Mad for you 2 part 37
তানিয়া খাতুন
বেধড়ক মার খেয়ে লোকটা মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছিল।
শরীরের প্রতিটি হাড় যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তার আর্তচিৎকারে চারপাশ ভারী হয়ে উঠলেও সামনে এগিয়ে এসে তাকে সাহায্য করার সাহস কারও হচ্ছিল না।
কারণ সবাই নিজের চোখে দেখেছে, কী নির্মমভাবে ক্রুশ তাকে শাস্তি দিয়েছে।
হাত-পা ভাঙার যন্ত্রণায় লোকটা বারবার চিৎকার করে উঠছিল।
সেই করুণ শব্দে বিরক্ত হয়ে ক্রুশ ঠান্ডা গলায় বলে উঠল,
— সাউন্ড বাড়িয়ে দাও গানের।
মুহূর্তের মধ্যেই মিউজিকের আওয়াজ আরও বেড়ে গেল।
লোকটার চিৎকার ধীরে ধীরে গানের তালে হারিয়ে যেতে লাগল।
রুহি এতক্ষণ পুরো ঘটনাটা দেখে যেন পাথর হয়ে গিয়েছিল।
তার চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্ক।
এভাবে একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে মারতে পারে, সেটা তার কল্পনারও বাইরে ছিল।
সে অবাক দৃষ্টিতে ক্রুশের দিকে তাকিয়ে রইল।
কিন্তু ক্রুশ যেন কিছুই হয়নি এমন ভাবেই দাঁড়িয়ে ছিল।
তার মুখে না ছিল রাগ, না ছিল অনুশোচনা। বরং চোখে ছিল এক অদ্ভুত শীতলতা।
রুহি যখন নিজের ভাবনায় ডুবে ছিল, তখনই হঠাৎ ক্রুশ তার হাত ধরে টান দিয়ে একেবারে নিজের কাছে নিয়ে এলো।
আচমকা এমন টানে রুহি সামলে উঠতে পারল না।
এক হাতে রুহির কোমর জড়িয়ে ধরল ক্রুশ, অন্য হাতে শক্ত করে ধরে রাখল তার হাত।
যেন চারপাশের রক্তাক্ত দৃশ্যের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই নেই, এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে ডান্স শুরু করল।
রুহি বিরক্ত আর আতঙ্কিত হয়ে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে লাগল।
— ছাড়ুন আমাকে!
সে ফিসফিস করে বললেও ক্রুশের শক্ত বাঁধন থেকে বের হতে পারল না।
বরং ক্রুশ তাকে আরও নিজের দিকে টেনে নিল।
এরপর সে মাথা একটু ঝুঁকিয়ে রুহির কানের কাছে মুখ নিয়ে এলো। তার উষ্ণ নিশ্বাসে রুহির শরীর কেঁপে উঠল।
— আর কোনোদিন কোনো পরপুরুষের সংস্পর্শে আসার চেষ্টা করবি না। নইলে প্রথমে তাকে খুন করব…তারপর তোকে।
কথাটা বলে সে কয়েক সেকেন্ড থামল। তারপর রুহির কোমরে ধরা হাতের চাপ আরও বাড়িয়ে ফিসফিস করে বলল,
— তারপর তোর কী হবে, সেটা তুই কল্পনাও করতে পারবি না।
ক্রুশের কণ্ঠে চিৎকার ছিল না, কিন্তু সেই শান্ত স্বরটাই যেন আরও ভয়ঙ্কর লাগছিল।
রুহির বুকের ভেতর ধকধক শব্দ বাড়তে লাগল। এই মানুষটার কোন রূপটা আসল— সে আর বুঝতে পারছিল না।
জোর গতিতে ছুটে চলেছে গাড়িটি।
ড্রাইভিং সিটে বসে আছে ক্রুশ, আর তার পাশের সিটে গভীর ভাবনায় ডুবে জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে রুহি।
তার দৃষ্টি রাস্তার পাশের দৃশ্যগুলোর ওপর স্থির থাকলেও মনটা যেন বহু দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে।
একমনে কী যেন ভাবছে সে। গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বারবার তার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে।
সত্য আর মিথ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে সে যেন নিজেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে।
ক্রুশ গাড়ি চালালেও তার চোখেমুখে স্পষ্ট অস্থিরতার ছাপ।
চোয়াল শক্ত হয়ে আছে, কপালে হালকা ভাঁজ পড়েছে।
মাঝে মাঝেই সে এক ঝলক রুহির দিকে তাকাচ্ছে, আবার দ্রুত চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
মনে হচ্ছে তার ভেতরেও কোনো এক অদৃশ্য যুদ্ধ চলছে।
হঠাৎ করেই তীব্র শব্দ তুলে গাড়িটা ব্রেক কষে রাস্তার একপাশে দাঁড় করিয়ে দিল সে।
আকস্মিক ঝাঁকুনিতে রুহি চমকে উঠল। ভ্রু কুঁচকে ক্রুশের দিকে তাকাল সে।
তারা এখনও হোটেলে পৌঁছায়নি। তাহলে হঠাৎ গাড়ি থামানোর কারণ কী?
রুহি কিছু জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেল না।
তার আগেই ক্রুশ এক ঝটকায় তাকে নিজের দিকে টেনে নিল।
পরের মুহূর্তেই বলিষ্ঠ দুটো হাত তার কোমর পেঁচিয়ে ধরে তাকে তুলে নিজের কোলের ওপর বসিয়ে নিল।
ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটল যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য রুহি হতভম্ব হয়ে গেল।
তারপরই আতঙ্কে ছটফট করে উঠল।
— কী করছেন আপনি? আমাকে ছাড়ুন!
ক্রুশ তার কোমরের ওপর হাতের চাপ আরও শক্ত করল।
তারপর মাথা নিচু করে রুহির ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ধীরে ধীরে নাক ঘষে বলল,
— শ্শ্… চুপ। ভীষণ অস্থির লাগছে।
একটু শান্ত হতে দে আমাকে।
তার গরম নিঃশ্বাস বারবার রুহির ঘাড়ে আছড়ে পড়ছিল।
রুহির পুরো শরীর অস্বস্তিতে কেঁপে উঠল।
তার ওপর ক্রুশের শরীরও অস্বাভাবিক গরম লাগছে।
যেন কোনো অজানা অস্থিরতা তাকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে দিচ্ছে।
রুহি আবার নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল।
কিন্তু ক্রুশ তাকে এতটাই শক্ত করে ধরে রেখেছে যে নড়াচড়া করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর ক্রুশ নিচু স্বরে বলল,
— ক্যান ইউ ফিল ইট, বাটারফ্লাই?
কথাটা শুনে রুহি হঠাৎ স্থির হয়ে গেল।
ক্রুশ ঠিক কী বোঝাতে চাইছে, সেটা বুঝতে তার এক মুহূর্তও লাগল না।
লজ্জা, রাগ আর অস্বস্তিতে তার মুখ লাল হয়ে উঠল।
হাঁপাতে হাঁপাতে সে বলে উঠল,
— আমাকে ছাড়ুন। আমি নামব।
কিন্তু ক্রুশ যেন তার কথা শুনতেই পেল না।
বরং মাথা নিচু করে তার কলারবোনের কাছে ঠোঁট ছুঁইয়ে মৃদু স্বরে বলল,
— উম্… চুপ করে বস, লেদুর বাচ্চা ফিল করতে দে।
রুহি এবার সত্যিই রেগে গেল।
সে দুহাতে ক্রুশকে সরানোর চেষ্টা করে বলল,
— ধিক্কার আপনাকে!
আপনি আমার সঙ্গে এসব করতে পারেন না। জানেন না, আমাদের মুসলিম ধর্মে এসব হারাম?
কথাটা শোনা মাত্রই ক্রুশের চোখের দৃষ্টি বদলে গেল।
মুহূর্তের মধ্যে সে রুহির চুলের মুঠি ধরে হালকা টান দিল।
তার কণ্ঠে আবার সেই পুরোনো কর্তৃত্ব ফিরে এলো।
— কী বললে?
রুহি ব্যথায় মুখ কুঁচকে ফেলল।
ক্রুশ তার চোখের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
— আমাদের সম্পর্ক হারাম নয়।
— তুই আমার স্ত্রী। আমার বৈধ স্ত্রী।
রুহি যেন বিস্ফোরিত হয়ে উঠল।
— আপনার কথায় আমি বিশ্বাস করব কেন?
আপনার কাছে কী প্রমাণ আছে?
ক্রুশ কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
তারপর ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলল,
— প্রমাণ চাই?
— অবশ্যই চাই।
— তাহলে বাংলাদেশে চলো। সেখানে গিয়েই তোমাকে সব প্রমাণ দেখাব। একটাও প্রশ্নের উত্তর বাকি থাকবে না।
রুহি চুপ হয়ে গেল।
আবার সেই বাংলাদেশ।
আবার সেই অজানা অতীত।
তার মাথার ভেতর হাজারো প্রশ্ন ঘুরতে লাগল।
ক্রুশ কি সত্য বলছে?
নাকি সবকিছুই একটা সাজানো মিথ্যা?
আর কতদিন সে এই সত্য-মিথ্যার মাঝখানে ঝুলে থাকবে?
না, এবার তাকে সত্যটা জানতেই হবে।
যদি ক্রুশ মিথ্যা বলে থাকে, তাহলে সেটাও সামনে আসবে।
আর যদি সত্যিই তার কথাগুলো সত্য হয়, তাহলেও আর কোনো দ্বিধা থাকবে না।
দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর রুহি ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
তার চোখে এবার দৃঢ়তা।
— আমি বাংলাদেশে যাব।
কথাটা শুনে ক্রুশের চোখে এক ঝলক তৃপ্তি দেখা দিল।
কিন্তু রুহি সঙ্গে সঙ্গে বাকিটাও বলে দিল,
— তবে একটা শর্ত আছে।
— কী শর্ত?
— সেখানে গিয়ে যদি আপনি আপনার কথার সত্যতা প্রমাণ করতে না পারেন, যদি আমি বুঝতে পারি আপনি এতদিন আমাকে মিথ্যা বলে এসেছেন…তাহলে আপনাকে শাস্তি পেতে হবে।
হোটেলে নিজের রুমে বসে ল্যাপটপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিল আমান।
সামনে টেবিল জুড়ে ফাইলপত্র ছড়িয়ে আছে। একের পর এক মেইল চেক করছে, বিভিন্ন ডকুমেন্ট দেখছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে করতে তার মাথাটা ভারী হয়ে উঠেছে।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে বুঝল বেশ রাত হয়ে গেছে।
চোখ দুটোও জ্বালা করছে।
প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে তার।
একটু ফ্রেশ হওয়ার জন্য সে হোটেলের রুম সার্ভিসে কল করল।
এই হোটেলটি শহরের অন্যতম নামকরা হোটেল হওয়ায় এখানে এক দিনের ভাড়াই বেশ ব্যয়বহুল।
সেই সঙ্গে অতিথিদের জন্য সাধারণ নাস্তা এবং কফির ব্যবস্থাও রয়েছে।
ফোনে সংক্ষিপ্তভাবে এক কাপ কফি পাঠানোর কথা বলে কল কেটে দিল আমান।
তারপর আবার ল্যাপটপের স্ক্রিনে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করল।
কয়েক মিনিট পর দরজায় টোকা পড়তেই সে ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
হাই তুলতে তুলতে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দরজা খুলেই আবার অলস ভঙ্গিতে চোখ মুছতে যাচ্ছিল সে।
ঠিক তখনই ট্রলিতে রাখা কফির কাপ হাতে নিয়ে একজন মেয়ে মাথা নিচু করে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
মেয়েটি কোনো দিকে না তাকিয়ে টেবিলের ওপর কফির কাপটা রেখে পেশাদার ভঙ্গিতে বলল,
— “Sir, do you need anything else?”
আমান এতক্ষণ নিজের চিন্তায় ডুবে ছিল।
কিন্তু কণ্ঠস্বরটা কানে যেতেই তার শরীর যেন হঠাৎ শক্ত হয়ে গেল।
এই কণ্ঠ…খুব পরিচিত।
অবিশ্বাস নিয়ে সে ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।
আর পরের মুহূর্তেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
— সিমরান!
মেয়েটিও এতক্ষণ মাথা নিচু করে ছিল।
কিন্তু নিজের নাম শুনে মুখ তুলে তাকাতেই সে যেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গেল।
মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখের রঙ বদলে গেল।
চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্ক ফুটে উঠল।
মনে হচ্ছিলো ভাগ্য যেন বারবার তাদের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।
এক মুহূর্তও দেরি না করে সিমরান দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
সে চেয়েছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই রুম থেকে বেরিয়ে যেতে।
কিন্তু তার আগেই আমান এগিয়ে এসে তার হাত ধরে ফেলল।
সিমরান চমকে উঠল — ছাড়ুন!
কিন্তু আমান যেন তার কথা শুনতেই পেল না।
সে সিমরানকে হালকা টানে আবার ভেতরে নিয়ে এলো।
তারপর দরজাটা বন্ধ করে দিল।
সিমরানের বুক ধকধক করতে লাগল।
— কী করছেন আপনি?
— এটা আমার কর্মস্থল। দরজা খুলুন।
আমান কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার চোখে স্পষ্ট বিস্ময়।
— মানে কী? তুমি এই হোটেলে কাজ করো?
সিমরান কোনো উত্তর দিল না।
আমান আবার বলল,
— আমি তো আগে কখনও তোমাকে এখানে দেখিনি।
সিমরান মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
— আমার বাচ্চার শরীর খারাপ ছিল। তাই কয়েকদিন কাজে আসিনি।
কথাটা শুনে আমানের ভ্রু কুঁচকে গেল।
সে আরও এক ধাপ সামনে এগিয়ে এলো।
তার দৃষ্টি এবার সিমরানের মুখে স্থির।
সিমরানের চোখের নিচে কালি পড়েছে।
মুখটা শুকিয়ে গেছে।
চেহারায় ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।
আর সবচেয়ে বড় কথা, সে চোখ তুলে তাকাতেই পারছে না।
আমানের মনে হলো, সিমরান মিথ্যা বলছে।
কারণ যতটুকু সে জানে, সিমরানের স্বামীর আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো।
অন্তত এমন নয় যে তাকে বাধ্য হয়ে হোটেলে চাকরি করতে হবে।
তাহলে সত্যিটা কী?
কিছুক্ষণ নীরব থেকে আমান প্রশ্ন করল,
— তোমার স্বামী কোথায়?
প্রশ্নটা শুনেই সিমরান যেন থমকে গেল।
তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত কষ্টের ছায়া নেমে এলো।
কিন্তু সে দ্রুত নিজেকে সামলে নিল।
মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,
— দয়া করে এসব প্রশ্ন করবেন না।
— আমার বিয়ে হয়েছে। আমার একটা সন্তানও আছে। তাই দয়া করে এসব বন্ধ করুন।
কথাগুলো বললেও তার কণ্ঠের কম্পন লুকানো গেল না।
আমান সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারল।
কিন্তু সিমরান আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না।
দ্রুত দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেল।
আমান তাকে থামানোর সুযোগও পেল না।
দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল।
রুমের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এলো।
আমান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার চোখ এখনও দরজার দিকেই নিবদ্ধ।
মনের ভেতর একের পর এক প্রশ্ন জন্ম নিচ্ছে।
সিমরান কি সত্যিই সুখে আছে?
সে কি সত্যিই নিজের ইচ্ছায় এই কাজ করছে?
নাকি তার জীবনে এমন কিছু ঘটেছে, যা সে সবাইয়ের থেকে লুকিয়ে রাখতে চাইছে?
কিছু একটা ঠিক নেই।
Mad for you 2 part 36
আর সেটা আমান স্পষ্ট বুঝতে পারছে।
কয়েক মুহূর্ত চিন্তা করার পর সে দ্রুত নিজের ফোন, ওয়ালেট আর গাড়ির চাবি তুলে নিল।
তারপর রুম লক করে বাইরে বেরিয়ে গেল।
কারণ আজ সে কোনোভাবেই সিমরানকে এভাবে হারিয়ে যেতে দেবে না।
অনেক প্রশ্নের উত্তর তার জানা দরকার।
আর সেই উত্তরগুলো হয়তো সিমরানের কাছেই লুকিয়ে আছে।
