উন্মাদনা পর্ব ১০
কায়নাত খান কবিতা
___i want to sl’eep with you!”
মুহুর্তেই মুখের নকশা পরিবর্তন হয়ে যায় আনন্দীর। একটা মানুষ কতটা পশুতে পরিনত হলে এমন কুরুচিপূর্ণ কথা একটি মেয়েকে বলতে পারে?
চোখে চোশমা দিয়ে ভীর ঠেলে অভী তার সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে নিয়ে বেরিয়ে পরে। আনন্দী সেখানেই দাঁড়িয়ে পরে। তার কানে বার বার একটা কথায় আওড়াতে থাকে, i want to sle’ep with you.”
ঘৃণায় চোখ বন্ধ করে ফেলে সে। নিজেকে কেমন যেন সস্তা মনে হচ্ছে তার।মেয়ে লোকের শরী:র কী এতোটাই স:স্তা? বারবার একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খায় আনন্দীর মন জুড়ে। অভী কী আদোও মানুষ? না-কি মানুষ রূপি জানো’য়ার?
__পূর্বের আকাশে যখন সূর্যটি অস্তে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঠিক তখনই আনন্দীর ফোনে অভীর টেক্সট আসে।
বই-পুস্তক সামনে রেখেই ফোনটি হাতে নেয় আনন্দী। এখন তো তারা অভীর কেনা গোলাম। অভী ফোন দিলে তো ধরতে হবেই। বেশ বিরক্ত নিয়ে টেক্সট অপেন করে আনন্দী। অপেন করতেই দেখে অভী একটি ছবির সাথে এক বাক্যের টেক্সট পাঠিয়েছে।
__কাল পাশা খেলবো রে শ্যাম। লাল ড্রেস পরে আসিস বান্দী।”
রাগে শরীর তিড়বিড় করতে থাকে আনন্দীর। ফোনটি দূরে ছুঁড়ে মারে সে। পরক্ষণেই তার জানালা দিয়ে কিছু একটা উড়ে এসে মেঝেতে পরে।কৌতূহল বশত আনন্দী কী জিনিস সেটা দেখতে গেলে, দেখে একটি বলের মাঝে কেটে একটা কাগজ ঢুকানো। আনন্দী বলটি হাতে নিয়ে কাগজটি মেলে দেখতে দেখে একটা ছবি। যেটা সেই দিনের ছবি। তার বাবাকে যেদিন জনসম্মুখে অপমান করা হচ্ছিল। আনন্দীর দু-চোখ বেয়ে অশ্রু ঝড়ে পরে। ঠিক তখনই তার ফোন বেজে ওঠে ।
বিছানার এক কোনে পড়ে থাকা ফোনটি হাতে নিতেই দেখে অভীর কল। তাড়াতাড়ি করে রিসিভ করে আনন্দী। ফোন রিসিভ হতেই অভী বলে,
__গিফট পছন্দ হইছে বান্দী? না-কি আরো লাগবো?”
ঘৃণায় দাঁত পিষে পিষে আনন্দী বলে, _কী চাই আপনার?”
__তোকে!”
__এটা সম্ভব নয়।”
_তাহলে আবার ও বাপেরে মাইর খাইতে দেখবি না-কি?”
মুহুর্তেই মুখের নকশা বদলে যায় আনন্দীর। বাবা বলতে আনন্দী অন্ধ।তার জীবনে সব থেকে কাছের লোক হচ্ছে তার বাবা।ছোটো বেলা যেখানে মায়েরা মেয়েদের হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যায়। সেখানে আনন্দীর বাবা তাকে নিয়ে গেছিলো। আনন্দীর স্কুল ড্রেস থেকে শুরু করে মাথার ক্লিপ অব্দি তার বাবার পছন্দের। আনন্দীর পুরো জগৎ জুড়ে রয়েছে তার বাবাই। কিন্তু আজ! সেই বাবাই তার জন্য মার খেতে খেতে খেলো না। এতো লোকের সামনে তাকে অপদস্ত করা হলো। বাবার করুণ চাহুনি এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে তার। কতটা কষ্ট পাচ্ছে তার বাবা এতো গুলো বছর ধরে।
চোখ বন্ধ করে আনন্দী বলে ওঠে, __আমি রাজি।”
অপর পাশ থেকে কলটি কেটে যায়। আনন্দী হাঁটু ভাজ করে বসে পরে ফ্লোরে। কী করবে কিছুই বুঝে উঠতে পারে না সে। একটা জঘন্য তম লোকের পাল্লায় পড়েছে সে।।
কল কেটে দিয়ে হই-উল্লাসে মেতে ওঠে অভী,
__ডরাইছে..শেখের বেটি ডরাইছে।”
কিছু কিছু সকাল রয়েছে যেগুলো সুখবার্তা বয়ে আনে। আবার কিছু কিছু সকাল এমন ও রয়েছে যেগুলো দিয়ে যায় সারা জনমের বিষাদময় অনুভূতি। আজকের সকালটি হয়তো সে-রকমই ছিলো আনন্দীর জন্য। শুক্রবারের সকালটি সবার জন্য চিন্তামুক্ত থাকলে ও আনন্দীর জন্য ছিলল চিন্তা যুক্ত। কারণ তাকে যেতে হবে। নিজের সতিত্ব বিলীন করতে। সারাটি সকাল মায়ের সাথে লেগে কাজকর্ম করে দুপুরের দিকে রেডি হতে থাকে আনন্দী।
কারণ তাকে যেতে হবে যে। কিন্তু মা-কে বোঝানো ছিলো সব থেকে কঠিন কাজ। আনন্দী কোচিং এর বাহানা দিয়ে কোনো রকম রাজি করিয়ে ছাড়ে তার মা-কে। অতঃপর তার মা ও রাজি না হয়ে উপায় পায় না। কারণ সামনে পরীক্ষা। বোর্ড এক্সাম। পড়াশোনায় তো বেঘাত ঘটানো যাবে না। তাই তিনি ও রাজি হয়ে যায় ।
মায়ের সাথে সমস্ত কাজ শেষ করে। দূপুরে খেয়ে একটা লাল মিরর ওয়ার্ক করা চুড়িদার পড়ে তৈরি হয় আনন্দী। মাঝে অভীর অজস্র টেক্সট আসতে থাকে। তাই তাড়াহুড়ো করে তৈরি করতে হতে থাকে আনন্দী। শেষ রাতে অবশ্য অভী আনন্দীকে একটি এডা’ল্ট ভিডিও পাঠিয়েছিলো। বলেছিল পুরোটা দেখতে। কাজে দেবে। তবে আনন্দী নাক-মুখ কুঁচকে সেটা না দেখেই ডিলেট করে ফেলে। তখন অবশ্য কোনো রকম নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে থাকে আনন্দী। কিছু মানুষকে তো আর জু’তো পি’টা করা যায় না। তাই রাগ কন্ট্রোল করতে হয়। আনন্দী রাগ কন্ট্রোল করে ফেলে।
বাড়ি থেকে বেশ খানিকটা দূরেই ফাঁকা রাস্তায় বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে অভী। আনন্দীকে লাল রঙ্গের চুড়িদার পরে আসতে দেখে শুকনো ঢোক গিলে বলে,
__একের মা’ল।”
উপস্থিত তার সাঙ্গপাঙ্গরা কিছু শুনে ও না শোনার ভাঙ্গধরে থাকে।
আনন্দী এসে সোজা অভীর সামনে দাঁড়ায়। অভী আরেকটা হেলমেট আনন্দীর মাথায় দিয়ে তাকে বাইকের পিছনে বসায়। আনন্দী বসতেই অভী বলে,__শক্ত কইরা ধরিস বান্দী। তোর পিছনে টাকা নষ্ট করার মতো মুড নাই আমার।”
আনন্দী উঠে বসে অভীর কাঁধে হাত রাখে। তারপর অভী এক টানে আনন্দীদের এলাকা পরিত্যক্ত করে।
শুক্রবারের দূপুর বেলা মোটামুটি ফাঁকাই থাকে। তার উপরে অভীর বাড়িটি ছিলো জনবসতি থেকক একটু দূরেই। যার ফলে সেখানে আরো জনমানবশূন্য হয়ে পরে থাকে। পুরান ঢাকার অলিগলি পেরিয়ে অভী নিজের পূরনো দো-তলা বাড়ির সামনে গিয়ে বাইক দাঁড় করায়। আজ প্রথম বার ছিল যখন আনন্দী অভীর বাড়িতে এলো। এই তিন বছর ধরে সে শুধু তার গ্যারাজেই গিয়েছে। কখনো বাড়িতে যায়নি। তবে আজ সে অভীর বাড়িতে এসেছে। বেশ পূরানো।
বাইক থেকে নেমে অভী আনন্দীর হাত ধরে সোজা দোতলায় তার নিজ কক্ষে চলে যায় । আনন্দী মাথা থেকে হেলমেট টি নামিয়ে পিছনে ঘুরতেই দেখে অভী দরজা লক করছে। রুহ অব্দি কেঁপে ওঠে আনন্দীর।
দরজা লক করেই অভী আনন্দীর হাতে থাকা হেলমেটটি ফ্লোরে ফেলে দিয়ে তার কোমর জাপ্টে ধরে। ভয়ে থরথর করে কাঁপতে থাকে আনন্দী।
_অভী?”
আনন্দীকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তার গলা হতে ওড়না সরিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় অভী। তারপর আনন্দীর উন্মুক্ত গলায় মুখ গুঁজে দেয় সে। দু-হাতে ঠেলে দূরে সরিয়ে দেয় আনন্দী অভীকে।
__নড়স কেন বা”ন্দীর বাচ্চা?”
__আমার ভয় করছে অভী।”
__ক্যান? কালকে ভিডিও পাঠাইছিলাম দেখোস নাই?”
আনন্দী মাথা নেড়ে না বোঝায়। সে দেখিনি।
__সমস্যা নাই আমি সরাসরি শিখাইতাছি! কাছে আয়।”
আনন্দী জড়বস্তুর মতো দাঁড়িয়ে থাকে। কোনো হেলদোল নেই তার। মায়া জড়াবো কন্ঠে আনন্দী আওড়ালো,
উন্মাদনা পর্ব ৯
__আমি প্রস্তুত নই অভী। আমার কিছু সময় দরকার। প্লিজ অভী।”
দু-হাত ভাজ করে দাঁড়িয়ে পরে অভী। আনন্দীকে উদ্দেশ্য করে বলে, __কত সময় লাগবো তোর?”
__এইচএসসি অব্দি।”
__হুম।”
অভীকে শান্ত হতে দেখে ফ্লোরে পরে থাকা ওড়নাটি কুড়িয়ে নেয় আনন্দী। গলায় ওড়না পেচিয়ে দু-কদম সামনে বাড়াতেই হাতে হেঁচকা টান পরে আনন্দীর।
__আমারে কী তোর সাধু পুরুষ মনে হয়?”
