Home Mad for you 2 Mad for you 2 part 38

Mad for you 2 part 38

Mad for you 2 part 38
তানিয়া খাতুন

প্রায় দুই দিনের মধ্যেই ক্রুশ রুহিকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে এলো।
তাদের সঙ্গে নীলও এসেছে। কারণ সামনের মাসেই তার আর আয়েশার বিয়ে।
বিয়ের প্রস্তুতি, পারিবারিক আয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে তার উপস্থিতি জরুরি ছিল।
তবে আমান তাদের সঙ্গে ফিরতে পারেনি।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের অজুহাতে সে সেখানেই থেকে গেছে।
দীর্ঘ যাত্রার পর যখন বিমান বাংলাদেশের মাটিতে অবতরণ করল, তখন রুহির বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করছিল।

অজানা উত্তেজনা, উদ্বেগ আর হাজারো প্রশ্ন একসঙ্গে ভিড় জমিয়েছে তার মনে।
এই দেশেই নাকি লুকিয়ে আছে তার অতীত।
এই দেশেই নাকি রয়েছে সেই সত্য, যা এতদিন ধরে তার জীবনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে।
বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে তারা সরাসরি গাড়িতে উঠল।
পুরো রাস্তা জুড়েই রুহি নীরব ছিল।
আর ক্রুশ মাঝে মাঝে তার দিকে তাকালেও কোনো কথা বলছিল না।
মনে হচ্ছিল, সেও কোনো কিছুর জন্য অপেক্ষা করছে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়িটি শহরের কোলাহল ছেড়ে একটি অভিজাত আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করল।
একটির পর একটি বিলাসবহুল বাড়ি পেরিয়ে অবশেষে একটি বিশাল প্রাসাদসদৃশ অট্টালিকার সামনে এসে থামল গাড়ি।

গাড়ি থামতেই ক্রুশ প্রথমে নেমে পড়ল।
তারপর গাড়ির অপর পাশ ঘুরে এসে নিজ হাতে রুহির জন্য দরজা খুলে দিল।
রুহি ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামল।
আর নামতেই তার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িটা যেন কোনো রাজপ্রাসাদের চেয়ে কম নয়।
চারতলা বিশাল ভবন।
সাদা আর সোনালি রঙের নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি অট্টালিকাটি দূর থেকেই নজর কাড়ে।
চারপাশে সুসজ্জিত বাগান।
রঙিন ফুলে ভরা পথ।
মাঝখানে ফোয়ারা কিন্তু এসবের মাঝেও রুহির চোখ আটকে গেল মূল ফটকের ওপরে লাগানো বিশাল নামফলকে।
সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা—

“Butterfly Mansion”
নামটা পড়তেই রুহির ভ্রু কুঁচকে গেল।
সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে নামফলকের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর মনে মনে বিড়বিড় করে বলল,
— এই লোকটা বাড়ির নামটাও বাটারফ্লাই দিয়ে রেখেছে?
তার বিস্ময় আরও বাড়ল।
কারণ যতদূর সে জানে, ক্রুশ তাকে প্রায়ই “বাটারফ্লাই” বলে ডাকে।
কিন্তু একটা বাড়ির নামও সেই নামে রাখা হয়েছে— এটা তার কল্পনার বাইরে ছিল।
রুহি এখনও নামফলকের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে ক্রুশ ধীরে ধীরে তার পাশে এসে দাঁড়াল।
দুই হাত পকেটে ঢুকিয়ে শান্ত দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটিয়ে বলল,
— কী দেখছো এত মন দিয়ে?
রুহি কোনো উত্তর দিল না।
শুধু নামফলকের দিকে তাকিয়ে রইল।
ক্রুশও তার দৃষ্টি অনুসরণ করে সেদিকে তাকাল।
মুহূর্তের মধ্যেই সে বুঝে গেল রুহির বিস্ময়ের কারণ।
মৃদু হেসে বলল,

— আপাতত এই বাড়িতেই থাকবে তুমি।
— এরপর তোমাকে সব জায়গায় নিয়ে যাব। তোমার প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দেব।
যেসব প্রমাণ দেখতে চাও, সব দেখাব। তোমার সামনে কোনো কিছুই লুকিয়ে রাখব না।
রুহি এবার ধীরে ধীরে তার দিকে তাকাল।
তার চোখে স্পষ্ট সন্দেহ।
— সত্যিই?
ক্রুশ মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ, বাটারফ্লাই। এবার আর কোনো কিছু অন্ধকারে থাকবে না।
কথাটা বলে সে আবার নামফলকের দিকে তাকাল।
তার চোখের গভীরতায় হঠাৎ এক অদ্ভুত কোমলতা ফুটে উঠল।
যে কোমলতা খুব কম মানুষই দেখতে পায়।
নিচু স্বরে সে বলল,

— আর এই নামটা দেখছো?
— “বাটারফ্লাই” শুধু একটা নাম নয়।
তার চোখ এবার সরাসরি রুহির চোখে গিয়ে স্থির হলো।
— এটা আমার দেওয়া নাম। আমার সবচেয়ে প্রিয় নাম।
তার কণ্ঠস্বর আরও নরম হয়ে এলো।
— আমি আজও তোমাকে এই নামেই ডাকি।
এক মুহূর্ত থেমে সে বাড়িটার দিকে তাকাল।
তারপর মৃদু হাসল।
— কারণ এই বাড়ির প্রতিটা ইট, প্রতিটা দেয়াল, প্রতিটা স্মৃতির সঙ্গে তুমি জড়িয়ে আছো।
রুহির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
সে জানে না কেন, কিন্তু ক্রুশের কথাগুলো শুনে তার হৃদয়ের কোথাও যেন অচেনা একটা ব্যথা অনুভব হলো।
মনে হলো, এই নামটাও যেন অচেনা নয়।
কিন্তু যতই মনে করার চেষ্টা করছে, সবকিছু কুয়াশার মতো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।

একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলার করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে আমান।
তার দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে একটি কাঠের দরজার ওপর।
দুই দিন আগের সেই রাতটার কথা বারবার তার মাথায় ঘুরছে।
সেদিন কৌতূহলবশত সে সিমরানের পিছু নিয়েছিল।
আর তখনই জানতে পেরেছিল, রাতের শেষে সিমরান এই ফ্ল্যাটেই ফিরে আসে।
এরপর থেকে সুযোগ পেলেই দূর থেকে খোঁজ নিয়েছে সে।
যতটুকু বুঝেছে, সিমরান এখানেই থাকে।
কিন্তু বিষয়টা কোনোভাবেই মাথায় ঢুকছে না তার।
ইতালির মিলান শহরের এই অংশটা মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকা।
পুরোনো বিল্ডিং, ছোট ছোট ফ্ল্যাট, সংকীর্ণ গলি—সব মিলিয়ে পরিবেশটা অনেকটা বস্তি এলাকার মতো।
অথচ সিমরানের স্বামী সম্পর্কে সে যতটুকু জানত, তার আর্থিক অবস্থান ছিল বেশ উচ্চ।
অন্তত এমন নয় যে তার স্ত্রী কে এমন একটি এলাকায় এসে থাকতে হবে।
তাহলে ব্যাপারটা কী?

সিমরান আসলে কী লুকিয়ে রাখছে?
প্রশ্নগুলো মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে লাগল।
একপর্যায়ে আর নিজেকে সামলাতে পারল না আমান।
কাঁপা হাতে এগিয়ে গিয়ে কলিংবেল চাপলো।
বেলের শব্দ করিডোরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল।
কয়েক সেকেন্ড পর ভেতর থেকে পায়ের শব্দ শোনা গেল।
তারপর দরজাটা খুলে গেল।
দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে পনেরো-ষোলো বছরের একটি মেয়ে।
মেয়েটি অবাক হয়ে আমানের দিকে তাকাল।
— আপনি?
আমান নিজেকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল।
— না মানে… আমি সিমরানের বন্ধু। ওর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।
মেয়েটি ভ্রু কুঁচকে বলল,

— কিন্তু দিদি তো এখন বাড়িতে নেই।
আমান সেটা আগেই জানত।
সিমরান এখনও কাজে আছে।
আজ সে ইচ্ছা করেই এই সময়টাতে এসেছে, যদি কিছু জানতে পারে।
তাই মুখে স্বাভাবিক ভাব এনে বলল,
— হ্যাঁ, জানি। ও আমাকে বলেছিল বাসাটা চিনে রাখতে। তাই ভাবলাম চলে আসি।
মেয়েটি হেসে উঠল।
— ওহ্‌, আচ্ছা। তাহলে ভেতরে আসুন।
আমান ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করল।
ফ্ল্যাটটা ছোট হলেও বেশ গুছিয়ে রাখা।
পুরোনো আসবাবপত্র, সাধারণ সাজসজ্জা—সবকিছুতেই মধ্যবিত্ত জীবনের ছাপ স্পষ্ট।
ঠিক তখনই ড্রইংরুমের মাঝখান থেকে ছোট্ট একটি বাচ্চা উঠে দাঁড়াল।
এতক্ষণ মেঝেতে বসে খেলছিল সে।
আমানকে দেখেই শিশুটির চোখ হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
পরের মুহূর্তেই টলমল পায়ে দৌড়ে এলো তার দিকে।

— পাপা! পাপা!
শিশুসুলভ উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে উঠল সে।
আমান থমকে গেল।
ছোট্ট মেয়েটা এসে তার পা জড়িয়ে ধরল।
তার নিষ্পাপ মুখে এমন আনন্দ, যেন বহুদিন পর সে নিজের বাবাকে খুঁজে পেয়েছে।
অজান্তেই আমানের ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।
সে নিচু হয়ে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিল।
শিশুটিও সঙ্গে সঙ্গে তার গলা জড়িয়ে ধরল।
দৃশ্যটা দেখে কিশোরী মেয়েটি হালকা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
— কিছু মনে করবেন না দাদা। ও তো ছোট বাচ্চা। সব সময় বাবাকে খোঁজে।
কথাটা শুনে আমানের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
সে সুযোগটা হাতছাড়া করল না।
শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,

— ওর বাবা কি এখানে থাকে না?
প্রশ্নটা শোনামাত্র মেয়েটি উত্তর দিয়ে ফেলল,
— না তো। দিদি তো একজন সিঙ্গেল মাদার।
কথাটা বলেই সে হঠাৎ থেমে গেল।
মনে হলো, নিজের অজান্তেই হয়তো এমন কিছু বলে ফেলেছে যা বলা উচিত হয়নি।
তার মুখে অস্বস্তি ফুটে উঠল।
দ্রুত প্রসঙ্গ বদলানোর চেষ্টা করে বলল,
— আপনি বসুন। আমি কফি বানিয়ে আনছি।
আমান কোনো উত্তর দিল না।
সে যেন এখনও শুনে যাওয়া কথাগুলোর অভিঘাত থেকে বের হতে পারছে না।
সিঙ্গেল মাদার।
শব্দ দুটো বারবার তার কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
তাহলে সিমরানের স্বামী কোথায়?
সে কি বেঁচে আছে?
নাকি তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে?
আর যদি তাই হয়, তাহলে সিমরান এতদিন কেন সবকিছু লুকিয়ে রেখেছে?
হাজারো প্রশ্ন একসঙ্গে ভিড় করে এলো তার মাথায়।

বাড়ি ফিরে আসার পর মাত্র পাঁচ মিনিটও বাড়িতে থাকতে পারেনি ক্রুশ।
বাড়িতে পৌঁছে কিছুটা সময় রুহির সঙ্গে কাটানোর ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য কিছুই ঠিক করে রেখেছিল।
একটি বহু কোটি টাকার আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে জরুরি মিটিংয়ের কল আসতেই তাকে বাধ্য হয়ে অফিসে যেতে হয়।
ফলস্বরূপ, বাড়িতে রুহিকে রেখে দ্রুত অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে সে।
ইতোমধ্যেই মিটিং শুরু হয়ে গেছে।
বিশাল কনফারেন্স রুমে উপস্থিত দেশের এবং বিদেশের একাধিক ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও বোর্ড মেম্বার।
ভেতরের পরিবেশ অত্যন্ত গম্ভীর।
বড় স্ক্রিনে বিভিন্ন প্রজেক্টের তথ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
আর টেবিলের একদম মাঝখানে বসে আছে ক্রুশ।
তার প্রতিটি কথায় উপস্থিত সবাই মনোযোগ দিয়ে কান পাতছে।
ঠিক তখনই তার সামনে টেবিলে রাখা ফোনটা সাইলেন্ট মোডে কেঁপে উঠল।
স্ক্রিন জ্বলে উঠলেও কেউ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিল না।
কারণ এমন ঘটনা নতুন নয়।

মিটিং চলাকালীন অসংখ্য কল আসে ক্রুশের ফোনে।
আর অধিকাংশ সময়ই সে না দেখেই কল কেটে দেয়।
আজও তার ব্যতিক্রম হলো না।
ফোনটা হাতে নিয়ে না তাকিয়েই পাশের বাটনে চাপ দিয়ে কল কেটে দিল সে।
আবার আলোচনায় মনোযোগ দিতে গেল।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ফোনটা আবার কেঁপে উঠল।
ক্রুশ ভ্রু কুঁচকে ফোনের দিকে তাকাল।
বিরক্তি নিয়ে ফোনটা হাতে তুলতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি নাম।
Butterfly ❤️
নামটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের দৃষ্টি বদলে গেল।
পাশে বসে থাকা একজন স্টাফ বলল,

— স্যার, যদি খুব জরুরি কেউ না হয়, তাহলে মিটিংটা এগিয়ে নেওয়া যায়।
ক্রুশ একবার স্ক্রিনের দিকে তাকাল, তারপর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,
— No. This call is more important. My wife comes first.
কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে পুরো কনফারেন্স রুম নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
উপস্থিত সবাই প্রায় হতবাক।
Wife?
ক্রুশের স্ত্রী আছে?
এমন কথা তারা কোনোদিন শোনেনি।
শুধু তাই নয়, ক্রুশ কোনোদিন কারও জন্য মিটিং থামিয়েছে বলেও কেউ জানে না।
কিন্তু আজ?
একটা ফোনকলের জন্য সে পুরো মিটিং থামিয়ে দিল!
ক্রুশ অবশ্য সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করল না।
ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে রুহির কণ্ঠ ভেসে এলো।

— আমার আইসক্রিম খেতে খুব ইচ্ছে করছে। তাড়াতাড়ি নিয়ে আসুন।
এক মুহূর্তের জন্য বোকা বনে স্থির হয়ে গেল ক্রুশ।
সে ভেবেছিল কোনো সমস্যা হয়েছে।
কিংবা রুহির কিছু হয়েছে।
কিন্তু— আইসক্রিম?
এই কারণে ফোন?
সে কপালে হাত বুলিয়ে বলল,
— আমি ফেরার পথে নিয়ে আসব, ঠিক আছে?
কথা শেষ করে কল কেটে দিতে যাচ্ছিল।
ঠিক তখনই আবার রুহির কণ্ঠ শোনা গেল।

— এক মিনিট!
ক্রুশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— এবার কী?
— আমি নাকি আপনার বাটারফ্লাই?
— হ্যাঁ।
— আমি নাকি আপনার স্ত্রী?
— হ্যাঁ।
— তাহলে একটা সামান্য আইসক্রিমও এনে দিতে পারবেন না?
ক্রুশ চুপ করে রইল।
ওপাশ থেকে আবার রুহি বলল,
— আর প্রমাণ কোথায়? আপনি তো বলেছিলেন সব প্রমাণ দেখাবেন। আমি এখনই প্রমাণ চাই।
কনফারেন্স রুমে বসে থাকা লোকগুলো দেখতে পেল, কয়েক সেকেন্ডের জন্য ক্রুশ সম্পূর্ণ চুপ হয়ে গেছে।
তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো।
মনে হচ্ছে নিজের ধৈর্যের সঙ্গে যুদ্ধ করছে।
অন্যদিকে রুহি নির্লজ্জের মতো বলে চলেছে,

— তাড়াতাড়ি বাড়ি আসুন। আমার খুব তারাতারি প্রমাণ দরকার।
কথাটা শুনে ক্রুশের বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হলো।
মেয়েটা এতদিন তার কাছ থেকে দূরে দূরে থেকেছে।
কথায় কথায় সন্দেহ করেছে।
আর আজ হঠাৎ এতটা অধিকার দেখাচ্ছে কেন?
এই পরিবর্তনটা তার ভালো লাগছে।
অস্বাভাবিক রকম ভালো লাগছে।
ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হাসি ফুটে উঠল।
— ঠিক আছে, বাটারফ্লাই। আমি আসছি।
— আইসক্রিম নিয়ে?
— হ্যাঁ।
— দুইটা।
— আচ্ছা, দুইটা।
— বড় সাইজের।
ক্রুশ এবার হেসে ফেলল।
— ঠিক আছে।

এরপর কল কেটে দিল।
কয়েক সেকেন্ড চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস নিল সে।
তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
পুরো কনফারেন্স রুম তার দিকে তাকিয়ে আছে।
ক্রুশের ব্যক্তিগত জীবনের এমন রূপ কেউ কোনোদিন দেখেনি।
তার সহকারী অবাক হয়ে বলল,
— স্যার… মিটিংটা?
ক্রুশ নিজের কোটের বোতাম লাগাতে লাগাতে শান্ত গলায় বলল,
— মিটিং ক্যানসেল করে দাও।
সহকারী প্রায় চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।
— স্যার! এটা কয়েকশো কোটি টাকার ডিল!
ক্রুশ কোনো ভাবান্তর না করে নিজের ফাইল তুলে নিল।
তারপর সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল,

Mad for you 2 part 37

— ডিল পরে হবে।
সে দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে আবার বলল,
— আগে আমার বউ।
কথাটা বলে সে বেরিয়ে গেল।
আর পেছনে বসে থাকা সবাই অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগল।
কারণ ব্যবসায়িক জগতে তারা বহু বছর ধরে ক্রুশকে চিনলেও আজ প্রথমবার দেখল—বেখায়ালি প্ৰেমিক হিসেবে।

Mad for you 2 part 39

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here