Home ম্যারিড লাইফ্ ‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ২৯

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ২৯

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ২৯
‎রঙ্গনা মৈত্র ঊর্মি

‎রুমের ভেতরটা হঠাৎ করেই অন্যরকম হয়ে গেল। রুমে পিনপিন নিরবতা বিরাজ করল। কয়েক সেকেন্ড আগেও যেখানে খুনসুটি চলছিল, সেখানে এখন যেন এক জিজ্ঞাসাবাদের টেবিল বসে গেছে। আর সেই টেবিলের একপাশে যেন আসামির মতো বসে আছে ইশতিয়াক। আর উকিল যেন স্বয়ং শেখ ইখতিয়ার আহমেদ।
‎”মেয়েটা কে?”
‎ইখতিয়ারের প্রশ্নটা আবারও কানে বাজল তার।
‎মুহূর্তেই ইশতিয়াকের গলা শুকিয়ে গেল। মনে হলো কেউ তার বুকের ভেতর একটা ড্রাম বসিয়ে অবিরাম বাজিয়ে চলেছে।
‎কোণা চোখে দিয়ে একবার মুগ্ধার দিকে তাকাল সে। ভুল করল বোধ হয়। কারণ মুগ্ধা তখন এমনভাবে তাকিয়ে আছে, যেন বহুদিন ধরে লুকিয়ে রাখা কোনো গুপ্তধনের সন্ধান পেয়ে গেছে।
‎চোখ দুটো চিকচিক করছে তার।

‎ইশতিয়াক ঢোঁক গিলল।
‎”আমার… ক্লাসমেট।”
‎কথাটা বলতে গিয়েও গলাটা কেমন কেঁপে উঠল।
‎ইখতিয়ার কিছু বলল না। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
‎তারপর গিয়ে একেবারে ইশতিয়াকের বেডের সামনে দাঁড়াল। দুই হাত বুকের ওপর গুটিয়ে নিল।
‎শান্ত মুখ। কিন্তু সেই শান্তির নিচে লুকিয়ে আছে বিপদজনক সন্দেহ। মুগ্ধা পেছন থেকে দুষ্টু হেসে বলল,
‎”তোর ক্লাসমেট?”
‎ইশতিয়াক সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে তাকাল। চোখে-মুখে স্পষ্ট মিনতি। একবার ভ্রু নাচাল।
‎তারপর ঠোঁট কুঁচকে এমন একটা মুখ করল যেন বলছে—
‎’ভাবি জান, এবারের মতো বাঁচায়া দেন। আল্লাহর ওয়াস্তে।’
‎মুগ্ধা চোখ উল্টাল। বয়েই গেছে তার। প্রেম করছে ইশতিয়াক? আর সে জানে না?
‎এই বাড়ির সব খবর সবার আগে যার কাছে পৌঁছায়, সেই মুগ্ধার কাছেই খবর গোপন!
‎এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা! মুখ বাঁকিয়ে অন্যদিকে তাকাল সে। ইশতিয়াকের বুক ধীরে ধীরে ডুবে যেতে লাগল ভয়ে। মনে হচ্ছে সে হাসপাতালের বেডে নয়, বিচারকের কাঠগড়ায় বসে আছে।
‎এদিকে ইখতিয়ার এখনও তাকিয়ে আছে।
‎চোখ দুটো সরু হয়ে এসেছে। সেই দৃষ্টি দেখে ইশতিয়াক কষ্ট করে একটা হাসি দিল।
‎ইখতিয়ারও ঠোঁট চেপে জোর করে হাসি ফেরত দিলো।তারপর বলল,
‎”কোন ক্লাসমেট এমন বন্ধুকে দেখতে এসে মরা কান্না কাঁদে?”

‎প্রশ্নটা শুনে ইশতিয়াকের মাথার ভেতর যেন সাইরেন বেজে উঠল। শেষ। আজকে আর বাঁচা গেল না। মুগ্ধা অবস্থা বুঝল।
‎বিষয়টা যদি আরেকটু এগোয়, তাহলে ইশতিয়াক হয়তো সত্যিই সব উগরে ফেলবে।
‎সে দ্রুত এগিয়ে এলো। ভেতরে ভেতরে কথাগুলো গুছিয়ে নিল। তারপর ঠোঁটে হালকা হাসি এনে বলল,
‎”আর বলেন না! সাদিয়া আসছিল হয়তো।”
‎ইখতিয়ার ভ্রু তুলল। মুগ্ধা থামল না।
‎”মেয়েটা এত ভিতু! সেই ক্লাস ওয়ান থেকে একসাথে পড়ি। অল্পতেই কেঁদে নাক ভাসায়।”

‎কথা শেষ করে সে ধীরে ধীরে ইশতিয়াকের দিকে ফিরল। চোখে এমন দৃষ্টি, যেন এখনই গলা টিপে ধরবে। দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
‎”কী? সাদিয়াই আসছিল তো?”
‎ইশতিয়াক যেন ডুবন্ত মানুষের ন্যায় খড়কুটো পেল।
‎”হ্যাঁ! হ্যাঁ! সাদিয়াই… সাদিয়া।”
‎তাড়াহুড়ো করে বলে উঠল সে। মাথাও নাড়ল কয়েকবার। অথচ তার মাথার ভেতর তখন অন্য চিন্তা। সাদিয়া? কোন সাদিয়া? তাদের ক্লাসে কোনো সাদিয়া নেই। স্কুলে ছিল না। কলেজে ছিল না। এখনওনেই।
‎এমনকি জীবনে এই নামে কোনো মেয়ের সাথে ঠিকমতো কথাও হয়নি। তবুও আজ সাদিয়া তার প্রাণের বন্ধু হয়ে গেছে। ইখতিয়ার এবার ধীরে ধীরে মুগ্ধার দিকে তাকাল। চোখ বড় বড় করে বলল,
‎”তাই? সাদিয়া?”
‎”হ্যাঁ হ্যাঁ। সাদিয়াই।”
‎মুগ্ধা এমন ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল যেন মেয়েটার জন্মসনদ পর্যন্ত সে দেখেছে।
‎”খুব চিনি আমি।”
‎ইখতিয়ার কয়েক সেকেন্ড তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর হঠাৎ ঘুরে দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল। মুগ্ধা আর ইশতিয়াক দুজনেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই ইখতিয়ার থামল। পেছন ফিরে না তাকিয়েই বলল,

‎”ইশতিয়াক, তোর সাদিয়ারে বলিস পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে।”
‎তার গলায় কৌতুক। বলল,
‎”নয়তো তোর মতো ব্যাকবেন্চারের জন্য ব্রিলিয়ান্ট মেয়েটা ডাব্বা দিবে।”
‎মুগ্ধা হেসে ফেলল। ইশতিয়াকও কৃত্রিম হাসি দিল।
‎কিন্তু পরের কথাটা শুনে সেই হাসি মুহূর্তেই জমে গেল। ইখতিয়ার এবার ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
‎চোখে রহস্যময় হাসি।
‎”আর হ্যাঁ…”
‎রুমের বাতাস যেন থেমে গেল।
‎”পরেরবার থেইকা ব্যাগের চেইনটা আটকাইতে বলবি ভালো কইরা।”
‎ইশতিয়াকের বুক ধক করে উঠল। ইখতিয়ার শান্ত স্বরে বলল,
‎”ব্যাগের ভিতরে কী কী ছিল, সব দেখা যাচ্ছিল সিসিটিভিতে।”
‎মুহূর্তের মধ্যে ইশতিয়াকের মুখের সমস্ত রক্ত যেন উধাও হয়ে গেল। গলা শুকিয়ে কাঠ।
‎হৃদপিণ্ডটা বুকের ভেতর এমনভাবে লাফাতে লাগল, যেন খাঁচাবন্দী পাখি মুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে ডানা ঝাপটাচ্ছে। পাশে দাঁড়ানো মুগ্ধার চোখ ধীরে ধীরে বড় হয়ে গেল। তারপর সে ঘুরে তাকাল ইশতিয়াকের দিকে।
‎আর ইশতিয়াক?
‎সে শুধু নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইল। মনে হলো হাসপাতালের সব ব্যথা, সব সেলাই, সব ইনজেকশন মিলিয়েও এত কষ্ট তাকে দেয়নি, যতটা কষ্ট দিল ইখতিয়ারের শেষের ওই একটামাত্র বাক্য। কিছু শব্দ ‌ কর্কশ মনে হলো সব।

‎ইখতিয়ার দরজা পেরিয়ে বেরিয়ে যেতেই রুমের ভেতরের বাতাস যেন বদলে গেল। কয়েক সেকেন্ড আগেও যে বাতাসে সন্দেহের গন্ধ ছিল, এখন সেখানে শুরু হয়েছে জেরা। আর জেরাকারীর আসনে বসেছে মুগ্ধা। মেয়েটা ধীরে ধীরে ঘুরে ইশতিয়াকের দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টি দেখে ইশতিয়াকের বুক ধক করে উঠল। এমন দৃষ্টি সাধারণত শিক্ষকরা পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়া ছাত্রদের দিকে দেয়। বুকে হাত গুজল মুগ্ধা । বলল,
‎”এবার বল।”
‎মুগ্ধার গলা শান্ত। অস্বাভাবিক শান্ত। আর এই শান্তিই সবচেয়ে ভয়ের।ইশতিয়াক কৃত্রিম হাসল।
‎”কী বলব?”
‎”মেয়েটা কে?”
‎”কোন মেয়ে?”
‎”নাটক করবি না।”
‎মুগ্ধা চেয়ার টেনে একেবারে বেডের কাছে এসে বসল।
‎”আমারে না জানাইয়া প্রেম করস? এত বড় খবর লুকাইছস? আমি কি তোর প্রতিবেশী?”
‎ইশতিয়াক ঢোঁক গিলল। পরিস্থিতি সামলাতে হবে।
‎নয়তো বিপদ।
‎”আরে না ভাবি জান, প্রেম-ট্রেম কিছু না।”
‎”তাই নাকি?”
‎”হ।”

‎”তাইলে ঐ মেয়ে কে আর কাদতেছিল ক্যান?”
‎ইশতিয়াক মাথা চুলকাতে গিয়ে মনে পড়ল হাতে ক্যানোলা লাগানো। আবার হাত নামিয়ে ফেলল।
‎তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
‎”অনেক আগের ঘটনা।”
‎মুগ্ধার চোখ চিকচিক করে উঠল।
‎”কী ঘটনা?”
‎”একটা মেয়ে একবার আমারে প্রপোজ করছিল।”
‎মুগ্ধা ভ্রু তুলল।
‎”ওই যে আগে কইছিলি?”
‎”হ। ওইটাই।”
‎কথাটা বলেই মনে মনে তওবা পড়ল ইশতিয়াক। আজ জীবন বাঁচানোর জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। মুগ্ধা সন্দেহভরা চোখে তাকিয়ে রইল।

‎”তারপর?”
‎”তারপর আর কিছু না।”
‎”আর কিছু না মানে?”
‎”আমি পাত্তা দেই নাই।”
‎”তাইলে আজ হাসপাতালে আইসা কাঁদল ক্যান?”
‎ইশতিয়াক এমন একটা মুখ করল যেন সেও ব্যাপারটা বুঝতে পারছে না।
‎”এই মেয়ের মাথায় সমস্যা আছে।”
‎”কী সমস্যা?”
‎”নাটক বেশি করে।”
‎মুগ্ধা হেসে ফেলল।
‎”সত্যি?”
‎”একদম।”
‎ইশতিয়াক এবার একটু সাহস পেল।
‎”ভাবি জান, তুমি তো জানো, আমি সুন্দর পোলা। আমারে নিয়া অনেকে দুর্বল।”
‎”চুপ কর।”
‎মুগ্ধা বালিশ ছুড়ে মারার ভঙ্গি করল। ইশতিয়াক হেসে বলল,
‎”সত্যি কইতেছি। ওই মাইয়া তো একেক সময় এমন আচরণ করে, মনে হয় বাংলা সিনেমার নায়িকা।”
‎”ওমা!”

‎”হ। আমি হাসপাতালে শুইয়া আছি। সে ঢুকেই কান্না শুরু।”
‎মুগ্ধা এবার ঠোঁট বাঁকাল।
‎”বেশি সুবিধার মনে হইতেছে না।”
‎”একদম না।”
‎”দেখতেই সুবিধার না মনে হয়।”
‎”একদমই না।”
‎”নিশ্চয়ই প্যাঁচ আছে।”
‎”অনেক প্যাঁচ।”
‎দুজন মিলে এমনভাবে মেয়েটার সমালোচনা শুরু করল যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সন্দেহজনক মানুষ সে-ই। কিন্তু কথা বলতে বলতেই ইশতিয়াকের বুকের ভেতর কেমন খচখচ করতে লাগল।
‎কারণ যার নামে এসব বলা হচ্ছে, সেই স্নিগ্ধার মুখটাই বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে।
‎ফুঁ দিতে দিতে কেঁদে ফেলা মুখটা।
‎ভয়ে কাঁপা চোখ দুটো।
‎তার জন্য ছুটে আসা সেই মেয়েটা। মুহূর্তেই বুকের ভেতর অপরাধবোধের কাঁটা বিঁধল।
‎মনে হলো কোথাও বসে স্নিগ্ধা যদি এসব শুনত, তাহলে হয়তো তার সেই টলমলে চোখ দুটো আরও ভিজে উঠত। ইশতিয়াক জিভে কামড় খেল।
‎ইয়া আল্লাহ!
‎কী সব বলতেছি আমি!
‎মনে মনে হাত জোড় করল সে।
‎’স্নিগ্ধা জান আমার, কিছু মনে কইরো না হ্যাঁ”
‎তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
‎’মাফ কইরা দিও জান। তোমারে ছাড়া আমারে আর কেউ সহ্যও করব না।’
‎আর সামনে বসে থাকা মুগ্ধা তখনও সন্দেহভরা চোখে তাকিয়ে আছে।তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বারবার বলছে—
‎কোথাও একটা বড় গরমিল আছে।
‎আর ইশতিয়াক? সে প্রাণপণে চেষ্টা করে যাচ্ছে সেই গরমিলটাকে ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখতে।

‎রাত নেমেছে হাসপাতালের ওপর। করিডোরের আলো নরম হয়ে এসেছে। নার্সরা ধীর পায়ে এদিক-ওদিক হাঁটছে। দূরে কোথাও মনিটরের বিপ-বিপ শব্দ ভেসে আসছে। আর কেবিন নম্বর তিনশো সাতে? সেখানে চলছে মহাযুদ্ধ।
‎লুডুর মহাযুদ্ধ।
‎বিছানার ওপর বোর্ড পেতে বসেছে মুগ্ধা আর ইশতিয়াক। পা লম্বা করে বসেছে ইশতিয়াক।
‎ইখতিয়ার পাশের বেডে বসে আছে। হাতে ফোন। কিন্তু ফোনে মন নেই। তার সমস্ত মনোযোগ গিয়ে আটকে আছে ওই দুই দুর্যোগের দিকে।
‎সকালে যে ছেলেটা ট্রাকের সাথে দুর্ঘটনা করে হাসপাতালে এসেছে, এখন তাকে দেখে মনে হচ্ছে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছে।
‎”ছয়! ছয়! আলহামদুলিল্লাহ!”
‎হঠাৎ চিৎকার করে উঠল ইশতিয়াক। ডাইসটা মাথার ওপর তুলে বিজয়ীর ভঙ্গিতে নাড়তে লাগল।
‎মুগ্ধা চোখ কুঁচকে বলল,

‎”চুপ কর। হাসপাতাল এটা।”
‎”হাসপাতাল হইলে কি ছয় উঠব না?”
‎”উঠব। কিন্তু মাইকিং করার দরকার নাই।”
‎”তুমি আমার ট্যালেন্ট সহ্য করতে পারো না।ভাবি”
‎মুগ্ধা মুখ বাঁকাল। ইশতিয়াক আবার ডাইস ছুড়ল।
‎আবার ছয়। এবার এমন ভাব করল যেন বিশ্বকাপ জিতে এসেছে।
‎”ভাবি জান, খেলা বন্ধ কইরা দাও। আমারে হারাইতে পারবা না।”
‎”তোরে হারাইতে না পারলে আমার নাম মুগ্ধা না।”
‎”নাম চেঞ্জ কইরা রাখবা?”
‎”তোরে থাপ্পড় দিমু।”
‎ইখতিয়ার দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
‎তার মনে হচ্ছে ডাক্তার ভুল রিপোর্ট দিয়েছে।
‎ইশতিয়াকের পায়ে না, মাথায় আঘাত লেগেছে।
‎কারণ সুস্থ মানুষ এভাবে আচরণ করতে পারে না।

‎এদিকে খেলা জমে উঠেছে। মুগ্ধা একটা গুটি কেটে দিল। ইশতিয়াকের মুখ সঙ্গে সঙ্গে এমন হয়ে গেল যেন কেউ তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিয়েছে।
‎”হায় আল্লাহ!”
‎বুক চেপে ধরল সে।
‎”আমার সন্তান!”
‎মুগ্ধা হেসে কুটিকুটি।
‎”লুডুর গুটি আবার সন্তান কবে থেইকা হইল?”
‎”জন্ম দিছি আমি।”
‎”ডাইস ফালাইয়া?”
‎”তুমি বুঝবা না।”
‎তারপর গুটিটার দিকে তাকিয়ে নাটকীয় গলায় বলল,
‎”বাবা তোমারে রক্ষা করতে পারল না।”
‎মুগ্ধা এবার সত্যি সত্যি হেসে বেডে গড়িয়ে পড়ল।
‎ইখতিয়ার কপালে হাত ঠেকাল। এই ছেলেটার বয়স চব্বিশ বছর। কিন্তু আচরণ দেখে মনে হয় আট।
‎হঠাৎ ইশতিয়াক পায়ে সামান্য নড়াচড়া করতেই মুখ কুঁচকে গেল।

‎”উহ্…”
‎ব্যথায় শব্দ বের হলো। মুগ্ধা সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসল।
‎”ব্যথা করছে?”
‎”একটু।”
‎”তাইলে খেলতেছিস ক্যান?”
‎”কারণ আমি যোদ্ধা।”
‎”যোদ্ধা না, গাধা।”
‎”ইতিহাসে সকল যোদ্ধারে প্রথমে গাধাই বলা হইছিল।”
‎”তুই না ইতিহাসে ফেল করবি বলে সায়েন্স নিছিলি, জানলি কেমনে , কোন বইতে পাইছস?”
‎”মুখ বন্ধ রাখ।”
‎ইখতিয়ার এবার হেসে ফেলল।অনেকক্ষণ ধরে হাসি চেপে রেখেছিল। ইশতিয়াক সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে বলল,
‎”দেখছো ভাবি? ভাইয়াও আমারে সাপোর্ট দিতেছে।”
‎”ভাইয়া হাসতেছে তোরে দেইখা।”
‎”ভালোবাসার হাসি।”
‎”করুণার হাসি।”
‎আবার দুজনের তর্ক শুরু হয়ে গেল। ইখতিয়ার চুপচাপ তাদের দেখল। তারপর মাথা নাড়ল।
‎সকাল থেকে সবাই ভয়ে অস্থির হয়ে ছিল।
‎কত কান্না, কত দুশ্চিন্তা।
‎আর এখন?

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ২৮

‎যে ছেলেটার পায়ে দশটা সেলাই পড়েছে, সে লুডুর গুটির জন্য শোকসভা করছে। জীবনও অদ্ভুত।
‎কিছু মানুষ থাকে যারা নিজের কষ্টটাকেও হাসিতে পরিণত করতে পারে। ইশতিয়াক সম্ভবত সেই দলেরই একজন।
‎আর মুগ্ধা?
‎সে সেই হাসিতে আরও আগুন ঢেলে দেওয়ার জন্য জন্মেছে। দুজনকে খুনসুটি করতে দেখে ইখতিয়ারের বুকের ভেতর হালকা একটা স্বস্তি নেমে এলো। হয়তো আজকের দিনটা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু শেষটা অন্তত হাসিতে ভরপুর।
‎আর হাসির শব্দে ছোট্ট হাসপাতালের কেবিনটা ধীরে ধীরে বাড়ির মতো উষ্ণ হয়ে উঠছে। যাক!
‎যার শেষ ভালো তার সব ভালো।

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ৩০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here