হয়ে দাঁড়িয়ে দীধিতি মুখটা নুইয়ে রইল। পলকহীন চোখের কুঠুরি থেকে দু’ফোঁটা পানি টুপ করে নিচে পড়তেই নাওফিল তার শক্ত বুকটাই ওকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকল, ‘আমরা দুজনই সরাসরি কখনও দুজনকে ভালোবাসার স্বীকারোক্তি দিইনি৷ অথচ দুজনই বিশ্বাস করি আর অনুভব করি আমাদের দুজনকে নিয়ে দুজনের দরদ, আবেগ – অনুভূতি আর আসক্তি। সেই বিশ্বাস থেকেই তো তুমি আমার খারাপ দিকগুলো জেনেও বিয়ে করলে৷ তাহলে এই অবিশ্বাস কী করে করতে পারলে? আমি তোমাকে ঘেন্নায় অস্পৃশ্য ভাবব? তুমি জানো না, স্মরণ দীপ্তকে শাস্তি দেওয়ার পেছনে সেদিন সব থেকে বড়ো কারণ ছিল তোমাকে আমার হতে না দেওয়ার জন্য ওর জঘন্য পরিকল্পনা। আমাদের বন্ধুত্বকে ও ভুলে গেল শুধু তোমাকে পাওয়ার জন্য। আমি বেইমানি নিতে পারি না একদমই। খুন চেপে যায় মাথায়।

একজন মেয়ের জন্য ও আমাদের এত বছরের বন্ধুত্বকে শেষ করে দিলো, তা আমি মেনেই নিতে পারি না। শুধু ও আমার কাছের বন্ধু বলেই ওকে আঘাত করতে পারিনি সেদিন। কিন্তু ছেড়েও দিতে পারব না বলে ওকে বন্দি করে রেখেছিলাম। যেদিন ও নিজে মুখে ভুল স্বীকার করত, সেদিনই ওকে মুক্ত করতাম। এও তো ভেবেছিলাম যে মেয়েটার জন্য আজ বন্ধুত্ব খতম হলো, সেই মেয়েকে তো আমিও চাইলেও গ্রহণ করতে পারব না৷ তাকে ভালোবাসি। তাই তার জীবনকে নষ্ট করার মতো পাপ সম্ভব নয়। কিন্তু দেখো, তুমি আমাকে সেদিন আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে চলে গেলে আমি হসপিটালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে এত বেশি তোমাকে আর দেখতে না পাওয়ার ভয় অনুভব করলাম যে, অস্ট্রেলিয়াতে গিয়ে আমার সাতটি মাসের দিবানিশি কাটল না চাইতেও তোমাকে ভাবতে ভাবতে৷

সেই সাথে আব্বুকে মানসিক শাস্তি দেওয়ার দশ বছরের পরিকল্পনাগুলো ভুলে যেতে থাকলাম। সে লক্ষ্য বদলে নতুন লক্ষ্য হলো তোমাকে পাওয়া। তারপর দেশে ফিরে কত নাটক করেই না তোমাকে জয় করলাম! আর সেই তোমাকে অস্পৃশ্য ভেবে ঘেন্না করব? আমি দীপ্তকে একেবারে ভেঙেচুরে দিতে চাই৷ তোমরা তা হতে দিলে না— আমার বুকের পোড়া, গায়ের জ্বালা তোমরা কেউ বুঝলেই না। আমার কড়া সিকিউরিটি ভেঙে, আমার বাসায় ঢুকে আমার বউকে মলেস্ট করে গেল! অথচ তার গায়ের লোমটাও আমি ছুঁতে পারলাম না। ও তো হাজতে বসে স্রেফ বাসি পচা খাবার খাওয়ার শাস্তি ডিজার্ভ করে না৷ আমার যত্নে রাখা সম্পদ ছুঁয়ে চুরি করতে চাওয়ার অপরাধে দু’হাত চিরতরে হারিয়ে ফেলাটা ওর জন্য একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি।’
-‘কিন্তু তুমি আমাকেও শাস্তি দিয়েছ, নাওফিল৷ আমাকে শাস্তি দিয়েছ হৃদয়ে আঘাত করে। আমাকে দীপ্ত তোমার মতো করে ছুঁয়েছে বলে তুমি সহ্য করতে পারছিলে না আমাকেও।’
হতাশা নিয়ে নাওফিল মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল, ‘এতগুলো কথা বলে, এত স্বীকারোক্তি শুনিয়েও বোঝাতে পারলাম না কিছুই?’

-‘যতই স্বীকারোক্তি দাও। কথাগুলো তুমি কীভাবে বলেছিলে একবার মনে করে দেখো। আমার কি খারাপ লাগছে না আমার স্বামী ছাড়াও অন্য পুরুষ আমাকে বাজেভাবে ছুঁয়েছে? আমার মনের অবস্থাটা একটু উপলব্ধি করলে না?’ বলতে বলতে নাওফিলের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো সে।
নাওফিল নির্দ্বিধায় সে অপরাধ স্বীকার করে নিলো, ‘সত্যিই খুব অন্যায় আচরণ করে ফেলেছি তখন। আমার ওই মুহূর্তে আগে তোমার মানসিক অবস্থাটা বোঝা উচিত ছিল। মাফ করো প্লিজ! দীপ্তকে না পেয়ে মাথা একেবারে ঠিক রাখতে পারিনি। আবার তোমার ভুলের জন্যও রাগ হচ্ছিল খুব। একটা দশ বছরের বাচ্চারও কমনসেন্স থাকে, বাসায় একা থাকলে কখনই অপরিচিত কাউকে ভেতরে আসতে দিতে নেই৷ আরও যদি সে পুরুষলোক হয়। না দেখেও কখনও দরজা খোলা উচিত নয়৷ এগুলো আমি না বলে গেলেও তোমার সাবধান থাকা উচিত ছিল, তাই না?’

এবার দীধিতিও অপরাধ মেনে মিইয়ে গেল, ‘আসলে তখন ফোনে বেশ ক’বার একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এসেছিল। কিন্তু আমার এই নতুন নাম্বার তো আমার আর তোমার কাছের মানুষ ছাড়া আর কেউ জানে না৷ এর মাঝে আবার মাম্মারের দেশে ফেরার কথা। অচেনা বাংলাদেশি নাম্বার দেখে ভেবেছিলাম মাম্মাম দেশে ফিরে কল করেছে। যেহেতু বিয়ের পর ঠিকমতো যোগাযোগ হচ্ছে না আমাদের, আমার ওপর অনেকটা অভিমানও করে আছে। তাই এক্সাইটমেন্টে আমার সম্পূর্ণ খেয়াল, মনোযোগ ফোনে ছিল৷ কল করে যাচ্ছিলাম বিরতিহীন৷ এজন্যই বেখেয়ালি হয়ে দরজা খুলে ফেলেছিলাম।’

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৭

-‘বেখেয়ালি ভুলটা এই অবধি মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু তাকে ভেতরে নিয়ে আসার বোকামিটা কেমন করে করলে? স্মরণ, তোমার মন যতটা নরম আবার ততটাই কঠিন। তুমি যতখানি বুদ্ধিমতী, ততখানিই আবার নির্বোধ।’

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here