ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১৫
লাইরা আয়নাত
রাতের ডিনার টেবিলটা এক সাইলেন্ট ব্যাটলগ্রাউন্ড হয়ে ওঠেছে। শ্যান্ডেলিয়ারের সফট লাইট, সিলভার কাটলারির টুংটাং সাউন্ড আর চারপাশে একটা হেভি অস্বস্তিকর সাইলেন্স কাজ করছে। কোনো গসিপ বা রিউমার স্প্রেড না করে তাই তার মা তাকে নিজের সাথে করেই ডাইনিং স্পেসে নিয়ে আসেন। রেজ ফ্যামিলির এনগেজমেন্ট ইভেন্টটা যেহেতু আশ্য ফ্যামিলিতেই হচ্ছে, তাই পুরো লর্ডশিপ আপাতত এই লাক্সারিয়াস ম্যানশনেই স্টে করছে।
টেবিলের কাছে এসেই ইনায়াত থমকে দাঁড়ায়। আয়াজের ঠিক পাশের চেয়ারটা ইতোমধ্যে অরু অকুপাই করেছে। ওর ঠোঁটে একটা উইনিং স্মাইল। ইনায়াত সেদিকে বিন্দুমাত্র নোটিশ না করে স্ট্রেট হেঁটে গিয়ে ফেইথের পাশের এম্পটি চেয়ারটায় বসে পড়ে।
ঠিক সেই মোমেন্টে ডাইনিং রুমে এন্ট্রি নেয় ফেলিক্স। ফ্রেশ আফটার আ শাওয়ার, পরনে ডার্ক ব্ল্যাক শার্ট আর ট্রাউজার। ওয়েট হেয়ার থেকে এখনো পানির ড্রপস পড়ছে শোল্ডারে। চারদিকে একবার কুইক গ্ল্যান্স দিয়ে সে সোজা ইনায়াতের পাশের চেয়ারে বসে।
ইনায়াত তাকে টোটালি ইগনোর করে নিজের প্লেটে ফোকাস করে। ফেলিক্স আড়চোখে তাকিয়ে ভয়েস লো করে ফিসফিসিয়ে বলে,
“তুমি কি আমাকে নোটিশ করলে, মিস ইনায়াত।”
ইরিটেশন নিয়ে ইনায়াত আই-কন্ট্যাক্ট করে তার সাথে। তারপর আইস-কোল্ড টোনে রিপ্লাই দেয়,
“কেন। আপনি কি মানুষ না মাছি যে স্পেশালি নোটিশ করতে হবে।”
ফেলিক্স একটুও অফেন্ডেড হয় না। উল্টো ঠোঁটের কোণে একটা প্লেফুল স্মাইল ঝুলিয়ে বলে,
“আহ্। তুমি কি একটু বেশিই অ্যারোগ্যান্ট বিহেভ করছ না। আমি তো জাস্ট তোমার সাথে একটু ক্যাজুয়াল হওয়ার ট্রাই করছি।”
“আপনি রেজ ফ্যামিলির ইয়াং মাস্টার। আপনার আর আমার স্ট্যাটাস এক না। সেখানে ক্যাজুয়াল হয়ে আমার লাভ কী।”
ফেলিক্স কিছু বলার আগেই ইনায়াত ডিনার হাফ-ফিনিশড রেখেই উঠে দাঁড়ায়। এই ফেক এনভায়রনমেন্ট, এই আর্টিফিশিয়াল ম্যানারিজম তার দম বন্ধ করে দিচ্ছে।
একটু দূর থেকে আয়াজ এতক্ষণ শার্প আইজে ওদেরই অবজার্ভ করছিল। তার জ-লাইন শক্ত, হাতের গ্লাসটা সে প্রায় ক্রাশ করার মতো করে ধরে আছে। ভেতরে ভেতরে এক্সট্রিম জেলাসি কাজ করলেও সিচুয়েশনের কারণে সে সাইলেন্ট থাকতে বাধ্য হয়।
রুমে ফিরেই ইনায়াত সোজা ব্যালকনিতে চলে যায়। ডার্ক স্কাই, দূরের আকাশে মিটিমিটি জ্বলছে কয়েকটা স্টার। ইরিটেশন, হিউমিলিয়েশন আর চাপা কষ্টে থ্রোটের কাছে তার কান্না আটকে আছে। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক চিলতে সারকাস্টিক স্মাইল। কী উইয়ার্ড তার ডেস্টিনি। নিজের বায়োলজিক্যাল ফাদার তাকে রেকগনাইজ করেনি, আর যাকে বিয়ে করল, সেও কখনো ওয়াইফের স্ট্যাটাসটুকু দেয়নি। এই হাই-সোসাইটির গ্ল্যামারাস ওয়ার্ল্ড শুধু ক্লাস আর অ্যাপিয়ারেন্সটাই জাজ করে গেল, ভেতরের মানুষটাকে দেখল না।
একটু পর ইনায়াতের রুমে প্রায় তড়পিয়ে প্রবেশ করে আয়াজ। রুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল, কিন্তু বাড়ির বাটলারের কাছ থেকে স্পেয়ার কি নিয়ে খুব সহজেই আনলক করে ভেতরে ঢুকে পড়েছে সে। তার চোখেমুখে এক ধরনের ইনটেন্স অস্থিরতা, ঠিক কিছু একটা হারিয়ে ফেলার আগে শেষবারের মতো ডেসপারেটলি আঁকড়ে ধরতে চাওয়ার মতো।
পুরো রুম একদম সাইলেন্ট। ইনায়াত রুমে নেই। তবে ব্যালকনি থেকে ফিসফিস করে কথা বলার আওয়াজ ভেসে আসছে। আয়াজ ধীর পায়ে নিঃশব্দে সেদিকে এগোয়, ঠিক একজন সাইলেন্ট প্রিডেটরের মতো। কাছাকাছি আসতেই সে শুনতে পায় ইনায়াত ফোনে ওর ভাই নাভিদকে বলছে,
“ভাইয়া, জাস্ট রিলাক্স। মমকে এসব কিচ্ছু বলিস না। আমি টুমরো মর্নিংয়ে ফিরে সব এক্সপ্লেইন করব। আর এটা তো অস্বাভাবিক কিছু না ব্রো। আয়াজের সাথে অরুকেই যায়, আমাকে তো স্রেফ জেদের বশে ঠেকে বিয়ে করেছে। তার সাথে আমার ভাইব একদমই ম্যাচ করে না। আর আমি চাইও না করুক। ওর সাথে থাকলে সারাজীবন শুধু ইনসাল্টেড হয়েই কাটাতে হবে, আর আমি এমন টক্সিক লাইফ ডিজার্ভ করি না। আমি নিজের মতো বাঁচতে চাই। ভাইয়া, ওরা রয়্যাল ফ্যামিলি বিলং করে, ওদের কাছে ক্লাস আর বিউটি ম্যাটার করে। আমি কে যে আমায় চুজ করবে। আর ফ্র্যাঙ্কলি স্পিকিং, আমিও চাই না ও আমায় চুজ করুক। তুই বোঝার চেষ্টা কর, আমি চলে আসব। আই অ্যাম ফ্রি নাও, আমি মুক্ত। ফোন রাখ এখন, আর কাল সকাল ঠিক সাতটার দিকে আমাকে পিক করতে আসিস।”
ওর বলা প্রতিটা শব্দ আয়াজের বুকে একেকটা আনসিন বুলেট হয়ে বিঁধছে। কথা শেষ করে ইনায়াত ফোন রেখে রুমের দিকে ঘুরতেই থমকে দাঁড়ায়। ওর চোখ পড়ে আয়াজের দিকে, যে কিনা ডার্ক অ্যান্ড ইনটেন্স এক দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। সেই চোখে র অ্যাঙ্গার আছে, অসহায়ত্ব আছে, ওভারপাওয়ারিং পজেসিভনেস আছে, কিন্তু বিন্দুমাত্র ভালোবাসার স্বীকারোক্তি নেই।
আয়াজকে এত রাতে নিজের পার্সোনাল স্পেসে দেখে ইনায়াতের চোখেমুখে তীব্র অ্যানয়েন্স ফুটে ওঠে। অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে সে। তারপর আয়াজের দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে একদম কোল্ড টোনে প্রশ্ন করে,
“আপনি এত রাতে এই রুমে কেন।”
আয়াজ কোনো উত্তর না দিয়ে ধীর কদমে এগিয়ে যায়। ইনায়াতের ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ায়, দুজনের মাঝের দূরত্ব প্রায় জিরো। একজনের নিঃশ্বাসের সাথে আরেকজনের নিঃশ্বাস মিশে যাচ্ছে, কিন্তু হৃদয়ের ভাষা দুজনের দুই মেরুতে অবস্থান করছে। একবুক অসহায়ত্ব নিয়ে সে জিজ্ঞেস করে,
“সত্যিই চলে যাবে। থাকবে না আর কয়েকটা দিন।”
ইনায়াত খুব ক্যাজুয়ালি একটা মৃদু হাসি দিয়ে বলে,
“থাকার কোনো কথা ছিল কি।”
আয়াজ ডেসপারেট হয়ে মাথা নাড়িয়ে বলে,
“হুম, কথা তো ছিল। থাকবে না তুমি।”
ইনায়াতের ঠোঁটে আবারও সেই তাচ্ছিল্যের হাসি,
“না।”
একটিমাত্র শব্দ। কিন্তু সেই একটি শব্দে আয়াজের ভেতরের পুরো এম্পায়ার ধসে পড়ে। আয়াজের বুকের ভেতরটা তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। ইমোশনগুলো কন্ট্রোল করতে না পেরে সে কিছুটা ফিসফিস করে বলে,
“আমাকে হারিয়ে ফেলে আফসোস করবে না তো।”
কথাটা শুনে ইনায়াত এবার নিজেই আয়াজের দিকে এক পা এগিয়ে আসে। কিছুটা ঝুঁকে, আয়াজের চোখের দিকে তাকিয়ে ফুল কনফিডেন্সে বলে,
“আমার থেকে বেটার অপশন অলরেডি আমার পেছনে লাইন দিয়ে আছে। তাই আফসোস করার কোনো লজিকই এখানে আসে না।”
এই কথায় আয়াজের ইগোতে মারাত্মক আঘাত লাগে। রাগে জ্বলে উঠে সে বলে,
“কে সে। প্রিন্স জেভিয়ার, নাকি মিনিস্টার ফেলিক্স। ওরা আমার থেকে বেটার অপশন। ডোন্ট মেক মি লাফ ইনায়াত।”
ইনায়াত শান্ত ভঙ্গিতে হাসে। সেই হাসিতে নেই কোনো রাগ, নেই কোনো হিংসা, শুধু আছে এক ধরনের ক্যাজুয়াল ডমিনেন্স,
“আপনার কাছে বেটার না-ই লাগতে পারে, দ্যাটস ন্যাচারাল। কিন্তু আমার কাছে লাগে। জানেন কেন। ওরা যখন কথা বলে তখন শুধু ক্লাস শো অফ করে না, তারা রেসপেক্ট করতে জানে। আর এটাই বেস্ট। আপনাকে হারিয়ে আমার এক পার্সেন্টও রিগ্রেট হচ্ছে না, বরং আই অ্যাম ফিলিং রিলিভড। ভীষণ আনন্দ হচ্ছে আমার। আপনি বুঝবেন না এই মুক্তির অনুভূতি কতটা সুন্দর।”
আয়াজ ইনায়াতের চোখে চোখ রেখে একদম পজেসিভ টোনে বলে,
“তুমি পৃথিবী চেনো না ইনায়াত। আমাকে জেলাস করতে এসব বলছ তুমি, প্লিজ ডোন্ট ডু দিস।”
ইনায়াত শব্দ করে হেসে ওঠে। সেই হাসিতে পুরো ঘরটা কেঁপে ওঠে।
“জেলাস করাবো। কাকে, আপনাকে। কিন্তু রিজনটা কী। আমাদের মধ্যে তো ওরকম কোনো রিলেশনশিপই এক্সিস্ট করে না।”
আয়াজ এবার ইমপেশেন্ট হয়ে পড়ে। ইনায়াতের এই কোল্ডনেস তাকে ভেতর থেকে অস্থির করে তুলছে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে সে এমন কিছু বলে, যেটা শুনে ইনায়াত নিজেও কয়েক সেকেন্ডের জন্য ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যায়।
“একটা বেবি দিয়ে দাও আমায়। আমি তোমাকে রানির মতো রাখব, আই প্রমিজ। একটুও কষ্ট দেব না, সবসময় প্রটেক্ট করে রাখব। আমাদের একটা বিউটিফুল ফ্যামিলি হবে। প্লিজ, রাজি হয়ে যাও না।”
ইনায়াত এবার রীতিমতো বিরক্ত। ওর চোখেমুখে স্পষ্ট ডিসগাস্ট ফুটে ওঠে,
“হোয়াট ননসেন্স। আমার থেকে বেবি নেবেন কেন। আমি কি আপনার ক্লাসের। আমি কি আপনার যোগ্য যে আমার কাছ থেকে বেবি চাইছেন। এই অ্যাবসার্ড কথাগুলো আমাকে না বলে আপনার প্রিন্সেসকে গিয়ে বলুন। এতে আপনাদের লাইফ সুন্দর হবে।”
কথাগুলো ছুড়ে দিয়ে ইনায়াত আয়াজকে ইগনোর করে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চায়। কিন্তু আয়াজ ওকে আটকে দেয়। শক্ত করে ধরে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ওয়ার্নিং দেওয়ার মতো টোনে বলে,
“এমন বিহেভ করো না ইনায়াত। ইগো দেখিও না। আমি লাস্টবারের মতো বলছি, আমার হয়ে যাও। যদি তুমি আমার সাথে সংসার না করো, তবে আই সোয়্যার আমি তোমাকেও কারো সংসার করতে দেব না। আমি অরুর সাথে সংসার করব ঠিকই, কিন্তু তোমায় কখনোই হ্যাপি হতে দেব না।”
ইনায়াত এক ঝটকায় নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে রুক্ষ স্বরে বলে,
“ছাড়ুন আমার হাত। আপনি কে যে আমায় সংসার করতে দেবেন না। আমার ঘেন্নাটা আর বাড়াবেন না। আমি চলে যাব, আর যাওয়ার সময় সিন ক্রিয়েট করতে চাই না।”
আয়াজ জেদ ধরে বলে,
“না, আমি তোমাকে যেতে দেব না। ইউ আর নট গোয়িং অ্যানিহয়্যার।”
ইনায়াত আয়াজকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে বলে,
“আপনি এখন এখান থেকে যাবেন, নাকি আমি আপনার মাকে ডাকব।”
আয়াজ এক পা এগিয়ে গিয়ে বেপরোয়া ভঙ্গিতে বলে,
“যাব না আমি। আমি এখানেই থাকব তোমার সাথে। এক বেড শেয়ার করব, তোমায় বুকে আগলে নিয়ে ঘুমাব আজ।”
ইনায়াতের রাগ এবার আউট অফ কন্ট্রোল হয়ে যায়। আয়াজকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সে রুমে চলে আসে। ফোনটা হাতে নিয়ে আয়াজের মাকে কল করতে যাবে, ঠিক তখনই রুমের দরজায় এসে দাঁড়ায় অরু।
অরুকে দেখে ইনায়াত হাফ ছেড়ে বাঁচে। একটা স্বস্তির শ্বাস ফেলে সে অরুর দিকে তাকিয়ে বলে,
“ম্যাম, আপনার হাসবেন্ডকে প্লিজ একটু সামলান।”
অরু কথাটা শুনে আয়াজের দিকে তাকায়। আয়াজ এখন ব্যালকনির দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। অরুকে দেখে আয়াজ নিজেকে একটু সামলে নিয়ে ক্যাজুয়ালি মিথ্যে বলে,
“কিছু না। আমরা আমাদের ডিভোর্স নিয়ে কথা বলছিলাম।”
কথাটা শুনে ইনায়াত মনে মনে এক তীব্র তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। হোয়াট আ প্যাথেটিক লাই।
অরু রুমে ঢুকে আয়াজের হাত ধরে চাপা রাগে বলে,
“চলো এখান থেকে। তুমি এখানে কেন এসেছ।”
কিন্তু আয়াজ অরুর হাতটা সরিয়ে দিয়ে জেদি গলায় বলে,
“না, আমি যাব না। আমি ইনায়াতের সাথে লাস্ট নাইট স্পেন্ড করব, তারপর যাব। আই থিংক এতে তোমার কোনো ইস্যু হওয়া উচিত না, উই আর স্টিল লিগ্যালি হাসবেন্ড ওয়াইফ।”
অরুর সারা শরীর রাগে আর অপমানে জ্বলছে, কিন্তু এই মুহূর্তে ওর কিছুই করার নেই। সে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, ঠিক একটা স্ট্যাচু অফ সাইলেন্ট রেজ।
তখনই ইনায়াত নীরবতা ভেঙে বলে ওঠে,
“মিস্টার আয়াজ, ফেক ইলিউশন ক্রিয়েট করছেন কেন। লাস্ট আর ফার্স্ট কীসের। আমাদের মধ্যে কি কখনো হাসবেন্ড ওয়াইফের রিয়েল কোনো রিলেশন ছিল। না, ছিল না। তাহলে লাস্ট নাইট আবার কী। প্রিন্সেস অরু, আপনার হাসবেন্ড দুই নৌকায় পা দিয়ে চলতে চাইছেন, আপনি প্লিজ উনাকে হ্যান্ডেল করুন।”
এই কথা শুনে আয়াজ রাগে ব্লাইন্ড হয়ে ইনায়াতের দিকে তেড়ে আসে। ওর কোমর শক্ত করে চেপে ধরে অরুর সামনেই ওকে জোর করে কিস করতে চায়। কিন্তু ইনায়াত ওর থেকে মুখ সরিয়ে নিয়ে কড়া গলায় বলে,
“এই চিপ হারকাত একদম করবেন না। আপনার কোনো রাইট নেই মিস্টার আয়াজ। আপনি আপনার ওয়াইফকে গিয়ে কিস করুন। আমার ঠোঁট আর শরীর এত চিপ না যে অন্যের হাসবেন্ড এসে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াবে।”
আয়াজ দাঁত চেপে হিসহিস করে ওঠে,
“তুমি আমার ওয়াইফ। আর আমার ওয়াইফের বডির ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে আমি ঠোঁট ছোঁয়াব। শুধু ঠোঁটে না।
বলেই সে অরুর দিকে তাকিয়ে এক সাইকো হাসি দিয়ে আয়াজ বলে
“অরু, তুমি কি লাইভ দেখতে চাও আমি কীভাবে ওর সারা শরীরে ঠোঁট ছোঁয়াই। নাকি তুমি লিভ করবে। আমি আমার লাস্ট নাইট কোনোভাবেই ওয়েস্ট হতে দেব না।”
কথাগুলো বলেই আয়াজ ইনায়াতকে নিজের আরও কাছে টেনে নেয়। ইনায়াত মরিয়া হয়ে অরুকে চিৎকার করে বলে,
“অরু প্লিজ, তুমি যেও না। তোমার হাসবেন্ডকে এখান থেকে নিয়ে যাও।”
নিজেকে ছাড়ানোর জন্য ইনায়াত আয়াজের উরুতে জোরে লাথি মারতে চায়, কিন্তু পারে না। আয়াজ ওকে আরও শক্ত করে পিন করে ধরে রাখে।
অরু ধীর পায়ে, একটা আইস কোল্ড লুক দিয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে যায় এবং বাইরে থেকে দরজাটা লক করে দেয়। ক্লিক।
পরদিন সকালে
আয়াজ পাগলের মতো ধড়ফড় করে ঘুম থেকে ওঠে। চোখে এখনো ঘুমের রেশ, কিন্তু মনে এক অজানা আতঙ্ক। নিজের রুমের দরজা খুলে সে সোজা দৌড় লাগায় ইনায়াতের রুমের দিকে। গতরাতে আয়াজ ইনায়াতের সাথে থাকতে পারেনি, কারণ শেষ মুহূর্তে আয়াজের মা সেখানে উপস্থিত হয়ে কড়া শাসনে আয়াজকে নিজের রুমে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। মায়ের অথরিটির সামনে আয়াজের সব জেদ ছিল একদম ম্যাটারলেস।
আয়াজের হার্টবিট ফাস্ট হয়ে গেছে। ওর মনে হচ্ছে ইনায়াত হয়তো এতক্ষণে চলে গেছে। প্রতিটা পদক্ষেপে একটা ভয় কাজ করছে, হোয়াট ইফ শি ইজ অলরেডি গন।
ইনায়াতের রুমে পৌঁছাতেই ওর চোখ আটকে যায়। ইনায়াত এইমাত্র জিম থেকে ওয়ার্কআউট শেষ করে রুমে ফিরেছে, হাতে ওর জিম সুট। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হচ্ছে সে। চুল থেকে এখনো পানি ঝরছে, মুখে এক ধরনের পোস্ট ওয়ার্কআউট গ্লো। ইনায়াতকে দেখে আয়াজ একটা দীর্ঘ স্বস্তির শ্বাস ছাড়ে এবং মুগ্ধ দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। শি ইজ স্টিল হিয়ার।
ইনায়াত আয়াজকে দেখেও না দেখার ভান করে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সে আজ যেতে পারবে না। আয়াজের মা ওকে রিকোয়েস্ট করেছেন এনগেজমেন্ট সেরিমনিটা শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকতে, যাতে ফ্যামিলির ভেতর আর কোনো নতুন গসিপ ক্রিয়েট না হয়। ইনায়াত শুধু মুক্তি চায়। তাই ওরা যেভাবে বলছে, সে বাধ্য হয়ে সেটাই মেনে নিয়েছে, কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই চ্যাপ্টারটা ক্লোজ করার জন্য। এমনিতেই সব কিছু ওর কাছে মারাত্মক ইরিটেটিং লাগছে। প্রতিটা মুহূর্ত ওর কাছে একটা কাউন্টডাউন টু ফ্রিডম।
আয়াজ ইনায়াতকে আর কিছু বলে না। কিছুক্ষণ শান্ত চোখে ওকে দেখে, তারপর নিঃশব্দে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। ইনায়াত এখনো আছে, এটাই ওর মনে এক অনাবিল শান্তি এনে দেয়। শি ইজ হিয়ার, দ্যাটস এনাফ ফর নাও। অন্যদিকে ইনায়াত আয়াজের উপস্থিতি সম্পূর্ণ ইগনোর করে নিজের স্কুলে যাওয়ার জন্য রেডি হতে থাকে। আয়াজের প্যারেন্টসের সাথে ব্যাপারটা একদম ক্লিয়ার করে নিয়েছে সে। সে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তার টিচিংয়ের জবটা কনফার্ম হয়েছে। তাই এনগেজমেন্টের পর কোনো ফ্যামিলি ড্রামা ছাড়াই খুব স্মুথলি একটা মিউচুয়াল ডিভোর্সের অ্যারেঞ্জমেন্ট করা হয়। তার এই স্ট্রং ডিসিশনের কাছে হার মেনে উনারাও ফাইনালি রাজি হয়েছেন।
একটু পর,
ইনায়াত রেডি হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে আর তার আজকের আউটফিট জাস্ট মাইন্ড-ব্লোয়িং। তার পরনে একটা ডার্ক ব্রাউন কালারের এলিগেন্ট কোট-প্যান্ট, যার ভেতর থেকে উঁকি দিচ্ছে একটি বেসিক কিন্তু সফিস্টিকেটেড হোয়াইট টপ। পুরো লুকটা একদম মিনিমালিস্ট, কিন্তু তার প্রেজেন্সটা অসম্ভব গর্জিয়াস। ইনায়াতের কাঁধে ঝুলছে তার সিগনেচার লুই ভুইতোঁ টুইস্ট ব্ল্যাক চেইন ব্যাগ। এমনিতে সে খুব একটা ব্র্যান্ড ফ্রিক নয়, ফ্যাশনের ক্ষেত্রে সিম্পলিসিটিই তার পছন্দ। কিন্তু ব্যাগের ক্ষেত্রে তার টেস্ট একদম হাই-এন্ড। লাক্সারি আইটেমের মধ্যে লুই ভুইতোঁ তার একমাত্র উইকনেস, আর এই এক্সপেন্সিভ পিসটাই যেন তার পুরো লুকে একটা রয়্যাল ভাইব অ্যাড করেছে।
আ্যাশ ক্যাসেলে এখন আপকামিং ফাংশনের ফেস্টিভ মুড। ড্রয়িংরুমে কাজিনদের জমজমাট আড্ডা চলছে, সবাই মিলে মর্নিং ব্রেকফাস্ট আর জোকস এনজয় করছে। কিন্তু এই লাউড আর চিয়ারফুল ভাইবের মাঝেও আয়াজ একদম সাইলেন্ট। সোফার এক কোণায় বসে এক দৃষ্টিতে ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে নীরবে নিজের কফিটা গিলছে সে। তার ব্রেইনে এখন চলছে অন্য এক ডার্ক ক্যালকুলেশন। ইনায়াতকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার ভয়টা তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সে খুব ভালো করেই জানে, নিজে থেকে বিয়েটা ক্যানসেল করলে ইনায়াতের আপার-হ্যান্ড চলে আসবে। তাই আয়াজকে এমন একটা সলিড মাস্টার প্ল্যান করতে হবে, যাতে ইনায়াত বাধ্য হয়ে নিজে থেকেই তার কাছে ফিরে আসে। ইনায়াতকে তার চাই-ই চাই, এনিহাউ।
কারও সাথে এক্সট্রা কথা না বাড়িয়ে ইনায়াত খুব সাইলেন্টলি মেইন ডোরের দিকে এগিয়ে যায়। ঠিক তখনই এভা আর ফেইথ ছুটে এসে দু-পাশ থেকে তাকে কিউট একটা হাগ দেয়। গতরাতে এই তিনজনের দারুণ একটা স্লিপওভার ছিল, এক রুমেই লেট নাইট পর্যন্ত চলেছে তাদের এন্ডলেস গসিপ। সেখানেই ইনায়াত তাদের কনভিন্স করেছিল যে সে একটা স্কুলে টিচিংয়ের জব পেয়েছে। কিন্তু তার আসল আইডেন্টিটি সে যে একজন ডেডলি এম আই সিক্স এজেন্ট, এই টপ সিক্রেটটা সে খুব স্মার্টলি হাইড করে গেছে। এভা আর ফেইথ বেশ এক্সাইটেড হয়ে হাসিমুখে উইশ করে,
“হোপ ইওর ফার্স্ট ডে গোস ওয়েল, ডার্লিং।”
ইনায়াতও দুহাতে তাদের ওয়ার্মলি হাগ ব্যাক করে। ঠোঁটের কোণে একটা কনফিডেন্ট আর স্নিগ্ধ হাসি ফুটিয়ে সে সফট টোনে বলে ওঠে,
“থ্যাংকস। আসি।”
ইনায়াত কথাগুলো বলেই সামনের দিকে পা বাড়ায়। তার হাঁটার ছন্দে ঝরে পড়ে কনফিডেন্স, প্রতিটা পদক্ষেপেই সে নিজের স্ট্রং এক্সিস্টেন্সের জানান দিচ্ছে। আয়াজ একদৃষ্টে তার দিকে তাকিয়ে থাকে তার যাওয়ার দিকে। ভেতরে ভেতরে একটা রাগ দাউদাউ করে জ্বলছে তার। বুকের ভেতর অস্থিরতা, কেউ আগুনে লিটারেলি ঘি ঢেলে দিয়েছে এমন অস্থির। ইনায়াত নতুন জব পেয়েছে বলেই কি হঠাৎ এত গর্জিয়াস হয়ে উঠতে হবে। আয়াজ কিছুতেই চোখ সরাতে পারে না তার দিক থেকে। যতবার ফোকাস ঘোরানোর চেষ্টা করে, ততবারই তার দৃষ্টি ম্যাগনেটের মতো ইনায়াতের দিকেই আটকে যায়।
অন্যদিকে ফেইথ আর এভা কফির মগ হাতে আড্ডায় মশগুল। ইনায়াতের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে লেক্সি বেশ এক্সাইটেড টোনে বলে ওঠে,
“গাইজ, মানতেই হবে ওর মধ্যে একটা আলাদ অরা ভাব আছে। ওর ওয়াকিং স্টাইলটা নোটিশ করেছিস। একদম সুপারমডেলদের মতো কনফিডেন্স। পুরো মুভমেন্টের মাঝেই একটা সলিড ‘কুইন ভাইব’ আছে। জাস্ট অসাম।”
ফেইথও মাথা নেড়ে সায় দেয়,
“ট্রু। সত্যি বলতে, শুরুতে ওকে আমার একদমই সহ্য হতো না। দেখলেই কেমন একটা আননেসেসারি ইরিটেশন কাজ করত। বাট শি ইজ অ্যাকচুয়ালি অ্যান অ্যামেজিং পারসন। এত কুল আর চিলড-আউট মেয়ে আমি রিয়েলি খুব কম দেখেছি। জানিস, গতকাল আমি ওকে বলেছিলাম আয়াজ ভাইয়ের কাছে গিয়ে দেখতে বিয়েটা কোনোভাবে আটকানো যায় কি না। ওর রিপ্লাই কী ছিল গেস কর।”
সবাই বেশ কিউরিয়াস হয়ে ফেইথের দিকে তাকায়। আয়াজও কান পেতে রাখে, নিজেকে আনইন্টারেস্টেড দেখালেও প্রতিটা শব্দ সে স্ক্যান করে নিচ্ছে। ফেইথ কিছুটা ড্রামাটিক টোনে গলা নামিয়ে বলে,
“ও বলল ‘আমি অবশ্যই আয়াজের কাছে যাব, বাট দ্যাটস অনলি ফর সাইনিং দ্য ডিভোর্স পেপারস, বিয়ে ভাঙার জন্য নয়। ক্রাউন প্রিন্সের বিয়ে বলে কথা, আমি তাদের লাভ স্টোরির মাঝে কাঁটা হতে যাব কোন দুঃখে।'”
কথাটা শুনে সবাই কিছুক্ষণের জন্য একদম পিনড্রপ সাইলেন্ট হয়ে যায়। তারপর কেউ একজন ফিসফিস করে বলে ওঠে,
“ড্যাম। ও যে এতটা স্যাভেজ, সেটা তো জানতাম না।”
কণ্ঠে একই সঙ্গে ইনায়াতের প্রতি বিস্ময় আর রেসপেক্ট।
ঠিক তখনই অরু সেখানে এন্ট্রি নেয়। কথাগুলো তার রাডারেও ধরা পড়ে। একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে সে বলে,
“ও আসলে ভেতর থেকে ভীষণ উইক। নিজের সেই উইকনেস ঢাকতেই এই ফেক কুল সাজার অ্যাক্টিং করছে।”
বলেই সে অ্যারোগেন্টলি চুল ঝাঁকিয়ে অন্যদিকে তাকায়।
আয়াজের পক্ষে আর সেখানে থাকা পসিবল হয় না। কাজের এক্সকিউজ দিয়ে সে সোজা বাইরে বেরিয়ে যায়। ভেতরের অস্থিরতা তাকে এক জায়গায় শান্ত হয়ে থাকতে দিচ্ছে না। পার্কিং লট থেকে গাড়ি নিয়ে সে রাফ ড্রাইভ করতে শুরু করে। সে খুব ভালো করেই জানে, ইনায়াত বাসে করে যাবে এবং মাঝরাস্তাতেই তাকে ক্যাচ করা পসিবল। হয়ও ঠিক তাই। একটু এগোতেই ইনায়াতকে রাস্তায় পেয়ে যায় আয়াজ। গাড়িটা শার্প ব্রেক করে ইনায়াতের ঠিক সামনে দাঁড় করিয়ে সে বলে,
“ইনায়াত, গাড়িতে ওঠো। আমি তোমাকে ড্রপ করে দিচ্ছি।”
ইনায়াত তার দিকে ফিরেও তাকায় না। ইগনোর করে নিজের মতো হাঁটতে শুরু করে, তার কাছে এখন সামনের লোকটার কোনো এক্সিস্টেন্সই নেই। আয়াজ নাছোড়বান্দার মতো ইনায়াতের পেছন পেছন গিয়ে ওর হাত চেপে ধরে। কিন্তু ইনায়াত খুব স্মুথলি নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে একদম ডেড-কোল্ড গলায় বলে,
“রাস্তায় সিন ক্রিয়েট করবেন না। আই অ্যাম নট ইন্টারেস্টেড ইন টকিং টু ইউ।”
তার কণ্ঠে এতটুকু ইমোশন নেই, শুধু এক হিমশীতল নির্লিপ্ততা, যেটা আয়াজের ইগোতে আরও জোরে আঘাত করে। আয়াজ এবার জোর করে ইনায়াতের হাত টেনে নিজের আরও কাছে নিয়ে আসে। দাঁত চেপে ফিসফিস করে বলে,
“গাড়িতে এসো। আই নিড টু টক টু ইউ, ইটস ইম্পর্ট্যান্ট।”
ইনায়াত বিরক্তি নিয়ে বলে,
“কীসের কথা। হাত ছাড়ুন। আমার মুড এখন ভালো আছে, খামোখা স্পয়েল করবেন না প্লিজ।”
আয়াজ ইনায়াতের দুই হাত নিজের মুঠোর ভেতর শক্ত করে চেপে ধরে,
“গাড়িতে এসো বলছি। জাস্ট একবার আসো প্লিজ।”
ইনায়াত সজোরে ঝটকা মেরে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। ঠিক সেই মোমেন্টেই নাভিদ অফিসের গাড়ি নিয়ে সেখানে পৌঁছায়। হর্ন বাজার সাথে সাথেই ইনায়াত আয়াজকে টোটালি ইগনোর করে নাভিদের গাড়িতে উঠে বসে। দরজা ধাম করে বন্ধ হওয়ার শব্দটা আয়াজের বুকে গিয়ে লাগে। আয়াজ রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বিড়বিড় করে,
“আমি চেয়েছিলাম খুব ডিসেন্টলি ম্যাটারটা সলভ করতে। বাট ইউ আর স্টিল স্টাক ইন ইওর অ্যাটিটিউড। এবার তুমি বুঝবে আমি আসলে কী।”
গাড়িতে উঠে বসতেই নাভিদ কনসার্নড টোনে জিজ্ঞেস করে,
“কী রে। আয়াজ তোর সাথে রাস্তায় কী করছিল। তুই তো বললি ওকে তোর দু’চোখের বিষ লাগে।”
ইনায়াত জমে থাকা সব ফ্রাস্ট্রেশন উগরে দিয়ে প্রায় চিৎকার করে ওঠে,
“আমি জানি না ঐ ইডিয়টটা কী চায়। গতরাত থেকে সাইকোর মতো আমার পেছনে লেগে আছে। একবার ক্লাস নিয়ে আমাকে ইনসাল্ট করবে, আরেকবার আমার গায়ে এসে পড়বে অ্যাম আই আ টয় অর সামথিং। জাস্ট আর দুটো দিন, তারপর এই হেল থেকে চিরতরে বেরিয়ে আসব।”
নাভিদ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। বোনের মেন্টাল স্টেট সে বুঝতে পারছে। পানির বোতলটা এগিয়ে দিয়ে নরম গলায় বলে,
“টেক আ ডিপ ব্রেথ। ঐ রাবিশটার আশেপাশে থাকার কোনো দরকারই নেই। আজ সোজা বাড়ি যাবি, আর ফাংশনের দিন গিয়ে নিজের সব বিলংগিংস প্যাক করে নিয়ে আসবি।”
স্কুলে আসার পর,,,,,
স্কুলের পুরোনো কাঠের করিডোরে আজ এক রহস্যময় পিন-ড্রপ সাইলেন্স। সেকশন ডি হলো পুরো ক্যাম্পাসের সবচেয়ে নটোরিয়াস এরিয়া। পলিটিকাল পাওয়ারের ফ্লেক্স, পকেটে লুকানো ইমপোর্টেড সিগারেট আর ব্যাকবেঞ্চারদের টক্সিক কালচার মিলে তৈরি করেছে এই ক্লাসরুমের আনরিটেন রুল। এই ডার্ক আর থমথমে অ্যাটমোস্ফিয়ারের ভেতরেই করিডোরের মেঝেতে হাই হিলের রিদমিক সাউন্ড তুলে এগিয়ে আসছে ইনায়াত।
কোনো হেসজিটেশন ছাড়াই ক্লাসরুমের ভারী দরজাটা সজোরে পুশ করে ভেতরে এন্টার করে সে। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে নার্ভাসনেসের জিরো ট্রেস। বরং তার ওভারপাওয়ারিং কনফিডেন্সটা দামি পারফিউমের মতো মুহূর্তেই স্প্রেড করে যায় পুরো রুমে। সোজা হেঁটে ব্ল্যাকবোর্ডের সেন্টারে গিয়ে দাঁড়ায়, আঙুলের ফাঁকে কায়দা করে তুলে নেয় একটা সাদা চক। কোনো এক্সট্রা ডিজাইন বা ক্যালিগ্রাফি নয়, একদম শার্প আর বোল্ড স্ট্রোকসে বোর্ডের ওপর লিখে দেয় ‘ইনায়াত’। এরপর স্লো-মোশনে ঘুরে যখন পুরো ক্লাসের দিকে তাকায়, তার চোখের ওই কোল্ড, তার প্রফেশনাল লুক কোনো সাধারণ টিচারের মনে হয় না ওটা ঠিক টপ-টায়ার কর্পোরেট বোর্ডরুমের কোনো পাওয়ারফুল বসের শার্প ভিশন। সে নিজের পরিচয় দিতে থাকে সবাই কে।
ঠিক সেই মোমেন্টে ব্যাকবেঞ্চের ডার্ক কর্নার থেকে ভেসে আসে একটা চেনা অ্যারোগেন্ট ভয়েস। সিক্স-ফিট টল ফিগার, শার্টের আপার বাটনস খোলা আর রাফ হেয়ারকাট থাকা ছেলেটার নাম রিক। ইনফ্লুয়েনশিয়াল পলিটিশিয়ান বাবার পাওয়ার আর ডার্টি মানির জোরে বেড়ে ওঠা এই স্পয়েলড ব্র্যাটের ডিকশনারিতে রেসপেক্ট বা লিমিট বলে কিছু নেই। নিজের ডেস্কে ক্যাজুয়ালি পা তুলে দিয়ে, মুখে একটা ভালগার স্মার্ক ঝুলিয়ে সে কমেন্ট করে,
“ম্যাম, এই বোরিং ইন্ট্রোডাকশন পার্টটা একটু স্কিপ করুন প্লিজ। অনেস্টলি স্পিকিং, ফার্স্ট লুকেই আপনাকে আমার বেশ পছন্দ হয়ে গেছে। আপনার ওই ফিগার আর হাঁটার অ্যাটিটিউড, জাস্ট ওয়াও। আই ওয়ান্ট ইউ ইন মাই বেড।”
তার এই ডার্টি কমেন্ট শেষ হতেই ক্লাসের বাকি স্টুডেন্টরা একটা চিপ হাসিতে ফেটে পড়ে। ডেস্ক থাপড়ানো আর শিসের শব্দে ক্লাসরুমের সিচুয়েশন তখন রীতিমতো আউট অফ কন্ট্রোল। কিন্তু ইনায়াত ফ্লিঞ্চ পর্যন্ত করে না। তার ফেশিয়াল এক্সপ্রেশনে সিঙ্গেল কোনো চেঞ্জ নেই। শুধু জ-লাইনটা একটু টাইট করে স্লো অথচ হেভি স্টেপসে সামনের দিকে এগোতে শুরু করে সে। তার ওই ডেডলি অরা দেখে ক্লাসের নয়েজ ম্যাজিকের মতো ড্রপ করতে থাকে। ইনায়াত সোজা গিয়ে দাঁড়ায় রিকের ডেস্কের একদম সামনে। আই-টু-আই কন্ট্যাক্ট রেখে, আইস-কোল্ড টোনে সে তার ওয়ার্নিং ছুঁড়ে দেয়,
“আমি তোমার কোর্সের টিচার, রিক। মাইন্ড ইওর ল্যাঙ্গুয়েজ। তোমার এই চিপ বিহেভিয়ারের কনসিকোয়েন্স কিন্তু খুব ব্রুটাল হতে পারে। তুমি এখনো আঠারো ক্রস করোনি, টেকনিক্যালি তুমি আমার ছেলের বয়সী।”
কিন্তু রিক ওভার-কনফিডেন্ট আর রেকলেস। সে আরও লাউডলি হেসে উঠে রিপ্লাই দেয়,
“সিরিয়াসলি ম্যাম। আপনি এজের ক্যালকুলেশন করছেন। ট্রাস্ট মি, আপনাকে সারা রাত স্যাটিসফাই করার মতো এনাফ স্ট্যামিনা আমার ভেতরে লোডেড আছে।”
কথাটা শেষ করেই সে একটা ভালগার জেসচার করে উইংক করে আর আঙুল দিয়ে ভি-সাইন দেখায়।
দ্যাট ওয়াজ ইট। লিমিট ক্রসড। ইনায়াতের ঠোঁটের কোণে এবার ফুটে ওঠে একটা কোল্ড, ডেডলি স্মাইল। কেউ কিছু রিঅ্যাক্ট করার আগেই, উইদিন আ ব্লিংক অফ অ্যান আই, তার বাঁ হাত খামচে ধরে রিকের সামনের চুল, আর ট্রিমেন্ডাস ফোর্সে এক ঝটকায় ছেলেটার মাথাটা টাশ করে ধাক্কা খায় ডেস্কের সলিড কাঠের ওপর।
একটা লাউড ক্র্যাক সাউন্ড হয়। ফ্র্যাকশন অফ আ সেকেন্ডে পুরো ক্লাসরুমে নেমে আসে পিন-ড্রপ সাইলেন্স। ইনায়াতের হাতের এক থাবা খেয়ে রিকের কানের পাশ থেকে ফ্রেশ ব্লাড ড্রপ করতে শুরু করে মেঝেতে। কিন্তু ইনায়াত তাকে রিকভার করার কোনো চান্সই দেয় না। তার শার্টের কলারটা রাফলি গ্র্যাব করে এক টানে তাকে নিজের পায়ে দাঁড় করায়, আর ঠিক নেক্সট সেকেন্ডেই রিকের স্টমাকে বসিয়ে দেয় এক রুথলেস কিক। ইমপ্যাক্টটা এতই পাওয়ারফুল ছিল যে রিক ছিটকে গিয়ে পড়ে তিন বেঞ্চ পেছনে। ডেস্ক আর চেয়ার উল্টে মেঝের অবস্থা এখন পুরোপুরি মেসড আপ। একটু আগে ব্যাকবেঞ্চের যে হিরোরা শিস বাজাচ্ছিল, তাদের সবার স্পাইন বেয়ে এখন কোল্ড সোয়েট ঝরছে।
ইনায়াত কপালের ওপর চলে আসা চুলের স্ট্র্যান্ডসগুলো একদম ক্যাজুয়ালি আঙুল দিয়ে ব্রাশ অফ করে পুরো ক্লাসের দিকে আরেকবার লুক দেয়। তার এই সিগনেচার কোল্ড স্টেয়ারে এবার ক্লিয়ার হয়ে ওঠে এক টেরিবল ওয়ার্নিং,
“এই রুমে আর কেউ আছো। এনিওয়ান এলস যার বেডে যাওয়ার ফ্যান্টাসি ফুলফিল করার ইচ্ছা আছে। তোমাদের ব্রেইনে ঢুকে থাকা এই টক্সিক ভাইরাসের পার্মানেন্ট ফিক্স আমি আজ থেকেই স্টার্ট করছি।”
মেঝেতে পড়ে থাকা রিক কোনোমতে পেইনফুল এক্সপ্রেশনে মাথাটা তোলে। শেকি ভয়েসে সে চিৎকার করে ওঠে,
“তোকে আমার বাবা জ্যান্ত রাখবে না। তুই জাস্ট একটা চিপ, অর্ডিনারি টিচার, তোর অওকাত।”
তার এই ননসেন্স কথাটা শেষ হওয়ার আগেই ইনায়াত নিজের পকেট থেকে ব্ল্যাক লেদারের একটা ফোল্ডার বের করে দারুণ স্টাইলে ফ্লিপ করে খোলে। ক্লাসরুমের টিউবলাইটের ব্রাইট আলোয় গ্লিটার করে ওঠে ফোল্ডারের ভেতরের সিলভার মেটালিক ব্যাজটা। ইম্পসিবলি কোল্ড আট লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার ভয়েসে ইনায়াত এবার তার রিয়েল আইডেন্টিটি রিভিল করে,
“আমি কোনো অর্ডিনারি স্কুল টিচার নই। আই অ্যাম অ্যান আন্ডারকভার এমআই-সিক্স স্পেশাল এজেন্ট। আর তোর নামে পেন্ডিং থাকা আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রাগ ডিলিং আর হ্যারাসমেন্টের ফাইলগুলো আজ, রাইট নাও, অফিশিয়ালি রিওপেন করা হলো।”
রিকের এতদিনের বিল্ড-আপ করা ফেইক এম্পায়ারটা চোখের পলকেই হাউজ অফ কার্ডসের মতো ক্র্যাশ করে। ইনফ্লুয়েনশিয়াল বাবার পলিটিকাল ব্যাকআপ এবং পকেটের আনলিমিটেড ব্ল্যাক মানি ওই একটা মেটালিক ব্যাজের পাওয়ারের সামনে নিমিষেই জিরো হয়ে যায়। কলারটা শক্ত গ্রিপে ধরে রিককে মেঝে দিয়ে ড্র্যাগ করে করিডোরের দিকে টেনে নিয়ে যায় ইনায়াত। করিডোরে তার হাই হিলের ওই রিদমিক সাউন্ডটা এবার ঠিক আল্টিমেট ভিক্টরির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর হয়ে প্লে হচ্ছিল। ঠিক টেন মিনিটস পর, স্পেশাল ফোর্সের রেড-অ্যান্ড-ব্লু ফ্ল্যাশার আর সাইরেনের পিয়ার্সিং সাউন্ডে পুরো ক্যাম্পাস এরিয়া কেঁপে ওঠে। জুভেনাইল ল-এর লুপহোল ইউজ করে এতকাল ডার্ক ওয়ার্ল্ডে সেফ থাকা রিকের দুই হাতে আজ অবশেষে হেভি আইরন হ্যান্ডকাফস। গেম ইজ অফিশিয়ালি ওভার।
পুরো সিনটা হ্যান্ডেল করে আবার সেই ক্লাসরুমে ব্যাক করে ইনায়াত। নিজের কোটের ডাস্টটা হালকা হাতে ব্রাশ অফ করে সে বেশ রিল্যাক্সড ভাইবে ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আল্টিমেট অথরিটি হোল্ড করা এক কর্পোরেট বসের অ্যাটিটিউডে সে তার ফাইনাল অর্ডার পাস করে,
“টুমরো মর্নিং, তোমরা সবাই মিলে এই পুরো ক্লাসরুমটা একদম স্পটলেস ক্লিন করবে। আর এই ক্যাম্পাসের আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রাগ সাপ্লাই চেইন আজ, দিস ভেরি সেকেন্ড থেকে শাট ডাউন। এরপর যাকে আমি সাসপিশিয়াস কোনো অ্যাক্টিভিটিতে ক্যাচ করব, তার পুরো ক্যারিয়ার আর ফিউচার আমি নিজের হাতে ডেস্ট্রয় করে দেব। অ্যাম আই ক্লিয়ার।”
ব্যাকবেঞ্চের যে ছেলেগুলো একটু আগে লাউডলি শিস বাজাচ্ছিল, তারা সবাই একসঙ্গে শেকি আর ব্রেথলেস ভয়েসে অ্যানসার দেয়,
“ইয়েস, ম্যাম।”
স্টুডেন্টদের এই লয়্যাল রেসপন্স পেয়ে ব্ল্যাকবোর্ডের এক কোণে সাদা চকে লেখা ‘ইনায়াত’ নামটার ঠিক নিচে সে এবার বোল্ড স্ট্রোকসে নতুন একটা লাইন অ্যাড করে লিখে দেয়।
[ এই টিচারের আইডিয়া টা আমি ড্রামা থেকে নিয়েছি আগের ক্লিয়ার করলাম ]
বিকেল বেলা স্কুল থেকে ফিরে নিজের রুমে শুয়ে রেস্ট নিচ্ছে ইনায়াত। নাভিদ তাকে এই বাড়িতে আসতে কড়াভাবে নিষেধ করেছে, তবুও সে এসেছে। কারণ না এলে তো ডিল অনুযায়ী ডিভোর্সটা পাওয়া যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই তার আসা। বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে আজকের সারাদিনের ইভেন্টগুলো নিজের ডায়েরিতে নোট করছে।
ঠিক তখনই তার রুমের দরজায় নক করে অরু আর থিয়া। ইনায়াত তাদের সামনে যেতেই তারা একটু তাচ্ছিল্যের সুরে বলে ওঠে,
“আমরা সবাই এখন এনগেজমেন্টের শপিংয়ে যাচ্ছি। তুমিও চলো আমাদের সাথে। জানি তুমি হয়তো খুব জেলাস ফিল করছো, কিন্তু কিছু তো করার নেই।”
ইনায়াত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শান্ত গলায় জবাব দেয়,
“নো, আমি জেলাস-টেলাস কিছুই ফিল করছি না। সারাদিন ক্লাস নিয়ে আমি বেশ টায়ার্ড। তোমরাই যাও, আমার একদম মুড নেই।”
ঠিক তখনই লেক্সি সেখানে এসে ফোড়ন কাটে,
“আরে চলো না। বাড়িতে একা বসে বসে কান্নাকাটি করার চেয়ে বাইরে গিয়ে সবকিছু নিজের চোখে দেখে আসবে, চলো।”
ইনায়াত তার দিকে তাকিয়ে একটা হালকা স্মাইল দেয়। তারপর বেশ কনফিডেন্টলি বলে,
“আমার দিন এতটা ব্যাডও আসেনি যে, যার সাথে আমার কোনো রিলেশনশিপই নেই তার জন্য আমি বসে বসে কাঁদবো।”
তার কথা শুনে অরু বলে ওঠে,
“তাহলে চলো আমাদের সাথে।”
ইনায়াত কয়েক সেকেন্ড ভেবে নিয়ে বলে,
“ওকে, যাওয়া যায়।”
কিছুক্ষণ পর,,,
গাড়ির ফ্রন্ট সিটে বসে আছে ইনায়াত। তার পাশেই ড্রাইভিং সিটে বসে ড্রাইভ করছে ফেলিক্স। আশেপাশে আরও বেশ কয়েকটা গাড়িতে তাদের প্রটেকশনের জন্য গার্ডরা রয়েছে। ব্যাক সিটে বসেছে আয়াজ আর অরু। মূলত ইনায়াতকে দেখিয়ে দেখিয়ে জ্বালানোর জন্যই অরু তাকে ইচ্ছা করে নিজেদের গাড়িতে উঠিয়েছে।
ইশকে এ নিকাহ পর্ব ১৪
ফেলিক্স ড্রাইভ করার ফাঁকে ফাঁকে বারবার আড়চোখে ইনায়াতকে দেখছে। আর ইনায়াত একদম ইমোশনলেস রোবটের মতো একদৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। এদিকে ব্যাক সিটে আয়াজ অরুর থেকে বেশ কিছুটা ডিসটেন্স মেনটেইন করে বসে আছে। তার পুরো ফোকাস ফেলিক্সের দিকে। ইনায়াতের দিকে ফেলিক্সের বারবার এই তাকানো দেখে আয়াজের রাগে গা জ্বলছে, মনে হচ্ছে ফেলিক্সকে সে কাঁচাই চিবিয়ে খাবে। কিন্তু সিচুয়েশন বুঝে সে চুপচাপ নিজেকে কন্ট্রোল করে বসে আছে।
হঠাৎ ইনায়াত শান্তভাবে ফেলিক্সের দিকে টার্ন করে এবং বলে,
“আপনি যদি আমার দিকে কন্টিনিউয়াসলি এভাবেই তাকাতে থাকেন স্যার, তাহলে যেকোনো সময় একটা অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে। সো প্লিজ, সামনের রাস্তায় ফোকাস করুন।”
