Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 32

Mad for you 2 part 32

Mad for you 2 part 32
তানিয়া খাতুন

মিটিং ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। বিশাল কনফারেন্স রুমের পরিবেশ ছিল একেবারে গম্ভীর ও পেশাদার।
টেবিলের দুপাশে বসে থাকা ব্যবসায়ীরা গভীর মনোযোগে সামনের বড় কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
সেই স্ক্রিনের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিল রুহি।
তার কণ্ঠস্বর ছিল দৃঢ় অথচ মধুর। কথা বলার সময় হাতের পরিমিত ভঙ্গি, চোখের আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টি এবং প্রতিটি বিষয়কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দক্ষতা উপস্থিত সকলকেই মুগ্ধ করছিল।
মনে হচ্ছিল, বহু বছরের অভিজ্ঞতা আর কঠোর পরিশ্রম তাকে এই অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
কিন্তু কনফারেন্স টেবিলের একপ্রান্তে বসে থাকা ক্রুশের অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রুহি কী বলছে, তার একটি কথাও যেন ক্রুশের কানে পৌঁছাচ্ছিল না।
সভাকক্ষের সমস্ত শব্দ ধীরে ধীরে তার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
তার দৃষ্টি আটকে ছিল শুধু একজন মানুষের ওপর—

অপলক চোখে সে তাকিয়ে ছিল তার দিকে।
রুহির চলাফেরা, কথা বলার ভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি, আত্মবিশ্বাসে ভরা হাসি—সবকিছুই যেন ক্রুশকে নতুন করে বিস্মিত করছিল।
এই স্মার্টনেস, এই ব্যক্তিত্ব, এই দৃঢ়তা আগে কখনও তার মধ্যে দেখেনি সে।
যেন সময় তাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
ক্রুশের মনের ভেতর তখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—
এটা কীভাবে সম্ভব?
সে তো জানত, এই মানুষটি আর বেঁচে নেই।
বহু আগে মৃত্যুর অন্ধকারে হারিয়ে গেছে সে।
অথচ আজ, ঠিক সেই একই মুখ, একই চোখ, একই উপস্থিতি নিয়ে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
ক্রুশের বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শীতল স্রোত বয়ে গেল।
এ কি তার চোখের ভুল?
নাকি কোনো অলৌকিক ঘটনা?
তার স্মৃতিতে ভেসে উঠতে লাগল অতীতের অসংখ্য মুহূর্ত।
প্রতিটি স্মৃতিতে যে মুখটি ছিল, আজ সেই মুখই আবার জীবন্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে।
এতটাই অবিকল, এতটাই নিখুঁত মিল যে বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা যেন ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসছিল।

আমানও কম বিস্মিত নয়। সেও কখনো রুহির দিকে তাকাচ্ছে, কখনো ক্রুশের মুখের দিকে।
ক্রুশের চোখে যে অবিশ্বাস, যে হতবাক বিস্ময়, তা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিল সে।
রুমের অন্য সবাই মনোযোগ দিয়ে প্রেজেন্টেশন শুনলেও ক্রুশের কাছে যেন সময় থমকে গেছে।
তার মনে হচ্ছিল, সে কোনো ব্যবসায়িক সভায় নয়, বরং কোনো রহস্যময় উপন্যাসের পাতায় এসে দাঁড়িয়েছে।
যেখানে মৃত মানুষ আবার ফিরে আসে, অতীত হঠাৎ বর্তমানের সামনে দাঁড়িয়ে যায়, আর বাস্তবতার সমস্ত নিয়ম ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
রুহি তখনও নির্বিকার ভঙ্গিতে তার প্রেজেন্টেশন চালিয়ে যাচ্ছিল।
তার চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট।
কারন সে জানেই না, তার উপস্থিতি এই মুহূর্তে একজন মানুষের পৃথিবীকে সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দিয়েছে।
প্রায় ত্রিশ মিনিট পর মিটিং শেষ হলো।
রুমের ভারী পরিবেশ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে এলো।
প্রেজেন্টেশনের শেষ স্লাইডটি স্ক্রিন থেকে মিলিয়ে যেতেই রুহি ল্যাপটপ বন্ধ করে শান্ত ভঙ্গিতে ক্রুশের বিপরীতের চেয়ারে বসল।
তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,

— “Mr. Krush Altaf, how did you like the deal?”
রুহির দুই পাশে বসে থাকা ব্যবসায়ীরা মুচকি হেসে ক্রুশের দিকে তাকালেন।
কারণ তারা জানতেন, কোনো প্রজেক্ট বা ডিল নিয়ে রুহি একবার ইতিবাচক মত দিলে সেটি সাধারণত সফল হয়েই থাকে।
কিন্তু ক্রুশের কাছ থেকে কোনো উত্তর এলো না।
সে যেন এখনও বাস্তবে ফিরে আসতে পারেনি।
রুহির কণ্ঠস্বর, আশপাশের মানুষের উপস্থিতি, মিটিং শেষ হওয়ার ঘোষণা—কিছুই যেন তার কানে পৌঁছায়ানি।
সে এখনও সেই অদ্ভুত ঘোরের মধ্যেই আটকে আছে।
তার সমস্ত মনোযোগ জুড়ে রয়েছে শুধু একটি মুখ।
আমান পাশ থেকে সবকিছু বুঝতে পারছিল। সে ধীরে ক্রুশের কনুইয়ে একটা খোঁচা মারল।
চমকে উঠল ক্রুশ।
যেন দীর্ঘ স্বপ্ন থেকে হঠাৎ বাস্তবে ফিরে এসেছে।
আমান নিচু গলায় তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,

— ওরা জানতে চাইছে ডিল টা ফাইনাল করবি কিনা
ক্রুশ দ্রুত নিজেকে সামলে নিল। তারপর সোজা হয়ে বসে গম্ভীর স্বরে ইংরেজিতে বলল,
— “I need two days. It will take me some time to make the final decision.”
দুই ব্যবসায়ী একে অপরের দিকে তাকিয়ে সম্মতিসূচকভাবে মাথা নাড়লেন।
— “Of course, Mr. Krush.”
বলে তারা উঠে দাঁড়ালেন।
ক্রুশ উঠে তাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করল।
ব্যবসায়ীরা কনফারেন্স রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই রুমে শুধু ক্রুশ, আমান আর রুহি রয়ে গেল।
রুহিও উঠে দাঁড়াল।
পেশাদার সৌজন্যের অংশ হিসেবে সে হাত বাড়িয়ে দিল।

— “Nice meeting you, Mr. Krush.”
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে গেল।
ক্রুশ যেন নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল।
কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই সে এক পা এগিয়ে এসে রুহিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
আমান বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল।
রুহি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল।
বছরের পর বছর অসংখ্য ক্লায়েন্ট, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে কাজ করেছে সে।
পেশাদার জগতে করমর্দন, শুভেচ্ছা বিনিময়—এসব তার কাছে স্বাভাবিক বিষয়।
কিন্তু এভাবে হঠাৎ একজন প্রায় অপরিচিত মানুষের আলিঙ্গন তাকে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ফেলে দিল।
তার পুরো শরীর শক্ত হয়ে গেল।
সে সঙ্গে সঙ্গে ক্রুশকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে দিল।
এরপর কোনো দ্বিধা না করেই সজোরে একটি চড় বসিয়ে দিল ক্রুশের গালে।
চড়ের শব্দে রুম কেঁপে উঠল যেন।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ক্রুশের কোনো প্রতিক্রিয়া হলো না।
তার চোখে এখনও সেই অদ্ভুত শূন্যতা।
মনে হচ্ছিল সে যেন অন্য কোনো সময়ে, অন্য কোনো স্মৃতির ভেতরে হারিয়ে গেছে।
পরের মুহূর্তেই সে আবার রুহির দিকে এগিয়ে এলো।
আবার তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা গলায় ফিসফিস করে বলল,

— “The same face… the same eyes… the same smile… everything is the same. You can’t be anyone else. You’re my Butterfly…”
রুহি এবার সত্যিই বিরক্ত হয়ে উঠল।
ক্রুশের কথাগুলোর অর্থ তার মাথায় ঢুকছিল না। সে বুঝতেই পারছিল না লোকটা কী বলছে।
তার কাছে পুরো ঘটনাটা ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং সীমা লঙ্ঘনের মতো।
রাগে তার মুখ লাল হয়ে উঠল।
সে আবার নিজেকে ক্রুশের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল।
তারপর একের পর এক চড় মারতে লাগল।
প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে যেন তার জমে থাকা বিরক্তি বেরিয়ে আসছিল।
এই অপরিচিত মানুষটির এমন আচরণ তাকে ক্রুদ্ধ করে তুলেছিল।
তার ব্যক্তিগত পরিসরে এভাবে জোর করে ঢুকে পড়া সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না।
এতগুলো চড় খাওয়ার পর ক্রিশ যেন হঠাৎ করেই বাস্তবে ফিরে এলো।
কয়েক সেকেন্ড আগেও তার চোখে ছিল বিস্ময় আর অবিশ্বাসের ছাপ, কিন্তু এখন সেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে হতাশা।
সে নিজের গাল ঘষতে ঘষতে বিড়বিড় করে বলল,

— “বাল! এত বড় বিজনেসম্যান হয়ে কী লাভ হলো?
শেষ পর্যন্ত বউয়ের হাতেই মার খেতে হচ্ছে! উফফ… কী কেলানি টা না দিলো!”
তার কথা শুনে রুহির মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠল।
এতক্ষণ সে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু এবার আর পারল না।
দাঁতে দাঁত চেপে ক্রিশের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “কে আপনার বউ?”
ক্রিশ কথাটা শুনে থমকে গেল। তারপর ধীরে ধীরে রুহির দিকে এগিয়ে এলো।
তার চোখ দুটো অদ্ভুতভাবে জ্বলজ্বল করছে।
রুহির সামনে এসে সে একটু ঝুঁকে পড়ল।

— “কী বললে? আরেকবার বলো তো।”
রুহির রাগ আরও বেড়ে গেল।
— “বললাম, কে আপনার বউ? বাস্টার্ড!”
ক্রিশ কয়েক মুহূর্ত রুহির দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটিয়ে বলল,
— “কে আবার? তুমি।”
এই উত্তর শুনে রুহির রাগ যেন আকাশ ছুঁয়ে ফেলল।
সে আঙুল তুলে ক্রিশের দিকে নির্দেশ করে বলল,
— “আর ইউ ম্যাড?”
কিন্তু রাগারাগির বদলে ক্রিশের মুখের হাসিটা আরও গভীর হয়ে উঠল।
সে হঠাৎ এক টানে রুহিকে নিজের দিকে টেনে নিল।
সবকিছু এত দ্রুত ঘটল যে রুহি প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই পেল না।
নিজের বুকের খুব কাছে রুহিকে আটকে রেখে ক্রিশ নিচু গলায় বলল,
— “ইয়েস। ম্যাড ফর ইউ।”
রুহির বুকের ভেতর ধক করে উঠল। ভয় নয়, বরং প্রচণ্ড বিরক্তি আর অস্বস্তি।
সে দ্রুত নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল।

— “ছাড়ুন আমাকে!”
ধাক্কা দিয়ে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে সে বলল,
— “আপনার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে।
সত্যি বলছি, আপনার ডাক্তার দেখানো উচিত। আমি রুহি। আপনার স্ত্রী নই।”
ক্রিশ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল।
— “আমাকে কি তোমার পাগলা** মনে হচ্ছে?”
— “এই মুহূর্তে? অবশ্যই!”
— “তাহলে শুনো। আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছো তুমি।
নিজের নাম বলছো রুহি। আবার নিখুঁত বাংলায় কথা বলছো।
ইতালিতে বড় হয়েছ, তবুও বাংলা জানো।
আর তারপরও বলছো তুমি আমার স্ত্রী নও?”
রুহি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাল।
— “মানে? বাংলা বলতে পারলেই আমি আপনার স্ত্রী হয়ে যাব?”
সে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল,

— “আমার মা বাঙালি। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমাকে বাংলা শিখিয়েছেন।
বাংলা জানি বলেই কি আমি আপনার হারিয়ে যাওয়া স্ত্রী হয়ে যাব?”
ক্রিশ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার চোখে ভেসে উঠল গভীর যন্ত্রণা।
রুহি আবার বলল,
— “দুনিয়ায় একই রকম দেখতে অনেক মানুষ থাকে। তাই বলে সবাই একই মানুষ হয় না।”
— “না। সবাই হয় না।”
ক্রিশের কণ্ঠ হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।
— “কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা।”
— “কীভাবে?”
— “কারণ তোমাকে প্রথম দেখার পর থেকেই আমার মনে হচ্ছে আমি আমার পুরো পৃথিবীকে ফিরে পেয়েছি।”
রুহি বিরক্ত হয়ে চোখের দিকে ভালো করে তাকাল।
সেখানে কোনো অভিনয় নেই।
কোনো মিথ্যাও নেই।
বরং এমন এক গভীর শূন্যতা আছে, যা দেখে মুহূর্তের জন্য তার বুকটা কেমন যেন করে উঠল।
কিন্তু সে দ্রুত নিজেকে সামলে নিল।

Mad for you 2 part 31

— “যাই হোক, আপনার ভুল ধারণা ভাঙা দরকার।
আমি আপনার স্ত্রী নই। আর ভবিষ্যতেও হব না।”
বলে সে চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়াল।
ঠিক তখনই ক্রিশ পেছন থেকে তার হাত ধরে টেনে মিশিয়ে নেই এত ক্ষন ভালো করে বুঝিয়েছি ভালো লাগেনি এবার ডোজ দিয়ে বোঝাবো।

Mad for you 2 part 33

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here