Mad for you 2 part 34
তানিয়া খাতুন
শহরের একটি বড়ো সড় হোটেলে উঠেছে আমান, ক্ৰুশ এবং নীল।
দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটানোর জন্য আপাতত সবাই নিজ নিজ কক্ষে গিয়ে ফ্রেশ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ক্ৰুশ সবে মাত্র গোসল সেরে বের হয়েছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ট্টাউজার টা ঠিকঠাক করে পরছিল সে।
ঠিক সেই সময় কক্ষের দরজায় টোকা পড়ল।
ক্ৰুশের ঠোঁটের কোণে এক বাঁকা হাসি ফুটে উঠল।
যেন দরজার ওপাশে কে দাঁড়িয়ে আছে, সে আগেই বুঝতে পেরেছে।
বিছানার ওপর পড়ে থাকা শার্টটি হাতে নিয়ে কোনো রকমে গায়ে জড়াতে জড়াতেই সে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
অতঃপর ধীরে ধীরে দরজাটি খুলে দিল।
দরজা খুলতেই দেখা গেল, সেখানে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে আছেন।
তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে রুহি।
তার চোখেমুখে স্পষ্ট ক্রোধের ছাপ ফুটে উঠেছে।
মনে হচ্ছে, ভেতরে জমে থাকা সমস্ত রাগ যেন এই মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে চাইছে।
ক্ৰুশ কে দেখেই রুহি উত্তেজিত কণ্ঠে বলে উঠল,
— এই লোকটাই!
এই বাস্টার্ডটাই আমার সঙ্গে নোংরামি করেছে। এক্ষুনি ওকে গ্রেপ্তার করুন!
প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা গম্ভীর দৃষ্টিতে ক্ৰুশের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— মিস্টার ক্ৰুশ আলতাফ, আপনার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আমরা আপনাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছি।
তবে ক্ৰুশের মুখে বিন্দুমাত্র উদ্বেগের ছাপ দেখা গেল না।
সে শান্ত স্বরে বলল,
— এক সেকেন্ড।
কথাটি বলেই পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করল সে।
দ্রুত একটি নম্বরে কল করে কয়েক মুহূর্ত কথা বলার পর ফোনটি প্রধান কর্মকর্তার দিকে বাড়িয়ে দিল।
পুলিশ কর্মকর্তা কিছুটা বিস্মিত হলেও ফোনটি গ্রহণ করলেন।
কানে নিয়ে কয়েক মুহূর্ত মনোযোগ দিয়ে কথা শুনতেই তার মুখের অভিব্যক্তি পাল্টে গেল।
— জি, স্যার… ঠিক আছে, স্যার।
এতটুকু বলেই তিনি ফোনটি ক্ৰুশের হাতে ফিরিয়ে দিলেন।
এরপর রুহির দিকে তাকিয়ে ভদ্র অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
— দুঃখিত, ম্যাডাম। কোনো ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া আমরা গ্রেপ্তার করতে পারি না।
রুহি বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল।
— প্রমাণ নেই কে বলল?
আমি তো আপনাদের বলেছি, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করুন। সবকিছুই সেখানে পেয়ে যাবেন।
পুলিশ কর্মকর্তা শান্ত গলায় উত্তর দিলেন,
— আমরা ইতোমধ্যে সেখানে লোক পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখা গেছে, সিসিটিভির কোনো ফুটেজই নেই।
আগেই সেগুলো মুছে ফেলা হয়েছে।
কথাটি শুনে রুহির মুখ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
পুলিশ কর্মকর্তা আবার বললেন,
— যদি ভবিষ্যতে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
কথা শেষ করে তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা সেখান থেকে চলে গেলেন।
করিডোরজুড়ে নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা।
রুহি ফুঁসতে ফুঁসতে ক্ৰুশের শার্টের কলার চেপে ধরল।
রাগে তার সারা শরীর কাঁপছে, চোখ দুটো যেন জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো লাল হয়ে উঠেছে।
— নোংরা লোক! তোকে আমি ছাড়ব না।
তার কণ্ঠে ছিল ঘৃণা, অপমান আর জমে থাকা ক্ষোভের মিশ্রণ।
ক্ৰুশ অবশ্য বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না।
বরং ঠোঁটের কোণে সেই চিরচেনা দুষ্টু হাসি ফুটিয়ে রুহির দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে ঝুঁকে এসে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
— আমি তো সেটাই চাই, বাটারফ্লাই।
তুই আমাকে সব সময় এভাবেই ধরে রাখ।
কথাটা শুনেই রুহির রাগ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
— স্কাউন্ড্রেল!
দাঁতে দাঁত চেপে কথাটা বলে সে সেখান থেকে চলে যেতে উদ্যত হলো।
কিন্তু ঠিক তখনই ক্ৰুশ গম্ভীর স্বরে বলে উঠল,
— দাঁড়াও…
রুহির পদক্ষেপ থেমে গেল। ভ্রু কুঁচকে সে ফিরে তাকাল ক্ৰুশের দিকে।
ক্ৰুশ কোনো কথা না বলে হাতে থাকা ফোনটি তে একটি ভিডিও চালু করল।
তারপর ধীর পায়ে রুহির সামনে এসে ফোনটা তার দিকে বাড়িয়ে দিল।
প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও পরের মুহূর্তেই ভিডিওর দৃশ্য চোখে পড়তেই রুহির মুখের রং পাল্টে গেল।
অফিসের সেই আপত্তিকর মুহূর্ত…
সেই দৃশ্যই আবার তার সামনে জীবন্ত হয়ে উঠল।
এক মুহূর্তের জন্য যেন তার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল।
পরক্ষণেই ক্রোধে তার দৃষ্টি কঠোর হয়ে গেল। চোখেমুখে জ্বলে উঠল প্রতিশোধের আগুন।
— এই ফোনটা দিন!
বলেই সে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
কিন্তু ক্ৰুশ যেন আগেই প্রস্তুত ছিল।
দ্রুত হাত সরিয়ে নিয়ে ফোনটা তার নাগালের বাইরে রাখল।
— উমম… একদম না।
— ভিডিওটা আমার কাছে খুব স্পেশাল।
রুহি ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিল।
ক্ৰুশ এবার ধীরে ধীরে তার চারপাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
— চলো, একটা ডিল করি।
সে কিছুক্ষণ থেমে রুহির প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করল।
— এই হোটেলের রুমে আমার একা একা খুব বোর লাগছে।
তুমি যদি আমার সঙ্গে থাকো, তাহলে ভিডিওটা ডিলিট করে দেব।
তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট হুমকির আভাস।
— আর যদি এখনই চলে যাও…
সে ফোনটা আঙুলের ফাঁকে ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
— তাহলে এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগবে না।
কথাগুলো শুনে রুহির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
মনে হলো ধৈর্যের বাঁধটা বুঝি এখনই ভেঙে যাবে।
কিন্তু না।
রুহি নিজেকে সামলে নিল।
সে জানত, এই মুহূর্তে আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটাই হবে তার সবচেয়ে বড় ভুল।
তাই চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড গভীর শ্বাস নিল।
তারপর ধীরে ধীরে চোখ খুলল।
তার মুখে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত হাসি।
সেই হাসিতে রাগ ছিল না, ভয়ও ছিল না।
বরং ছিল আত্মবিশ্বাস।
— তোর মতো হারামি আমি জীবনে কম দেখিনি।
— কিন্তু সমস্যা হলো, তুই এখনও আমাকে চিনিস না।
রুহি এবার ক্ৰুশের চোখের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— আজ তুই নিজেকে খুব চালাক ভাবছিস।
কিন্তু একটা কথা মনে রাখিস, আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো।
কথাগুলো বলেই সে ঘুরে দাঁড়াল।
Mad for you 2 part 33
— আমার আলাদা রুম চাই। লাগেজ নিয়ে আসছি।
দৃঢ় পদক্ষেপে কথাগুলো বলে রুহি গটগট করে সেখান থেকে বেরিয়ে গেল।
ক্ৰুশ মিটি মিটি হেসে বলে বউয়ের সাথে যুদ্ধ করতে ভালোই লাগে , মনে হচ্ছে একে আবার নতুন করে পটাতে হবে!
ওমম কী করে পটানো যায়…..প্ৰেগনেন্ট করে দেবো
