Home ইশকে এ নিকাহ ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৬

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৬

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৬
লাইরা আয়নাত

ইনায়াত ভার্সিটির করিডোর ধরে ধীরপায়ে হেঁটে যাচ্ছে। ক্লাসরুমের কাছাকাছি আসতেই ভেতর থেকে ভেসে আসা চাপা উচ্ছ্বাসের শব্দ তার কানে আসে। ক্লাসে ঢুকতেই এক উৎসবমুখর দৃশ্য চোখে পড়ে সবাই মিলে তাদের এক ম্যামকে সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টি দেওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে। টেবিলের ওপর রাখা একটা চকলেট কেক, যার মিষ্টি সুবাস পুরো ক্লাসরুমে ছড়িয়ে পড়েছে। চারপাশে কালারফুল বেলুন আর স্টুডেন্টদের এক্সাইটেড ফিসফিসানি। এই হুল্লোড় সম্পূর্ণ ইগনোর করে ইনায়াত সোজা একদম লাস্ট বেঞ্চের অন্ধকার কোণটায় গিয়ে বসে। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ একদম রিল্যাক্সড, কিন্তু চোখেমুখে এক ধরনের ডেডলি উদাসীনতা। বোধহয় সে জানে, আর কয়েক মুহূর্ত পরেই এই সাজানো আনন্দের মঞ্চে এক ভয়ংকর ঝড় আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।

ঠিক তখনই ম্যাম ক্লাসে এন্টার করেন। সবাই সমস্বরে ‘হ্যাপি বার্থডে’ বলে চিৎকার করে ওঠে, পপার ফাটানোর শব্দে ক্লাস গমগম করে। ম্যামের মুখে উচ্ছ্বসিত হাসি, হাতে কেক কাটার সিলভার ছুরি। কিন্তু সেই হাসির আয়ু মাত্র কয়েক সেকেন্ডের হয়। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে ক্লাসের দরজাটা খুলে যায়। ঝড়ের বেগে, রুদ্রমূর্তিতে ভেতরে ঢোকেন ম্যামের স্বামী। তার চোখদুটো রাগে লাল, চোয়াল শক্ত। মুহূর্তেই পুরো ক্লাসের হাসি-আনন্দ উবে গিয়ে নীরবতা নেমে আসে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি এক ঝটকায় ম্যামের হাত থেকে কেকটা ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলে দেন। স্পঞ্জ আর ক্রিম ছিটকে ফ্লোরে লেপ্টে যায়, ঠিক যেমনটা আজ এই নারীর বছরের পর বছর ধরে বানানো রেপুটেশনের হতে চলেছে।।সজোরে একটা চড় পড়ে ম্যামের গালে। চড়ের শব্দটা ক্লাসরুমে চাবুকের মতো শোনায়।

ম্যামের হাত থেকে ছুরিটা ছিটকে পড়ে যায়। এরপর উনার স্বামী তার পকেট থেকে একতাড়া ছবি বের করে সোজা ম্যামের মুখের ওপর ছুঁড়ে মারেন। ছবিগুলো যেন স্লো-মোশনে বাতাসের ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে পুরো ক্লাসের এমাথা থেকে ওমাথা ছড়িয়ে পড়ে। স্টুডেন্টরা কৌতূহল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে ফ্লোরে পড়ে থাকা ছবিগুলো দেখার জন্য। প্রতিটি ছবিতে ম্যামের গোপন সম্পর্কের ডার্ক রিয়েলিটি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। মুহূর্তের মাঝে সেই ছবিগুলোর স্ন্যাপ ভার্সিটির ইন্টারনাল গ্রুপগুলোতে ভাইরাল হতে শুরু করে। চারদিকে ফিসফিসানি, ছিঃ ছিঃ আর তীব্র কটূক্তি। ম্যাম নিজেকে সামলিয়ে অফিস রুপে যান কিন্তু যাওয়ার ঘন্টা খানেক পরি ডায়রেক্টর তাকে ফায়ার করে দেন। এটা ইমেজের একটা বিষয়।।

অপমান, ঘৃণা আর লজ্জার বোঝা মাথায় নিয়ে ম্যাম টলতে টলতে করিডোরের এক কর্নারে গিয়ে ধপ করে বসে পড়েন। দুচোখ বেয়ে অবিরত নোনা জল গড়িয়ে পড়ছে, মেকআপ নষ্ট হয়ে পুরো মুখ বীভৎস দেখাচ্ছে। ঠিক তখনই, নিঃশব্দে তার পাশে এসে বসে ইনায়াত। সে খুব শান্ত গলায়, ম্যামের কানের কাছে মুখ নিয়ে ঠিক সাপের মতো হিসহিস করে বলে,
“ক্লাসে যাদের ‘লো ক্লাস’ বলে অপমান করতেন, সেই স্টুডেন্টদের কাছ থেকে জন্মদিনের এমন সারপ্রাইজ পেয়ে কেমন লাগছে ম্যাম?”
ম্যাম চমকে, আতঙ্কিত চোখে পাশে তাকান। ইনায়াতের ঠোঁটের কোণে এক সাইকোপ্যাথিক স্মার্ক। সে তার আইস-কোল্ড দৃষ্টি ম্যামের চোখের ওপর স্থির রেখে আবারো বলে ওঠে, “সময় বদলায় মিস, কিন্তু পাওনাটা ঠিকই থেকে যায়। ধৈর্য হলো সেই বারুদ, যা সময়ের সাথে সাথে শুকায় এবং একদিন ভয়ংকর বিস্ফোরণে সব হিসাব চুকায়! আঘাতকারী ভুলে যায়, কিন্তু আঘাত পাওয়া মানুষটা ইতিহাস লিখে রাখে।”
ম্যামের গলা দিয়ে কোনো স্বর বেরোয় না, তিনি শুধু নির্বাক হয়ে এই ভয়ংকর ইনায়াতের দিকে চেয়ে থাকেন। এই সেই ইনায়াত যাকে আর তার ভাইকে তিনি ‘কনকিউবাইন’-এর সন্তান বলে পুরো ভার্সিটিতে বুলিং করেছেন। ইনায়াত উঠে দাঁড়ায় এবং প্যান্টের পকেটে হাত গুঁজে ধীরপায়ে হেঁটে যেতে যেতে বেশ লাউড টোনে,যাতে তিনি শুনতে পান এমনভাবে বলে,

“প্রতিশোধ হলো এমন এক ঋণ, যা সঠিক সময়ে সুদে-আসলে ফিরিয়ে দিতেই হয়।”
কিল্টনের ফল-ডাউনের পর ইনায়াত, নাভিদ আর এলিজ এখন ডিপার্টমেন্টের আনডিস্পিউটেড হিরো এত তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করার জন্য। তাদের নেক্সট মেগা-মিশনের ব্লু-প্রিন্ট রেডি হচ্ছে, কিন্তু ডিটেইলস এখনো টপ-সিক্রেট। আগামীকাল সিনিয়রের সাথে ব্রিফিংয়ের আগে তারা আজ আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনিং ক্লাবে নিজেদের রিফ্লেক্স ঝালিয়ে নিতে এসেছে। ক্লাবের ভেতরে ঘাম আর অ্যাড্রেনালিনের কড়া গন্ধ। নাভিদ চলে গেছে জিম সেকশনে হেভি ওয়েট লিফটিংয়ে, আর ইনায়াত এসে দাঁড়িয়েছে ওভারহেড স্পটলাইটে আলোকিত ফাইটিং রিংয়ের সামনে।
রিংয়ের ভেতর এখন তাণ্ডব চলছে। অ্যাডাম নামের এক অ্যারোগেন্ট ফাইটার তার অপোনেন্টকে পশুর মতো পেটাচ্ছে। ফাইটের কোনো বেসিক রুলসের তোয়াক্কা নেই তার মধ্যে, শুধুই পেশিশক্তির অহংকার। অপোনেন্ট জ্ঞান হারানো মাত্রই সে রিংয়ের দড়ি ধরে চিৎকার করে ওঠে, “নেক্সট! কে আছিস সাহস থাকলে আয়! নাকি সব কটা কাপুরুষ?”

ইনায়াতের আজ ফাইট করার বিন্দুমাত্র মুড ছিল না, কিন্তু অ্যাডামের এই লাউড ওভার-কনফিডেন্স তার কানের কাছে মশার মতো ভনভন করছে। সে খুব কুললি, কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই সে নিজের লেদার জ্যাকেটটা খুলে কোমরে শক্ত করে গিঁট দিয়ে বেঁধে নেয়। তারপর রিংয়ের দড়ি টপকে, একটা চিতা বাঘিনীর মতো অ্যাডামের চোখের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
​সে আড্যামের চোখে চোখ রেখে বলে , “আমি।”
​অ্যাডাম নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারে না। তার সামনে একটা মেয়ে ফাইট করতে এসেছে! সে হো হো করে এক বীভৎস হাসিতে ফেটে পড়ে। চারপাশের ক্রাউডকেও হাসার ইঙ্গিত দিয়ে তাচ্ছিল্যের সুরে বলে, “কী রে পিচ্চি! মরে গুঁড়ো হতে চাস নাকি? তোর এই প্রিটি ফেস আর স্লিম বডিটা খামোখা নষ্ট করতে চাস কেন? যা, ঘরে গিয়ে পুতুল খেল!”
​ইনায়াতের চেহারায় বিন্দুমাত্র রিঅ্যাকশন নেই। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ একদম স্টেডি, চোখের পলক পর্যন্ত পড়ছে না। সে সোজা অ্যাডামের চোখের দিকে তাকিয়ে স্পট-অন রিপ্লাই দেয়, “লেটস স্টার্ট। অতিরিক্ত কথা আমার একদম পছন্দ না।”

​উপস্থিত অনেকেই একটা মেয়ের এই সাহস দেখে ঘাবড়ে যায়। কেউ কেউ ইনায়াতকে রিং থেকে নেমে আসতে বলে চিৎকার করে। কিন্তু ইনায়াত টোটালি ইগনোর করে। চারপাশের অডিয়েন্স তখন অ্যাডামের নামে পাগলের মতো চিয়ার করছে। রেফারি হুইসেল বাজাতেই ফাইট স্টার্ট। ​শুরুতে ইনায়াত একদম ডিফেন্সিভ মোডে। সে অ্যাডামের অ্যাটাক প্যাটার্ন, তার পাওয়ার রেঞ্জ আর ফুটওয়ার্ক রিড করার জন্য ইচ্ছে করেই তাকে স্পেস দেয়। অ্যাডামের কয়েকটা ভারী হিট সে নিজের গার্ডে অ্যাবজর্ব করে নেয়। কিন্তু অ্যাডামের একটা ডিরেক্ট, রাফ পাঞ্চ ইনায়াতের গার্ড ভেদ করে সোজা তার ঠোঁটের কোণে এসে পড়ে। ছিটকে কয়েক পা পিছিয়ে যায় সে। ঠোঁট ফেটে তাজা লাল রক্ত গড়িয়ে পড়ে চিবুকে। ক্রাউড উত্তেজনায় ফেটে পড়ে।
​অ্যাডাম ভাবে সে জিতে গেছে। জয়ের নেশায় অন্ধ হয়ে সে যখন তার সর্বশক্তি দিয়ে ইনায়াতের পেটে ফিনিশিং ব্লো-টা করতে যায়, ঠিক তখনই শুরু হয় আসল খেলা।

​সেকেন্ডের ভগ্নাংশে ইনায়াতের ভেতরের স্লিপিং কিলার ইন্সটিংক্টটা জেগে ওঠে। সে জাস্ট মিলিমিটারের ব্যবধানে ডাক করে অ্যাডামের হেভি পাঞ্চটা বাতাসে মিলিয়ে দেয়। অ্যাডাম তার নিজের ফোর্সেই ব্যালেন্স হারিয়ে সামান্য সামনে ঝুঁকে পড়ে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই শুরু হয় ইনায়াতের কাউন্টার-অ্যাটাক। ব্রুট ফোর্সের বদলে পিওর, লিথাল স্পিড আর মারাত্মক টেকনিক। ​চোখের পলকে সে অ্যাডামের প্রসারিত হাতটা লক করে পুরো শরীরের ওয়েট দিয়ে এমনভাবে মোচড় দেয় যে হাড় মটকে যাওয়ার একটা সূক্ষ্ম, ক্রাঞ্চিং শব্দ পুরো রিংয়ে ইকো হয়। অ্যাডামের গলা চিরে বের হতে যাওয়া আর্তনাদটা শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয় বৃষ্টি ধারার মতো মাইর। একটা মেয়ে যে এতটা ডেডলি হতে পারে, তা উপস্থিত কারো কল্পনায় ছিল না। ​ইনায়াত তো আর কোনো সাধারণ মেয়ে নয়, সে একজন হাইলি ট্রেইনড এজেন্ট। তার মুভমেন্ট এত ফাস্ট যে চোখ দিয়ে ফলো করা কঠিন। একটার পর একটা স্পিডি জ্যাব, হুক, আপারকাট অ্যাডামের গার্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। অ্যাডাম যখন মুখ বাঁচাতে হাত ওপরে তোলে, ইনায়াতের একটা সলিড নি-কিক প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে তার পাজরে। শ্বাস আটকে আসে অ্যাডামের। ব্যালেন্স হারিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ার আগেই ইনায়াতের ধারালো এলবো-স্ট্রাইক সোজা আছড়ে পড়ে তার ঘাড়ের কাছে।

​অ্যাডামের সমস্ত অহংকার আর ডিফেন্স চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। তার মুখ থেকে গলগল করে রক্ত বেরিয়ে ম্যাট ভাসিয়ে দিচ্ছে। সে টলতে টলতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তার আগেই ইনায়াত নিজের বডি স্পিন করে শূন্যে ভেসে একটা পারফেক্ট, হাই-ভোল্টেজ রাউন্ডহাউস কিক ল্যান্ড করে অ্যাডামের চোয়ালে। আর অ্যাডাম জ্ঞান হারিয়ে একটা কাটা গাছের মতো ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে। তার শরীরটা একবার কেঁপে উঠেই সম্পূর্ণ নিশ্চল হয়ে যায়। ​দর্শকদের মুখের উল্লাস জমে বরফ হয়ে গেছে। কারও মুখ দিয়ে টুঁ শব্দ বের হচ্ছে না। লম্বা শ্বাস টেনে সোজা হয়ে দাঁড়ায় ইনায়াত। কপালের ওপর ঘামে লেপ্টে থাকা অবিন্যস্ত চুলগুলো এক হাতে ব্রাশ করে পেছনে ঠেলে দেয়। বুড়ো আঙুল দিয়ে ক্যাজুয়ালি ঠোঁটের রক্তটা মুছে সে চারপাশের স্টানড, পাথর হয়ে যাওয়া অডিয়েন্সের দিকে তাকায়। স্পটলাইটের আলোয় তার রক্তাক্ত ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক মিস্ট্রিয়াস, ডেডলি হাসি।
“আমি নেক্সটে আবারো আসব। সি ইয়া।”

​কথাটা বাতাসে ছুঁড়ে দিয়ে, রিংয়ের দড়ি গলে নেমে বেরিয়ে যায় সে। পেছনে পড়ে থাকে অ্যাডামের রক্তাক্ত, অচেতন শরীর আর সবার চোখে একরাশ বিস্ময় মেশানো আতঙ্ক এই ডেডলি মেয়েটা আসলে কে! চারদিকে শুধু ফিসফিসানি “হু ইজ শি? নতুন একটা মেয়ের বডিতে এত র-পাওয়ার আসে কোত্থেকে?” সবাই যখন তার লিথাল অউরা আর ফাইটিং স্কিল নিয়ে গসিপে ব্যস্ত, এখন কেউ ইমাজিনও করতে পারছে না যে এই শান্ত, ইনোসেন্ট চেহারার আড়ালে আসলে আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপানো লেভেলের একজন টপ-টায়ার অফিসার লুকিয়ে আছে।
ইনায়াত রিং এর সাইড থেকে এসে সোজা এসে দাঁড়ায় নাভিদের সামনে। তার এলোমেলো চুল, সারা গায়ে রিংয়ের ধুলো, আর ঠোঁটের কোণে জমাট বাঁধা ডার্ক ব্লাডস্ট্রেইন। নাভিদ ওকে এই ড্যামেজড অবস্থায় দেখে লিটারেলি শ্যাটার্ড। হাতের ভারী ডাম্বেলটা ফ্লোরে সজোরে ড্রপ করে সে দ্রুত ইনায়াতের দিকে এগিয়ে আসে। তার চোখেমুখে প্যানিক। ডেসপারেট হয়ে জিজ্ঞেস করে,

“তোর এই অবস্থা কেন? হোয়াট অন আর্থ হ্যাপেনড টু ইউ?”
ইনায়াত খুব কুললি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বুঝায় কিছুই হয়নি এমন ক্যাজুয়াল টোনে বলে,
“নাথিং সিরিয়াস। জাস্ট একটু ট্রাই করছিলাম। চল, আই নিড টু লিভ।”
নাভিদ একটা ফ্রাস্ট্রেটেড দীর্ঘশ্বাস ফেলে পকেট থেকে নিজের ক্লিন রুমালটা বের করে। খুব কেয়ারিংলি ইনায়াতের মুখের রক্ত আর ডাস্ট ক্লিন করতে করতে সে নিজের লেদার জ্যাকেটটা খুলে ইনায়াতের কাঁধে জড়িয়ে দেয়। আর ইনায়াতের কোমর থেকে ধুলোমাখা জ্যাকেটটা নিয়ে নিজের গায়ে জড়াতে জড়াতেই কড়া স্বরে ওয়ার্ন করে,
“নিজের বডিতে এত ইনজুরি নিস না ইনায়াত। আমাদের এই লাইফে ইনজুরি মানেই রেড অ্যালার্ট, কেউ দেখলে সমস্যা হবে।”

ইনায়াত কোনো আর্গুমেন্ট না করে শুধু সাইলেন্টলি মাথা নেড়ে সায় দেয়,
“আচ্ছা।”
নাভিদ ইনায়াতের হাত শক্ত করে গ্রিপ করে পার্কিং লটের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। ইনায়াত নিস্পলক চোখে নাভিদের ওই হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই টক্সিক আর ক্রুয়েল ওয়ার্ল্ডে নাভিদই একমাত্র পারসন, যে তাকে আনকন্ডিশনালি প্রটেক্ট করে। যার হাতের স্পর্শে সে এই ফেক দুনিয়ায় একটা পিওর সেফ জোন খুঁজে পায়।
পার্কিং এরিয়ার হালকা আলো-আঁধারিতে আসতেই ইনায়াতের ভেতরটা হঠাৎ এক আননোন ইমোশনে মোচড় দিয়ে ওঠে। এতক্ষণের সেই কোল্ড-ব্লাডেড ফাইটার মেয়েটা হঠাৎ করেই এক অসহায় ছোট বোনে ট্রান্সফর্ম হয়ে যায়। সে খুব সফটলি ডাক দেয়,
“ভাইয়া।”
নাভিদ ওর হাত হোল্ড করেই ঘুরে তাকায়, তার চোখে রাজ্যের মায়া,
“বল?”
ইনায়াতের ভিশন ঘোলাটে হয়ে আসে, চোখে জল চিকচিক করে ওঠে। নিজের ইমোশন কন্ট্রোল করতে না পেরে সে বলে,

“আই রিয়েলি মিস ইউ, ভাইয়া।”
বলামাত্রই সে দুই হাতে নাভিদকে শক্ত করে হাগ করে ধরে। নাভিদের পাথর-কঠিন বুকটাও,এখন হাহাকার করে ওঠে। সেও কি কম মিস করে তার এই কলিজার টুকরো বোনকে? নাভিদ ইনায়াতের চুলে মমতায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
“হেই, হোয়াটস রং? যখনই আমাকে মিস করবি, জাস্ট গিভ মি আ কল। আর আমরা তো সারাদিন একসাথেই কাজ করছি, তাই না?”
ইনায়াত নিজেকে একটু কম্পোজ করে নিয়ে, চোখের জল লুকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“মম কেমন আছে? মর্নিংয়ে কল দিয়েছিলাম, রিসিভ করেনি। টুমরো আমি মমের সাথে মিট করতে যাব।”
নাভিদ ইনায়াতের মাথায় নিজের থুতনি ঠেকিয়ে খুব নরমাল ভয়েসে বলে,
“মম একদম ঠিক আছে, ডোন্ট টেক আননেসেসারি টেনশন। চল, তোকে তোর ডেরায় ড্রপ করে আসি।”
নাভিদ জানে না যে ইনায়াতের বর্তমান জীবন কতটা জটিল। আয়াজ যে তাকে রিজেক্ট করেছে, তাকে স্পেস দিচ্ছে না এসব কিছুই সে নাভিদকে জানায়নি। সে চায় না তার ব্যক্তিগত যন্ত্রণার খবর শুনে ভাইয়া অহেতুক টেনশনে পড়ুক।
বাড়ি ফিরে ইনায়াত ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসে লেসলি ফোন স্ক্রল করছে। এই ফ্যামলিতে আয়াজের মা ছাড়া কেউ তাকে টলারেট করতে পারে না, তাই সে সব সময় নিজের রুম বা লিভিং রুমের একটা আইসোলেটেড কর্নারেই নিজেকে লিমিটেড রাখে। বাড়িটা তার কাছে একটা লুক্সারিয়াস প্রিজন।
আয়াজ এখনো ফেরেনি। সে কোথায় যায় বা কার সাথে থাকে তা নিয়ে ইনায়াতের জিরো হেডেক, লিটারেলি কোনো ইন্টারেস্টই নেই তার। সাডেনলি, ফোনের স্ক্রিনে একটা নির্দিষ্ট ভিডিও প্লে হতেই ইনায়াতের চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে। ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক ক্রুর, ডেভিলিশ স্মাইল। আয়াজের কাজিন ফেইথের ওভারস্মার্ট মুভগুলোর কথা মনে করে সে নিজের মনেই বিড়বিড় করে,

‘মিস ফেইথ, জাস্ট ব্রেস ইওরসেলফ। একজন কনকিউবাইনের মেয়ে আসলে এক্সাক্টলি কোন লেভেলের মাস্টারমাইন্ড হতে পারে, সেটার রিয়েল ডেমো এবার তোমরা খুব হার্ড ওয়েতে বুঝবে।’
তার মাইন্ডে তখন একটা কবিতার লাইন বারবার ইকো হতে থাকে,” “শিকারি ভাবে সে বিজয়ী আজ, শেষ হলো বুঝি মেলা, শিকার যখন ঘুরে দাঁড়ায়, তখনি শুরু হয় আসল খেলা।”
ঠিক এই মোমেন্টেই মেইন ডোর ওপেন করে আয়াজ ঘরে প্রবেশ করে। সোফায় বসে ইনায়াতকে ওভাবে একা একা হাসতে দেখে আয়াজ ডোরস্টেপেই থমকে দাঁড়ায়। তার হাসিটা বড় অদ্ভুত, এটা তার চেনা ইনায়াতের স্মাইল নয় এটা এক ডার্ক, ক্যালকুলেটিভ স্মাইল। এই মেয়েটার মুখে এমন ডেডলি আর সাইকোটিক ভাইব আয়াজ এর আগে কখনো নোটিশ করেনি। আয়াজের পায়ের শব্দ শোনামাত্রই ইনায়াত ইনস্ট্যান্টলি তার এক্সপ্রেশন সুইচ করে একদম নরমাল, এক্সপ্রেশনলেস হয়ে যায়। সে আয়াজের দিকে না তাকিয়ে, সাইলেন্টলি সোফা থেকে উঠে নিজের রুমের দিকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যত হয়। কিন্তু আয়াজ এগিয়ে এসে সরাসরি তার পথ ব্লক করে দাঁড়ায় আর সরাসরি জিজ্ঞেস করে,

“তুমি মিস লিনার সাথে এটা করলে, তাই না? ডোন্ট ট্রাই টু প্লে গেমস উইথ মি ইনায়াত, জাস্ট টেল মি দ্য ট্রুথ!”
[ আমার মানসিক অবস্থা এখন বেশ এলোমেলো কী করি, কী করব, কিছুই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারছি না। তাই আপনাদের কাছে একটা ছোট অনুরোধ।গল্পটা কেমন লাগলো, জানালে খুব ভালো লাগবে। আপনাদের দু’একটা সুন্দর মন্তব্য আমার জন্য অনেক বড় সাপোর্ট সত্যি বলতে এগুলো বারবার পড়েই আমি নিজের স্ট্রেস একটু হলেও কমাতে পারি। আশা করি, আমার দিকটা বুঝতে পারছেন কেন মাঝে মাঝে দেরি হয়, সেটাও হয়তো বুদ্ধিমানরা বুঝে নিতে পারবেন। ]
আয়াজের মুখে প্রশ্ন টা শুনে ইনায়াত ভরকে যায় না। কারণ মিস লিনাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা বলে করিডরের পেরিয়ে যখন সামনে এগোচ্ছে ইনায়াত। ঠিক তখনই করিডরের উল্টো দিক থেকে আসা আয়াজের স্থির, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিটা ওর চোখে পড়েছিল। আয়াজের সেই চাহনি বলে দিচ্ছিল, সে সবটা ধরে ফেলেছে। আয়াজ কোনো বোকা মানুষ নয়, ওর প্রখর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ইনায়াতের প্রতিটি চাল নিখুঁতভাবে স্ক্যান করে নিয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার পরও ইনায়াতের মাঝে বিন্দুমাত্র অপরাধবোধ বা ভরকে যাওয়ার চিহ্ন দেখা যায় না। সে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চরম নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলে, “হ্যাঁ!”

“কেন করলে এমনটা?”
“ইচ্ছে হয়েছে তাই। আপনাকে এক্সপ্লেইন করার কোনো প্রয়োজন আমি বোধ করছি না।”
কথাটা ছুঁড়ে দিয়েই ইনায়াত ঘুরে দাঁড়াতে নেয়, কিন্তু তার আগেই আয়াজ খপ করে ওর কব্জি চেপে ধরে। আয়াজের গ্রিপটা অসম্ভব শক্ত, ইনায়াতের হাতের রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেবে প্রায়। সে ইনায়াতের দিকে এক পা এগিয়ে এসে হিসহিস করে বলে, “তারমানে আমার ধারণাই ঠিক! আমি যেমনটা ভেবেছিলাম, তুমি ঠিক তেমনটাই মারাত্মক স্বার্থপর আর আগাগোড়া শয়তান একটা মেয়ে।”
ইনায়াত ননশেল্যান্ট একটা লুক নিয়ে সোজা আয়াজের জ্বলন্ত চোখের দিকে তাকায়। ওর চাহনিতে কোনো অনুতাপ নেই “হ্যাঁ, সেটাই।”

ওর এই নির্বিকার ভাব আয়াজের ভেতরের আগুন তো আরও উসকে দেয়, “শুধু শয়তান নয়, তুমি টাকার পেছনে দৌড়ানো একটা থার্ড-ক্লাস গোল্ড ডিগার! স্রেফ টাকার জন্যই তুমি এসব নোংরামি করছ, তাই না?”
এবার ইনায়াতের ঠোঁটের কোণে একটা তাচ্ছিল্যের স্মার্ক ফুটে ওঠে, “টাকার পেছনে কি শুধু আমি একাই দৌড়াই? আপনারা দৌড়ান না? নাকি না দৌড়েই এমন রয়্যাল হয়ে গেছেন?”
“অন্তত তোমার মতো চিপ কাজ তো করিনি!”
“ওহ, রিয়েলি? আমি চিপ?” একজন স্টুডেন্টের অসহায়ত্ব নিয়ে মজা করা, হাসবেন্ড থাকা সত্ত্বেও অন্য পুরুষের সাথে পাশা খেলা এগুলো কি চিপ নয়? আমি চিপ হলে আমি চিপ, তাতে কার বাপের কী?”
রাগে অন্ধ হয়ে আয়াজ এক ঝটকায় ইনায়াতকে টেনে নিজের চওড়া বুকের কাছে নিয়ে আসে। দুজনের মাঝখানের দূরত্বটুকু মুছে গিয়ে এখন শুধু উষ্ণ শ্বাসের আদান-প্রদান হচ্ছে। ইনায়াতের চোখে চোখ রেখে ডেডলি টোনে শাসিয়ে আয়াজ বলে, “শোনো, বাইরের লোকের সাথে যা গেম খেলার খেলছ, খেলো। কিন্তু আমার ফ্যামিলির দিকে নজর দিলে এর পরিণতি খুব মারাত্মক হবে।”

ইনায়াত বিরক্ত হয়ে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য মুচড়ে ওঠে “আমি কারো পেছনে লাগছি না। হাতটা ছাড়ুন আমার! আপনার ফ্যামিলির সাথে আমার বিন্দুমাত্র লেনাদেনা নেই।”
কিন্তু আয়াজ যেন জেদ ধরে বসে। ইনায়াতের হাতটা নিজের বুকের কাছে আরও শক্ত করে চেপে ধরে ঘোরের মধ্যে বলে ওঠে, “আমি ছাড়ব না। এভাবেই ধরে রাখব।”
এবার ইনায়াতের ধৈর্যের বাঁধ পুরোপুরি ভাঙে। সে মারাত্মক বিরক্ত হয়ে বলে, “তাহলে একটা কাটার নিয়ে আসুন।”
আয়াজ ভ্রু কুঁচকে তাকায়, “মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার?”
“হ্যাঁ, হয়ে গেছে!” ইনায়াত প্রায় চিৎকার করে ওঠে, “কাটার নিয়ে আসুন। আমি হাতটা শরীর থেকে আলাদা করে দিচ্ছি, আপনি সেটা নিয়ে বসে থাকুন!”
ওর এমন ডেসপারেশন দেখে আয়াজ কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে থাকে। এরপর আস্তে করে গ্রিপ আলগা করে হাতটা ছেড়ে দেয়। ইনায়াত বিরক্তি নিয়ে ওকে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত একবার স্ক্যান করে হনহন করে সামনের দিকে পা বাড়ায়। আয়াজ ধপ করে করিডরের পাশের সোফায় বসে পড়ে। ওর হার্টবিট অস্বাভাবিকভাবে বিট করছে। এই ইনায়াত মেয়েটা আসলেই খুব ডেঞ্জারাস। আয়াজের মতো একজনকেও সে তার কথার ধারে আর জেদে ঘায়েল করে দেয়! ড্যাম ইট, কী বাজে অবস্থা!

করিডরের আরেক প্রান্তে এসে ইনায়াত নিজের ফোনটা বের করে। স্ক্রিনের নির্লিপ্ত মুখটা কিছুটা রহস্যময় দেখাচ্ছে। একটা ফেক বার্নার অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করে ওর বাবা, মিস্টার ইভানের অ্যাকাউন্টে কয়েকটা ছবি সেন্ড করে সে। সাথে ছোট্ট একটা টেক্সটও দেয় ‘সেভেন মিলিয়ন ইউএস ডলার, আদারওয়াইজ এগুলো লিক হয়ে যাবে।’
ছবিগুলো ইভানের সাথে তাদেরই বাড়ির এক মেইডের ইনটিমেট কিছু মুহূর্তের। নিজের বাবাকেই ব্ল্যাকমেইল করাটা নোংরা একটা কাজ, ইনায়াত সেটা খুব ভালো করেই জানে। কিন্তু তার মনে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই। তার বাবা যে কতটা চরিত্রহীন, সেটা সে জানে। এসব বাইরে জানিয়ে কোনো লাভ নেই, তাই সে নিজের মতো করে ফায়দাটা উঠিয়ে নিচ্ছে। সন্তান হিসেবে তো সে বাবার থেকে কিছু পায়নি, তাহলে এভাবেই তার পাওনা সে হাসিল করে নিক। মিস্টার ইভান যথারীতি ভয় পেয়ে ইমেজ বাঁচাতে টাকা দিতে রাজি হয়ে যান। একটা লোকেশন সেন্ড করে স্ক্রিনটা অফ করে দেয় ইনায়াত।
সামনে পা বাড়াতেই ওর পথ আটকায় এরিক। ইনায়াতকে দেখেই সে চেনা ফ্লার্টিংয়ের ভঙ্গিতে হাসে, “হোয়াটস আপ, সিস্টার-ইন-ল?”
ইনায়াত মনে মনে বিরক্ত হলেও মুখে একটা মেকি হাসি ঝুলিয়ে বলে, “এই তো, সারভাইভিং। আপনার কী খবর?”
এরিক সুযোগ পেয়েই স্মুথলি বলে, “খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। তবে তুমি জিজ্ঞেস করেছ দেখে এখন একটু একটু ভালো যাচ্ছে।”

ইনায়াত হালকা হেসে বলে, “ব্রো, আপনি ফ্লার্ট তো ভালোই করেন দেখছি। তবে এই লাইনটা বড্ড ম্যাসি মনে হচ্ছে। নেক্সট টাইম নতুন কিছু ট্রাই করুন।”
কথাটা বলেই সে এরিককে অবলীলায় পাশ কাটিয়ে চলে যায়। আয়াজ ইনায়াতের পেছনেই আসছে এবং পুরো কথোপকথনটাই সে দূর থেকে শোনে। সে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে এরিকের কাঁধে হাত রাখে। তারপর একটা চিলিং স্মাইল দিয়ে বলে, “হলি তো অপমান? শোন, আমার জিনিসের দিকে একদম চোখ দিবি না। আমার আসল রূপটা তো জানিস। টেনে ছিঁড়ে ফেলতেও দুই মিনিট লাগবে না।”
আয়াজের ডার্ক টোন আর চোখের ক্রূর দৃষ্টি দেখে এরিক থতমত খেয়ে হেসে বলে, “আরে না ম্যান! আমি তো জাস্ট ফান করছিলাম।”

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৫

এরিককে একপাশে সরিয়ে দিয়ে আয়াজ সামনে পা বাড়ায়। যাওয়ার আগে নিচু, কিন্তু ভয়ংকর স্বরে বলে যায়, “ফান-ও করবি না। ও এখন আমার। আর আমার মানুষের দিকে অন্য কারো তাকানোটাও আমি টলারেট করি না।”
করিডর দিয়ে গাম্ভীর্য নিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই আয়াজ নিজের ফোনটা বের করে একটা গ্রুপে একটা টেক্সট ড্রপ করে,
“আজ রাতে ইতালিয়ানদের সাথে বোর্ড মিটিং হবে।”
আয়াজ কে কিন্তু নরমাল কেউ মনে করবেন না এতটুকু বলেই দিলাম।

ইশকে এ নিকাহ পর্ব ৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here