Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 40

Mad for you 2 part 40

Mad for you 2 part 40
তানিয়া খাতুন

দুই দিন কেটে গেছে।
আমান সিমরান এবং তাদের ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে।
তবে দেশে ফেরার আগে রুহির তথাকথিত ইতালিয়ান মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে রুহি বর্তমানে বাংলাদেশে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
খবরটা শোনামাত্রই মহিলা আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি।
পরবর্তী দুই দিনের মধ্যেই তিনি ইতালি থেকে বাংলাদেশে এসে পৌঁছান।
বাটারফ্লাই ম্যানশন।
বিশাল ড্রয়িংরুমজুড়ে অদ্ভুত এক নীরবতা।
নীরবতা এতটাই ঘন যে, কারও নিঃশ্বাসের শব্দ পর্যন্ত স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।
সামনাসামনি বসে আছে তিনজন মানুষ।

রুহি…ক্রুশ…আর সেই ইতালিয়ান মহিলা, যাকে এতদিন রুহি নিজের মা বলে জেনে এসেছে।
গত কয়েক দিনের মানসিক ধাক্কায় রুহির শরীর ভেঙে পড়েছে।
জ্বরটা কিছুটা কমলেও দুর্বলতা এখনো কাটেনি।
এই কয়েক দিন সে প্রায় ঘুমিয়েই কাটিয়েছে। শরীরের চেয়ে তার মনটাই বেশি ক্লান্ত।
এতগুলো সত্য একসঙ্গে জেনে এখনও সবকিছু তার কাছে অবাস্তব মনে হচ্ছে।
তবু স্মৃতির দরজাটা ধীরে ধীরে খুলছে।
টুকরো টুকরো কিছু দৃশ্য..কিছু মুখ…কিছু কণ্ঠস্বর…
বারবার ভেসে উঠছে তার চোখের সামনে।
সে বুঝে গেছে, এগুলো কল্পনা নয়।
এগুলো তারই অতীত।
নিজের সবচেয়ে আপন মানুষগুলোর মুখ এভাবে ভুলে গিয়েছিল— এই সত্যটা এখনও তাকে ভেতর থেকে পোড়াচ্ছে।
তবে সব প্রশ্নের উত্তর সে পেয়ে গেলেও একটি প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
আর সেই উত্তর জানতেই আজ সে এই মহিলার সামনে বসে আছে।
এরই মধ্যে বহুবার ক্রুশ মহিলাকে জিজ্ঞেস করেছে,

— “আপনি কি সত্যিই রুহির জন্মদাত্রী মা?”
কিন্তু প্রতিবারই মহিলা নিশ্চুপ থেকেছেন।
মাথা নিচু করে বসে থেকেছেন।
মনে হচ্ছে যেন তাঁর ঠোঁটে তালা লেগে গেছে।
অবশেষে ক্রুশ আর নিজের ধৈর্য ধরে রাখতে পারল না।
সে হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে কঠোর গলায় বলল,
— “আপনি কি মুখ খুলবেন, নাকি আমাকে পুলিশ ডাকতে হবে?
এতদিন ধরে একটা মেয়ের জীবন নিয়ে খেলা করেছেন। আজ আর চুপ করে থাকার সুযোগ নেই।”
ক্রুশের কণ্ঠের কঠোরতা শুনে মহিলা কেঁপে উঠলেন।
ধীরে ধীরে চোখ তুলে রুহির দিকে তাকালেন।
তার চোখ দুটো ইতিমধ্যেই অশ্রুতে ভরে উঠেছে।
রুহি শান্ত স্বরে ক্রুশকে বলল,

— “ক্রুশ… প্লিজ, একটু শান্ত হন। উনাকে সময় দিন। এত তাড়াহুড়ো করে কোনো লাভ নেই।”
রুহির অনুরোধে ক্রুশ গভীর একটা শ্বাস ফেলল।
নিজের রাগ কোনোমতে সংযত করে আবার সোফায় বসে পড়ল।
এখন সে কোনোভাবেই রুহিকে উত্তেজিত করতে চায় না।
তাই সম্পূর্ণ নীরব হয়ে গেল।
রুহি ধীরে ধীরে মহিলার দিকে তাকাল।
তার চোখে কোনো রাগ নেই।
শুধু উত্তর জানার আকুতি।
“Please, Mom… tell me everything. I already have enough proof. Don’t hide anything anymore.”
একটু থেমে চোখের জল সামলে আবার বলল,
“Are you… really not my mother?”
প্রশ্নটা শুনেই মহিলার চোখ বেয়ে টপটপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।
ঘরজুড়ে আবারও নেমে এলো নিস্তব্ধতা।
মহিলা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললেন।
কয়েক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে নিজেকে সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন,

— “ওরা ঠিকই বলেছে, রুহি… আমি তোমার জন্মদাত্রী মা নয়।”
কথাটা শুনেই রুহির বুকটা হুহু করে উঠল।
যদিও সে আগেই সত্যিটা আন্দাজ করেছিল, তবুও নিজের কানে কথাগুলো শুনে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
মহিলা কাঁপা কণ্ঠে বলতে লাগলেন,
— “আমি তোমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পেয়েছিলাম।”
তিনি একবার চোখের জল মুছে আবার বলতে শুরু করলেন,
— “আমার জন্ম এবং বড় হওয়া বাংলাদেশেই। তবে ভালোবেসে আমি ইতালির একজন ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেছিলাম।
প্রথম কয়েকটা বছর আমাদের সংসার খুব সুন্দরই চলছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলে যেতে থাকে।”

— “বিয়ের দশ বছর পার হয়ে গেলেও আমাদের কোনো সন্তান হয়নি।
আমরা দুজনেই একটা সন্তান খুব করে চেয়েছিলাম।
অসংখ্য ডাক্তার দেখিয়েছি, চিকিৎসা করিয়েছি, কিন্তু আল্লাহ আমাদের সেই সুখ দেননি।”
তিনি কিছুক্ষণ থেমে গভীর শ্বাস নিলেন।
— “সন্তান না থাকার যন্ত্রণা ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্কটাকেও শেষ করে দেয়।
প্রতিদিন ঝগড়া, অশান্তি… একসময় আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।”
কথাগুলো বলতে বলতে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে এল।
— “ডিভোর্সের পর কিছুদিনের জন্য আমি বাংলাদেশে এসেছিলাম।
এরপর আবার ইতালিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। সেদিন আমি এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম।”
তিনি চোখ বন্ধ করলেন।
মনে হলো, বহু বছর আগের সেই ভয়ংকর দৃশ্যটা আবার তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছে।
— “হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখতে পাই। সেখানে দুজন মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। তাদের একজন ছিলে তুমি।”
রুহি নিঃশ্বাস আটকে শুনছিল।

— “সেদিন মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।
দুজনের অবস্থাই ছিল খুবই সংকটজনক। তাই তারা একসঙ্গে দুজনকে নিতে চাইছিল না।
তারা আরেকটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।”
— “তখন আমি নিজেই ওদের বলি, তোমাকে যেন আমার গাড়িতে তুলে দেয়।
তারা বলেছিলেন, আরেকটা অ্যাম্বুলেন্স কয়েক মিনিটের মধ্যেই চলে আসবে। তখন আমার গাড়ি থেকেই তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে।”
মহিলা মাথা নিচু করে ফেললেন।
লজ্জা আর অপরাধবোধে তাঁর কণ্ঠ কেঁপে উঠল।
— “কিন্তু… ঠিক তখনই আমার ভেতরে একটা ভয়ঙ্কর লোভ জন্ম নেয়।”
— “মাতৃত্বের লোভ।”
— “আমি আর কাউকে কিছু না বলে তোমাকে আমার গাড়িতে তুলে নিই। কিন্তু হাসপাতালে না গিয়ে সরাসরি এয়ারপোর্টের দিকে রওনা দিই।
পথেই এয়ারপোর্টের কাছের একটি হাসপাতালে তোমাকে ভর্তি করাই।”
— “প্রায় এক মাস তোমার চিকিৎসা চলেছিল। অনেক কষ্টের পর তুমি সুস্থ হয়ে উঠেছিলে।
কিন্তু যখন জ্ঞান ফিরল… তখন তোমার অতীতের কিছুই মনে ছিল না। তুমি শুধু নিজের নাম টা মনে করতে পেরেছিলে।”
তিনি ভাঙা গলায় বললেন,

— “সেই মুহূর্তে আমি চাইলে পুলিশকে সব জানাতে পারতাম… তোমার আসল পরিবারকে খুঁজে বের করতে পারতাম।
কিন্তু আমি তা করিনি। নিজের স্বার্থের কাছে হেরে গিয়েছিলাম।”
চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি রুহির দিকে তাকালেন।
— “আমি সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছিলাম। তোমাকে বলেছিলাম আমি তোমার মা।
তারপর তোমাকে নিজের মেয়ের পরিচয় দিয়েছি।
নিজের সব ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করেছি। কখনো তোমার কোনো অভাব হতে দিইনি… কিন্তু একটা সত্য সবসময় লুকিয়ে রেখেছি।”
তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন।

— “আমি জানি, আমি ভয়ঙ্কর অন্যায় করেছি। একজন মেয়েকে তার আসল পরিবার থেকে আলাদা করে দিয়েছি।
আমার এই অপরাধের ক্ষমা হয় না। তবু বিশ্বাস করো, তোমাকে আমি কোনোদিন অভিনয় করে ভালোবাসিনি।
নিজের জন্ম না দেওয়া সন্তান হয়েও তুমি আমার কাছে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহার ছিলে।”
রুহি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল সে। চোখের জল যেন কোনোভাবেই থামছে না।
আজ সবকিছু তার কাছে পরিষ্কার।
এতদিনের অজানা রহস্যের পর্দা সরে গেছে।
সে জেনে গেছে, কেন তার অতীত হারিয়ে গিয়েছিল… কেন এতগুলো বছর নিজের পরিবার থেকে দূরে ছিল… কেন নিজের মানুষগুলোকে চিনতে পারেনি।
তবুও…সত্যটা জেনেও সে যেন কিছুই মেনে নিতে পারছে না।
মাথার ভেতরটা ভীষণ ভারী লাগছে।
টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতি ফিরে এলেও পুরো অতীতটা এখনও তার কাছে ধোঁয়াশা।
নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোর মুখের দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠছে।
কাঁপা গলায় সে বলল,

— “কেন… কেন আমার সঙ্গেই এমন হলো?”
কথাটা শেষ করেই মুখে দু’হাত চাপা দিয়ে কেঁদে ফেলল।
রুহির কান্না দেখে ক্রুশের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
দ্রুত এগিয়ে এসে রুহিকে নিজের বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
এক হাত দিয়ে তার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে শান্ত কণ্ঠে বলল,
— “বাটারফ্লাই… প্লিজ, আর কেঁদো না। এগুলোকে একটা দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাও।
আমি জানি, এটা সহজ নয়। কিন্তু আমি তোমাকে আর কষ্ট পেতে দেখতে পারছি না।”
রুহি আরও শক্ত করে ক্রুশের শার্ট আঁকড়ে ধরল।
— “কী করে ভুলব, ক্রুশ? বলুন… কীভাবে ভুলে যাব? আমি তো নিজের জীবনটাই ভুলে গেছি।
আমি চাই… আমি খুব করে চাই সবকিছু মনে করতে। কিন্তু পারছি না।
আপনাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো, আমাদের স্মৃতিগুলো… কিছুই স্পষ্ট মনে পড়ছে না।”
সে মাথা নাড়তে নাড়তে ভাঙা গলায় বলল,

— “আমি কীভাবে আপনাদের সঙ্গে থাকব? আমি তো আপনাদের সেই রুহিই নই। আমার নিজের অতীতই আমার মনে নেই।”
ক্রুশ আলতো করে রুহির মুখটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে চোখের জল মুছে দিল।
তারপর গভীর ভালোবাসা নিয়ে রুহির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “শোনো… তোমার কিছুই মনে করার দরকার নেই। যদি প্রয়োজন হয়, তুমি সারাজীবন এভাবেই থাকবে।
তবুও আমি তোমাকে এক মুহূর্তের জন্যও আমার থেকে দূরে যেতে দেব না।”
সে রুহির কপালে আলতো করে নিজের কপাল ঠেকিয়ে মৃদু হেসে বলল,
— “হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি ফিরে আসুক বা না আসুক, তাতে আমার ভালোবাসা একটুও কমবে না।
কারণ আমি তোমার অতীতকে নয়, তোমাকে ভালোবেসেছি।”
— “আমাদের পুরোনো স্মৃতিগুলো যদি তোমার মনে না-ও থাকে, তাহলে আমরা নতুন স্মৃতি তৈরি করব।
আবার প্রথম থেকে শুরু করব। আমি আবার তোমার প্রেমে পড়ব… আবার তোমাকে ভালোবাসতে শিখাব… আবার তোমাকে হাসাব।”
একটু থেমে সে মৃদু হেসে বলল,
— “শুধু আমার ওপর একটু ভরসা রাখো, বাটারফ্লাই। বাকিটা আমি সামলে নেব। যতদিন তুমি আমার পাশে থাকবে, ততদিন আমাদের গল্প কখনো শেষ হবে না।”

বাংলাদেশে ফিরে আসার পর আমান সিমরান আর তাদের ছোট্ট মেয়ে ঐশীকে নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে উঠেছে।
ফ্ল্যাটটা সে বহু আগেই নিজের উপার্জনের টাকায় কিনেছিল।
তখন ভেবেছিল, জীবনের বাকি সময়টা হয়তো একাই কাটিয়ে দেবে।
কল্পনাও করেনি, কোনোদিন আবার সিমরান তার জীবনে ফিরে আসবে।
কিংবা আরও বড় অলৌকিক ঘটনা— সে জানতে পারবে, তার একটা ফুটফুটে মেয়ে আছে।
আজও মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যায় আমানের।
মনে হয়, সবকিছু বুঝি স্বপ্ন।
নিজের ছোট্ট মেয়েটা তাকে “বাবা” বলে জড়িয়ে ধরে, এই অনুভূতিটা এখনও তার কাছে অবিশ্বাস্য লাগে।
তবু…সবকিছু ঠিক হয়ে গেলেও একটা সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
সেটা হলো— আমান আর সিমরানের সম্পর্ক।
ইচ্ছে করেই আমান সিমরানকে এড়িয়ে চলছে।
প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বলে না।
কারণ তার বুকের ভেতরে বছরের পর বছর জমে থাকা অভিমান এখনও রয়ে গেছে।
তার বিশ্বাস, সিমরান চাইলে সবকিছুই অন্যরকম হতে পারত।
তাহলে তাকে এতগুলো বছর একা অপেক্ষা করতে হতো না।
নিজের সন্তানের অস্তিত্ব না জেনেই বেঁচে থাকতে হতো না।
তাই নিজের কষ্টের সামান্য অংশ হলেও সে সিমরানকে অনুভব করাতে চায়।

রাত হয়ে গেছে।
অনেক যত্ন করে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে আমানের সবচেয়ে প্রিয় খাবার— কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না করেছে সিমরান।
অনেক বছর পর আবার নিজের হাতে তার জন্য কিছু রান্না করেছে সে।
ঐশীকে আগে খাইয়ে দিয়ে এসেছে।
এখন ডাইনিং টেবিল সুন্দর করে সাজিয়ে শেষ প্লেটটা রাখছে।
ঠিক তখনই নিঃশব্দে এসে চেয়ারে বসে পড়ল আমান।
সিমরান মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করল,
— “ঐশী ঘুমিয়ে গেছে?”
আমান গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে মাথা নেড়ে বলল,
— “হ্যাঁ, একটু আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে।”
সিমরান আলতো করে আমানের প্লেটে বিরিয়ানি তুলে দিল।
আমান একবার প্লেটের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

— “থাক… এতটা লাগবে না।”
সিমরান অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।
— “কেন? বিরিয়ানি তো আপনার সবচেয়ে প্রিয়। তাই ভাবলাম…”
আমান নির্বিকার মুখে খেতে খেতে বলল,
— “হ্যাঁ… এক সময় ছিল। কিন্তু এখন আর ততটা ভালো লাগে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পছন্দও বদলে যায়।”
কথাটা শুনেই সিমরানের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে বুঝতে পারল, কথাগুলো শুধু বিরিয়ানিকে নিয়ে বলা নয়।
ওর উদ্দেশ্যেও বলা।
চোখের কোণে জল চিকচিক করতে লাগল।
— “তার মানে… আপনি বলতে চাইছেন, আমিও এখন আর আপনার পছন্দের নই?”
আমান খাওয়া থামাল না।
শান্ত স্বরেই বলল,

— “আমি কি সেটা বলেছি?”
সিমরান তিক্ত হেসে মাথা নাড়ল।
— “মুখে বলেননি… কিন্তু অন্যভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।”
এক মুহূর্ত নীরবতা নেমে এল।
আমান আর কোনো উত্তর দিল না।
এই নীরবতাই যেন সিমরানের বুকের ভেতরটা আরও বেশি ভেঙে দিল।
সে ধীরে ধীরে ঘুরে চলে যেতে লাগল।
ঠিক তখনই আমান মাথা তুলে বলল,
— “খেয়ে যেও। রাতে না খেয়ে ঘুমানো ঠিক নয়।”
সিমরান থেমে গেল।
পেছন ফিরে তাকাতেই দেখা গেল, তার চোখ দুটো জলে ভরে গেছে।
কষ্টে গলা ভারী হয়ে এসেছে।
তবু নিজেকে সামলে নিয়ে সে মৃদু হেসে বলল,
— “না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাসটা এখন আমার হয়ে গেছে। এত বছর তো এভাবেই কেটেছে। আজও পারব।”
একটু থেমে চোখের জল মুছে আবার বলল,

Mad for you 2 part 39

— “আর… এত কথা শোনার পর সত্যিই গলা দিয়ে খাবার নামবে না।”
এর বেশি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না সে।
দ্রুত নিজের ঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিল।
দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেন পুরো ফ্ল্যাটজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো।
ডাইনিং টেবিলে বসে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল আমান।
তারপর নিঃশব্দে হাত ধুয়ে উঠে দাঁড়াল।
মনের ভেতর হঠাৎ এক অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হলো।
হয়তো…অভিমানের শাস্তি দিতে গিয়ে সে আজ সত্যিই মেয়েটাকে একটু বেশিই কষ্ট দিয়ে ফেলেছে।

Mad for you 2 part 41

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here