Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 31

Mad for you 2 part 31

Mad for you 2 part 31
তানিয়া খাতুন

পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ পাঁচটি বছর।
এই পাঁচ বছরে বদলে গেছে অনেক কিছু, বদলে গেছে অনেক মানুষের জীবন।
ভাগ্যের লিখন পরিবর্তন করার ক্ষমতা মানুষের নেই।
আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি বড়ই রহস্যময়।
কখন, কোথায়, কীভাবে জীবনের মোড় ঘুরে যায়, তা একমাত্র তিনিই জানেন।
মানুষ কেবল তাঁর নির্ধারিত পথ ধরেই এগিয়ে চলে, কখনো হাসিমুখে, কখনো বা বুকভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে।
জীবনের নিয়মও বড় বিচিত্র।
কেউ প্রিয়জনকে হারিয়ে নতুন করে বাঁচতে শেখে, আবার কেউ বছরের পর বছর অপেক্ষা করে সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটির ফিরে আসার আশায়।
কেউ অতীতকে মুছে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যায়, আবার কেউ অতীতের স্মৃতিগুলোকে বুকে আগলে রেখেই জীবনের পথ অতিক্রম করে।

পাওয়া আর না-পাওয়ার মাঝখানেই মানুষের জীবন আবর্তিত হয়।
এই দুটি অনুভূতির টানাপোড়েন নিয়েই মানুষ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পথ চলে।
অপূর্ণতা, প্রত্যাশা, হতাশা আর প্রাপ্তির মিশেলে গড়ে ওঠে এক একটি জীবনের গল্প।
সেই গল্পে কখনো আনন্দের রঙ লাগে, কখনো বা বিষাদের কালো ছায়া নেমে আসে।
সময় তার নিজস্ব গতিতে বয়ে চলে।
সে কারও জন্য অপেক্ষা করে না, কারও দুঃখে থেমে থাকে না।
তবুও কিছু স্মৃতি আছে, কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলো সময়ের প্রবাহেও মলিন হয়ে যায় না।
বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও তারা হৃদয়ের গভীরে একইরকম উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে থাকে।
মানুষ বদলে যায়, পরিস্থিতি বদলে যায়, জীবনও নতুন রূপ ধারণ করে।
কিন্তু হৃদয়ের কিছু অনুভূতি কখনো বদলায় না।
সেগুলো নিঃশব্দে বেঁচে থাকে, অপেক্ষা করে কোনো এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্তের, যখন হয়তো অসমাপ্ত কোনো গল্প আবার নতুন করে শুরু হবে।

পাঁচ বছরের দীর্ঘ সময়ে অনেক কিছুই বদলে গেছে।
বদলে গেছে মানুষের পরিচয়, অবস্থান, জীবনযাপনের ধরন।
কিন্তু কিছু ক্ষত আছে, যেগুলো সময়ের স্রোতও মুছে ফেলতে পারে না।
শহরের অভিজাত এলাকাজুড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল অট্টালিকা।
দূর থেকে তাকালেই চোখে পড়ে সোনালি অক্ষরে লেখা নামটি— বাটারফ্লাই ম্যানশন।
প্রাসাদের মতো সেই বাড়িটির চারপাশ ঘিরে রয়েছে সুউচ্চ প্রাচীর।
বিশাল লোহার গেট পেরোলেই চোখে পড়ে সারি সারি দাঁড় করিয়ে রাখা চারটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল গাড়ি।
বাড়ির প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়াল যেন সম্পদ আর প্রভাবের গল্প বলে।
তবুও অদ্ভুত এক নীরবতা ছড়িয়ে আছে চারদিকে।
এত বড় বাড়ি, অথচ সেখানে বসবাস করে মাত্র একজন মানুষ— ক্ৰুশ আলতাফ।
পাঁচ বছর আগে যার জীবনে ছিল না কোনো নিশ্চয়তা, ছিল না কোনো পরিচয়, আজ সেই মানুষটিই দেশের এক নম্বর ব্যবসায়ী।

ব্যবসায়িক জগতে ক্ৰুশ আলতাফ নামটি আজ এক বিস্ময়।
তার একটি সিদ্ধান্তে কেঁপে ওঠে শেয়ারবাজার, তার একটি স্বাক্ষরের মূল্য কোটি কোটি টাকা।
দেশের মানুষ তাকে চেনে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে।
সংবাদমাধ্যম তাকে বলে সাফল্যের জীবন্ত উদাহরণ।
তরুণরা তাকে আদর্শ মানে।
কিন্তু তার এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে থাকা রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর কথা কেউ জানে না।
কেউ জানে না কতটা অন্ধকার পথ পেরিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে সে।
কেউ জানে না কতটা কষ্ট,কতটা শূন্যতা নিজের বুকের ভেতর চাপা দিয়ে প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করেছে।
মানুষ দেখে তার অর্থ, ক্ষমতা, খ্যাতি, বিলাসবহুল গাড়ি আর প্রাসাদসম বাড়ি।
কিন্তু কেউ দেখে না সেই নিঃসঙ্গ মানুষটাকে, যে দিনের শেষে এই বিশাল অট্টালিকার এক কোণে সম্পূর্ণ একা হয়ে বসে থাকে।

সবকিছু পাওয়ার পরও যার জীবনে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষগুলো নেই।
সব হারিয়ে ফেলার পরও যে এখনো বেঁচে আছে শুধুমাত্র একটি অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতি আর কিছু পুরোনো স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে।
বাটারফ্লাই ম্যানশনের সর্বোচ্চ তলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল ক্ৰুশ।
কালো রঙের দামি স্যুটে মোড়ানো তার দীর্ঘদেহী অবয়বটিকে যেন আরও গম্ভীর দেখাচ্ছিল।
এক হাতে ধোঁয়া ওঠা কফির মগ, অন্য হাতটি প্যান্টের পকেটে গুঁজে দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সে।
চোখের নিচে স্পষ্ট ক্লান্তির ছাপ।
এই পাঁচ বছরে অর্থ তার কাছে এসেছে, ক্ষমতা তার পায়ের নিচে নত হয়েছে, কিন্তু শান্তি নামের জিনিসটি যেন তাকে ছুঁয়েও দেখেনি।
সেই রাতের পর দীর্ঘ পনেরো দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে জ্ঞান ফিরেছিল ক্ৰুশের।
চোখ খুলতেই নিজেকে হাসপাতালের সাদা বিছানায় আবিষ্কার করেছিল সে।
সারা শরীরে ব্যান্ডেজ, মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা।
কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর প্রথমেই যে মুখটি খুঁজেছিল, সেটি ছিল রুহির।
কিন্তু রুহি সেখানে ছিল না।
প্রথমে কেউ তাকে কিছু বলতে চায়নি। ডাক্তার, নার্স, এমনকি মিরাজ হোসেনও বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু ক্ৰুশের জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত সবাই হার মেনে যায়।
তারপর যে সত্যটি সে জানতে পারে, তা তাকে ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়।
হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে রুহিকে বহন করা অ্যাম্বুলেন্সটি একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে পড়ে।
সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যেই বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো অ্যাম্বুলেন্স আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এতটাই ভয়াবহ ছিল সেই দুর্ঘটনা যে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা কারও মরদেহ পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।
খবরটি শোনার পর ক্ৰুশ যেন পাথর হয়ে গিয়েছিল।
তার চোখে জল ছিল না, মুখে কোনো শব্দ ছিল না।
কিন্তু তার বুকের ভেতরে প্রতিশোধের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছিল।
সেদিনের পর থেকে সে নিজের সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছিল সত্য উদঘাটনের কাজে।
ইন্সপেক্টর মিরাজ হোসেনের সহায়তায় দুর্ঘটনার আগের ও পরের প্রতিটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়।
একের পর এক প্রমাণ জড়ো হতে থাকে। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে বহু বছরের লুকিয়ে রাখা অপরাধের ইতিহাস।

অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয় সমীর সাহেবকে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এবং অকাট্য প্রমাণের মুখে পড়ে তিনি একে একে নিজের সমস্ত অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হন।
একই সঙ্গে পুনরায় খোলা হয় ক্ৰুশের মায়ের হত্যা মামলা।
বহু বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা সত্য আবারও আদালতের সামনে উঠে আসে।
সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় সেই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের পেছনে জড়িত ছিল সমীর সাহেব এবং শরিফুল খান।
দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তাদের উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করে।
অবশেষে নিজের মায়ের হত্যার বিচার পেয়েছিল ক্ৰিশ।
বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটেছিল সেদিন।
তবে এখানেই শেষ হয়নি সবকিছু।
মিরাজ হোসেনের মেয়ে কে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় ক্ৰিশ।
এরপর সে মুক্তি দেয় আসল ক্ৰিশ খানকে, যাকে দীর্ঘ বছর ধরে গোপনে বন্দি করে রেখে তার পরিচয় ব্যবহার করেছিল সে।

সেই মানুষটিকেও ফিরিয়ে দেয় তার প্রাপ্য জীবন।
এক এক করে সমস্ত অসমাপ্ত হিসাব শেষ করেছিল ক্ৰুশ।
প্রতিশোধ সম্পূর্ণ হয়েছিল, বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, শত্রুরা তাদের শাস্তি পেয়েছিল।
কিন্তু এত কিছুর পরও ক্ৰুশ বুঝতে পেরেছিল—
প্রতিশোধ মানুষকে তৃপ্তি দিতে পারে, শান্তি দিতে পারে না।
কারণ পৃথিবীর সমস্ত বিচার পাওয়ার পরও সে আর কখনো ফিরে পায়নি সেই মানুষটিকে, যার জন্য তার হৃদয় আজও নিঃশব্দে কাঁদে।
আজ দেশের সবচেয়ে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে সবাই তাকে চেনে।
অঢেল সম্পদ, অসীম ক্ষমতা, সম্মান—কোনো কিছুরই অভাব নেই তার জীবনে।
তবুও এখনও সে অনুভব করে এক অসহনীয় শূন্যতা।
কারণ তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটি আজও কেবল একটি স্মৃতি…
একটি অসমাপ্ত অপেক্ষা…
গভীর চিন্তায় ডুবে ছিল ক্ৰুশ। পাঁচ বছরের পুরোনো স্মৃতিগুলো আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়।
কিছু ক্ষত সময়ের সঙ্গে শুকিয়ে যায়, কিন্তু কিছু ক্ষত কখনোই সারে না।
রুহির স্মৃতিও তেমনই এক ক্ষত, যা আজও প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে তাকে যন্ত্রণা দেয়।
হঠাৎ নীরবতা ভেঙে বেজে উঠল তার দামি অ্যাপল ফোনটি।
ভ্রু কুঁচকে স্ক্রিনের দিকে তাকাল ক্ৰুশ।
ফোনের ওপরে ভেসে উঠেছে একটি পরিচিত নাম— নীল।
বিরক্তি নিয়ে কলটি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তাড়াহুড়ো ভরা কণ্ঠ ভেসে এলো।

— “তাড়াতাড়ি নিচে আসো ভাইয়া। আমান ভাইয়া চলে এসেছে দশটায় আমাদের ফ্লাইট।”
ক্ৰুশ কোনো উত্তর দিল না।
নীরবে কথাগুলো শুনে কলটি কেটে দিল।
তারপর ফোনটি পকেটে রেখে ধীর পায়ে নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে এল।
এখন এটাই তার স্বভাব হয়ে গেছে।
আগের সেই প্রাণবন্ত, ক্ৰুশ যেন বহু আগেই হারিয়ে গেছে।
এখন সে খুব কম কথা বলে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত একটি শব্দও তার মুখ থেকে বের হয় না।
আর হাসি…
সেই হাসিটাও যেন পাঁচ বছর আগেই কোথাও হারিয়ে গেছে।
নিজের চারপাশে অদৃশ্য এক দেয়াল তুলে নিয়েছে সে।
অনুভূতিগুলোকে বন্দি করে নিজেকে যেন এক যান্ত্রিক রোবটে পরিণত করেছে।
এদিকে ফোন কেটে যাওয়ার পর নীল মোবাইলটি পকেটে রেখে পাশে বসে থাকা আমানের দিকে তাকাল।
তারপর দুষ্টু হাসি দিয়ে বলল,

— “আচ্ছা আমান ভাইয়া, ইতালির মেয়েরা দেখতে কেমন বলো তো?”
আমান ভ্রু তুলে তাকাল।
— “কেন? আবার কী মতলব মাথায় ঘুরছে তোর?”
নীল গম্ভীর মুখ বানিয়ে বলল,
— “কিছু না। ভাবছিলাম ভাইয়ার জন্য একটা ইতালিয়ান ভাবি খুঁজে আনি।”
আমান সঙ্গে সঙ্গে হেসে উঠল।
— “তুই কি সত্যিই ভাবিস ক্ৰুশ আর কোনোদিন কাউকে ভালোবাসবে?”
নীলের মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— “জানি না ভাইয়া। তবে একটা কথা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি…ক্ৰুশ ভাইয়া আজও রুহি ভাবী কে ভীষণ ভালোবাসে।”

“মিলান ইতালির অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক রাজধানী।
আকাশছোঁয়া কাঁচের ভবন, আধুনিক অফিস কমপ্লেক্স আর ব্যস্ত ব্যবসায়িক এলাকায় ঘেরা শহর টি দিনরাত কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর।
বিশ্বের অনেক বড় বড় কোম্পানির সদর দপ্তর ও অফিস এখানে অবস্থিত।
চকচকে রাস্তায় দামি গাড়ির সারি, স্যুট পরা ব্যবসায়ীদের ব্যস্ত পদচারণা আর উঁচু উঁচু কর্পোরেট ভবন শহরটিকে এক অনন্য আধুনিক রূপ দিয়েছে।
তবে আধুনিকতার মাঝেও মিলান তার ঐতিহাসিক সৌন্দর্য ধরে রেখেছে, যা শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।”

ইতালিতে পৌঁছানোর পরদিনই গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
মূলত অন্যতম বৃহৎ একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যেই সেখানে এসেছিল ক্ৰুশ।
কোম্পানির পক্ষ থেকেই তাকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
নির্ধারিত সময়ে আমানকে সঙ্গে নিয়ে কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করল ক্ৰুশ।
তারা ঢুকতেই ভেতরে বসে থাকা দুইজন ব্যবসায়ী সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়লেন।
মুখে হাসি ফুটিয়ে তারা ইতালীয় ভাষায় দুজন‌ কে স্বাগত জানালেন।
ক্ৰুশ ভদ্রভাবে মাথা নাড়ল।
তারপর নিজের নির্ধারিত আসনে বসে শান্ত কণ্ঠে ইংরেজিতে বলল,

— “Let’s start the meeting.”
তার কথায় একজন ব্যবসায়ী হালকা অপ্রস্তুত হাসলেন।
— “Just a moment, Mr. Krush Altaf. Ma’am hasn’t arrived yet.”
ক্ৰুশ ভ্রু কুঁচকে হাতঘড়ির দিকে তাকাল।
সময়ানুবর্তিতা কে সে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। মিটিংয়ের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কারও জন্য অপেক্ষা করতে তার ভালো লাগে না।
রুমের ভেতর অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এলো।
ঠিক সেই মুহূর্তেই কনফারেন্স রুমের দরজাটি খুলে গেল।
হাই হিলের তীক্ষ্ণ শব্দ তুলে ভেতরে প্রবেশ করল একজন তরুণী।
তার পরনে ছিল অত্যন্ত পরিপাটি ও আধুনিক ডিজাইনের সাদা শার্ট এবং কালো শর্ট স্কার্ট।
কোমর ছাড়িয়ে নেমে আসা দীর্ঘ কালো চুলগুলো খোলা ছিল।
চোখে দামি সানগ্লাস, ঠোঁটে আত্মবিশ্বাসী এক হাসি।
রুমে প্রবেশ করতেই উপস্থিত সবাই সম্মান দেখিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল ক্ৰুশ ছাড়া।
তরুণীটি ধীর পায়ে টেবিলের দিকে এগিয়ে আসে।
অন্যদিকে ক্ৰুশ নির্লিপ্ত চোখে ফাইলের পাতায় দৃষ্টি রেখেছিল।
কারণ তার কাছে একজন নারী বা পুরুষ নয়, গুরুত্বপূর্ণ ছিল কেবল ব্যবসা।
কিন্তু হঠাৎই…
তরুণীটির কণ্ঠ ভেসে এলো।

Mad for you 2 part 30

— “Sorry everyone, I’m a little late.”
কণ্ঠস্বরটি কানে পৌঁছাতেই ক্ৰুশের আঙুল থেমে গেল।
তার বুকের ভেতর যেন কেউ আচমকা হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করল।
ধীরে ধীরে মাথা তুলল সে।
আর পরের মুহূর্তেই তার নিঃশ্বাস যেন আটকে গেল।
চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল।
পাঁচ বছর ধরে প্রতিটি রাতে যে মুখটি স্বপ্নে দেখেছে… যার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছে…সে তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে।
অজান্তেই ফিসফিস করে উচ্চারিত হলো একটি নাম— “রু…হি…?”

Mad for you 2 part 32

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here